ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৩৫:৩৯

নারীকে বুদ্ধি, মেধা, ইচ্ছা শক্তি দিয়ে জয় করতে হবে

তারকালাপে চয়নিকা চৌধুরী

নারীকে বুদ্ধি, মেধা, ইচ্ছা শক্তি দিয়ে জয় করতে হবে

একজন সৃষ্টিশীল নির্মাতা ও মানুষ তখনই সফল হন যখন পর্দায় তার নামটি না দেখে নির্মাণশৈলী, সংলাপ, রুচিশীল সেট, পাত্রপাত্রীর বাচনভঙ্গি দেখেই দর্শক বলে দিতে পারেন এটি সম্ভবত ওই নির্মাতা বা রচয়িতার নাটক। এসব ক্ষেত্রে বলা যায় তিনি পুরোপুরি সফল। মিডিয়ায় তার সুনাম রয়েছে যে, তিনি একজন স্মার্ট ও রুচিশীল নাট্যনির্মাতা। শুধু নাটক নির্মাণই নয়, নাটক রচনাতেও তিনি সমান পারদর্শী। বলছি দেশের খ্যাতিমান নারী নাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর কথা। নাট্য নির্মাতা হিসেবে মিডিয়াতে তার যাত্রা শুরু ২০০১ সালে। এরপর গত ১৭ বছরে ৩৬০টির মত নাটক নির্মাণ করেছেন এই নারী নাট্য সৈনিক। এর মধ্যে রয়েছে অসংখ্য মনকাড়া নাটক। যা মানুষকে কাঁদিয়েছে, বিনোদিত করেছে, ভবিয়েছে। যদিও তার অধিকাংশ নাটকের কাহিনী প্রেম ও ভালোবাসা কেন্দ্রীক। তবে এই রোমান্টিকতাকে তিনি দেখিয়েছেন নানা আঙ্গিকে, নানা মাত্রায়। একজন সফল নারী নাট্যসৈনিক কিভাবে এই সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন, কতটুকু পরিচ্ছন্ন ও গুছানো হলে একজন নারী সফলতার শীর্ষে অবস্থান করতে পারেন সেই সব কথা জানিয়েছেন তিনি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার নাটক নির্মাণের গল্প, ভাবনা ও ১৭ বছরে নিজের সফলতার নানা বিষয়। চয়নিকা চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : শুরুতেই নারী দিবসের শুভেচ্ছা রইলো। দিদি কেমন আছেন? চয়নিকা চৌধুরী : ধন্যবাদ। অনেক ভালো আছি। দেশের ও বিশ্বের সকল নারীদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো। ইটিভি অনলাইন : দিদি আপনি একজন নারী নাট্যসৈনিক। একজন নারী হয়ে ৩৫০টির অধিক নাটক নির্মাণ করেছেন। কিভাবে সম্ভব হলো? এই অনুপ্রেরণা পেলেন কিভাবে? চয়নিকা চৌধুরী : অনুপ্রেরণাটা আসলে নিজের থেকেই আসে। নিজের ভেতরের তাগিদ থেকে আসে। নিজের ভালোলাগা থেকে আসে। আমি যদি মনে করি যে, আমি এই কাজটি করব, তাহলে আমি সেটা করি। যত্ন এবং ভালোবাসা যদি মনের মধ্যে থাকে, আন্তরিকতা যদি থাকে তাহলে কোন কিছুই আটকে থাকে না। হয়তো অনেক ঝড় আসে, বিপদ আসে কিন্তু ইচ্ছা শক্তিটা যদি প্রখর হয় তাহলে একটা মানুষ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধ্য। ইটিভি অনলাইন : ২০১৮ সালের মধ্যে কি ৪০০ নাটকের মাইল ফলকে পদার্পণ করতে পারবেন? চয়নিকা চৌধুরী : না না। এতো তো সহজ না। আসলে মার্কিনটা আমার কাছে বড় কিছু না। এটা আসলে হয়ে এসেছে। আমি অনেক ডিসিপ্লিন। গুছিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। তবে আমার মার্ক থাকে যে কবে কোথায় কোন কাজটি করলাম। এটা থাকা ভালো। ৪০০ আসলে অনেক বড় ব্যাপার। এখন আমার ৩৬০টি নাটক হলো। আরও ৪০টি নাটক মনে হচ্ছে না এ বছর করতে পারবো। ইটিভি অনলাইন : আমরা আপনার নাটকে প্রেম, ভালোবাসা, রোমান্টিকতাই বেশি দেখি। আপনার নির্মাণের মধ্যে ঘুরে ফিরে কেন এগুলোই বেশি আসে? চয়নিকা চৌধুরী : আসলে দুনিয়াতে ভালোবাসা ছাড়া কোন কিছুই হয় না। ভালোবাসাটা আসলে অনেক বেশি প্রয়োজন। তবে আমি যে শুধু রোমান্টিক নাটক বানিয়েছি তা কিন্তু নয়, এই নারী দিবসেও আমার দুটি নাটক যাচ্ছে। আমি বিজয় দিবস, ২৬শে মার্চ, বাবা দিবস, মা দিবসেও নাটক করেছি। হয়তো রোমান্টিক নাটকটা আমার ক্ষেত্রে একটু বেশি ভালো হয়। একই সঙ্গে দর্শকও হয়তো আমাকে রোমান্টিক নাটকের নির্মাতা হিসেবে বেশি পছন্দ করে। আর ভালোবাসাটা আমার কাছে সব থেকে বড়। এটা ছাড়া আসলে কোন কিছুই সম্ভব না। ইটিভি অনলাইন : অনেকেই নাটক নির্মাণ করছেন। বিশেষ করে আমাদের দেশে অনেক পুরুষ নির্মাতা রয়েছেন। কিন্তু দেখা গেছে একজন নারী হয়েও আপনার কাজের মান অনেক পুরুষ নির্মাতার চেয়েও ভালো হচ্ছে। দর্শকই এটি মূল্যায়ন করছেন? আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন? চয়নিকা চৌধুরী : ওই যে বললাম, ইচ্ছা। মনের ইচ্ছা, যত্ন, ভালোবাসা এগুলো আসলে অনেক প্রয়োজন। হয়তো আমি মেয়ে তাই আমার মধ্যে গোছানো জিনিসটা বেশি থাকে। অথবা ম্যাচিং, কেয়ারিং এবং অ্যাকটিং সবই গুরুত্ব পায়। হয়তো পুরুষ নির্মাতারা ভাবেন যে কখন কাজটি শেষ করবেন। সে তার নির্মাণটাই শুধু দেখছেন, শিল্পীর অভিনয়টাই শুধু দেখছে। অন্যকিছু হয়তো তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে দর্শক এখন অনেক বেশি বুদ্ধিমান। তাদের সব কিছুই দরকার। এটাই হচ্ছে কারণ। ইটিভি অনলাইন : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন নারী শিক্ষিত হয়েও ঘরে মধ্যে বন্দি থাকতে বাধ্য হয়। তবে সেই চিন্তা ধারায় এখন অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। সংসার সামলানোর পরেও নারী এখন বাইরে অনেক সফল হচ্ছে। নারী কিভাবে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে পারে বলে আপনার কাছে মনে হয়? চয়নিকা চৌধুরী : এটাও আসলে মনের ইচ্ছা। অনেকে আছেন যারা ৯টা ৫টা কাজ করেন কিন্তু এর বাইরে অন্য কিছুই করেন না। আমি কিন্তু এখনও এই ১৭ বছরের ক্যারিয়ার জীবনে সকালে রান্না করেই বের হই। যখন দেশে থাকি না তখনকার কথা ভিন্ন। কিন্তু রান্নাটা আমি নিজ হাতেই করি। বাসায় যারা আছে তারা হয়তো সব গুছিয়ে দেয় কিন্তু নিজ হাতে রান্না করতেই আমি পছন্দ করি। কে কখন খাচ্ছে, কি করছে সব কিছুই কিন্তু আমাকে দেখতে হয়। এটা দেখাটাও দরকার। এটাওতো আমার একটা কাজ। ভালোবেসে, আনন্দ নিয়ে দুইটাই যখন আমি সমান তালে করতে পারবো তখনই আসলে একটা মেয়ে সার্থক। ইটিভি অনলাইন : নারীরা ঘরের বাইরে কাজ করতে গেলে অনেক বাধা, প্রতিবন্ধকতা আসে। কিন্তু সব কিছু মোকাবেলা করে কিভাবে সে এগিয়ে যেতে পারবে। আমার ম্যাসেজ কি? চয়নিকা চৌধুরী : কাজ করতে গেলে নারী-পুরুষ সবারই বাঁধা আসে। নারীদের ক্ষেত্রে হয়তো একটু বেশি আসে। যেহেতু সৃষ্টিকর্তা তাদের নারী করে বানিয়েছেন। ওটা নারীকে বুদ্ধি দিয়ে, মেধা দিয়ে, তাদের ইচ্ছা শক্তি দিয়ে একটাকে মোকাবেলা করতে হবে। ইটিভি অনলাইন : আমরা তো আপনার নির্মাণে অনেক সুন্দর সুন্দর নাটক, টেলিফিল্ম দেখেছি। শুনেছি চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়েও ভাবছেন। সেই সু সংবাদটি কবে আসবে? চয়নিকা চৌধুরী : ইচ্ছে আছে অনেক সুন্দর একটি সিনেমা নির্মাণ করবো। যে সিনেমা দেখে মানুষ মুগ্ধ হবে। চোখের জল ফেলবে খুশিতে বা আনন্দে অথবা কষ্টে। একই সঙ্গে বাসায় যেতে যোত ভাববে আবারও সিনেমাটি দেখবো। এমন একটি সিনেমা বানানোর খুব ইচ্ছে আছে। এখন দেখি কি হয়। ইটিভি অনলাইন : আমরা কি ২০১৮ সালেই সেই সিনেমাটি দেখতে পারবো? চয়নিকা চৌধুরী : মনে হচ্ছে। তবে আমার এই ইচ্ছেটার সঙ্গে তো আরও অনেক কিছু জড়িত। ইটিভি অনলাইন : সব শেষ প্রশ্ন। আপনি এখন ক্যারিয়ারের যেখানে অবস্থান করছেন, আগামীতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান? চয়নিকা চৌধুরী : আমি একজন সফল মা হিসেবে নিজেকে দেখতে ভালোবাসি। আমার দুই সন্তান। ওরা খুব ভালো কিছু করবে। যোগ্য মানুষ হবে। মানুষ হিসেবে ভালো হবে। এটাই আমার কাছে বড় চাওয়া। আমি দেখতে চাই আমি একজন ভালো নির্মাতা। আমার সিনেমাটি অনেক ভালো হয়েছে। সুপার-ডুপার হিট হয়েছে। আর পৃথিবীতে যত বাংলা ভাষাভাষি মানুষ রয়েছেন তারা চয়নিকা চৌধুরীর নামটি জানুক। এই জানাটি যেনো আরও বৃদ্ধি পায় সেটাই চাই। ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। চয়নিকা চৌধুরী : আপনাকেও ধন্যবাদ। এসএ/
সিনেমার মধ্যে আরও একটি সিনেমা ‘গন্তব্য’

এলিনা শাম্মী। অর্থনীতির ছাত্রী। কিন্তু নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভিন্ন পেশায়। তিনি একজন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও অভিনেত্রী। আইনজীবী বাবা ও গৃহিনী মায়ের সন্তান এলিনা শাম্মী দুই ভাই বোনের মাঝে ছোট। এলিনা উপস্থাপনা, অভিনয়, নাটক আর গল্প লেখায় শুধু নয়; নিজেকে নিয়ে যেতে চান অনন্য উচ্চতায়। কি করছেন তা বড় নয়, টিকে থাকতে চান কাজের মাধ্যমে। এটাই তার চ্যালেঞ্জ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এলিনা বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে উপস্থাপনা দিয়েই শুরু করেন। তবে এরপর নাটক, বিজ্ঞাপন ও সিনেমায় নিজেকে তুলে ধরেছেন নিজের অদম্য আগ্রহ ও অধ্যাবসায় দিয়ে। তাই তো পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দেশের প্রায় সবকটি চ্যানেলে উপস্থাপনা করে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। এলিনার অভিনীত নাটকের মধ্যে রয়েছে- রাজিব রহমানের চন্দনা নাটকে চন্দনা চরিত্রে, জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের সড়ক দূর্ঘটনার উপর নির্মিত নাটকের মূল চরিত্রে, ইমদাদুল হক মিলনের গল্প ও চন্দন চৌধুরীর রচনায় এসো, মেঘসহ অনেক টেলিছবিতে। এছাড়া তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন শাহ আলম কিরন ও আনিসুল হকের গল্পে বিরাঙ্গনা সিনেমার বিরাঙ্গনার ভূমিকায়। অভিনয় করেছেন মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের মা জননী’, ড. অরুপ রতনের ‘স্বর্গ থেকে নরক’ সিনেমাতে। সম্প্রতি অভিনয় করেছেন অরন্য পলাশের পরিচালনায় ‘গন্তব্য’ শিরোনামের একটি সিনেমায়। এতে শাম্মী ছাড়াও অভিনয় করছেন ফেরদৌস, আইরিন, আমান সহ আরও অনেকে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের তারকালাপে নতুন এই সিনেমা ‘গন্তব্য’ নিয়ে কথা বলেছেন এলিনা শাম্মী। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন? এলিনা শাম্মী : অনেক ভালো। ইটিভি অনলাইন : আপনার অভিনিত নতুন সিনেমার টিজার প্রকাশ পেয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এলিনা শাম্মী : অনেক সাড়া পাচ্ছি। আমি এর আগেও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি তবে এ কাজটিতে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ পেয়েছি। আমরা পুরো টিম অনেক বেশি যত্ন নিয়ে কাজটি করেছি। তবে টিজারে দর্শক যা দেখছে তা দিয়ে সিনেমা সম্পর্কে কিছুই বোঝা যাবে না। ইটিভি অনলাইন : তাহলে সিনেমাটি সম্পর্কে একটু বলুন? এলিনা শাম্মী : নতুন এই সিনেমাটির নাম ‘গন্তব্য’। এটি পরিচালনা করেছেন অরন্য পলাশ। এখানে ফেরদৌস, আইরিন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, আমান রেজা, মাসুম আজিজ, আফফান মিতুলসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন। ‘গন্তব্য’ সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে সুইট চিলি ফিল্মস। মূলত ছয় বন্ধু মিলে একটি সিনেমা নির্মান এবং সেই সিনেমাটি সারাদেশে প্রদর্শন করানোর ঘটনা নিয়ে গড়ে উঠেছে এ সিনেমার কাহিনী। গল্পে আছে দুটি ভাগ, একটি শহরের, অন্যটি গ্রামের। এখানে ছয় বন্ধু একটি থিয়েটারে কাজ করে। যাদের মধ্যে আমিও আছি। পুরো গল্পটা এখনই বলতে চাইছি না। এটা দর্শক হলে গিয়ে দেখে বুঝবে। তবে এটা বলতে পারি যে- ‘গন্তব্য’ হচ্ছে সিনেমার মধ্যে আরও একটি সিনেমা। আরও একটা বিষয় বলি- গল্পটি হচ্ছে দেশ ভিত্তিক। কিন্তু অন্যরকম এক নান্দনিকতার মধ্য দিয়ে নির্মাতা এটি নির্মান করেছেন। ইটিভি অনলাইন : আপনার চরিত্রটি সম্পর্কে যদি একটু বলতেন? এলিনা শাম্মী : ‘গন্তব্য’ সিনেমায় পুষ্প নামের চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে। এটা আমার একটা স্বপ্নের চরিত্র। পরিচালক অরণ্য পলাশ আমাকে একেবারেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। শক্তিমান অভিনেতা জয়ন্ত চট্টপাধ্যায় আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর সিনেমায় আমার জুটি হিসেবে কাজ করেছেন আমান। সে ডিরেক্টরের ভূমিকায় কাজ করেছে। গল্পের মধ্যে আমানের একটি স্বপ্ন রয়েছে। সে একটি সিনেমা নির্মাণ করতে চায়। আমরা ছয়জনই তার স্বপ্নটাকে লালন করি। চলচ্চিত্রে আমান একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ওর ইচ্ছে আছে কিন্তু সমর্থ নেই। সেই স্বপ্নটাকে পূরণ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন ফেরদৌস ভাই। মজার বিষয় হচ্ছে- আমাদের যার যার যে নাম চলচ্চিত্রে সেই নামই ব্যবহার করা হয়েছে। আরও একটা মজার বিষয় হচ্ছে, গল্পের মধ্যে আমরা যারা একটি সিনেমা নির্মাণের চিন্তা করেছি তারাই আবার সেই সিনেমায় অভিনয় করেছি। কারণ আমরা ওখানে থিয়েটার কর্মী হিসেবে কাজ করি। মোটকথা একটা গল্পের মধ্যে আরও একটা গল্প।   ইটিভি অনলাইন : ‘গন্তব্য’র এমন একটি মাজার কথা বলেন যেটি শুনলে সিনেমাটির উপর দর্শকদের আগ্রহ সৃষ্টি হবে? এলিনা শাম্মী : মজার কথা যদি বলি তাহলে বলতে হয়- শহরের কিছু তরুণ ছেলে-মেয়ে যারা স্বপ্ন দেখে সিনেমার মাধ্যমে সমাজকে কিছু একটা দেওয়ার। সেই কাজটি করতে গিয়ে তারা যখন গ্রামে চলে আসে তখন গ্রামের জেলে পাড়ার যে পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয় সেটাই অনেক ইন্টারেস্টিং। পুরো চলচ্চিত্রে দুটি ভাগ। এক পাশে আমাদের চেহারা এক রকম দেখা যাবে, অন্যপাশে পুরোই অন্যরকম দেখা যাবে। আর একটা কথা হচ্ছে- এখানে জয়ন্ত দা, মাসুম আজিজ, কাজী রাজু তারাও কাজ করেছেন। কিন্তু তারা জেলে পাড়ার ওই অংশে কাজ করেছেন। শক্তিশালী অভিনেতা, অভিনেত্রীদের সমাগম ঘটেছে সিনেমাটিতে। ইটিভি অনলাইন : অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নটা মাথায় কীভাবে এলো? এলিনা শাম্মী : অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন অবচেতন মনে ছিল। হয়তো শৈশব থেকেই। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতাম। উপস্থাপনা দিয়ে যখন ক্যারিয়ার শুরু করি; তখন অভিনয়ের অফার আসে। সেই থেকেই অভিনয় শুরু। ইটিভি অনলাইন : আপনিতো মিডিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। কোন স্থানটিতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন? এলিনা শাম্মী : উপস্থাপনা, নাটক-সিনেমায় অভিনয়, বিজ্ঞাপনে কাজ করছি। আসলে উপস্থাপনাটাও একটা অভিনয়। সবক্ষেত্রে কাজ করতেই ভালো লাগে। তবে অভিনয় করতে গিয়ে অন্যরকম আনন্দ পাই। নিজেকে চেনা যায়, নিজেকে ভাঙা যায়। ইটিভি অনলাইন : বর্তমানে মিডিয়ায় কাজ করা একজন নারীর জন্য চ্যালেঞ্জের। ভবিষতে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান? এলিনা শাম্মী : বর্তমানে মেয়েদের মিডিয়ায় কাজ করার একদিকে যেমন বহুমুখী সুযোগ রয়েছে; তেমনি রয়েছে প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা। যোগ্যদেরও তথাকথিত যোগ্যতার অভাবে পিছিয়ে পড়তে হয় অনেক সময়ে। বঞ্চিত হতে হয় কাজের সুযোগ থেকে। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলবো, যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই তার মূল্যায়ন হবে সঠিক নিয়মেই। প্রতিভা কোন দিন কেউ চাপা দিতে পারে না। এরজন্য শুধুই দরকার আন্তরিকতা, ধৈর্য, সাধনা এবং সততা। আর নিজের ভবিষৎ এর কথা যদি বলেন- তবে বলবো আমি টিকে থাকতে চাই। এ ক্ষেত্রে একটা কথা না বললেই নয়, আমি যখন প্রথম মিডিয়াতে কাজ করার জন্য আসি তখন কেউ কেউ বলেছিল যে আমাকে দিয়ে হবে না। আমার জন্য মিডিয়া না। কিন্তু আমি সেদিকে কান দেইনি। আমি আমার ইচ্ছা শক্তি দিয়ে আজ এই অবস্থানে এসেছি। আমি দেশের প্রায় সবগুলো টিভি চ্যানেলে উপস্থাপনা করেছি। উপস্থাপনা করতে এসে অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। কাজের সুযোগ এসেছে। কাজ করছি। যারা আমাকে ওই সময় এসব কথা বলেছিল তারাই হারিয়ে গেছে। আমি এখনও টিকে আছি। তাই আবারও বলছি- কি করলাম তা বিষয় না, টিকে থাকাটাই বড় বিষয়। ইটিভি অনলাইন : অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। এলিনা শাম্মী : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। গন্তব্য সিনেমার টিজার দেখুন : এসএ/

প্লিজ না জেনে গজল গাইবেন না

গজলের উৎপত্তি আরব থেকে হলেও ফার্সি ভাষায় এটি বিশেষ বিকাশ লাভ করে। পরবর্তীতে উর্দু ভাষায় এটি সমধিক জনপ্রিয়তা পায়। আরবি, ফার্সি, পশতু, উর্দু ছাড়াও হিন্দি, পাঞ্জাবী, মারাঠি, বাংলা, এমনকি ইংরেজিতেও গজল লেখা হয়। প্রাথমিক দিকে ইমাম গাযালী, মওলানা জালালুদ্দিন রুমী, হাফীজ সীরাজী, ফারুখউদ্দীন আত্তার, হাকীম শানাঈ প্রমুখ গজল লিখে বেশ নাম করেন। পরবর্তিতে আমির খশরু, মীর তাকী মীর, ইব্রাহীম জক, মীর্জা গালিব, দাগ দেলবী এবং আধুনিক কালে আল্লামা মহাম্মদ ইকবাল, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, ফিরাক গোরখপুরী গজল লেখক হিসাবে নাম করেন। গজল হালকা মেজাজের লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। আবার হালকা-গম্ভীর রসের মিশ্রণে সিক্ত আধ্যাত্মিক গান। গজল প্রেমিক-প্রেমিকার গান হলেও এ গান এমন একটি শৈলী- যাতে প্রেম ও ভক্তির অপূর্ব মিলন ঘটেছে। পার্থিব প্রেমের পাশাপাশি গজল গানে আছে অপার্থিব প্রেম, যে প্রেমে স্রষ্টার প্রতি আত্মার আকূতি নিবেদিত। বাংলাদেশেও এই গজল সঙ্গীতের প্রচুর শ্রোতা রয়েছেন। তবে তাদের মনের খোরাক মেটাতে দেশীয় শিল্পী খুব বেশি নেই। দু’একজন যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে জনপ্রিয় গজলশিল্পী মেসবাহ আহমেদ। তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র গজলশিল্পী, যিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত গজল ব্যক্তিত্ব জগজিৎ সিংয়ের শিষ্য। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই শিল্পী সঙ্গীতের এ ধারাটি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। দেশের সেরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ নিয়াজ মুহাম্মদ চৌধুরীও মেসবাহ আহমেদের গুরু। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের একান্ত সাক্ষাৎকারে গজল সঙ্গীত নিয়ে কথা বলেছেন জনপ্রিয় এই তারকা। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : মাঝে একটি দুর্ঘটনা গেলো। কেমন আছেন এখন? মেসবাহ আহমেদ : আপনাদের দোয়াতে মোটামুটি ভালো আছি। মেডিসিন চলছে। ইটিভি অনলাইন : যা হোক সুস্থ হয়ে উঠেছেন এটাই অনেক বড় বিষয়। সেদিন ঘটনাটি কি হয়েছিলো? মেসবাহ আহমেদ : ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছিলাম। দিনটি ছিলো রবিবার (২৮ জানুয়ারি)। রাজধানীর নটরডেম কলেজের সামনে ঘটনাটি ঘটে। এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বের হওয়ার সময় একদল ছিনতাইকারী আমাকে ঘিরে ধরে। অস্ত্রের মুখে ছিনতাইকারীরা মানিব্যাগ ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেই। এ সময় ছিনতাইকারীরা আমাকে হিট করে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। আসলে দেশে এখনও এমন ঘটনা ঘরে ভাবলে কষ্ট হয়। আমরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইবো! ইটিভি অনলাইন : সঙ্গীত চর্চা কেমন চলছে? মেসবাহ আহমেদ : চলছে। কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হয়েছে। এখন মোটামুটি সুস্থ। আবারও কাজে মন দিচ্ছি। ইটিভি অনলাইন : আপনি আমাদের দেশের প্রখ্যাত গজলশিল্পী। গজল সঙ্গীত নিয়ে কিছু বলেন? মেসবাহ আহমেদ : গজল আসলে গানের বাইরের কিছু না। গজলও একটা মিউজিক, নজরুল সঙ্গীত, সূফীইজম, কাওয়ালী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, লালনও একটা মিউজিক। কিন্তু প্রত্যেকাটার আলাদা আলাদা একটা গায়কি আছে। একটা আলাদা স্টাইল আছে। গজল কিন্তু ফার্সি, উর্দু ভাষায় গাওয়া হয়। আসলে এই ভাষাগুলো না জেনে গজল গাওয়াটা ঠিক নয়। আপনি গজল গাইছেন কিন্তু সঠিক উচ্চরণ যদি করতে না পারেন তবে ওই ভাষার মানুষগুলো এটা শুনলে হাসবে, লজ্জা পাবে। আমাদের দেশে অনেক ভালো ভালো কণ্ঠ আছে কিন্তু ভালো গজল গায়ক নেই। ইটিভি অনলাইন : গজল, কাওয়ালী, সুফী সঙ্গীতের মধ্যে পার্থক্যটা আসলে কি? মেসবাহ আহমেদ : গজল হচ্ছে পদ্য কবিতা। নজম হচ্ছে গদ্য কবিতা। কাওয়ালী হচ্ছে আধ্যাতিক সঙ্গীত। আর সূফী তো সূফীই। তবে গজলের মধ্যেও সুফীইজম আছে। এমন কোন কথা নেই যে গজল মানেই সূফী মিউজিক। গজলের মধ্যে প্রেমের বর্ণনা আছে, সুন্দরী রমণীর বর্ণনা আছে, কারও কোন আসক্তির বর্ণনা আছে। ইটিভি অনলাইন : সূফী সঙ্গীত বলতে আমরা কি বুঝি? মেসবাহ আহমেদ : সূফী মানে আধ্যাত্মবাদ। এটা কখনও কখনও গজলে আসে বটে, তবে সব সময় না। ইটিভি অনলাইন : আমাদের দেশে গজল চর্চাটা কেমন চলছে? মেসবাহ আহমেদ : এক কথায় বলবো- নাই। কেউ কেউ এই খালি ময়দানে গোল দেওয়ার চেষ্টা করে। দেখুন যিনি শিক্ষিত তিনি শৈল্পিক। যিনি শৈল্পিক তিনি শিক্ষিত। এটা কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি। তবে এটা স্বমন্বয় নেই। গজল গাইতে হলে আপনাকে প্রথাগত তালিম নিতে হবে। আপনি যদি বলেন আমি বাঙালী আমার উচ্চরণ হয় না। আমার কথা হচ্ছে তাহলে আপনি গেয়েন না। আমি রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত ভুল উচ্চরণে গাই এটা যেমন অপরাধ একই ভাবে এই গজলের ক্ষেত্রেও তাই। যদি না পারেন তবে না গাওয়াই ভালো। কিছু গজল শিল্পী আমরা দেখি কিন্তু তারা কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে একেবারেই না। তবে ভালো শিল্পী একে বারে যে নেই তা কিন্তু নয়। আমার গুরুজি নিয়াজ মুহাম্মদ চৌধুরী। রুণা লায়লা, শাহনাজ রহমতুল্লাহ অসাধারণ গাইছেন তারা। রুণা লায়লা যখন গজল গায় আমরা অবাক হয়ে যাই। এতো সুন্দর, এতো হাই কোয়ালিটি কল্পনাই করা যবে না। ইটিভি অনলাইন : গজলের চর্চাটা কেনো এতো কম? মেসবাহ আহমেদ : কষ্ট সাধ্য যে, তাই। আপনাকে গুরু ধরতে হবে। অনেক দিন সাধনা করতে হবে। অনেক খরচ করতে হবে। ডলারে পে করতে হবে। তাছাড়া সহজেই যদি জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় তবে কেনো আমি কষ্ট করে এগুলো করব? নিজেকে প্রকাশের ধান্দা মাথায় ঢুকে গেছে সবার। শেখার জন্য বা সাধনার জন্য গান গাইছি খুব কম। সারাক্ষণ যদি আপনি অনুষ্ঠানের ধান্দায় থাকেন তবে কখন রেওয়াজ করবেন? আসলে এই বিষয়টিতে আমরা আহত। ইটিভি অনলাইন : দৈনন্দিন ব্যস্ততা কি নিয়ে? মেসবাহ আহমেদ : সব সময় আমি একই রকম থাকি। ব্যবসা-বাণিজ্য করি। মিউজিকতো করিই। বেছে বেছে অনুষ্ঠান করি। একটা মিউজিক ভিডিওর কাজ করছি। কাজ চলছে। হলে ইউটিউবে আপলোড করা হবে। এটা আধুনিক বাংলা গান। আমার লেখা ও সুরে। আমার তিনটি অ্যালবাম রয়েছে-নিজের লেখা ও সুরে। ইটিভি অনলাইন : সাধারণত গজল কোন ভাষায় হয়ে থাকে? মেসবাহ আহমেদ : গজল কিন্তু বাংলাতে হয় না। যেমন জাপানি ভাষায় নজরুল সঙ্গীত হয় না! তাই যদি হতো তাহলে রবীন্দ্রনাথ লিখতেন। বাংলায় গজল আঙ্ঘিকের গান আছে, তবে ওটা গজল না। গজল লেখার কিছু কায়দা-কানুন আছে। একবার আমাকে বলা হয়েছিলো আপনি কিছু গজল বাংলা লিখে দিবেন, সুর করবেন এবং গাইবেন। আমি তখন ১৬টি গজল করে দিয়ে ছিলাম। তবে চেষ্টা করলে হয়। সেই সুযোগটা দিতে হবে। ইটিভি অনলাইন : কেউ যদি গজল সঙ্গীতে নিজেকে প্রকাশ করতে চায় তবে আপনার উপদেশ কি থাকবে? মেসবাহ আহমেদ : আমি তাদের সাজেশন দিতে পারবো কি না জানি না। তবে একটাই কথা বলবো যে- প্লিজ না জেনে গজল গাইবেন না। সিডি বা ক্যাসেট থেকে তুলে গজলশিল্পী হওয়া যায় না। আপনি খেয়াল করে দেখবেন রমজান মাস আসলে যিনি কোন দিন গজল গায়নি তাকেও ফোনলাইভ করতে দেখা যায়। আমি চাইলেই একক ভাবে লালন সন্ধ্যা করতে পারিন না যদি কিনা আমার লালন গীতির সেই চর্চাটা না থাকে। আপনি শুধু নিজেকে ফেমাস করার জন্য, কয়টা টাকার জন্য, নিজেকে আরও একটু বেশি জনপ্রিয় করার জন্য আপনি গজল গেলে ফেললেন এটা কি ঠিক? একজন শিল্পী হিসেবে আপনার কমিটমেন্টটা কোথায়? আপনি হুট করেই সিডি বা ইউটিউব থেকে তুলে গজল গাইতে পারে না। আপনিতো এগুলোর চর্চাই করেননি তবে কোথা থেকে আসলেন? অনেক কিছু বলে ফেললাম, সে জন্য দু:খিত। কিন্তু ভাই বাস্তবতা এটাই। ইটিভি অনলাইন : আপনি গজল ছাড়া অন্য কোন গান কি করেন? মেসবাহ আহমেদ : হ্যাঁ। আমি আধুনিক বাংলা গান গাই। আমার লেখা ও সুরে অ্যালবাম আছে। আমি লিখতে পছন্দ করি। আমি গাইতে পছন্দ করি। আমি সুর করি, কম্পোজ করি। অন্যদের জন্যও সুর করি। ইটিভি অনলাইন : অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। মেসবাহ আহমেদ : আমি মন থেকে বলছি একুশে টেলিভিশনের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ আপনাকেও। ধন্যবাদ সবাইকে। এসএ/

আমার সত্তা দুই মাধ্যমেই

সাজিয়া সুলতানা পুতুল। প্রজন্মের জনপ্রিয় গায়িকা। তবে শুধু গায়িকা বললে ভুলই হবে। তিনি গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক। উপস্থাপক হিসেবেও তার নাম আছে বেশ। গানের এই পাখির যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। যদিও ছোটবেলা থেকেই গানে অনবদ্য অবদানের জন্য বেশ কিছু জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তবে এ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই পেশাগতভাবে শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন পুতুল। আর এ যাত্রাটা শুরু থেকেই ছিল বেশ ভালো। তখন থেকেই স্টেজ, টিভি লাইভ, অ্যালবাম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। শুধু গান নয়, গানের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন এই গুণী শিল্পী। ইতিমধ্যে বই মেলায় তার কিছু বইও প্রকাশ পেয়েছে। দুই মাধ্যমেই নিজেকে তুলে ধরতে নিরন্তর ছুঁটে চলছেন পুতুল। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন’র তারকালাপে নিজের সঙ্গীত সাধনা ও লেখালেখির কথা জানালেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : খুব ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : আপনি চলতি প্রজন্মের একজন জনপ্রিয় গায়িকা। পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। আপনার প্রকাশিত প্রথম বইটির নাম কি? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আমার প্রথম বই ‘পুতুল কাব্য উপক্রমণিকা।’ এটি একটি কাব্য গ্রন্থ। বইটির প্রকাশ হয় ২০১৬ সালে। বইটি প্রকাশ করে ‘প্রিয়মুখ প্রকাশনী’। ইটিভি অনলাইন : এরপর কি বই প্রকাশ পায়? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : এরপর প্রকাশ পায় ‘পুতুল কাব্য দ্বিতীয় অধ্যায়।’ এই বইটি ২০১৭ সালে প্রকাশ পায়। এটি আমার লেখা দ্বিতীয় বই। এটি প্রকাশ করে ‘দেশ প্রকাশনী’। ইটিভি অনলাইন : এবারের বইমেলায় আপনার নতুন কোনো বই এসেছে কী? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : এবছর আবারও ‘প্রিয়মুখ প্রকাশনী’ থেকে একটি উপন্যাস প্রকাশ পেয়েছে। উপন্যাসের নাম ‘একটি মনস্তাত্ত্বিক আত্মহনন ও তার পুতুলকাব্যিক প্রতিবেদন’। এটি আমার প্রথম উপন্যাস। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আজাদকে। ইটিভি অনলাইন : নতুন এই উপন্যাসের গল্পটা কি? বইটি সম্পর্কে একটু জানতে চাই। সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আসলে উপন্যাসটির মূল কথা হচ্ছে নারীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। একজন নারী তার জীবনে বিভিন্ন সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। সে ক্ষেত্রে যখন সে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে এবং যখন সঠিক সিদ্ধান্তটা নিতে পারে না, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেয়- দেখা যায় যে একারণে পরবর্তী জীবনে তাকে অনেক ভুগতে হয়। অনেক সময় এটা সংশোধন করার সুযোগ সে পায়, আবার অনেক সময় পায় না। আর এমনও হয় যে সংশোধনের সুযোগ থাকা সত্যেও সে সংশোধনের ইচ্ছা করে না। মনে করে যে যা হয়েগেছে সেটাই থাক। আবার সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে পথ চলা, এসব বিষয়গুলো উপন্যাসের মধ্যে পাওয়া যাবে। মোটকথা একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে গল্প বিভিন্ন শাখপ্রশাখায় বিস্তার লাভ করেছে। আমি কাছের কিছু মেয়ের জীবন ও বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে এটি লিখেছি। উপন্যাসটিতে নারী তাকে আলাদা আলাদা ভাবে নিজেকে দেখতে পারবে। ইটিভি অনলাইন : গানের মাধ্যম থেকে লেখালেখির জীবনে প্রবেশ করলেন কেনো? কখন থেকে এই আগ্রহটা প্রকাশ পায়? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : এটা যে হঠাৎ করে হয়েছে তা কিন্তু নয়। আমার আত্মপ্রকাশটা হয়তো দেরিতে হয়েছে। কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকে আমি যখন গানের সঙ্গে আছি তখন থেকেই সাহিত্য চর্চা করছি। গানের আমার পরিচিতিটা প্রথমে আসার কারণে অনেকে হয়তো মনে করেন যে আমি সৌখিন লেখক। আমি এটার সঙ্গে ঘোর বিরোধিতা করি। কারণ পুতুলের সত্তা দুই মাধ্যমেই। গান ও সাহিত্যের বাইরে আমি কিছুই না। সুতারাং আমি মনে করি যে আমি যদি গান নাও গাইতাম তখনও সাহিত্য চর্চা আমার একমাত্র মাধ্যম হতো। আমি নিয়মিত লেখক। আমি সারাদিনে গানটা যতটুকু যত্ন নিয়ে করি, লেখালেখিটাও ঠিক ততটা মন দিয়ে করি। আর অনুপ্রেরণার বিষয়টা হচ্ছে- আমার পরিবারেই সাহিত্যের চর্চা আছে। আমার বাবা ভিষণ কবিতা প্রেমি একজন মানুষ। আমার ভাই সাহিত্য চর্চা করে। বাসায় বই পড়ার প্রবণতা দেখেছি ছোটবেলা থেকেই। সেই পড়তে পড়তে একটা সময় মনে হলো আমিও আমার কথাগুলো প্রকাশ করি। ইটিভি অনলাইন : আপনি কি শুরুতেই কবিতা লিখেছেন? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আমার লেখালেখিটা শুরু হয় গান দিয়ে। গানের পরে কবিতা। কবিতা লেখার পর থেকে সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রবেশ করতে থাকি। এবার তো উপন্যাস লেখার কাজে হাত দিলাম। আমার নিজের যে অ্যালবামগুলো রয়েছে তার অধিকাংশ গানই আমার লেখা, সুর ও কম্পোজিশন করা। ইটিভি অনলাইন : সঙ্গীতশিল্পী নাকি একজন সাহিত্যিক হিসেবে নিজেকে দেখতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : দুইটার অনুভুতি একেবারে আলাদা। আমি যখন মঞ্চে থাকি, মঞ্চে গাই বা মঞ্চ থেকে নামি তখন আমাকে ঘিরে দর্শক-শ্রোতাদের যে আগ্রহ দেখি এটা স্বর্গীয় একটা অনুভুতি। আমি যখন মঞ্চে গাই তখন মঞ্চের সামনে যে প্রবীণ মানুষটি আমার গানের সঙ্গে তাল দেয় ঠিক তখন অন্যরকম অনুভুতি হয়। তখনই মনে হয় আমি স্বার্থক। আর লেখালেখির ক্ষেত্রে পাঠকদের অনুরাগের কথা যদি বলেন সেই অনুভুতিটাও ভিন্ন। এটার সঙ্গে আমি গত তিন বছর যাবৎ অভ্যস্ত। আমি যখন বই মেলার স্টলে থাকি তখন যারা আমার বই কেনেন এবং তাদের অনুভুতির কথা ব্যক্ত করেন তখন মনে হয় জীবন অনেক সুন্দর। অবশ্য আমার গানের অনুরাগীরাও সেখানে আসেন। তারা উৎসাহ দেন। আসলে দুই মাধ্যমের ভালোবাসা নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই। ইটিভি অনলাইন : গতকাল ভ্যালেন্টাইন ডে ছিলো। দিনটি কিভাবে কাটলো? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : প্রত্যেকটা দিবসেই আমাদের আলাদা ব্যস্ততা থাকে। দিনের শুরু হয়েছিলো টিভির পর্দায় দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে। আবার দিন শেষ হয়েছে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি গানের মাধ্যমে। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। কারণ বিশেষ দিনগুলোকে আমি আরও বিশেষ করতে পারি আমার দর্শক-শ্রোতার জন্য। ইটিভি অনলাইন : ব্যক্তি পুতুলের ব্যাক্তিগত ভালোবাসার গল্পটা শুনতে চাই। সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আমার ভালোবাসার গণ্ডিটা পরিবার কেন্দ্রীক। আমি ভিষণ পরিবার ঘেষা একটা মেয়ে। আমি কাজের বাইরে পুরোটা সময় আমার পরিবারের সঙ্গে থাকি। আমার মা-বাবা, ভাই-বোনদের সময় দিতে পারা এবং তাদের সময়টা পাওয়া এটাই অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। ইটিভি অনলাইন : অনেক ভালো লাগলো কথা বলে। ধন্যবাদ। সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। এসএ/

হ্যাঁ, নিজের পছন্দের মানুষ খুঁজে পেয়েছি

ঢাকাই সিনেমার উঠতি নায়িকা তানহা তাসনিয়া। ভোলা তো যায় না তারে সিনেমাতে চিত্রনায়ক নিরবের বিপরীতে অভিষেক হয় তার। এরপর ধূমকেতু সিনেমা দিয়ে হালের কিং শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করে নিজের অবস্থান পোক্ত করার চেষ্টা করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত তৃতীয় সিনেমা ভালো থেকো। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও আসিফ ইমরোজ। নতুন সিনেমা মুক্তির পর কয়েকটি দিন খুব ব্যস্ত আছেন তানহা। রোমান্টিক সিনেমার নির্মাতা হিসেবে খ্যাত জাকির হোসেন রাজুর পরিচালিত নতুন এই সিনেমাটি নিয়ে তানহার প্রত্যাশা ছিলো অনেক। ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় দর্শক এক নতুন তানহাকে দেখেছে। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দিনে কি করছেন নায়িকা? সেই সঙ্গে নিজের ভালোবাসার খবর কি? এসব কিছু নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের মুখোমুখি হলেন তানহা। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : কেমন কাটছে আজকের দিন? তানহা তাসনিয়া : অন্যাসব দিনের মতই কাটছে। সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। ভালোবাসা দিবস নিয়ে তেমন কোন আলাদা পরিকল্পনা নেই। আপনারা সবাই জানেন আমার নতুন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সুতারাং সিনেমাটা নিয়ে এতো বেশি ব্যস্ততা যাচ্ছে যে ভ্যালেন্টাইন বা ফাল্গুনকে আলাদা ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি না। সিনেমাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ইটিভি অনলাইন : অন্য কোন পরিকল্পনা কি আছে আজকের দিনটি নিয়ে? তানহা তাসনিয়া : আজকের দিনটি নিয়ে ওইভাবে তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। তবে আজকে সন্ধ্যায় মধুমিতায় কাছের সব সাংবাদিক ভাইদের নিয়ে এবং আমার যতো কাছের মানুষ আছেন তাদেরকে নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সিনেমাটি দেখবো। এক সঙ্গে সবাই ভ্যালেন্টাইন সেলিব্রেট করবো। এটাই আজকের প্লান। ইটিভি অনলাইন : ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। দর্শকদের সাড়াও পাচ্ছেন। আজ কোন গিফট পেয়েছেন? তানহা তাসনিয়া : অন্যান্য বছরের তুলোনায় এবারের ভ্যালেন্টাইনস ডে টা আমার জন্য খুবই স্পেশাল। কারণ এবার আমার সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এই ভ্যালেন্টাইনে সব জায়গায় আমার সিনেমা চলছে। এটাই আমার জন্য ভ্যালেন্টাইনের বড় গিফট। ইটিভি অনলাইন : নিজের পছন্দের মানুষ কি খুঁজে পেয়েছেন? তানহা তাসনিয়া : হ্যাঁ, নিজের পছন্দের মানুষকে খুঁজে পেয়েছি। এখনই সব কিছু বলছি না। সিক্রেট থাকুক। তবে সময় হলে অবশ্যই সবাইকে জানাবো। ইটিভি অনলাইন : ব্যক্তিগত ভালোবাসার গল্পটা শুনতেই চাই। বলবেন কি? তানহা তাসনিয়া : হা হা হা। না আজ থাক। অন্য কোন ভ্যালেন্টাইনে শোনাব। কারণ এই ভ্যালেন্টাইন শুধুই ভালো থেকো ময়, ভালো থেকো ময় এবং ভালো থেকো ময়। তাই সামনের ভ্যালেন্টাইনগুলোতে আমার ব্যাক্তিগত গল্পটা শুনাতে পারবো। ইটিভি অনলাইন : ভালো থাকবেন। শুভ কামনা। তানহা তাসনিয়া : সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসা। বেঁচে থাকুক সবার ভালোবাসা। এসএ/  

ইচ্ছে ছিলো ভ্যালেন্টাইনস ডে তেই বিয়ে করবো

‘প্রথম দেখায় গালের টোলটা যদি দেখা না হত, বেহায়ার মত তোমার দিকে তাকিয়েও থাকা হতোনা। পেতাম না তোমার ভালোবাসার ছোঁয়া। আর চঞ্চলও হতো না মনটা আমার। তোমার অস্থির ভালোবাসায় বলাও হত না প্রিয়া, আমার দুচোখের ভালোবাসার সাগরের জলে তোমাকে মিশাতে চাই। বলা হতো না চলো ভ্যালেন্টাইনস ডে তে (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিয়েটা করি।’ অনুভুতিগুলো জনপ্রিয় তারকা টনি ডায়েসের। নিজের বিবাহ বার্ষিকীতে প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসার অনুভুতিগুলো এভাবেই তিনি প্রকাশ করেছেন। টনি ও প্রিয়া ডায়েস বাংলাদেশের টিভি নাটকের এক সময়ের পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। এই দম্পতি বর্তমানে দেশ ছেড়ে রয়েছেন আমেরিকাতে। ডায়েস দম্পত্তি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী। ভালোবাসার এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাদের একমাত্র কন্যা অহনা। তাকে নিয়েই দুই তারকার পথ চলা। যদিও অনেক বছর হলো অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরে রয়েছেন এই দম্পত্তি। তবে ইদানিং প্রবাসে থেকেই দেশের জন্য নাটক নির্মাণ করছেন তারা। অপরদিকে দেশীয় তারকারা যখন আমেরিকাতে যান প্রায় সকলেই যোগাযোগ করেন ডায়েস দম্পত্তিদের সঙ্গে। টনি ডায়েসের ফেসবুকে প্রবেশ করলেই সে দৃশ্য সবার চোখে পড়বে। মজার বিষয় হচ্ছে দূরে থাকলেও তিনি ভক্তদের খুব কাছে অবস্থান করছেন। কারণ আমেরিকার জীবন ও পথচলার সব স্মৃতি নিয়মিতই আপলোড করেন নিজের ফেসবুকে। আমেরিকার বিভিন্ন জায়গাতে বিভিন্ন সময় পরিবার নিয়ে ঘোরার ছবি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা সবই দেখা যায় তার প্রফাইলে। হাস্যজ্জল তাদের ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায় বেশ ভালো আছেন জনপ্রিয় এই তারকা দম্পতি। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশের এই জনপ্রিয় জুটির বিবাহ বার্ষিকী। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) ও ইটিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ডায়েস পরিবারকে। প্রিয় তারকাদের ভালোবাসার গল্প পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে যোগাযোগ করা হয় টনি ডায়েসের সঙ্গে। তার সঙ্গে কথা বলে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন ভাই? টনি ডায়েস : ভালো আছি। যাচ্ছে দিন। ইটিভি অনলাইন : আমেরিকার জীবন কেমন উপভোগ করছেন? টনি ডায়েস : আমেরিকার জীবন ভালোই যাচ্ছে। এখানে তো টেনশন কম থাকে। বেশী চিন্তিত হতে হয় না। সব কিছু একটা সিস্টেমের মধ্যে চলে। বেশ ভালো উপভোগ করা যায়। ইটিভি অনলাইন : সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার এবং প্রিয়া আপুর রঙিন রঙিন ছবি দেখে ভক্তরা বুঝেই নিয়েছেন দুজনের ভালোবাসা আসলে কতটা রঙিন। ব্যস্ত শহরে কেমন কাটছে দুজনার? টনি ডায়েস : আমরা দুজনে সব সময়ই খুব ছিমছাম থাকতে ভালোবাসি। জীবনটাকে আমি উপভোগ করতে চাই। বলতে গেলে মানুষ পৃথিবীতে খুব কম সময়ের জন্য থাকে। উপভোগ করটাই আমার কাছে প্রধান মনে হয়। সেটা যে কোনো ভাবেই হতে পারে। আর রঙিন জীবন ... হা হা হা ...! সেটা কেনা চায়! আর আমি চাই সবাইকে নিয়ে রঙিন থাকতে। খুব বেশী চাহিদা নেই। ইটিভি অনলাইন : ১৪ ফেব্রুয়ারি আপনাদের দুজনার জন্য একটা বিশেষ দিন। দিনটি নিয়ে পরিকল্পনা কি? টনি ডায়েস : ইচ্ছে ছিলো ভ্যালেন্টাইনস ডে তে বিয়ে করবো। তার জন্য এনগেজমেন্টের পর এক বছর অপেক্ষা করেছিলাম। সাধারণত আমাদের দেশে মেয়েদের পরিবার অপেক্ষা করতে চায় না। তাড়াতাড়ি বিয়েটা সেরে ফেলে। এখনতো একদিনেই বিয়ে হয়ে যায়। পরে শুধু সামাজিকতার জন্য সবাই এক হয়। প্রতিবার অনেক আয়োজন থাকে। তবে এবার তেমন কিছু হচ্ছে না। কারণ এবছর ১৪ ফেব্রুয়ারী আমাদের রোজা শুরু হচ্ছে। এ্যাশ ওয়েডন্সে ডে। বাংলায় আমরা বলি ভর্সো বুধবার। পরবর্তী ৪০ দিন কোনো ধরনের জাকজমক অনু্ষ্ঠান কিংবা বেশী আনন্দ হবে না। কিছুটা ত্যাগস্বীকার করতে হয় ইস্টার সানডে পর্যন্ত। আমি খুব বেশী ধার্মিক মানুষ না। তবে সামাজিকতা কিংবা পারিবারিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেই। তা নাহলে পরবর্তী প্রজন্ম শিখবে না। ইটিভি অনলাইন : আপনার কাছে ভালোবাসার সঙ্গা কি? টনি ডায়েস : ভালোবাসা আমার কাছে মনে হয় দুজনার পারস্পরিক সমঝোতা। শুধু মুখে ভালোবাসি বললেই হয় না। সেটা কর্ম দিয়ে প্রকাশ করতে হয়। চাওয়া পাওয়ার ‌অনেক কিছুই ছাড় দিতে হয়। খেয়াল রাখতে হয় পছন্দ অপছন্দের দিকে। ইটিভি অনলাইন : একটি মধুর সম্পর্ক আরও মধুর করে তুলতে দম্পত্তিদয়কে কোন বিষয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন? টনি ডায়েস : ওই যে বললাম-দুজনের বোঝাপড়াটা ভালো হতে হবে। অনেক সময় অনেক কিছু ত্যাগ করার মানষিকতা থাকতে হবে। ইটিভি অনলাইন : প্রবাস জীবনে থেকে দেশের সবাইকে কি মিস করেন? টনি ডায়েস : হুম, দেশের ‌অনেক কিছুই মিস করি। বিষেশ করে বন্ধুদের সঙ্গে হৈচৈ আড্ডাটা। ইটিভি অনলাইন : দেশের কোটি কোটি দর্শক সেই টনি ডায়েসকে আবার ফিরে পেতে চায়। এ প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য কি? টনি ডায়েস : দেশে গিয়ে নিয়মিত কাজ করা আর হবে না এটা ঠিক। তবে মাঝে মাঝে গিয়ে করা যেতে পারে। এখন তো সবার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমটা অনেক সহজ। চাইলেই যে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। পরিকল্পনা হলে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমি চাই আমেরিকাতে যদি নাটক অথবা ফিল্মের কাজ করা যায়, বেশী ভাল হবে। এখানে শুটিং করা বেশ সহজ। কারিগরি দিক থেকে সবই পাওয়া যায়। খুব বেশী খরচও না। লোকেশন ভেরিয়েশনের সঙ্গে সঙ্গে সব জায়গায় শুটিং করা যায়। তেমন কোনো ‌অনুমতিরও প্রয়োজন হয় না। ইটিভি অনলাইন : প্রবাসে থেকেও কিছু কাজ করছেন দেখা যাচ্ছে। এটা কি শুধুই কারো অনুরোধে নাকি মিডিয়ার প্রতি আপনার ভালোবাসা থেকে? টনি ডায়েস : আমাদের আসলে আন্তর্জাতিক ভাবে কাজ বেশী করা উচিত। তাতে করে একসময় অনেক ভালো ক্ষেত্র তৈরী হবে, ভালো সুযোগের সৃষ্টি হবে। আমরা বেশ কিছুদিন থেকেই এখান থেকে কাজগুলো করে ঢাকার চ্যানেলগুলোর জন্য পাঠাতে চাচ্ছি। কারণ আগেই বলেছি খুব একটা ঝামেলা এখানে নেই, বিষেশ করে নিউ ইয়র্কে সবই পাওয়া যায়। এবছর বেশ কিছু কাজ করার ভাবনা আমাদের আছে। মিডিয়ার প্রতি ভালোবাসা থেকেই করতে চাই। সারাক্ষণ বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর লোকেশন যখন দেখি, মাথায় শুধুই শট কাজ করে, এঙ্গেল কাজ করে। তাইতো আমার বাসায় সবই আছে। গত কয়েক বছরে নিজেই সব যোগার করেছি। এখানে সব কিছুই পাওয়া যায়। প্রচুর ভালো অভিনেতা অভিনেত্রী এখানে আছেন। আমাদের শুধু দরকার চ্যনেলগুলোর সহযোগিতা। কারণ আমাদের ভাষার টিভি অনুষ্ঠান আমরা বাংলাদেশের মানুষ ছাড়া কেউ দেখে না। ইটিভি অনলাইন : নতুন কোন কাজ করেছেন সম্প্রতি? টনি ডায়েস : গত বছর শেষের দিকে একটা ১০০ পর্বের ধারাবাহিক করছি প্রিয় মানুষ, প্রিয় পরিচালক রহমতউল্লাহ তুহিনের পরিচালনায়। সঙ্গে আমার প্রিয় সব শিল্পী। নাম ‘নিউ ইয়র্ক থেকে বলছি’। খুব শিঘ্রই প্রচার হবে দীপ্ত টিভিতে। নিউ ইয়র্কে বিভিন্ন লোকেশনে কাজ করেছি আমরা। তাছাড়া ভেলেন্টাইনস ডে উপলক্ষে বিষেশ নাটক ‘ওপারে তুমি’ করেছি কিছুদিন আগে। রচনা ও পরিচালনায় সৈয়দ জামিম। সঙ্গে আছে প্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। প্রচার হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় আরটিভিতে। ইটিভি অনলাইন : প্রবাস জীবন কেনো বেছে নিলেন? অভিমান নাকি অন্যকিছু? টনি ডায়েস : আমেরিকা আসা হয়েছে পরিবারের জন্যই। আমার আর প্রিয়ার পরিবারের সবাই এখানে থাকে প্রায় ৪০ বছর ধরে। পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে চেইন ইমিগ্রেশন পদ্ধতি চালু আছে। সেই চেইন ইমিগ্রেশনের কারনেই চলে আসা। অভিমান থাকলেও সেটা আমার মধ্যেই রাখতে চাই। সবাই সবকিছু করতে পারেনা। আমি কখনই কম্প্রোমাইজ করিনি কোনো কিছুর সঙ্গে। সব সময় নিকট ভবিষ্যতটা আমি দেখতে পাই। তাইতো পরিকল্পনাটা সে ভাবেই করি। আর তাছাড়া আমাদের শোবিজের আকাশটা খুব সহজেই ধরা যায়। আর মার্কেটাও খুব ছোট। আপনি ৫ বছরে যে কাজটা করে যে জায়গায় থাকবেন, ২০ বছর ধরে কাজ করেও সেই জায়গাটাই থাকবেন। যদি না আন্তর্জাতিক ভাবে কাজ করা না হয়। শিল্পীদের ইউটিলাইজেনটা খুব কম হয়। একটা সময় শুধুমাত্র পেশার কারনেই কাজগুলো করে যেতে হয়, বাচ বিচার করা যায় না। ইটিভি অনলাইন : মিডিয়ায় নতুন কিছু নিয়ে কি কোন পরিকল্পনা আছে? দেশে ফিরবেন কবে? টনি ডায়েস : আগেই বলেছি আমেরিকায় বাংলাদেশের মিডিয়ার জন্য বেশ ভালো সুযোগ। এখানে সব কিছুই সহজ, কাজ করার জন্য। সরকার নিয়মগুলো খুব সহজ করে রেখেছে। তাইতো এখান থেকেই মিডিয়ার জন্য কাজ করতে চাই। ইটিভি অনলাইন : একুশে টিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে আপনাদের দুজনকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। জীবনটা আরও রঙিন হোক এই কামনা। ভালো থাকবেন। টনি ডায়েস : একুশে টেলিভিশন পরিবারকেও শুভেচ্ছা। দেশের সব দর্শক ও বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের জন্য দেয়া করবেন। এসএ

ম হামিদ ও ফালগুনী হামিদের ভালোবাসার গল্প

ম হামিদ। একজন নাট্যব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি)। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদেও নিযুক্ত ছিলেন। অপরদিকে ফালগুনী হামিদ। খুব সহজেই সবাই তাকে চেনেন একজন অভিনেত্রী হিসেবে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার উত্তর শ্রীপুর গ্রামের নিখিল চন্দ্র রায় ও সুষমা রায় দম্পতির আদরের মেয়ে পদ্মই হচ্ছেন সবার প্রিয় অভিনেত্রী, নাট্যনির্দেশক ফাল্গুনী হামিদ। ১৯৭৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর। ভালোবেসে বিয়ে করেন ম. হামিদ ও ফাল্গুনী হামিদ। এরপর ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ সেই বিয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। সেদিন থেকে ফাল্গুনী রায় চৌধুরী হয়ে যান ফাল্গুনী হামিদ। ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে একুশের অনলাইনের বিশেষ আয়োজন ‘ভালোবাসার দুটি ফুল’। এ বিভাগে আজকের তারকাদম্পত্তি ম হামিদ ও ফালগুনী হামিদ। তাদের নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- সোহাগ আশরাফ # আমরা আপনাদের ভালোবাসার গল্পটা শুনতে চাই। প্রথম দেখা কবে এবং কিভাবে? ম হামিদ : প্রথম দেখা সমকাল পত্রিকা অফিসে। এখনকার সমকাল পত্রিকা না। সেটা ছিলো সমকাল সাহিত্য পত্রিকা। যেটার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কবি সিকান্দার আবু জাফর। ফালগুনী হামিদ : প্রথম পরিচয়টা লৌকিক পরিচয় ছিলো। তারপর কাজের মাধ্যমে পরিচয়টা বৃদ্ধি পায়। এক সময় ঘনিষ্ঠতা হয়। তারপর বোঝাপড়া। তারপর বিয়ে। # বিয়ে হয়েছিলো কত সালে? ম হামিদ : ১৯৭৯ সালে। ফালগুনী হামিদ : হা হা হা। আসলে আমাদের দু’রকম বিয়ে হয়েছে। # মানে কি? ম হামিদ : হ্যাঁ। প্রথম বিয়েটা হয় ১৯৭৮ সালে। ফালগুনী হামিদ : আমরা দুজন নিজেরা বিয়ে করেছিলাম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পর্ব ও বৌ ভাতের আয়োজন করা হয়। # তার মানে দুইবার বিয়ে। হা হা হ। বোঝাই যাচ্ছে আপনাদের প্রথম বিয়েটা অনেক মজার ছিলো। গল্পটা শুনতে চাই। ম হামিদ : ফালগুনী হামিদের দিকে তাকিয়ে ম হামিদ- ‘আমি বলবো নাকি তুমি বলবে!’ আচ্ছা তুমিই বলো। ফালগুনী হামিদ : আসলেই মজার গল্প। আমি হোস্টেলে ছিলাম। ও আমাকে এসে বললো যে স্মৃতিসৌধে বেড়াতে যাবো। আমাদের বোঝাপড়াটা আগে থেকেই ছিলো। আমরা বেড়াতে গেলাম। সে তার বন্ধুর কাছ থেকে একটা মাটর সাইকেল নিয়ে আসলো। এটাতে করে আমরা স্মৃতিসৌধে গেলাম। আমি তো কিছু জানি না। ও দুটো গাঁধা ফুলের মালা বের করলো। বলেলো যে- মালা বদল করে আজই আমরা বিয়ে করবো। আমিও রাজি হয়ে গেলাম। ও আমাকে মালা পড়িয়ে দিলো, আমি ওকে মালা পড়িয়ে দিলাম। এরপর ওকে একটা প্রণাম করলাম। হয়ে গেলো। # এমন কিছু করবেন তা কি আগে থেকে জানতেন? ফালগুনী হামিদ : বিয়ে করবো এটা কয়েকদিন ধরে প্লান ছিলো। তবে ওই দিন ওই ভাবে বিয়ে করাটা সারপ্রাইজ ছিলো। ম হামিদ : (চুপ। মুচকি মুচকি হাসছেন) হঠাৎ বললেন- আমার বন্ধু ছিলো স ম হুমায়ূন। চিত্রনায়িকা শাবনাজে বাবা। সে তিতাসে চাকরি করতো। তার মটর সাইকেল ছিলো ওটা। আমাদের দেখা হলো রমনা রেস্টুরেন্টের সামনে। ওকে বলেছি চলে আসো। ও আসলো। মটর সাইকেলে তুলে নিয়ে সোজা সাভার স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধের মধ্যে যে জায়গাটাতে এখন বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনের ফলকটা লাগানো রয়েছে আগে ওখানে ছিলো না। পাশেই একটা জায়গাতে ছিলো। তখন পুরোপুরি নির্মাণ হয়নি স্মৃতিসৌধ। আমরা ওই জায়গাটাতে দাঁড়িয়ে মালাবদল করি। চিন্তাটা এমন ছিলো যে- এর চেয়ে পবিত্র স্থান জাতির আর কোথায় আছে? আর একটা কথা বলি- বঙ্গবন্ধু একবার বলেছিলেন ‘আমার ছেলে-মেয়েরা বেলিফুলের মালা দিয়ে বিয়ে করবে’। এখন ভাবি আমরাও তো তাই করলাম। হয়তো তখন বেলি ফুল পাইনি। গাঁধা দিয়ে করেছি। ফালগুনী হামিদ : বেলি ফুলের দামটা তখন বেশি ছিলো। বাজেটেরও তো একটা ব্যপার ছিলো। হা হা হা। মজা করলাম। অবশ্য তখন এভাবে বেলি ফুল পাওয়া যেতো না। ঢাকা শহরে এখন যেমন সব জায়গাতে ফুল পাওয়া যায়। ওই সময় শুধু হাইকোর্টের পশে পাওয়া যেত। আর কোথাও ছিলো না। # অনেক দিনের সম্পর্ক। অনেক দিনের সংসার। অনেক দিন এক সঙ্গে পথ চলা। যদি জানতে চাই আপনাদের এই ভালোবাসার মূল ভিত্তি কি-তাহলে এক কথায় কি বলবেন? ম হামিদ : আমি বলবো, ফালগুনীর নিষ্ঠা, একাগ্রতা। ফালগুনী হামিদ : এক কথায়ই বলবো, বিশ্বাস। # বিয়ে হলো। মালা বদল হলো। এরপরই কি দুজন এক সঙ্গে সংসার করতে পেরেছিলেন? ফালগুনী হামিদ : না। আসলে আমাদের বাড়ি থেকে কেউ ই মেনে নেয়নি। আমাদের দিকে মানেনি। ওদের দিকেও মানেনি। কাজেই আমরা যে খানেই থাকতাম সে সেখানেই ছিলাম। আর সেটা মানাটাও তাদের জন্য দুরুহ ব্যপার ছিলো। নানা রকম প্রতিবন্ধকতা ছিলো। এরপর দুই বাড়ি থেকে যখন আমাদের দেখেছে। আমাদের সম্পর্কে ধারণা জন্মেছে। উভয়েই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছি। আমার বাবা ওকে আদর করে বাবু বলে ডাকতেন। ম হামিদ : হ্যাঁ। আমার শশুর আমাকে অনেক আদর করতেন। আমি যখন ওই পরিবারে ঢুকলাম খুবই ভালোবাসতেন। মজার বিষয় হচ্ছে শেষের দিকে বাবা-মা (শশুর-শাশুড়ি) আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। আর আমাদের বাড়ির কথা যদি বলি- আমাদের বাড়িতে দুটি ধারা। একটি দল সাংস্কৃতিক ধারায়। অন্যরা ধর্মীয় ধারায়। আমার বাবা ধর্মীয় ধারার পক্ষে। আমার মা ছিলেন সাংস্কৃতিক ধারার প্রতিনিধি। শুরুর দিকে আমার মা যখন শুনতে পেয়েছিলেন তখন গোপনে তিনি আমার দুই বোনকে পাঠিয়েছিলেন ওকে দেখার জন্য। # অনেক সময়ই দেখা যায় এধরণের সম্পর্ককে পরিবার মেনে নেয় না। তাদের ক্ষেত্রে আপনাদের সাজেশন কি থাকবে? ফালগুনী হামিদ : আমি বলবো যে-একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। আর আমি যে পরিবারের জন্য উপকারি অর্থাৎ অপকারি নই, আমার যে তাদের প্রতি গভীর শ্রোদ্ধাবোধ আছে তার প্রমাণ করতে হবে। আমার শশুর প্রথম দিকে আমার রান্না খেতেন না। কিন্তু পরবর্তিতে তিনিই আমাকে ফোন করে বলতেন, খাসির মাংস রান্না করো। ম হামিদ : ধৈর্য্য ধারণের পাশাপাশি বোঝার সময়টাও দিতে হবে। # তখনতো যোগাযোগের তেমন কোন মাধ্যম ছিলো না। দুজন কিভাবে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন? ম হামিদ : প্রয়োজন পড়েনি। কারণ পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পর্কটা গাড় হয়ে যায়। এবং বিয়েটাও হয়ে গেছে। তারপর ৭৯-এর মার্চের দিকে ঘর সংসার শুরু করলাম। ফালগুনী হামিদ : সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে টিএসসিতে আমাদের বৌ চা হয়েছে। মানে সবাইতো বিয়েতে বৌ ভাতের আয়োজন করেন। আমরা করেছিলাম বৌ চা। তখনতো আমাদের তেমন রোজগারও নেই। ওই বৌ চাতে তৎকালিন ভিসি স্যার-ও এসেছিলেন। আরও অনেক বিখ্যাত মানুষ এসেছিলেন। আমি বৌ। অথচ একটি সাধরণ জরজেট শাড়ি পড়ে যাই ওখানে। কারণ সাজার মত তেমন কিছুই ছিলো না। অনেকেই ফুলটুল দিয়ে সেজে এসেছে। ভিসি স্যার এসে ওকে বলছে কনে কোনটা? হা হা হা। # অনেক ধন্যবাদ। ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা রইলো। ম হামিদ : ধন্যবাদ একুশে টিভিকেও। ফালগুনী হামিদ : ধন্যবাদ। এসএ/  

কবিতার প্রেমে পড়েছি

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন লাক্সতারকা শানারেই দেবী শানু। মাস্টার্স পরীক্ষায় তিনি মেধা তালিকায় জাতীয় পর্যায়ে ৯ম স্থান অধিকার করেন। সাধারণ ভাবেই মেধাবী একজন মানুষের মত প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা অথবা কর্পোরেট তারকা হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু শানু হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। মেধাকে কাজে লাগিয়ে হয়ে গেলেন শোবিজ তারকা। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতির নানা শাখায় ছিলো তার অবাধ বিচরণ। নাচ, গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, অভিনয়—সবই ছিলো তার নখদর্পণে। তার বাবা এ কে শেয়াম আর মা চন্দ্রাদেবী দুজনই ছিলেন সংস্কৃতিমনা। তাদের উৎসাহেই শানু নিজেকে এতদূর নিয়ে আসতে পেরেছেন। স্কুল-কলেজে পড়াকালীন সময়ে জাতীয় শিশু সপ্তাহ ও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদকসহ অনেকগুলো পুরস্কার অর্জন করেন এই মেধাবী তারকা। ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরেছিলেন শানারেই দেবী শানু। এরপর টিভি নাটকে এক যুগেরও অধিক পথ চলা। তবে বরাবরই দেখা গেছে মিডিয়াতে বেছে বেছে কাজ করেন শানু। পথিমধ্যে হুমায়ূন আহমেদের ‘৯ নম্বর বিপদ সংকেত’ সিনেমাতে অভিনয়ের কথা থাকলেও সেটি আর হয়ে ওঠেনি। তবে অন্য একটি সিনেমায় অভিনয় করে বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন তিনি। আবু আকতার উল ইমানের পরিচালনায় শানু অভিনিত সিনেমাটির নাম ‘মিস্টার বাংলাদেশ’। এরই মাঝে বিয়ে করে সংসারজীবনও শুরু করেছেন তিনি। শানু এখন সন্তানের মা। তবে ক্যারিয়ার, সংসার ও সন্তান সামলে নতুন করে ভক্ত ও অনুরাগীদের কাছে ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থিত হয়েছেন এই গুণী তারকা। শানারেই দেবী শানু একজন কবি। গত বছর অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশ পেয়েছে তার প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘নীল ফড়িং কাব্য’। চলতি বছরেও তার তিনটি কাব্য গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমান ব্যস্ততা ও আগামীর ভাবনা প্রসঙ্গে একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন শানারেই দেবী শানু। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : শুভ সকাল। আপু কেমন আছেন? শানারেই দেবী শানু : ধন্যবাদ। অনেক ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : মডেল, অভিনেত্রী, নৃত্য শিল্পী হিসেবেই আমরা আপনাকে চিনি। কিন্তু গত বছর থেকে আপনি নতুন পরিচয়ে সবার সামনে উপস্থিত হয়েছেন। আপনি একজন কবি। কেমন লাগে? শানারেই দেবী শানু : এই পরিচয়টা আসলে আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগার। অনেক বেশি গর্বের। যখন আমি বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রী হিসেবে পরিচয় দেই বা দেওয়া হয় তার পাশাপাশি নতুন করে কবি হিসেবে পরিচিতিটাও পাই। ভিষণ ভালো লাগা কাজ করে। ইটিভি অনলাইন : কবি হয়ে ওঠার গল্পটা আসলে কি? শানারেই দেবী শানু : বিভিন্ন সময়ে আমি বলেছি- আমার বাবা একজন কবি। বাবাকে দেখেই তো বড় হয়েছি। এক ধরণের ভালো লাগা, প্রেরণার জায়গা আগে থেকেই ছিলো কবি সত্তার মধ্যে। তবে সেটাকে আমি কখনও চর্চা করিনি। কিন্তু গতবছর থেকে সেই জায়গাটা কেনো যেনো অনেক তীব্র হয়ে ওঠে। সেখান থেকেই একটা দু:সাহস করে ফেললাম। এ ক্ষেত্রে আমি অবশ্যই আমার প্রকাশককে ধন্যবাদ জানাবো। আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড, ফলোয়ার, কাছের বন্ধু ও আত্মিয়-স্বজনদের অনুপ্রেরণা কাজে লেগছে। তারাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে এনেদিয়েছে। ইটিভি অনলাইন : কবি হওয়ার গল্পটাতো শুনলাম। বাবা যেহেতু একজন কবি। বাড়িতে সাহিত্য চর্চাটা কেমন হতো? কবিতা কি ছোটবেলা থেকেই লিখতেন? শানারেই দেবী শানু : একেবারেই ছোট বেলা থেকে লেখালেখির চর্চাটা ছিলো। আমার ছোট ভাইও লেখে। পরিবারের অনেকেই লেখেন। ছোটবেলা থেকেই লেখা লেখির চর্চাটা ছিলো। আমাদের বাসায় সাপ্তাহিক একটা কবিতার বৈঠক হতো। ‘প্রথম দিনের সূর্য’ নামের একটা সংগঠন ছিলো। সেই সংগঠনের সুবাদে প্রায়েই আমাদের বাসায় কবিতার আসর বসতো। ওই সময় যারা নিয়মিত লিখতেন তাদের নিয়েই আড্ডাটা হতো। ঠিক তখন থেকে চেষ্টা করতাম। একটা গল্প বলি- আগামীকাল আমাদের বাড়িতে কবিতা সন্ধ্যার আসর বসববে। সবার কাছ থেকে একধরণের অনুপ্রেরণা ছিলো যে লিখো, চেষ্টা করো। সেই জায়গা থেকে আমার ভেতরেও ইচ্ছা তৈরি হয় যে- কিছু একটা লিখে দেখি, পারি কিনা। আমার মনে আছে ওই রাতে আমি পরপর আটটি কবিতা লিখেছিলাম। যদিও ওগুলো কবিতা হয়েছে কিনা আমি জানিনা। কিন্তু লিখতে ইচ্ছে হয়েছিলো তাই লিখে ফেললাম। পরে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি হয়েছে। আসলে আগে থেকেই চর্চা কম বেশি ছিলো। তবে ওই সময়গুলোর কবিগুলোকে ঠিক কবিতা মনে হতো না। আত্মবিশ্বাসের জায়গাটি তখন তৈরি হয়নি। কিন্তু গতবছর থেকে ভাবনাগুলো মনে মধ্যে খেলা শুরু করে। পরে যখন ফেসবুকে শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করি আমার আশপাশের মানুষগুলোর উৎসাহ, প্রেরণা, গ্রহণযোগ্যতা পাই। এভাবেই হয়ে গেছে। চেষ্টা করছি। দেখি কি হয়। ইটিভি অনলাইন : এ পর্যন্ত আপনার কয়টি বই প্রকাশ হয়েছে? শানারেই দেবী শানু : এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে তিনটি কাব্যগ্রন্থ। এর মধ্যে অনন্যা প্রকাশনী থেকে ‘লাল এপিটাফ’, তাম্রলিপি থেকে ‘ত্রিভুজ’ ও চৈতন্য থেকে এসেছে ‘অসময়ের চিরকুট’। গত বছর অনন্যা থেকে প্রকাশিত হয়েছিলো ৫৮টি কবিতা নিয়ে সাজানো আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নীল ফড়িং কাব্য’। মূলত আমি কবিতাই লিখি। শুরুর দিকে ফেসবুকে লিখতাম। সেখানে লিখতে লিখতে কবিতার প্রেমে পড়ে গেছি। তবে অনেকেই বলছেন-গল্প, উপন্যাস লিখতে। সামনে পরিকল্পনা আছে। ইটিভি অনলাইন : আপনার জন্ম সিলেটে মণিপুর সম্প্রদায়ে। মণিপুরী সাহিত্য নিয়ে কোন ভাবনা আছে কি? শানারেই দেবী শানু : আসলে মণিপুরী সাহিত্যের উপর খুব বেশি দখল আমার নেই। তাই লেখার যোগ্যতা এখনও তৈরি হয়নি। তবে আমার গোপন ও সুপ্ত ইচ্ছা আছে মণিপুরী সাহিত্য নিয়ে কিছু করার। খুব শীঘ্র চর্চাটা শুরু করব এবং এটা নিয়ে কিছু করার পরিকল্পনাও মাথা আছে। আমি চাই আমার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এটাকে সাবর সামনে তুলে ধরতে। ইটিভি অনলাইন : সাহিত্য চর্চা করতে গিয়ে কি মিডিয়াতে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন? শানারেই দেবী শানু : কাজ আসলে কম করছি বিষয়টা এরকম না। শুরু থেকেই কেনো যেনো আমি অনেক বেশি বেশি কাজ করিনি। অনেকের মত অনেক বেশি ব্যস্ত থাকতে চাইনি কখনও। পরিবার, সংসার, মিডিয়া, লেখালেখি সব কিছু মিলিয়ে কাজের চাপটা আমি এভাবেই রাখার চেষ্টা করি। মিডিয়াতে এমুহুর্তে ব্যস্ততা আছে। বিভিন্ন ধারাবাহিকে কাজ করছি। দুটি ধারাবাহিক অনইয়ারে যাচ্ছে। আরও একটা ধারাবাহিকে কাজ করেছি। তবে অনইয়ারে আসেনি। বিশেষ ধারাবাহিক। বিশেষ এ কারণে বলছি যে অনেক বড় পরিসরের একটা কাজ হয়েছে। এটার নাম ‘সাত ভাই চম্পা’। এটাকে ধারাবাহিকও বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে মেগা টিভি সিরিজ। এটা বলতে পারি যে আমাদের টিভি মিডিয়াতে এখনও পর্যন্ত এত বড় পরিসরে কোন কাজ হয়নি। তাছাড়া সম্প্রতি একটি সিনেমার কাজ শেষ করলাম। সেটা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম গত দুই তিন মাস। সিনেমাটির নাম ‘মিস্টার বাংলাদেশ’। এটি আমার প্রথম চলচ্চিত্র। লাক্সের পর ছোট ছোট শর্ট ফিল্ম করেছি কিন্তু বড় পর্দায় এবারই প্রথম। ইটিভি অনলাইন : সিনেমাটি সম্পর্কে একটু জানতে চাই। শানারেই দেবী শানু : কেএইচকে প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির নির্দেশনা দিচ্ছেন আবু আকতারুল ইমান। মূল চরিত্রে থাকছেন ‘জাগো’ খ্যাত নির্মাতা খিজির হায়াত খান। কাহিনী ও চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন নির্মাতা খিজির হায়াৎ খান ও হাসনাত পিয়াস। জঙ্গিবিরোধী গল্প নিয়ে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ নির্মিত হয়েছে। দায়বদ্ধতা থেকে কাজটি করেছি। এটাকে বেশ সাহসী পদক্ষেপ বলতে পারেন। ইটিভি অনলাইন : আপনার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু নাটকের নাম বলুন? শানারেই দেবী শানু : ওইভাবে তো সবগুলো মনে নেই। তবে শাকুর মজিদের ‘বৈরাগী’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘পলাশ ফুলের গন্ধ’, হুমায়ূন আহমেদের ‘কবি’, সালাউদ্দিন লাভলুর ‘সাকিন সারিসুরি’, রেজানুর রহমানের ‘আহ ফুটবল বাহ্ ফুটবল’, সাগর জাহানের ‘আরমান ভাই বিরাট টেনশনে’, শিমুল সরকারের ‘চোরকাব্য’, রিপন নবীর ‘আপনঘর’, অরণ্য আনোয়ারের ‘কবিরাজ গোলাপ শাহ’ ও ‘কর্তাকাহিনি’ প্রমুখ। ইটিভি অনলাইন : মিডিয়ার তারকা হিসেবে অটোগ্রাফ দিতে ভালো লাগে নাকি লেখক-কবি হিসেবে? শানারেই দেবী শানু : আসলে দুটিই আমার ভালো লাগার জায়গা। মিডিয়াতে আমার একটু পরিচিত ছিলো বলেই কবি হিসেবে সহজে জায়গা করতে পেরেছি। আমার যারা কাছের মানুষ তারা আমার প্রেরণা। অভিনেত্রী হিসেবে দর্শকদের ভালো লাগাতো আছেই। তবে লেখক হিসেবে যখন কারও সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হই বেশ ভালো লাগে। বিশেষ করে যখন কেউ আমার লেখা দেখে পছন্দ করেন এবং বইটি কিনে নেয় তখন। ইটিভি অনলাইন : অনেক ভালো লাগলো। শুভ কামনা। শানারেই দেবী শানু : ধন্যবাদ। এসএ/

বেয়াই-বেয়াইনের রোমান্স দেখবে দর্শক

তানহা তাসনিয়া। ঢালিউডের নতুন নায়িকা। আজ দিনটি শুধুই তার। কারণ আজ দেশের সিনেমা হলগুলো দখল করে আছেন তিনি। আজই মুক্তি পেয়েছে ‘ভালো থেকো’ সিনেমা। সিনেমার তানহার বিপরিতে অভিনয় করেছেন ঢাকাই সিনেমার স্মার্ট ও হ্যান্ডসাম হিরো আরিফিন শুভ। একটা সময় এই শুভই ছিলো তানহার স্বপ্নের নায়ক। মনে মনে স্বপ্ন দেখতেন, কোনো একদিন শুভর বিপরীতে সিনেমাতে অভিনয় করবেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে নায়িকার। স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে জুটি হয়ে দর্শকদের সামনে এসেছেন সময়ের সম্ভাবনাময়ী নতুন এই চিত্রনায়িকা। অপরদিকে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ খ্যাত নায়ক আরিফিন শুভ ফিরে আসছেন দর্শকদের কাছে পুরোপুরি ভিন্ন রূপে। অ্যাকশন হিরো থেকে শতভাগ রোমান্টিক হিরো। দুজনই আজ সিনেমা হলে দর্শকদের আমোদিত করবেন ‘ভালো থেকো’ সিনেমা দিয়ে। ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে মুক্তি পাওয়া আলোচিত এই সিনেমা নিয়ে একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন’র মুখোমুখি হয়েছেন দুই তারকা। তাদের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ একুশে টেলিভিশন অনলাইন : কেমন আছেন? আরিফিন শুভ : ভালো আছি। সিনেমার প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত আছি। এছাড়াও দুই বাংলায় একই সময় ব্যস্ততা বেড়েছে। তানহা তাসনিয়া : অনেক ভালো। কারণ আজ আমি পৃথীবির সব চেয়ে সুখি মানুষ। দর্শকদের ভালো রাখতে আজ আমি ও শুভ সিনেমা হলে আসছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : ‘ভালো থেকো’ সিনেমা নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা কেমন? আরিফিন শুভ : সিনেমা যখন মুক্তির সময় হয়ে আসে তখন প্রত্যাশাটা অনেক বেড়ে যায়। সত্যি কথা বলতে ‘ভালো থেকো’ সবাইকে ভালো রাখবে আশা করি। তানহা তাসনিয়া : আমার প্রত্যাশাটা অনেক বেশি। আমি আমার স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে পর্দায় আসছি। তবে এটুকু বলতে পারি দর্শক আরও একটি ভালো সিনেমা পাচ্ছে। আমার তো মনে হয় ভালো একটি কাজ হয়েছে। কারণ আমার খুব ইচ্ছে ছিলো জাকির হোসেন রাজু স্যার ও আরিফিন শুভর সঙ্গে কাজ করার। আমার বিগত দুটি সিনেমাতে নিজেকে প্রমাণ করার তেমন কোনো সুযোগ পাইনি। এ সিনেমাতে কিছুটা হলেও পেয়েছি। এ সিনেমাতে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সো আশা তো করতেই পারি ভালো কিছু হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : সিনেমাটির গল্প সম্পর্কে একটু জানতে চাই। আপনাদের চরিত্র কি? আরিফিন শুভ : ভালো থেকো’ একটি পারিবারিক গল্পের সিনেমা। ইদানিংকালে এই ধরণের গল্পে খুব একটা সিনেমা হয় না। এতে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মেসেজ রয়েছে। আমি সাধারণত এমন সিনেমাতে কাজ করার চেষ্টা করি, যেখানে সমাজ ও মানুষের জন্য শিক্ষণীয় কোনো মেসেজ থাকে। আবার শুধু মেসেজ থাকলেই কাজ করি, এমন নয়। সেই মেসেজটা যেন বিনোদনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, সেটাও খেয়াল করি। ‘ভালো থেকো’ সিনেমাতে ঠিক তেমনই হয়েছে। এটি একটি মানবিক গল্প। মানবতার গল্প। হল থেকে বের হবার পর মানুষের বিবেককে জাগ্রত করবে। আর চরিত্রের কথা যদি বলি তবে বলবো- আমি পরিবার ও সমাজের একটি সাধারণ চরিত্র বহন করেছি। তানহা তাসনিয়া : আমি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ইনোসেন্ট একটা মেয়ে, নাম নীলা। পরিবারের অনেক আদরের মেয়ে। আমার মাঝে বাঙালি মেয়ে নিজেদের খুঁজে পাবেন। আর ব্যক্তি জীবনে আমি যেমন এ সিনেমার চরিত্রটাও ঠিক তেমনই। পরিবারের খুব আদরের একটা মেয়ে তবে অনেকটা রাগী ও জেদি। নিজের সঙ্গে মিল রয়েছে বলেই এই চরিত্রে কাজ করতে বেশি আগ্রহ পেয়েছি। তাছাড়া ভালো গল্প ও চরিত্র কেউই মিস করতে চায় না। চরিত্রগত জায়গা থেকে এক্সপেরিমেন্ট করার খুব ইচ্ছে ছিলো। সেই সুযোগ এই সিনেমাতে পেয়েছি। সিনেমাটিতে শুভ আর আমি বেয়াই-বেয়াইন। পর্দায় বেয়াই-বেয়াইনের রোমান্টিকতা দেখবে দর্শক। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : সিনেমাটিতে এমন কি আছে যার টানে দর্শক হলে গিয়ে এটি দেখবে? আরিফিন শুভ : তাহলে আমি এই সিনেমার মূল বক্তব্যটা বলি। আমরা বিনোদনের মাধ্যমে একটা গল্প বলতে চেয়েছি। একটা মানুষের কর্মে যে পরিচয়টা হয় সেটাই কি তার বড় পরিচয়? নাকি তার জন্মসূত্র বা জন্মপরিচয় অর্থাৎ সে কোথা থেকে এসেছে সেটাই তার বড় পরিচয় হওয়া উচিৎ? এমনই একটি প্রশ্ন সিনেমাতে আছে। আমার বিশ্বাস দর্শকদের কাছে এই বিষয়টি খুব নাড়া দেবে। আমরা সামাজিক যে দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে আছি, আমরা যে ভুলটা সব সময়ই করি তা ধরিয়ে দিতে চেয়েছি সিনেমাটির মাধ্যমে। কর্মই মানুষের আসল পরিচয় হওয়া উচিত। মানুষটি কোথা থেকে উঠে এসেছে? তার জন্মপরিচয় কি? এটা বড় বিষয় নয়। মনে করেন একজন মানুষ অনেক বড় একটি পরিবার থেকে এসেছে কিন্তু তার কর্ম অনেক নিকৃষ্ট। এটা কি ভালো? নাকি ছোট বা নিচু একটা পরিবার থেকে এসেও কেউ ভালো কিছু করেছে সেটা ভালো? কোন পরিচয়টা গ্রহণযোগ্য হবে? তানহা তাসনিয়া : অনেক বড় বাজেটের সিনেমা, ভালো পরিচালক দ্বারা নির্মিত। পারিবারিক বন্ধনের সুন্দর একটি গল্প পাবেন এ সিনেমায়। ভালো থেকো মৌলিক গল্পের সিনেমা। পরিবারকে নিয়ে দেখার সিনেমা। সিনেমা শিল্পের এ দুর্দশায়ও ‘ভালো থেকো’ আমার মনে হয় সবকিছু উৎরে যাবে। ভালো থেকো মানুষকে ভালো রাখবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : দর্শক একজন অ্যাকশ হিরোকে দেখেছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’র মাধ্যমে। এবার রোমান্টিক হিরোকে দেখতে যাচ্ছে। কিভাবে নিজেকে পরিবর্তন করলেন? আরিফিন শুভ : সত্যি কথা যদি বলি-আপনি দেখবেন যে এই কাজটি আগেও আমি করেছি। ‘মুসাফির’ সিনেমাটি ছিলো একেবারেই অ্যাকশ সিনেমা, আর ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছিলো রোমান্টিক মুভি। তাই বলবো যে এ ধরণের কাজ আমার জন্য নতুন না। নিজেকে পরিবর্তনের এক্সপেরিমেন্ট আমি আগেও করেছি। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এতো বড় একটি সফলতা পেয়েছে যার কারণে সবার হয়তো চোখে পড়ছে বিষয়টি। কিন্তু আমি বলবো-এক ধরণের কাজ যদি বারবার করি তবে দর্শক বিরক্ত হয়ে যাবে। তাই নিজেকে প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন ভাবে তুলে ধরতে চাই। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আপনিতো এর আগেও সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তবে আরিফিন শুভর সঙ্গে জুটি হয়ে এই প্রথম। কেমন লাগছে? তানহা তাসনিয়া : শুভ এ সময়ের একজন জনপ্রিয় তারকা। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে। সে অনেক আন্তরিক। আমাকে কাজের ব্যপারে খুব সহযোগিতা করেছে। কখনও মনেই হয়নি যে আমি তার সঙ্গে এই প্রথম কাজ করেছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আরিফিন শুভকে এর আগে অনেক নায়িকার সঙ্গে দর্শক দেখেছে। তানহার সঙ্গে এই প্রথম। দুজনের রসায়নটা কেমন হয়েছে বলে মনে করেন? আরিফিন শুভ : আমি বললে তো হবে না। দর্শক বলবে কেমন হয়েছে। আমি আর তানহা যেভাবে কাজ করেছি আমাদের দুজনের জায়গা থেকে কোন অবহেলা ছিলো না। আমি দর্শকদের এই অনুরোধটাই করবো যে তারা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখুক। তাছাড়া তানহা নতুন। ওর সঙ্গে কাজটা এনজয় করেছি। সে খুব চেষ্টা করেছে কাজটা ভালো করার জন্য। সেটা স্ক্রিনেও বোধহয়ফুটে উঠেছে। আমাদের মধ্যেও যথেষ্ট ভালো বোঝাপড়া ছিল। ও যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজটা করতে পারে সেজন্য আমিও যথেষ্ট সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আশা রাখি ‘ভালো থেকো’ দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিবে। আপনাদের জন্য শুভ কমনা। ভালো থাকবেন। আরিফিন শুভ : একুশে টেলিভিশনকেও অনেক ধন্যবাদ। দর্শকদের বলবো পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা হলে এসে ‘ভালো থেকো’ দেখুন। আশা করি মন ভালো হবে। তানহা তাসনিয়া : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। দর্শকদের বলতে চাই সিনেমা হলে গিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র দেখুন। কারণ আপনারা হলে গিয়ে সিনেমা দেখলেই ভালো সিনেমা আসবে। এসএ/

আমার সঙ্গী এখন হিং টিং পট

ড. ইনামুল হক। প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা, লেখক, শিক্ষক। তিনি দীর্ঘকাল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক এর দায়িত্ব পালন করেছেন। ফেনীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করার প্রয়াসে বিভিন্ন আন্দোলনমুখী নাটকে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে আইয়ুব খানের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন নাট্যচর্চাকে হাতিয়ার করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সৃজনীর ব্যানারে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথনাটক করেন। ইতোমধ্যে তাঁর বেশ কয়েকটি নাটক বিভিন্ন নাট্যপত্রে, বিশেষ ম্যাগাজিনে এবং বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নির্জন সৈকতে, গৃহবাসী, মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র, স্ট্রিন্ডবার্গ এর দু’টো নাটক, মহাকালের ঘোর সওয়ার, বাংলা আমার বাংলা সহ বেশি কিছু বইও প্রকাশিত হয়েছে তার। ইনামুল হকের দাম্পত্য সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক স্বামী লিটু আনাম আর প্রৈতি হক স্বামী সাজু খাদেম। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের তারকালাপে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : স্যার কেমন আছেন? ড. ইনামুল হক : শারীরিকভাবে অনেক ভালো নেই। তবে ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে? ড. ইনামুল হক : আসলে ব্যস্ত থাকতে চাইলেই ব্যস্ত থাকা যায়। আমাদের এমনই অভ্যাস হয়েছে যে, সেই শিক্ষাকতা থেকে শুরু করে নাটক করা, সব কিছু মিলিয়ে বসে থাকতে আর পারি না। কিছুনা কিছু একটা করতেই হয়। এমনও আছে যে কোন কোন সময় বই এর ধুলাও পরিস্কার করছি। এটাও একটা আনন্দের বিষয় মনে করি। এখন যেমন লেখালেখি করি ঠিক তার পাশাপাশি আমাদের থিয়েটারের দল আছে নাগরিক নাট্যাঙ্গন। এর কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত আছি। তাছাড়া টিভি নাটকেতো অভিনয় করছিই। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে বেশি যাওয়া হচ্ছে। আমি বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছি। আসলে প্রত্যেকটি দিনই কোন না কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। ইটিভি অনলাইন : বর্তমানে কোন টিভি নাটকরে কাজ করছেন? ড. ইনামুল হক : একটা নতুন ধারাবাহিকে কাজ শুরু করলাম। ধারাবাহিকটির শিরোনাম ‘মিস্টার টেনশন’। কয়েক দিন হলো শুটিং করেছি। আগামীতে অনইয়ার হবে। এছাড়া খন্ড নাটক করলাম। এখন নাম মনে রাখতে পারি না। কিন্তু একটা না একটা করেই যাচ্ছি। ইটিভি অনলাইন : থিয়েটারে সময় দিচ্ছেন নিশ্চই। কি কি কাজ করা হচ্ছে এখন? ড. ইনামুল হক : আমাদের দল বিভিন্ন জায়গাতে শো করছে। যেমন আগামী ৭ তারিখ গণস্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শো হবে। এই নাটকটি আমারই চারটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নটককে এক সঙ্গে করে করা হচ্ছে। নাম দেওয়া হয়েছে- ‘একাত্তর এবং একজন নাট্যকার’। কিছুদিন আগে এনাম মেডিকেল কলেজে শো হয়েছে। ওখানে দারুণ সাড়া পেয়েছে। ১৬ তারিখ আবার শো আছে। এটা রসায়ন অলিম্পিয়াড হয়েছে। তাদের একটা অনুষ্ঠান হবে। একটা না একটা চলছেই। ইটিভি অনলাইন : আপনার পরিবারের সব সদস্যই তো সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি আপনার দুই মেয়ে এবং মেয়ের জামাইরাও অভিনয় করেন। এই মিলটা কীভাবে ঘটলো? ড. ইনামুল হক : আমার যখন বিয়ের কথা হয়, আমি তখন শিক্ষকতার পাঁচ বছর শেষ করেছি। আমার তখনই ইচ্ছে ছিলো এমন কাউকে বিয়ে করবো যে হবে সংস্কৃতিমনা। সৌভাগ্যক্রমে আমি তা পেয়েগেছি। লাকি ইনামকে তো চেনেন। সেও পাঁচ বছর থেকে শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ছিলো। লাকি সেই পাঁচ বছর বয়সেই মঞ্চে উঠেছে। পরবর্তীতে বিয়ের পরেও সে চালিয়ে যায়। মঞ্চে সে এতোই নিবেদিত যে এখনও নিয়মিত কাজ করছে। আর পরিবারের মধ্যে যদি শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা হয় তবে সন্তানরাও সেইভাবে গড়ে ওঠে। অনেকে হয়তো নিজেরা চর্চা করেন কিন্তু সন্তানদের সেদিনে আসতে দেন না। অনুপ্রেরণা দেয় না। আমরা একটু উল্টোভাবে দেখেছি। সেই ছোটবেলা থেকেই দুই মেয়েকে নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তি, অভিনয়ের সঙ্গে ওদের যুক্ত করে দিয়েছি। মজার বিষয় হচ্ছে ওরা আবার যাদের বিয়ে করেছে তারাও নিজ নিজ স্থানে এই শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। সেই সুবাদে এখন আবার নাতিরাও একই পথে হাটতে শুরু করেছে। ইটিভি অনলাইন : নাতিদের নিয়ে কেমন কাটে? ড. ইনামুল হক : নাতি-নাতনিরা হৈই চৈই করে মাতিয়ে রাখে। তাদের কিছুনা কিছু পারফরমেন্স আমাদের দেখতেই হয়। ওরা তিন জন- হিং টিং পট। হৃদির জমজ বচ্চা। একটা ছেলে একটা মেয়ে। ওদের নাম হিং ও টিং। আর ছোট মেয়েটির ছেলের নাম পট। পট রাখার কারণ হচ্ছে ওর বাবা পটুয়া। সাজু খাদেম আর্ট কলেজ থেকে পাস করা। বেশ ভালো কাজ জানে। ও পোট্রেট অনেক ভালো আঁকে। মোট কথা হিং টিং পট কে নিয়ে অনেক ভালো সময় কাটে। ওরাই এখন আমার সঙ্গী। ইটিভি অনলাইন : অবসর সময়ে কি করেন? ড. ইনামুল হক : অবসর তো নেই। সব সময়ই ব্যস্ত থাকি। কিন্তু আমি খেলা দেখতে পছন্দ করি। ক্রিকেট খেলা আমার অনেক পছন্দ। বাংলাদেশ জিতলে তো ভিষণ আনন্দ হয়। মনটাই ভরে যায়। হারলেও ভিষণভাবে মন খারাপ হয়। সেদিন আর ভালো লাগে না। এসব নিয়েই আছি। ইটিভি অনলাইন : দীর্ঘ এই পথ চলায় কোন অপ্রাপ্তি বা আক্ষেপ আছে? ড. ইনামুল হক : আমি যদি রাজনৈতিকভাবে কথা বলি দেখা গেছে যে এখনকার সরকার সংস্কৃতি বান্ধব। সংস্কৃতিবানদের খুব মূল্য দিয়ে থাকেন। এসব ক্ষেত্রে দেখেছি সরকার মাঝে মাঝে এমন কিছু লোকদের খুব বেশি মূল্যায়ন করছে যারা আসলে যোগ্য না। যা অনেক সময় ক্ষুব্ধ করে। একসময় যারা বঙ্গবন্ধু বা নেত্রী সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করেছে তারাই এখন মূল্যায়ন পাচ্ছে। আর একটা বিষয় হচ্ছে- অভিনয়ের ক্ষেত্রে অনেক প্রযোজকরা পারিশ্রমিক কম দিতে চায়। আমারই লেভেলের কাউকে অনেক বেশি পারিশ্রমিক দিচ্ছে আর আমার ক্ষেত্রে অনেক কম দিচ্ছে। এটা ঠিক নয়। এর জন্য একটা নীতিমালা থাকা জরুরী। ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধনবাদ। ড. ইনামুল হক : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আর আমার কথা যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন সেজন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এসএ/  

প্রথাটা ভাঙার চেষ্টা করছি

ছোটবেলা থেকে নাচ, গান, আবৃত্তি এর মধ্যেই বিচরণ করেছেন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। ওই সময় কচিকাঁচা ও ছায়ানটের শিক্ষার্থী হয়ে নিজেকে একটু একটু করে তৈরি করেছেন। সেই সময় বিটিভির শিশুতোষ অনেক অনুষ্ঠানেও অংশ নিতেন ছোট্ট হিমি। সেই হিমি এখন অনেক বড় হয়েছেন। নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছেন অতি যত্ন করে। বর্তমানে ব্যস্ত আছেন লেখাপড়া আর অভিনয় নিয়ে। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংয়েও নিজেকে তুলে ধরছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নাটক ও সিনেমায় অভিনয়ের পর অংশ নেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায়। চূড়ান্ত পর্বে প্রথমে ‘মিস বাংলাদেশ’ হিসেবে তাঁর নামই ঘোষণা করা হয়। পরের ঘটনা সবারই জানা। তবে এসব কিছু হিমিকে একটুও নড়বড়ে করতে পারেনি। বরং এগিয়ে যাচ্ছেন আপন গতিতে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের একান্ত সাক্ষাৎকারে হিমি জানান নিজের কথা। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন? জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : ধন্যবাদ। অনেক ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে? জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : নতুন একটি ধারাবাহিকে কাজ শুরু করেছি। ধারাবাহিকটির নাম স্মৃতির আলপনা আঁকি। সেখানে আলপনা চরিত্রটি আমি করছি। এখানে আলপনা চরিত্রে আমি তিনটি টাইমলাইন প্লে করছি। একটি ছোট বয়স, মধ্যবয়স এবং সব শেষে বৃদ্ধ বয়স। এটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। তবে ভালোও লাগছে। কারণ বুড়া বয়সের মেকআপ নিয়ে চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করেছি। ইটিভি অনলাইন : ইতিমধ্যে আপনি কিছু বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন। কেমন সাড়া পেয়েছেন? জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : সম্প্রতি বিজ্ঞাপন নিয়ে একটু বেশি কাজ করেছি। ‘কুমারিকা হেয়ার অয়েল’- এর টিভিসিটা অনইয়ারে যাচ্ছে। এটার খুব ভালো ফিডব্যাক পেয়েছি। এছাড়া একটি স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। আমি ওদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও হয়েছি। অনেক সময় অনেকে বিরক্ত হয়। মনে করে স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন করা যাবে না। দেখতে ভালো দেখায় না। কিন্তু আমি এই প্রথাটা ভাঙার চেষ্টা করছি। সবাই যেনো সচেতন হয় সে জন্য কাজ করছি। ক্যাম্পেইন করছি। আসলে শুধু অভিনয় করলেই তো হবে না। সামাজিক সচেতনতা জরুরী। মিস ওয়াল্ডে যখন কাজ করেছি তখনও আমাদের শেখানো হয়েছে সোশ্যাল ওয়ার্ক সম্পর্কে। ওখানেতো কিছু করতে পরলাম না, নিজে থেকেই চেষ্টাটা করছি। এছাড়া প্রাইম ব্যাংকের একটি টিভিসি করলাম। এছাড়া আরও একটি স্পেশাল টিভিসি আসছে। ওটা এখনও অনইয়ার হয়নি। ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষ্যে অল-টাইমের একটি ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। সেই ক্যাম্পেইনের টিভিসিটা করলাম। যারা এই ক্যাম্পেইনে উইনার হবে তারা ভ্যালেন্টাইন ডেতে আমাদের সঙ্গে ডেটে যাবে। এছাড়াও কাজ করছি। একটু ভিন্ন ধরণের কাজ করার চেষ্টা করছি। ইটিভি অনলাইন : টিভিসি ছাড়া আর কি ব্যস্ততা আছে? জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : এর আগে নাটকে বেশি কাজ করা হয়েছে। নাটকটা এখন একটু কম করছি। তবে ধারাবাহিকে কাজ করছি। সম্প্রতি মিউজিক ভিডিও করলাম একটা। অন্তু করিমের সঙ্গে। খুব ভালো একটা কাজ হয়েছে। অনেক মজার কিছু স্মৃতি আছে এটি ঘিরে। তবে আমি টানা মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে চাইছি না। বাংলাদেশে একটা কাজ বেশি বেশি করলে লেবেল গায়ে লেগে যায়। আমি আসলে ওরকম চাচ্ছি না। আমি সব দিকে ব্যালেন্স করে অল্প অল্প করে এগিয়ে যেতে চাই। তবে অভিনয়টাই আমার জন্য প্রধান বিষয়। ইটিভি অনলাইন : সামনে তো অনেক দিবস। ভ্যালেন্টাইন ডে, বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি। এসব দিবস ঘিরে পরিকল্পনা কি? জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : একুশে ফেব্রুয়রি নিয়ে একটা কাজের প্লান চলছে। এ সপ্তাহেই করার কথা। সম্ভবত শর্ট ফিল্ম হবে ওটা। আমরা না বুঝেই বাংলা ভাষা থেকে কতটা দূরে সরে যাচ্ছি সেটা নিয়ে একটা মজার গল্প এটা। আমার ভালো লেগেছে গল্পটা তাই কাজ করছি। তাছাড়া ভ্যালেন্টাইন ডে নিয়ে প্লান তো বললামই। এছাড়াও একটা চমৎকার কাজ শেষ করলাম আমি আর সমাপ্তি ভাই। কবিতার উপরে একটা শর্ট ফিল্ম। অনেকটা কাব্য নাট্য ধরণের। এখানে আমাদের কোন সংলাপ নেই। যিনি কবিতা লিখেছেন তিনিই আবৃত্তি করবেন। যতটুকু জানি কোন একটি ফিল্ম ফেস্টিবলে যাচ্ছে এটি। ইটিভি অনলাইন : মিডিয়া ছাড়া আর কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন? জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : আমি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি। ভার্সিটি শুরু হয়ে গেছে। সেখানে স্টাডির দিকে খেয়াল করতে হচ্ছে। অনেক নতুন বন্ধু হয়েছে। বেশ ভালো লাগছে। ইটিভি অনলাইন : পড়া লেখা ও মিডিয়া এক সঙ্গে কিভাবে সামলাবেন? জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : যখন স্কুলে বা কলেজে ছিলাম তখনও সাপোর্ট পেয়েছি। ওই সময় অনেক ক্লাস মিস যেতো কিন্তু তারা বলেছেন যদি রেজাল্ট ঠিকঠাক ধরে রাখতে পারো তবে কোন সমস্যা নাই। আশা করবো এখানেও সবাই সাপোর্ট দিবেন। যেহেতু মিডিয়াতে ইতিমধ্যে একটা পর্যায়ে এসেছি তাই এ জায়গাটাও ধরে রাখতে চাই। যেহেতু ছোট বেলা থেকেই একই ভাবে কাজ করে আসছি তাই মনে হচ্ছে খুব একটা সমস্যা হবে না। ইটিভি অনলাইন : চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবনা কি? একটি চলচ্চিত্রে দর্শক আপনাকে দেখেছে। সেই সম্পর্কে একটু শুনতে চাই। জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : যে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে সেটা হচ্ছে ‘হঠাৎ দেখা’। এটা আমার বেস্ট কাজ। আসলে সব তারকারই স্বপ্ন থাকে চলচ্চিত্রে কাজ করা। আমি খুব লাকি যে প্রথম সিনেমাটিই ছিলো যৌথ প্রযোজনায়। আসলে আমার একটা ড্রিম প্রজেক্ট ছিলো এটা। মজার বিষয় হচ্ছে প্রথম সিনেমাটি সবাই পছন্দ করেছে। দারুণ ফিডব্যাক এসেছে। এ মুহুর্তে কিছু সিনেমা নিয়ে কথা চলছে। তবে চূড়ান্ত না হলে বলতে পারছি না। ইটিভি অনলাইন : আপনিতো নাচও করেন। এটি নিয়ে কি কোন ব্যস্ততা আছে? জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : হ্যাঁ। নাচ করা হচ্ছে। বেশ কিছু ড্যান্স শো করলাম। নাচটা আসলে ছোট বেলা থেকেই খুব পছন্দের। অনেক জোর করে ভর্তি হয়েছিলাম নাচ শেখার জন্য। তাই আলাদা একটা ভালো লাগা কাজ করে। নাচে আসলে নিজের ইমশনগুলো প্রকাশ করা যায়। আমি খুব উপভোগ করি। ইটিভি অনলাইন : অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : ইটিভিকেও অনেক ধন্যবাদ। এসএ/  

কর্পোরেট লাইফ বেশ উপভোগ করছি

মিডিয়ায় একযুগ পূর্ণ করেছেন তিনি। এই পথচলায় দর্শক ভক্তের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছেন। ইতিমধ্যে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে নিজের পরিচয়টাও ভক্তদের কাছে পোক্ত করেছেন অভিনেত্রী। শুধু যে নাটকে অভিনয়- তা কিন্তু নয়; মডেলিং ও উপস্থাপনায় নিজের দক্ষতার প্রমাণ করেছেন। এবার আরও একটি মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করছেন অভিনেত্রী নোভা ফিরোজ। একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান ‘লেভেল থ্রি ক্যারিয়ারস’ এ হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স পদে কাজ করছেন। সংসার, মিডিয়ার ক্যারিয়ার এবং কর্পোরেট লাইফ সব কিছু ব্যালেন্স করে সমান তালে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এই তারকা। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের একান্ত সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ার ও বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন? নোভা ফিরোজ : অনেক ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : অভিনেত্রী নোভা এখন কর্পোরেট লাইফে। সেই সঙ্গে অভিনয়, সন্তান ও সংসার সব কিছু কিভাবে সামলাচ্ছেন? নোভা ফিরোজ : শুরুতেই বলতে চাই-আমি গত বছরের নভেম্বর থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘লেভেল থ্রি ক্যারিয়ারস’ এ কাজ শুরু করেছি। হেড অব কমিউনিকেশন হিসেবে কাজ করছি। কাজটি খুবই মজার। তবে বিগত বারো বছর যা করছি তার থেকে একেবারেই ভিন্ন। আমার অফিসের পরিবেশটা খুবই সুন্দর। অনেকটা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ। কখনও মনে হয়নি যে- আমাকে চেয়ার টেবিলের সঙ্গে বেধে দেওয়া হয়েছে। আর আমি যে কাজ করি সেটাও খুব মজার। ভালোই লাগছে। সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে- শুরুর দিকে চাকরিটা নিয়ে যখন কথা হয়, তখন আমি বলে নিয়েছি যে আমি কিন্তু নাটক ছাড়তে পারবো না। যেহেতু আমার রক্তে অভিনয়টা মিশে আছে তাই এই সুযোগটা দিতে হবে। তারাও এ বিষয়ে আমাকে বেশ সহযোগিতা করেন। দেখা যায় যে মাসের বেশ কিছু দিনই আমার শুটিং ডেট থাকে। ইটিভি অনলাইন : তার মানে কাজটা নতুন হলেও বেশ উপভোগ করছেন তাই তো? নোভা ফিরোজ : খুবই উপভোগ করছি। তা না হলে আমি যে পরিমান চঞ্চল আমাকে এভাবে এক জায়গায় ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে যেতো। ইটিভি অনলাইন : কর্পোরেট লাইফ এর পাশাপাশি অভিনয় বা মিডিয়াতে কতটুকু ব্যাস্ত রয়েছেন? বর্তমানে কি কি কাজ করছেন বা করেছেন? নোভা ফিরোজ : আমি বরাবরই একটু বেছে কাজ করতে পছিন্দ করি। যেহেতু এখন মিডিয়াতে একটু কম সময় দিচ্ছি তাই আরও একটু পরিচ্ছন্ন কাজ করার চেষ্টা করছি। আগে যেমন মাসের বিশ দিনই অভিনয়ের জন্য সময় দিতে হতো, সেখানে এখন ছুটির দিনগুলো বেছে নিচ্ছি। আবার অনেক সময় দেখা যায় স্ক্রিপ্ট দেখে বুঝে তবেই সময় দিচ্ছি। তবে এখন একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকে কাজ করছি। বিটিভিতে এই দীর্ঘ ধারাবাহিকটি শুরু হচ্ছে। যা এবারই প্রথম। এর আগে এমন দীর্ঘ ধারাবাহিক হয়নি। ডেইলি সোপ ‘দ্য জেনারেশন’। এটি নির্মাণ করছেন আলভী আহমেদ। সেখানে একটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছি। প্রতি মাসেই এই নাটকের জন্য সময় দিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ধারাবাহিক রয়েছে। রয়েছে খণ্ড নাটক। সেই সঙ্গে উপস্থাপনাতো আছেই। ইটিভি অনলাইন : আপনি তো উপস্থাপনাও করছেন। সেই সম্পর্কে একটু জানতে চাই। কি কি কাজ করছেন? নোভা ফিরোজ : আগে থেকেই সৌন্দর্য্য কথা নামে একটা অনুষ্ঠান করতাম। এর পাশাপাশি একটি গানের অনুষ্ঠান করছি। ‘মালঞ্চ’ নামের এই অনুষ্ঠানটি ছোট বেলাতে দেখতাম। এখন আমি উপস্থাপনা করছি। ‘মালঞ্চ’ এই প্রথম তাদের উপস্থাপনার ধারাটায় পরিবর্তন এনেছে। খুবই ভালো লাগে। কারণ নবীণ-প্রবীণ সব ধরণের শিল্পীরা থাকে। অনেক বড় বড় মিউজিক ডিরেক্টর, গীতিকার তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়। আসলে সঙ্গীত জগতের এই সেক্টরে আমার তেমন একটা সম্পৃক্ততা ছিলো না। বিগত চার পাঁচ মাসে বেশ উপভোগ করছি। ইটিভি অনলাইন : উপস্থাপনার শুরুটা হয়েছিলো কিভাবে? নোভা ফিরোজ : উপস্থাপনা শুরু হয়ে ছিলো ২০০৭ এর দিকে। আমি বউ কথা নামের একটা অনুষ্ঠান করতাম। এটা একটা ফ্যামিলি গেইম শো ছিলো। খুব জনপ্রিয় একটা অনুষ্ঠান ছিলো এটা। এরপর একটি ট্রাভেল শোতে কাজ করি। আমি প্রথম ফিমেল হোস্ট হিসেবে কোন ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল শো বাংলাদেশ থেকে হোস্ট করেছি। ইটিভি অনলাইন : আপনিতো এখন বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন। কোনটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন? নোভা ফিরোজ : আসলে আমার এখন অনেকগুলো সন্তান। একসময় তিনটা সন্তানের কথা বলেছি। এখন আমার ছানাপনা অনেক। ইটিভি অনলাইন : সব শেষে মিডিয়াতে আপনার শুরুর গল্পটা একটু শুনতে চাই। মডেলিং নাকি অভিনয় দিয়ে শুরু করেছিলেন? নোভা ফিরোজ : আমার শুরু হয়েছিলো মডেলিং দিয়ে। ২০০৫ সালে আমি প্রথম টিভিসি করি। ২০০৬ সালে ‘ইউ গট দ্য লুক’-এ চ্যাম্পিয়ন হই বেস্ট লুক ক্যাটাগরিতে। ‘ইউ গট দ্য লুক’ থেকে যারা আসেন তারা সবাই হয়তো মডেলিং নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হয়েছিলো ভিন্ন। আমি নাটকে ডাইভাট হয়ে যাই। আমার প্রথম অভিনিত নাটক ছিলো অনিমেষ আইচের নির্দেশনায় ‘প্রেম ও ঘামের গল্প’। এরপর অনেক নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ করা হয়েছে। ইটিভি অনলাইন : অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। নোভা ফিরোজ : আপনাকেও ধন্যবাদ। এসএ/

‘দর্শক আমার কণ্ঠও চিনে রেখেছে’

পুরো নাম আবদুল মুকিত মোহাম্মদ জাকারীয়া। কিন্তু মিডিয়াতে কাজ করতে এসে নামটা ছোট হয়ে আসে। সবাই তাকে চেনেন মুকিত জাকারীয়া নামে। জনপ্রিয় এই মডেল ও অভিনেতা মূলত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। একটি মুঠোফোনের বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। আর এ কারণে এখন যেখানেই যান, সেখানেই মানুষজনের উচ্ছ্বাস মুকিতকে নিয়ে। অনেকেই বলে ওঠেন- ‘আরে, উনারে তো টিভিতে দেহি। উনি তো মিসকল মফিজ। উনিই তো চায়ের দামে শরবত খান।’ বিজ্ঞাপনে তাঁর সংলাপ ‘ভালো তো, ভালো না!’—ব্যাপক জনপ্রিয়। মূলত শরাফ আহমেদ জীবনের ‘শাড়ি’ নাটক দিয়ে মিডিয়া অঙ্গনে যাত্রা শুরু হয় মুকিতের। এরপর থেকে এ পর্যন্ত তিনি অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন। তবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্দেশনায় বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান মুকিত। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় অর্ধশত বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। এর প্রতিটিই দর্শক সমাদৃত হয়েছে। এছাড়াও তিনি ফারুকীর নির্দেশনায় ‘টেলিভিশন’ ও ‘পিঁপড়াবিদ্যা’, সাইফ চন্দনের ‘ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’ এবং রয়েল অনিকের ‘গেম’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের কথা বললেন মুকিত জাকারীয়া। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন মুকিত ভাই? মুকিত জাকারীয়া : ধন্যবাদ। অনেক ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : শুরুতেই একটু ভিন্ন ভাবে প্রশ্ন করছি। টিভি নাটক, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন- তিন মাধ্যমেই আপনি কাজ করছেন। কোন মাধ্যমটি বেশি উপভোগ করেন? মুকিত জাকারীয়া : ধন্যবাদ। অনেক সুন্দর একটি প্রশ্ন করেছেন। আমি সব চেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি বিজ্ঞাপনে। আমরা যে যাই বলি না কেনো, একটা বিষয় চিন্তা করে দেখেন মাত্র ত্রিশ/পয়ত্রিশ সেকেন্ড এর একটি বিজ্ঞাপনে একটি পণ্যকে একটি গল্পের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া, বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মনের মধ্যে গেঁথে দেওয়া সহজ কথা নয়। আমি আবারও বলছি- এতো অল্প সময়ে একটি ম্যাসেজ দেওয়া চারটি খানেক কথা নয়। তাই এখানেই আমি নিজেকে খুঁজে পাই। ইটিভি অনলাইন : এ পর্যন্ত তো অনেক বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। কোন কাজটি বেশি হিট করেছে বলে মনে হয়? মুকিত জাকারীয়া : আমার সবগুলো কাজই দর্শক গ্রহণ করেছে। তবে এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি রয়েছে যেগুলো দর্শক খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে।   ইটিভি অনলাইন : আপনার কাজগুলো একটু অন্যরকম। দর্শকদের কাছে কমেডি মনে হয়। কিন্তু আসলে কমেডি নয়। চেহার বা চরিত্রটাই অন্যসব কাজের থেকে আলাদা। কিভাবে নিজেকে এমন করে ফুটিয়ে তোলেন? মুকিত জাকারীয়া : এটি আসলে সম্পূর্ণ ডিরেক্টরের অবদান। এই কৃতিত্বটা আমি তাদেরই দিতে চাই। যখন কোন বিজ্ঞাপনের গল্প লেখা হয় তখন নির্দেশক নিজেই অনুভব করেন যে এই চরিত্রের জন্য কোন মানুষটি পারফেক্ট। যদি আমাকে চিন্তা করা হয় বা ডাকা হয় তখন আমি যাই। আমাকে যখন বলে আপনার জন্য এমন একটি চরিত্র ঠিক করেছি আমি তখন নিজেকে সেভাবেই তৈরি করি। আমাকে নির্মাতারা আলাদা আলাদা চরিত্রের জন্য ভেঙ্গেছে। মানে নতুন নতুন চরিত্রের জন্য নতুন নতুন ভাবে উপস্থাপন করেছেন। যেমন ধরুন – ‘চায়ের দামে শরবত পাইলাম’। আমি আড়ৎ এ বসে আসি। আমাকে যে সহযোগিতা করে সেই ছেলেটি ভুল করেছে। সে চায়ে বেশি চিনি দিয়ে নিয়ে এসেছে। আমি বললাম- ‘বাহ, ভালো তো’! ওকে উপহাস করলাম। মানুষ এই উপহাসটি কমেডি হিসেবে নিচ্ছে। আমি ছেলেটিকে বকা দিলাম। বললাম- চায়ে এতো চিনি দিছস কেন? চিনি কি বাংলালিংক দামে পাইছোস? এই যে বকা দিলাম এটাতেও দর্শক বিনোদন পেয়েছে। আসলে কখন কোন মানুষের কাছে, কোন শ্রেণীর কাছে, কোন কথাটি ভালো লেগে যাবে বলা কঠিন। আপনি বিশ্বাস করবেন না- বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আমাকে দেখে বলেন- বাহ; ভালো তো। চায়ের দামে শরবত পাইলাম। আবার আরও একটি বিজ্ঞাপনে আমার কিন্তু বেশি সংলাপ নেই। আমি অনেকদিন পর ফিরে আসি। সঙ্গে মানুষটিকে বলি- ‘তোমার ভাবিকে দেখে কিন্তু তুমি আবার পাগল হয়ে যেওনা’। মেহেজাবিন আমার উপর ব্যাগ ও টাকা ছুড়ে মারে। বলে- বাজার নিয়ে আসো। তখন আমি যে ভঙ্গিমাটা দেই এটাই সবার কাছে ভালো লেগে যায়। এটাই মানুষ কমেডি হিসেবে নিয়েছে। অথচ আমি কিন্তু দুঃখে ভরাক্রান্ত হয়ে আছি। আমার আরও একটি বিজ্ঞাপনে মাঝি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। আমি বলছি- তুই বসকে চিনস? সেটিও দর্শকদের কাছে একধরণের কমেডি হয়ে যাচ্ছে। মানুষ এক একজন এক এক রকম ভাবে গ্রহণ করছে। ইটিভি অনলাইন : আপনার প্রথম কাজ কার সঙ্গে? মুকিত জাকারীয়া : আমি প্রথম মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে কাজ করি। তিনিই আমাকে আজকের অবস্থানে এনেছেন। এ জন্য সরাজীবন আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। ইটিভি অনলাইন : আপনিতো নায়কও না, ভিলেনও না। আপনি মুকিত জাকারিয়া। দর্শকদের ভালোবাসাতেই আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। কেমন লাগে? মুকিত জাকারীয়া : অনেক ভালো লাগে। এতো ভালো লাগে যে বুঝাতে পারবো না। কারণ দর্শক আছে বলেই আমি আছি। তাদের জন্যই আমি মুকিত জাকারিয়া হতে পেরেছি। একটা কথা বলি- দর্শক শুধু আমাকে নয়, আমার কণ্ঠও চিনে রেখেছে। যেমন ধরেণর একটি ইউনির্ভাসিটির বিজ্ঞাপনে বলেছি- ‘প্যারাসিটামল দুই বেলা’। ওই বিজ্ঞাপনে আমাকে কিন্তু দেখাই যায় না। শুধু হাতটা দেখা যাচ্ছে। মানুষ আমার কণ্ঠ এতো বেশি শুনে ফেলেছে যে তারা আমাকে জিজ্ঞাস করেছে- এটা আপনি? কোন কিছু হলেই আমাকে দেখলে সবাই বলতো- প্যারাসিটামল দুই বেলা। এটা দর্শকদের ভালোবাসা। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।   ইটিভি অনলাইন : বর্তমানে ব্যস্ততা কি নিয়ে? মুকিত জাকারীয়া : ব্যাচেলর পয়েন্ট নামে একটি নাটকে কাজ করছি। ১৫২ পর্বের নাটক। হা হা হা। আমি নাটকটিতে বাটপারের চরিত্রে অভিনয় করেছি। বিদেশে পাঠানোর নামে বাটপারি করে টাকা নেই। তবে পুরো গল্পটা এখন বলছি না। এছাড়াও নতুন বছরে আর কয়েকটি ধারাবাহিকে কাজ করছি। ইটিভি অনলাইন : অনেক ধন্যবাদ মুকিত ভাই। মুকিত জাকারীয়া : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। একুশে টিভি ও অনলাইনকেও অনেক ধন্যবাদ। এসএ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি