ঢাকা, শনিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:২৬:০৫

অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করবো: জয়া চৌধুরী

অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করবো: জয়া চৌধুরী

একাধিক ছবিতে কাজ করার মধ্য দিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন চিত্রনায়িকা জয়া চৌধুরী। ‘চার অক্ষরের ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার পথচলা শুরু। চলচ্চিত্র জগতে গুণী পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের হাত ধরেই পদার্পন জয়ার। তার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পাথেয় হয়ে আছে জয়া চৌধুরীর। ইতিমধ্যে অনেকগুলো চলচ্চিত্রে কাজও করেছেন। বর্তমানে কাজ করছেন ‘বাঘিনী’ চলচ্চিত্রে। একুশে টিভি অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় নিজের ভালো লাগা, ভবিষ্যত পরিকল্পনাসহ নানা দিক নিয়ে কথা বলেন জয়া চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আউয়াল চৌধুরী।    ইটিভি অনলাইন: কিভাবে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হলেন? জয়া চৌধুরী: আমার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানায়। ২০১০ সালের দিকে আমি ঢাকায় বেড়াতে আসি। তখন আমার এক কাজিনের সঙ্গে এফডিসি ঘুরতে যাই। সেখানে দেখা হয় বিখ্যাত পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি আমাকে দেখে বলেন, এই মেয়ে তোমার নাম কি? এখানে কেন এসেছ? আমি তখন তাকে আমার পরিচয় দেই। তিনি জানতে চাইলেন, কেমন লাগলো এফডিসি? আমি বললাম, অনেক সুন্দর। তখন কয়েকটি ফ্লোরে শ্যুটিং চলছিল। নায়ক-নায়িকাদের সঙ্গে কথা বলেছি। খুব ভালো লেগেছে। ইটিভি অনলাইন: চাষী নজরুল ইসলামের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পেয়েছিলেন? জয়া চৌধুরী: অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন সিনেমায় কাজ করবো কি না। আমি বললাম করবো। নায়িকা হতে চাই। তখন তিনি হেসে বললেন শুরুতে নায়িকা হিসেবে না হলেও কাজ শুরু কর। তখন তিনি তার এসিসট্যান্ট তারেক ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাকে বললেন ওকে কাজে লাগানো যায় কি না দেখ। ওই সময় চাষী ভাই’র দেবদাস ছবি নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি আমাকে সে ছবিতে একটা চরিত্রে কাজ করতে বললেন। কিন্তু আমি তখন কাজটি করতে পারি নাই। রাজবাড়ী চলে যাই।   ইটিভি অনলাইন: তার সঙ্গে কি আর যোগাযোগ হয়েছিল? কিভাবে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করলেন?     জয়া চৌধুরী: হ্যাঁ তার সঙ্গে সব সময় আমার যোগাযোগ হতো। তিনি আমাকে পথ দেখান। আমাকে পড়ার জন্য অনেকগুলো বই দিয়েছিলেন। আর বলেছিলেন, সুচিত্রা সেনের মতো বড় বড় অভিনেত্রীদের কাজ দেখবে। তাদের মতো চোখের চাহনি দেবে। একটা কথা- সততা তোমাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। এটাকে ভুলো না। বেছে বেছে কাজ করবে। তার এসব কথাগুলো এখনো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমার কাজে সাহস জোগায়। তারপর কাজ শুরু করার চেষ্টা করি। অনেকের সঙ্গে কথা বলি। পাশাপাশি অভিনয় শেখার জন্য নিজেকে তৈরি করি।      ইটিভি অনলাইন: চলচ্চিত্রের জন্য নিজেকে কিভাবে তৈরি করছেন? জয়া চৌধুরী: আমাদের এই প্রজন্মের মধ্যে চলচ্চিত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক কম্পিটিশন তৈরি হয়েছে। আমি নিজেকে সেভাবেই তৈরি করার চেষ্টা করছি। সেজন্য সিঙ্গাপুরের একটি একাডেমিতে ভর্তি হয়েছি। সেখানে লাইট, ক্যামেরা, ডান্স, অভিনয়সহ সব বিষয়গুলো নিয়েই তারা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি সেখান থেকে ভালো কিছু অর্জন করার।     ইটিভি অনলাইন: এ পর্যন্ত কোন কোন ছবিতে কাজ করেছেন? জয়া চৌধুরী: ইতিমধ্যে আমি অনেকগুলো ছবিতেই কাজ করেছি। চাষী ভাই আমাকে সোহানুর রহমান সোহান ভাইসহ অনেকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তার উপদেশগুলো মেনে চলার চেষ্টা করছি। আমার প্রথম চলচ্চিত্র ছিল জাকির খানের ‘চার অক্ষরের ভালোবাসা’। এটি ২০১৪ সালে মুক্তি পায়। এরপর কাজ করি ‘অনন্তকালের …ফর এভার’ ছবিতে। বর্তমানে ‘ফুলবানু’ ছবির কাজ শেষ হয়েছে। সামনে ছবিটি মুক্তি পাবে। এখন চলছে ‘বাঘিনী’ ছবির কাজ। সামনে আরো কয়েকটি ছবির কাজ শুরু হবে। সবমিলে চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার।    ইটিভি অনলাইন: আপনি সম্প্রতি ‘ফুলবানু’ ছবির কাজ শেষ করেছেন। এ ছবির কোনো অভিজ্ঞতা কি শেয়ার করা যায়? জয়া চৌধুরী: ‘ফুলবানু’ ছবির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ছবিতে আমার বিপরীতে কাজ করেছেন চিত্রনায়ক শাহ রিয়াজ। এ ছবির একটি গানের শ্যুটিং করা হয় এফডিসিতে। ‘অনেক যতন করে রেখেছি আমি তোকে, হাজারো তারার মাঝে’ এই স্যাড সঙটি করার আগে একটি ঘটনা আছে। সেটা হলো ছবিটির পরিচালক হাসিবুল ইসলাম মিজান স্যার এর স্ত্রী মারা গিয়েছেন। তিনি আমাদের তার স্ত্রীর কথা বলছিলেন। বলতে বলতে ঝরঝর করে কাঁদতে থাকেন। তখন তার গল্প শুনতে শুনতে গানটি লিখা হয়। এই গানটি লিখার সময় আমিও কাঁদছিলাম। তখন এসআই টুটুল ভাই বললেন এই গানটি অসাধারণ হয়েছে। গানটির সুর শুনার পর আমি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলি। সেখানে সবাই কাঁদছিল। এই স্মৃতিটি আমাকে নাড়া দেয়। গানটি অনেক ভালো হয়েছে। দর্শকদেরও ভালো লাগবে বলে আশা করি। ইটিভি অনলাইন: কাউকে অনুসরণ করেন? জয়া চৌধুরী:  অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আমার প্রিয় অভিনেত্রী। আর রোমান্টিক ছবির ক্ষেত্রে সুচিত্রা সেনকে ফলো করি। সুফিয়া লরেনের ‘সান ফ্লাওয়ার’ ছবিটি আমার ভীষণ প্রিয়। আমি প্রতি এক দুই দিন পর পরই ছবিটি দেখি। এই সিনেমাটি আমার কাছে অসম্ভব রকমের ভালো লাগে। আর বাংলাদেশের রাজ্জাক স্যারকে খুব ভালো লাগে। তার অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করে। নায়ক ফারুক স্যারকেও ভালো লাগে। শাবনূর আপুর ছবিও দেখি। কবরি ম্যাডামও প্রিয়। আর জাফর ইকবালের স্টাইল আমার কাছে অন্যরকম লাগে। সর্বশেষ বলবো, আমি সব ধরণের অভিনয়ই করে যেতে চাই। অভিনয় ছাড়া অন্যকিছু চিন্তা করতে পারিনা। অভিনয়ের মাধ্যমেই দর্শকদের মন জয় করতে চাই। ইটিভি অনলাইন : আমাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। জয়া চৌধুরী : ইটিভি পরিবারকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।      এসি/ এআর
‘নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি’

লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার-২০১২ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু হয় সামিয়া সাঈদের। রূপ-গ্ল্যামার-মেধার দৌড়ে হাজার হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সেই আসরের চ্যাম্পিয়ন বনে যান তিনি। তবে অন্য সবার থেকে একটু ভিন্নপথে হাটছেন সামিয়া। মিডিয়ায় নিয়মিত হলেও একেবারেই অল্প কাজ করতে থাকেন। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে যে নাটকগুলোতে তিনি অভিনয় করেছেন তার মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবে প্রশংসিত হয়েছেন। তবে মডেলিংয়ে নাটকের চেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন তিনি। একাধিক টিভিসিতে কাজ করার পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন এই সুন্দরী। সৌন্দর্যের আকাশে তরুণ তারকা হলেও মিডিয়াপাড়ায় তার পথ চলায় রয়েছে মেধাবী ছায়া। এরই মধ্যে অনেকগুলো ধারাবাহিক এবং একক নাটকে সু-অভিনয় করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। মেধাবী এই সুন্দরী তার ভালোলাগা-মন্দলাগাসহ অনেক কিছু জানিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন? সামিয়া সাঈদ : (হাসি দিয়ে) অনেক ভালো। ইটিভি অনলাইন : শুরুতেই জানবো বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে। কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন? সামিয়া সাঈদ : ধারাবাহিকে কাজ বেশি করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিমাসেই একটা থেকে দুইটা সিঙ্গেল নাটকও করা হচ্ছে। ইটিভি অনলাইন : সম্প্রতি বিজ্ঞাপনে কোন কাজ করেছেন? সামিয়া সাঈদ : বিজ্ঞাপনের মধ্যে রবির কাজ করেছিলাম। তবে নতুন করে উপস্থাপনায় কাজ করছি। বিষয়টি নিয়ে দারুণ এক্সাইটেড। ইটিভি অনলাইন : আপনিতো আগেও উপস্থাপনা করেছেন। নতুন এটা কোন বিষয়ের উপর? সামিয়া সাঈদ : রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠান। এটি একটি রান্না বিষয়ক রিয়েলিটি শো। সুপার শেফ। এটার হোটিং আমি করছি। ইটিভি অনলাইন : অভিনয় করছেন। পড়ালেখা করছেন। এখন আবার উপস্থাপনায় কাজ করছেন। সব মিলিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে। কিভাবে সামলাচ্ছেন? সামিয়া সাঈদ : সব কিছু আসলে রুটিনের ব্যপার। নিজেকে কিভাবে রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসা যায় সেই চেষ্টা থাকে। যেমন ধরুণ আমি চার দিন ক্লাস করছি। বাকি তিনদিন শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকছি। আবার দেখা যায় দু একদিন ক্লাস অফ দিয়ে শুটিং করছি। সব কিছু মিলিয়ে ব্যলেন্স করি। তবে এ জন্য হয়তো অনেক সময় ক্লান্তি আসে। যখনই একদিন ছুটি পাই তখন মাইন্ড ফ্রেস করতে চেষ্টা করি। সব ব্যস্ততার মধ্যে একটা দুটা দিন রেখে দিলে রিফ্রেশ হয়ে যায়। ইটিভি অনলাইন : অভিনয়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকের কথা বলেছেন। কি কি ধারাবাহিকে কাজ করছেন এখন? সামিয়া সাঈদ : একটা আছে ‘যখন কখনো’। মজার বিষয় হচ্ছে ওখানে আমি আর প্রসূন আছি। সে আমার বড় বোন, আমি তার ছোট বোন। বিউটি-সুইটি। এছাড়া আছে ‘আপন খবর’। একটা পারিবারিক কাহিনী। আরও আছে। সব মনে করতে পারছি না। ইটিভি অনলাইন : একটা সময় বাংলা ভাষার উচ্চরণের ক্ষেত্রে আপনার কিছুটা সমস্যা ছিলো। এখন তো দেখছি সেটা কেটে গেছে। কিভাবে সম্ভব হলো? সামিয়া সাঈদ : আমি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছি। আমরা যে বাংলিশ বলছি এবং ভুল বলছি সেটা কিন্তু জানতাম না। আমার কাছে মনে হতো এটাইতো ভাষা। আমি বলছি সে বুঝতে পারছে। শুদ্ধভাষায় আমার কোন সমস্যা ছিলো না। কিন্তু শব্দগুলো ঠিকমত হচ্ছে কিনা এটা কেউ কানে দিতেন না। কেউ ঠিকও করে দিতো না। এখন মিডিয়াতে ঢোকার পর আমাকে স্ক্রিপ্ট পড়তে হচ্ছে। আমার বানানগুলো দেখতে হচ্ছে। এটা খুব কাজ করেছে। আমার ইংরেজি গল্পের বই পড়ার অভ্যাস আছে। তাই ওটা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু বাংলাতো আমি চোখে দেখছি না তাই চর্চ্চাটাও হয়নি। স্কুল লেভেল থেকে শিক্ষার্থীরা যখন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় তখনও কিন্তু ইংরেজিতে পড়তে হয়। কিন্তু এখন যখন স্ক্রিপ্ট পড়ছি আমাকে বাংলাটা পড়তেই হচ্ছে। এটা পড়েই আমার বাংলাটা অনেকটা ভালো হয়েছে। ইটিভি অনলাইন : আপনিতো একটা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কি অবস্থায় আছে? সামিয়া সাঈদ : ওটার ডাবিং হয়ে গেছে। সিনেমাটির নাম ‘কমলার রকেট’। বর্তমানে সেন্সর বোর্ডে জমা আছে। সেখান থেকে ছাড়পত্র পেলেই বড় পর্দায় দেখা যাবে। পুরো সিনেমাটাই লঞ্চে ভ্রমণের মধ্যে। লঞ্চের মধ্যেই পুরো কাজটি হয়েছে। আমরা ঢাকা থেকে মোড়েলগঞ্জ গিয়েছি। মোড়েলগঞ্জ থেকে আবার ঢাকায় এসেছি। আবারও মোড়েলগঞ্জ গিয়েছি। এভাবেই প্রথম লটের কাজ হয়। পরে আবারও একই ভাবে কাজ হয়েছে। কহিনীটা ছিলো ঠান্ডার সময়। কুয়াশা দিয়ে ঢাকা। একটার পর একটা গরম কাপড় পাল্টিয়েছি। কিন্তু গ্রীষ্মের সময় যখন শুটিং হলো। ও মাই গড। এতো গরম। তারপরও বলবো ভালো একটা কাজ হয়েছে। কমলা রকেট সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি। সিনেমা আর নাটকের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। এই সিনেমায় কনফিউজিং চরিত্র দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করতে পারব। এখন অপেক্ষায় আছি। দর্শকদের ভালো লাগবে আশা রাখি। ইটিভি অনলাইন : আপনিতো একটা বড় রিয়েলিটি শো থেকে এসেছেন। কাজও করছেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় গুনি শিল্পী হওয়া সত্যেও কেউ কেউ নিয়মিত থাকছেন না। এর কারণটা কি বলে মনে হয়? সামিয়া সাঈদ : যে যাই বলুক, মিডিয়াটা কিন্তু খুবই কঠিন একটা জায়গা। আমি অভিনয় করতে পছন্দ করি, ভালোবাসি। এ জন্যই আমি এখানে আছি। এটা আমার পেশা নয়। যারা এটাকে পেশা হিসেবে নেয় তাদের ক্ষেত্রে হয়তো একঘেয়েমি হয়ে যায়। তাছাড়া দেখা যাচ্ছে কারও বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের পর অনেকে আছেন যারা মিডিয়াকে ঠিকঠাক মেনে নিতে পারেন না। বিভিন্ন কারণে এটা হয়। যারা পুরোপুরি প্রফেশন ও ভালোলাগার জায়গা থেকে মিডিয়াতে কাজ করেন তারাই মনে হয় টিকে থাকেন। ইটিভি অনলাইন : অনেক ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ। সামিয়া সাঈদ : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। এসএ/

প্রেম পুরোটাই গুজব, নেশা শুধু পানমশলা

জয়া আহসান। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তবে ইদানিং কলকাতাতেই তার বেশি উপস্থিতি দেখছে দর্শক। সফলতাও কম নয়। একের পর এক অর্জন এসে ধরা দিচ্ছে দুই বাংলার এই গুনি তারকার হাতে। বেশ কিছুদিন ধরে কলকাতার চলচ্চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো বাংলাদেশের এই অভিনেত্রীর। এবার সেই গুঞ্জনের জবাব দিলেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান ব্যস্ততা ও দুই বাংলার তফাত নিয়ে কথা বলেন। জয়ার সেই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো : প্রশ্ন : ভীষণ ব্যস্ত আপনি ... উত্তর : ওই শ্যুটিং নিয়েই (হাসি)। যদি আমি শুধু এখানে বা ওখানে কাজ করতাম, তবে এতটা ব্যস্ত থাকতাম না। এমন দিনও যায়, ঢাকায় শ্যুটিং সেরে রাতের ফ্লাইটে এলাম। সকালে এখানে লুক টেস্ট। দু’দিক সামলাতে গিয়েই নিজেকে আর সময় দেওয়া হচ্ছে না। প্রশ্ন : কখনও ভেবেছিলেন, এখানেও এতটা সাফল্য পাবেন? উত্তর : রোডম্যাপ করে কখনও এগোইনি। ‘আবর্ত’র পরেও কিছুটা সময় নিয়েছিলাম। এখন অবশ্য বেশ কিছু ডায়নামিক চরিত্রের অফার পেয়েছি। আমি তো নিজেকে শিল্পী হিসেবে দেখতে চাই। নায়িকা তকমাটা চাইনি। প্রশ্ন : তার মানে কি নাচ-গানের সিনেমা করবেন না? উত্তর : কেন করব না? ওগুলোও তো চরিত্র। যা করব, তাতে যেন শিল্পমানটা থাকে। আর চরিত্রগুলো ভার্সেটাইল হয়। প্রশ্ন : বাংলাদেশের এক সাংবাদিক লিখেছেন, ‘জয়া আমাদের গর্ব, আবার আক্ষেপও।’ ওই ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে আসায় আপনার কোনও আক্ষেপ আছে? উত্তর : আসলে বাংলাদেশে এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমার বাজারটা এখনও সে ভাবে তৈরি হয়নি। আমার খুব ভাল একটা সিনেমা ‘খাঁচা’ হঠাৎ করে রিলিজ করল। সিনেমাটির মার্কেটিং ঠিক ভাবে করা হয়নি। আর একটি সিনেমা ‘বিউটি সার্কাস’, যেখানে আমি সার্কাসের ট্র্যাপিজের খেলা দেখাই, সেটা টেকনিক্যাল কারণে বহু দিন ধরে আটকে। শিল্পী হিসেবে সিনেমার রিলিজ নিয়ে একটু আক্ষেপ আছে। প্রশ্ন : স্ক্রিপ্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দর্শকের প্রতিক্রিয়া কি মাথায় রাখেন? উত্তর : কোনও চরিত্র বা দৃশ্য করতে ব্যক্তিগত ভাবে আমার বাধা আছে কি না, সেটা আগে বিবেচ্য। একটি মেয়ে চরিত্রের খাতিরে স্মোক, ড্রিংক করতেই পারে‌। তবে তার যুক্তি থাকতে হবে। আমি ওই মাটি থেকেই জয়া আহসান হয়েছি, তাই ওঁদের কথাও ভাবি। এখানকার মানুষের ভাল লাগাকেও সম্মান দেওয়া আমারই দায়িত্ব। প্রশ্ন : প্রযোজনাও তো করছেন ... উত্তর : আমি বরাবরই ভাবতাম, সিনেমা করার জন্য হুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’ খুব ভালো গল্প। সিনেমাটির জন্য সরকারি অনুদান পেয়েছি। শ্যুটিং বাংলাদেশে হয়েছে। এখানে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শুরু করেছি। প্রশ্ন : ভারতেশ্বরী হোমসের কথা মনে পড়ে? উত্তর : খু-উ-উ-ব (স্মিত হাসি)। ভারতেশ্বরী হোমস এমন একটা বোর্ডিং ছিল, যা আমার আত্মবিশ্বাসটা গড়ে দিয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার চেয়ে আমার এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের উপর বেশি নজর ছিল। লুকিয়ে বেঞ্চের নীচে বই পড়া, ছবি আঁকা, কলেজ ফাঁকি দেওয়া, কানে তিনটে পিয়ার্সিং করানো ... আর ছোটবেলায় এমন গুছিয়ে ভূতের গল্প বলতাম, আমার বোন সে দিনও বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, ওটা মিথ্যে ছিল (হাসি)। প্রশ্ন : অভিনেত্রী জয়ার অনিশ্চয়তার জায়গা কোনটা? উত্তর : বারবার নিজেকে অতিক্রম করতে চাই। তবে মেধা মাঝে মাঝে নিম্নমুখী হয়। সেই ভয় আছে। মানুষের কাছাকাছি থাকতে চাই। আর এমন কাজ করব না, যাতে আমার শিল্পীসত্তা নষ্ট হয়। অভিনয় আমার ইবাদত (প্রার্থনা)। প্রশ্ন : কোনও নেশা আছে? উত্তর : সেটের লাইটিংয়ের দাদাদের কাছ থেকে শিখেছি পানমশলা খেতে (জোরে হাসি)। জরদা দেওয়া পান খেতে খুব পছন্দ করি। তবে ক্লিওপেট্রা (পোষ্য) আমার নেশা। মায়ের কাছ থেকে বাগান করার শখ পেয়েছি। আর আমি কিন্তু গাছ-চোর। আমার লাগেজ খুললেই গাছ পাবেন (দুষ্টু হাসি)। প্রশ্ন : কলকাতা কতটা কাছের হল? উত্তর : বাংলাদেশ যতটা কাছের, এই বাড়িঘরও ততটাই। তবে এখানকার বাংলা সিনেমাতে যে ‘বাঙাল’ ভাষা বলা হয়, সেটা খুব খারাপ। বাঙাল ভাষা বলে বাংলাদেশে কিছু নেই। ওখানকার ভাষায় বৈচিত্র রয়েছে। তাই এই ‘বাঙাল’ ভাষা শুনে বাংলাদেশের মানুষ খুব রেগে যায়। আর কলকাতার খাবারে মিষ্টি একটু বেশি দেওয়া হয়। তবে এখান থেকে পাতিলেবু, মুড়ি বাড়িতে নিয়ে যাই (হাসি)। প্রশ্ন : সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপনার লিঙ্কআপের গুঞ্জন তো থামেই না। ওঁর সিনেমাতে আবারও কাজ করছেন? উত্তর : শিল্পী হিসেবে তো ওর সঙ্গে কাজ করতেই চাই। আমরা একসঙ্গে পথ চললে সেটা একটা বলার বিষয় ছিল। কিন্তু এটা পুরোটাই গুজব। প্রশ্ন : ঢাকায় আপনার বিশেষ বন্ধু আছে তো। নামটা বলবেন? উত্তর : (জোরে হাসি) নাম তো বলা যাবে না। প্রশ্ন : বিয়ের পরিকল্পনা? উত্তর : এই মুহূর্তে অন্তত নয়। সূত্র : আনন্দবাজার (ইটিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য পুরো সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো) এসএ/  

দেশের সর্বোচ্চ ভিউ ‘একটাই তুমি’

সংগীত বিষয়ক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘সেরাকণ্ঠ’র মাধ্যমে লাইম লাইটে আসেন বাঁধন সরকার পূজা। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন সংগীত শিল্পী হওয়ার। নিজের স্বপ্নকে পূরণ করতে ওস্তাদ থেকে শুরু করে সংগীত অঙ্গনের বড় বড় শিল্পীদের কাছ থেকেও তালিম নিয়েছেন। এখন তিনি প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের একজন। সুমধুর সুরেলা কণ্ঠ দিয়ে মাত করেছেন দেশের সঙ্গীত প্রেমিদের। এগিয়ে যাচ্ছেন সঙ্গীত নিয়ে। জীবনের সবটুকু সময় সঙ্গীতের পেছনেই ব্যয় করতে চান পূজা। নিজের বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ ভাবনা সহ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন একুশে টিভি অনলাইনের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   ইটিভি অনলাইন : আপু কেমন আছেন? পূজা : ভালো। ইটিভি অনলাইন : তাহসান ভাইয়ের সঙ্গে ‘একটাই তুমি’ শিরোনামের একটি গান খুবই প্রশংসিত হয়েছে। শুরুতেই গানটি সম্পর্কে একটু জানতে চাই। পূজা : এর আগেও আমি তাহসান ভাইয়ের সঙ্গে গান করেছি। এটা আমাদের দ্বিতীয় দৈত গান। গানটির কথা লিখেছেন সোমেশ্বর অলি। সুর ও সংগীতয়োজন করেছেন সাজিদ সরকার। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন শাহরিয়ার পলক। আসলে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। ইউটিউবে ৪ জানুয়ারি গানটি প্রকাশ পায়। কিন্তু এই অল্পদিনে ১০ লাখ ছাড়িয়ে এখন ভিউ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬ শ’। দেশের সর্বোচ্চ ভিউ বলা যায়। গানটি একটু অন্য ধাচের। কিন্তু মানুষ ভালো ভাবেই নিয়েছে। ইটিভি অনলাইন : এর আগের গানটির চেয়ে এটা কি বেশি সাড়া মিলবে বলে মনে করেন? পূজা : ওই গানটাও শ্রোতারা ভালো ভাবে নিয়েছে। তবে এই গানটি খুব অল্প সময়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। দুটিই আলাদা গান। ইটিভি অনলাইন : বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে? পূজা : বছরটা শুরু হলো ভালো কিছু দিয়ে। কয়েকদিন পরেই আরও একটি গান আমার রিলিজ হবে। এ গানটি বেলাল ভাইয়ের সঙ্গে। গানটা একটু ড্যান্স বিটের। ওটা মে বি ২০ জানুয়ারি প্রকাশ পাবে। ওটারও মিউজিক ভিডিও দেখতে পারবে দর্শক। ইটিভি অনলাইন : সামনে তো বেশ কয়েকটি দিবস আসছে। সঙ্গীত শিল্পীদের এই দিবসগুলো নিয়ে অনেক পরিকল্পনা থাকে। দিবসগুলো নিয়ে আপনার পরিকল্প কি? পূজা : এখন স্টেজের মৌসুম। বর্তমানে স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত আছি। একটানাই শো থাকছে। তবে কয়েকটি গান করা ছিলো। এর মধ্যে একটা তো রিলিজ হলো। সামনে আরও কয়েকটা রিলিজ হবে। এগুলো দিবস কেন্দ্রীক চিন্তা করেই করা। ধারাবাহিক ভাবেই প্রকাশ পবে। ইটিভি অনলাইন : এখন তো প্রচণ্ড শীত। এ সময়ে স্টেজে শো করতে সমস্যা হয় না? শীত কেমন উপভোগ করছেন? পূজা : আমার একটু শীত বেশি। মানে ঠাণ্ডা বেশি লাগে। এ জন্য জড়োসড়ো হয়ে থাকতে হয়। আমার আসলে শীতকাল পছন্দ না। বৃষ্টি আমার খুব পছন্দ। ইটিভি অনলাইন : চলচ্চিত্রে তো প্লে ব্যাক করেছেন। কেমন লাগে? পূজা : এ পর্যন্ত বিশ ত্রিশটা গান করেছি। সম্প্রতি কয়েকটি রিলিজ হলো। সব শেষ দেবাশীষ দা’র চল পালাই সিনেমাতে গান করলাম। এছাড়া সত্তা সিনেমাতে গান করেছি। ওটাতে আমি প্রথম আইটেম সং করি। ইটিভি অনলাইন : আপনার পছন্দের সঙ্গীত শিল্পী কে? পূজা : এভাবে তো বলা যাবে না। অনেকেই আছেন পছন্দের। একজনের নাম বলতে পারবো না। আমি সব ধরণের গানই শুনি। আমি নিজেও বিভিন্ন আঙ্ঘিকের গান করি। তাই বিভিন্ন ধরণের গান আমাকে শুনতে হয়। তাই আলাদা করে কোন পছন্দের কথা বলতে চাই না। ইটিভি অনলাইন : স্টেজ শো, টিভি শো, মিউজিক ভিডিও সব মিলিয়ে অনেক ব্যস্তত থাকতে হয় নিশ্চই। এতো কিছুর মাঝে নতুন সংসারে ঠিকঠাক সময় দিতে পারছেন তো? পূজা : গানটাকে সাঙ্গে রেখে সবকিছু সামলাই। বিয়ের পরেও একই ধাচে কাজ করতে পারছি। কারণ আমার শ্বশুর বাড়ির মানুষরাও ওই ভাবেই সাপোর্ট করেন। আমার হাজবেন্ডও অনেক সাপোর্ট করেন। গান রিলিজ না হলে বা অনুষ্ঠান না থাকলে নিজে থেকেই বলেন- কি ব্যপার তোমার তো কোন গান রিলিজ হচ্ছে না। আজ কি কোন প্রোগ্রাম নাই! আসলে আগের চেয়ে অনেক বেশি উৎসাহ পাই। ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। পূজা : একুশে টেলিভিশনকেও অনেক ধন্যবাদ। গানটির ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন : এসএ/

‘বিয়ে করার পরিকল্পনা নেই’

বিয়ে করার তেমন কোন পরিকল্পনা এ বছর নেই। বিয়ে করলেই বহুমুখী ব্যস্ততা বেড়ে যায়। চাইলেও আগের মতো অভিনয়ে সময় দেওয়া যায় না। আপাতত ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করতে চাই। কথাগুলো বলেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুন্দরী নায়িকা সাদিকা পারভিন পপি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথাগুলো বলেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- তবিবুর রহমান   ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন? সাদিকা পারভিন পপি : ধন্যবাদ। অনেক ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : বর্তমানে কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন? সাদিকা পারভিন পপি : বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। বর্তমানে ‘সহসী যোদ্ধা’, ‘কাস্টমস অফিসার’ নামের দুটি সিনেমার শুটিং নিয়ে একটু ব্যস্ত আছি। এছাড়া ছোট বড় বেশকিছু সিনেমার শুটিং শেষ করলাম। ইটিভি অনলাইন : সময় তো অনেক গড়িয়েছে, বিয়ে করছেন কবে? সাদিকা পারভিন পপি : বিয়ে নিয়ে তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমি অনেক হ্যাপি। কোটিপতি একজন স্বামীকে নিয়ে আমার আলাদাভাবে খুশি হতে হবে এমনটা আমি ভাবি না। কোটিপতি স্বামী ছাড়া আমি অনেক হ্যাপি। ইটিভি অনলাইন : অভিনেত্রী না হলে কি হতেন? সাদিকা পারভিন পপি : ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখতাম সাংবাদিক হব। ক্রাইম রিপোর্টার হিসাবে কাজ করবো। বড় হয়ে স্বপ্নটা পরিবর্তন হয়। অভিনেত্রী না হলে পাইলট হতাম। ইটিভি অনলাইন : বিয়ে যখন করবেন তখন কি কোন অভিনেতাকে বিয়ে করার ইচ্ছে আছে? ঢালিউড, বলিউড অভিনেতাদের মধ্যে কাকে আপনার ভাল লাগে? সাদিকা পারভিন পপি : সে রকম যদি চিন্তা করি তবে সালমান খানকে বেশি ভালো লাগে। তাকে বিয়ে করা যায়। আর ভালো লাগার কথা যদি বলি- চলচ্চিত্রে যারা কাজ করে তাদের সবাইকেই ভালো লাগে। তবে শাহরুখ খানের অভিনয় বেশি ভালো লাগে। ইটিভি অনলাইন : এপযর্ন্ত কতগুলো প্রেম করছেন? সাদিকা পারভিন পপি : মিডিয়ায় কাজ করার কারণে অনেক ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে। প্রেম করার সুযোগ হয়নি। প্রেম করাটা অনেক কঠিন কাজ। একটা মানুষ বহু মানুষের সঙ্গে প্রেম করতে পারে না। তবে পর্দায় অনেক প্রেম করেছি। ইটিভি অনলাইন : আপনি তো এখনও অনেক সুন্দর। লাল সাদা পোশাকে অনেক সুন্দর লাগছে আপনাকে। আপনার পছন্দের রং কি? সাদিকা পারভিন পপি : সবচেয়ে বেশি পছন্দের লাল রং। যে কারণে লাল রং দিয়ে অধিকাংশ পোশাক তৈরি করি। ইটিভি অনলাইন : কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? সাদিকা পারভিন পপি : আমি ভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে বরাবরই আগ্রহী। আমার ক্যারিয়ারে আমি অনেক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করেছি। আর আমি সবচেয়ে বেশি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি নারীপ্রধান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত চরিত্রে। যখন কোন চরিত্র সামনে আসে আমি আগে সেই মানুষগুলো সম্পর্ক জানতে চেষ্টা করি। এমনকি সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যাই। ইটিভি অনলাইন : আপনাকে যদি পতিতা চরিত্রে অভিনয় করতে বলা হয় তাহলে কি প্রতিতালয় ভিজিট করবেন? সাদিকা পারভিন পপি : অবশ্যই করব। এ সব চরিত্র চ্যালেঞ্জিং। আর আমি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে বেশি পছন্দ করি। এতো কোন বিব্রত হব না। কারণ প্রতিতালয়ে যারা থাকেন তারাও আমাদের সমাজের মানুষ। তাদের জীবনে অনেক সমস্যার কারণে এ পথে এসেছে। তাই আমার কোন সমস্যা হবে না তাদের কাছে যেতে। ইটিভি অনলাইন : আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। সাদিকা পারভিন পপি : একুশে টিভির পরিবারকেও ধন্যবাদ। [দেশের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সাদিকা পারভিন পপি। ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমাতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। এ পর্যন্ত অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘কি যাদু করিলা’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমাতে অভিনয় করে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।] এসএ/টিআর

‘অভিনেত্রী হয়েই মুগ্ধতা ছড়াতে চাই’

রুনা খান। প্রতিশ্রুতিশীল একজন অভিনেত্রী। দক্ষ অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। শুধু টিভি পর্দায়ই নন, মঞ্চেও সরব এ অভিনেত্রী। নিয়মিত কাজ করছেন সেখানেও। টিভি ও মঞ্চের পাশাপাশি রুনা খান এখন নিয়মিত অভিনয় করছেন চলচ্চিত্রেও। শুধু দর্শকরাই নন, তার অভিনয়ের প্রশংসা করেন তার সহকর্মীরাও। বিভিন্ন নাটকে তার সঙ্গে যায় এমন সব চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে রুনার বিকল্প সাধারণত কাউকে ভাবাই হয় না। জাত অভিনেত্রী হিসেবে নির্মাতাদের কাছে তার বেশ কদরও রয়েছে। রুনা যখন অভিনয় করেন তখন চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করেন। আর এজন্য দর্শকরাও তার অভিনয়ে মুগ্ধ হন। আজ অভিনেত্রী রুনা খানের জন্মদিন। দীর্ঘ এই পথচলায় একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) ও ইটিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। প্রিয় অভিনেত্রীর জন্মদিন উদযাপন ও কর্মব্যস্ততা জানতে একুশে টিভি অনলাইন মুখোমুখি হয়েছে রুনা খানের। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   ইটিভি অনলাইন : শুভ জন্মদিন। কেমন আছেন? রুনা খান : ধন্যবাদ। ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : জন্মদিনে আজ কি আয়োজন থাকছে? রুনা খান : আসলে ঘটা করে জন্মদিন উদযাপন করার মত তেমন কিছুই আমি এখনও হইনি। তবে হ্যাঁ, এটা আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য একটা ভালো দিন। আমি আজকের দিনটা আমার পরিবারের সঙ্গেই কাটাবো। আমার মা-বাবা, সন্তান ও সন্তানের বাবার সঙ্গেই আনন্দে কাটবে দিনটা। ইটিভি অনলাইন : আজ কি কোন শুটিং আছে? রুনা খান : না আজ কোন শুটিং নেই। আজকের দিনটা শুধুই পরিবারের। ইটিভি অনলাইন : আপনি একজন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী। সাধারণ দর্শকদের কাছে ছোটপর্দার অভিনেত্রী হিসেবেই অধিক পরিচিত। তবে বর্তমানে আপনাকে দর্শক বড় পর্দায় দেখতে পাচ্ছে। অনুভুতি কেমন? রুনা খান : বড় পর্দায় নিজেকে দেখতে পারাটা অত্যান্ত আনন্দের। এটা সব অভিনেতা-অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে একই। অন্ধকারের মধ্যে বসে হল ভর্তি দর্শকরা যখন একটা সিনেমা দেখেন আর সেখানে নিজেকে দেখতে পারার অনুভুতিটা মুখে বলে বোঝানো যাবে না। এটা অনুভব করার ব্যাপার। তবে আমার কাছে বড় পর্দা বা ছোট পর্দা যেটাই হোকনা কেনো মূখ্য বিষয় হচ্ছে অভিনয়। অভিনয় করার সুযোগটা যেখানে আছে আমি সেখানেই থাকতে চাই। সেটা হোক টেলিভিশন নাটক, হোক মঞ্চ অথবা চলচ্চিত্র। ইটিভি অনলাইন : তিন মাধ্যমেই দর্শক আপনাকে দেখছে। কিন্তু আপনি কোন মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন? রুনা খান : ওই যে বললাম, আমার কাছে মূখ্য বিষয় হচ্ছে অভিনয়। যে মাধ্যমের কথাই বলি না কেনো আমার কাজটাতো একটাই। আর সেটা হচ্ছে অভিনয়। যে তিন মাধ্যমের কথা বললেন- কাজের ক্ষেত্রে এ তিন মাধ্যমের প্রস্তুতি, পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট হয়তো ভিন্ন ভিন্ন থাকে কিন্তু কাজ তো একটাই। অভিনয় পারি কি পারি না, হয় কি হয় না সেটা পরের বিষয়। অভিনয়ের সঙ্গে থাকতে ভালোবাসি। অভিনেত্রী হয়েই মুগ্ধতা ছড়াতে চাই। আমার কাছে সব মাধ্যই আনন্দের। ইটিভি অনলাইন : আপনার বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে একটু জানতে চাই। রুনা খান : বেশ কিছু নাটকের শুটিং শেষ করলাম। এর মধ্যে কিছু একক নাটকও রয়েছে। কিছু ধারাবাহিকে কাজ করছি। নতুন একটি চলচ্চিত্রে কাজের ব্যপারে কথা চলছে। তবে এটা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়তো এ সিনেমাতেও কাজ করবো। ইটিভি অনলাইন : সম্প্রতি আপনার অভিনিত ‘গহীন বালুচর’ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। কেমন সাড়া পেলেন? রুনা খান : অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। আসলে ভালো সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শক দেখেন। দর্শক চায় পরিবারের সবাই মিলে হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে। ভালো ভালো সিনেমা মুক্তি পাওয়ার কারণে ইদানিং সেই দৃশ্য আমরা আবারও দেখতে পাচ্ছি। ‘গহীনে বালুচর’ সম্প্রতি মুক্তিপাওয়া ভালো সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেকদিন পর দর্শক গ্রাম-বাংলার সিনেমা উপভোগ করলো। ইটিভি অনলাইন : অনেকেই বলছেন বাংলাদেশের সিনেমার একটা সুন্দর সময় যাচ্ছে। ভালো ভালো সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন? রুনা খান : আমি কোন একটি নিদৃষ্ট সিনেমার নাম ধরে বলতে চাই না। গত কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু ভালো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। আমার কাছে মনে হয় আমাদের চলচ্চিত্রে একটা উৎসব চলছে। একটা সময় আমরা গল্প শুনেছি- পরিবারের সবাই মিলে সিনেমা দেখতে হলে যেতেন। সব শ্রেণীর মানুষ ওই সময় সিনেমা হলে যেতো। মাঝে সেই জায়গাটা থেকে আমরা সরে এসেছিলাম। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু ভালো সিনেমার মধ্য দিয়ে সব শ্রেণীর দর্শকদের আবারও হলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখানে আমি নাম ধরেই বলতে পারি- ‘আয়নাবাজি’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘হালদা’, ‘ডুব’, ‘গহীন বালুচর’। এ সিনেমাগুলো দর্শক পছন্দ করেছে। সব শ্রেণীর মানুষ পরিবার সহ হলে গিয়ে সিনেমাগুলো দেখেছে। আমরা যে কাজগুলো করি তার শেষ কথা হচ্ছে দর্শক। তারা যদি হলে আসেন, তারা যদি কাজটা দেখেন তাহলেই আবার নতুন করে নতুন চলচ্চিত্র বানানো সম্ভব। ইটিভি অনলাইন : একটা ভালো সিনেমা কি কি বিষয়ের উপর নির্ভর করে হয়? আমরা কি বাজেটের জন্য ভালো সিনেমা নির্মাণ করতে পারি না, নাকি মেধার কারণে? রুনা খান : আসলে একটা ভালো সিনেমার প্রধান শক্তি হচ্ছে ‘একটা ভালো গল্প’। গল্পটা যদি ঠিকঠাক থাকে আর সেই গল্পটা যদি নির্মাতা সঠিক ভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলেই একটা ভালো কিছু হয়। এ ক্ষেত্রে শিল্পীদের ভূমিকাও কম নয়। চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে ঠিকঠাক তুলে ধরতে পারলে সুন্দর একটি সিনেমা উপহার দেওয়া সম্ভব। আর বাজেটের কথা যদি বলি- বাজেট অবশ্যই প্রয়োজন। তবে কম বাজেটেও ভালো সিনেমা নির্মাণ করা সম্ভব। অনেকেই আছেন যারা পাশ্ববর্তী দেশের সঙ্গে তুলোনা করেন। আমি কখনও আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাদের তুলোনা করি না। আর করবও না। কারণ আমরা আঠারো কোটি মানুষের দেশ। ওরা একশ’ কোটির দেশ। সেখানে ওদের বাজেট বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের নির্মাতারা কম বাজেটেও অনেক ভালো সিনেমা নির্মাণ করার ক্ষমতা রাখেন। দর্শক হিসেবে আমি যদি বলি আমার দেখা গত দশ বছরের শ্রেষ্ঠ বাংলা সিনেমা হচ্ছে ‘অজ্ঞাতনামা’। আমি নিজে অভিনয় করেছি হালদা, গহীন বালুচরে। কিন্তু আমি এ দুটি সিনেমার কথা বলছি না। আমার দেখা চলচ্চিত্রের মধ্যে সেরাটি হচ্ছে ‘অজ্ঞাতনামা’। আমি যদি ভুল না করে থাকি- গত দশ বছরে যতোগুলো বাংলা সিনেমা হয়েছে, যতোগুলো ভালো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে তাদের মধ্যে সব চেয়ে কম বাজেটের সিনেমা হচ্ছে অজ্ঞাতনামা। বাজেট অবশ্যই একটা ব্যপার। তবে এটাই শেষ কথা নয়। ওই যে বললাম- একটা সিনেমার নায়ক হচ্ছে সেই সিনেমার গল্প। এরপর নির্মাতার মেধা। শিল্পীর অভিনয়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে দুর্দান্ত কিছু করা যায়। ইটিভি অনলাইন : আপু অনেক ধন্যবাদ। আবারও জন্মদিনে একুশে টিভির পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো। এতো ব্যস্তার মাঝে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভালো থাকবেন। রুনা খান : একুশে টেলিভিশন পরিবার ও সকল দর্শক এবং পাঠকদেরও ধন্যবাদ। এসএ/

শাবনূর হাত ধরে আমাকে অভিনয় শিখিয়েছেন: শাহের খান

চিত্রনায়ক শাহের খান। একজন স্বপ্নবাজ তরুণ। তার প্রিয় মানুষ প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও নায়িকা শাবনূর। এক সময় তাদের ছবি দেখে দেখেই দিন পার হতো তার । তাদের মতো গুণী শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যুক্ত হন চলচ্চিত্র অঙ্গনে। নিজেকে তৈরি করার জন্য শিখেন ড্যান্স ও ফাইট। শাহের প্রথম চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেন প্রিয় নায়িকা শাবনূরকে নিয়েই। কিন্তু চলচ্চিত্রটির কাজ চলাকালে হঠাৎ মারা যান পরিচালক এম এম সরকার। বিপাকে পড়ে যান শাহের খান। বহু টানাপোড়েনের পর শেষ হয় ছবির কাজ। অবশেষে ৫ বছর পর আগামী ১২ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘পাগল মানুষ’। একুশে টিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ছবির পেছনের গল্প জানান শাহের খান। সেই সঙ্গে উঠে আসে তার ভালো লাগা, স্বপ্ন ও চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনার বিষয়গুলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক আউয়াল চৌধুরী । ইটিভি অনলাইন: কেন চলচ্চিত্রে আসলেন? শাহের খান: আসলে চলচ্চিত্রটা আমার স্বপ্ন। নিজের এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে এর সঙ্গে যুক্ত হই। আমি শাবনুর-সালমান শাহ এর ভীষণ ভক্ত। তাদেরকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। তারা আমার স্বপ্নে এসে দেখা দিতেন। সব সময় এটা নিয়েই ভাবতাম। বলা চলে ধ্যানজ্ঞান একমাত্র চলচ্চিত্র। তারপর চিন্তা করি শুধু স্বপ্ন দেখলে তো হবে না। কাজ শুরু করতে হবে। ইটিভি অনলাইন: কিভাবে কাজ শুরু করলেন? শাহের খান: যখন চিন্তা শুরু করি আমাকে কাজ শুরু করতে হবে তখন সঙ্গে সঙ্গে সব দিকে যোগাযোগ করতে লাগলাম। আমার এক পরিচিতের মাধ্যমে পরিচালক এম এম সরকারের সঙ্গে কথা বলি। তারপর তার সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমাকে পছন্দ করলেন। এম এম সরকার অনেক বড় মাপের একজন ডিরেক্টর। কথা বলতে বলতে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। এক সময় তিনি বললেন ঠিক আছে আস, তোমাকে নিয়ে ছবি করবো। তখন আমার বিপরীতে নায়িকা হিসেবে আমার স্বপ্নের রানী শাবনূরের নাম উঠে এলে খুব এক্সাইটেড হয়ে যাই। প্রিয় নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে কাজ করবো এটা আমার জন্য বিশাল পাওয়া। ইটিভি অনলাইন: শুটিংয়ে শাবনূরের সঙ্গে মানিয়ে নিলেন কীভাবে? শাহের খান: শুটিং যখন শুরু হয়, বলা যায় তখন আমি একেবারে অনভিজ্ঞ। শাবনূর আমাকে হাত ধরে ধরে শট বুঝিয়ে দিতেন। কিভাবে কোন এঙ্গেলে দাঁড়াতে হবে সেটা শিখিয়ে দিতেন। তার অসম্ভব সহযোগিতা ছিল। এছাড়া এম এম সরকার একজন হিট ডিরেক্টর। তিনিও আমাকে কাজের ধরণ বা কোনো কিছু না বুঝলে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিতেন। মূলত তাদের সহযোগিতায় আমি ভালোভাবে কাজ করতে পেরেছি।     ইটিভি অনলাইন: ৫ বছর পর আপনার স্বপ্নের ছবি মুক্তি পাচ্ছে, এত দেরি হলো কেন? শাহের খান: ছবির কাজ আমরা খুব ভালোভাবেই করছিলাম। ঠিক এ সময় হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আমার পরিচালক এম এম সরকার মারা যান। তার মৃত্যুতে আমি দিশেহারা হয়ে যাই। কি করবো, এর কাজ কিভাবে শেষ করবো? খুব টেনশন করছিলাম। তখন ইউনাইটেড হাসপালে এম এম সরকারের সহকারী পরিচালক বদিউল আলম খোকন ভাই আমার হাত ধরে বললেন চিন্তা করো না। আমি তোমার ছবির কাজ শেষ করে দেবো। ইটিভি অনলাইন: পরিচালক বদিউল আলম খোকন দায়িত্ব নেওয়ার পরও কেন দেরি হলো? শাহের খান: আসলে এমন কিছু জটিলতা ছিল যেগুলো তাৎক্ষণিক সমাধা করা সম্ভব ছিল না। ফলে দেরি হয়েছে। এরপর শাবনূর অস্ট্রেলিয়া গেলেন। আমাদের ছবির কাজ তখন ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছিল। বাকি কাজের জন্য আটকে রইলাম। শাবনূরও নানা ঝামেলার মধ্যে ছিলেন। এছাড়া ছবিটা শেষ করার ক্ষেত্রে আরও কিছু সমস্যা তৈরি হয়। সবমিলে আমি কাজ শেষ করার জন্য লড়াই করতে থাকি। আমি শপথ করি এই ছবি রিলিজ না হলে আমি নতুন কোনো মুভিতে কাজ করবো না। তাই দীর্ঘ ৫ বছর অপেক্ষা করেছি। নানা ধরণের লড়াই করেছি। শাবনূর ও বদিউল আলম খোকন ভাই’র সহযোগিতায় ছবিটা এখন মুক্তি পাচ্ছে। অনেক নতুন ছবি করার সুযোগ এসেছিল কিন্তু করিনি। এই ছবি রিলিজ দেওয়া নিয়ে আমার একটা জিদ ছিল। ইটিভি অনলাইন: সামনে কি আপনার নতুন কোনো ছবি আসছে? শাহের খান: হ্যাঁ, আমি খুব শিগগিরই নতুন ছবির কাজ শুরু করছি। ‘পাগল মানুষ’ ছবির জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছি। এই ছবিটা মুক্তি পেলেই নতুন ছবির কাজ নিয়ে মাঠে নামবো। তখন সবাইকে জানাবো। এই মুহেুর্তে আমি ‘পাগল মানুষ’ নিয়েই ব্যস্ত আছি। আশা করি ছবিটি খুব ভালো যাবে। চলচ্চিত্রে এসেছি কাজ করার জন্য। এটা তো আমার স্বপ্ন। তাই এখান থেকে পিছু হঠার কোনো ইচ্ছে নেই। মাঝখানে হয়ত অনেকগুলো বছর চলে গেছে। আশা করি সামনে পথ চলায় সবাই আমায় সহযোগিতা করবে। ইটিভি অনলাইন: ছবি তো মুক্তি পাচ্ছে। এখন কেমন লাগছে…   শাহের খান: অসম্ভব রকমের ভালো লাগছে। আমার এই মুভিটির জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেকেই বলেছিল এর আশা ছেড়ে দিয়ে নতুন ছবি কর। কিন্তু আমি রাজি হইনি। এখন ছবিটি ১২ জানুয়ারী, শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে। এটা আমার জন্য বিশাল আনন্দের। আর দর্শকদের উদ্দেশ্য বলবো, আপনারা ছবিটি দেখতে হলে আসবেন। এটি একটি ভালো গল্পের ছবি। ভালোবাসার ছবি। আপনারা ছবিটি দেখে আনন্দ পাবেন। আরো ভালোভালো কাজ করতে চাই। আপনারা আমার পাশে থাকবেন। এটাই আমার প্রত্যাশা।     এসি/ এআর

‘মনের মানুষ খোঁজার সময় মেলেনি’

২০০৮ সালের কথা। চ্যানেল আইয়ের ‘ক্ষুদে গানরাজ’-এ দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছিলেন সাবরিনা এহসান পড়শী। জাদু আছে মেয়েটির কণ্ঠে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে গানের পড়শীর পরিচিতি এখন শীর্ষে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই শিল্পী গত বছর চলচ্চিত্র এবং বেশ কিছু অডিও গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। প্রকাশিত গানগুলো শ্রোতামহলেও সমাদৃত হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর অধিকাংশ সময় পড়শী ব্যস্ত ছিলেন স্টেজ শো নিয়ে। দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থানে শো করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, পুরো বছর তিনি জাগো এফ এম এ ‘পড়শী নাইট’ শোতে আরজেগিরি নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন। নাচ ও গান প্রিয় পড়শী সব মাধ্যমেই নিজেকে তৈরি করেছেন ছোটবেলা থেকেই। পরবর্তীতে ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত শেখা শুরু করেন। ‘কমল কুঁড়ি’ নামের একটি গানের প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে সরকারিভাবে ২০০৭ সালে ‘দেশের গানে’ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন। পড়শীর সঙ্গীত কর্মজীবন মূলত শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকেই। ২০০৯ সালে তাঁর প্রথম রেকডিং ছিলো একটি সিনেমার জন্য এবং তাঁর প্রথম একক এ্যালবাম ‘পড়শী’ এর কাজ ওই সময়ই শুরু করেন। তিনি পাঁচ জন সঙ্গীত পরিচালকের সাথে এ্যালবাম তৈরীর কাজ করেন। এ্যালবামটি ২০১০ সালে ঈদে রিলিজ পায়। প্রথম এ্যালবামের পর তিনি ২০১১ সালে থেকে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালর ১৪ ফেব্রুয়ারী তাঁর দ্বিতীয় একক এ্যালবাম ‘পড়শী-২’ মুক্তি পায়। তারপর ২০১২ সালে বর্ণমালা নামে একটি ব্যান্ডদল গঠন করেন পড়শী। ২০১৩ সালে মুক্তি পায় তাঁর তৃতীয় একক এ্যালবাম ‘পড়শী-৩’। তারপর তাঁর সঙ্গীত জীবনের জনপ্রিয়তার কাহিনী সবারই জানা। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তরুণ প্রজন্মের এই কণ্ঠরাণি নিজের বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : কেমন আছেন? পড়শী : অনেক ভালো। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : শুরুতেই বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই। কেমন ব্যস্ততা যাচ্ছে? পড়শী : বর্তমান ব্যস্ততা সবটাই হলো কনসার্ট নিয়ে। আর হলো আমার তিনটি একক মিউজিক ভিডিও আসছে। অডিও এবং মিউজিক ভিডিও দুটি এক সঙ্গেই প্রকাশ পাবে। একটা ইমরান ভাইয়ের সঙ্গে দৈত গান। আর দুটি আমার সিঙ্গেল ট্রাক। দুটারই কম্পোজিশন জুয়েল মোর্শেদ ভাইয়ের। একটি গানের শিরোনাম হচ্ছে ‘রাস্তা’। যেটা কিছুদিনের মধ্যেই রিলিজ হবে। আর ইমরান ভাইয়ের সঙ্গে যেটা সেটার শিরোনাম হচ্ছে- ‘আবদার’। এটার শুটিং এখনও শুরু হয়নি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : সবগুলো গানের মিউজিক ভিডিওতে কি আপনি মডেল হিসেবে থাকছেন? পড়শী : হ্যাঁ আমি আছি। ইমরান ভাই এর সঙ্গে যে গানটি সেটাতে তিনিও মডেল হিসেবে আছেন। আর যেটা আমার সলো সেখানে একজন মডেল আছেন তবে এখনও সিলেক্ট হয়নি কে থাকবে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : প্লে-ব্যাক নিয়ে কি কাজ করছেন এখন? পড়শী : হ্যাঁ। প্লে-ব্যাক নিয়ে কাজ করছি। আর বাইরের কিছু কাজের কথা চলছে। সেটা কিছুদিন পরে জানাবো। চমক থাক। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : সামনে তো ভালোবাসা দিবস আসছে। শিল্পীদের দিবস নিয়েতো সব সময় কিছু পরিকল্পনা থাকে। আপনার পরিকল্পনা কি? পড়শী : ইমরান ভাইয়ের সঙ্গে যে গানটা আসছে, ওটা রোমান্টিক সং। যেহেতু সামনে ভালোবাসা দিবস আই থিংক ওই গানটা ফেব্রুয়ারির জন্যই রাখা হয়েছে। এখন বাকিটা দেখা যাক কতটুকু কি এগুতে পারি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : এখন তো স্টেজ শো’র মৌসুম। কেমন ব্যস্ততা যাচ্ছে? পড়শী : আলহামদুলিল্লাহ ভালোই ব্যস্ততা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে ময়মনসিংহে শো করে আসলাম। এছাড়া ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে অনেকগুলো শো করলাম। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনিতো নিজের গানের মডেল হচ্ছেন। সিনেমাতেও দেখা গেছে আপনাকে। সঙ্গীতের পাশাপাশি অভিনয় করার ইচ্ছে কি আছে? পড়শী : আসলে অভিনয়টা ভালো লাগে। কারণ ছোটবেলায় সবই শিখেছি। নাচ, অভিনয়, গান, কবিতা আবৃত্তিও শিখেছি। সেহেতু ভালোলাগা থেকে যদি কখনও অভিনয়টা করা হয় সেটা ভালোলাগার স্থান থেকেই করা হবে। তবে আমার কাছে মনে হয় আমি পুরোপুরি একজন গানের মানুষ। গানটা আমি খুব ভালো পারি। অভিনয়টা ততটা পারি না। কিন্তু কোন ডিরেক্টর যদি মনে করেন যে আমি পারবো এবং তিনি আমাকে দিয়ে অভিনয় করিয়ে নিতে পারবেন তবে না করবো না। আপনি হয়তো জানেন, রুনা লায়লা ম্যাডামও অভিনয় করেছেন। লতা জিও করেছেন। মোটকথা আমি যাদের আইডল ভাবি তাদের অনেকেই অভিনয় করেছেন। আমি অভিনয় শিল্পী হব এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই তবে অভিনয় করার ট্রাই করা যেতে পারে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : লেখাপড়া নিয়ে কেমন ব্যস্ততা যাচ্ছে? পড়শী : আমি ম্যাচ কমিউনিকেশন নিয়ে পড়ছি। এছাড়া ব্রিটিশ কাউন্সিলে কিছু কোর্স করছি। তবে সম্ভবত আমার সাবজেক্টটা চেঞ্জ করবো। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে যে এটা আমার জন্য না। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : যেহেতু গানের মানুষ তাই নিয়মিত রেয়াজ করা জরুরি। সব ব্যস্ততার মাঝে এখানে কি সময় দিতে পারছেন? পড়শী : রেয়াজ করাটা শিল্পীর জন্য অবশ্যই বাধ্যতামূলক। চর্চ্চা না থাকলে কোন কিছুই আসলে করা যায় না। আর গানটাতো সাধনার বিষয়। আমি প্রতিদিন রেয়াজ করি এটা যদি বলি তা হলে এটা মিথ্যা বলা হবে। ব্যস্ততার কারণে পারিনা। তবে চেষ্টা করি। একদিন দুদিন গ্যাপ হলেও চর্চ্চাটা অবশ্যই করি। আসলে গান শেখার কোন শেষ নেই। বয়স নেই। লতাজি এখনও গান শিখছেন। রুনা লায়লা ম্যাডাম তিনিও গান শেখেন। শাকিলা জাফর ম্যাডামও শেখেন। আমার কাছে মনে হয় প্রতিনিয়ত গান শিখতে হবে। না শেখার কোন উপায় নেই। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনার গানের হাতে খরি কোন ওস্তাদের কাছে? পড়শী : আসলে আমার গানের হাতেখরি আমার নানু। তারপর আমি আমার আম্মুর কাছ থেকেও গান শিখেছি। এরপর গান শেখার মত যে শেখাটা শুরু করেছি, আই থিংক তখন ক্লাস টুতে পড়ি। তখন আমি নিয়াজ মামুন স্যারের কাছে গান শেখা শুরু করি। এখন আমি গান শিখছি ওস্তাদ অনুপ বড়ুয়ার কাছে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনি কি গান নিয়েই থাকতে চান, নাকি লেখাপড়া শেষে অন্য কোন মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়তে চান? পড়শী : আসলে আমি লেখাপড়া টা শুধুই জানার জন্য করছি। শেখার জন্য করছি। কিন্তু জীবনকে এগিয়ে নিতে চাই শুধুই গান দিয়ে। আমার সব কিছুই গান নিয়ে। সকাল থেকে রাত, এমনকি ঘুমের মধ্যেও গান নিয়ে স্বপ্ন দেখি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : এবার একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি। লেখাপড়া, গানের ক্যারিয়ার সব কিছুর মাঝে থেকেও মনের মানুষ কি খুঁজে পেয়েছেন? পড়শী : পড়ালেখা, ক্যারিয়ার, গান ও ব্যস্ততা সবকিছুর মাঝে থেকে ভালোবাসার মানুষ নিয়ে যে চিন্তা করবো সেই সময়টা এখনও মেলেনি। যখন এই সময়টা মিলবে তখন হয়তোবা ভালোবাসার মানুষটা পাবো। তখন জানাবো। এসএ/  

‘ফেব্রুয়ারিতে চমক নিয়ে আসছি’

মডেল ও অভিনেত্রী মুমতাহিনা টয়া। জনপ্রিয়তায় শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। তাই নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই এ অভিনেত্রীকে নিয়ে। ২০১০ সালের ‘লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগিতা’র শীর্ষ পাঁচ-এ থাকা টয়া ক্যারিয়ারের প্রথম দুই বিজ্ঞাপনেই আলোচনায় আসেন। বিশেষত মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের সঙ্গে গ্রামীণ ফোনের বিজ্ঞাপনে তার বলা সংলাপ-এতো অসম্ভব! ২০১৩ সালে বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায় এটি। একই সময়ে টয়াকে কিসলুর নির্দেশনায় ফেমিকনের বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে দেখা গেছে। টয়া প্রথম অভিনয় করেন অপূর্বর বিপরীতে রুমানা রশীদ ঈশিতার নির্দেশনায় ‘অদেখা মেঘের কাব্য’ টেলিফিল্মে। এটি ২০১১ সালে ভালবাসা দিবসে প্রচার হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই তারকাকে। একের পর এক ধারাবাহিক নাটক, টেলিফিল্ম, একক নাটক, মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে টয়া শোনালেন মনে কথা। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   ইটিভি অনলাইন : শুভ সকাল, কেমন আছেন? মুমতাহিনা টয়া : ধন্যবাদ। ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : শুরুতেই আপনার ব্যস্ততা সম্পর্কে একটু জেনে নিতে চাই। কেমন ব্যস্ততা চলছে? মুমতাহিনা টয়া : আলহামদুলিল্লাহ। খুবই ভালো চলছে। কারণ প্রতিদিনই কোন না কোন কাজ করছি। সবকিছুই ঠিক ঠাক চলছে। নাটকের কাজ চলছে। ওয়েব সিরিজের কাজ চলছে। আমি অনেকগুলো ওয়েব সিরিজ করছি। একটা শেষ হলে আরেকটা আসবে। এ মুহুর্তে ওয়েব সিরিজের ডিমান্ডটা খুব ভালো। সবাই অনলাইনে ছোট ছোট গল্প দেখতে খুব পছন্দ করে। পাইপ লাইনে এমন দুটি রয়েছে। ইটিভি অনলাইন : এ দুটি সম্পর্কে একটু জানতে পারি? মুমতাহিনা টয়া : অবশ্যই। স্বরাজ দেব এর নির্দেশনায় একটি ওয়েব সিরিজ হচ্ছে ‘মেমোরি’। আমার যে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ছিলো ‘বখাটে’। খুবই জনপ্রিয় একটা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ওটার নির্দেশকই ‘মেমোরি’ নির্মাণ করেছেন। বখাটে থেকে পুরোপুরি ভিন্ন ধরণের এটা নির্মাণ হয়েছে এটি। এটা গ্লামার বেইজ একটা কাজ। বখাটে যেমন ইনোসেন্ট লাভ নিয়ে নির্মাণ হয়েছিলো অর্থাৎ বাচ্চা কালের প্রেমের গল্প, মেমোরিটা হচ্ছে ট্রাইঙ্গেল লাভ স্টোরি। এটা সম্ভবত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ পাবে। আর একটা যেটা, সেটা হচ্ছে রমজানের ঈদে যে ওয়েব সিরিজটা ‘অ্যাডমিশন টেস্ট’ প্রকাশ পেয়েছিলো। ওটার মত করেই অ্যাডমিশন টেস্ট টু করতে যাচ্ছি। এটাতে অনেক বড় একটা টুইস্ট আছে। গল্প পুরোপুরি ভিন্ন তবে প্রথমটিতে যারা যারা ছিলেন এটাতেও তারাই থাকছেন। আরও একটা বিষয় হচ্ছে- নতুনটাতে আরও একটি চরিত্র যুক্ত হবে। নতুন চরিত্র, গল্প ও আমাদের পুরোটিমের এটা টুইস্ট থাকছে এটাতে। ইটিভি অনলাইন : ওয়েব সিরিজের পাশাপাশি নাটকে কাজ করছেন নিশ্চই। সেই সম্পর্কে কিছু বলেন। মুমতাহিনা টয়া : আমরা সাধারণত টিভি নাটক নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকি। অনলাইনের কাজগুলো মাসে হয়তো একটা দুটা হয় কিন্তু নাটক নিয়ে মাসের অধিকাংশ সময়ই ব্যস্ত থাকতে হয়। গত মাসে টানা ২৫ দিন থাইল্যাণ্ডে ছিলাম। ওখানে থেকে একটা ধারাবাহিক নাটকের শুটিং শেষ করে এসেছি। ৫২ পর্বের ধারাবাহিক ‘হিং টিং ছট’। এটা একটা কমেডি নাটক। অনেক মজা করেছি। নাটকের আগে পরে আমরা অনেক ফান করে সময় কাটিয়েছি। এক কথায় পিকনিক আর বিদেশ ট্যুর হয়ে গেছে। নাটকটি অনইয়ারে যাচ্ছে। আর একটা হচ্ছে এক সাথে ১০৪ পর্বের শুটিং শেষ করেছি। এটাও অনইয়ারে যাবে খুব শিঘ্রই। এটার নাম হচ্ছে ‘বারো ঘরের এক উঠান’। এখানে আমি খুবই সুন্দর একটা চরিত্র প্লে করেছি। কিছুটা হুমায়ূন আহমেদের রূপার চরিত্র এটা। এ মেয়েটিকে ঘিরেই নাটকের সব ঘটনা। ‘বারো ঘরের এক উঠান’ যে নামটা দেওয়া হয়েছে তাতে ওই উঠানটা মেয়েটাকেই বোঝানো হয়েছে। নাটকে যতো ঘটনা ঘটে তা মেয়েটাকে নিয়েই ঘটে। আর সমাধানও দেয় মেয়েটি। এটাও কিছুটা কমেডি ধাচের। রোমান্টিক ও কমেডি মিলে নাটকটি বেশ ভালোই হয়েছে। নাটকটি নিয়ে আমি খুবই এক্সাইটেড। এছাড়া আরও একটা কাজ করছি ‘নোয়াশাল’। গত চার-পাঁচ বছর ধরে নাটকটা চলছে। এটাতে আমি নোয়াখালির চরিত্র প্লে করছি। নোয়াশালটা সবাই দেখে। যেহেতু দুটি বিভাগের উপর নাটকটি নির্মাণ হয়েছে বরিশাল আর নোয়াখালি তাই দর্শক এটা খুব পছন্দ করেছে। ইটিভি অনলাইন : আপনি তো নাটকের পাশাপাশি টিভিসিতেও কাজ করছেন। শুরুর দিকে দর্শক আপনাকে টিভিসিতেই দেখেছে। সেই সম্পর্কে কিছু বলেন। মুমতাহিনা টয়া : সত্যি কথা বলতে আমার ক্যারিয়ারের প্রথম কাজগুলো অনেক হিট হয়েছে। প্রথম কাজটি অনন্ত জলিলের সঙ্গে করেছিলাম। গ্রামীণফোনের ওই বিজ্ঞাপনটি আমার ক্যারিয়ারের একটা টার্নিং পয়েন্ট। ওই সময়ের খুবই জনপ্রিয় একটা টিভিসি ছিলো এটা। আমি নাটকে যখন কাজ শুরু করি তখন আমি কিছুই জানতাম না। কিন্তু প্রথম যখন এই টিভিসিটা করি এটা অনেক হিট হয়েছিলো। আমি একটা মিউজিক ভিডিও করেছি- মমতাজ আপুর সঙ্গে ‘লোকাল বাস’। আমার কাছে মজা লাগে যে- এটাও হিট হয়েছে। আমার প্রথম শর্ট ফিল্ম ছিলো বখাটে। এটাও প্রচুর হিট করে। এরকম আমার প্রথম প্রথম কিছু কাজ আছে যা অনেক হিট হয়েছে। ইটিভি অনলাইন : আপনি তো একটি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। তাহলে এটাও কি হিট করবে বলে মনে করছেন? মুমতাহিনা টয়া : হা হা হা। আমি জানি না দর্শক কতখানি নিবে। আশা রাখি আগামী ভ্যালনটাইটে ‘বেঙ্গলি বিউটি’ মুক্তি পাবে। আমি বলতে পারি দর্শকদের জন্য একটা চমক থাকছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এটা আমার প্রথম সিনেমা। খুবই ভিন্ন ধরণের গল্প নিয়ে এটি নির্মাণ হয়েছে। ইতিমধ্যে সিনেমাটির টিজার প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশের পর থেকে অনেক সাড়া পাচ্ছি। আমার কাছের মানুষরা খুবই এক্সাইটেড। আমি বলতে পারি এধরণের সিনেমা এর আগে বাংলাদেশে হয়নি। ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। মুমতাহিনা টয়া : ধন্যবাদ একুশে টিভি অনলাইনকে। এসএ/

বড়দিন আর বিয়ে নিয়ে বেশ আনন্দে আছি

আজ বাংলা ১১ই পৌষ ১৪২৪, শীতকাল। ২৫শে ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার। আজ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’। প্রতিবছর আজকের এই দিনটিতে রোমান ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চের অনুসারীরা যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে এই উৎসব পালন করে। খ্রিস্টীয় ২০০ সাল থেকে এ উৎসব পালন শুরু হয়। ক্রিসমাস যদিও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে উদ্ভুদ্ধ তথাপি এটি এখন সার্বজনীন ধর্ম নিরপেক্ষ উৎসবে পরিণত হয়েছে। বড়দিনে ইটিভি অনলাইনের আজকের তারকালাপে কথা হয় জনপ্রিয় অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়ার সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : কেমন আছেন? আপনাকে বড়দিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। শুভ বড়দিন। কল্যাণ কোরাইয়া : শুভ বড়দিন। অনেক ভালো আছি। কারণ সারাদিনে অনেক অনেক প্লান রয়েছে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : সব সময় তো কাজ নিয়ে আপনাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। বড়দিনটা কিভাবে উদযাপন করেন? কল্যাণ কোরাইয়া : আজকে আমার মনে হচ্ছে যে আমি স্বর্গে আছি। ক্রিসমাস তো প্রতি বছরই করা হচ্ছে। এবার ক্রিসমাসটা একটু অন্যরকম। কিছুটা রিলাক্স লাগছে। কারণ কিছুদিন আগে আমি লম্বা একটা সময় জঙ্গলে কাটিয়েছি। শুটিং এর একটা কাজে প্রায় ১৩-১৪ দিন সেখানে থাকতে হয়েছে। সেখানে থেকে এসে শহরের এই আমেজ, কিছুদিনের বিরতি আর রিলাক্স ভালো লাগছে। ছোট বেলাতে যেমন বার্ষিক পরীক্ষা হলে একটু শান্তি লাগতো তেমনই লাগছে। দীর্ঘদিন কাজ করে এসে একটু বিরতি, তারউপর একটা বড় উৎসব, আত্মিয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা, মজার মজার খাবার, নতুন পোশাক সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে আমি স্বর্গেই আছি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : ছোট বেলার বড় দিন আর এখনকার বড়দিন কোনটাকে বেশি উপভোগ করেন? কল্যাণ কোরাইয়া : মাঝে মাঝে মনে হয় ছোট বেলার বড়দিনটাই বেশি ভালো ছিলো। আমি প্রায়ই বলি ছোট বেলার বড়দিনটা আমি বেশ উপভোগ করতাম। ছোট বেলায় এ সময়টাতে স্কুলের পরীক্ষা শেষ হলে মনে হতো স্বাধীন হয়ে গেলাম। তখন মনে হতো আমি আকাশে উড়বো। মার্কেটে যাবো, কেনাকাটা করবো, বাতিওয়ালা জুতা কিনবো, ব্যাটবল কিনবো। মানে ছুটির দিনগুলো কিভাবে উপভোগ করা যায় তার ব্যাপক প্রস্তুতি নিতাম। ছোট বেলাতে গ্রামেই বড়দিন পালন করতাম। এখন যাওয়া হয় না। তখন আত্মিয়দের মধ্যে অনেকেই ছিলো যারা বিয়ে করেননি। সবাই মিলে অনেক আনন্দ করতাম। এখন সেই জিনিসটা মিস করি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : বিশেষ দিন মানেই বিশেষ বিশেষ খাবার। আজকের দিনটাতে মায়ের হাতে কোন খাবারটা খেতে বেশি পছন্দ করেন? কল্যাণ কোরাইয়া : যদিও আমি আজ বলেছি খুবই সাধারণ খাবার খেতে চাই, কারণ কাল থেকে ভারি খাবারের একটা আয়োজন চলছে। কাল নতুন জার্নি শুরু হচ্ছে। এমনিতেই অনেকটা ভারি হয়ে গেছি তারপরও মনে হচ্ছে এই ধাক্কায় আরও মনে হয় দশ কেজি বেড়ে যাবো। বিয়ের পর নিজের বাড়ি, আত্মিয়-স্বজনদের বাড়ির আপ্যায়নে হয়তো আরও বেশি ফুলে যেতে পারি। সেজন্য আজ মাকে বলেছি যতোটুকু পারো আজ নরমল খাবার তৈরি করো। তবে মায়ের হাতের টাকি মাছের ভর্তা আমার খুব ভালো লাগে। এরপর সরিষা ইলিশ, পোলাও অনেক ভালো লাগে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আমরা শুনেছি আপনি নতুন জীবনে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। মানে আপনি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে জন্য কি এবারের বড় দিনটিকে আলাদা মনে হচ্ছে? কল্যাণ কোরাইয়া : অবশ্যই আলাদা মনে হচ্ছে। কারণ যেটা আমি আগে কখনও করিনি সেটা এবার করতে যাচ্ছি। বিয়ের প্রস্তুতি, বড়দিনের প্লানিং, বড়দিনের গোছগাছ, চার্চে যাওয়া, বাসায় দুপুরের রান্না-বান্নার প্রস্তুতি চলছে। সব মিলে বাসায় একটু বাড়তি প্রস্তুতি চলছে। কারণ একদিন পরেই বিয়ে। হই চৈই চলছে। নিজের বাসায় নিজেই জায়গা পাচ্ছি না। কেই নাচানাচি করছে, বাচ্চারা খেলাধুলা করছে, অতিথিরা আসছে, খাওয়া-দাওয়া চলছে, আড্ডা দিচ্ছে, বিয়ের প্লানিং করছে কেউ কেউ। মোটকথা ক্রিসমাস উপলক্ষে যতটুকু উৎসব হওয়ার কথা, বিয়ের আগাম প্রস্তুতি বড়দিনকে আরও বেশি আনন্দদায়ক করেছে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আজকের দিনটি কি শুধুই পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন, নাকি বন্ধু-বান্ধব মিলে কোথাও আড্ডা দিবেন? কল্যাণ কোরাইয়া : ক্রিসমাস আমি সব সময়ই পরিবারের সঙ্গে করি। আমাদের তো প্রধান দুটি উৎসব। ক্রিসমাস এবং ইস্টার সানডে। এই দুটি উৎসব চেষ্টা করি পরিবারের সঙ্গেই কাটাতে। তবে এর মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত তো হয়ই। নিজে গিয়ে আড্ডা মারি। তারা বাসায় আসে। তবে বেশিরভাগ সময়ই পরিবারকে দেই। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : অনেক ভালো লাগলো কথা বলে। নতুন জীবনের জন্য শুভ কামনা রইলো। কল্যাণ কোরাইয়া : ধন্যবাদ। আবারও সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের নতুন জীবনের জন্য সবাই দোয়া করবেন। এসএ/  

‘ভালো কিছু করতে একটিভ থাকতে হবে’

সৈয়দ রুমা। দেশের আলোচিত র‌্যাম্প মডেল ও কোরিওগ্রাফার। ২০০২ সাল থেকে শুরু। এরপর শুধুই এগিয়ে চলা। অসংখ্য দেশি বিদেশি পণ্যের মডেল হয়ে সফলতার চূড়ায় অবস্থান করছেন। শুধু মডেলিং নিয়েই নয়, কোরিওগ্রাফিতেও তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। অভিনয় করেছেন বেশ কয়েকটি টিভি নাটকে। চলচ্চিত্রে আইটেম গানে পারফর্ম করেও দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন মডেল রুমা। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইন’র সঙ্গে কথা হয় সময়ের ব্যস্ত এই তারকার। তাকে নিয়ে সাক্ষাৎকারটি লিখেছেন- সোহাগ আশরাফ একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপু কেমন আছেন? সৈয়দ রুমা : ধন্যবাদ। ভালো আছি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনি তো একযুগেরও বেশি সময় ধরে মিডিয়াতে কাজ করছেন। প্রথমেই একজন মডেলের কোন কোয়লিটিটা থাকা জরুরী? সৈয়দ রুমা : এক কথায় ‘একটিভ’। একটিভ না থাকলে দীর্ঘদিন কাজ করা সম্ভব না। কাজের প্রতি একটিভ থাকতে হবে। আমিও খুব একটিভ ভাবে কাজ করেছি। আর একটা কথা হচ্ছে- টার্গেট থাকতে হয়। আমি কি করব, নিজেকে কোথায় দেখতে চাই তা আগে থেকেই নিদ্ধারণ করতে হবে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : অনেকেই আছেন যারা একাই অনেকগুলো সেক্টরে কাজ করছে। যেমন- অভিনয়, মডেলিং, উপস্থাপনা ইত্যাদি। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি? সৈয়দ রুমা : আমি যেটা বলবো- আমি একটা সময় পর্যন্ত শুধু র‌্যাম্পই করেছি। দীর্ঘ সাত-আট বছর শুধু র‌্যাম্প এর পেছনেই সময় দিয়েছি। তবে পাশাপাশি ফটোশুট করেছি। কিন্তু র‌্যাম্পই ছিল প্রধান টার্গেট। এরপরে এক সময় ভাবলাম দেখি ভিন্ন সেক্টরে গিয়ে। নাটক করেছি, আইটেম সং করেছি। কিন্তু এর পরেও আমার কিন্তু টার্গেট ছিল র‌্যাম্প। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : এখনতো অনেক গ্রুমিং প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। আপনিও গ্রুম করছেন। এর কতটুকু গুরুত্ব রয়েছে? সৈয়দ রুমা : শতভাগ গুরুত্ব রয়েছে। মনে করেন একজন বাসায় থাকেন। অথবা লেখাপড়া করছেন। তার লাইফটা কিন্তু বাসা টু স্কুল। মিডিয়াতে কিভাবে চলতে হবে? ফ্যাশন জিনিসটা কি তা বুঝতে হবে? একজন মডেলের মধ্যে মানুষ কি দেখতে চায়? কেনো শিখবে? আমি হয়তো সবার থেকে একটু আলাদা ভাবে চলাফেরা করি বলে ই অনেকের আইকন হতে পেরেছি। একজন মানুষকে কেনো অন্যরা দেখবে? মডেলকে কেনো দেখবে? কারণ তাদের স্টাইল, ধরণটা একটু আলাদা। তাদের ড্রেসআপ, তাদের মেকআপ, তাদের চলাফেরা সবকিছুতেই একটু ভিন্নতা থাকে। মনে করেন কারও সব কিছুই ঠিক আছে কিন্তু এক্সপ্রেশন ঠিক নাই। অনেকেই আছেন যারা সবার সঙ্গে সহজে মিশতে পারে না। কিন্তু মিডিয়াতে সবাই বন্ধুর মত। অনেকের সঙ্গে পরিচয় হবে। অনেক পরিবেশে যেতে হবে। এগুলো সবই জানা থাকা জরুরী। আর আমরা যখন গ্রুমিং করাই তখন শুধু মডেলিং নয়, নরমল লাইফের জন্যও গ্রুমিং করাই। ওরা কিভাবে ড্রেস পড়বে, কিভাবে কথা বলবে, কিভাবে মেকআপ করবে, হেয়ার স্টাইল কেমন হবে, রাতের পার্টির ড্রেস, দিনের পার্টির ড্রেস কেমন হবে সবই শেখানো হয়। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনার শুরুটা কি তাহলে র‌্যাম্প থেকেই? সৈয়দ রুমা : হ্যাঁ। র‌্যাম্প থেকেই শুরু। ২০০২ সালে টেক নাইট একটা শো ছিল। সেখান থেকেই শুরু। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : নতুন যারা ফ্যাশান শো বা র‌্যাম্পে কাজ করতে আগ্রহী তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি? সৈয়দ রুমা : নতুন যারা ফ্যাশান শো বা র‌্যাম্পে কাজ করতে অগ্রহী তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে প্রথমে জানতে হবে সে কি ধরনের কাজ করতে চায়। যেমন এখন অনেক ভাবে মিডিয়াতে জড়িত হওয়া যায়। যেমন : কেউ ক্যামেরাম্যান হতে চায়, আবার কেউ অভিনেতা, মডেল, কোরিওগ্রাফার, পরিচালক ইত্যাদি। তবে আমি বলব যে কাজই করতে চায় আগে সেই কাজ সম্পর্কে তাকে ভাল ভাবে জানতে হবে বুঝতে হবে তারপর তাকে অনেক পরিশ্রম ও তার মেধা দিয়ে তাকে তৈরি করতে হবে। তবে আমি মনে করি যদি আগ্রহ ও কঠোর পরিশ্রম করতে পারে তবে সে অবশ্যই মিডিয়াতে ভালো একটা জায়গা করে নিতে পারবে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : এতো কাজ থাকতে র‌্যাম্প কেনে বেছে নিলেন? সৈয়দ রুমা : র‌্যাম্পে কাজ করার ব্যাপারে আমার কোন ইচ্ছে ছিল না। ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হব কিংবা ল ইয়ার হব। ফ্যাশন সেক্টরে কাজ করার ব্যাপারে আমার বড় বোন রেশমার খুব শখ ছিল। পরিবারের বাঁধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সে তার শখ পূরণ করতে পেরেছিল। রেশমা বহুদিন র‌্যাম্পে কাজ করেছে। এখন র‌্যাম্প ছেড়ে সে পুরোদস্তুর ফ্যাশন ডিজাইনার। রেশমার ফ্যাশন শো থাকলে আমি তার হাত ধরে সেই শো গুলোতে হাজির হয়ে যেতাম। তখন আমি খুবই ছোট। ওদের কাজ আমার একটুও পছন্দ হতো না। খালি হাঁটাহাঁটি করে। হাঁটাহাঁটির জন্য সারাদিন ধরে এতো পরিশ্রম! এটা কোন কথা হলো! একদমই ভালো লাগতো না। ধীরে ধীরে যখন বড় হতে থাকলাম অনেকেই আমাকে প্রস্তাব দিতে থাকলো রুমা তুমিও তো র‌্যাম্পে কাজ করতে পার। তখন আমি সেসব প্রস্তাব উড়িয়ে দিতাম। আমার পক্ষে এতো ধৈর্য্য নিয়ে কাজ করা সম্ভব না। আমার ফড়িংয়ের মত স্বভাব। ধৈর্য্য নিয়ে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। একসময় সবাই আমার বড় বোনকে বলতে থাকলো আমাকে র‌্যাম্পে কাজ করানোর বিষয়ে। প্রস্তাব শুনে রেশমাতো খুব খুশি। আমাকে রাজি করিয়ে ফেলল। কোন কিছু ম্যানেজ করার ব্যাপারে রেশমা অসাধারণ ক্ষমতাবান। আমাদের চৌদ্দ গোষ্ঠীর মধ্যে কোন মেয়ে ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করেনি। প্রথম দিকে রেশমার বাইরে কাজ করার কথা শুনে আমি ভয় পেতাম। আমি রেশমাকে বলতাম আপু এটা করতে যেও না। দাদী মারবে, মা বকা দেবে। অথচ রেশমা ঠিকই দাদীকে আর মাকে ম্যানেজ করে ফেলল। রেশমার কারণেই আমাকে নতুন করে আর স্ট্রাগল করতে হয়নি। পথটা রেশমাই পরিস্কার করে রেখেছিল। মূলত রেশমার কারণেই আজ আমি র‌্যাম্প মডেল। একটা দুইটা শো করতে করতে আমি একসময় র‌্যাম্পের প্রেমে পড়ে গেলাম। র‌্যাম্পের বিষয়টাই এমন একবার যে শুরু করে সে আর ছাড়তে পারে না। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মডেলরা র‌্যাম্পে কাজ করতে পারে। যদি এমন হতো সারাজীবন র‌্যাম্পে কাজ করা সম্ভব হতো তাহলে বোধ হয় আমি সারাজীবনই সেটা করতাম। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : একুশে টিভি অনলাইনকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। সৈয়দ রুমা : ইটিভি অনলাইনের সকল পাঠকদের জন্য শুভ কামনা। আপনাকেও ধন্যবাদ। এসএ/  

‘আমি শিখতে চাই, ভালো কিছু করতে চাই’

হৃদি শেখ। চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে জানান দিয়েছিলেন নিজের পরিচয়। তারও আগে তিনি রাশিয়া, ইউক্রেন ও ভারতের বেশ কিছু রিয়্যালিটি শো’র মঞ্চে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। ছিনিয়ে নিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের বেশ কিছু মুকুট। কিছুদিন আগে ভারতের জনপ্রিয় ডান্স রিয়্যালিটি শো ডান্স প্লাসে ‘হাউজ অব সুরাজ’ এর হয়ে সেরা আটে জায়গা করে নেন তিনি। নাচের পাশাপাশি বাংলাদেশে বেশ কিছু টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন হৃদি। দেশ ও দেশের বাইরে তাকে মূলত আমরা ড্যান্সার, অভিনেত্রী বা ইউটিউবার হিসেবেই জানি। তবে, সম্প্রতি তিনি ডাক পেয়েছেন বহুল জনপ্রিয় মার্কিন টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোনসের হয়ে অভিনয় করার জন্যে। হৃদি শেখ মনে-প্রাণে বাঙালি হলেও জন্ম এবং বেড়ে ওঠা রাশিয়াতে। সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। বিদেশে বড় হলেও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা ও টান। মৌ ও মুনমুন আহমেদের নাচের অসম্ভব ভক্ত তিনি। ছোটবেলা থেকে তাদের নাচ দেখে দেখেই নৃত্যের প্রতি আগ্রহ জন্মায় হৃদির। ভর্তি হন নাচের স্কুলে। মায়ের হাত ধরে প্রতিদিন নাচের স্কুলে গিয়ে রপ্ত করতে থাকেন নৃত্যের তা তা থৈ থৈ-এর মূল ব্যাকরণ। রাশিয়াতে নিজের স্কুলের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করে প্রসংশা কুড়ান তিনি। নাচের সেই শিক্ষা আর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই বাংলাদেশের ৪৫ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে সিজন থ্রির বিজয় মুকুট ছিনিয়ে নেন ঢাকার এ মেয়ে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন হৃদি শেখ। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : কেমন আছেন হৃদি? হৃদি শেখ : আমি অনেক ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : হ্যাঁ। আমিও ভালো আছি। আপনার নাচ নিয়ে যে সফলতা দেখেছি তাতে আমরা সবাই আনন্দিত, গর্বিত। সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় ডান্স রিয়্যালিটি শো ডান্স প্লাসে আপনি খুব দক্ষতার সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন। অনেক বিখ্যাত মানুষ সেখানে আপনার প্রশংসা করেছে। সেই পুরো ঘটনাটা শুনতে চাই।   হৃদি শেখ : আমার একটা বড় স্বপ্ন ছিল একদিন ইন্ডিয়াতে ডান্স রিয়্যালিটি শোতে অংশ নিব নিজের দেশের নাম ধরে। স্বপ্নটা আমার পূরণ হয়েছে চলতি বছরে। এ জন্য আমাকে চার মাস ইন্ডিয়াতে থাকতে হয়েছে। ডান্স প্লাস সিজন থ্রি অনেক জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো। ইন্ডিয়াতে এটি নম্বর ওয়ান। আমি একটা ইন্টারন্যাশনাল টিমের মধ্যে ছিলাম। আমাদের টিমে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, নরওয়ে এবং ইন্ডিয়ার অনেকেই ছিল। আমি বাংলাদেশ এবং রাশিয়াকে প্রেজেন্ট করি। তবে এর মধ্য বাংলাদেশকেই আমি বেশি রিপ্রেজেন্ট করেছি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনি তো রাশিয়াতেই বেড়ে উঠেছেন। সেখানে থেকে কিভাবে বাংলাদেশি নৃত্য রপ্ত করলেন? হৃদি শেখ : আসলে আমার জন্ম হয়েছে রাশিয়াতে। সেখানেই বড় হয়েছি। আমার বাবা-মা সব সময়ই বলতেন- তুমি যেখানেই থাকো, বড় হও বা যেখানেই কাজ করো ভুলে যেওনা যে- তুমি বাংলাদেশি। সেজন্য আমার সব সময়ই ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া শেষ করে আমি বাংলাদেশে এসে কিছু কাজ করবো। রাশিয়াতে সমস্যা ছিল। কারণ আমাদের কমিউনিটি ওখানে ছোট। এরপরেও কিছু কিছু কাছের মানুষ ছিলেন যারা ফোক নিয়ে কাজ করতেন। তারা আমাকে শিখিয়েছেন কিভাবে ফোক ডান্স করতে হয়। আমার ডান্স ক্যারিয়ার ফোক দিয়েই শুরু হয়। এরপর আমি আলাদা ফর্ম শিখেছি। কিছু ক্লাসিক্যাল ও ওয়েস্টার্ন ফর্মে কাজ করেছি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনিতো সেরা নাচিয়েতে অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় কি রাশিয়াতে ছিলেন? সেই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানতে চাই। হৃদি শেখ : আসলে সেরা নাচিয়ে আমার প্রথম রিয়্যালিটি শো না। এর আগেই আমি অভিজ্ঞ হয়ে এসেছি। আমি রাশিয়াতে রিয়্যালিটি শো করেছি। ইউক্রেনে রিয়্যালিটি শো করেছি। তবে ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশে আসা। প্রথম দিকে মা আসতে দিতে চননি। তার কথা ছিল পড়ালেখা শেষ করে তবেই যেনো আসি। এরপর মা একদিন জানালো এই রিয়্যালিটি শোর কথা। আমি দেখলাম এটাই পারফেক্ট সময়। কারণ ওই সময় আমার ভার্সিটি শেষ হয়েছে মাত্র। ওরা আমাকে বলেছিলো তুমি কোরিওগ্রাফার হিসেবে আসতে পারো আবার প্রতিযোগী হিসেবেও আসতে পারো। যেটা তোমার ইচ্ছে। আমি প্রতিযোগী হিসেবে আসার চিন্তাই করলাম। এসে তো আমি চ্যাম্পিয়ন হলাম। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনিতো নাচের পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন। কি কি কাজ করেছেন বা করছেন? হৃদি শেখ : আসলে সব সময়ই আমার অভিনয় করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু রাশিয়াতে থাকার সময় আমি পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ওই সময় শুধু ডান্স নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। বাংলাদেশে আসার পরে আমি যখন অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব পেলাম রাজি হয়ে গেলাম। বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করেছি। বাংলায় কথা বলা নিয়ে আমার একটু সমস্যা এখনও আছে। কারণ রাশিয়াতে বড় হয়েছি। সে জন্য একটু কম কাজ করছি। বেছে বেছে করছি। নাটকের জন্য নিজেকে তৈরি করছি। কিছু সিনেমায় কাজ করার কথাও চলছে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : যেহেতু আপনার রাশিয়াতেই বেড়ে ওঠা তাই নিজেকে আরও ভালো করে তৈরি করার জন্য কি কি পরিকল্পনা আছে? হৃদি শেখ : অভিনয়ের উপরে আমার কোন গ্রুমিং ছিল না। আমি প্রস্তুতও ছিলাম না। যখন আমি নাটকের প্রস্তাব পেয়েছি তখন অনেকটা নার্ভাস ছিলাম। অনেকবার স্ক্রিপ্ট পড়েছি। ওই সময় ঠিক মত বলতে পারতাম না, পড়তে পারতাম না। এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। আমি আরও ওয়ার্কশপ করতে চাই। রাশিয়াতে থাকলেও ওয়ার্কশপ নিবো। যদি সম্ভব হয় কোন থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবো। আমি শিখতে চাই, আমি ভালো কিছু করতে চাই। আর আমি আশা করি যে আমি পারবো। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : অনেক ধন্যবাদ। আপনার সাফল্য কামনা করি। হৃদি শেখ : একুশে টেলিভিশন ও ইটিভি অনলাইন পরিবারকেও অনেক ধন্যবাদ। এসএ/  

‘আমাদের দুজনকে এক করেছে সুবর্ণা’

ঢাকা থিয়েটারের প্রবীণ সদস্য ফখরুল বাশার মাসুম। নিয়মিত মঞ্চ ও টেলিভিশনে অভিনয় করছেন। ছোট পর্দার পাশাপাশি কাজ করছেন বড় পর্দায়ও। মাঝে মাঝে হচ্ছেন বিজ্ঞাপনের মডেল। অপরদিকে মিলি বাশার। ফখরুল বাশারের স্ত্রী। তিনিও অভিনয় করছেন সব অঙ্গনে। অভিনয়ের পাশাপাশি এ তারকা দম্পত্তি সুখের সংসার সামলাচ্ছেন সমান তালে। অভিনয়, সংসার ও ভালোবাসার কথা নিয়ে ফখরুল বাশার মাসুম মুখোমুখি হয়েছিলেন একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের সামনে। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : শুভ সকাল। কেমন আছেন? ফখরুল বাশার মাসুম : ধন্যবাদ। অনেক ভালো আছি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে আপনার? ফখরুল বাশার মাসুম : যেহেতু পেশাটাই আমার অভিনয়, তাই অভিনয়ের মধ্যেই ব্যস্ত আছি। সম্প্রতি বিজ্ঞাপনের কাজ করলাম। সিঙ্গেল নাটকের কাজ করছি। সিরিয়ালে কাজ চলছে। পাশাপাশি মঞ্চেও কাজ করছি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনার শুরুটা কি মঞ্চ থেকে হয়েছিলো? ফখরুল বাশার মাসুম : হ্যাঁ। আমার শুরু হয় ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গেই। ৭৪ সালে রাইসুল ইসলাম আসাদ, আমার বন্ধু। সেই আমাকে ঢাকা থিয়েটারে নিয়ে যায়। মঞ্চে আমার প্রথম অভিনয় সম্ভবত ১৯৭৬ সালে ‘মুনতাসির ফ্যান্টাসি’র মধ্য দিয়ে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : বর্তমানে আপনাদের থিয়েটারে কি কি প্রডাকশন চলছে? ফখরুল বাশার মাসুম : বর্তমানে নতুন প্রডাকশনের মধ্যে একটি বিদেশি গল্পের অনুবাদ নিয়ে কাজ হচ্ছে। টমাস কিনেলির দি প্লেমেকার উপন্যাস অবলম্বনে টিম্বারলেক ওয়ার্টেন বেকারের রচনা ও হুমায়ুন কবির হিমুর নির্দেশনায় ‘আওয়ার কান্ট্রি ইজ গুড’ নাটকটি বর্তমানে চলমান প্রডাকশন। এটার মধ্য দিয়ে আমি ৩৫ বছর পরে আবারও মঞ্চে কাজ শুরু করেছি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনি তো চলচ্চিত্রেও কাজ করছেন। সেখানে বর্তমানে ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে? ফখরুল বাশার মাসুম : তিনটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছি। জানুয়ারিতে একটি সিনেমার শুটিং শুরু হবে। এই সিনেমাটি মুক্তিযুদ্ধি বিষয়ক। নাম বলতে চাচ্ছি না। মহরত হলে জানতে পারবেন। আর দুটি সিনেমার জন্য কথা চলছে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : বড় পর্দায় কাজকে কেমন উপভোগ করেন? ফখরুল বাশার মাসুম : আমার কাছে বড় পর্দার কাজটা বেশ ভালো লাগে। কারণ হচ্ছে টেলিভিশন নাটকে যতবার শট কাটা হয় চলচ্চিত্রে ওই ভাবে কাটা হয় না। নিজেকে তৈরির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। টেলিভিশন নাটকে এই সুযোগটা নেই। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : মিডিয়ার ক্যারিয়ারে আপনার একটি দীর্ঘ বিরতি গেছে। হঠাৎ কেনো বিরতিতে গেলেন? ওই সময়টাতে কি অভিনয়কে মিস করতেন? ফখরুল বাশার মাসুম : জীবিকার প্রয়োজনে পাড়ি দিয়েছিলাম সৌদি আরবে। তখন দেশ ও অভিনয়কে অনেক মিস করতাম। এগুলো আমার স্ত্রী খুব ভালো বলতে পারবে। কারণ ওকে প্রতিদিন একই কথা বলতাম। বলতাম ‘আমার ভালো লাগছে না’। আমি থাকবো না এই দেশে। চলে যাবো। আমরা অফিস শেষ করে লং ড্রাইভে চলে যেতাম। রাস্তায় গাড়িতে বসে গান না শুনে ডায়লগ দিতাম। আমরা যে নাটকগুলো করেছি সেগুলোর সংলাপ বলতে বলতে সময়টা চলে যেত। সে শকুন্তলাতে অভিনয় করেছে। আমিও করেছি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনার স্ত্রী তিনিও অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত। দুজনে তো এক সঙ্গে অভিনয়ও করেছেন। আপনাদের বোঝাপড়াটা কেমন? নিজেদের কাজ নিয়ে বাসায় আলোচনা-সমালোচনাটা কেমন হয়? ফখরুল বাশার মাসুম : এটার সময়টা আসলে খুব কম পাওয়া যায়। আমার ছোট মেয়েটাও অভিনয় করে। সে আবার একটি পত্রিকায় চাকরিও করে। তার পক্ষে সময় দেওয়াটা খুব কঠিন হয়ে যায়। সে যখন বাসয় ফেরে তখন তার কথা বলার মুড থাকে না। আবার খুব সকালে চলে যায়। বাসায় সেভাবে আড্ডা দিয়ে খুব কমই কথা হয় কাজ নিয়ে। তবে আমরা আলোচনা-সমালোচনা বেশি করি সুবর্ণা মুস্তাফার বাসায়। ওখানে প্রায়ই আমাদের একটা আড্ডা হয়। সেখানে আমরা চার পাঁচজন মিলে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলি। আর আমাদের দুজনের কথা যদি বলি। এক সঙ্গে কাজ করতে গেলে বোঝাপড়াটা ভালোই হয়। কারণ কো-আর্টিস্টের সঙ্গে একটা ক্যমিস্ট্রি ডেভলপ তো করতেই হয়। ওর সঙ্গে সেটা আর দরকার হয় না। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : আপনাদের দুজনের প্রেমের গল্পটা শুনতে চাই। ফখরুল বাশার মাসুম : ১৯৭৭ সালের দিকের কথা। সে ঢাকা থিয়েটারে কাজ শুরু করে। ‘শকুন্তলা’র রিহার্সেল চলছে। সে এবং হুমায়ুন ফরিদী এক সঙ্গে শুরু করে। বছর দুই যাওয়ার পরে আমার মনে হলো মেয়েটা আমার লাইফ পার্টনার হলে ভালোই হয়। কিন্তু বলতে পারছিলাম না। কারণ ঢাকা থিয়েটারে তখন মেয়ের সংখ্যা কম। আমি যদি তাকে প্রস্তাব দি আর সে যদি রাজি না হয় তাহলে হয়তো দল থেকে চলে যাবে। আর রিহারর্সেলে আসবে না। দলে না আসা মানেই বাচ্চু ভাই আমাকে ধরবে। কিছুতেই বলার সাহস পাচ্ছি না। এ সময় সুবর্ণার স্মরণাপন্ন হলাম। তখন সে আমার সব চেয়ে ভালো বন্ধু। এখনও আমার খুবই কাছের ফ্রেন্ড সুবর্ণা। সেও চিন্তায় পড়ে গেল। মিলি যদি রাজি না হয়, আর দলে না আসে তবে বাচ্চু ভাই আমাদের শেষ করে দেবে। একদিন আমি, জহির উদ্দিন ও সুবর্ণা রিহার্সেল শেষ করে আজিমপুরে চলে যাই দীপা খন্দকার বাসায়। দীপা খন্দকার হচ্ছে নৃত্য পরিচালক। ওর বাসায় মিটিং করি। আবার বাসায় ফিরি। এভাবে চলে কয়দিন। কিন্তু কোনভাবেই সমাধান পাচ্ছি না। সংক্ষেপেই বলি- একদিন রাতে দীপার বাসা থেকে ফিরছি। দীপা তখন কোরিয়া থেকে আসছে। কোরিয়া থেকে সে কিছু চকলেট নিয়ে আসে। আমি কিছু চকলেট দিয়ে বললো যে- যা এগুলো মিলিকে দিয়ে আয়। প্রচণ্ড বৃষ্টি। প্রায় সাড়ে নয়টা দশটা বাজে। আমি আর সুবর্ণা আজিমপুর থেকে রিক্সায় ফিরছি। মিলিরা থাকতো তেঁজগাও এর বেগুন বাড়ি। ওখানে রিক্সার মধ্যে সুবর্ণা বসে রইলো। আমাকে বললো -তুই দিয়ে আয়। আর বলবি যে তুই ওকে পছন্দ করিস। আমি কাঁচা আম আর কোরিয়ার চকলেট নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে গিয়ে দরজায় বেল দিলাম। মিলিই দরজা খুললো। আমি পুরা ভেজা। চকলেট দিয়ে আমি চলে আসি। হা হা হা। সুবর্ণা আমাকে রিক্সা থেকে বলে- কি রে বলেছিস? আমি বললাম- না। তখন সে বলে- যা, আবার যা। আমি আবার গেলাম। পরের দিন আমাদে শো ছিল। আমি গিয়ে ওসব না বলে বলেছি- তুমি কি কাল শোতে আসবে? মিলি তখন বললো- ভাইয়া গেলে যাবো। তখন আমি বললাম- না ভাইয়া না, আমি এসে নিয়ে যাব। তখন সে বললো- আচ্ছা আমি যাবো। কিছু না বলেই ফিরে আসলাম। তখন সুবর্ণা আবার জিজ্ঞাস করলো- কি রে বলেছিস? বললাম যে- না। তারপরের দিন শো এর পরে সুবর্ণা নিজেই তাকে বললো- ও তো তোকে পছন্দ করে। এভাবেই শুরু। এরপর তিন চারদিন পরে আস্তে আস্তে রাজি হয়ে গেলো। আসলে আমাদের সম্পর্কটার পেছনে সুবর্ণার অবদানই বেশি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন : অনেক কথা শুনলাম। অনেক ভালো লেগেছে। আপনাদের জন্য শুভ কামনা। ফখরুল বাশার মাসুম : আমারও ভালো লেগেছে একুশে টিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলে। ধন্যবাদ। এসএ/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি