ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ৮:১৪:৪৬

‘নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করতে চাই’

‘নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করতে চাই’

রাসেদ মামুন অপু। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা। নিজের অভিনয় কৌশল ও দক্ষতা দিয়ে একটি আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত অসংখ্য ভালো নাটকে অভিনয় করে জয় করেছেন দর্শক হৃদয়। শুধু নাটকে নয়, চলচ্চিত্রেও নিজের কারিশমা দেখিয়েছেন এই তারকা। কিভাবে চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করে নিজেকে প্রকাশ করেতে হবে তা তিনি ভালো করেই রপ্ত করেছেন। বিশেষ করে নাটকে নিজস্ব একটি স্টাইল ও ভাষার ব্যবহার করে ভক্তদের খুব কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন ‘সিটিবাস’ খ্যাত এই তারকা। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বর্তমান ব্যস্ততার কথা জানালেন অপু। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : কেমন আছেন? উত্তর : অনেক ভালো। প্রশ্ন : সব সময়ই ঈদকে ঘিরে একটা ব্যস্ততা থাকে ছোটপর্দার তারকাদের। আপনি ছোটপর্দার একজন জনপ্রিয় তারকা। গত ঈদকে ঘিরে কেমন ব্যস্ততা গেছে? উত্তর : নাটক নিয়েই ব্যস্ততা গেছে। বেশ কিছু নাটক প্রচার হয়েছে। দশটার মত হবে। কিছু নাটকে ব্যতিক্রমি চরিত্র ছিল। আবার কিছু সাধারণ। এই তো। প্রশ্ন : শুরুর দিকে আপনি নাটকে একটি অঞ্চলের ভাষা ব্যবহার করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। তারপর আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। চরিত্রকে কিভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করেন? উত্তর : ওটা তো আসলে উপাসনার জায়গা! সে ক্ষেত্রে আমাকে হেল্প করেছে দীর্ঘ দিনের থিয়েটার চর্চা। যখন একটা নাটকের স্ক্রিপ্ট হাতে পাই, আর সেখানে আমাকে যে চরিত্রটি দেওয়া হয় সেটাকে নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করি। বয়স, অবস্থান, স্থান, কাল, অবজারভেশন সব কিছু মিলিয়ে কাজটি করতে হয়। আসলে চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রশ্ন : আমাদের চ্যানেলগুলোতে নাটক প্রচারের ক্ষেত্রে একটি বিষয় দেখা যায়, তা হচ্ছে দর্শক সময় মত আনন্দের সঙ্গে নাটকটি উপভোগ করতে পারছেন না। বিজ্ঞাপন বিড়ম্বনা, একই সময়ে অধিকাংশ চ্যানেলে নাটক প্রচার সহ আরও অনেক কিছু। দর্শক এখন তাই ইউটিউব মুখি হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন? উত্তর : আমি বলবো বাধ্য করা হচ্ছে। সঠিক কোন ডিজাইন নেই। আমি নিজের নাটক দেখতে বসলেও আমার সঙ্গে যারা থাকে তারাও বিব্রত হয়। নিজের কাছে নিজেকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। মনে হচ্ছে যে- অনেকটা জোর করে তাদের বসিয়ে রেখেছি আমার নাটকটি দেখানোর জন্য। নাটক তো টিভির জন্যই নির্মাণ করা হয়। মানুষ তো নাটক টিভি চ্যানেলেই দেখবে। কিন্তু সঠিক কোন প্রক্রিয়া নেই। প্রক্রিয়াটি যদি ভালো হতো তাহলে দর্শক কখনও ইউটিউব মুখি হতো না। দর্শক কিন্তু টাটকা জিনিসই পছন্দ করে। প্রশ্ন : আমাদের নির্মাতারা অনেক প্রতিকুলতা সত্যেও ভালো ভালো নাটক দর্শকদের উপহার দিচ্ছেন। কিন্তু তারা যে পরিশ্রম করছেন তার বিনিময়ে তেমন কিছুই পাচ্ছেন না। এ বিষয়টা সম্পর্কে আপনি কি বলবেন? উত্তর : যারা আসলে দর্শক, যারা নাটক দেখেন, তারা হয়তো অনেকে বুঝতেও পারবেন না, অনুভবও করতে পারবেন না, কতটা কষ্ট ও ত্যাগের পর একজন নির্মাতা একটি নাটক নির্মাণ করেন। মাত্র দুই দিনে এতো অল্প বাজেটে নির্মাতারা যেসব নাটক নির্মাণ করছেন আমি তো বলবো তাদের সেলুট করা উচিত। একটি নাটকের পেছনে নির্মাতা সহ অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকৌশলি যারা থাকেন সবাই কি পরিমাণ পরিশ্রম করেন তা যদি সবাই জানতো তবে বুঝতে পারতো কতটা কষ্ট করে একটা নাটক হয়। আমাদেরকে বাজেট দেওয়া হচ্ছে না, আমাদেরকে অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে না, বলা হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে শত্রুপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ করতে। অথচ শত্রুপক্ষের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র। তারপরও আমাদের নির্মাতারা, আমাদের শিল্পীরা অসম্ভব ভালো কিছু করছে। এটি পারছে কারণ এর পেছনে ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। প্রশ্ন : আপনাকে আমরা চলচ্চিত্রেও দেখেছি। চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে আপনার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানাতে চাই। উত্তর : আমার অভিনিত ‘কমন জেন্ডার’ সিনেমাটি বেশ সাড়া জাগানো একটি চলচ্চিত্র। মূলত হিজড়া সম্প্রদায়দের নিয়ে নির্মিত হয় সিনেমাটি। তাদের জীবনযাত্রা, দুঃখ, কষ্ট, মৌলিক অধিকারগুলোর ক্ষেত্রে তাদের যে বঞ্চনা এসবই উঠে এসেছে এই সিনেমায়। এটি ছাড়া চলচ্চিত্রে আমার খুব বেশি কাজ করা হয়নি। সর্ব শেষে একটি সিনেমায় অতিথি চরিত্রে কাজ করেছি। প্রশ্ন : আগামীতে চলচ্চিত্রে কোন ধরণের চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছে আছে? উত্তর : সিনেমায় আমার পছন্দের চরিত্র নেগেটিভ। আগামীতে নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছে আছে। অনেক ভালো লাগলো। ভালো থাকবে। ধন্যবাদ। এসএ/
একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নই : চঞ্চল

অভিনেতা ও মডেল চঞ্চল চৌধুরী। চলচ্চিত্র এবং নাটকে সমানতালে অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। দুই মাধ্যমে সমান জনপ্রিয় তিনি। সম্প্রতি আয়নাবজি সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে গ্রহণ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বর্তমানে বেশ কিছু নাটক বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে চঞ্চল অভিনিত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘দেবী’ সিনেমাটি। নতুন এ চলচ্চিত্র নিয়ে দারুণ আশাবাদী চঞ্চল। ‘দেবী’ নিয়ে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘উপন্যাসটির সঙ্গে পাঠকদের আগে থেকেই জানাশোনা আছে। মিসির আলী চরিত্রটিও সবার কাছে বেশ জনপ্রিয়। মোটামুটি সিনেমার গল্প সম্পর্কে সবারই পূর্ব ধারণা থাকবে। তবে শিল্প মানেই প্রতিনিয়ত নতুনভাবে আবিস্কার করা। তাই সিনেমার গল্পে দর্শকরা নতুনত্ব খুঁজে পাবেন। সিনেমার নির্মাতা অনম বিশ্বাস খুবই ভালো কাজ করেছেন। চিত্রগ্রাহক খসরু গতানুগতিকের বাইরে গিয়ে সিনেমাটিতে অপূর্ব দৃশ্যায়ন করেছেন। জয়া আহসানও পরীক্ষিত অভিনেত্রী। আর আমি যে কোনো চরিত্র করার সময় একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নই। মিসির আলী চরিত্রটিতে আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেবী’ অনুদানের সিনেমা হলেও আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এমন আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র সত্যিই আমাদের দেশে খুব একটা দেখতে পাই না। সবকিছু মিলিয়ে ‘দেবী’তে অবশ্যই নতুন কিছু রয়েছে, যা দর্শকদের ভালো লাগবে। তবে উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গেলে শতভাগ মেলানো কষ্টসাধ্য। মূল গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন আইডিয়ার সন্নিবেশনে ভালো কিছু সবাই দেখতে পাবেন বলেই বিশ্বাস। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সিনেমাটি মুক্তি পাবে।’ আরটিভিতে আজ প্রচারিত হবে তার অভিনীত নাটক ‘মজনু একজন পাগল নহে’। নাটকটি নিয়ে তিনি বলেন, নাটকটি প্রচারের পর থেকে অসংখ্য দর্শকের সাড়া পেয়েছি। এতে বোঝা যায়, নাটকটি দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। যখন নাটকের কাজ শুরু করেছিলাম, তখনও মনে হয়েছিল, নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে। বৃন্দাবন দাসের ভিন্নধর্মী কাহিনীর জন্যই এমন ধারণা হয়েছিল। তিনি নাটকে হাস্যরসের মাধ্যমে মানুষের গহিনে লুকিয়ে থাকা চেহারা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়টি অনেকের মনে দাগ কেটেছে। এসএ/

‘১৯ বার আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে [বিআইসিসি] এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ প্রদান করেছেন। রোববার বিকেলে ২৪ ক্যাটাগরিতে শিল্পী ও কলাকুশলীর মধ্যে এ পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে চলচ্চিত্র অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ও অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতাকে। পুরস্কার প্রাপ্তির পর একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘একুশের রাত’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন চিত্রনায়িক চলচ্চিত্র অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। অনুষ্ঠান উপস্থাপক ছিলেন- অঞ্জন রায়। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন অভিনেতা ফারুক। শুরুতে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘প্রথমেই বলতে হয় ববিতার কথা। তিনি তো অসাধারণ অভিনেত্রী। তার অভিনয়ের ধারেকাছে অনেকেই যেতে পারবে না। উনি আজ যে সম্মান পেয়েছেন সে জন্য আমি তাকে অন্তর থেকে শুভেচ্ছা জানাই। আমি নিজেও মনে করি যে আমি ভাগ্যবান। কারণ তার সঙ্গে আমি বহু সিনেমা করেছি।’ পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভুতি নিয়ে ফারুক বলেন, ‘এটা অনেক বড় সম্মান। আমরা সারাজীবন যে মেধা, শ্রম, কষ্ট করেছি তার জন্যই এই সম্মাননা। আমার মনে হয়, শিল্পীদের জন্য আরও কিছু করতে পারে সরকার। যেমন আমাদের ভিআইপি স্ট্যাটাস নেই, এটা শিল্পীদের থাকা জরুরি। আমি চলচ্চিত্র পরিবারকে ভালো রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। চলচ্চিত্রে অসহায় শিল্পীদের দিকেও সরকারের দৃষ্টি দেওয়া দরকার।’ এ সময় আক্ষেপের সঙ্গে তিনি বলেন, ’১৯ বার আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারণ একটাই বঙ্গবন্ধুর কথা বলা, এক কথা আপস না করা। বিষয়টি এমন যে- তুমি আসো আমাদের দলে, তা না হলে তোমার হবে না। শিল্প-সংস্কৃতিতে আমার মনে হয় এটা করা ঠিক না।’ বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, ‘চলচ্চিত্র তার নিজের গতি, নিজের জায়গা থেকে কথা বলে। চলচ্চিত্র নিয়ে যদি এখন কিছু বলতে যাই তবে বলবো- সিনেমা হলগুলো ঠিক করতে হবে। সিনেমা হলের মালিকেরা কিন্তু আমাদের এই পরিবারেরই একটি অংশ। এই বিষয়টিকে আমার ভাবতে হবে। আমার, বলছি এক কারণে যে- অনেকেই এটিকে আমার বলেন না। প্রথম কথা প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। সিনেমা কিন্তু থেকে নেই। নিয়মিতই তৈরি হচ্ছে।’ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কি ইচ্ছে করে না যে কাজ করি। আমারও ইচ্ছে করে। যখন আমি বলবো যে- কাজ করব। তখন আসবে- চরিত্রটা কি? তখনই তারা বিপদে পড়ে যাবে। আমাকে যদি বলা হয় আপনি নায়িকার বাবার চরিত্র করেন আমি তো করব না। আমার জায়গা এটা না। আমার কাজ হচ্ছে সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমার দর্শকরা কিন্তু আমাকে ভালোবাসে। ওই ভালোবাসাটাই আমাকে আনতে হবে। তাহলেই চলচ্চিত্রের জন্য উপকার হবে।’ পুরো অনুষ্ঠানটি দেখতে ভিডিওটি ক্লিক করুন : এসএ/

স্ট্যান্ডআপ কমেডি বিনোদনের বড় মাধ্যম হতে পারে: আবু হেনা রনি

স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান আবু হেনা রনি। কলকাতার দর্শকপ্রিয় কমেডি শো ‘মীরাক্কেল’-এর সুবাদে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন টেলিভিশন শো, নাটক, সিনেমার কাজ নিয়ে। বিজ্ঞাপনচিত্রেও দেখা গেছে এই কমেডিয়ানকে। একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘একুশের সকাল’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে কৌতুক অভিনেতা রনি জানালেন অনেক অজানা কথা। তাকে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- সোহাগ আশরাফ আবু হেনা রনিকে এদেশের দর্শক একজন কমেডিয়ান হিসেবে চিনলেও বর্তমানে তিনি মিডিয়ার বেশ কয়েকটি মাধ্যমে কাজ করছেন। বর্তমানে দুটি টিভি উপস্থাপনা করছেন রনি। এছাড়া দেশে এবং দেশের বাইরে স্ট্যান্ডআপ কমেডি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ততা রয়েছে তার। একই সঙ্গে সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই তারকা। যা এখন মুক্তির অপেক্ষায়। এটি রনির তৃতীয় চলচ্চিত্র। নতুন এই সিনেমাটির নাম ‘তুই আমার রানী’। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের সজল আহম্মেদ ও কলকাতার পীযূষ সাহা। সিনেমার কাহিনী লিখেছেন পীযূষ সাহা নিজেই। বাংলাদেশ থেকে অভিনেত্রী মিষ্টি জান্নাত এবং তার বিপরীতে এ সিনেমাতে অভিনয় করেছেন টালিউড অভিনেতা সূর্য। মিষ্টি-সূর্য ছাড়াও ‘তুই আমার রানী’ সিনেমাতে রয়েছেন আবু হেনা রনি, সজল, রেবেকা রউফ, রাজেশ শর্মা, সুপ্রিয় দত্ত, দোলন, কাঞ্চন। কলকাতার জি-বাংলা চ্যানেলের মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার সিক্স এ পারফর্ম করে ভারত ও বাংলাদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন রনি। অগনিত ভক্ত বন্ধু ও শুভাকাঙ্খীদের ভালোবাসায় সীক্ত হয়েছেন আবু হেনা রনি। এরপর দেশে ফিরে সেই দর্শক প্রিয়তা কতটা কাজে লেগেছে এমন প্রশ্নের জবাবে রনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে ওখানেই আমার সুযোগ ছিল। ওরা বলেছিল যে- রনি, তুমি আমাদের টিমে থেকে যাও। কারণ ওখানে যারা টিমের মধ্যে থাকে অর্থাৎ গ্রুমার হিসেবে কাজ করে আমারও সেই গ্রুমার হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব ছিল। একই সঙ্গে ওই ডিরেক্টরের অন্যান্য অনুষ্ঠানও থাকে। সেখানে কাজ করার সুযোগটা ছিল। কিন্তু আমার বাবা-মা, পরিবারের সবাই এদেশে। দেখা গেছে যে- আমি ওখানে মনের দিক থেকে সেইভাবে কাজ করতে পারব না। কিন্তু আমরা ওখানে প্রমাণ করে এসেছি যে- এই কাজটি আমরা এদেশেও করতে পারব। আমাদের দেশে অনেক ডিরেক্টর, অনেক চ্যানেল, কিন্তু এদেশে এসে সেই সুযোগটি আসেনি। কেউ ই ভাবেনি যে- ওরা এই কাজটি করতে পারে। ছোট ছোট আয়োজ হয়েছে কিন্তু কেউ এখনও ভাবেনি যে- স্ট্যান্ডআপ কমেডি বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম হতে পারে। ফলে আমরা এখনও সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারিনি। তবে বসে নেই রনি। চেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছেন নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই কিছু করার। এ বিষয়ে রনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই একটা ইচ্ছা আছে। আমি হয়তো মিডিয়ায় এখনও ভালো কিছু করতে পারিনি। কিন্তু সারা বাংলাদেশের প্রায় ৪০টি জেলায় স্ট্যান্ডআপ কমেডি ক্লাব করে ফেলেছি। প্রত্যেকটি জেলার নামে নামকরণ করা হয়েছে। যেমন ধরুন- নাটক কমেডি ক্লাব, রাজশাহী কমেডি ক্লাব এরকম। প্রত্যেকটি এলাকায় বড় মাঠে বা শিল্পকলায় ক্লাবের শিল্পীরা শো করে যাচ্ছে।’ রনির বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ৫নং চামারী ইউনিয়নের বিলদহর গ্রামে। তিনি আঃ লতিফ মাষ্টার ও বিনা বেগমের ছেলে। মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার এর ৪০টি পর্বে অংশ নিয়ে ২৫টিতে একক ও যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করে অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন রনি। প্রত্যেকটি পর্বে তার পারফর্ম মুগ্ধ করেছে বিচারকদের। শুধু অভিনয়, উপস্থাপনা বা কমেডি শো-ই নয়; রনি নিয়মিত লেখা-লেখিও করছেন। এ পর্যন্ত তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ পেয়েছে। লেখালেখি প্রসঙ্গে রনি বলেন, ‘যখন প্রথম বইটা প্রকাশ হয় তখন সবার আগে বাবাকে খবরটা জানাই। প্রথম কপিটা হাতে নিয়ে দৌঁড়ে বাবার কাছে গেলাম। গিয়ে বাবাকে বললাম- আব্বা আব্বা এই বই মেলায় আমার বই বের হচ্ছে। আব্বা বললো- খুব ভালো হয়েছে, এবার তুই বের হ। বাবার কথা হচ্ছে- আমি নিজে বই পড়তাম না, সেই আমি বই লিখছি। হা হা হা।’ বই লেখার অনুপ্রেরণা কি করে হয়েছে- জানতে চাইলে কৌতুকের ছলে মজা করে হেঁসে রনি বলেন- ‘আমার হাতের লেখা ভালো ছিল। হা হা হা।’ তিনি বলেন, ‘আমার বইগুলো এক একটা একেক রকম ভাবে লেখা। একটা বাচ্চাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বই। মজার মজার প্রশ্ন-উত্তর। আর একটি হচ্ছে- কিভাবে স্ট্যান্ডআপ কমেডি করতে হয়, তা নিয়ে লেখা। আর একটা মীরাক্কেলের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা। এসএ/

আজ প্রচার হবে ইত্যাদির সংকলিত পর্ব   

আজ বিটিভিতে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির সংকলিত পর্ব প্রচার হবে। ইতিপূর্বে প্রচারিত ইত্যাদির কয়েকটি পর্ব থেকে সংকলন করে সম্পাদনার টেবিলে তৈরি করা হয়েছে এ পর্বটি।   মূল পর্বটি প্রচার হয়েছিল ২০০৬ সালের জুলাই মাসে। যেহেতু এই সংকলিত পর্বটি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার সময় প্রচার হবে তাই অনুষ্ঠানের অধিকাংশ বিষয়ই বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে রেখে সাজানো হয়েছে। এ পর্বে রয়েছে কয়েকটি হৃদয়ছোঁয়া প্রতিবেদন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথম কুমির চাষ প্রকল্প ও ঢাকায় বসবাসকারী একজন চীনা নাগরিকের ওপর প্রতিবেদন। বিদেশি প্রতিবেদনে ফুল বেচাকেনা নিয়ে একটি চমৎকার প্রতিবেদন দেখা যাবে। এ ছাড়া নিয়মিত সেগমেন্টগুলো তো থাকছেই। অনুষ্ঠানটি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। সংকলিত এ পর্বটি আজ রাত ১০টার ইংরেজি সংবাদের পর বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে একযোগে প্রচার হবে। এসি       

ডায়লগ ডেলিভারির সময় হাসি চেপে রাখতে হয়েছিল : বুবলি

বাংলা সিনেমার বর্তমান সময়ের হার্টথ্রুব নায়িকা শবনম বুবলি। একের পর এক সিনেমা করে হিট। এবারের ঈদে বুবলি ও সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত দু’টি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ছবি দুটি হচ্ছে ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া ও নোয়াখাইল্যা মাইয়্যা’ এবং ‘সুপারহিরো’। ছবি দুটির শুটিং শুরু হওয়ার পর থেকেই আলোচিত হচ্ছিল। ছবি দুটি নিয়ে প্রত্যাশা, শুটিংয়ের মজার অভিজ্ঞতা নিয়ে বুবলি কথা বলেছেন ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাওন সোলায়মান। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের শেষ পর্ব আজ পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো- ইটিভি অনলাইনঃ ঈদে আপনার অভিনীত সিনেমা আসছে প্রেক্ষাগৃহে। এই বিষয়েই শুরুতে জানতে চাইব আপনার কাছে। বুবলিঃ ঈদে যে দু’টি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে তা হলো ‘সুপারহিরো’ এবং ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’। দু’টি ছবি আসলে একদমই দুই ধরনের। যেটা আমরা সব শিল্পীরাই বলে থাকি যে ‘একটু অন্যরকম’। আমার মনে হয় যে আসলে দর্শকরা যখন হলে গিয়ে দেখবেন ছবি দুটো তখন তারা এই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। কারণ সুপারহিরো ছবিটি হচ্ছে একদমই অ্যাকশন ধরনের ছবি। রোমান্স,কমেডি সব বাণিজ্যিক সিনেমাতেই থাকে। কিন্তু কিছু ছবি আসলে কিছু কিছু বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই করা হয়। সেদিক থেকে বললে সুপারহিরো অ্যাকশন থ্রিলার ছবি। দেশপ্রেম আছে এটিতে। দেশের প্রতি ভালবাসার ব্যাপারগুলো দেখানো হয়েছে। সুপারহিরো সিনেমার গল্পটাই মূলত এর প্রাণ। আর ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’ সিনেমাটি মূলত কমেডি বেইজড। সুপারহিরোর থেকে একেবারেই উলটো। দুটো অঞ্চলের ব্যাপার তো বোঝাই যাচ্ছে। তবে সিনেমাটি আধুনিক সময়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। আমরা শুধু যে গ্রামের কথা বলছি, আঞ্চলিক; তা না। মানে মডার্ণ একটা ব্যাপার দেখানো হয়েছে যেখানে দুটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে হাসি-দ্বন্দ্ব দেখানো হয়েছে। আর কিছু বলব না। বাকিটা দর্শকদের জন্য থাকলো। তারা হলে গিয়ে দেখবেন। ইটিভি অনলাইনঃ চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া নামটাই বেশ মজার। তো এই সিনেমার শ্যুটিং করতে গিয়ে নিশ্চয়ই অনেক মজার মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমাদের পাঠকদের জন্য তার কিছুটা শেয়ার করতেন আমাদের সঙ্গে... বুবলিঃ আসলে মজার ঘটনা সব সেটেই টুকটাক হয়। হঠাৎ করে বলতে গেলে আর কিছু মনে পরে না। তবে এই সিনেমার শ্যুটিং এর পুরো কাজটাই ছিল মজার। আমাদেরকে সেটে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে হয়েছে। ডায়লগ ডেলিভারির সময় আমাদের বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। কষ্ট এই জন্য করতে হয়েছে যে, হাসি চেপে রাখতে হচ্ছিল। সিনেমার ডায়লগগুলো বেশ মজার। তবুও ধরেন আমি চরিত্রের মাঝে আছি। বেশ সিরিয়াস। কিন্তু আশেপাশে ইউনিট সদস্যদের দিকে তো চোখ চলে যায়। সবার মুখে একটা হাসি হাসি ভাব। তখন আসলে নিজের হাসিটা দমিয়ে রাখা বেশ কষ্টকর। তারপর যখনই শ্যুটিং – কাট হতো অমনি আমরা সবাই মিলে হাসি। আমি বলব, এই সিনেমার অভিনয়ের পুরো অংশটাই আসলে বেশ মজার ছিল। ইটিভি অনলাইনঃ সিনেমা দু’টিতে অভিনয়ের জন্য আপনাকে আগে থেকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। সেগুলো কী ধরনের ছিল? বুবলিঃ প্রতিটি সিনেমার প্রতিটি চরিত্রই নতুন। আর নতুন একটি কাজ করতে গেলে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। তবে এই সিনেমা দু’টির জন্য আসলেই বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’র জন্য আমাকে নোয়াখালীর ভাষা শিখতে হয়েছে। শুধু শিখতে না সেটাকে রপ্তও করতে হয়েছে। আর সুপারহিরো’র বিষয়টা পুরো উলটো। এই সিনেমার জন্য আমাকে ফাইটিং শিখতে হয়েছে। রীতিমত পেশাদার ট্রেইনার দিয়ে ফাইটিং শিখতে হয়েছে। এরজন্য বেশ কষ্টও হয়েছে। দেখা গেছে, আজ ফাইটিং শট ছিল। প্রশিক্ষণ নিয়ে শ্যুটিং করে যখন কাজ শেষ করলাম তখন শরীরে ব্যথা করছে। কিন্তু এরপরেও পরের দিন শ্যুটিং করে যেতে হয়েছে। এ ধরনের ভারি কাজ করার পর যে বিশ্রাম দরকার তাও পায়নি। ইটিভি অনলাইনঃ ঈদে আপনার সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। হলে যাবেন? বুবলিঃ জ্বী, হলে যাব। গত কয়েক বছর ধরে যেটা হচ্ছে ঈদে যেহেতু সিনেমা মুক্তি পাওয়ার একটা ব্যাপার থাকে সেহেতু বেশ উত্তেজনা কাজ করে। পাশাপাশি আবার একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার যে দর্শকেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে সেটি নিয়ে। অনেকটা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার মতো। সারা সময় যে শ্যুটিং এ কষ্টটা আমরা করি তা দর্শকদের ভালো লাগছে এটা দেখতে পারলে খুব ভালো লাগবে। নিজের কাজকে সার্থক মনে হবে। আর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য হলে যাওয়ার থেকে ভালো কোন উপায় নেই। ইটিভি অনলাইনঃ আমরা সাক্ষাৎকারের একেবারেই শেষ পর্যায়ে। দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপনি কী কিছু বলবেন? ইটিভি অনলাইনঃ দর্শকদেরকে জানাচ্ছি ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা। ইটিভি অনলাইনের মাধ্যমে এটুকুই বলব যে, আসুন আমরা সবাই বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে থাকি। হলে গিয়ে বাংলা চলচিত্র দেখি। আর আপনাদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। আপনাদের যেন আরও ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে পারি তার জন্য দোয়া করবেন।  আরও পড়ুন অন্য নায়কের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি : বুবলি ঈদ সালামির জন্য দুলাভাইদের অপেক্ষায় থাকতাম : বুবলি / এআর /

ঈদ সালামির জন্য দুলাভাইদের অপেক্ষায় থাকতাম : বুবলি

সময়ের আলোচিত নায়িকা শবনম বুবলি। একের পর এক সিনেমা করে হিট। এত অল্প সময়ে এতগুলো দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দেওয়া দেশের আর কোনো নায়িকার পক্ষে সম্ভব হয়েছে কি-না ভেবে দেখতে হবে। সংবাদ পাঠিকা থেকে চলচ্চিত্রে আসা এ সুদর্শনীর গুণ শুধু অভিনয়ে-ই সীমাবদ্ধ নয়। তার রান্নারও প্রশংসা আছে। ঈদের তার বিশেষ রেসিপির জন্য মুখিয়ে থাকেন পরিবার ও স্বজনরা। এমনটিই জানালেন বুবলি। শুধু রান্না নয়, ঈদ কিভাবে কাটে, শৈশবের ঈদ, বিশেষ এই দিনটিতে সাজগোঁজ, প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কথা একুশে টিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন ‘বসগিরি’ সিনেমার এ নায়িকা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাওন সোলায়মান। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব আজ তুলে ধরা হলো-    ইটিভি অনলাইনঃ সারা বছর তো কাজেই ডুবে থাকেন। ঈদের সময়টা আপনি কীভাবে উপভোগ করেন? এই দিনের প্ল্যানে কী কী থাকে আপনার? বুবলিঃ ঈদের দিনের থেকে ঈদের আগের দিন নিয়ে আমার অনেক প্ল্যান থাকে। ওইদিনটায় ব্যস্ততা একটু বেশিই থাকে। ঈদের দিন আসলে তো মনে হয় চলেই গেল। ঈদের আগের দিন যেটা হয় আমরা বোনেরা মিলে মেহেদী দিই। ঈদের দিনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলতে থাকে। আর ঈদের দিনের কথা বললে এই দিন মূলত আমার বাসাতেই থাকা হয়। যত কাজই থাকুক না কেন আমি চাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করি। আরেকটা ব্যাপার যে, আগে যেটা হতো ঈদের জন্য নতুন জামা কিনতাম, সেগুলো লুকিয়ে রাখতাম। এ ব্যাপারগুলো এখন আর হয় না। এখন তো কাজের জন্যও আমাদের প্রায়ই শপিং করতে হয়। তাই লুকিয়ে রাখার সেই ব্যাপারগুলো নেই। তবুও ঈদের দিন তো একটা নতুন জামা পরতেই হয়। ঈদের দিন তাই চাই খুব লাইট কালারের (হালকা রঙের) কোন পোশাক পরতে যেটা আরামদায়ক হবে। আর দুপুরের পর থেকে বেশ গর্জিয়াস জামাকাপড় পরা হয়। এছাড়া এবারের ঈদে একুশে টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘স্টার কুইজে’ অংশ নেব। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন দেবাশীস বিশ্বাস আর প্রযোজন করবেন মাসুদুজ্জামান সোহাগ। ইটিভি অনলাইনঃ ঈদে রান্না ঘরে যান? বুবলিঃ রান্না করা আমার খুব পছন্দের একটি বিষয়। আমার মনে হয় একটি মেয়ের আসল সৌন্দর্য থাকে তার রান্নার হাতের মধ্যে। আমি যেহেতু ছোট তাই আম্মু রান্না করতে দেন না। তবে ঈদে অন্তত কিছু না কিছু আমার রান্না করা চাই-ই চাই। ইটিভি অনলাইনঃ এবারের ঈদে কী রান্না করবেন? বুবলিঃ আমার এবার পরিকল্পনা আছে গরুর কালাভুনা রান্না করার। এটার রেসিপি আমার বড় বোনের কাছ থেকে শিখেছি। গরুর মাংস আর ঝাঁল; দুটোই আমার বেশ পছন্দের। আমার রুমের বারান্দায় বোম্বাই মরিচের দুই-তিনটা গাছ আছে। আর ফিন্নি রান্না করব। বলতে পারেন ঝাল আর মিষ্টির ভালো একটা কম্বিনেশন থাকবে।  ইটিভি অনলাইনঃ এখনকার ঈদে কী করা হয়? সালামি দেন নাকি সালামি নেন? বুবলিঃ খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন করেছেন। সালামি নিয়ে অনেক ইতিহাস আছে। আমরা চার ভাই বোন। দুই বোন বড় আর আমার ছোট একটা ভাই আছে। তো ছোটবেলা থেকেই সালামি পেয়ে আসছি। বড়দের সালাম করতাম, সালামি পেতাম। যাই পাই তাই একটা মজা ছিল। তো আমার বড় দুই দুলাভাই একটা ট্রিকস করেছেন। সেটা হচ্ছে যে, ওনারা ঘোষণা দিয়েছেন যে, যারা আগে তাদের সালাম করবে তারা সালামি বেশি পাবে। তো আমি আর আমার ছোট ভাই যেটা করতাম সকাল থেকেই দুলাভাইদের জন্য দরজার কাছে অপেক্ষা করতাম। কারণ তারা আসলেই আগে সালাম করতে পারলেই সালামি বেশি পাওয়া যাবে। এখন যেটা হয় সালাম করি আবার সালামি-ও দিতে হয়। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ছোট বাচ্চারা আছে। ওদেরকে দিই। এটা অনেক মজার। ইটিভি অনলাইনঃ ব্যক্তি বুবলিকে নিয়ে কিছু আলাপ করি। আপনি এখনও পড়াশুনা করছেন। সামনের পরিকল্পনা কী? বুবলিঃ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ফার্স্ট সেমিস্টারের পড়ছি। এটা শেষ করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু আমাদের যেভাবে কাজ করতে হয় তাতে পড়ালেখাটা ঠিক নিয়মিত না। আপনি হয়তো জানেন যে, ঢাবিতে ক্লাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ উপস্থিতি না থাকলে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে দেয় না। সেকারণে যেটা করি যখনই ব্যস্ততা কম থাকে তখন টানা একটা সেমিস্টার শেষ করে ফেলি। ইটিভি অনলাইনঃ ঈদে আপনার একাধিক সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। হলে যাবেন? বুবলিঃ জ্বী, হলে যাব। গত কয়েক বছর ধরে যেটা হচ্ছে ঈদে যেহেতু সিনেমা মুক্তি পাওয়ার একটা ব্যাপার থাকে সেহেতু বেশ উত্তেজনা কাজ করে। পাশাপাশি আবার একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার যে দর্শকেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে সেটি নিয়ে। অনেকটা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার মতো। সারা সময় যে শ্যুটিং এ কষ্টটা আমরা করি তা দর্শকদের ভালো লাগছে এটা দেখতে পারলে খুব ভালো লাগবে। নিজের কাজকে সার্থক মনে হবে। আর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য হলে যাওয়ার থেকে ভালো কোন উপায় নেই। আরও খবর অন্য নায়কের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি : বুবলি আগামী পর্বে থাকছে ‘ডায়ালগ ডেলিভারির সময় হাসি চেপে রাখতে হয়েছিল’   / এআর /

উইথ নাজিম জয়ে চাঁদনী

জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী চাঁদনী অনেক দিন ধরেই রয়েছেন মিডিয়ার আড়ালে। এবার সেই আড়াল ভেঙ্গে হাজির হচ্ছেন একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন ‘উইথ নাজিম জয়’ অনুষ্ঠানে। সেখানে আলোচিত উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের মুখোমুখি হবেন। বলবেন নিজের না বলা অনেক কথা। মাসুদুজ্জামান সোহাগের প্রযোজনায় এবারের পর্বে চাঁদনীর সঙ্গে আরও থাকছেন সাংবাদিক এম এস রানা এবং কৌতুক অভিনেতা মীরাক্কেলের সজল।   ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানটির রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে। অতিথি আড্ডায় নিজের ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন চাঁদনী। অনুষ্ঠানের একটি পর্যায়ে চাঁদনী জানান, ‘সম্প্রতি আঁংটি বদল হওয়া সঙ্গীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদার এবং অভিনেত্রী তানিয়া হোসেনের সম্পর্ক কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি’। আড্ডা গল্পে চাঁদনী তার জীবনের আরও নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন।     একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন ‘উইথ নাজিম জয়’ অনুষ্ঠানটির এবারের পর্বটি প্রচার হবে ৩০ মে বুধবার রাত ১০টায়।  এসি   

নারীকে বুদ্ধি, মেধা, ইচ্ছা শক্তি দিয়ে জয় করতে হবে

একজন সৃষ্টিশীল নির্মাতা ও মানুষ তখনই সফল হন যখন পর্দায় তার নামটি না দেখে নির্মাণশৈলী, সংলাপ, রুচিশীল সেট, পাত্রপাত্রীর বাচনভঙ্গি দেখেই দর্শক বলে দিতে পারেন এটি সম্ভবত ওই নির্মাতা বা রচয়িতার নাটক। এসব ক্ষেত্রে বলা যায় তিনি পুরোপুরি সফল। মিডিয়ায় তার সুনাম রয়েছে যে, তিনি একজন স্মার্ট ও রুচিশীল নাট্যনির্মাতা। শুধু নাটক নির্মাণই নয়, নাটক রচনাতেও তিনি সমান পারদর্শী। বলছি দেশের খ্যাতিমান নারী নাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর কথা। নাট্য নির্মাতা হিসেবে মিডিয়াতে তার যাত্রা শুরু ২০০১ সালে। এরপর গত ১৭ বছরে ৩৬০টির মত নাটক নির্মাণ করেছেন এই নারী নাট্য সৈনিক। এর মধ্যে রয়েছে অসংখ্য মনকাড়া নাটক। যা মানুষকে কাঁদিয়েছে, বিনোদিত করেছে, ভবিয়েছে। যদিও তার অধিকাংশ নাটকের কাহিনী প্রেম ও ভালোবাসা কেন্দ্রীক। তবে এই রোমান্টিকতাকে তিনি দেখিয়েছেন নানা আঙ্গিকে, নানা মাত্রায়। একজন সফল নারী নাট্যসৈনিক কিভাবে এই সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন, কতটুকু পরিচ্ছন্ন ও গুছানো হলে একজন নারী সফলতার শীর্ষে অবস্থান করতে পারেন সেই সব কথা জানিয়েছেন তিনি। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার নাটক নির্মাণের গল্প, ভাবনা ও ১৭ বছরে নিজের সফলতার নানা বিষয়। চয়নিকা চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : শুরুতেই নারী দিবসের শুভেচ্ছা রইলো। দিদি কেমন আছেন? চয়নিকা চৌধুরী : ধন্যবাদ। অনেক ভালো আছি। দেশের ও বিশ্বের সকল নারীদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো। ইটিভি অনলাইন : দিদি আপনি একজন নারী নাট্যসৈনিক। একজন নারী হয়ে ৩৫০টির অধিক নাটক নির্মাণ করেছেন। কিভাবে সম্ভব হলো? এই অনুপ্রেরণা পেলেন কিভাবে? চয়নিকা চৌধুরী : অনুপ্রেরণাটা আসলে নিজের থেকেই আসে। নিজের ভেতরের তাগিদ থেকে আসে। নিজের ভালোলাগা থেকে আসে। আমি যদি মনে করি যে, আমি এই কাজটি করব, তাহলে আমি সেটা করি। যত্ন এবং ভালোবাসা যদি মনের মধ্যে থাকে, আন্তরিকতা যদি থাকে তাহলে কোন কিছুই আটকে থাকে না। হয়তো অনেক ঝড় আসে, বিপদ আসে কিন্তু ইচ্ছা শক্তিটা যদি প্রখর হয় তাহলে একটা মানুষ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধ্য। ইটিভি অনলাইন : ২০১৮ সালের মধ্যে কি ৪০০ নাটকের মাইল ফলকে পদার্পণ করতে পারবেন? চয়নিকা চৌধুরী : না না। এতো তো সহজ না। আসলে মার্কিনটা আমার কাছে বড় কিছু না। এটা আসলে হয়ে এসেছে। আমি অনেক ডিসিপ্লিন। গুছিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। তবে আমার মার্ক থাকে যে কবে কোথায় কোন কাজটি করলাম। এটা থাকা ভালো। ৪০০ আসলে অনেক বড় ব্যাপার। এখন আমার ৩৬০টি নাটক হলো। আরও ৪০টি নাটক মনে হচ্ছে না এ বছর করতে পারবো। ইটিভি অনলাইন : আমরা আপনার নাটকে প্রেম, ভালোবাসা, রোমান্টিকতাই বেশি দেখি। আপনার নির্মাণের মধ্যে ঘুরে ফিরে কেন এগুলোই বেশি আসে? চয়নিকা চৌধুরী : আসলে দুনিয়াতে ভালোবাসা ছাড়া কোন কিছুই হয় না। ভালোবাসাটা আসলে অনেক বেশি প্রয়োজন। তবে আমি যে শুধু রোমান্টিক নাটক বানিয়েছি তা কিন্তু নয়, এই নারী দিবসেও আমার দুটি নাটক যাচ্ছে। আমি বিজয় দিবস, ২৬শে মার্চ, বাবা দিবস, মা দিবসেও নাটক করেছি। হয়তো রোমান্টিক নাটকটা আমার ক্ষেত্রে একটু বেশি ভালো হয়। একই সঙ্গে দর্শকও হয়তো আমাকে রোমান্টিক নাটকের নির্মাতা হিসেবে বেশি পছন্দ করে। আর ভালোবাসাটা আমার কাছে সব থেকে বড়। এটা ছাড়া আসলে কোন কিছুই সম্ভব না। ইটিভি অনলাইন : অনেকেই নাটক নির্মাণ করছেন। বিশেষ করে আমাদের দেশে অনেক পুরুষ নির্মাতা রয়েছেন। কিন্তু দেখা গেছে একজন নারী হয়েও আপনার কাজের মান অনেক পুরুষ নির্মাতার চেয়েও ভালো হচ্ছে। দর্শকই এটি মূল্যায়ন করছেন? আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন? চয়নিকা চৌধুরী : ওই যে বললাম, ইচ্ছা। মনের ইচ্ছা, যত্ন, ভালোবাসা এগুলো আসলে অনেক প্রয়োজন। হয়তো আমি মেয়ে তাই আমার মধ্যে গোছানো জিনিসটা বেশি থাকে। অথবা ম্যাচিং, কেয়ারিং এবং অ্যাকটিং সবই গুরুত্ব পায়। হয়তো পুরুষ নির্মাতারা ভাবেন যে কখন কাজটি শেষ করবেন। সে তার নির্মাণটাই শুধু দেখছেন, শিল্পীর অভিনয়টাই শুধু দেখছে। অন্যকিছু হয়তো তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে দর্শক এখন অনেক বেশি বুদ্ধিমান। তাদের সব কিছুই দরকার। এটাই হচ্ছে কারণ। ইটিভি অনলাইন : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন নারী শিক্ষিত হয়েও ঘরে মধ্যে বন্দি থাকতে বাধ্য হয়। তবে সেই চিন্তা ধারায় এখন অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। সংসার সামলানোর পরেও নারী এখন বাইরে অনেক সফল হচ্ছে। নারী কিভাবে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে পারে বলে আপনার কাছে মনে হয়? চয়নিকা চৌধুরী : এটাও আসলে মনের ইচ্ছা। অনেকে আছেন যারা ৯টা ৫টা কাজ করেন কিন্তু এর বাইরে অন্য কিছুই করেন না। আমি কিন্তু এখনও এই ১৭ বছরের ক্যারিয়ার জীবনে সকালে রান্না করেই বের হই। যখন দেশে থাকি না তখনকার কথা ভিন্ন। কিন্তু রান্নাটা আমি নিজ হাতেই করি। বাসায় যারা আছে তারা হয়তো সব গুছিয়ে দেয় কিন্তু নিজ হাতে রান্না করতেই আমি পছন্দ করি। কে কখন খাচ্ছে, কি করছে সব কিছুই কিন্তু আমাকে দেখতে হয়। এটা দেখাটাও দরকার। এটাওতো আমার একটা কাজ। ভালোবেসে, আনন্দ নিয়ে দুইটাই যখন আমি সমান তালে করতে পারবো তখনই আসলে একটা মেয়ে সার্থক। ইটিভি অনলাইন : নারীরা ঘরের বাইরে কাজ করতে গেলে অনেক বাধা, প্রতিবন্ধকতা আসে। কিন্তু সব কিছু মোকাবেলা করে কিভাবে সে এগিয়ে যেতে পারবে। আমার ম্যাসেজ কি? চয়নিকা চৌধুরী : কাজ করতে গেলে নারী-পুরুষ সবারই বাঁধা আসে। নারীদের ক্ষেত্রে হয়তো একটু বেশি আসে। যেহেতু সৃষ্টিকর্তা তাদের নারী করে বানিয়েছেন। ওটা নারীকে বুদ্ধি দিয়ে, মেধা দিয়ে, তাদের ইচ্ছা শক্তি দিয়ে একটাকে মোকাবেলা করতে হবে। ইটিভি অনলাইন : আমরা তো আপনার নির্মাণে অনেক সুন্দর সুন্দর নাটক, টেলিফিল্ম দেখেছি। শুনেছি চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়েও ভাবছেন। সেই সু সংবাদটি কবে আসবে? চয়নিকা চৌধুরী : ইচ্ছে আছে অনেক সুন্দর একটি সিনেমা নির্মাণ করবো। যে সিনেমা দেখে মানুষ মুগ্ধ হবে। চোখের জল ফেলবে খুশিতে বা আনন্দে অথবা কষ্টে। একই সঙ্গে বাসায় যেতে যোত ভাববে আবারও সিনেমাটি দেখবো। এমন একটি সিনেমা বানানোর খুব ইচ্ছে আছে। এখন দেখি কি হয়। ইটিভি অনলাইন : আমরা কি ২০১৮ সালেই সেই সিনেমাটি দেখতে পারবো? চয়নিকা চৌধুরী : মনে হচ্ছে। তবে আমার এই ইচ্ছেটার সঙ্গে তো আরও অনেক কিছু জড়িত। ইটিভি অনলাইন : সব শেষ প্রশ্ন। আপনি এখন ক্যারিয়ারের যেখানে অবস্থান করছেন, আগামীতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান? চয়নিকা চৌধুরী : আমি একজন সফল মা হিসেবে নিজেকে দেখতে ভালোবাসি। আমার দুই সন্তান। ওরা খুব ভালো কিছু করবে। যোগ্য মানুষ হবে। মানুষ হিসেবে ভালো হবে। এটাই আমার কাছে বড় চাওয়া। আমি দেখতে চাই আমি একজন ভালো নির্মাতা। আমার সিনেমাটি অনেক ভালো হয়েছে। সুপার-ডুপার হিট হয়েছে। আর পৃথিবীতে যত বাংলা ভাষাভাষি মানুষ রয়েছেন তারা চয়নিকা চৌধুরীর নামটি জানুক। এই জানাটি যেনো আরও বৃদ্ধি পায় সেটাই চাই। ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। চয়নিকা চৌধুরী : আপনাকেও ধন্যবাদ। এসএ/

সিনেমার মধ্যে আরও একটি সিনেমা ‘গন্তব্য’

এলিনা শাম্মী। অর্থনীতির ছাত্রী। কিন্তু নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভিন্ন পেশায়। তিনি একজন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও অভিনেত্রী। আইনজীবী বাবা ও গৃহিনী মায়ের সন্তান এলিনা শাম্মী দুই ভাই বোনের মাঝে ছোট। এলিনা উপস্থাপনা, অভিনয়, নাটক আর গল্প লেখায় শুধু নয়; নিজেকে নিয়ে যেতে চান অনন্য উচ্চতায়। কি করছেন তা বড় নয়, টিকে থাকতে চান কাজের মাধ্যমে। এটাই তার চ্যালেঞ্জ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এলিনা বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে উপস্থাপনা দিয়েই শুরু করেন। তবে এরপর নাটক, বিজ্ঞাপন ও সিনেমায় নিজেকে তুলে ধরেছেন নিজের অদম্য আগ্রহ ও অধ্যাবসায় দিয়ে। তাই তো পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দেশের প্রায় সবকটি চ্যানেলে উপস্থাপনা করে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। এলিনার অভিনীত নাটকের মধ্যে রয়েছে- রাজিব রহমানের চন্দনা নাটকে চন্দনা চরিত্রে, জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের সড়ক দূর্ঘটনার উপর নির্মিত নাটকের মূল চরিত্রে, ইমদাদুল হক মিলনের গল্প ও চন্দন চৌধুরীর রচনায় এসো, মেঘসহ অনেক টেলিছবিতে। এছাড়া তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন শাহ আলম কিরন ও আনিসুল হকের গল্পে বিরাঙ্গনা সিনেমার বিরাঙ্গনার ভূমিকায়। অভিনয় করেছেন মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের মা জননী’, ড. অরুপ রতনের ‘স্বর্গ থেকে নরক’ সিনেমাতে। সম্প্রতি অভিনয় করেছেন অরন্য পলাশের পরিচালনায় ‘গন্তব্য’ শিরোনামের একটি সিনেমায়। এতে শাম্মী ছাড়াও অভিনয় করছেন ফেরদৌস, আইরিন, আমান সহ আরও অনেকে। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের তারকালাপে নতুন এই সিনেমা ‘গন্তব্য’ নিয়ে কথা বলেছেন এলিনা শাম্মী। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন? এলিনা শাম্মী : অনেক ভালো। ইটিভি অনলাইন : আপনার অভিনিত নতুন সিনেমার টিজার প্রকাশ পেয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এলিনা শাম্মী : অনেক সাড়া পাচ্ছি। আমি এর আগেও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি তবে এ কাজটিতে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ পেয়েছি। আমরা পুরো টিম অনেক বেশি যত্ন নিয়ে কাজটি করেছি। তবে টিজারে দর্শক যা দেখছে তা দিয়ে সিনেমা সম্পর্কে কিছুই বোঝা যাবে না। ইটিভি অনলাইন : তাহলে সিনেমাটি সম্পর্কে একটু বলুন? এলিনা শাম্মী : নতুন এই সিনেমাটির নাম ‘গন্তব্য’। এটি পরিচালনা করেছেন অরন্য পলাশ। এখানে ফেরদৌস, আইরিন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, আমান রেজা, মাসুম আজিজ, আফফান মিতুলসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন। ‘গন্তব্য’ সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে সুইট চিলি ফিল্মস। মূলত ছয় বন্ধু মিলে একটি সিনেমা নির্মান এবং সেই সিনেমাটি সারাদেশে প্রদর্শন করানোর ঘটনা নিয়ে গড়ে উঠেছে এ সিনেমার কাহিনী। গল্পে আছে দুটি ভাগ, একটি শহরের, অন্যটি গ্রামের। এখানে ছয় বন্ধু একটি থিয়েটারে কাজ করে। যাদের মধ্যে আমিও আছি। পুরো গল্পটা এখনই বলতে চাইছি না। এটা দর্শক হলে গিয়ে দেখে বুঝবে। তবে এটা বলতে পারি যে- ‘গন্তব্য’ হচ্ছে সিনেমার মধ্যে আরও একটি সিনেমা। আরও একটা বিষয় বলি- গল্পটি হচ্ছে দেশ ভিত্তিক। কিন্তু অন্যরকম এক নান্দনিকতার মধ্য দিয়ে নির্মাতা এটি নির্মান করেছেন। ইটিভি অনলাইন : আপনার চরিত্রটি সম্পর্কে যদি একটু বলতেন? এলিনা শাম্মী : ‘গন্তব্য’ সিনেমায় পুষ্প নামের চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে। এটা আমার একটা স্বপ্নের চরিত্র। পরিচালক অরণ্য পলাশ আমাকে একেবারেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। শক্তিমান অভিনেতা জয়ন্ত চট্টপাধ্যায় আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর সিনেমায় আমার জুটি হিসেবে কাজ করেছেন আমান। সে ডিরেক্টরের ভূমিকায় কাজ করেছে। গল্পের মধ্যে আমানের একটি স্বপ্ন রয়েছে। সে একটি সিনেমা নির্মাণ করতে চায়। আমরা ছয়জনই তার স্বপ্নটাকে লালন করি। চলচ্চিত্রে আমান একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ওর ইচ্ছে আছে কিন্তু সমর্থ নেই। সেই স্বপ্নটাকে পূরণ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন ফেরদৌস ভাই। মজার বিষয় হচ্ছে- আমাদের যার যার যে নাম চলচ্চিত্রে সেই নামই ব্যবহার করা হয়েছে। আরও একটা মজার বিষয় হচ্ছে, গল্পের মধ্যে আমরা যারা একটি সিনেমা নির্মাণের চিন্তা করেছি তারাই আবার সেই সিনেমায় অভিনয় করেছি। কারণ আমরা ওখানে থিয়েটার কর্মী হিসেবে কাজ করি। মোটকথা একটা গল্পের মধ্যে আরও একটা গল্প।   ইটিভি অনলাইন : ‘গন্তব্য’র এমন একটি মাজার কথা বলেন যেটি শুনলে সিনেমাটির উপর দর্শকদের আগ্রহ সৃষ্টি হবে? এলিনা শাম্মী : মজার কথা যদি বলি তাহলে বলতে হয়- শহরের কিছু তরুণ ছেলে-মেয়ে যারা স্বপ্ন দেখে সিনেমার মাধ্যমে সমাজকে কিছু একটা দেওয়ার। সেই কাজটি করতে গিয়ে তারা যখন গ্রামে চলে আসে তখন গ্রামের জেলে পাড়ার যে পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয় সেটাই অনেক ইন্টারেস্টিং। পুরো চলচ্চিত্রে দুটি ভাগ। এক পাশে আমাদের চেহারা এক রকম দেখা যাবে, অন্যপাশে পুরোই অন্যরকম দেখা যাবে। আর একটা কথা হচ্ছে- এখানে জয়ন্ত দা, মাসুম আজিজ, কাজী রাজু তারাও কাজ করেছেন। কিন্তু তারা জেলে পাড়ার ওই অংশে কাজ করেছেন। শক্তিশালী অভিনেতা, অভিনেত্রীদের সমাগম ঘটেছে সিনেমাটিতে। ইটিভি অনলাইন : অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নটা মাথায় কীভাবে এলো? এলিনা শাম্মী : অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন অবচেতন মনে ছিল। হয়তো শৈশব থেকেই। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতাম। উপস্থাপনা দিয়ে যখন ক্যারিয়ার শুরু করি; তখন অভিনয়ের অফার আসে। সেই থেকেই অভিনয় শুরু। ইটিভি অনলাইন : আপনিতো মিডিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। কোন স্থানটিতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন? এলিনা শাম্মী : উপস্থাপনা, নাটক-সিনেমায় অভিনয়, বিজ্ঞাপনে কাজ করছি। আসলে উপস্থাপনাটাও একটা অভিনয়। সবক্ষেত্রে কাজ করতেই ভালো লাগে। তবে অভিনয় করতে গিয়ে অন্যরকম আনন্দ পাই। নিজেকে চেনা যায়, নিজেকে ভাঙা যায়। ইটিভি অনলাইন : বর্তমানে মিডিয়ায় কাজ করা একজন নারীর জন্য চ্যালেঞ্জের। ভবিষতে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান? এলিনা শাম্মী : বর্তমানে মেয়েদের মিডিয়ায় কাজ করার একদিকে যেমন বহুমুখী সুযোগ রয়েছে; তেমনি রয়েছে প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা। যোগ্যদেরও তথাকথিত যোগ্যতার অভাবে পিছিয়ে পড়তে হয় অনেক সময়ে। বঞ্চিত হতে হয় কাজের সুযোগ থেকে। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলবো, যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই তার মূল্যায়ন হবে সঠিক নিয়মেই। প্রতিভা কোন দিন কেউ চাপা দিতে পারে না। এরজন্য শুধুই দরকার আন্তরিকতা, ধৈর্য, সাধনা এবং সততা। আর নিজের ভবিষৎ এর কথা যদি বলেন- তবে বলবো আমি টিকে থাকতে চাই। এ ক্ষেত্রে একটা কথা না বললেই নয়, আমি যখন প্রথম মিডিয়াতে কাজ করার জন্য আসি তখন কেউ কেউ বলেছিল যে আমাকে দিয়ে হবে না। আমার জন্য মিডিয়া না। কিন্তু আমি সেদিকে কান দেইনি। আমি আমার ইচ্ছা শক্তি দিয়ে আজ এই অবস্থানে এসেছি। আমি দেশের প্রায় সবগুলো টিভি চ্যানেলে উপস্থাপনা করেছি। উপস্থাপনা করতে এসে অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। কাজের সুযোগ এসেছে। কাজ করছি। যারা আমাকে ওই সময় এসব কথা বলেছিল তারাই হারিয়ে গেছে। আমি এখনও টিকে আছি। তাই আবারও বলছি- কি করলাম তা বিষয় না, টিকে থাকাটাই বড় বিষয়। ইটিভি অনলাইন : অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। এলিনা শাম্মী : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। গন্তব্য সিনেমার টিজার দেখুন : এসএ/

প্লিজ না জেনে গজল গাইবেন না

গজলের উৎপত্তি আরব থেকে হলেও ফার্সি ভাষায় এটি বিশেষ বিকাশ লাভ করে। পরবর্তীতে উর্দু ভাষায় এটি সমধিক জনপ্রিয়তা পায়। আরবি, ফার্সি, পশতু, উর্দু ছাড়াও হিন্দি, পাঞ্জাবী, মারাঠি, বাংলা, এমনকি ইংরেজিতেও গজল লেখা হয়। প্রাথমিক দিকে ইমাম গাযালী, মওলানা জালালুদ্দিন রুমী, হাফীজ সীরাজী, ফারুখউদ্দীন আত্তার, হাকীম শানাঈ প্রমুখ গজল লিখে বেশ নাম করেন। পরবর্তিতে আমির খশরু, মীর তাকী মীর, ইব্রাহীম জক, মীর্জা গালিব, দাগ দেলবী এবং আধুনিক কালে আল্লামা মহাম্মদ ইকবাল, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, ফিরাক গোরখপুরী গজল লেখক হিসাবে নাম করেন। গজল হালকা মেজাজের লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। আবার হালকা-গম্ভীর রসের মিশ্রণে সিক্ত আধ্যাত্মিক গান। গজল প্রেমিক-প্রেমিকার গান হলেও এ গান এমন একটি শৈলী- যাতে প্রেম ও ভক্তির অপূর্ব মিলন ঘটেছে। পার্থিব প্রেমের পাশাপাশি গজল গানে আছে অপার্থিব প্রেম, যে প্রেমে স্রষ্টার প্রতি আত্মার আকূতি নিবেদিত। বাংলাদেশেও এই গজল সঙ্গীতের প্রচুর শ্রোতা রয়েছেন। তবে তাদের মনের খোরাক মেটাতে দেশীয় শিল্পী খুব বেশি নেই। দু’একজন যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে জনপ্রিয় গজলশিল্পী মেসবাহ আহমেদ। তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র গজলশিল্পী, যিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত গজল ব্যক্তিত্ব জগজিৎ সিংয়ের শিষ্য। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই শিল্পী সঙ্গীতের এ ধারাটি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। দেশের সেরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ নিয়াজ মুহাম্মদ চৌধুরীও মেসবাহ আহমেদের গুরু। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের একান্ত সাক্ষাৎকারে গজল সঙ্গীত নিয়ে কথা বলেছেন জনপ্রিয় এই তারকা। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : মাঝে একটি দুর্ঘটনা গেলো। কেমন আছেন এখন? মেসবাহ আহমেদ : আপনাদের দোয়াতে মোটামুটি ভালো আছি। মেডিসিন চলছে। ইটিভি অনলাইন : যা হোক সুস্থ হয়ে উঠেছেন এটাই অনেক বড় বিষয়। সেদিন ঘটনাটি কি হয়েছিলো? মেসবাহ আহমেদ : ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছিলাম। দিনটি ছিলো রবিবার (২৮ জানুয়ারি)। রাজধানীর নটরডেম কলেজের সামনে ঘটনাটি ঘটে। এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বের হওয়ার সময় একদল ছিনতাইকারী আমাকে ঘিরে ধরে। অস্ত্রের মুখে ছিনতাইকারীরা মানিব্যাগ ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেই। এ সময় ছিনতাইকারীরা আমাকে হিট করে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। আসলে দেশে এখনও এমন ঘটনা ঘরে ভাবলে কষ্ট হয়। আমরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইবো! ইটিভি অনলাইন : সঙ্গীত চর্চা কেমন চলছে? মেসবাহ আহমেদ : চলছে। কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হয়েছে। এখন মোটামুটি সুস্থ। আবারও কাজে মন দিচ্ছি। ইটিভি অনলাইন : আপনি আমাদের দেশের প্রখ্যাত গজলশিল্পী। গজল সঙ্গীত নিয়ে কিছু বলেন? মেসবাহ আহমেদ : গজল আসলে গানের বাইরের কিছু না। গজলও একটা মিউজিক, নজরুল সঙ্গীত, সূফীইজম, কাওয়ালী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, লালনও একটা মিউজিক। কিন্তু প্রত্যেকাটার আলাদা আলাদা একটা গায়কি আছে। একটা আলাদা স্টাইল আছে। গজল কিন্তু ফার্সি, উর্দু ভাষায় গাওয়া হয়। আসলে এই ভাষাগুলো না জেনে গজল গাওয়াটা ঠিক নয়। আপনি গজল গাইছেন কিন্তু সঠিক উচ্চরণ যদি করতে না পারেন তবে ওই ভাষার মানুষগুলো এটা শুনলে হাসবে, লজ্জা পাবে। আমাদের দেশে অনেক ভালো ভালো কণ্ঠ আছে কিন্তু ভালো গজল গায়ক নেই। ইটিভি অনলাইন : গজল, কাওয়ালী, সুফী সঙ্গীতের মধ্যে পার্থক্যটা আসলে কি? মেসবাহ আহমেদ : গজল হচ্ছে পদ্য কবিতা। নজম হচ্ছে গদ্য কবিতা। কাওয়ালী হচ্ছে আধ্যাতিক সঙ্গীত। আর সূফী তো সূফীই। তবে গজলের মধ্যেও সুফীইজম আছে। এমন কোন কথা নেই যে গজল মানেই সূফী মিউজিক। গজলের মধ্যে প্রেমের বর্ণনা আছে, সুন্দরী রমণীর বর্ণনা আছে, কারও কোন আসক্তির বর্ণনা আছে। ইটিভি অনলাইন : সূফী সঙ্গীত বলতে আমরা কি বুঝি? মেসবাহ আহমেদ : সূফী মানে আধ্যাত্মবাদ। এটা কখনও কখনও গজলে আসে বটে, তবে সব সময় না। ইটিভি অনলাইন : আমাদের দেশে গজল চর্চাটা কেমন চলছে? মেসবাহ আহমেদ : এক কথায় বলবো- নাই। কেউ কেউ এই খালি ময়দানে গোল দেওয়ার চেষ্টা করে। দেখুন যিনি শিক্ষিত তিনি শৈল্পিক। যিনি শৈল্পিক তিনি শিক্ষিত। এটা কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি। তবে এটা স্বমন্বয় নেই। গজল গাইতে হলে আপনাকে প্রথাগত তালিম নিতে হবে। আপনি যদি বলেন আমি বাঙালী আমার উচ্চরণ হয় না। আমার কথা হচ্ছে তাহলে আপনি গেয়েন না। আমি রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত ভুল উচ্চরণে গাই এটা যেমন অপরাধ একই ভাবে এই গজলের ক্ষেত্রেও তাই। যদি না পারেন তবে না গাওয়াই ভালো। কিছু গজল শিল্পী আমরা দেখি কিন্তু তারা কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে একেবারেই না। তবে ভালো শিল্পী একে বারে যে নেই তা কিন্তু নয়। আমার গুরুজি নিয়াজ মুহাম্মদ চৌধুরী। রুণা লায়লা, শাহনাজ রহমতুল্লাহ অসাধারণ গাইছেন তারা। রুণা লায়লা যখন গজল গায় আমরা অবাক হয়ে যাই। এতো সুন্দর, এতো হাই কোয়ালিটি কল্পনাই করা যবে না। ইটিভি অনলাইন : গজলের চর্চাটা কেনো এতো কম? মেসবাহ আহমেদ : কষ্ট সাধ্য যে, তাই। আপনাকে গুরু ধরতে হবে। অনেক দিন সাধনা করতে হবে। অনেক খরচ করতে হবে। ডলারে পে করতে হবে। তাছাড়া সহজেই যদি জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় তবে কেনো আমি কষ্ট করে এগুলো করব? নিজেকে প্রকাশের ধান্দা মাথায় ঢুকে গেছে সবার। শেখার জন্য বা সাধনার জন্য গান গাইছি খুব কম। সারাক্ষণ যদি আপনি অনুষ্ঠানের ধান্দায় থাকেন তবে কখন রেওয়াজ করবেন? আসলে এই বিষয়টিতে আমরা আহত। ইটিভি অনলাইন : দৈনন্দিন ব্যস্ততা কি নিয়ে? মেসবাহ আহমেদ : সব সময় আমি একই রকম থাকি। ব্যবসা-বাণিজ্য করি। মিউজিকতো করিই। বেছে বেছে অনুষ্ঠান করি। একটা মিউজিক ভিডিওর কাজ করছি। কাজ চলছে। হলে ইউটিউবে আপলোড করা হবে। এটা আধুনিক বাংলা গান। আমার লেখা ও সুরে। আমার তিনটি অ্যালবাম রয়েছে-নিজের লেখা ও সুরে। ইটিভি অনলাইন : সাধারণত গজল কোন ভাষায় হয়ে থাকে? মেসবাহ আহমেদ : গজল কিন্তু বাংলাতে হয় না। যেমন জাপানি ভাষায় নজরুল সঙ্গীত হয় না! তাই যদি হতো তাহলে রবীন্দ্রনাথ লিখতেন। বাংলায় গজল আঙ্ঘিকের গান আছে, তবে ওটা গজল না। গজল লেখার কিছু কায়দা-কানুন আছে। একবার আমাকে বলা হয়েছিলো আপনি কিছু গজল বাংলা লিখে দিবেন, সুর করবেন এবং গাইবেন। আমি তখন ১৬টি গজল করে দিয়ে ছিলাম। তবে চেষ্টা করলে হয়। সেই সুযোগটা দিতে হবে। ইটিভি অনলাইন : কেউ যদি গজল সঙ্গীতে নিজেকে প্রকাশ করতে চায় তবে আপনার উপদেশ কি থাকবে? মেসবাহ আহমেদ : আমি তাদের সাজেশন দিতে পারবো কি না জানি না। তবে একটাই কথা বলবো যে- প্লিজ না জেনে গজল গাইবেন না। সিডি বা ক্যাসেট থেকে তুলে গজলশিল্পী হওয়া যায় না। আপনি খেয়াল করে দেখবেন রমজান মাস আসলে যিনি কোন দিন গজল গায়নি তাকেও ফোনলাইভ করতে দেখা যায়। আমি চাইলেই একক ভাবে লালন সন্ধ্যা করতে পারিন না যদি কিনা আমার লালন গীতির সেই চর্চাটা না থাকে। আপনি শুধু নিজেকে ফেমাস করার জন্য, কয়টা টাকার জন্য, নিজেকে আরও একটু বেশি জনপ্রিয় করার জন্য আপনি গজল গেলে ফেললেন এটা কি ঠিক? একজন শিল্পী হিসেবে আপনার কমিটমেন্টটা কোথায়? আপনি হুট করেই সিডি বা ইউটিউব থেকে তুলে গজল গাইতে পারে না। আপনিতো এগুলোর চর্চাই করেননি তবে কোথা থেকে আসলেন? অনেক কিছু বলে ফেললাম, সে জন্য দু:খিত। কিন্তু ভাই বাস্তবতা এটাই। ইটিভি অনলাইন : আপনি গজল ছাড়া অন্য কোন গান কি করেন? মেসবাহ আহমেদ : হ্যাঁ। আমি আধুনিক বাংলা গান গাই। আমার লেখা ও সুরে অ্যালবাম আছে। আমি লিখতে পছন্দ করি। আমি গাইতে পছন্দ করি। আমি সুর করি, কম্পোজ করি। অন্যদের জন্যও সুর করি। ইটিভি অনলাইন : অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। মেসবাহ আহমেদ : আমি মন থেকে বলছি একুশে টেলিভিশনের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ আপনাকেও। ধন্যবাদ সবাইকে। এসএ/

আমার সত্তা দুই মাধ্যমেই

সাজিয়া সুলতানা পুতুল। প্রজন্মের জনপ্রিয় গায়িকা। তবে শুধু গায়িকা বললে ভুলই হবে। তিনি গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক। উপস্থাপক হিসেবেও তার নাম আছে বেশ। গানের এই পাখির যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। যদিও ছোটবেলা থেকেই গানে অনবদ্য অবদানের জন্য বেশ কিছু জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তবে এ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই পেশাগতভাবে শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন পুতুল। আর এ যাত্রাটা শুরু থেকেই ছিল বেশ ভালো। তখন থেকেই স্টেজ, টিভি লাইভ, অ্যালবাম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। শুধু গান নয়, গানের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন এই গুণী শিল্পী। ইতিমধ্যে বই মেলায় তার কিছু বইও প্রকাশ পেয়েছে। দুই মাধ্যমেই নিজেকে তুলে ধরতে নিরন্তর ছুঁটে চলছেন পুতুল। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন’র তারকালাপে নিজের সঙ্গীত সাধনা ও লেখালেখির কথা জানালেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : কেমন আছেন? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : খুব ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : আপনি চলতি প্রজন্মের একজন জনপ্রিয় গায়িকা। পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। আপনার প্রকাশিত প্রথম বইটির নাম কি? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আমার প্রথম বই ‘পুতুল কাব্য উপক্রমণিকা।’ এটি একটি কাব্য গ্রন্থ। বইটির প্রকাশ হয় ২০১৬ সালে। বইটি প্রকাশ করে ‘প্রিয়মুখ প্রকাশনী’। ইটিভি অনলাইন : এরপর কি বই প্রকাশ পায়? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : এরপর প্রকাশ পায় ‘পুতুল কাব্য দ্বিতীয় অধ্যায়।’ এই বইটি ২০১৭ সালে প্রকাশ পায়। এটি আমার লেখা দ্বিতীয় বই। এটি প্রকাশ করে ‘দেশ প্রকাশনী’। ইটিভি অনলাইন : এবারের বইমেলায় আপনার নতুন কোনো বই এসেছে কী? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : এবছর আবারও ‘প্রিয়মুখ প্রকাশনী’ থেকে একটি উপন্যাস প্রকাশ পেয়েছে। উপন্যাসের নাম ‘একটি মনস্তাত্ত্বিক আত্মহনন ও তার পুতুলকাব্যিক প্রতিবেদন’। এটি আমার প্রথম উপন্যাস। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আজাদকে। ইটিভি অনলাইন : নতুন এই উপন্যাসের গল্পটা কি? বইটি সম্পর্কে একটু জানতে চাই। সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আসলে উপন্যাসটির মূল কথা হচ্ছে নারীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। একজন নারী তার জীবনে বিভিন্ন সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। সে ক্ষেত্রে যখন সে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে এবং যখন সঠিক সিদ্ধান্তটা নিতে পারে না, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেয়- দেখা যায় যে একারণে পরবর্তী জীবনে তাকে অনেক ভুগতে হয়। অনেক সময় এটা সংশোধন করার সুযোগ সে পায়, আবার অনেক সময় পায় না। আর এমনও হয় যে সংশোধনের সুযোগ থাকা সত্যেও সে সংশোধনের ইচ্ছা করে না। মনে করে যে যা হয়েগেছে সেটাই থাক। আবার সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে পথ চলা, এসব বিষয়গুলো উপন্যাসের মধ্যে পাওয়া যাবে। মোটকথা একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে গল্প বিভিন্ন শাখপ্রশাখায় বিস্তার লাভ করেছে। আমি কাছের কিছু মেয়ের জীবন ও বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে এটি লিখেছি। উপন্যাসটিতে নারী তাকে আলাদা আলাদা ভাবে নিজেকে দেখতে পারবে। ইটিভি অনলাইন : গানের মাধ্যম থেকে লেখালেখির জীবনে প্রবেশ করলেন কেনো? কখন থেকে এই আগ্রহটা প্রকাশ পায়? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : এটা যে হঠাৎ করে হয়েছে তা কিন্তু নয়। আমার আত্মপ্রকাশটা হয়তো দেরিতে হয়েছে। কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকে আমি যখন গানের সঙ্গে আছি তখন থেকেই সাহিত্য চর্চা করছি। গানের আমার পরিচিতিটা প্রথমে আসার কারণে অনেকে হয়তো মনে করেন যে আমি সৌখিন লেখক। আমি এটার সঙ্গে ঘোর বিরোধিতা করি। কারণ পুতুলের সত্তা দুই মাধ্যমেই। গান ও সাহিত্যের বাইরে আমি কিছুই না। সুতারাং আমি মনে করি যে আমি যদি গান নাও গাইতাম তখনও সাহিত্য চর্চা আমার একমাত্র মাধ্যম হতো। আমি নিয়মিত লেখক। আমি সারাদিনে গানটা যতটুকু যত্ন নিয়ে করি, লেখালেখিটাও ঠিক ততটা মন দিয়ে করি। আর অনুপ্রেরণার বিষয়টা হচ্ছে- আমার পরিবারেই সাহিত্যের চর্চা আছে। আমার বাবা ভিষণ কবিতা প্রেমি একজন মানুষ। আমার ভাই সাহিত্য চর্চা করে। বাসায় বই পড়ার প্রবণতা দেখেছি ছোটবেলা থেকেই। সেই পড়তে পড়তে একটা সময় মনে হলো আমিও আমার কথাগুলো প্রকাশ করি। ইটিভি অনলাইন : আপনি কি শুরুতেই কবিতা লিখেছেন? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আমার লেখালেখিটা শুরু হয় গান দিয়ে। গানের পরে কবিতা। কবিতা লেখার পর থেকে সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রবেশ করতে থাকি। এবার তো উপন্যাস লেখার কাজে হাত দিলাম। আমার নিজের যে অ্যালবামগুলো রয়েছে তার অধিকাংশ গানই আমার লেখা, সুর ও কম্পোজিশন করা। ইটিভি অনলাইন : সঙ্গীতশিল্পী নাকি একজন সাহিত্যিক হিসেবে নিজেকে দেখতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : দুইটার অনুভুতি একেবারে আলাদা। আমি যখন মঞ্চে থাকি, মঞ্চে গাই বা মঞ্চ থেকে নামি তখন আমাকে ঘিরে দর্শক-শ্রোতাদের যে আগ্রহ দেখি এটা স্বর্গীয় একটা অনুভুতি। আমি যখন মঞ্চে গাই তখন মঞ্চের সামনে যে প্রবীণ মানুষটি আমার গানের সঙ্গে তাল দেয় ঠিক তখন অন্যরকম অনুভুতি হয়। তখনই মনে হয় আমি স্বার্থক। আর লেখালেখির ক্ষেত্রে পাঠকদের অনুরাগের কথা যদি বলেন সেই অনুভুতিটাও ভিন্ন। এটার সঙ্গে আমি গত তিন বছর যাবৎ অভ্যস্ত। আমি যখন বই মেলার স্টলে থাকি তখন যারা আমার বই কেনেন এবং তাদের অনুভুতির কথা ব্যক্ত করেন তখন মনে হয় জীবন অনেক সুন্দর। অবশ্য আমার গানের অনুরাগীরাও সেখানে আসেন। তারা উৎসাহ দেন। আসলে দুই মাধ্যমের ভালোবাসা নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই। ইটিভি অনলাইন : গতকাল ভ্যালেন্টাইন ডে ছিলো। দিনটি কিভাবে কাটলো? সাজিয়া সুলতানা পুতুল : প্রত্যেকটা দিবসেই আমাদের আলাদা ব্যস্ততা থাকে। দিনের শুরু হয়েছিলো টিভির পর্দায় দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে। আবার দিন শেষ হয়েছে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি গানের মাধ্যমে। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। কারণ বিশেষ দিনগুলোকে আমি আরও বিশেষ করতে পারি আমার দর্শক-শ্রোতার জন্য। ইটিভি অনলাইন : ব্যক্তি পুতুলের ব্যাক্তিগত ভালোবাসার গল্পটা শুনতে চাই। সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আমার ভালোবাসার গণ্ডিটা পরিবার কেন্দ্রীক। আমি ভিষণ পরিবার ঘেষা একটা মেয়ে। আমি কাজের বাইরে পুরোটা সময় আমার পরিবারের সঙ্গে থাকি। আমার মা-বাবা, ভাই-বোনদের সময় দিতে পারা এবং তাদের সময়টা পাওয়া এটাই অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। ইটিভি অনলাইন : অনেক ভালো লাগলো কথা বলে। ধন্যবাদ। সাজিয়া সুলতানা পুতুল : আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। এসএ/

হ্যাঁ, নিজের পছন্দের মানুষ খুঁজে পেয়েছি

ঢাকাই সিনেমার উঠতি নায়িকা তানহা তাসনিয়া। ভোলা তো যায় না তারে সিনেমাতে চিত্রনায়ক নিরবের বিপরীতে অভিষেক হয় তার। এরপর ধূমকেতু সিনেমা দিয়ে হালের কিং শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করে নিজের অবস্থান পোক্ত করার চেষ্টা করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত তৃতীয় সিনেমা ভালো থেকো। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও আসিফ ইমরোজ। নতুন সিনেমা মুক্তির পর কয়েকটি দিন খুব ব্যস্ত আছেন তানহা। রোমান্টিক সিনেমার নির্মাতা হিসেবে খ্যাত জাকির হোসেন রাজুর পরিচালিত নতুন এই সিনেমাটি নিয়ে তানহার প্রত্যাশা ছিলো অনেক। ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় দর্শক এক নতুন তানহাকে দেখেছে। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দিনে কি করছেন নায়িকা? সেই সঙ্গে নিজের ভালোবাসার খবর কি? এসব কিছু নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের মুখোমুখি হলেন তানহা। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ ইটিভি অনলাইন : কেমন কাটছে আজকের দিন? তানহা তাসনিয়া : অন্যাসব দিনের মতই কাটছে। সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। ভালোবাসা দিবস নিয়ে তেমন কোন আলাদা পরিকল্পনা নেই। আপনারা সবাই জানেন আমার নতুন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সুতারাং সিনেমাটা নিয়ে এতো বেশি ব্যস্ততা যাচ্ছে যে ভ্যালেন্টাইন বা ফাল্গুনকে আলাদা ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি না। সিনেমাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ইটিভি অনলাইন : অন্য কোন পরিকল্পনা কি আছে আজকের দিনটি নিয়ে? তানহা তাসনিয়া : আজকের দিনটি নিয়ে ওইভাবে তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। তবে আজকে সন্ধ্যায় মধুমিতায় কাছের সব সাংবাদিক ভাইদের নিয়ে এবং আমার যতো কাছের মানুষ আছেন তাদেরকে নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সিনেমাটি দেখবো। এক সঙ্গে সবাই ভ্যালেন্টাইন সেলিব্রেট করবো। এটাই আজকের প্লান। ইটিভি অনলাইন : ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। দর্শকদের সাড়াও পাচ্ছেন। আজ কোন গিফট পেয়েছেন? তানহা তাসনিয়া : অন্যান্য বছরের তুলোনায় এবারের ভ্যালেন্টাইনস ডে টা আমার জন্য খুবই স্পেশাল। কারণ এবার আমার সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এই ভ্যালেন্টাইনে সব জায়গায় আমার সিনেমা চলছে। এটাই আমার জন্য ভ্যালেন্টাইনের বড় গিফট। ইটিভি অনলাইন : নিজের পছন্দের মানুষ কি খুঁজে পেয়েছেন? তানহা তাসনিয়া : হ্যাঁ, নিজের পছন্দের মানুষকে খুঁজে পেয়েছি। এখনই সব কিছু বলছি না। সিক্রেট থাকুক। তবে সময় হলে অবশ্যই সবাইকে জানাবো। ইটিভি অনলাইন : ব্যক্তিগত ভালোবাসার গল্পটা শুনতেই চাই। বলবেন কি? তানহা তাসনিয়া : হা হা হা। না আজ থাক। অন্য কোন ভ্যালেন্টাইনে শোনাব। কারণ এই ভ্যালেন্টাইন শুধুই ভালো থেকো ময়, ভালো থেকো ময় এবং ভালো থেকো ময়। তাই সামনের ভ্যালেন্টাইনগুলোতে আমার ব্যাক্তিগত গল্পটা শুনাতে পারবো। ইটিভি অনলাইন : ভালো থাকবেন। শুভ কামনা। তানহা তাসনিয়া : সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসা। বেঁচে থাকুক সবার ভালোবাসা। এসএ/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি