ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ২:৩২:৫১

‘মুকুট হারালে কষ্ট হয় না, কষ্ট হয় সমাজের কথায়’

‘মুকুট হারালে কষ্ট হয় না, কষ্ট হয় সমাজের কথায়’

‘মাথার মুকুট হারালে কষ্ট হয় না। কষ্ট হয় ঘুনে ধরা সমাজের নোংরামি দেখে। যে সমাজ একটি কিশোরী মেয়ের বিয়ে দিলে কোনো প্রতিবাদ করে না। প্রতিবাদ করে সংগ্রামী জীবনের সাফল্য দেখলে। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার প্রথম বিজয়ী জান্নাতুল নাঈম অপরাধ করেছে। সেজন্য সে অনুতপ্ত। কিন্তু তাকে নিয়ে যে নোংরামি হচ্ছে তা কি গ্রহণযোগ্য এই সচেতন সামাজের কাছে!’     ‘যে কষ্ট নিয়ে মেয়েটি পরিবার ছেড়েছে, নিজেকে তৈরির জন্য সংগ্রাম করেছে, সেই কষ্টের চেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে সাফল্যের মুকুট পরে। এভ্রিল ভালো নেই। এ সমাজই তাকে ভালো থাকতে দিচ্ছে না। মুকুট হারোনর কষ্টের চেয়ে মানুষের দেওয়া কষ্ট তাকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। ’  বিয়ের কথা গোপন করার কারণে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ মুকুট প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনি অনেক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সেলিব্রেটি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
প্রতিযোগিতা বয়কট, লাভেলোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন এভ্রিল

বাল্য বিবাহের কারণে ‘মিসওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ মুকুট হারানো জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল এবার বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে লড়বেন ঘোষণা দেওয়ায় লাভেলো কোম্পানি এভ্রিলকে ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।    অসততার অভিযোগ এনে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের খেতাব বাতিল করে জেসিয়া ইসলামকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা। এটা মেনে নিতে না পারায় এই প্রতিযোগিতাটিকে ‘বয়কট’ করেছেন এভ্রিল।   বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যকর্মীদের সামনে প্রশ্নবাণে জর্জরিত বিচারক ও আয়োজকরা পূর্বের চ্যাম্পিয়ন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের পরিবর্তে জেসিয়া ইসলামের নাম ঘোষণার পর অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন এভ্রিল।

বিয়েতে দোষের কিছু নেই, তবে…

ডিভোর্সি কিংবা সিঙ্গেল মাদার (বিধবা) হলেও মিস ওয়ার্ল্ডের মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের অংশগ্রহণ অবৈধ নয়। কারণ তার বিয়ে হলেও তিনি এখন সিঙ্গেল। তাহলে তার অপরাধ কি? কেন তার মুকুট ছিনিয়ে নেওয়া হলো? এর উত্তর দিয়েছেন আয়োজকরা। ‘এভ্রিল যে ডিভোর্সি সেটা স্বীকার করেই অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু যেহেতু তিনি তথ্য গোপন করেছেন তাই শাস্তিস্বরূপ তাকে বাদ দেয়া হয়। মূল আয়োজনকারীরা চান না একজন মিথ্যাবাদী একটি দেশের প্রতিনিধি হয়ে আসুক।’ বুধবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৭’ আয়োজক অন্তর শোবিজের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। এভ্রিলের নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিচারকদের রায়েই নির্বাচিত হয়েছিলেন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। কিন্তু ভুল করে জান্নাতুল সুমাইয়ার নাম ঘোষণা করেন উপস্থাপক শিনা চৌহান।

অবশেষে  এভ্রিলের ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ খেতাব বাতিল

সমালোচনার মুখে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন ঘোষিত জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের নাম বাতিল করা হলো। প্রতিযোগিতাটির আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ বুধবার (৪ অক্টোবর) এ ঘোষণা দেয়া হয়। বাতিল ঘোষণার পর প্রথম রানার্স আপ জেসিয়ার মাথায় মুকুট পরানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিচারকদের মধ্যে বিবি রাসেল, শম্পা রেজা ও চঞ্চল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুজন জুয়েল আইচ ও সোনিয়া বশির কবির অনুপস্থিত ছিলেন। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার আয়োজকদের ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিচারক বিবি রাসেল বলেন, ভুল সবারই হয়। আশা করি, বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চট্টগ্রামের মেয়ে এভ্রিলের নাম ঘোষণার পর থেকে বিতর্ক চলছিল।

ফেসবুক লাইভে ডিভোর্সের কথা স্বীকার

একটি ১৬ বছরের মেয়ে। বাবা জোর করে বিয়ে দেয় স্কুলের গণ্ডি পাড় হতে না হতেই। সমাজের কাছে সে বিবাহিত। হাসিমাখা মুখে বিয়ের আসরে নববধু সাজে বেনারসি পড়লেও বুকের ভেতর ছিলো চাপা কান্না। যে কান্না একটি কিশোরী মেয়ের কান্না। মাঝে মাঝে সমাজ এ কান্না শোনে না। কিন্তু মেয়েটির মধ্যে ছিলো চেপে থাকা আলোর দ্যুতি। যা একদিন প্রকাশ পাবেই। ঘটেছেও তাই। মফস্বলের সেই মেয়েটির মাথায় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট। যদিও এটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে এর অন্তরালে রয়েছে একটি কিশোরি মেয়ের প্রতিবাদের ভাষা। মেয়েরাও পারে! নিজের দু:খ ও সংগ্রামের কথা জানালেন বিতর্কিত ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ চ্যাম্পিয়ান জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। কেন বিয়ের কথা গোপন করেছিলেন, কেনই-বা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন, এমন সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। ‘পৃথিবীর সব মানুষের কাছে সম্মান রেখে’এভ্রিল তার ফেসবুকে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে কোনো বাঁধাবিপত্তিতে মাথা নত করিনি। একটা ১৬ বছরের মেয়েকে তার বাবা জোর করে বিয়ে দিচ্ছে, সেই মেয়ে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছে। সেই মেয়ে এখন সাকসেসফুল। সে তার সমাজের মানুষের কোনো কথা শোনেনি। আশপাশের কারো সমালোচনা কানে নেয়নি। তার একটাই উদ্দেশ্য ছিলো, যেখানে ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি দৈনদিন্দন ঘটনা, সেখানে বাল্যবিবাহ আমি মানতে পারিনি।’ এভ্রিল আরও বলেন, ‘১৬ বছর বয়সে বিয়ে দিলেই কোনো মেয়ের বিয়েটা হয়না। সেটা বাল্যাবিবাহ হিসেবে গণ্য। আমি চেয়েছিলাম সে সবের এগেইনেস্টে কাজ করতে।’ সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে এসব বলতে বলতে কেঁদেছেন এই সুন্দরী। বলেছেন, কীভাবে তার বাল্যবিবাহ হয়েছিলো। তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও লেখিকা বেগম রোকেয়ার উদারহরণ টেনে এভ্রিল বলেন, ‘মেয়েরা চাইলে অনেক কিছু করতে পারে।’ চোখে জল নিয়ে চট্টগ্রামের এই সুন্দরী আরও বলেন, ‘আমি ডিভোর্সি, ফাইন, আমি একটা মেয়ে। এজ এ হিউম্যান আমার রাইট আছে, একটা ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্মে গিয়ে নিজেকে প্রেজেন্ট করার। কই আমি তো নিজের জন্য কিছু চাইনি! আমি চেয়েছিলাম আমাদের দেশের মেয়েগুলাকে জাস্ট দেখিয়ে দিতে যে, একটা মেয়ে চাইলে কী কী পারে।’ ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আলোচনা-সমালোচনা চলছে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে নিয়ে। বিয়ে ও ডিভোর্সের কথা গোপন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। গণমাধ্যমে এখন পর্যন্ত বিয়ে বা ডিভোর্সের কথা স্বীকার না করলেও নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লাইভ ভিডিওতে স্বীকার করেছেন এভ্রিল। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই লাইভ ভিডিও আবার ডিলিটও করেছেন আলোচিত এই তরুণী।   এসএ/এআর     ভিডিও লিংক :

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি