ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৪:৫৫:৩৮

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যৌথভাবে কাজ করতে হবে

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যৌথভাবে কাজ করতে হবে

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ১৯৫১ সালের রিফিউজি কনভেনশনে সমর্থন দিয়ে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বক্তারা। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্যাক্ট মিশন আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন। সেমিনারে বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, সাংবাদিক ভারত ভূষণ, আইনজীবী সারা হোসেন, মানবাধিকার কর্মী রাজেন্দ্র ঘিমিরি প্রমুখ। সুলতানা কামাল বলেন, অধিকাংশ রোহিঙ্গা তাদের ভূমিতে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু ফেরার আগে তাদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গাদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে দক্ষিণ এশিয়ায় সুশীল সমাজ ও তাদের সংগঠন, সরকারি-বেরসকারি সংস্থাসমূহকে আরও সোচ্চার হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে সহযোগিতার হাত আরও বাড়াতে হবে। / এআর /
কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে বলে মনে করছেন মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ‘ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়নতনে রোহিঙ্গা সংকট ও সমাধান শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুপ কুমার চাকমা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এখন কূটনৈতিক তৎপরতাই মূখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলোর এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত হবে না, যা কূটনৈতিক উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেমিনারে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১০ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশ দীর্ঘ সময় রাখতে পারবে না। এদেরকে দেশে ফেরাতে সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।  

গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারে মিয়ানমার : জাতিসংঘ

মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জায়েদ রা’দ আল হোসেন। জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের কাছে দেওয়া বক্তব্যে জায়েদ বলেন, জাতিসংঘের তদন্তকারী দল সেখানে গণহত্যার যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। আগস্টে সামরিক বাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে গণহত্যার প্রমাণ পেয়েছে ওই তদন্তকারী দল। এসময় জায়েদ বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে ওই জওয়ানরা। শুধু তাই নয়, এসময় বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে তারা। নারী ও শিশুদের গণধর্ষণ করে। পুড়িয়ে দেয় মসজিদ, মন্দির, বিদ্যালয় ও মার্কেটগুলো। তিনি এসময় প্রশ্ন তোলেন, এরপরও কেউ বলতে পারবেন যে সেখানে গণহত্যা হয়নি। এসময় জায়েদ ৪৭ সদস্যের মানবাধিকার কাউন্সিলকে দেশটির সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে বিচার শুরুর আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, এজন্য মানবাধিকার কমিশনকে নতুন প্রকিয়া শুরু করতে হবে। এর আগে মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘসহ বিশ্বের অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, দেশটিতে কোন ধরণের বল প্রয়োগ হচ্ছে না। বরং রোহিঙ্গারা কেন দেশটি ছেড়ে যাচ্ছে, সে বিষয়েও তারা অবগত নয় বলে দাবি করে। তবে তারা দেশটির ওই অঞ্চলে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের যেতে বাধা দিচ্ছে।  জায়েদ আরও বলেন, গত আগস্টে মিয়ানমারে গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৬ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। এখনো প্রতিদিনই দেশটিতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। তবে দেশটিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে মিয়ানমার সরকার ও সেনা বাহিনীর কাছে  একটি শক্ত বার্তা পাঠাতে অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকার কাউন্সিলকে একটি প্রস্তাব পাশের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমজে/ এআর                  

রোহিঙ্গা বলায় পোপের সমালোচনায় মিয়ানমারের সোশ্যাল মিডিয়া

বাংলাদেশ সফরের সময় পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেছেন। এ শব্দটি উচ্চারণ করায় মিয়ানমারে সোশাল মিডিয়ায় পোপের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এবিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য পোস্ট করছেন। ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি বললেও এর মাত্র কয়েকদিন আগে পোপ ফ্রান্সিস  মিয়ানমারে থাকা অবস্থায় এই শব্দটি ব্যবহার করেন নি। শুক্রবার ক্যাথলিক খৃস্টানদের ধর্মীয় এই নেতা ঢাকার একটি গির্জায় কয়েকজন রোহিঙ্গার দুর্দশার কথা শোনেন এবং তিনি নিজেও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন। রোহিঙ্গা শব্দটি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা রোহিঙ্গাদেরকে কোন জাতিগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকার করে না। তাদের কাছে তারা অবৈধ বাঙালি।মিয়ানমারে গিয়ে তিনি যখন রোহিঙ্গা শব্দটি বলেন নি তখন মিয়ানমারের ক্ষুদ্র ক্যাথলিক গোষ্ঠী তার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছিলো। প্রশংসা করেছিলেন কট্টরপন্থী বৌদ্ধরাও। কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেছেন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রোমে ফিরে আসার পথে বিমানের ভেতরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করার পর মিয়ানমারের অনলাইনে এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে। দেশটিতে পাঁচ দশকের মতো সময় মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ছিলো। কিন্তু এখন এই দেশটিতে লোকজন সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন। আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সোয়ে সোয়ে মন্তব্য করেছেন, "তার একজন সেলসম্যান বা দালাল হওয়া উচিত। একজন ধর্মীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।"মিয়ানমারের ক্যাথলিক চার্চ থেকে পোপ ফ্রান্সিসকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো তিনি যাতে বিতর্কিত বিষয়ে কিছু না বলেন। কারণ সেরকম কিছু করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং সেখানে খৃস্টানদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। পোপ ফ্রান্সিস যখন মিয়ানমারে ভাষণ দেন তখন তিনি তাতে ঐক্য, ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে সম্মান জানানোর কথা বললেও, রোহিঙ্গা শব্দটি একবারের জন্যেও উচ্চারণ করেননি।একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ইয়ে লং মিন পোস্ট করেছেন, "পোপ একজন পবিত্র মানুষ। কিন্তু তিনি মিয়ানমারে এক কথা বললেন আবার অন্য একটি দেশে গিয়ে অন্য কথা বললেন। তিনি যদি সত্যকে ভালোবাসেন তাহলে তার সবখানে একই কথা বলা উচিত ছিলো।"অন্যদিকে মিয়ানমারে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা মং থোয়ে চুন পোপের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, "মানবাধিকার গ্রুপের চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারে তিনি `রোহিঙ্গা` বলেন নি। তার অর্থ তিনি মিয়ানমারের লোকজনকে ভালোবাসেন। এই শব্দটি তিনি বাংলাদেশে বহুবার উচ্চারণ করেন নি। মাত্র একবারই এটা বলেছেন। আমার মনে হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্যে তিনি এ কাজ করেছেন।"   সূত্র: বিবিসি এম/ এআর

নিবন্ধিত হলো ৭ লাখ ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা

সেনা নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) পদ্ধতিতে নিবন্ধন চলছে। আজ রবিবার পর্যন্ত ৭ লাখ ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রমে দায়িত্বরত বাংলাদেশ পার্সপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকের হোসেন এ তথ্য জানান। গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। উখিয়া-টেকনাফে ৭টি বুথে সেনাবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের পাশাপাশি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এ মাসেই নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরবর্তীতে নতুন কোনো রোহিঙ্গা এলে তাদেরকেও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।   /ডিডি/টিকে

অবশেষে `রোহিঙ্গা` শব্দটি উচ্চারণ করলেন পোপ

সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা সফররত ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। এ সময় তিনি প্রথমবারের মতো `রোহিঙ্গা` শব্দটিও উচ্চারণ করেন। শুক্রবার ঢাকায় আন্তঃধর্মীয় বৈঠকে শরণার্থীদের ১৬ জনের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেন পোপ ফ্রান্সিস। এর আগে তিনি মিয়ানমার সফর করেছেন। সেখানে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন। মূলত মিয়ানমারের কার্ডিনাল চার্লস বো’র অনুরোধে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি পোপ ফ্রান্সিস। এর বদলে তিনি তাদের ‘নির্যাতিত জনগোষ্ঠী’ বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিনেও পোপ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এড়িয়ে গেছেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক লেখালেখিও হয়েছে। এবার শরণার্থী দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে `রোহিঙ্গা` শব্দটি উচ্চারণ করায় এ বিতর্কের কিছুটা হলেও অবসান ঘটেছে।   তথ্যসূত্র : বিবিসি   ডিডি/টিকে

বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান পোপের

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থী সংকট নিরসনে বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। তবে এসময় তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি। এর আগে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন পোপ। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। পোপ ফ্রান্সিস তার বক্তব্যে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে আসা বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মৌলিক প্রয়োজন মিটিয়ে বাংলাদেশ উদার মনের পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, এটা ছোট বিষয় নয়, পুরো বিশ্বের সামনেই এটি ঘটেছে।

মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার জন্য জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ফেকিতামোলয়া কাতোয়া ইউটোয়িকামানু বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে। তবে, তাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য আশ্রয় দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়।’ বাংলাদেশে এ বছর মারাত্মক বন্যা হয়েছে। এসবের পরও রোহিঙ্গা সমস্যা দেশের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে দেখা দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সহিংসতার শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এদেশে চলে এসে কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় গ্রহণ করায় জেলার স্থানীয় জনগণ এমনিতেই সমস্যায় রয়েছে।

ভাসান চরে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে: অ্যামনেস্টি

রোহিঙ্গাদের জন্য নোয়াখালীর ভাসান চর দ্বীপে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মিয়ানমারে পুনর্বাসিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নোয়াখালীর ভাসান চরে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য অস্থায়ী আবাসস্থল ও দ্বীপটির নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে মঙ্গলবার একনেক সভা হয়। সভায় ২ হাজার ৩১২ কেটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। এ খবরের পরপরই আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভাসান চরকে বসবাসের অনুপযোগী ও বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এ মানবাধিকার সংস্থা। অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, অন্যান্য শরণার্থী ক্যাম্প থেকে বহুদূরে, বন্যাপ্রবণ ও বসবাসের অনুপযোগী একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হলে সেটি হবে একটি ভয়ানক ভুল। রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার সরকার। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার মুখে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করায় আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিতও হয়েছে বাংলাদেশ। তবে টেকনাফ ও উখিয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের সংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার। এমন অবস্থায় নতুন-পুরনো মিলিয়ে জনসংখ্যা দাঁড়ায় দশ থেকে ১২ লাখ। ফলে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি এবং পর্যটন এলাকাটির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কাছে ভাসান চরে সরিয়ে নিতে পরিকল্পনা করে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু জনমানবহীন এমন দ্বীপে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে দাবি করছেন অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক। তিনি বলেছেন, গত তিন মাসে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিলেও বাংলাদেশ সরকার এখন তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি ঝুঁকিতে ফেলছে। কারণ জোয়ারের সময় ১০ হাজার এবং ভাটার সময় ১৫ হাজার একর আয়তনের জনমানবহীন ভাসান চর মূলত গরু-মহিষের চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০১৩ সালে এ চরটিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দ্বীপটিতে নৌযান ছাড়া যাতায়াতের সুযোগ নেই। হাতিয়া থেকে যেতে সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। ফলে এ দ্বীপটিতে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হলে তাদের জন্য সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টি কঠিন হবে যাবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ যে চুক্তি করেছে সেটিও স্থগিত রাখার দাবি জানান বিরাজ পাটনায়েক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উচিত রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে ফেরার মতো পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত যে কোনো ধরনের প্রত্যাবাসন চুক্তি স্থগিত রাখা। একে/ এআর

সু চির সম্মান কেড়ে নিয়েছে অক্সফোর্ড

অং সান সুচিকে ১৯৯৭ সালে দেওয়া `ফ্রিডম অব দি সিটি` নামের পুরস্কারটি অবশেষে প্রত্যাহার করেছে অক্সফোর্ড শহরের নগর কাউন্সিল। গত অক্টোবরে তার এ সম্মান প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেয় কাউন্সিল। নগর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি যে আচরণ করছেন, তাতে তিনি আর `ফ্রিডম অব দি সিটি` নামের পুরস্কারটি পাওয়ার যোগ্য নন। তাই ব্রিটেনের অক্সফোর্ড শহরের নগর কাউন্সিল যে সম্মান দিয়েছিলো, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অক্সফোর্ড শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নোবেল শান্তি বিজয়ী অং সান সুচির নাম। কারণ তিনি পড়াশোনা করেছিলেন সেখানেই। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকার সময়ে বছরের পর বছর গৃহবন্দী ছিলেন সুচি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার থাকতে দেখা গেছে তাকে। কিন্তু দেশটিতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিপীড়নের সময় সু চির ভূমিকায় অবাক হয়েছেন অনেক বিশ্ব নেতারা। এই নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সুচি পড়াশোনা করেছিলেন সেন্ট হাগ`স কলেজ। তার এরকম ভূমিকার কারণে সেখান থেকে তার ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি একে// এআর

রোহিঙ্গা সংকট: যুক্তরাজ্য দিবে আরও এক কোটি ২০ লাখ ইউরো

মিয়ানমারে বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আরও এক কোটি ২০ লাখ ইউরো দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। আজ সোমবার ঢাকার যুক্তরাজ্য হাই কমিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত শনিবার যুক্তরাজ্য সরকারের উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডির সেক্রেটারি পেনি মরডন্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে তিনি নতুন করে এই অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন। বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, এবারের এক কোটি ২০ লাখ ইউরো অর্থ সহায়তা পেলে ২৫ আগস্টের পর থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের সহায়তার মোট পরিমাণ হবে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। ডিএফআইডি সেক্রেটারি মরডন্ট বলেছেন, যুক্তরাজ্য এখনকার মতো ভবিষ্যতেও এ সঙ্কটে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত অনেক নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছেন মরডন্ট। এবং তাদের প্রতি অত্যাচার-নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন তিনি। রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যূত করার ঘটনাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে অভিহিত করেছেন মরডন্ট। তিনি বলেছেন, বার্মিজ সেনাবাহিনীকে এই অমানবিক সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে গত আগস্টের শেষ দিকে বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। রাখাইনে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে আগে থেকে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বাস করছে। নতুন করে যোগ হয়েছে সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সম্প্রতি রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে রাখাইনের জনগোষ্ঠীকে ফেরত নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিতে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বক্ষরিত চুক্তি অনুসরণ করা হবে। ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে তাদের আগে পাঠানো হবে।এর আগে থেকেই থাকা রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত পাঠানোর বিষয় পরে বিবেচনা করা হবে। মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার পর রোহিঙ্গাদের তাদের সাবেক আবাসস্থল বা পছন্দ অনুযায়ী কাছাকাছি কোনও স্থানে পুনর্বাসিত করা হবে। একে// এআর

২০১৬ থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত ২০১৬ সালের অক্টোবর ও তার পরে আসা নাগরিকদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে দেশটি। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। মিয়ানমার সফর করে দেশটির সঙ্গে একটি সম্মতিপত্র সই করে এসে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী গত ৯ অক্টোবর ২০১৬ এবং ২৫ আগস্ট ২০১৭ এর পরে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত রাখাইন রাজ্যের অধিবাসীদের ফেরত নেবে দেশটি। এই চুক্তির অধীনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর ৯ অক্টোবর ২০১৬ এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৯ অক্টোবর সেনা অভিযানের মুখে ৮৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর নতুন করে বাংলাদেশে আসে সোয়া ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে জাতিগত দমন-পীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে। ১৯৯২ সালের দ্বিপক্ষীয় একটি চুক্তির আওতায় মিয়ানমার কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত নিলেও পরে আর এগোয়নি। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৬ সালের আগে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনার কথা নতুন সম্মতিপত্রে বলা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন করে গণহত্যা ও ধর্ষণের মতো দমন-পীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার পর আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আলোচনায় সম্মত হয় মিয়ানমার। এবার সাক্ষরিতে চুক্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৯৯২ সালের চুক্তির অনুসরণেই সম্মতিপত্র হয়েছে। আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন এবং ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত করা হবে। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ এই চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবে। মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার পর তাদের পছন্দ অনুযায়ী কাছাকাছি কোনো স্থানে পুনর্বাসিত করা হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে সীমিত সময়ের জন্য রাখা হবে। এই প্রক্রিয়ায় চীন ও ভারতের সহযোগিতা নেওয়ার কথা আলোচনা হয়েছে। আগের চুক্তির অনুসরণে কেন চুক্তি হল, এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, মিয়ানমার ওই চুক্তি অনুসরণ করতে চায় আর আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো। মূলকথা হলো, দেশটি রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। আশ্রয়হীন লোকগুলোর সেখানে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, সেটার কাজও শুরু হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে বলে জানালেও কবে নাগাদ শেষ করা হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময় চুক্তিতে নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান মন্ত্রী। মন্ত্রীর মতে, যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে দুইপক্ষ সম্মত। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই সফরে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন মাহমুদ আলী। / আর / এআর  

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরার পরিস্থিতি এখনও হয়নি: জাতিসংঘ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরার মত পরিস্থিতি এখনও হয়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার ইউএনএইচসিআর এ প্রতিক্রিয়া জানানোল। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়ার কথা জানান। মুখপাত্র বলেন, “প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।”   চলতি বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা চার লাখের মত রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে আছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে একটি সম্মতিপত্রে সই করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা এবং এজন্য যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সম্মতিপত্রে।   টিকে

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি