ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ ৭:৫৯:৪৯

উখিয়ায় রোহিঙ্গা খুন

উখিয়ায় রোহিঙ্গা খুন

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীর বালুখালী ক্যাম্পে  আরিফ উল্লাহ (৪৫) নামে এক রোহিঙ্গাকে গলা কেটে হত্যা করেছে  দুর্বৃত্তরা।  উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে বালুখালী ১১নং ক্যাম্পের সি ব্লকে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফ উল্লাহ ১১ নং ক্যাম্পের সি ব্লকের এখলাছ মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি দুই ছেলের জনক।  জিওগ্রাফি বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করা আরিফ উল্লাহ সবার প্রিয় ছিল বলে জানিয়েছেন ওই ক্যাম্পের একই ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী। ওসি আবুল খায়ের জানান, দুর্বৃত্তের হাতে খুন হওয়ার খবর পেয়ে ক্যাম্প থেকে নিহত আরিফ উল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন ওসি। একে//
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতার ভিত্তিতেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নিতে সম্মত মিয়ানমার। এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি। রাখাইনের বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে সু চি বলেন, সেখানে শান্তি ‘রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়।’গত ৭ জুন নেপিদোতে  জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আশাহি শিমবুনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সু চি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আইন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তা নিতে আপত্তি নেই মিয়ানমারের। অতীতের ধারাবাহিকতায় ওই সাক্ষাৎকারেও সু চি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতার ভিত্তিতেই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার একপর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে সেই  চুক্তির পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ধোঁয়াশা কাটছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮ হাজার রোহিঙ্গার নাম প্রস্তাব করা হলেও মাত্র ৬০০ জনকে ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার। এমতাবস্থায় অতীতের ধারাবাহিকতায় আবারও প্রত্যাবাসন চুক্তি মেনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সুচি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছে আমরা তার ভিত্তিতেই এগোচ্ছি। এর আগেও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সু চি। তবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না।গত বছর আগস্টে নিরাপত্তা চেকপোস্টে সন্ত্রাসী হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণ-ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ঘটনাকে জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ আখ্যা দেয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ। তবে মিয়ানমার শুরু থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলো।  নিধনযজ্ঞের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সম্প্রতি ৪০০ রোহিঙ্গার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দারস্থ হয়েছেন মানবাধিকার আইনজীবীরা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশও মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে সংকট নিরসনের। এমন বাস্তবতায়, প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে নেপিদো।৬ লাখ ৯২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করার পর প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতির সমান্তরালে তাদের পুড়িয়ে দেওয়া আবাস বুলডোজারে গুড়িয়ে দিয়ে নিশ্চিহ্ন করা হয় মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। একপর্যায়ে সেনা অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও অব্যাহত থাকে জাতিগত নিধন।  আইসিসির তৎপরতা জোরালো হওয়ার পর থেকেই মিয়ানমারের পূর্ববর্তী অবস্থান বদলাতে শুরু করে একটু একটু করে। মে মাসে রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা আসে। ২ জুন প্রথমবারের মতো তারা সব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। সিঙ্গাপুরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন প্রতিশ্রুতি দেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৭ লাখ রোহিঙ্গার সবাই যদি স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায় তাহলে সবাইকে ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার।  সু চি তার সাক্ষাৎকারে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনের প্রসঙ্গে বলেন, আমরা মনে করি তদন্ত কমিশনটি আমাদের পরামর্শও দিতে পারবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে রাখাইনে পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক হবে। রাখাইনের বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে শান্তি ‘রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়।’তবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন পরবর্তী নিরাপত্তার প্রশ্নে সু চি বলেছেন, আমাদেরকে সব নাগরিকদেরই নিরাপত্তা দিতে পারতে হবে, বিশেষ করে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে। সেজন্য আমরা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।জাতিগত সমস্যাগুলোর সমাধানে তার সরকারের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে প্রচণ্ড সমালোচনা কুড়িয়েছে সে বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে অং সান সু চি বলেছেন, একটা ঘটনাকে এক এক দিক থেকে দেখা যায়। তারা তাদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন। আমাদের অনুধাবন তাদের চেয়ে ভিন্ন।/ এআর /

রোহিঙ্গা ইস্যু: জাতিসংঘের সঙ্গে সমঝোতায় মিয়ানমার

সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। বুধবার জাতিসংঘের সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকে সাক্ষর করেছে দেশটি। স্বাক্ষরিত এ সমঝোতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদা এবং টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে অনেক এগিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ তৈরি’ এবং তাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার বিষয়ে ইউএনএইচসিআর এবং ইউএনডিপির সঙ্গে সমঝোতা করতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার সরকার। প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে চুক্তি করলেও বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থাকে জড়াতে রাজি হচ্ছিল না। এমনকি রাখাইনেও তাদের পরিদর্শন ছিল নিষিদ্ধ। এর মধ্যে আজ বুধবার মিয়ানমারের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা স্মারক চুক্তিকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যাবর্তনের ‘প্রথম পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের সেখানকার আবাসিক প্রতিনিধি কান্ট ওস্তবি। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ও সেনাক্যাম্পে হামলার পর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়। তারা বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী শরণার্থী শিবিরে এসে আশ্রয় নেয়। সেখানে এরই মধ্যে এক মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে আরো প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা। একে//

রোহিঙ্গাদের জমি ইজারা দিচ্ছে মিয়ানমার

রাখাইন রাজ্যে নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আবাদি জমি ইজারা দিচ্ছে মিয়ানমার সরকার। মিয়ানমারের ইরাবতী পত্রিকা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ৭০ হাজার একর জমির মধ্যে ১০ হাজার একর জমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। বাকিগুলোও লিজ দেওয়া হবে। যদিও দেশটির আইনমন্ত্রী বিষয়টি অস্বীকার করেছে। রাখাইন রাজ্যের আইনমন্ত্রী উ মং অন ভাষ্য, জমিগুলো খালি ফেলে রাখা ভালো হবে না। স্থানীয় মানুষ ও ভূমিহীন কৃষকদের এগুলোতে চাষ করতে দেওয়া উচিত। বেসরকারি কোম্পানিকেও এসব জমি লিজ দেওয়া যেতে পারে।গেল বছরের আগস্টে সেনা অভিযানের মুখে ভিটামাটি ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। আর এ কারণে এত বিপুল পরিমাণ অনাবাদি রয়েছে। আর লোকবলের অভাবে জমি চাষাবাদও করতে পারছে না রাজ্য সরকার। এদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার একর জমি লিজ দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন রাখাইনের কৃষি, খনন ও বনায়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী উ কিয়াও লিন। তিনি বলেছেন, আমরা এখন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। তারা যা নির্দেশ দেবে আমরা তেমনটাই করব। ৭০ হাজার একর জমিতে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নেই আমাদের। তিনি আরও বলেন, যেসব রোহিঙ্গা পালিয়ে যায়নি, তারা নিজেদের জমিতেই চাষাবাদ করতে পারবে।প্রসঙ্গত, রাখাইন রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী সেখানে মোট ১ কোটি ১০ লাখ একর ধানি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ হাজার মংডুতে, ৭৭ হাজার বুথিয়াডংয়ে ও ৮৮ হাজার রথেডংয়ে।মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিরীপড়েন মুখে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে।সূত্র : ইরাবতী/ এআর /

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে রাজি মিয়ানমার (ভিডিও)

রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি। নেপিদোতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আগামী সপ্তাহেই এই চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া। সেপ্টেম্বর ২০১৭। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ। রোহিঙ্গাশূন্য গ্রামের পর গ্রাম। সামরিক অভিযানে প্রাণভয়ে পালিয়ে পাশের দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ৭ লাখ মানুষ। একে জাতিগত নিধন অভিযান বলে মত দেয় জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এই অবর্ণনীয় দুর্দশায় শুরু হয় এক বহুমাত্রিক কূটনৈতিক যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জাতিসংঘ একরোখা যুক্তিবিবর্জিত মিয়ানমারকে বাগে আনতে সবাই জড়িয়ে পড়ে এই কূটনৈতিক লড়াইয়ে। অবশেষে দীর্ঘ ৯ মাস পর আরাকানের আকাশে সমঝোতার সম্ভাবনা উকি দিলো। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ তৈরি’ এবং তাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার বিষয়ে ইউএনএইচসিআর এবং ইউএনডিপির সঙ্গে সমঝোতা করতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার সরকার। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলছে, যেহেতু পরিস্থিতি এখনও রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরার জন্য সহায়ক নয়, তাই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য মিয়ানমার সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এই সমঝোতা হবে প্রথম পদক্ষেপ। সংস্থাটি এরই মধ্যে এ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। একে//

চাপের মধ্যেও মিয়ানমারে জাতিগত নিধন চলছে : যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনারা জাতিগত নিধন অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত বৈশ্বিক ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের তৈরি করা বার্ষিক প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় গত বছরের নভেম্বরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারপরও সেখানে সহিংসতা বন্ধ হয়নি। বরং নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণের শিকার হয়ে নতুন করে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।এমনকি মিয়ানমারের কোচিনে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে এখনো সহিংসতা অব্যাহত আছে বলে মন্তব্য করেন বৈশ্বিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক মার্কিন দূত স্যাম ব্রাউনব্যাক।গত বছরের আগস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর নীপিড়নের মুখে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরো চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে।  ২০১৭ সালে চীনের দেওয়া হিসাব মতে, সহিংসতা আর হানাহানির কারণে মিয়ানমার থেকে প্রায় ২০ হাজারের অধিক মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। এবং ২০০৯ ও ২০১৫ সালের সহিংসতার সময় ১০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।সূত্র : মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইট।/ এআর /

স্বেচ্ছায় ফেরত ৬২ রোহিঙ্গাকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬২ জন রোহিঙ্গা রাখাইনে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে ৫৮ জনকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। বাকি ৪ জন আদালত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ওই রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত করতেই তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে `অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসনস ফ্রম রাখাইন স্টেট` নামে চুক্তি সম্পাদিত হয়।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী, যারা ফিরে যাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না এবং যাছাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে আটক করা হলেও চুক্তির শর্তাবলী `বাস্তবায়নে` ফেরত যাওয়া সেই রোহিঙ্গাদের ক্ষমা করেছেন প্রেসিডেন্ট। বাছাই প্রক্রিয়া শেষে তাদের ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হবে। দেশটির স্টেট কাউন্সেল অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যারা মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে গেছেন, তাদের সবাই স্বেচ্ছায় গেছেন। তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে করা চুক্তির বিষয়ে জ্ঞাত নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যারা মিয়ানমারে ফিরে গেছেন, প্রাথমিকভাবে তাদের আটক করা হয়েছিল। মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী তাদের গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তীতে তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, গত আগস্ট থেকে দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর অন্তত ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সূত্র: মিয়ানমার টাইমস এমজে/

ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্প থেকে সরানো হচ্ছে দেড় লক্ষ রোহিঙ্গাকে

বর্ষা মৌসুমে কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক লাখ ৩৩ হাজার জনকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে তাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের কুতুপালং শিবিরের পাশেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে দুই মাসের মতো সময় লেগে যাবে। আর বর্ষা মৌসুমের পরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাষানচরে সরিয়ে নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বর্ষ মৌসুমে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, পাহাড়ি ধস বা পাহাড়ি ঢলের আশংকা থেকে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে থাকা রোহিঙ্গাদের সবাই ঝুঁকির মধ্যে আছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়ায় এবং টেকনাফে আশ্রয় নেওয়ায় বন ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে সেখানে পাহাড় ধস বা পাহাড়ি ঢলের আশংকার কথাও বলা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার এবং ইউএনএইচসিআরসহ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো একটি জরিপ চালিয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকা রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করেছে। ত্রাণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল জানান, ঝুঁকির মধ্যে থাকা রোহিঙ্গাদের শিবিরের কাছেই নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জরিপে দেখা গেছে, ফ্ল্যাশ ফ্লাডের জন্য এক ধরণের ঝুঁকি আছে। তারপরে বন্যা, পাহাড় ধস এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি আছে। এসব মিলিয়ে এক লাখ ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা ঝুঁকির মধ্যে আছে।তাদের জন্য ৩২ হাজার শেল্টার তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার শেল্টারে লোক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের সরিয়ে নিতে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।’ তিনি আরও জানান, ঝুঁকির মধ্যে থাকা এই রোহিঙ্গাদের আপাতত নেওয়া হচ্ছে কুতুপালং শিবিরের পাশে নতুন ১২৩ একর জমিতে। বর্ষায় পাহাড়ি ঢল বা কোনও বিপর্যয় হলে কি ব্যবস্থা নিতে হবে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার, সেনাবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে কয়েকদিন ধরে মহড়ার ব্যবস্থাও করেছে। গতকাল শনিবার এই মহড়ার উদ্বোধন করার পাশাপাশি মো. শাহ কামালসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা শিবিরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। কক্সবাজারে জাগ্রত নারী উন্নয়ন নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রোহিঙ্গা নারীদের নিয়ে কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিউলি শর্মা জানান, এবার এখনই অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে বিলম্ব করা হয়েছে। শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের সবাই ঝুঁকির মধ্যে আছে বলে তিনি মনে করেন। তবে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়নি বলে দাবি করেছেন সচিব মো. শাহ কামাল। তিনি বলেছেন, এখন বর্ষা মৌসুম সামাল দেওয়ার পর ভাষানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নেওয়া হবে। সেখানে এক হাজার ৫০০ একর জমির ওপর নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের থাকার মতো সব ব্যবস্থা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এদিকে, কক্সবাজার প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে শূন্য রেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য মিয়ানমারর বাহিনী আবারও মাইকিং করেছে। এনিয়ে সেখানে রোহিঙ্গাদের মাঝে নতুন করে ভীতি তৈরি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি একে//

রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসান ঘটাতে হবে : নিরাপত্তা পরিষদ

রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে একটি মানবিক সঙ্কট এবং মানবাধিকারের সঙ্কট হিসেবে দেখছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল। তারা বলেছেন, সঙ্কটের সমাধান না করে এই সমস্যা এভাবে ফেলে রাখা যায় না। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখে সোমবার ঢাকা ছাড়ার আগে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের পক্ষে কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, যে বার্তা আমরা মিয়ানমার, রোহিঙ্গা শরণার্থী আর পুরো বিশ্বকে দিতে চাই, তা হল এই সঙ্কটের অবসান ঘটাতে এবং সমাধানের একটি পথ খুঁজে বের করতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রতিনিধি দলের নেতা নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি গুস্তাবো আদোলফো মেসা কুয়াদ্রা ভেলাসকাসও ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সেনবাহিনীর বর্বরতা থেকে বাঁচতে দেশটির রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা দলে দলে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে অবস্থান নিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার বলে আসছে বাংলাদেশ সরকার।পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পর্ষদ হিসেবে বিবেচিত নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ দেশের প্রতিনিধিসহ ৪০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। সোমবার তারা রওয়ানা হন মিয়ানমারের নেপিদোর উদ্দেশ্যে।গতবছর অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়ার পর এই প্রথম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্রতিনিধি দলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করল।মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যা নির্যাতনের মুখে গত আট মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে জাতিসংঘ বর্ণনা করে আসছে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে।নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশে এলেও এই সঙ্কটে জাতিসংঘের এই পর্ষদ কীভাবে সম্পৃক্ত হবে তা নিয়ে মিয়ানমারের দুই মিত্র দেশ রাশিয়া ও চীনের ভিন্নমত ছিল।   কুয়েতের প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, চীন বা রাশিয়ার দিক থেকে কোনো বাধা তিনি দেখেননি।তারা নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য এবং তারাও আমাদের সাথে আছে। তাদের বক্তব্য গতকাল আপানারা শুনেছেন। আজ তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং এই সঙ্কটের সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।অবশ্য তারা যে এ সমস্যার  সহজ বা তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান দেখতে পাচ্ছেন না, সে কথাও বলেন  মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি।এর আগে তারা গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহার রিজভী,পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।/ এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি