ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪৪:৪২

প্রাথমিক পর্যায়ে ফেরত যাচ্ছেন ৮,০৩২ রোহিঙ্গা

প্রাথমিক পর্যায়ে ফেরত যাচ্ছেন ৮,০৩২ রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে ৮ হাজার ৩২ জনের একটি তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। মোট ১ হাজার ৬৭৩টি পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে ফেরত পাঠাতে এই তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।গতকাল ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিউ সোয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তালিকাটি তুলে দেন।  বৈঠক শেষে আসাদুজ্জামান খান বলেন, “তারা [মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ] পরিবার ধরে রোহিঙ্গাদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিতে বলেছিল। আমরা ১,৬৭৩টি পরিবারের ৮,০৩২ জনের একটি তালিকা দিয়েছি। তারা এখন তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।”বিকাল ৩টায় শুরু হয়ে তিন ঘণ্টা ধরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠক চলে। তবে ঠিক কবে নাগাদ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে শুরু করবেন সে ব্যপারে এখনও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়নি। আমাদের আশা খুব শিগগির এটা শুরু হবে।”রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গত বছর ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার এখনো আন্তরিক নয়, এমন অভিযোগ এনে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ।  এমজে/
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে: হ্যালি

রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতি নিধন অভিযান পরিচালনায় করায়,মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। এদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর গণহত্যা হয়েছে এ বিষয়টি স্বীকার করে নিতে ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সুচির ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান হ্যালি। এসময় তিনি বলেন, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা দেশটিতে গণহত্যার বিষয়টি এঁড়িয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে আসছে। দেশটিতে ভ্রমণে সাংবাদিকসহ অন্যদের যাতায়াতে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে গণহত্যা প্রমাণের আরেকটি অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, রাখাইনে জাতি নিধনের অভিযোগ বেমালুম প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে মিয়ানমার সরকারের ভিতরকার শক্তিশালী শক্তি। কি মাত্রায় নৃশংসতা হয়েছে তা প্রত্যক্ষ করতে পারে এমন কাউকে বা কোনো সংগঠন, এমনকি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে তারা রাখাইনে প্রবেশের সুবিধা দিচ্ছে না। এসময় দেশটিতে আটক রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে মুক্তির দাবি জানান তিনি। এদিকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ফ্রাঁসোয়া ডিলাট্টের বলেন, রয়টার্স গণহত্যার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে দেশটিতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। তাই অচিরেই নিরাপত্তা কাউন্সিলকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

রয়টার্সের দুই সাংবাদিক গ্রেফতারের নেপথ্যে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে খবর সংগ্রহ করার সময় দুই সাংবাদিককে আটক করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণহত্যার খবর সংগ্রহ ও তা প্রকাশ করায় ওই দুই সাংবাদিককে আটক করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এদিকে ওয়া লোন এবং কাইও সোও’র বিরুদ্ধে দেশের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রয়টার্সের দাবি, রাখাইনে ১০ নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নাগরিককে হত্যার ঘটনা উদঘাটন করায় তাঁদের গ্রেফতার করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। অন্যদিকে জনগণের স্বার্থেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর। এদিকে রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টেফান জে অ্যাডলার বলেন, ওয়া লোন ও কাইও সোও গ্রেফতারের পর তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখার চেষ্টা করেছি। এরপরই আমরা দুই রিপোর্টারের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিই, আমরা তাঁদের পাঠানো প্রতিবেদন প্রকাশ করবো। বিশ্বের মানুষের জন্য তাঁদের পাঠানো প্রতিবেদনের মূল্য অনেক বেশি ও মানুষের আগ্রহের জায়গা থেকে আমরা প্রতিবেদন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিই। এর প্রেক্ষিতেই ওই দুই সাংবাদিককে আটক করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সূত্র: বিবিসিএমজে/  

রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। গত বুধবার এক বিবৃতিতে হোয়াইটহাউজ ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় ও সংকট সমাধানে বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন মোদি ও ট্রাম্প। এসময় দুই নেতাই রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিধন অভিযানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর থেকৈ রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৬ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাবিশ্বের প্রতিটি দেশই এই ঘটনাকে নিধনযজ্ঞ বলে আসছে। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

রোহিঙ্গাদের তাড়াতে ডাকাতি চালিয়েছে সেনারা: অ্যামেনেস্টি

রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করতে প্রথমে তাঁদের ঘর-বাড়িতে ডাকাতি চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। শুধু তাই নয়, নারী-পুরুষ-শিশুদের খাদ্য ও সম্পদহীন করতে প্রত্যেক রোহিঙ্গার বাড়িতে যা ছিল, সব কিছু লুট করে নিয়ে যায় দেশটির কর্তৃপক্ষ। এমনকি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জীবন অসহনীয় করে তুলতে তাঁরা প্রতি বাড়িতে ধর্ষণ চালিয়েছে। আর এর মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করা হয়েছে, মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণায় এ চিত্র ওঠে এসেছে। গত বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এখনো দেশটি সংখ্যালঘুদের নিধন অভিযান চলছে। আর এদের মধ্যে ৬ লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা এই নিধন অভিযান থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা পরিবারের মেয়ে ও মহিলাদের জোর করে ধরে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় যুবতী নারীদের চেকপোস্ট বসিয়ে নিজেদের জিম্মায় রেখে দেয় সেনারা। এরপর তাদের ওপর পালাক্রমে চালায় নির্যাতন। এদের অনেকের মৃত্যু হয়েছে কেবল গণধর্ষণের ফলে। আর এটাই রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছে অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। এদিকে অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গারা বলেন, দেশ ছাড়ার অন্যতম কারণ কেবল খাদ্য সংকট। দিলদার বেগম নামের এক রোহিঙ্গা মহিলা বলেন, আমরা খাদ্য পাইনি। অন্য কারণের মধ্যে মূলত খাদ্য সংকটের জন্যই আমরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। সূত্রঃ আল-জাজিরাএমজে

মায়ের কোলে এখনো ফেরেনি ইয়াসমিন

২০১২ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসেন নয়না খাতুন। এরপর আশ্রয় নেন কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেখানেই পাচারকারীদের কাছে হারান নিজের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ইয়াসমিনকে। শুধু নয়না খাতুন-ই নয়, তার মতো আরও অনেক নারী তার কন্যা শিশুদের হারাচ্ছেন পাচারকারীদের হাতে। জানা যায়, তিন বছর আগে নয়নার কাছে আসেন পাচারকারী দলের দুই সদস্য। বাড়ির কাজের জন্য ১২-১৪ বছর বয়সের মেয়ে খুঁজে দিতে নয়নাকে অনুরোধ করেন ওই দুই ব্যক্তি। পরে অভাবের তাড়নায় নিজের মেয়ে ইয়াসমিন অজান্তে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেন নয়না। এরপর মেয়ে চলে যায় ভারতে। সেখানে বিএসএফের কাছে ধরা পড়ে দুই পাচারকারী। আর তার মেয়ের জায়গা হয় কোলকাতার পাচারের শিকার হওয়াদের এক ক্যাম্পে। নয়না জানান, কয়েক মাস পরপর মেয়ের সঙ্গে তার কথা হয়। তবে টাকার অভাবে মেয়ের কাছে যেতে পারছেন না তিনি। আল-জাজিরার কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একমাত্র আল্লাহ-ই জানেন, আমি প্রতিদিন কি যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি। আমার টাকা নেই, তাই ভারতে যেতে পারছি না। এদিকে আমার মেয়ে আমাকে নিষেধ করেছে, পাসপোর্ট ছাড়া যাতে ভারতে না যাই।’ সূত্র: আল-জাজিরাএমজে/  

মানবাধিকার কর্মীদের পাত্তা দিওনা

‘দুজনই খুনের দায়ে অভিযুক্ত’। একজন নিজে খুনীদের উৎসাহিত করার জন্য দায়ী। অন্যজন তথাকথিত মাদক-পাচার বন্ধের নামে স্বয়ং হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। এদের একজন মিয়ানমারের একসময়ের ডি ফ্যাক্টো নেত্রীখ্যাত অং সান সু চি ও অপরজন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। এবার খুন বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের চাপকে তোয়াক্কা না করার পরামর্শ দিয়েছেন ফিলিপাইনের বিতর্কিত নেতা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। ভারতের নয়াদিল্লিতে ফিলিপিন্স-ভারত বিজনেস ফোরামে দেওয়া এক বক্তব্যে দুতার্তে এ মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বলেন, মানবাধিকার কর্মীরা কেবলই ‘গলাবাজের দল’। তাদের হৈ চৈ নিয়ে সু চির মাথা ঘামানো উচিত না। এ সম্মেলনে দুই দেশের প্রধানই অংশ নিচ্ছেন। দুতার্তে আরও বলেন, “আমরা আমাদের নিজেদের দেশের কথা বলছি, নিজ দেশের স্বার্থের কথা বলছি... এবং আমি বলছি মানবাধিকার কর্মীদের নিয়ে কিছু ভাববেন না। তারা আসলে গলাবাজের দল ছাড়া আর কিছুই না।” এসময় তিনি মানবাধিকার সংগঠনসহ আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন। সু চির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, সু চির জন্য আমার কষ্ট হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক মহলর চাপে রয়েছেন। তবে এ চাপের কাছে মাথা নত না করাও দাবি জানান তিনি। এদিকে রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর চালানো গণহত্যা বন্ধে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে রয়েছেন সু চি। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় সু চিকে বিশ্বের অনেক দেশ, প্রতিষ্ঠান ও দেশ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত করেছিলেন। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশ কয়েকটি দেশ-বিশ্ববিদ্যালয়-প্রতিষ্ঠান সু চিকে দেওয়া পদক ফিরিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুতার্তে। এর আগে সু চির মতো দুতার্তেও মানবাধিকার কর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। ফিলিপাইনে মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে ‘হত্যার’ নীতি চালিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হয়েছেন। এমজে    

রোহিঙ্গা নিধন এখনও চলছে

মিয়ানমারে এখনও জাতিগত নিধন অভিযান চলছে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ম্যাগাজিন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, দেশটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে বাংলাদেশ। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ নানা কারণ দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠায়নি। নিবন্ধে বলা হয়, গত আগস্টে নিধন অভিযান শুরু হলে গণধর্ষণ ও গণহত্যা থেকে বাঁচতে ৬ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দাবি করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, বাংলাদেশ যে কাজটি করেছে তা প্রশংসার। তবে চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে বেশ ত্রুটি রয়েছে বলে দাবি করে তারা। এদিকে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করে ফাঁদে পা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। তাদের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি বিশ্বদৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের নাগরিক, তা প্রমাণ কর হবে। এটা কার্যত অসম্ভব। আশির দশকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় মিয়ানমার। শুধু তাই নয়, এরপর থেকে তাদের সব ধরণের সরকারি কাগজ-পত্র দেওয়া বন্ধ করে দেয় সরকার। আর সাম্প্রতিক সহিংসতায় রোহিঙ্গারা যখন মিয়ানমার ছেড়ে পালালো, তখন তাদের অনেকের সম্বল ছিল শুধু গায়ে জড়ানো কাপড়টুকু। সেনারা তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেবার ফলে সঙ্গে নেবার মত কোনকিছু ছিলোনা অনেকের-ই। এখন খুব কম সংখ্যক রোহিঙ্গাই মিয়ানমারে ফেরত যেতে ইচ্ছুক। কারণ এখনো সেনাবাহিনী সেখানে জ্বালাও-পোড়াও অব্যাহত রেখেছে। এখনো রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসছে প্রতিদিন। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা । মিয়ানমার সরকার অঙ্গীকার করেছে যে, প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের প্রথমে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হলেও, পরবর্তীতে তারা নিজেদের বসত ভিটায় ফিরে যেতে পারবেন। তবে সরকারি এ আশ্বাসে যুক্তিযুক্ত ভাবেই রোহিঙ্গারা আশাবাদী হতে পারছেন না। কারণ, ২০১২ সালেও একবার মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জেরে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পে জায়গা দেয় সরকার। তাদের এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। যেতে দেওয়া হয়নি তাদের নিজনিজ ঠিকানায়। এছাড়াও, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার পর্যাপ্ত প্রমাণাদি থাকা স্বত্বেও সু চি’র সরকার সেনাবাহিনীর অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বহিরাগত বা বিদেশী তদন্তকারীদের সেখানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এ তালিকায় রয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি-ও। তাকে মিয়ানমারে প্রবেশের ভিসা দেয়া হয় নি! বিদেশী সাংবাদিকদের রোহিঙ্গাদের আবাসস্থলে প্রবেশে দিয়ে রাখা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ফলে সু চি বিশ্বের কাছে মুখ খোলার জায়গা পেয়েছে। তবে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নির্যাতন বন্ধে তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। এমনকি রাখাইন রাজ্যের নিধন অভিযানকে তিনি কোন গুরুত্ব-ই দেননি। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোকে একটি কঠিন অবস্থার মুখে দাঁড় করিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞকে ‘জাতি নিধন’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে, দেশটিতে কোন ধরণের অবরোধ আরোপের পক্ষে তিনি মত দেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অবরোধ আরোপ করা হলে তা মিয়ানমারের গনতন্ত্রায়ন ব্যাহত করবে। তবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা মিয়ানমারে জাতিগত নিধন অভিযান বন্ধ করতে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসলেও সে বিষয়ে কর্ণপাত করছে না সূচি। তাই দেশটিতে রোহিঙ্গা নিধন অভিযানও থামছে না। সুত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নালএমজে/

সু চির প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ালেন মার্কিন কূটনীতিক

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অংসান সূচির করা আন্তর্জাতিক প্যানেল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন। সূচির এই প্রচেষ্ঠাকে আইওয়াশ বলে মন্তব্য করে সূচির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন এই কূটনীতিক। মিয়ানমার তার বক্তব্যের কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে মিয়ানমার কোন প্রতিক্রিয়া না দেখালেও দেশটির সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রাখে এমন একজন কূটনীতিক তার সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্লিনটন প্রশাসনের সাবেক ওই উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে করা এই উপদেষ্টা প্যানেল কেবল হোয়াইটওয়াশ বোর্ড। এটির কোন ক্ষমতা নেই। তাই আমি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি সরকারের উৎসবমুখর স্কোয়াডের সদস্য হতে চাইনা। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জানা যায়, গত আগস্টে দেশটি থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নিধন অভিযান থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ইতোমধ্যে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রত্যাবর্সনে একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। ওই চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সরে দাঁড়ালেন রিচার্ডসন। রয়টার্সকে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, সূচি খুব ভয়ানক। আর তিনি উপদেষ্টা পরিষদের কোন পরামর্শ মানছেন না বলেও তিনি অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, সূচিকে আমি অনেক সম্মান করি, পছন্দ করি। তবে রাখাইন ইস্যুতে তার নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। রিচার্ডসন পদত্যাগ করার পূর্বে ওই পরিষদে ১০ জন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। সুত্র: বিবিসিএমজে/

‘রোহিঙ্গা গণহত্যায় ভারত চীন রাশিয়াও দায়ী’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপরে যে ‍নির্যাতন ও গণহত্যা চালানো হয়েছে তার দায় শুধু মিয়ানমার সরকারের নয়; বরং চীন, রাশিয়া, ভারতেরও এ দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটস। মানবাধিকার এই সংস্থাটি বলছে তিন দেশের দেওয়া অন্ত্র দিয়ে রোহিঙ্গাদের উপরে নির্যাতন করা হয়েছে। আজ বুধাবার রাজধানীর সোনারগাঁওয় হোটেলে  সংস্থাটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে  এ কথা জানানো হয়।  তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনে চারদিনের সফরে ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশে এসেছেন। সংবাদ সস্মলনে  বক্তরা বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন, নৃশংস নিধনযজ্ঞ চলেছে তা নজিরবিহীন। ভারত, চীন ও রাশিয়া চাইলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপরে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের উচিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনে চাপ সৃষ্টি করা।  বক্তরা বলেন, রোহিঙ্গা-সমস্যাটি এক কথায় বহুমাত্রিক। শরণার্থী সমস্যার পাশাপাশি মানবপাচারসহ একারণে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যাটি এখন শুধু মিয়ানমারের নয়, এটি গোটা আসিয়ান অঞ্চলের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আরও বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও অব্যাহত অত্যাচার নির্যাতনের মুখে অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এমন নিদারুণ মানবিক সংকটকালে বাংলাদেশ নিজের অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।  প্রতিনিধি দল জানান, রোহিঙ্গারা নিজেরাও তাদের দেশে ফিরতে চায়।কিন্তু এখনও মিয়ানমারে খুন হত্যা হচ্ছে।মিয়ারমার সরকারের উচিত রোহিঙ্গাদের সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবসনের ব্যবস্থা করা।এসময় মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য চার্লিস সান্তিয়াগো বলেন, প্রতিবেশী দেশে এমন নির্মম কাজ হতে পারে তা কেউ ভাবতে পারে না। বর্মী সেনারা ১২ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এটি একটি অসুস্থতার লক্ষণ। বাংলাদেশ লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপেই এটা সম্ভব হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আসিয়ান দেশগুলোকে এখন একজোট হয়ে কাজ করতে হবে।  আরও জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের প্রত্যাবসন ব্যবস্থা করা এবং হত্যার দায়ে মিনায়মান সেনাবাহিনীর বিচারের আওয়াত নিয়ে আসা।  প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। শুধু কিছু ফেসবুকিং সুবিধা ও রেডিও আছে, যা পর্যাপ্ত নয়। এ প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া হবে   টিআর/টিকে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কাল থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আপাতত তা শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম আজাদ। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তবে প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু হতে আরো সময় লাগবে।  তিনি বলেন, ‘আমরা যদি প্রত্যাবাসনকে একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি তাহলে একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা, যে কোন নীতির ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে, দ্বিতীয় হলো কাঠামোগত প্রস্তুতি ও তৃতীয়টি শারীরিক বা মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু করা।’ তবে ইতোমধ্যে প্রথম ধাপটি সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। কারণ একটি ফ্রেমওয়ার্ক হয়েছে এবং ১৯ ডিসেম্বর জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি হয়েছে। এরপর চলতি মাসে মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে এ কমিটির বৈঠকে প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত চুক্তিও সাক্ষরিত হয়েছে। আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছি। যেসব প্রস্তুতিমূলক কাজ দরকার প্রত্যাবাসনের জন্য সেটি হাতে নিয়েছি। এটা হয়ে গেলে প্রকৃত প্রত্যাবাসনের কাজে হাত দেয়া যাবে বলে আশা করছি।’ মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের কোন তালিকা দেয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোনো কোনো  গণমাধ্যমে লেখা হয়েছে যে এক লাখের তালিকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এটি আসলে এক লাখের বিষয় নয়। মিয়ানমারের অভিবাসী সবাই প্রত্যাবাসনের তালিকায় আসবে, যা প্রায় সাত লাখ ৬০ হাজার। তিনি বলেন, ‘আমরা তালিকা তৈরির কাজ করছি। এটি হবে পরিবার ও গ্রামভিত্তিক। আমরা এখনো মিয়ানমারকে কোনো তালিকা দেইনি। যেভাবে দিতে হবে সেভাবে তালিকা তৈরির কাজ চলছে।’ এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তারা জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাই কমিশন বা ইউএনএইচসিআরকে সম্পৃক্ত করতে সমঝোতা সাক্ষর করবেন। কিন্তু তাদের এ কাজে সম্পৃক্ত করার দরকার হলো কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার বলেন দুটি কাজে তাদের ভূমিকা থাকতে পারে।  তার মতে, ‘একটি হচ্ছে আমরা বলেছি প্রত্যাবাসন হবে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায়। এ স্বেচ্ছার বিষয়টা ঠিক করতে বা নিরূপণ করতে তাদের কাজে লাগাতে পারি। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের প্রাক পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য তাদেরও কাজে লাগাতে পারি। এ দুটি ক্ষেত্রে তারা কাজ করবে বলে আমরা আশা করছি।’  তিনি বলেন, শরণার্থী কার্যক্রমে জাতিসংঘের এ সংস্থার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন কার্যক্রমটিকে অধিকতর বৈধতা দেয়া ও দৃঢ় করতে তাদের সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ। আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে যেসব প্রস্তুতির কথা তারা বলছেন সেটি বাংলাদেশের দিক থেকে নেয়া পদক্ষেপ। কিন্তু বিষয়টি এক পাক্ষিক নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক। তিনি আরও বলেন, উভয় দিক পরিপূর্ণ প্রস্তুত হলেই প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু হবে। আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটি কোন আটকে যাওয়ার বিষয় নয় বরং তার মতে প্রত্যাবাসন একটা প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে সেটি শুরু হয়েছে এবং অনেকদূর অগ্রসর হয়েছি। তিনি বলেন, ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করাটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিলো যার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ প্রত্যাবাসন হবে। চুক্তিতে ছিল দু’মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভেরিফিকেশন ফরমেটসহ অনেকগুলো বিষয় ঠিক হয়েছে। বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে, তবে একটু সময় লাগবে। কেআই/ এমজে

‘বর্ষায় রোহিঙ্গাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসবে’

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গা নাগরিকদের মানবিক জীবন আরও বিপর্যয়ের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে জাতিসংঘের এক ঊর্ধতন কর্মকর্তা। আগামী কয়েক মাসে ওই ক্যাম্পগুলোতে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের করা প্রত্যাবাসন চুক্তিরও বিভিন্ন দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওই ব্যক্তি। জাতিসংঘের ওই পর্যবেক্ষকের নাম ইয়াং লি। কক্সবাজারেরর বালুকালি ক্যাম্পে আল-জাজিরার কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের ঊর্ধতন কর্মকর্তা ইয়াং লি বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দেশটিতে বর্ষার মৌসুম আসবে। এসময় মাটি ও পাহাড় ধসে বড় ধরণের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।’ লি আরও বলেন, ওই সময় দেশটিতে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া এত মানুষের যদি একসঙ্গে কোন রোগ দেখা দেয়, তাহলে তা মোকাবেলা করা চ্যালেঞ্জিং হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইয়াং লি এর আগে মিয়ানমার সফর করতে চাইলে দেশটির সরকার তাকে মিয়ানমারে প্রবেশ করতে দেয়নি। ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেশটিতে বছরে দুইবারেরও বেশি সময় ভ্রমণ করতেন। গত বছরের আগস্টে দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর লিকে আর সেখানে ভ্রমণ করতে দেওয়া হয়নি। সাক্ষাৎকারে লি আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীসহ বিশ্বের জাতিগুলোকে রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এসময় তিনি বলেন, এটা শুধু মানবিক কারণে নয়, রোহিঙ্গাদের সাহায্য করা এখন বিশ্বের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। সুত্র: আল-জাজিরাএমজে/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি