ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০:১৮:৪৯

আজ রাখাইন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আজ রাখাইন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারের নেওয়া প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো সরেজমিন দেখতে আজ শনিবার রাখাইন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গতকাল শুক্রবার নেপিদোয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দুই মধ্যে একটি হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হটলাইনে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আলোচনা হবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ফেরিয়ে নিতে যে ফরম তৈরি করা হয়েছে তা পূরণ করতে হবে তাদের নিজেদেরই। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অফিস থেকে এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আর মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অফিসের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে। প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ১২টায় তিন দিনের সফরে মিয়ানমারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকও রয়েছেন।  দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠকের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের আবাসন সুবিধা, চলাফেরা, জীবনযাত্রাসহ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতিও দেখবে প্রতিনিধি দল। একে//
রোহিঙ্গা পরামর্শক প্যানেল থেকে সেক্রেটারির পদত্যাগ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেছেন থাইল্যান্ডের সাবেক কূটনীতিক কবসাক চুটিকুল। তিনি ওই প্যানেলের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই পদত্যাগের ফলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকারের এই উদ্যোগের বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধরনের ধাক্কা খেলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করলেও এতদিন বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমক জানানো হয়নি। থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য কবসাক পদত্যাগের বিষয় ব্যাখ্যা করে জানান, স্থানীয় ও বিদেশী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই প্যানেলটি এই সপ্তাহে নেইপিদোতে তৃতীয় বৈঠক করেছে। জানুয়ারিতে প্যানেলটি গঠনের পর থেকে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে এবং ছয় মাসে কোনও অর্জনই আসেনি। কবসাক জানান, প্যানেলটিকে আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করতে দেওয়া হয়নি। কমিটিকে বলা হয়েছে অনলাইনে বৈঠক করার জন্য। সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা প্যানেলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। প্যানেলের স্থানীয় সদস্য ও মিয়ানমারের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান উইন ম্রা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করছেন, প্যানেল কাজ করছে। তিনি বলেন, সরকার আমাদের পরামর্শ বাস্তবায়ন করছে এবং অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই অভিযানে অন্তত ৭ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এমজে/

রোহিঙ্গা সংকট: এখন যা করতে পারে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে প্রসংশা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ৷ গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সফর করছেন৷ সবাই বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত নিতে হবে৷ কিন্তু ফিরিয়ে নেয়া শুরু হচ্ছে না৷ এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার৷ কিন্তু তারপর কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না৷ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে, সবাই সহানুভুতি দেখাচ্ছে, কিন্তু মিয়ানমার তাদের ফেরত নিচ্ছে না৷ তাহলে কি বাংলাদেশে চেষ্টায় কোনো ত্রুটি আছে বা ভিন্ন কোনো পথে যেতে হবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সমাধান হবে না্৷ আন্তর্জাতিক তৎপরতা দিয়েই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে৷ আসলে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য করতে হবে৷ পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ডয়চে ভেলের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ যা করা সম্ভব তার সবই করছে৷ এর কিছু আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, কিছু পাচ্ছেন না৷ রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশের যা করা দরকার তার সবই করা হবে৷`` সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে তৃতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের প্রধান গানার উইগান্ড রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করতে ইইউ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এজন্য এগিয়ে আসতে হবে৷ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান৷ পরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে৷ মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মেজর জেনারেল (অব.) শহিদুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘২০১৯ সালের আগে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আমার মনে হয় না৷ কারণ, আগামী বছর ওই দেশে জাতীয় নির্বাচন৷ সেখানে সামরিক বাহিনী বা সূচি`র পলিসি কী হবে সেটার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে৷ আসলে আমাদের ‘বড় ভাই` ভারত এ ব্যাপারে উদ্যোগী না হওয়া পর্যন্ত সমাধান পাওয়া কঠিন৷ আবার চীন মিয়ানমারকে সাহায্য করছে৷ ফলে তারা সাহস পাচ্ছে৷ আমাদের যে চেষ্টা আছে, তাতেই ফল মিলবে বলে আমি আশাবাদী৷`` কয়েকদিন আগে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চিঠির জবাব চিঠির জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ৷ অথচ মিয়ানমার সেই চিঠি গ্রহণই করেনি৷ ওই সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই এ সংকট সমাধানে বেশি আগ্রহী৷ বাংলাদেশ যেহেতু রোম সংবিধিতে সই করেছে, সেহেতু আইসিসির চিঠির জবাব দেওয়ার এক ধরনের বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের ছিল৷ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যেসব তথ্য চেয়েছে, আমরা কেবল সেগুলোই তাদের দিয়েছি৷ বাংলাদেশ এখনও মনে করে, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব৷`` এর আগে বাংলাদেশের কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে মিয়ানমার সেনাদের নিষ্ঠুর নিপীড়নের বর্ণনা শোনেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আর বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম৷ রোহিঙ্গাদের করুণ অবস্থা দেখে নিজেকে রোহিঙ্গাদের অবস্থানে দাঁড় করিয়ে হতবাক হয়ে পড়েন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট৷ তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করতে এসে জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখী হলাম৷`` রোহিঙ্গা শিশুদের মাঝে নিজ সন্তান ও নাতিদের মুখচ্ছবিও ভাসতে দেখেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব৷ এছাড়া তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এর্দোয়ান রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যা করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়৷ রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে তুরস্কের সহায়তা অব্যাহত থাকবে৷ এস ময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট ক্যাভুফোগলু৷ শান্তিতে নোবেল বিজয়ী তিন নারী ইরানের শিরিন এবাদি, ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান ও যুক্তরাজ্যের মেরেইড ম্যাগুয়ারও রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন৷ তাঁরাও রোহিঙ্গাদের কাছে নির্যাতনের বর্ণণা শুনে আঁতকে ওঠেন৷ বাংলাদেশের প্রসংশা করেন, পাশে থাকার আশ্বাস দেন৷ এমন অনেক আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এর মধ্যে বাংলাদেশ সফর করেছেন, গেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে৷ সবাই বলছে, দ্রুত তাঁদের ফেরত নেয়ার কথা৷ কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না৷ কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না মিয়ানমার৷ বাংলাদেশের পক্ষে আর কী করা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ড. সি আর আবরার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সমাধান হবে না৷ এটা এতদিনে বোঝা গেছে৷ আর রোহিঙ্গা সমস্যা যে দীর্ঘমেয়াদি, সেটাও আমাদের জানা৷ এখন আইসিসির চিঠির জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ, এটা ভালো দিক৷ এসব পথ দিয়েই সমাধানে আসতে হবে৷ কারণ, তারা রোহিঙ্গাদের শরণার্থীই বলছে না, গণহত্যাকে গণহত্যা বলছে না৷ ফলে তাদের কাছে আমরা কী প্রত্যাশা করতে পারি৷ তাই আমাদের আন্তর্জাতিক পথেই যেতে হবে৷`` এমজে/  

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা: আগেই প্রস্তুতি ছিলো মিয়ানমারের

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের মুখে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। গত বছরের আগস্টে সংখ্যালঘুদের ওপর এ নৃশংসতা চালানোর জন্য আগে থেকেই ব্যাপকভিত্তিক এবং পদ্ধতিগত প্রস্তুতি ছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের। তাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর বেশ কয়েক মাস আগে থেকে এমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ব্যাংকক ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ ফোরটিফাই রাইটসের প্রকাশিত বিশেষ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা চালানো হয়েছে এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। গত আগস্টে রোহিঙ্গদের ওপর যখন হামলা শুরু হয় তাতে জড়িত ছিল মিয়ানমারের কমপক্ষে ২৭ আর্মি ব্যাটালিয়ান। এতে সেনা সদস্য ছিল ১১ হাজার। তার সঙ্গে ছিল কমপক্ষে তিনটি কমব্যাট পুলিশ ব্যাটালিয়ন। এসব অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য মিয়ানমারের ২২ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা কমান্ডাররা দায়িত্বে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই তালিকায় রয়েছেন কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইয়, ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উউন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল মাইয়া তুন ও। প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একই রকম অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের ১৩ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে সনাক্ত করে। এমন অভিযোগের ফৌজদারী তদন্তের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফোরটিফাই রাইটস। প্রসঙ্গত, আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস প্রতিশোধ নেওয়া শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো বর্বরতা বেছে নেয় তারা। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর এমন নৃশংসতা শুধু আরসার হামলার জবাব নয়। এটা হলো তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার একটি কৌশল। এমন কৌশল তারা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিল। সূত্র: টাইম একে//

‘রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা পেতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন, সন্ত্রাস দমন ও যে কোন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে দেশটি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ তথ্য জানান তিনি। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ভারত-বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়া আছে। আমাদের যখন যে সহযোগিতা প্রয়োজন ভারত দিচ্ছে। কারণ ভারতের সঙ্গে সর্বোচ্চ সুসম্পর্ক বিরাজমান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হচ্ছে। আমরা বলেছি রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে আছে। আমরা যে উদারতা দেখিয়েছি এটাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তারিফ করেছেন। তারাও বলছেন সঙ্গে থাকবেন, এটা সমাধান করার জন্য। তারা আরও সহযোগিতা করবেন। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু যারা এসেছেন, তাদের পুনর্বাসন কীভাবে করা যায় সে বিষয়ে সহযোগিতা করবেন। মন্ত্রী বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আশ্বাস দিয়েছেন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে তারা পাশে থাকবেন। এ ছাড়া ভিসা সহজীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় আসেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে একটি নতুন, আধুনিক ও সমন্বিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই দেশের বৈঠক শুরু হয় রোববার বেলা ১১টায়। শেষ হয় দুপুর পৌনে ১টার দিকে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজনাথ সিং সচিবালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর পূজা-অর্চনার জন্য ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান। উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এটি নিয়মিত বৈঠক। এর আগে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে নয়াদিল্লিতে সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একে//

রোহিঙ্গা পরিকাঠামো নির্মাণে ১০ কোটি ডলার দিল এডিবি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পরিকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশকে ১০ কোটি মার্কিন ডলারের অনুদান দিল ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ (এডিবি)৷ শুক্রবার অনুদানের কথা ঘোষণা করেছে এডিবি৷ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সেরে প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জন্য পরিকাঠামো নির্মাণ ও বিভিন্ন সেবামূলক কাজে এই টাকা খরচ করা হবে৷ মায়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা৷ মানবতার খাতিরে তাদের আশ্রয় দিলেও প্রবল চাপে রয়েছে উন্নয়নশীল দেশটির অর্থনীতি৷ পাশাপাশি পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ৷ এই পরিস্থিতিতে ঢাকার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত-সহ আন্তর্জাতিক মঞ্চ৷ কয়েকদিন আগেই রোহিঙ্গাদের জন্য ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেয় বিশ্বব্যাংক৷ পাশাপাশি ত্রাণ সামগ্রী পাঠাচ্ছে বহু দেশ৷ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মাতৃত্বকালীন, নবজাতক, শিশু, কিশোরদের স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রজননজনিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবার পরিকল্পনায় সাহায্য করা হবে। প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয় গত বছরের আগস্টে। রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংস আক্রমণ করতে শুরু করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। খুন ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা। এর আগে এসেছে আরও ৪ লক্ষ রোহিঙ্গা। সম্প্রতি অবশ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুর কিছুটা হলেও নরম করেছে মায়ানমার। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার পর প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে সু কি সরকার। গত মাসেই টানা বৃষ্টিতে প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হয় টেকনাফ ও কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলি। বানের জলে ভেসে যায় কয়েক হাজার আশ্রয় কেন্দ্র। বাংলাদেশের সরকার এর আগে বলেছিল, রোহিঙ্গাদের জন্য নোয়াখালির ভাসানচরে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে তারা। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভাসানচরে সুনির্দিষ্ট মডেলে ঘরবাড়ি এবং সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে আশ্রয় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বিপুল পরিকাঠামো নির্মাণে বিপুল অঙ্কের অর্থের জোগান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের কাছে৷ আরকে//

রোহিঙ্গা সংকট: আনান কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে যা আছে

গত মাসে আনান কমিশনের নতুন করে দেওয়া এক প্রতিবেদনে রাখাইন পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাখাইন পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি, বরং তা আরও খারাপ হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে ব্যাপকভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৬ সালে ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের সময়ই অং সান সু চি জানতেন রাখাইন তার জন্য বড় রাজনৈতিক বাধা হয়ে উঠবে। আর সেকারণে তিনি এই ইস্যুটি সামলাতে সাহায্য প্রার্থনার সিদ্ধান্ত নেন। দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় মাসেই সু চি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাখাইন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সুপারিশ তৈরির জন্য একটি কমিশনের নেতৃত্ব দিতে তিনি আনানকে অনুরোধ জানান। ২০১৬ সালের জুনে মিয়ানমারে সফর করে কফি আনান ফাউন্ডেশন। সেসময় সু চি’র অনুরোধে সাড়া দেন আনান। গত বছরের ২৪ আগস্ট কমিশনের কার্যকাল শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ৮ জুন প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাদের পরামর্শ ও সুপারিশ সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনের পরিস্থিতির ক্রমঃঅবনতি ঘটেছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে পরিস্থিতির এই অধঃগতি কমিশনের কাজের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। গত বছরের ২৪ আগস্ট কমিশনের তরফ থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ না করা হলে পরিস্থিতি এর চেয়েও খারাপ হতে পারতো। কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সালে রাখাইনে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় এক লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়ে, সু চি আসলে ভেবেছিলেন কমিশনে আনান ছাড়া বাকি যে বিশেষজ্ঞরা থাকবেন, তারা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক হবেন। তবে কফি আনান আর তার ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে ওই কমিশনে আরও দুইজন বিদেশি রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। যাতে করে কমিশনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সদস্যদের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। পরবর্তীতে ছয়জন দেশি আর তিনজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ সদস্যকে নিয়ে ওই কমিশন গঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করাকেই রাখাইন সংকট সমাধানের পথ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদনে। সেই সুপারিশগুলো আলোর মুখ দেখছে না বলে অভিযোগ রয়েছে আনান কমিশনের পক্ষ থেকে। এমজে/

রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে আসছেন জাতিসংঘ ও কানাডার বিশেষ দূত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দু:খ দুর্দশা দেখতে আসছে মিয়ানমারে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন স্ক্রানার বার্গেনার ও কানাডার বিশেষ দূত বব রে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল রোববার সকালে দু’দিনের সফরে বাংলাদেশে আসবেন বব রে। অন্যদিকে আগামী ১২ জুলাই তিন দিনের সফরে বার্গেনারের আসার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুই কূটনীতিক সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করবেন ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে যাবেন। বব রে ঢাকায় আসার পরই রোহিঙ্গাদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখতে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় চার লাখ সদস্য কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। তার উপর গত বছরের আগস্টে রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে নতুন করে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। কানাডার এই বিশেষ দূত গত বছরের নভেম্বরে প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে দ্বিতীয় সফর করেন। এটা হবে বাংলাদেশে তার তৃতীয় সফর। গত সপ্তাহে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে যান জাতিসংঘ মহাসচিব এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান। তারা রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে বলেন, রোহিঙ্গারা ন্যায়বিচার ও নিজ দেশে ফিরতে চায়। / এআর /

মিয়ানমারের লজ্জা হওয়া উচিত: জাতিসংঘ কমিশন 

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেন তার দায়িত্ব ছাড়ার আগে মিয়ানমারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার শেষ প্রতিক্রিয়ায় চার বছরের দায়িত্ব পালনকালে তার দেখা নিপীড়নের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত মানাবাধিকার অপরাধকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্টসম্পন্ন আখ্যা দিয়েছেন তিনি। রাখাইনে সংঘটিত নিপীড়ন হত্যাযজ্ঞসহ যাবতীয় ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে বলেছেন তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।   মিয়ানমার সেনাবাহিনী গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে। সন্ত্রাসবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে শুরু হয় নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশতে থাকে মৌসুমী বাতাসে। মানবাধিকার সংগঠনের স্যাটেলাইট ইমেজ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন আর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে শূন্যে ছুড়তে থাকে সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হয় তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মানুষকে। এমন বাস্তবতায় নিধনযজ্ঞের বলি হয়ে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণেই সম্ভবত; অনেক কষ্ট সত্ত্বেও মিয়ানমারের চেয়ে এ শিবিরকেই নিরাপদ জায়গা মনে করেন রোহিঙ্গারা। মিয়ানমার সরকারের দাবি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার কারণেই রোহিঙ্গা সংকটের উদ্ভব। সম্প্রতি তারা আরসার বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। রাদ আল হুসেইন হাই কমিশনার হিসেবে মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া তার শেষ বক্তব্যে মিয়ানমারের শীর্ষ এক কর্মকর্তার দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, মিয়ানমার সরকার কেবল একটি একক জনগোষ্ঠীর নয়, সবার অধিকারের সুরক্ষা দিচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে রাখাইনে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত দাবি করা হলেও মিয়ানমার এতে রাজি হয়নি। মিয়ানমারের সেই কথিত স্বাধীন তদন্তের প্রশ্নে বলতে গিয়ে রাদ আল হুসেইন মন্তব্য করেন, ‘চার বছর হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বহু উদ্ভট দাবি আমি শুনেছি। তবে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের যে দাবির কথা বললাম, ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে তা একেবারে নতুন ধারার। কিছু লজ্জাতো থাকা উচিত স্যার, কিছুটা হলেও। আমরা বোকা নই। মানবাধিকার পরিষদের ৩৮তম অধিবেশনের পর আর কোনও বৈঠক হচ্ছে না। দায়িত্ব ছাড়ার আগে এটাই জায়েদ হোসেনের শেষ বক্তব্য। তিনি বলেন, জাতিসংঘের যদি কোনও সদস্য রাষ্ট্র যদি তিনদিনের সহিংসতায় ৭ লাখ মানুষকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় এবং তাতে কোনও আন্তর্জাতিক চাপ না আসে, তবে এই রুমে থাকা বাকিরাও এমনটা করতে পারে। সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে একটি উদাহরণ টেনে হাই কমিশনার বলেন, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝে ৫৮ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত গেছে এবং তাদের বিভিন্ন অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাদের ক্ষমা করলেও বুথিয়াডং কারাগারে পাঠানো হয় তাদের। তবে একে বলা হয় ‘রিসিপশন সেন্টার’। জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর শেষ হওয়ার একদিনের মাথায় কমিশন থেকে এসব মন্তব্য আসলো। চূড়ান্ত অর্থে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখতেই জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস শনিবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে ঢাকায় আসেন। সোমবার (২ জুলাই) তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেওয়া হয়। টুইটারে গুতেরেস লেখেন: ‘বাংলাদেশের কক্সবাজারে এসে আমি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে হত্যা ও ধর্ষণের যে বর্ণনা শুনলাম, তা অকল্পনীয়। তারা ন্যায় বিচার ও নিরাপদে দেশে ফিরতে চায়।’ এসি    

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এখনো প্রস্তুত নয়: রেড ক্রস 

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের এখনও প্রস্তুত নয় বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)।   সম্প্রতি রাখাইন অঞ্চল পরিদর্শনকারী আইসিআরসি’র প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরার রবিবার (১ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমন পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন। মাউরারের দাবি, রাখাইন সফরে গিয়ে যা দেখেছেন, তাতে তিনি মনে করছেন না সহসা প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের বক্তব্য জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমার শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের বাঙালি মুসলিম আখ্যা দিয়ে নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আসছে। তবে এবারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার একপর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে সেই চুক্তির পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ধোঁয়াশা কাটছে না। চুক্তির আওতায় এখনও একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। এরমধ্যেই গত ৬ জুন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাতিসংঘ। তবে সেখানেও নাগরিকত্ব প্রশ্নটি অমীমাংসিত থাকায় এরইমধ্যে ওই চুক্তি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমার সরকার দাবি করে আসছে, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে প্রস্তুত। তাদের দাবি, প্রত্যাবাসনের জন্য দুইটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রত্যাসিত রোহিঙ্গাদেরকে প্রথমে রাখার জন্য রাখাইন সীমান্তে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তবে মিয়ানমারের এ প্রস্তুতি নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট। আইসিআরসি’র প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরার সম্প্রতি রাখাইন রাজ্য পরিদর্শন করেছেন। আর রবিবার (১ জুলাই) বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। এদিন রয়টার্সকে তিনি বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমার সফর করে যে পরিস্থিতি দেখে এসেছেন তাতে সেখানে রোহিঙ্গাদের এখনই ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। মাউরার বলেন, ‘আমি মনে করি, বড় আকারের প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনাকে বাস্তবে পরিণত করতে এখনও অনেক কাজ বাকি। প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের অভ্যর্থনা ও গ্রহণ সংক্রান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, প্রস্তুতি এবং পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে আবারও নিজেদের মাঝে গ্রহণ করতে রাখাইনের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রস্তুতি...সব কাজই এখনও অসম্পূর্ণ।’ রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাউরারের বক্তব্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে তাৎক্ষণিকভাবে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম বাতিল করার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মূল সহায়তাটুকু রেড ক্রস থেকেই আসছে। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদেরকে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সমর্থন দিচ্ছে বলে মিয়ানমার সরকার অভিযোগ তোলার পর ত্রাণ কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙের রশিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রং-বেরঙের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে। ধাপে ধাপে মলিন হয়েছে তাদের পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন বে নাগরিকে। গত ৮ জুন মিয়ানমার ও জাতিসংঘের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেখানেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নটি উপেক্ষিত। চুক্তির বিস্তারিত এখনও প্রকাশিত না হলেও তা ইতোমধ্যেই অনলাইনে ফাঁস হয়েছে। গত ২৯ জুন এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে,তারা দুইটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থার সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে এটিই মিয়ানমার-জাতিসংঘ সমঝোতার খসড়া। ওই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন আগে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়। তবে তার আগেই এর মূল ভাষ্য রচিত হয়েছিল কূটনীতিক ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য দেওয়া জাতিসংঘ শরণার্থী কমিশনের ব্রিফিং-এ। সেই নথিও রয়টার্সের হাতে এসেছে। প্রত্যাবাসন প্রশ্নে শরণার্থী কমিশনের একটি চিঠির অনুলিপিও পেয়েছে রয়টার্স। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকটির (এমওইউ) অনুলিপি পর্যালোচনার পর রয়টার্স জানিয়েছে, সই হওয়া গোপন চুক্তিতে দেশটিতে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কিংবা সারা দেশে স্বাধীনভাবে চলাচলের কোনো প্রকাশ্য নিশ্চয়তা নেই। এতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। নাগরিকত্বের প্রশ্নের মীমাংসা কী হবে তাও স্পষ্ট নয়। প্রত্যাবর্তনকারী সবাইকে যথাযথ পরিচয়পত্রের কাগজ ও তারা যাতে স্বেচ্ছায় মুক্তভাবে ফিরতে পারেন, মিয়ানমার সরকারকে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, রাখাইনে অন্যান্য অধিবাসীদের মতোই প্রচলিত আইন মেনে স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার ভোগ করবেন ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা। তবে রাখাইন রাজ্যের সীমানার বাইরেও তারা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারবে কিনা, সেই নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। এমনকি বর্তমানে যে আইন ও নীতিমালা দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাফেরার অধিকার রোধ করা হয়েছে,তা সংশোধনের প্রতিশ্রুতিও সেখানে নেই। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানেও নিশ্চিত করা হয়েছে,৮২ সালে প্রণীত যে নাগরিকত্ব আইনে রোহিঙ্গাদের কার্যত রাষ্ট্রহীন করে রাখা হয়েছে,তা পর্যালোচনার কোনও পরিকল্পনা আপাতত নেপিদোর নেই। এসি  

ন্যায়বিচার ও নিরাপদে দেশে ফিরতে চায় রোহিঙ্গারা: গুতেরেস

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা ন্যায়বিচার ও নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে চায় বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি জানান, কক্সবাজারে আশ্রয়শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের হত্যা ও ধর্ষণের যে বিবরণ শুনেছি, তা অকল্পনীয়। তারা ন্যায়বিচার ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। আজ সোমবার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে ঘোরার ফাঁকে ক্ষুদে ব্লগ টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে এসে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিজের চোখে দেখলেন, তাদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা নিজের কানে শুনলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। ট্রানজিট ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন গুতেরেস ও কিম। তারা কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের আরও কয়েকটি ক্যাম্প ঘুরে দেখবেন এবং শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন। মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর গত দশ মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ পাওয়া গেছে তাদের কথায়। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে জাতিসংঘ বর্ণনা করে আসছে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে। আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলে আসছে,বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা শরণার্থীরা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে এবং এই প্রত্যাবাসন যাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে হয়, তা নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে মিয়ানমারকে। রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় আসেন আন্তোনিও গুতেরেস ও জিম ইয়ং কিম। তারা জানিয়েছেন, এ সঙ্কট এবং রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব। আর রোহিঙ্গা সঙ্কটে ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, এই সঙ্কট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও অনেক কাজ বাকি, আর সেজন্যই তিনি ও জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশে এসেছেন।   টিআর/ এআর      

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি