ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ২:৪২:২৫

দুর্দশা দেখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জর্ডানের রানি

দুর্দশা দেখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জর্ডানের রানি

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন জর্ডানের রানি রানিয়া আল আবদুল্লাহ। আজ সোমবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিশেষ বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান রানিয়া। সেখান থেকে তিনি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হন। রানি রানিয়া আল আবদুল্লাহ কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের অবস্থা দেখেন এবং সেখানে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। রানির আগমন ‍উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন জানান, জর্ডানের রানির কক্সবাজার আগমন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। জর্ডানের রানি রানিয়া আবদুল্লাহ ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) একজন বোর্ড সদস্য। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের মানবিক সংস্থাগুলোর পরামর্শক। এর আগে রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা দেখতে বাংলাদেশে এসেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের স্ত্রী এমিনে এরদোয়ান।   এমআর / এআর
রোহিঙ্গাদের সম্পদ ফেরত দেবে না মিয়ানমার!

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় রোহিঙ্গারা সে দেশে ফিরতে পারলেও তাদের রেখে আসা ভিটে-মাটি এবং ফসল ফেরত দেবেনা দেশটির সরকার। এমনকি রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা জমি সরকার বিক্রি করে দিতে পারে। মিয়ানমার সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার এবং রাখাইনের ভূমি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার নথি বিশ্লেষণ করে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত ২৪ আগস্ট রাতে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার পর রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিদ্রোহী দমনের নামে গণহত্যায় মেতে উঠে। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা।  এসব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মানুষের মধ্যে যারা নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে প্রমাণ দিতে পারবে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত মিয়ানমারের ছয় কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারে রয়টার্স ধারণা করছে সু চি সরকারের পরিকল্পনার বিষয়টি। ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা জমি ও ফসলের দাবি করতে পারবে কিনা জানতে চাইলে রাখাইন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী কিয়াই লউইন বলেন, ‘এটি তাদের উপর নির্ভর করছে। যাদের নাগরিকত্ব নেই তাদের কোনো ভূমির মালিকানা নেই।’ রাজ্য সরকারের নথি পর্যালোচনা করে রয়টার্স জানতে পেরেছে, রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ফসল বিক্রি ও চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে মিয়ানমারের। রোহিঙ্গারা কয়েক হাজার একর জমিতে ফসল রেখে পালিয়ে এসেছে। রাখাইনে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িতে ফিরতে পারবে না। তাদেরকে রাখাইন রাজ্য কর্তৃক নির্মিত আদর্শ গ্রামে রাখা হবে। এসব আদর্শ গ্রামকে স্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও চাইবে না মিয়ানমার। রাজ্য সরকারের তথ্য মতে, রাখাইনের প্রায় ৭১ হাজার ৫০০ একর ভূমিতে ফসল রেখে পালিয়ে এসেছেন প্রায় ছয় লাখ মানুষ। বেশিরভাগ জমিতেই ধান চাষ করা হয়েছে। ফলে এখন তা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকে এসব জমিতে পুনরায় চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে শিগগিরই ধানকাটা শুরু হবে। পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব ফসলি জমির মধ্যে ৪৫ হাজার একর রোহিঙ্গাদের। চাষাবাদের পরিকল্পনায় ১৪  হাজার ৪০০ একর জমিতে মেশিন দিয়ে চাষ করা হবে। তবে অবশিষ্ট জমিতে কিভাবে চাষ করা হবে তা স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব জমিতেই তারা ধান চাষের চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে মানুষ লাগিয়ে চাষাবাদ করা হবে। মিয়ানমারে এক একর জমিতে উৎপাদিত ধানের দাম প্রায় ২৫ হাজার টাকা (তিনশ ডলারের বেশি)। এর অর্থ রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ধান বিক্রি করে কয়েক কয়েকশ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে সরকার। রাজ্য সচিব টিন মাউং সয়ি টেলিফোনে রয়টার্সকে জানান, এসব ধান সরকারি গুদামে রাখা হবে। সেখান থেকে উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের তা বিতরণ বা বিক্রি করা করা হবে। তিনি বলেন, ‘এসব জমি পরিত্যক্ত। কেউ চাষ করার মতো নেই। ফলে সরকার চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ এখনই রাখাইনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় এক লাখ বিশ হাজার। ২০১২ সালের সহিংসতার পর তাদের স্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক দাতারা এসব রোহিঙ্গাদের খাবার ও দেখাশোনা করছে। কূটনীতিক ও ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, এসব ক্যাম্পে সরকার আর কোনও সহযোগিতা দেবে না। এক ইমেইল বার্তায় জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টানিস্লাভ সালিং জানান, নতুন অস্থায়ী ক্যাম্প বা ক্যাম্পের মতো বসতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা ও নতুন করে ফিরে আসা রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিনের জন্য সেখানে আটকা পড়তে পারেন। এইচআরডব্লিউ’র মতে, ২৫ আগস্টের পর থেকে প্রায় ২৮৮টি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুড়ে যাওয়া এসব গ্রামের বেশিরভাগেই রোহিঙ্গাদের বাস। রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা গ্রামে আগুন লাগিয়েছে। সরকারের দাবি, রোহিঙ্গা জঙ্গি ও গ্রামেরা লোকেরা নিজেরাই আগুন লাগিয়েছে প্রচারণার পাওয়ার জন্য। সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব সিও অং জানান, রোহিঙ্গা কৃষকরা পরিকল্পিতভাবে বাস করে না। ফলে তারা এক হাজার ছোট ছোট বাড়ি সারি আকারে গড়ে তুলবেন। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি গ্রামে হয়ত তিনটি বাড়ি রয়েছে, কোথাও চারটি। যেমন- কোনও গ্রামে আগুন লাগলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই।’ সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে, মিয়ানমার ফেরত যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের দুটি কেন্দ্রে নেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের মতে, এসব কেন্দ্রে রোহিঙ্গাদের ১৬টি দফার একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। অভিবাসন কর্মকর্তারা বছরে অন্তত একবার রোহিঙ্গা গ্রাম পরিদর্শন করতেন। তারা পরিবারের ছবি তুলতেন। শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা মন্ত্রণলায়ের স্থায়ী সচিব মুইন্ট কিয়াইং জানান, যেসব রোহিঙ্গা তাদের কাগজপত্র হারিয়েছেন সরকার তাদের ছবি অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে। কর্মকর্তারা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ করবে। ডব্লিউএন

‘রোহিঙ্গাদের ২৮৮ গ্রাম ভস্মীভূত, পাশের বৌদ্ধ গ্রামগুলো অক্ষত’

২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনবাহিনীর হত্যাযঞ্জ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে এটা এ পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা শরণার্থী সঙ্কট। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাউটস ওয়াচ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে রাখইনে যে ছবি তুলেছে, তা বিশ্লেষণ করে তারা বলছে, সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোই শুধু পুড়েছে। উত্তর রাখাইনে আগুনে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক পুড়ে গেছে অন্তত ২৮৮টি রোহিঙ্গা গ্রাম। রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো পুড়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলেও কাছেই রাখাইনের স্থানীয় বৌদ্ধদের গ্রামগুলো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।রাখাইনে সেনাবাহিনীর যে দমনপীড়নের কারণে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ তাকে পাঠ্যবইয়ে জাতিগত নিধনের উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের শতভাগ দায় সু চির : ড. ইউনূস

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যা, গণধর্ষণ, নির্যাতন ও রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়াসহ সব অপরাধের জন্য অং সান সু ‍চিকে শতভাগ দায়ী করেছেন নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস। আল- জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের জন্য সু চি একশত ভাগ দায়ী।’ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী প্রকৃতপক্ষে সব ক্ষমতার অধিকারী এবং সূ চিকে নিঃসন্দেহে ক্ষমতাহীন রাখা হয়েছে তাহলে সূচি কিভাবে এসবের জন্য দায়ী ?- এমন প্রশ্নে ইউনূস বলেন, তার হাতে ক্ষমতা না থাকলে তিনি পদত্যাগ করুন। তিনি পদত্যাগ তো করছেনই না আবার সেনাবাহিনীর এসব কর্মকান্ডকে মৌখিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। উল্টো আরো বলছেন যে, আরাকানবাসীরাই নাকি তাদেরকে আক্রমণ করছে। সবকিছুর জন্য তাই সু চিকে দায়ী করেন ড. ইউনূস। সু চিকেই এসবের সমাধান দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সূত্র : আল জাজিরা এমআর/এআর

রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব এককভাবে বাংলাদেশে চাপাবেন না : অ্যামনেস্টি

রোহিঙ্গা সংকটে আবারও বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে সংস্থাটি রোহিঙ্গা সংকটের দায় কেবল বাংলাদেশের ওপর না চাপিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৫ আগস্ট সহিংসতার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরু হয়। সেনাবাহিনীর হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি সাউথ এশিয়ার পরিচালক ওমর ওয়ারাচ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হয়েও অসাধারণ উদারতা দেখিয়েছেন। তবে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলার দায়িত্ব তাদের একার ওপর চাপানো যাবে না। এ জন্য অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। রাখাইনে কোনো আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না মিয়ানমার। সংবাদমাধ্যম ‍উঠে আসছে রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ের গল্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ে দাতা দেশগুলোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে দাতাদের। ওই বরাদ্দ বাংলাদেশের কক্সবাজারে স্রোতের মতো আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। ওমর ওয়ারাচ বলেন, এটি এমন এক সঙ্কট যার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সুসংহত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। আরও অনেক দেশকে (বিশেষ করে যারা ওই অঞ্চলের) বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে হবে এবং দায়িত্বের বোঝা ভাগ করে নিতে হবে। গত বুধবার ‘মাই ওয়ার্ল্ড ইজ ফিনিশড’ রোহিঙ্গা টার্গেটেড ইন ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি ইন মিয়ানমা’ শীর্ষক ৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শত শত শিশু, নারী ও পুরুষকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রাখাইন থেকে তাদের উৎখাত করতে ধারাবাহিকভাবে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড, নৃশংস ধর্ষণ ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। অ্যামনেস্টির আশঙ্কা, এসব অপরাধ রোহিঙ্গাদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এই মানবাধিকার সংস্থাটি। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিচার ও সেনাবাহিনীর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদারেরও সুপারিশ করে অ্যামনেস্টি।   আর/এআর

মিয়ানমারের জেনারেলদের নিষিদ্ধের দাবি ৪৩ কংগ্রেসম্যানের

রোহিঙ্গাদের নির্যাতন, ধর্ষণ ও তাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমারের জেনারেলদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৩ জন কংগ্রেসম্যান। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে ‘কার্যকর পদক্ষেপ’নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের কাছে চিঠি দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্যরা। চিঠিতে জানানো হয়, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের পদক্ষেপে আগ্রহ নেই মিয়ানমার সরকারের। সেখানে যেসব ঘটনা ঘটছে তা অস্বীকার করছে মিয়ানমার। যারা মিয়ানমারে আটকা পড়েছে এবং যারা দেশে ফিরতে চায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব সেটা করার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। চিঠিতে বলা হয়, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিগত নিধন ঠেকাতে অবিলম্বে সে দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায় আমরা। একইসঙ্গে যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের তালিকা প্রণয়নের পর একে একে নিষিদ্ধ করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, রাখাইনে নিপীড়নের মূল হোতা দেশটির জেনারেলরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শুধু কড়া বক্তব্য দিয়েই দায় সারলেও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সূত্র: রয়টার্স।    আর/এআর

প্রতি সপ্তাহে আসছে ১২ হাজার রোহিঙ্গা শিশু : ইউনিসেফ

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর সহিংসতার শিকার হয়ে সপ্তাহে গড়ে ১২ হাজার রোহিঙ্গা শিশু বাংলাদেশে আসছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় তিন লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু খোলা আকাশের নিচে বসবাস ও পানিবাহিত রোগের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এতথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক জানান, বাংলাদেশে আসা অনেক রোহিঙ্গা শিশু মিয়ানমারে নৃশংসতার প্রত্যক্ষদর্শী, যা কোনো শিশুর কখনও হওয়া উচিত নয়। এসব শিশু এই ভয়াবহতার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। এই শিশুদের দ্রুত খাদ্য, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন। তাদের জন্য শিক্ষা ও কাউন্সেলিং প্রয়োজন। এখনই এসব ব্যবস্থা না করা গেলে,  তারা কিভাবে সমাজের সৃজনশীল নাগরিক হয়ে উঠবে। এই সংকট তাদের শৈশবকে চুরি করছে। আমরা তাদের ভবিষ্যত নষ্ট হতে দিতে পারি না। ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডোয়ার্ড বেগবেডার বলেন, ‘এখনও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা আসছে। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি, শিশুরা ভয়বহতার শিকার হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাসের পাশাপাশি খাদ্য, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশনের সংকট রয়েছে। এর ফলে শিশুরা পানিবাহিত রোগসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি রয়েছে।’ চারটি প্রধান বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতি ইউনিসেফ আহ্বান জানিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার সব শিশুর মানবিক সাহায্য, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিশুদের মানবিক সহায়তার পরিকল্পনা ও তাদের পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টি। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ এবং সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য সমর্থন এবং রাখাইন রাজ্যের সংকট দীর্ঘ মেয়াদী সমাধানের জন্য উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে ইউনিসেফ। কেআই/ডব্লিউএন

এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য হচ্ছে শিশুপল্লী

রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের জন্য ‘শিশুপল্লী’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রাথমিকভাবে উখিয়ার নিবন্ধিত কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধুছড়া এলাকায় ২’শ একর জমিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   অনাথ রোহিঙ্গা শিশুদের শনাক্ত করার কার্যক্রম শেষ হলে আগামী মাসে শিশুপল্লীর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সমাজসেবা অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (কার্যক্রম) ও ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল অরফান চাইল্ড’ প্রকল্পের সমন্বয়কারী সৈয়দা ফেরদৌস আক্তারের বরাত দিয়ে বাসস এই তথ্য জানায়।  গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৩০ দিনে ১৮ হাজার ৪৪৯ রোহিঙ্গা এতিম শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানান সৈয়দা ফেরদৌস আক্তার। ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল অরফান চাইল্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাবছি এ মাসের মধ্যে এতিম রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করার কাজ শেষ করতে পারবো। আগামী মাসে শিশু পল্লি নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে রোহিঙ্গাদের স্রোত আরও বাড়লে প্রকল্পের কাজ কিছুটা দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও জানান তিনি। এই কর্মকর্তা আরও জানান, সমাজসেবা অধিদফরের ৮০ জন কর্মী ক্যাম্পগুলোতে গিয়ে খুঁজে খুঁজে অনাথ শিশু শনাক্তকরণের কাজ করছেন। যারা বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছে, যারা শুধু বাবা হারিয়েছে, যারা প্রতিবন্ধী, আর যারা মা-বাবার খোঁজ পাচ্ছে না- এমন চারটি শ্রেণিতে এদের ভাগ করা হচ্ছে। শিশু আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সীদের শিশু হিসেবে গণনা করে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদফতরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রীতম কুমার চৌধুরী বলেন, ‘ইতোমধ্যে টেকনাফের পাঁচটি ক্যাম্পে শনাক্তকরণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে বড় দুইটি ক্যাম্প কুতুপালং ও বালুখালীতে। শনাক্ত হওয়া এতিম শিশুদের সমাজকল্যাণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে।’ তিনি জানান, এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের সংখ্যা ২৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। সূত্র: বাসস। ডব্লিউএন

অক্সফোর্ডের কমন রুম থেকে সু চির নাম প্রত্যাহার

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে নানা সমালোচনার মুখে পড়েছেন অং সান সু চি। এবার যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড কলেজ তাদের জুনিয়র কমন রুম থেকে শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চির নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্ট হিউ’স কলেজের শিক্ষার্থীরা কমন রুম থেকে সু চির নাম মুছে ফেলার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে সেন্ট হিউ’র পরিচালনা পর্ষদ কলেজের মূল ফটক থেকে সু চির প্রতিকৃতি নামিয়ে ফেলে। আর অক্টোবর মাসের শুরুতে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল সর্ব সম্মতভাবে সু চির ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব অক্সফোর্ড পদক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সেন্ট হিউ’কলেজে ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সু চি রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। সেন্ট হিউ’র সিদ্ধান্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাখাইনে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সু চির সমালোচনা করতে না পারা অগ্রহণযোগ্য। এক সময় তিনি যে নীতি ও আদর্শের প্রতি অবস্থান নিয়েছিলেন এখন সু চি সেগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ২০১২ সালে সু চি অক্সফোর্ড থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছিলেন। ওই বছরই তিনি নিজের ৬৭তম জন্মদিন কলেজে পালন করেন। এখন পর্যন্ত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি সু চির সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার জেরে রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হিসাব মতে, জীবন বাঁচাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনাকে পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত গণহত্যার উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করেছে জাতিসংঘ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান। ডব্লিউএন

রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী রানিয়া

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছেন জর্ডানের রানী রানিয়া আল আবদুল্লাহ। আগামী সপ্তাহে তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। রানিয়া বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকা হয়ে সরাসরি কক্সবাজার যাবেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলবেন। মানবতার কল্যাণে বৈশ্বিকভাবে সামজিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী রানী রানিয়ার কক্সবাজার সফর রোহিঙ্গা ইস্যুতে জনমত সৃষ্টি বিশেষ করে ইস্যুটির ‘সংবেদনশীলতা’ বাড়বে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোয়ান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। গত ২৪ আগস্ট রাতে পুলিশ ও সেনাদের ৩০টি চৌকিতে হামলার ঘটনায় বিদ্রোহী দমনের নামে রাখাইনে নৃসংশতা শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। পরদিন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে অাশ্রয় নিয়েছে। ডব্লিউএন

লুকিয়ে থাকা মংডু টাউনশীপের রোহিঙ্গারাও দেশ ছাড়ছেন

এবার দেশ ছাড়ছেন মিয়ানমারের মংডু টাউনশীপের লুকিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা। মংডু ও বুচিডং এ দুই টাউনশীপ নিয়ে মংডু জেলা গঠিত। আরাকানের (সংশোধিত নাম রাখাইন স্টেট) ৪টি জেলার মধ্যে আকিয়াবের পর মংডুর স্থান। ২টি থানা নিয়ে গঠিত হলেও আরাকান রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তর ও সমৃদ্ধশালী জেলা হচ্ছে মংডু। মংডু থানাধীন মুসলিম অধ্যুষিত ১০৫টি ইউনিয়নের রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনা এবং মগদের বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসলেও মংডু শহরের আশপাশের গ্রামে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা নানা কৌশলে নাড়িকাটা মাতৃভুমি ছেড়ে আসেননি। এদের বেশির ভাগই স্বচ্ছল পরিবার এবং ব্যবসায়ী। শখের বসতবাড়িটি পুড়িয়ে না দিতে দাবি অনুযায়ী লাখ লাখ কিয়াট ঘুষ দিয়েও মন ভরছেনা মগ-সেনাদের। অনেক মুসলমান পরিবার আছেন স্থাবর-অস্থাবর বিশাল সম্পদের মালিক। আর কিছু আছেন সরকারী ও বেসরকারী চাকরীজীবি। এদের সংখ্যাও নেয়ায়েত কম নয়। 

রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য মিয়ানমারের নেতৃত্বই দায়ী: টিলারসন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য দেশটির সেনা নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তবে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর অভিযানের জন্য মিয়ানমারের জেনারেলরাই দায়ী।  রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে সব সময়ই সমর্থন দিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি কৌশলগত কারণে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ওয়াশিংটন সব সময় সু চির সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে গেছে। কিন্তু রোহিঙ্গা সঙ্কটে সাড়া দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পশ্চিমা মিত্রদের কাছেও এখন সমালোচিত হচ্ছেন সু চি। গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইনে যেসব সহিংসতার খবর আসছে, বিশ্ব তা দেখেও চুপ করে থাকতে পারে না। যা ঘটছে সেজন্য আমরা মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বকেই দায়ী করব। রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘দারুণভাবে উদ্বিগ্ন’ বলেও জানিয়েছেন টিলারসন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ জন আইনপ্রণেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে লেখা এক চিঠিতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। আর রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য যারা সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী তাদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।  দীর্ঘদিন সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমারের ওপর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০১৫ সালে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরার সময় যুক্তরাষ্ট্র সেসব কড়াকড়ি তুলে নেয়। টিলারসনকে লেখা ওই চিঠিতে যারা সই করেছেন, তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী দলে থাকা ডেমোক্রেটিক পার্টি- দুই দলের সংগ্রেস সদস্যরাই আছেন। চিঠিতে বলা হয়, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না মিয়ানমার সরকার। যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। টিলারসন বলেন, মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের নিয়ে যে একটি সমস্যা আছে তা ওয়াশিংটন জানে। কিন্তু সেনাবাহিনীকে অবশ্যই সুশৃঙ্খল থাকতে হবে এবং সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সংযমের পরিচয় দিতে হবে। টিলারসন আরো বলেন, ওয়াশিংটন মিয়ানমারকে একটি উদীয়মান গণতন্ত্রের দেশ হিসেবেই দেখে। কিন্তু সেখানে সামরিক-বেসামরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির যে মিশ্র সরকার রয়েছে, তার জন্য এই রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি অগ্নি পরীক্ষা। রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সেনা কর্তকর্তাদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। গত ২৫ অগাস্ট থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গ্রামে ওই অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মত অপরাধের অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এ পর‌্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। সূত্র: রয়টার্স এমআর/এআর

রোহিঙ্গা ইস্যু :  বাংলাদেশ পেল ১০২৭ ভোট, মিয়ানমার ৪৭

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যার বিষয়টি ১৩৭তম ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) সম্মেলনে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গৃহীত হয়েছে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে চলমান আইপিইউ সম্মেলনের সাধারণ সভায় মঙ্গলবার বিকেলে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হয়। সোমবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (ইমারজেন্সি আইটেম ) হিসেবে আইপিইউ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভোটাভুটি হয়। এতে ১০২৭ পায় বাংলাদেশ। ফলে আইপিইউ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গৃহীত হয়। বিপরীতে মিয়ানমার পায় মাত্র ৪৭ ভোট। বুধবার জাতীয় সংসদের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। আইপিইউ সাধারণ সভায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি গৃহীত হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহল দেখছে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে। সারাবিশ্বের ১৭৩টি দেশের ৬৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল সর্ববৃহৎ সংসদীয় ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গৃহীত হওয়ার বিষয়টি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমতের প্রতিফলন বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, আইপিইউ সম্মেলনে ইমারজেন্সি আইটেম হিসেবে বাংলাদেশের কোনো প্রস্তাবনা গৃহীত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। বুধবার শেষ হওয়া আইপিইউ সম্মেলনে ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি। ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি