ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৪৯:২৯

রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতেই যৌন সহিংসতা চালানো হয়

জাতিসংঘ মহাসচিব

রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতেই যৌন সহিংসতা চালানো হয়

হামলা-নির্যাতনের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা নতুন সাত লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে অসংখ্য নারী মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাদের ওপর যৌন সহিংসা চালানো হয় এই উদ্দেশ্যে যে, তারা দেশে দেশ ছেড়ে চলে যান এবং আর না ফেরে। জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকার এই তথ্য উঠে এসেছে।
রোহিঙ্গা হত্যায় মিয়ানমারের ৭ সেনার কারাদণ্ড

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা হত্যার দায়ে দেশটির সাত সেনাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাখাইন প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার দায়ে তাদের এ সশ্রম কারাদণ্ড দেন দেশটির একটি আদালত।  জানা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে রাখাইনের রাজধানী সিত্তে থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে ইন দিন গ্রামে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে ১০ রোহিঙ্গার লাশ ছিল। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে, সাত সেনা কর্মকর্তা ওই ১০ রোহিঙ্গা হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সেনা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সামরিক আদালতে দণ্ডিত এসব সেনা সদস্যদের ১০ বছর কারাভোগের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কঠোর পরিশ্রমের কাজেও নিযুক্ত থাকতে হবে। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয় প্রায় ৬ লাখ ৯২ হাজার রোহিঙ্গা। গত বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় গ্রাম ইনদিনে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা ১০ রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের রাখা হয় গণকবরে। ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানে নেমেছিলেন রয়টার্সের দুই সাংবাদিক। ডিসেম্বরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরপর অভিযোগ আনা হয় দাফতরিক গোপনীয়তা ভঙ্গের আইনে। ফেব্রুয়ারিতে কর্তৃপক্ষ রয়টার্সকে জানায়, ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তবে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে রয়টার্সের সাংবাদিকদের দাফতরিক গোপনীয়তা ভঙ্গের সঙ্গে ওই তদন্ত সম্পর্কহীন বলে দাবি করা হয়। সেই তদন্তের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত ৭ সেনাকে কারাদণ্ড দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ আগাস্ট মিয়ানমার পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলার পর ব্যাপক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ফলে নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। শত শত নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে তাদের উৎখাত করার অস্ত্র হিসেবে। জাতিসংঘ সেনা অভিযানকে আখ্যা দিয়েছে জাতিগত নিধন বলে। এছাড়া রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ওই ১০ জনকে হত্যা করেছে বলে ওঠে আসে। তবে সেনাবাহিনীর গণহত্যা বা জাতিগত নিধন অভিযানের কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকার। কিন্তু গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে উপকূলীয় গ্রাম ইন দিনে গণকবরে ১০ জন রোহিঙ্গার মৃতদেহ পাওয়া যায়। বিষয়টি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়। অবশেষে তার দণ্ডও দেওয়া হলো। সূত্র: রয়টার্স একে// এআর

রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছে সৌদি প্রতিনিধি দল

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শনে যাচ্ছেন সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। আগামীকাল বুধবার কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যাচ্ছেন কিং সালমান রিলিফ অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান সেন্টারের জেনারেল সুপারভাইজার ড. আব্দুল্লাহ আল রাবিয়াহ। দু` দিনের সফরের অংশ হিসাবে তিনি সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার পৌঁছাবেন। ড. আব্দুল্লাহ আল রাবিয়াহ সকাল ১১টায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে তিনি বালুখালি রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করবেন। এ ছাড়া, বিকালে তিনি মালয়েশিয়ান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। ড. আব্দুল্লাহ আল রাবিয়াহ তার সফরের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় কক্সবাজার হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। দুপুরের দিকে তিনি জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করবেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে সৌদি-আরব। এমজে/

জুন থেকেই ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর শুরু

চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামালকে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জুনের প্রথম সপ্তাহেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে ভাসানচরে ৫০ হাজার লোকের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। বাকিগুলো দুইমাসের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় যারা কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে যেতে চান, কেবল তাদেরকেই সেখানে নেওয়া হবে। এদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর দাবি, রোহিঙ্গাদের যেন জোর করে ভাসানচরে স্থানান্তর করা না হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সামনের বর্ষার মৌসুমে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাই অনেকেই ভাসানচরে যাওয়ার জন্য রাজি হবেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযানে নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। এরইমধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে একটি চুক্তি করে ঢাকা-নেইপিদো। সে চুক্তির আওতায় প্রাথমিকখভাবে বাংলাদেশ ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দেশটিতে পাঠায়। তবে তালিকা পাঠালেও মিয়ানমার সরকার সেটি নিয়ে গড়িমসি করছেন। ২০০৬ সালেই বঙ্গোপসাগরের বুকে ভেসে ওঠে ভাষানচর দ্বীপ। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে আশ্রিত সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার। জাতিসংঘের আবাসন বিষয়ক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ জুনে এই প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। তবে এনিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ভাষানচরে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। ভাসানচর নিয়ে কেউ কেউ উদ্বেগ জানালেও এর পেছনে কোন যুক্ত তুলে ধরতে পারছেন না কেউ। কেননা আমরা বাঁধ নির্মাণ করছি। আর খুব শিগগিরই ওই দ্বীপে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি যোগ করেছিলেন’। সূত্র: এএফপিএমজে/

রোহিঙ্গাদের কানাডায় আশ্রয় দিতে সুপারিশ

মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে কানাডায় স্থানান্তরের সুপারিশ করেছে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রোডোর গঠিত কমিশন। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে দেশটির বিশেষ কূটনীতিক গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রতিবেদন প্রকাশকালে এই সুপারিশ করেন। সাবেক ওনটারিও প্রধানমন্ত্রী ও টরেন্টোর সংসদ সদস্য বব রয় এই প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর আরও অধিকহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মিয়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী জঘন্য অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে জাস্টিন ট্রডো রয়কে বিশেষ কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠান। এরপরই গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সফর করেন রয়। কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্প পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি প্রতিবেদন তৈরি করেন। ওই সময় তিনি মিয়ানমারে সফর করতে চাইলেও তিনি ভিসা পাননি। এদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরণের অত্যাচার হয়েছে দাবি করে রয় বলেন, সেখানে পাশবিকতার এমন কিছু ঘটেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এসময় তিনি বলেন, আমি নারীদের কাছে যৌন নির্যাতনের এমন পাশবিকতার শুনেছি, যা সভ্য বিশ্বে মেনে নেওয়া যায় না। তাই রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে রয় ১৭টি সুপারিশ করেন। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, মিয়ানমার ও আশেপালের দেশগুলোতে যে সব রোহিঙ্গা নাগরিক মানবিকতর জীবন-যাপন করছেন এবং যারা কানাডায় পাড়ি দিতে চান, তাদের জন্য কানাডার দরজা খুলে দেওয়া। পাশাপাশি মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাসহ রোহিঙ্গানিধনে জড়িতদের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা বলেন তিনি। এদিকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে দেশটিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীসহ কানাডাকে মিয়ানমারের উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও জাহাজ পরিবহন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবন ক্রমান্বয়ে খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে জানিয়ে রয় বলেন, রোহিঙ্গাদের সেবায় বর্তমানে কানাডার ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে দেশটি ৪১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে জানা গেছে। তিনি আরও জানান, গত আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ লাখ লোক পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে কমনওয়েলথভূক্ত দেশগুলোর আগামী সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি জোরেশোরে আলোচনার জন্য ট্রডোর সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন রয়। এ ছাড়া জি-৭ সম্মেলনে রোহিঙ্গা নিধন বিষয়ে সরব থাকার ঘোষণা দেন রয়। এই রিপোর্ট কানাডা সরকার যাচাই বাছাই করে খুব শিগগিরই এটার উপর ব্রিফ করবেন বলে জানা গেছে। সূত্র: আনাদুলো নিউজ এজেন্সি এমজে/

রোহিঙ্গা নিধনে ফেসবুক প্রচারণা হয়েছে: জাকারবার্গ

মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেশটিতে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের জন্য ফেসবুক ব্যবহৃত হয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা নিধনে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের উসকে দিতে একটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে ব্যবহার করা হয়েছে। জাকারবার্গ আরও বলেন, রোহিঙ্গা-বিরোধী প্রচারণা চালাতে এবং ‘প্রকৃত সংকট উসকে দিতে’ ফেসবুককে ব্যবহার করার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। অনলাইন নিউজ সাইট ভক্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী জানান, রোহিঙ্গা মুসলমান এবং রাখাইন বৌদ্ধদের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিকে কতটা ব্যবহার করা হয়েছে তা খুঁজে বের করতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে। জাকারবার্গ বলেন, “আমি মনে করি, আমাদের প্রতিষ্ঠানে মিয়ানমার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমার মনে আছে, এক শনিবারে আমি ফোন পাই এবং আমরা খুঁজে বের করি যে লোকজন সংবেদনশীল বার্তা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জরের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে।” এমনটি দুই পক্ষ থেকেই করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালালে নতুন করে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। ওই ফেসবুককে ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৌদ্ধদের লেলিয়ে দেয় একটি গোষ্ঠী, এমন অভিযোগ অনেক আগে থেকেই করে আসছিল সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস (সিঙ্গাপুর)এমজে/

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে ব্রিটেন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দেওয়ার কথা পুণর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ও মিয়ানমার সরকারকে তারা ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করে যাবে। এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান কেবল বার্মা (মিয়ানমার) সরকারের হাতেই রয়েছে বলে মন্তব্য করে তেরেসা মে বলেন, মিয়ানমার সরকারকে তাদের প্রতিটি নাগরিকের কথা শুনতে হবে। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সংসদের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিটির প্রধান স্টিভেন থিগোর এক প্রশ্নের জবাবে মে আরও বলেন, আমরা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি সব সময় আলোচনা করবো। যাতে বিশ্বের চোখ রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে দূরে সরে না যায়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এদিকে থিগ বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি পর্যবেক্ষণ করতে তিনি গত মাসে লন্ডনে মিয়ানমার দূতাবাসে ভিসা চেয়েও খালি হাতে ফেরত যেতে হয়েছে। ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক কমিটির সেই ভ্রমণ এই কারণে বাতিল হয়ে গেছে সংসদীয় কমিটিকে জানান তিনি। আর এ ঘটনা থিগোকে হতাশ করেছে বলে সংসদীয় কমিটির কাছে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই তেরেসা মে এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে দেশটির রোহিঙ্গা নিধন শুরু হলে, এ পর্যন্ত সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী মিয়ানমার সরকারের এ অভিযানকে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সূত্র: আনাদুলো নিউজ এজেন্সিএমজে/

মিয়ানমার জেনারেলের বক্তব্যে স্তম্ভিত জাতিসংঘ প্রধান

মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বক্তব্যে জাতিসংঘসহ পুরো বিশ্ব স্তম্ভিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ প্রধানের মুখপাত্র ফারহান হক এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। দেশটির উত্তরাঞ্চলের কাচিন প্রদেশে এক জনসভায় সেনাপ্রধান জেনারেল ইউমিন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়। তারা মিয়ানমারের কোন সংস্কৃতি লালন করে না, তারা বাংলাদেশি’। তাঁর এই বক্তব্যের জের ধরেই জাতিসংঘ প্রধান প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বিবৃতিতে জাতিসংঘ প্রধানের মুখপাত্র জানান, মিয়ানমারের ঐক্য ধরে রাখতে সব পক্ষকে একটি একক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এজন্য মিয়ানমারের নেতাদের তিনি বলেন, রাখাইন উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশ মেনে দেশটিতে সব ধরণের বৈষম্য দূর করতে হবে। আর এরজন্য মিয়ানমারে প্রকৃত নেতৃত্ব জরুরি হয়ে পড়েছে। এদিকে মিয়ানমারে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন মিয়ানমার নেতৃত্বকে সব নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে হবে। এ ছাড়া মিয়ানমারের নেতৃত্বকে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেন তিনি। সূত্র: তাসএমজে/

বাংলাদেশের অর্থায়নেই শুরু হবে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অর্থায়নেই শুরু হবে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ। তিনি বলেন, নোয়াখালীর ভাসানচরে ১ লাখ রোহিঙ্গার পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা আহ্বান করার পাশাপাশি যতোদূর সম্ভব নিজস্ব অর্থায়নে পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার শাহরিয়ার আলম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে (২৮০মিলিয়ন) ওই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী নন তিনি। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই ঠিক কবে নাগাদ এর কাজ শেষ হবে, তার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো সম্ভব নয়। শাহরিয়ার আলম রয়টার্সকে জানান, মূল ভূখণ্ডের থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ওই আবাস গড়ে তোলা হবে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে, এখনও ভাসানচরে বন্যাঝুঁকি রয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য নেওয়া আবাসন প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তারা। তবে শাহরিয়ার আলম রয়টার্সকে বলেছেন, এ বিষয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। কারণ সেখানে আমরা বাঁধ নির্মাণ করছি।  উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে তারা। জানুয়ারিতে সম্পাদিত ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের পাঠানো প্রথম ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা নিয়েই শুরু হয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।  তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে এপ্রিলের শেষ নাগাদ মৌসুমী বৃষ্টির কাল শুরুর আগেই ১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ভাসানচরে নতুন আবাস তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে ১২০টি গুচ্ছগ্রাম তৈরি করা হবে। তাতে পুনর্বাসন করা হবে এক লাখ ৩ হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গাকে। এ লক্ষ্যে একনেকে ২৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভাসানচরে বসবাসের যাবতীয় সুযোগ সুবিধাই থাকবে। একে// এআর

রোহিঙ্গা শিশুদের সেক্স ওয়ার্কার বানিয়ে ফেলছে পাচারকারীরা

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও খাদ্য সংকটের ফলে পাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে, সেখানকার ক্যাম্পগুলো থেকে শিশুদের বিদেশ পাঠানোসহ রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে গৃহকর্মীর কাজ, হোটেলে পাচকের কাজ দেওয়ার নাম করে শিশুদের তুলে দিচ্ছে যৌনব্যবসায়ীদের হাতে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন শিশু ও তাদের বাবা-মার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদেরকে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাদের সঙ্গে ক্যাম্পছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তারা যাননি। এদিকে তারা ক্যাম্প না ছাড়লেও বেশ কয়েকজন তরুণীকে ক্যাম্প থেকে বের করতে সক্ষম হয়েছে পাচারকারী দলের সদস্যরা। এদিকে মাসুদা নামের এক তরুণীকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি দাতব্য সংস্থা। বিবিসির সহায়তায় সংস্থাটি নারী ও শিশুদের পাচারকারী দল থেকে বাঁচানোর বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিবিসির কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাসুদা বলেন, ‘আমি জানতাম আমার সঙ্গে কি হচ্ছে। যে মহিলাগুলো আমাদের চাকরির প্রস্তাব দিচ্ছিলো, তারা যে সেক্সকর্মী, তা সবাই জানতো। তিনিও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এখানে আছেন। কিন্তু জানা সত্ত্বেও আমার কিছুই করার ছিল না। কারণ, বাঁচার জন্য আমার দ্বিতীয় কোন সুযোগ ছিল না’। মাসুদা আরও বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমার কাছে বর্তমানে কোন টাকা নেই। আমাকে মিয়ানমারে বারবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আমার ভাই এবং বোনের সঙ্গে আমি আমাদের গ্রামের বনে খেলতাম, নাচতাম,গাইতাম। একদিন সব শেষ হয়ে গেছে। কিভাবে খেলতে হয়, তাও আমি আজ ভুলে গেছি’। এদিকে অনেক বাবা-মা তাদের শিশুকে ফেরত না পাওয়ার শঙ্কাই ভোগছেন। আবার অনেকেই ক্যাম্পগুলোর দিনগুলোকে দোযখ হিসেবে দেখছেন। তাইতো মেয়েকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, তার চেয়েও বড় কথা ওই মায়ের কাছে, ওই ক্যাম্প আর রাখাইনের চেয়ে পৃথিবীর অন্য যে কোন জায়াগায় তার মেয়ে ভাল থাকবে। এদিকে এই মেয়েগুলোকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না তাদের বাবা-মায়েরা। বিবিসির একটি টিম সেক্স খদ্দের সেজে এই বিষয়টি সামনে বের করে আনে। সমুদ্রের পাশে গড়ে ওঠা ছোট ছোট কটেজ ও হোটেলে চেষ্টা চালিয়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় দালালদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করেন বিবিসির টিমের লোকজন। পরে পুলিশের সহায়তায় তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিদেশিদের জন্য কোন তরুণী ভাড়া করে আনতে পারবেন কি না। বিশেষ করে রোহিঙ্গা তরুণী বা শিশু লাগবে। জবাবে এক দালাল জানায়, সে পারবে। কিছুক্ষণ পরই একটি সিএনজি চালিত যানে করে দুই রোহিঙ্গা তরুণীকে নিয়ে আসে ওই দালাল। পরে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। এতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, রোহিঙ্গা শিশু ও নারীদের কক্সবাজারে সেক্স ওয়ার্কার হিসেবে তুলনামূলক সস্তায় পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, বিবিসির অন্য আরেকটি টিম ওই দালাল চক্রের মাধ্যমে পৌঁছে যায় যৌন পল্লীতে। যেখানে তাদেরকে শতাধিক রোহিঙ্গা শিশুর ছবি দেখানো হয়। যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর। বিবিসির ওই টিমকে বলা হয়, ‘আপনাদের পছন্দ না হলে, আমাদের কাছে আরও আছে’। বিবিসির ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওইসব রোহিঙ্গা তরুণীর বেশিরভাগই থাকছেন দালালদের পরিবারের সঙ্গে। যখন খদ্দের থাকে না, তখন তাদের দিয়ে পরিবারের কাজ করানো হয়। সূত্র: বিবিসিএমজে/    

সীমান্তে বাঙ্কার নির্মাণ করছে মিয়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঠেকাতে দেশটি এবার বাংলাদেশ সীমান্তে কাটাতারের বেড়া, দেওয়াল নির্মাণ ও মাটির নিচে বাঙ্কার বানাচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। গতকাল মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিটের জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তার অজুহাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে মিয়ানমার। কোথাও কোথাও কংক্রিটের দেওয়াল নির্মাণের মধ্য দিয়ে সুরক্ষা জোরদারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কোথাও বাঙ্কার, কোথাও আবার স্থাপিত হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা চৌকি। এদিকে নতুন করে সীমান্তে নিরপত্তা জোরদারের নামে মিয়ানমারের আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সীমান্তে বাঙ্কার ও কাটাতারের বেড়া নির্মাণের ফলে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মিয়ানমার, আর তা হলো-দেশটিতে ফিরলেই রোহিঙ্গাদের আবারও নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ১৭০ মাইল সীমান্ত এলাকার বেশিরভাগ অংশ জুড়ে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। আর এতে রোহিঙ্গারা বলছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এসব তৎপরতার ফলে তারা দেশটিতে ফেরত যেতে চান না। রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালিয়ে আলামত নষ্ট, বিপুল সামরিকায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকা, প্রত্যাবাসন নিয়ে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর হুমকির ধারাবাহিকতায় রাখাইনে বৌদ্ধদের মডেল গ্রাম গড়ে উঠছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এবার সীমান্তে নতুন করে সুরক্ষার পদক্ষেপের কথা জানা গেল। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বরাতে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমার সীমান্তে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। আর এসব তৎপরতাকে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে দেশটি থেকে উৎখাতের অংশ হিসেবে দেখছেন তারা। এদিকে ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ওয়্যার কলেজেরে অধ্যাপক জাকারিয়া আবুজা বলেন, মিয়ানমার মনে করছে, সিংহভাগ রোহিঙ্গাকে দেশটি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তারা সফল। এ ছাড়া তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দোযকে পরিণত করে, প্রত্যাবাসন বন্ধ করতে পেরে, তারা আরও উৎফুল্ল। এদিকে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অংসান সু চির সরকার বলছে, তারা কেবল সেইসব রোহিঙ্গাকেই দেশটিতে ফেরত নিবে,যারা নিজেদের রোহিঙ্গা বলে প্রমাণ করতে পারবে। তবে প্রতিবেদেনে উল্লেখ করা হয়, একদিকে বলছে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিবে, অন্যদিকে তাদের ফেরতের সব পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। এদিকে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নিজেদের স্টাইলে আবাসন তৈরি করছে। ওইসব এলাকায় এখন থেকে সেনাবাহিনীর সীমান্ত চৌকি থাকবে বলেও বলা হচ্ছে। এজন্য সেনাবাহিনীর জন্য ওইসব এলাকায় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এরইমধ্যে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। এদিকে অংসান সু চির এক মুখপাত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পক্ষ থেকে হুমকি আসার কারণেই তারা সীমান্তে কাটাতারের বেড়াসহ বাঙ্কার নির্মাণ করছে। সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নালএমজে/

জাতিসংঘের কার্যক্রম বন্ধে আইন করছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তৎপর থাকায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলোর (আইএনজিও) কার্যক্রম বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে মিয়ানমার। এ আইনের আওতায় দেশটিতে জাতিসংঘসহ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের অভিযোগ করেছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ ছাড়া দেশটির ওপর নানা ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ। এতে বেসরকারি সংস্থাগুলো ইন্ধন যুগিয়েছে বলে মনে করে মিয়ানমার। আর তাই সংস্থাগুলো যাতে রাখাইনে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করতে চাচ্ছে দেশটির সরকার। প্রস্তাবিত আইনটির খসড়ার একটি কপি পাওয়ার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট। মিয়ানমারের সেনাদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করার মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জাতিসংঘ অভিযোগ করে আসছে। তবে মিয়ানমারের সেনারা শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের পাঠানো ভিডিও বিশ্লেষণে রোহিঙ্গাদের নিধন অভিযানের চিত্র ফুটে উঠলে, ১০ রোহিঙ্গা নাগরিকের হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে দেশটির সেনাবাহিনী। এদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলো বারবার দেশটিতে ভ্রমণের চেষ্টা করলেও, কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সেখানে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না তারা। এ বছরের জানুয়ারিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর অভিযোগ করে, মিয়ানমারে এখনও ত্রাণ সংস্থা, মিডিয়া ও অন্য স্বাধীনধারার পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এদিকে দেশটির নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অংসান সু চিকে দেওয়া কয়েকটি পদক কেড়ে নিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা। আইনের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের কর্মকর্তারা এসব সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। এসব উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম বন্ধে সরকারের এখতিয়ার সীমিত করারও কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। সে কারণে কিছু কিছু বেসরকারি সংস্থা আশঙ্কা করছে, মিয়ানমারে তাদের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে আইনটি ব্যবহার করা হতে পারে। এদিকে আইনের খসড়াটি কে তৈরি করেছেন সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোন তথ্য পায়নি ওয়াশিংটন পোস্ট। পত্রিকাটির দাবি, প্রেসিডেন্ট অথবা রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার নির্দেশ মোতাবেক তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে ওই প্রতিবেদন। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হটে জানিয়েছেন, খসড়া আইনের ব্যাপারে ‘পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়’-এর কাছ থেকে জানা যাবে। তবে পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উপমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে উত্তর পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট এমজে/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি