ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮ ১০:২৮:৪৭

জেরুজালেম ইস্যু: যে কারণে শান্তির পথে হাঁটছেন না ট্রাম্প

জেরুজালেম ইস্যু: যে কারণে শান্তির পথে হাঁটছেন না ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমের এক অনুষ্ঠানে রেকর্ড করা এক বার্তায় বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের সর্বোচ্চ আশা। কিন্তু তিনি কি সেই পথে হাঁটছেন, এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। হোয়াইট হাউজ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে। ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন যুক্তরাষ্ট্র্র তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই পূরণ করেছে। ট্রাম্প ঐতিহাসিক এবং বলিষ্ঠ কিছু পদক্ষেপ নিতে পছন্দ করেন। তিনি দেখাতে চান যে, তার পূর্বসুরিরা যা করতে পারেননি, সেটা তিনি করছেন। তার পররাষ্ট্রনীতি এখন পর্যন্ত ভালই চলছে বলা যায়। জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের এই পদক্ষেপের পেছনে শক্ত লবিং ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডানপন্থী আমেরিকান ইহুদি যারা রক্ষণশীল বার্তা দেয়, তাদের একটা প্রভাব রয়েছে ট্রম্পের নীতি নির্ধারকদের ওপর। খৃস্টান ধর্ম যারা মনে প্রাণে পালন করেন, জেরুজালেম নিয়ে তাদের যে বক্তব্য আছে, সেই বক্তব্য আসে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কন্ঠে। তিনি বলেন, তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে রাজা ডেভিডের আমলে ঈশ্বরের সিদ্ধান্তে জেরুজালেম ছিল ইসরায়েলের রাজধানী। ডালাসের ধর্ম প্রচারক রবার্ট জেফ্রিজ বাইবেল উদ্ধৃত করে আমাকে বলেছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রেকর্ডকৃত বার্তায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় চুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছিলেন। জেরুজালেমের সমস্যা সমাধানে সবপক্ষের জন্য একটা শক্ত চুক্তির কথাও তিনি তুলে ধরছিলেন। কিন্তু হোয়াইট হাউজ এখনও কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি কোন পথে সমাধান সম্ভব, যুক্তরাষ্ট্রইবা কিভাবে সমাধান চাইছে, সে ব্যাপারে হোয়াইট হাউজ কিছুই বলছে না। হোয়াইট হাউজ সমাধানের উপায় তৈরি করছে বলেই বলা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাবেক একজন মধ্যস্থতাকারী ডেভিড মিলার বলেছেন, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং তার আইনজীবী মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতা বুঝিয়ে সমাধানের উপায় বের করা যেতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের দূতাবস স্থানান্তর করার ফলে জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন জেরুসালেমের সীমানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ফিলিস্তিনীদের হতাহতের যে ঘটনা ঘটেছে, সেই প্রেক্ষাপটে তারা এখন শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। তাদের পক্ষে অন্য কোনও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করার সম্ভবনা কম। গাজা সীমান্তে সহিংসতা এবং হতাহতের ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, তাতে তারা ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে। হোয়াইট হাউজ গাজার হামাস নেতাদের দায়ি করে বলেছে, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‌ইসরায়েলকে উস্কানি দিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এদিকে ইসরায়েলে অর্থনৈতিক অবরোধের প্রেক্ষাপটে হতাশ ফিলিস্তিনীদের সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের ব্যাপারে এখন হামাস সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, জঙ্গি সংগঠন হামাস এখন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের দূর্বলতার কথা তুলে ধরে নিজেরা অবস্থান তৈরি করছে। গত ২৫ বছর ধরে কথা চললেও জেরুজালেম নিয়ে কোনও সমাধান হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারগুলোও সবসময় ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এখন খারাপের দিকেই এগুচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সূত্র: বিবিসি একে// এআর
মেলানিয়ার কিডনীতে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কিডনীতে অস্ত্রোপচার সম্পন্ম হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচার শেষে মেলানিয়া সুস্থ আছেন বলে জানায় হোয়াইট হাউজ। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, কিডনী জনিত সমস্যার কারণে মার্কিন ফার্স্ট লেডীর এই অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে কিডনীর সমস্যা তেমন ‘গুরুতর’ নয় বলেও ঐ বিবৃতিতে বলা হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মেলানিয়াকে প্রি-অপারেশন রুমে নেওয়া হয়। আজ সকালে ওয়ালটার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচার শেষে মেলানিয়া সুস্থ আছেন এবং অস্ত্রোপচারে কোন ধরণের জটিলতা হয়নি বলে জানায় হোয়াইট হাউজ। তবে আরও কয়েকদিন হাসপাতালেই থাকতে হবে মেলানিয়া ট্রাম্পকে। মেলানিয়ার অস্ত্রোপচার শেষে শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, “সফল অস্ত্রোপচার। তিনি (মেলানিয়া) ভালো আছেন। সকল শুভানুধ্যায়ীকে ধন্যবাদ”। প্রসঙ্গত, মেলানিয়া যে অস্ত্রোপচার করেছেন তাঁর মাধ্যমে সাধারণত ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ বা টিউমারে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়। সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া //এস এইচ এস// এআর  

চীনের হুমকিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলো যুক্তরাষ্ট্র

চীনা প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানি জেডটিই কর্পোরেশনকে পুনরায় ব্যবসার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  চীনা কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসার পরই এ কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খুব শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেডটিই এর প্রতি হঠাৎ সহমর্মিমতা বেড়ে যাওয়ার ঘটনা খোদ যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিপন্থী বলে অনেকেই মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নকল করেছে চীনা কোম্পানিগুলো, এমন অভিযোগে দেশটির উপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘চীনে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। ইতোমধ্যে কমার্স ডিপার্টমেন্টকে বিবাদ মিটিয়ে ফেলার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এক টুইট বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কমার্স ডিপার্টমেন্ট গত মাসে চীনা এ কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় সরবরাহ করায় জেডটিই এর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে কমার্স ডিপার্টমেন্ট। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার ফলে জেডটিই সেমি কন্ডাক্টার চীপের ব্যবহার করতে পারবে না। এতে হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়ে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কোষাধ্যক্ষ বিভাগের সেক্রেটারি স্টিভ নুচিনের সঙ্গে আলাপকালে চীনা সহকারি প্রধানমন্ত্রী লিউ বলেন, ‘জেডটি এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরণের ব্যবসায়িক আলোচনা চলবে না।’ এ হুমকির পরই যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, জেডটিই তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। এটি বিশ্বব্যাপী টেলিকম্যিউনিকেশনস ভিত্তিক সরঞ্চাম রফতানি করে আসছে। দেশটির গুয়ানডংয়ে এটি অবস্থিত।  সূত্র: রয়টার্সএমজে/

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন ইভাঙ্কা

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঊর্ধতন মার্কিন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বাশী জেরাড কুশনার। তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে ইসরায়েলি দূতাবাস সরানোর ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচনা করেছেল বিশ্ববাসী। এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পর্যন্ত গড়িয়েছিল ব্যাপারটি। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। সোমবার থেকে জেরুজালেমে অন্তর্বতীকালীন দূতাবাস খুলতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। পরবর্তীতে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সমগ্র দূতাবাস স্থানান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। ইসরায়েলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়েছে। অডিও অথবা ভিডিও কোন বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো বার্তা দিতে পারে বলে জানা গেছে। সূত্র: রয়টার্স এমজে/

বিশ্বের সব থেকে ১০ ক্ষমতাধর ব্যক্তি

সম্প্রতি বিশ্বের সবথেকে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বস। এ তালিকার শীর্ষে আছে চীনের প্রেসিডেন্ট শী জিনপিং। দ্বিতীয় আর তৃতীয় অবস্থানে আছেন যথাক্রমে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্রাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়াও বিশ্বের সবথেকে ক্ষমতাধর নারী হিসেবে তালিকার চতুর্থ স্থানে জায়গা পেয়েছেন জার্মানীর চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল।  সম্প্রতি চীনের সংসদ কংগ্রেস আইন পরিবর্তন করে শী জিনপিং-কে আজীবন ক্ষমতায় থাকার অনুমোদন দিয়েছেন। এছাড়াও তার ক্ষমতারও পরিধি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফোর্বস বলছে, স্থানীয়ভাবে এমন আস্থা ও ক্ষমতাই শী’কে তালিকার শীর্ষে নিয়ে এসেছে। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্রাদিমির পুতিন। চলতি মাসেই ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্রেমলিনে জায়গা করে নিয়েছেন সাবেক এই কেজিবি এজেন্ট।   খুব একটা আশ্চর্যজনক না হলেও তালিকার তৃতীয় অবস্থানে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সবসময় সবার আগে থাকতে চাওয়া ট্রাম্প এই খবরে নাখোশ হতেই পারেন। তবে ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পরেন ট্রাম্প। বিশেষ করে সাবেক পর্নো তারকাসহ একাধিক নারীর সাথে তার যৌন সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক ওঠে। এমনকি যে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন সেই নির্বাচন নিয়েও আছে বিতর্ক। দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এখনও নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে রুশ সংশ্লিষ্টা বিষয়ে তদন্ত করছে। তালিকার চতুর্থ স্থানে শীর্ষ নারী হিসেবে আছেন জার্মানীর এঞ্জেলা মার্কেল। ২০১৭ সালে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্বভার নেন তিনি। আর রাজনৈতিক বা কোন দেশের শীর্ষ পদের বাইরে থেকে সবথেকে ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় পঞ্চম স্থানে জায়গা হয় আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোস। বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তিও তিনি। আমাজনের ১৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে আছেন ক্যাথলিকদের ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিস। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ছয় ভাগের এক ভাগ মানুষের ধর্মের গুরু তিনি।  বিশ্বের এক সময়ে শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও মাইক্রো সফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস আছেন সাত নম্বরে। আর সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আছেন অষ্টম স্থানে। গত বছর দূর্নীতি বিরোধী অভিযানে তিনি গ্রেফতার করেছিলেন সৌদি আরবের বেশ কিছু শীর্ষ পর্যায়ের যুবরাজ, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিককে। এছাড়াও দেশটিতে ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তন আনছেন তিনি। বিশেষ করে নারীদের জন্য ব্যাপক সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন তিনি। এশিয়দের মধ্যে শীর্ষ এবং তালিকার নবম স্থানে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরে তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় নেতা যার টুইটারে ৪৩ লাখের বেশি অনুসারী আছেন। ১০ জনের তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে আছেন বিশ্বের সর্ববৃহত সার্চ ইঞ্জিন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ। ১৯৯৮ সালে শিক্ষা কার্যক্রমের একটি প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে গুগল তৈরি করা দলের সদস্য হয়ে যান এই বিলিয়নিয়ার। সূত্র: বিবিসি বাংলা //এস এইচ এস//টিকে

উ. কোরিয়ার অর্থনীতিকে পুননির্মাণের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র থেকে বের হয়ে আসলে তাদের অর্থনীতিকে পুনরায় চাঙ্গা করার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। শুক্রবার তিনি ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।  তিনি জানান, আমরা সেই  লক্ষ্যে বন্ধু দেশ দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সাথে আলোচনা করছি। মাইক পম্পেও সাংবাদিকদের বলেন, যদি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম সঠিক পথটি বেছে নেন তাহলে উত্তর কোরিয়ার মানুষের ভবিষ্যত শান্তিপূর্ণ হবে। তাদের জন্য এক বিশাল দরজা খুলে যাবে। অর্থনীতির দিক থেকে তাদের উন্নতি ঘটবে।      আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলাপ-আলোচনা আশা করছে বিশ্ব। ট্রাম্প-কিম বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাব তাদের বৈঠকে নতুন মোড় নেবে বলে আশা করছে রাজনীতি বিশ্লেষকরা।   এমএইচ/এসি    

নোবেল নয় শান্তি চান ট্রাম্প

নোবেলে নজর নেই ট্রাম্পের। এখন তিনি শুধুই ‘বিশ্বের শান্তি’ কামনা করেন। সাংবাদিকের প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাফ কথা, ‘আমি একটাই পুরস্কারই চাই, তা হল বিশ্ব শান্তি’। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করার অন্যতম দাবিদার ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। সম্প্রতিক কালে ঘটা দুই কোরিয়ার বৈঠককে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর দুই কোরিয়ার এই ‘মিলনে’র ‘মূল কারিগর’ ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমনটাই দাবি মুনের।প্রসঙ্গত, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে সদর্থক বৈঠকের জন্য মুনের প্রশংসা করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের স্ত্রীও। তিনি জানান, মুনের এ হেন কাজে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত। কিন্তু মুন জানিয়েছিলেন, কিমের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের সিদ্ধান্তের পেছনে  প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল ট্রাম্পের। যদি কেউ নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার হন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পই।নোবেল পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘আমি কী করতে চাই তা আপনারা জানেন। বিশ্বজুড়ে অশান্তি সমূলে উৎখাত করাই আঅমার একমাত্র লক্ষ্য। তাই শান্তিই একমাত্র আমার পুরস্কার।’ দক্ষিণ কোরিয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিমের বৈঠকে হতে চলেছে ২১ জুন। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই রাষ্ট্র নেতার এই বৈঠক যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে একমত কূটনৈতিক মহল। সূত্র : জি নিউজ এসএ/  

রুশ প্রভাবশালী থেকে ৫ লাখ ডলা গ্রহণের অভিযোগ কোহেনের বিরুদ্ধে

এবার ট্রাম্পের আইনজীবীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ রুশ কোম্পানির কাছ থেকে ৫ লাখ ডলার গ্রহণের অভিযোগ করেছেন পর্নোতারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলের এক আইনজীবী। ওই আইনজীবীর অভিযোগ, রাশিয়ার ওই কোম্পানির সঙ্গে রুশ এক ধনকুবের রাজনীতিকের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওই ধনকুবের মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এক টুইট বার্তায় ড্যানিয়েলের আইনজীবী মাইকেল অ্যাভেন্টি বলেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ ভিক্টর ভেকসেলবার্গ নিয়ন্ত্রিত একটি মার্কিন কোম্পানি কোহেনকে এই অর্থ সরবরাহ করে। তবে অ্যাভেন্টি কিভাবে এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি জানলেন সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি অ্যাভেন্টি। কোহেনের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগে মার্কিন আদালতে মামলা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখতে স্টেফানি ক্লিফোর্ড (স্টর্মি ড্যানিয়েলস)কে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেন কোহেন। তবে কোহেন চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে আদালতে অভিযোগ তোলেন স্টেফানি ক্লিফোর্ড। এদিকে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে অ্যাভেন্টি ও কোহেনের কেউ অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

যে তিন কারণে ইরান-চুক্তি বাতিল

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কখনো সরগরম দেখা যায়নি। এ ছাড়া ভোটের রাজনীতিতেও ইরান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাহলে হঠাৎ করে কেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন, এ নিয়ে বিশ্লেষক মহলে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ সব পশ্চিমা শক্তি-ই চুক্তিটি বজায় রাখতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এমনকি ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যসহ রিপাবলিকান নেতারাও ট্রাম্পকে চুক্তি বাতিল না করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সব বিরোধীতা সত্ত্বেও ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে গেলেন। চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ‘একটি আদর্শ চুক্তি করতেই আমরা এটা বাতিল করছি। ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া-উত্তর কোরিয়ার মতো ইরানের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছে নিজেকে প্রমাণ করতে চান বলেও মনে করেন অনেকে।  ওবামার অর্জন ধূলিসাৎ টার্গেট: চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করেন ওবামা প্রশাসনের সবকিছুই বাতিল করতে চান ট্রাম্প। ওবামা প্রশাসনের কোনো কিছুই সহ্য করতে পারেন না ট্রাম্প। এর আগে ওবামা প্রশাসনের নেওয়া স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প, অভিবাসী তরুণদের নিয়ে প্রকল্পসহ ও মেক্সিকো সীমান্তে শিথীলিকরণ নীতি সবই বাতিল করে দিয়েছেন ট্রাম্প। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ক্ষমতার দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যায়। এমনিক তিনি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে চান বলেও মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। এরই অংশ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় ট্রাম্প। গত জুনে বিশ্ব জলবায়ু চুক্তি থেকে (প্যারিস চুক্তি) নিজেদের প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কেবল প্যারিস চুক্তি-ই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটও কমিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প। এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পরই মুসলিম দেশগুলোর উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প। ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহী হন ওবামা। এরই অংশ হিসেবে তিনি ইরাক যুদ্ধকে ভুল ছিল বলেও রিপাবলিকানদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছিলেন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক: প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে নির্বাচনী যে ইশতেহার তিনি প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে তেহরান সম্পর্কে কোনো শব্দও ছিল না। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরপরই ট্রাম্প সেই চুক্তির বিষয়ে মুখ খোলেন। ২০১৫ সালে সাত জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে চুক্তিটি হওয়াকালে ইসরায়েল এর চরম বিরোধীতা করেছিল। তখন দেশটি লবি নিয়োগ করেও ওবামা প্রশাসনের সমর্থন আদায় করতে পারেনি। তবে তাই বলে আশা ছাড়েনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরই আরব ইসরায়েলের মধ্যে সমঝোতা করতে ট্রাম্প উঠেপড়ে লাগে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের জনগণ ও ফিলিস্তিনের জনগণের মধ্যে তিনি কখনো পার্থক্য করবেন না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই দেশটির দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়ে ফিলিস্তিনের বুকে প্রথম পেরেক মারেন ট্রাম্প। কেবল ফিলিস্তিন ইস্যু-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর ব্যাপারেও ট্রাম্পকে প্রভাবিত করছেন নেতানিয়াহু। এরই জেরে তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনে নতুন মুখ: প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনে রদবদল শুরু হয়। অনেক জনপ্রিয় সিনেটর থেকে শুরু করে কূটনৈতিক পাড়ার অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করেন। আবার অনেককেই ট্রাম্প সরিয়ে দিয়েছেন। তেহরান চুক্তিসহ ট্রাম্পের বেশ কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধীতাকারী হিসেবে পরিচিতি দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাকম্যাটিস ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস তেহরান চুক্তি থেকে সরে না যেতে ট্রাম্পকে বারবার চাপ প্রয়োগ করছিল। এরপরই ম্যাটিস ছাড়া বাকি দুজনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেন ট্রাম্প। দুই মুখকে সরিয়ে দিয়ে ইহুদিপন্থী মাইক পম্পেইকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জন বোল্টনকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেন ট্রাম্প। এরপরই এই নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একমত হয়ে তেহরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দেন। এর ফলেই ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান। সূত্র: বিবিসিএমজে/

১২ বছরে ৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী যে মার্কিন নারী

সময়ের ব্যবধান মাত্র ১২ বছর। এরই মধ্যে ৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী হয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এক নারী। ডেথ চেম্বার বা মরণ-কুঠুরিতে নিয়ে মৃত্যুশয্যায় শেষ শয়ানে হাত-পা বেল্ট দিয়ে আটকে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীর শরীরে দেয়া হতো ইনজেকশন। এরপর ধীরে ধীরে সেই প্রাণঘাতী তরল কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়তো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের গায়ে। চিরতরে শায়িত হয়ে যেতেন তিনি। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অন্য যে কোনো অঙ্গরাজ্যের চেয়ে বেশি সংখ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আর টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিমিনাল জাস্টিস (টিডিসিজে) এর একজন কর্মী হিসেবে সেই সব মৃত্যুদণ্ডের অন্তত শ`তিনেক ঘটনা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন মিচেল লায়ন্স। ২০০০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১২ বছর ধরে মৃত্যুকে চাক্ষুষ করাই ছিল তার কাজ। ফুসফুস থেকে শেষ বাতাসটুকু বেরিয়ে যাবার সময় তাদের কেউ হয়তো সামান্য যন্ত্রণায় ছটফট করেছে কেবল। আবার কেউ হয়তো দম আটকে আসায় হাঁস-ফাঁস করেছে খুব। আর কেউ হয়তো হাঁপড়ের মতন ফুঁস করে একটা শব্দ তুলেছেন শুধু। এভাবেই বহু মানুষের বুক থেকে প্রাণ বায়ু বেরিয়ে যেতে দেখেছেন মিচেল লায়ন্স। ২০০০ সালে প্রথমে এইসব মৃত্যুকে তিনি দেখেছেন পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে। আর এরপর টিডিসিজে-এর মুখপাত্র হিসেবে মৃত্যুকে সামনে থেকে পরখ করাই ছিল তার কাজ। এইসব মৃত্যুকে খুব নিকট থেকে দেখতে গিয়ে তার নিজের উপরেও গভীর প্রভাব পড়েছিল। ১২ বছর ধরে প্রত্যক্ষ করা মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে তার স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ `ডেথ রো: দি ফাইনাল মিনিটস`। সেই বিষয়েই এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা। ১৮ বছর আগে প্রথম যে মৃত্যুর ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন মিজ লায়ন্স, সেটি এখনো ভুলতে পারেননি। তার চোখের সামনেই নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিল রিকি ম্যাকগিনের দেহ। মি. ম্যাকগিনের মতন আরো অনেকের চেহারা তার স্পষ্ট মনে আছে। যদিও কী ছিল তাদের অপরাধ, কী ছিল তাদের নাম সেইসব কিছু আজ আর তার মনে নেই। ১৭ বছর বয়সী নেপোলিয়ন বিজলে`র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার পর অফিস থেকে বাড়ি যাবার সময় সারা পথ ধরে অঝোরে কেঁদেছিলেন মিজ লায়ন্স। তার শুধু বারবার মনে হচ্ছিলো, বেঁচে থাকলে ছেলেটি হয়তো সমাজের কাজে আসতে পারতো। এমন ভাবনা মনে আসায় তিনি আবার মানসিক টানাপড়েনেও থেকেছেন। কারণ নেপোলিয়ন বিজলে`র অপরাধও ছিল গুরুতর। তাই, তিনি এটিও ভেবেছেন যে, বিজলের হাতে যিনি খুন হয়েছিলেন লায়ন্স নিজে যদি সেই পরিবারের কেউ হতো তাহলে তার মৃত্যুদণ্ডই হয়তো চাইতেন তিনি। এখন ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যু কার্যকর করা হলেও একসময় তা করা হতো ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে। ১৯২৪ থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত এভাবেই ৩৬১ জনের শাস্তি কার্যকর হয়েছে।১৯৭২ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই আদেশে মৃত্যুদণ্ডকে `নৃশংস` হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। কিন্তু এই আদেশের কিছু দিনের মধ্যেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনার দাবী ওঠে। এক পর্যায়ে নিষিদ্ধ হওয়ার দুই বছরের মধ্যেই টেক্সাসে আবারো বহাল হয় মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান। টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সংখ্যা অনেক বেশি। কেবল ২০০০ সালেই সেখানে এই শাস্তি পেয়েছিল ৪০ জন। সাম্প্রতিক জরিপে অবশ্য দেখা যাচ্ছে, টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। যদিও তা এখনো অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি। অ্যামেরিকায় মৃত্যুদণ্ডের এই বিধান নিয়ে সমালোচনায় সরব ইউরোপ। মৃত্যুদণ্ডকে তারা `খুন` বলেই বর্ণনা করে। আর অনেকের ভাষায়, মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে হত্যাকাণ্ড। কিন্তু খুব সহসাই টেক্সাস থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান উঠে যাবার কোনো সম্ভাবনাও দেখছেন না মিচেল লায়ন্স। কারণ ২০১৩ সালের এক জরিপেই উঠে এসেছিল যে, টেক্সাসের অন্তত ৭৪ শতাংশ মানুষ মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করছে। মিজ লায়ন্স যখন টিডিসিজে-এর মুখপাত্র ছিলেন তখন বহু মানুষের কাছ থেকে ঘৃণা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিশ্রিত চিঠি ও ইমেইল পেয়েছেন। কখনো-কখনো এইসব চিঠি ও ইমেইলের জবাবে তিনি-ও কড়া ভাষায় বলে দিয়েছেন, টেক্সাসের সরকারী কাজে নাক না গলাতে। কিন্তু লায়ন্স যখন গর্ভবতী হলেন, যখন মা হলেন, যখন ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করতে থাকলেন প্রতিদিন তখন তার মনের উপর বড্ড চাপ তৈরি হয়েছিল। চোখের সামনে একজন প্রাণবন্ত মানুষকে চিরঘুমে তলিয়ে যেতে দেখতে-দেখতে তিনি হাঁপিয়ে উঠেছিলেন। সূত্র: বিবিসি এমজে/

মেলানিয়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে যে বুকলেট প্রকাশ করেছেন, সেটি কি ওবামা শাসনামলে একই বিষয়ে প্রকাশ করা বুকলেটের হুবহু নকল, খোদ এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মাত্র গতকালই বেশ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্প শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখার বিষয়ে তার প্রচারণা শুরু করেছেন। এ উপলক্ষে তাঁর প্রকাশ করা বুকলেটটির নাম "টকিং উইথ কিডস এবাউট বিয়িং অনলাইন"। এটির সঙ্গে ব্যাপক মিল রয়েছে চার বছর আগে ওবামা প্রশাসনের সময় বের করা একই বিষয়ক একটি বুকলেটের। দুটি বুকলেটের আকারে শুধু নয়, লেখাতেও অনেক মিল। এই দুটি বুকলেটের অদ্ভূত মিল নিয়ে টুইটারে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। দ্য রুড পান্ডিত নামে একজন লিখেছেন, `মজার তথ্য: হোয়াইট হাউজ `টকিং উইথ কিডস এবাউট বিয়িং অনলাইন` নামে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং `ফেডারেল ট্রেড কমিশনের` বুকলেট নিয়ে ঢাক পেটাচ্ছে। আসলে বুকলেটটির ভূমিকাটি ছাড়া আর পুরোটাই ওবামা আমলে এফটিসি`র প্রকাশ করা বুকলেটের হুবহু নকল।" ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বলেছেন, তিনি `বি বেস্ট` বলে যে প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটির উদ্দেশ্য শিশুদের সামাজিক, মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া। সোমবার হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে তিনি এটির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের ওপর ইতিবাচক এবং নেতিবাচক- দু ধরণের প্রভাবই রাখতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় একটি নেতিবাচক ভাবেই ব্যবহার করা হয়। মেলানিয়া ট্রাম্প `সাইবার বুলিয়িং` বা অনলাইনে লোকজনকে যারা উত্যক্ত-হয়রানি করে, তাদের বিরুদ্ধে কাজ করার কথা বলেছেন এর আগেও। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তার স্বামী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই যেভাবে টুইটারে বিভিন্ন আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন সেগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। সাংবাদিক ক্যাথি আরিউ লিখেছেন, মেলানিয়া সাইবার বুলিদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এটা পরিহাসের মতো শোনাচ্ছে। তার স্বামী নিজেই একজন বড় সাইবার বুলি বলে পরিচিত। মেলানিয়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ নিয়ে এ ধরণের বিতর্ক আগেও হয়েছে। দুবছর আগে রিপাব্লিকান পার্টির সম্মেলনে তিনি দৃঢ় পারিবারিক মূল্যবোধ সম্পর্কে একটি বক্তৃতা দেন। সেই বক্তৃতাও ছিল সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার দেয়া একটি বক্তৃতার প্রায় হুবহু নকল। সূত্র: বিবিসি বাংলাএমজে/

তেহরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা আজ

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে করা ছয় জাতিগোষ্ঠীর পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসবে কি না, অথবা চুক্তিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করবে কি না সে বিষয়ে আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে তেহরান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে কি না সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানাবেন ট্রাম্প। পশ্চিমা বিশ্ব দাবি করে আসছে, পারমাণবিক চুক্তির ফলে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ থেকে দূরে সরানো গেছে। তাই ওই চুক্তি আলোর মুখ দেখেছে না।’ ট্রাম্প বারবারই ২০১৫ সালে করা চুক্তিটি বাতিল করার কথা বলে আসছেন। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষা এবং ইয়েমেন ও সিরিয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দেশটির সঙ্গে করা চুক্তিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মার্কিনিরা মনে করে, তেহরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ থেকে পিছু হঠানো যায়নি। তাই তারা চুক্তিটি বাতিলের কথা বলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের সঙ্গে ট্রাম্পের উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলে আসছেন। ইরান যে বারবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে,এ বিষয়ে পশ্চিমাদের সতর্ক করা হচ্ছে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সব পশ্চিমা শক্তি ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে এক হয়ে কাজ করি’। উল্লেখ্য, এর আগে তেহরান ইস্যুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো পারমাণবিক ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন সত্য, তবে চুক্তিটি বাতিল করতে তিনি রাজি নন। তাঁর দাবি, চুক্তিটি নবায়ন করা গেলেই ইরানকে দমানো যাবে। সূত্র: রয়টার্সএমজে/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি