ঢাকা, রবিবার   ১৮ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৩ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

আমরা অসুস্থ হই কেন?

অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশিত : ১৬:০৮ ১৪ আগস্ট ২০১৯ | আপডেট: ১৬:২১ ১৪ আগস্ট ২০১৯

সুস্থতা আমাদের জীবনের জন্য কতখানি প্রয়োজন? ধরুন, আপনার যশ, খ্যাতি, সম্পদ, প্রতিপত্তি সবই আছে কিন্তু আপনি অসুস্থ। আপনার জীবন তখন কেমন হবে? আবার সুস্থ না থাকলে জীবনকে আপনি যাপন করবেন কীভাবে? সুস্থ না থাকলে জীবনকে কি উপভোগ করা যায়?

এ বিষয়ে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ারের অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমেদ। নিচে তার বক্তব্য তুলে ধরা হলো-

সুস্থ না থাকলে জীবনকে কি উপভোগ করা যায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। যায় না। আমরা বলি স্বাস্থ্যই সব সুখের মূল। স্রষ্টার দেওয়া একটি বড় আশীর্বাদ সুস্বাস্থ্য। কারণ সব থাকার পরেও আপনি যদি অসুস্থ থাকেন, আপনার মধ্যে যদি প্রাণবন্ততা না থাকে, আপনি যদি আতঙ্ক, ভয়, দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকেন, তাহলে সব কিছুই অর্থহীন।

এখন প্রশ্ন হলো, আমরা অসুস্থ হই কেন? এ প্রসঙ্গে পৃথিবীর বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা কী বলছেন?

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক ড. হার্বাট বেনসন, ড ডীন অরনিশ, ড. দীপক চোপড়া, ড. ল্যারি ডসি, ড. জন রবিন্সসহ বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, আধুনিক মানুষের অধিকাংশ রোগী হলো সাইকোসোমাটিক বা মনদৈহিক।

প্রফেসর ড. হার্বাট বেনসন হার্বাডের মাইনবডি মেডিকেল ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, মেডিটেশনের নিরাময় ক্ষমতা নিয়ে যিনি অর্ধশতক ধরে গবেষণা করছেন। এ প্রসঙ্গে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যেসব কারণে মানুষ ডাক্তারের কাছে যায়, তার ৬০ থেকে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী হলো স্ট্রেস ও অন্যান্য মানসিক চাপ। যা কোনও ওষুধ বা অপারেশনের দ্বারা সারানো সম্ভব নয়।

আসলে সুখের অভাবই হলো অসুখ। মনে সুখের অভাব হলেই তার প্রভাব পড়ে দেহে। মনের দুঃখ, কষ্ট, ক্ষোভ, হতাশা, গ্লানি, জমে তা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা-বেদনা রূপে প্রকাশ পায়। মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন, ব্যাকপেইন, বাতব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এজমাসহ অধিকাংশ ক্রনিক রোগগুলোর কারণই তাই।

এখন যদি ভেতরটাকে আমরা প্রশান্ত রাখতে পারি, যদি প্রফুল্ল থাকতে পারি, যদি আনন্দ-প্রশান্তির সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারি, তাহলে সুস্থতাই হবে আমাদের জন্য স্বাভাবিক। প্রতি মুহূর্তে, প্রতি  নিঃশ্বাসে আমরা অনুভব করব সুস্থতা। বুঝতে পারবো, জীবন কত আনন্দময় হতে পারে।

কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে আমরা কী আচরণ করি? দেখুন কত অল্পতেই রেগে যাই আমরা! উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্ত ছাড়া কোনও একটি দিনও কি আমরা কাটাতে পারি?

নিজেকে নিয়ে একটু ভাবলে আমরা বুঝতে পারবো যে আতঙ্ক, হতাশা আর হয়রানির হাতে কেমন বন্দি আমরা!

ক্রমাগত এসব যন্ত্রণা আমাদের মনের ভেতর জট পাকাতে থাকে। যার ফলাফল, এইসব রোগ-ব্যাধি আর অসুস্থতা।

আর এভাবেই নিজের অজান্তেই হয়তো, আমার অনেক রোগের কারণ আমি নিজেই। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই রোগগুলো থেকেই মুক্তিও কিন্তু সম্ভব নিজেদের উদ্যোগেই। কারণ মানুষের শরীর হলো সেরা ফার্মাসি আর মন হলো সেরা ডাক্তার। কিন্তু মনকে প্রশান্ত করবো কীভাবে?

যেভাবে আমাদের নবী রসুল, মুনিঋষি, অলি বুজুর্গগণ করেছেন, যে কথা হাজার বছর ধরে ধর্ম বলেছে আর তা হলো ধ্যান বা মেডিটেশন।

মেডিটেশন করলে শরীর শিথিল হয়। মনে প্রশান্তি আসে। হার্টবিট ও রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়। দুশ্চিন্তা, হতাশা, গ্লানি দূর হয়। মন ও শরীর লাভ করে এক অনাবিল আনন্দ ও প্রশান্তি।

তাই সুস্থ জীবনের ক্ষেত্রে আপনার প্রথম পদক্ষেপটি নিন। মেডিটেশন করুন আর প্রতিদিন শতবার মনে মনে বলুন, সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন, কর্মব্যস্ত সুখি জীবন। দেখুন জীবন কত আনন্দের, কত প্রশান্তির।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি