ঢাকা, শনিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০:৫৫:৪২

Ekushey Television Ltd.
বিদেশি গণমাধ্যমে খবর

শেখ হাসিনা-ই ফের ক্ষমতায় আসছেন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:৫৮ এএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ১১:৫৯ এএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায় আসছেন বলে বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন ম্যাগাজিন টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে তুলে আনায় শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসছেন। দুই মেয়াদে তার সরকারের ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞের ফলে এবারের নির্বাচনেও ভোটাররা আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবেন।

যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনী পরিস্থিতি শেখ হাসিনার অনুকূলে রয়েছে। এছাড়া আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনী প্রচারে বরাবরের মতো ‘ভারত ইস্যু’ দেখা যায়নি বলেও ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতির উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক খাতে চাঙা ভাব আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। এর ফলে শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা বেগবান হয়েছে।

শুক্রবার ও বৃহস্পতিবার এসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শুক্রবার প্রভাবশালী মার্কিন ম্যাগাজিন টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববারের নির্বাচনের মাধ্যমে রেকর্ড চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। দুই মেয়াদে তার সরকারের ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞের ফলে এবারের নির্বাচনেও ভোটাররা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখোমুখি হয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে শেখ হাসিনার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে সাজা ভোগ করছেন। আদালত তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন।

২০১৪ সালে দেশটির নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। এবার শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জার হিসেবে ড. কামাল আবির্ভূত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক আলী রিয়াজ টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, উন্নয়ন বলতে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বোঝায় না, এর একটি বৃহৎ অর্থ রয়েছে; যার মধ্যে মানবাধিকার, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনও রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এসবের অনুপস্থিতি রয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের নির্বাচনগুলোয় বিএনপি প্রথাগতভাবে ভারত বিরোধিতায় নেতৃত্ব দিয়েছে। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার পর দিল্লি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনর্নির্বাচনে কোনো চাপ দেয়নি। উল্টো হাসিনার জয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিএনপির অনেকে ওই নির্বাচন বর্জন করাকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে মনে করেছেন।

পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘আমি মনে করি, শেখ হাসিনা ভূরাজনৈতিক অভিযাত্রা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমান সমান অংশীদারিত্ব রয়েছে।’

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্রমশ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

ভিয়েলল্যাটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ডেভিড হাসানাত বলেছেন, বর্তমানে আমাদের দেশে রাজনৈতিক স্থিরতা রয়েছে এবং এটি বজায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক স্থিরতা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে হওয়া উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি সম্পাদন করেছে শাসক দল আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার সরকার প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।

আশা করা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনেও ক্ষমতায় আসবেন শেখ হাসিনা। এর ফলে অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগের নিয়মিত প্রবাহ রক্ষায় তা সহায়ক হবে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেশমি খুরানা ব্লুমবার্গকে বলেন, প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া বাংলাদেশের জন্য সার্বিকভাবে ভালো খবর। তবে ধারণা করা হচ্ছে, শেখ হাসিনাই নির্বাচনে জিততে চলেছেন। তবে ২০১৪ সালে যেখানে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল, এবার বিএনপি কিছুটা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করেছে।

আরকে//



© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি