ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২

নেতিবাচকতা, সরি এবং প্রতিক্রিয়া

সোহেল মাহমুদ

প্রকাশিত : ১১:২৮, ৩১ আগস্ট ২০২০ | আপডেট: ১২:৪০, ৩১ আগস্ট ২০২০

সোহেল মাহমুদ

সোহেল মাহমুদ

ভদ্রলোক আমার কাছে একটা সাহায্য চাইছেন। ফরম পূরণ করে দেয়ার সাহায্য। আমার কাছে এসে বললেন, ‘কেমন আছেন? আপনার ভুঁড়ি বেড়েছে।’ আমি বললাম, ‘কমানোর কোন ওষুধ সাথে এনেছেন?’ 

তিনি বিব্রতভাবে উত্তর দিলেন, আপনি বোধহয় মাইন্ড করেছেন। বললাম, ‘অবশ্যই’। ‘সরি’ বলে তিনি প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাইলেন। আমি প্রসঙ্গে থেকে আমার প্রতিক্রিয়াকে আরো লম্বা করলাম- ‘অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যক্তিগত এসব বিষয় আলোচনার জন্য সময় কোনটি, আমাদের অনেকের জানা নেই।’ তিনি আবারো সরি বললেন। 

কাউকে প্রশ্ন করার আগে, কোন প্রসঙ্গে আলাপ শুরু করার আগে কখনো কি ভেবেছেন সেটি কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কি না? সে আলাপে কে লাভবান হচ্ছেন? সারমর্ম কি? হিতোপদেশ কি? শিক্ষা কি? ফল কি? আপনার মধ্যে ভাবনার চর্চা থাকলে এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন আপনি পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে। সমস্যা হচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষেরই আলাপের প্রাসঙ্গিকতা জ্ঞান নেই। 

একটা রেস্টুরেন্টে বসে খাচ্ছিলাম এক সিনিয়রের মুখোমুখি বসে। করোনাতাণ্ডবের আগের কথা। সে সময় রেস্টুরেন্টে ঢুকলেন তার পরিচিত একজন। তার সাথে কুশল বিনিময় শেষ না করেই বলতে শুরু করলেন, ‘ভাই, শুনছেন নাকি? ‘খ’ এর বউ তো ‘গ’ সাথে ভেগে গেছে।’ আমি থ বনে গেলাম। যিনি বলছিলেন, আমার চেহারা দেখেন নি।

কিন্তু তার পরিচিত মানুষটার সাথে আরো একটা মানুষ যে বসে আছে, তার সামনে এমন আলাপ করা যাবে কিনা, এমন আরো অনেক কিছু তিনি মোটেও ভাবেন নি। তিনি আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। থামিয়ে দিয়ে বললাম, ‘অন্যের বউয়ের পালিয়ে যাওয়ার কাহিনী রেখে এখন আমাদের বউদের ভেগে যাওয়া ঠেকানোয় মন দিলে ভালো হবে না? কি বলেন?’ লোকটা বিব্রত হলো মনে হলো। সরি বললেন। 

প্রতিদিন কয়বার সরি বলি? একই আচরণের জন্য কয়বার? সরি একবার বলার বিষয়। বারবার না। সরি বলা মানে অনুকম্পা চাওয়া। আমি একই ধরণের ভুলে কয়বার মাফ চাইবো? 

অনেকে বলেন, এসব ইগনোর করুন। মনোবিজ্ঞান কি বলে জানি না। তবে, এসবকে এড়িয়ে আমি যাই না। কারণ, আমি মনে করি এসব হচ্ছে নেতিবাচক চারপাশ তৈরির বড় উপাদান। 

মনিষীরা মহামানবরা যখন ‘অজ্ঞের কথার জবাব দিতে নেই’ বলেছিলেন, ফেসবুক ছিল না। ইউটিউব, টুইটার না। ইন্টারনেট নয়। না টেলিভিশন, না পত্রিকা আর টেলিফোন। আসলে, সে সময় নেতিবাচকতা সংক্রমিত হবার মাধ্যম ছিলো সীমিত। আর এখন? সেকেন্ড লাগে না। সে কারণে, আমি মনে করি প্রত্যেক নেতিবাচকতার জবাব দেয়া উচিত। নিজের অপছন্দ, ভালো না লাগাটার জানান দেয়া উচিত।

সেটা মারমুখী আচরণে করতে হবে, এমন না। ‘আপনার আচরণ আমার পছন্দ হয়নি’ বলাটাও একটা প্রতিবাদ। কারোর কথা, আচরণ বা কর্ম আপনার ভালো লাগেনি, সে অবস্থাটা অন্তরে পুষে না রেখে প্রকাশ করাকে আমি আমার কর্তব্য মনে করি। আবারো বলি, এ জন্য বিপ্লবী না হলেও চলে। 

সবাই নিজের ভালো না লাগাটা প্রকাশ করতে পারলে, এ ভালো না লাগার জন্য দায়ী ব্যক্তির মাঝে একাকীত্ব যে তৈরি হবে কোন সন্দেহ নেই। সে কাজটা অন্তত আমি করি। ‘আপনার কাজটা আমার পছন্দ হয়নি’ বলার চেষ্টা করি। সেটি সবসময় সম্ভব না হলেও শরীরী ভাষায় নিজের ভালো না লাগার অনুভূতিটা প্রকাশ করি। এ প্রকাশকে অসুস্থতা বলে অনেকে। আর, এ চেষ্টায় বেশিরভাগ সময় আমি হয়তো একা।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক

এমবি//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি