ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ৬:১৪:০০

রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১২৪৩ জন

রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১২৪৩ জন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রোববার দুইটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয় এ বছরের ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষায় এক হাজার ২৪৩ জন ভর্তিচ্ছু অনুপস্থিত ছিলেন। আগামী ৩১ অক্টোবর পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯ টায় রুয়েটের বিভিন্ন ভবনে ‘ক’ (ইঞ্জিনিয়ারিং ও আরবান অ্যান্ড রিজিওন্যাল প্ল্যানিং বিভাগ) এবং ‘খ’ (আর্কিটেকচার বিভাগ) গ্রুপের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষায় ১৪টি বিভাগের ১ হাজার ২৩৫ আসনের বিপরীতে ৬ হাজার ২৪১ জন ভর্তিচ্ছু অংশ নেন। রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম  শেখ বলেন, ‘সকলের সার্বিক সহযোগীতায় সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতার কারণে কোনো ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি।’ আগামী ৩১ অক্টোবর রুয়েট প্রশাসনিক ভবনের নোটিশ বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে  www.ruet.ac.bd  প্রকাশ করা হবে। কেআই/ এসএইচ/
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাবলিক পরীক্ষা বাদ দেওয়া উচিত: ড.জাফর ইকবাল 

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেছেন, কোমলমতি শিশুদের আনন্দ পাঠ বা খেলাধুলার মাধ্যমে শেখানো উচিত। জোর করে খুদে শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষা চাপিয়ে দিয়ে ভালো কিছু আশা করা ঠিক নয়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনও পাবলিক পরীক্ষা রাখা উচিত নয়। রবিবার (২১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর অডিটোরিয়ামে গণিত অলিম্পিয়াড কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির সম্ভব্যতা যাচাই প্রকল্পের উদ্বোধনী এবং অবহিতকরণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল।    তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের ওপর এক ধরনের ভীতি কাজ করে। এটি কাটিয়ে তুলতে হবে। এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণিতের ওপর পারদর্শী করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের চার কোটি শিক্ষার্থীর যদি সঠিকভাবে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে দেশ এমনিতেই এগিয়ে যাবে। এই অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় অন্তত একটি মেডেল পেলেও ওই শিক্ষার্থীকে দেশের যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।    এসি   

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ইবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নাজমুল হাসান নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ২২৯ নং কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মা করে সে। সহপাঠিদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নাদিম, সাগর ও আব্দুল্লাহ নামের কয়েকজন বন্ধুসহ নাজমুল হাসান ক্যাম্পাসে ঘুরতে বের হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হলের নিজ কক্ষে (২২৯ নং) ফেরে নাজমুল। কক্ষে গিয়ে সে তার বন্ধুদেরকে নিজ কক্ষে ডাকে। তার বন্ধুরা কক্ষের সামনে গেলে দরজা বন্ধ পায়। ডাকাডাকি এক পর্যায়ে সাড়া না পেয়ে দরজা ভাঙ্গলে কক্ষের ভেতরে রশিতে ঝোলানো অবস্থায় নাজমুলকে দেখতে পায় তারা। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদিউজ্জামান নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্তব্যবরত চিকিৎসক বদিউজ্জামান বলেন, ‘চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আগেই মারা গেছে নাজমুল।’ এছাড়াও প্রেশার, হাপানি ও চোখের নানা রোগে আক্রান্ত ছিল নাজমুল বলে জানা গেছে। মানসিক হতাশার কারণে নাজমুল আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে নাজমুল ফেসবুকে একটি পোষ্ট দেয়। পোষ্টটি ছিল‘একটা রিক্সা চাই, শৈশব ও কৈশোর ফিরে যাবার জন্য।’ নাজমুল হাসান সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার বারাত গ্রামের আব্দুল মালেক গাজী ওরফে ভোলার ছেলে। তার মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সে। তার অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠিদের মধ্যে নেমেছে শোকের ছায়া মাতম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন,‘ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষ ও লাশ পর্যক্ষেণ করা হয়েছে। লাশ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবার আসলে কি করা যায় সে বিষয়ে সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’  একে//

আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে শতবর্ষী জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে সরকার। ২০০৯ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৬০ বছরের পুরনো এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এবার বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ছুটির দিন শনিবার হওয়ায় আগামী সোমবার উদযাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।প্রতিষ্ঠার এই ১৩ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও সামনের দিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি পরিবর্তন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান আহরণ এবং পাঠদান দুটি কাজই হয়ে থাকে। আমারা এটি করতে পেরেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মেধাবীরা ভর্তি হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও মেধাবী। শিক্ষকদের অনেকে বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। ইউজিসি এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষকরা বিভিন্ন গবেষণায় ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারুকলা, সঙ্গীত, নাট্যকলার মতো বিষয় খোলার মাধ্যমে সুকুমারবৃত্তির সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটেছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা সংকুলান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, নতুন একাডেমিক ভবন এবং গবেষণা কাজের সুবিধার্থে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় ২০০ একর জমিতে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষক, ১৯ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।২০১৩ সালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ছাত্রীদের জন্য এক হাজার আসন বিশিষ্ট ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বর্তমানে ১৬ তলা বিশিষ্ট হলটির কক্ষ নির্মাণ কাজ চলছে। এ বছরের শেষে নারী শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবে।এসএ/  

জবির শিক্ষার্থী কেন গর্বিত জবিয়ান?

আগামীকাল ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশ করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা তাদের মনের কথা তুলে ধরছেন। তাদের মধ্য থেকে জবির বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর লেখা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। কিছু কথা ছিল মনের ভিতর... আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম দিবসকে সামনে রেখে আমরা জবিয়ানরা ফেইসবুকে পোস্ট দিচ্ছি আমি গর্বিত জবিয়ান। হ্যাঁ এটা চিরন্তন সত্য কথা আমিও গর্বিত যে আমি একজন জবিয়ান কিন্তু কেন সেই গর্বটা করি সেটা প্রকাশ না করলেই নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক রাজধানী শহরের শত বছরের পথ চলার সাক্ষী ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্র সদরঘাটে অবস্থিত। আমরা যারা জবিয়ান আমাদের আবাসিক হল নেই আমরা বাসে ঝুলে ঝুলে অন্তত সপ্তাহে ৪ দিন সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস করে দৈনিক ৩-৪টা টিউশনি করিয়ে প্রতিমাসে নূন্যতম পর্যায়ের একটা মেসে নিজের থাকা-খাওয়ার ৭-৮ হাজার টাকা নিজেই আয় করে এই শহরে এখনো ঠিকে আছি তাই আমি বলি আমি গর্বিত জবিয়ান। অনেক সময় এলাকা থেকে অথবা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বন্ধুরা ফোন দিয়ে বলে আমরা/আমি নাকি কেমন পরিবর্তন হয়ে গেছি তোদের বলছি ভাই পরিবর্তন হইনি এখানকার সিস্টেম আমাদের/আমাকে পরিনর্তন করে দিয়েছে। জানি বিশ্বাস করবি না কিন্তু একটা মাসের জন্যে আমার পরিস্থিতি এসে দেখ তুই নিজেও পরিবর্তন হয়ে যাবি। সকালে না খেয়ে ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ক্লাস করে দুপুরে না খেয়ে আবার আমাদের দৌড় শুরু হয় টিউশনির জন্যে স্টুডেন্টদের বাসায় বাসায় একটানা ৪-৫টা টিউশনি করিয়ে রাত ১০ টায় সেই অন্ধকার গলির ভিতর দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে দূরে দাড়িয়ে থাকা ক্ষুধার্ত একটা কুকুরের ঘেউ ঘেউ আর্তনাদে মাথায় আসে যে আমি সারাদিন কিছুই খাই নাই। গলির মোড়ে মামার দোকান থেকে এক কাপ চা আর রুটি খেতে বসি হাতটা দোকানের উপরের সারিতে রাখা দামি খাবারের দিকে যায়না কারন এই হাতটার যে পকেটের গভীরতাও অজানা নয়। মনকে বুঝাই এখন চা আর রুটি ই খাই একটু পরই তো মেসে গিয়ে ভাত খাব মেসের পথ ধরে অন্ধকার গলি দিয়ে হাটতে হাটতে হিসেব করি এ মাসে কত টাকা কমতি আছে কত টাকা দিয়ে কতদিন চলতে হবে সে হিসাব করতে করতে গলির পথ শেষ হয়ে যায় কিন্তু আমাদের হিসাব শেষ হয় না কারণ গলির পথের একটা সীমা আছে কিন্তু আমাদের এই ৫ টাকা ১০ টাকার হিসাব যে কখন শেষ করবেন সেটা সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিয়ে দৃঢ় মনোবল আর প্রত্যয় নিয়ে পথ চলতে পারি বলেই আমি গর্বিত জবিয়ান।   সারাদিনের ক্লান্তি শেষে একটু সামন্য বিনোদনে সময় পার করতে চাইলেও বাড়িতে ফোন দিয়ে বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বললেই আর সেই বিনোদনের ইচ্ছা থাকে না ভুলে যাই বন্ধুদের কথা ভুলে যাই প্রিয়জনের কথা ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে পড়তে বসে যাই কারণ বাবার করুণ কণ্ঠস্বর আর মায়ের মুখে সন্তানের আকাশচুম্বী সফলতা অর্জনের কথা শুনে আমরা জবিয়ানরা হাজারো ক্লান্তিকে হার মানিয়ে পড়ার টেবিলে বসতে পারি বলে, বন্ধুদেরকে,নিজের প্রিয়জন কে সময় দিতে পারি না বলে, বিনোদনের ইচ্ছাটুকুকে অবুঝ শিশুকে বুঝানোর মত করে নিজের মনকে প্রলোভন দেখাতে পারি বলে আমি গর্বিত জবিয়ান পুরান ঢাকার মেসের প্রতিবন্ধকতা সহ্য করে টানা ২-৩ দিনে একবার ও হোটেলে ভাত না খেয়ে শুধু রুটি আর ডালভাজি খেয়ে জীবনযাপন করি পেট ক্ষিধের জ্বালায় জ্বললেও হোটেলে গিয়ে আমরা ভাত আর রুটি-পরটার দামের পার্থক্যটা চিন্তা করে রুটি-পরটা খাই বলেই আমরা গর্বিত জবিয়ান। আমরা টিউশনির বাসায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মুখের কটু কথা শুনেও কিছু মনে করিনা বলেই আমরা গর্বিত জবিয়ান। প্রতিবন্ধক পরিবেশে নিজের জন্যে, নিজের পরিবারের জন্যে লড়াই করে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দেওয়ার মত দৃষ্টান্ত আমরা দেখাতে পেরেছি বলে আমরা গর্বিত জবিয়ান। আমরা ক্লাসের জন্যে ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে ঢাকা শহরের যানযটের মধ্যে ৪ঘণ্টা বাসে ঝুলতে ঝুলতে আসি আবার ক্লাস শেষে আরও ৪ ঘণ্টা ধরে বাসে ঝুলতে মেসে ফিরি বলে আমরা গর্বিত জবিয়ান আমরা সারাদিন না খেয়ে থেকেও বাড়ি থেকে ফোন আসলে হাসি মুখে আমি খেয়েছি বলার মত অভিনয়টুকু করতে পারি বলে আমরা গর্বিত জবিয়ান। আমরা ঘাম ঝড়িয়ে,বাসে চড়ে, খেয়ে না খেয়ে, ঘিঞ্জি ঘনবসতি বস্তির মত পরিবেশে থেকে জীবন যুদ্ধে ঠিকে আছি বলেই আমরা গর্বিত জবিয়ান। আমরা পুরান ঢাকার মত ঘনবসতি ঘিঞ্জি এলাকায় থেকেও পড়ালেখার উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়েও সুন্দর মনোরম পড়ালেখা করার মত উপযোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীর চেয়ে ভাল কিছু করে দেখিয়েছি বলে আমরা গর্বিত আমরা জবিয়ান। বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আমরা আলাদা, আমরা অনেকখানি ভিন্ন, আমরা অনেক বেশি পরিশ্রমী বলে আমরা গর্বিত আমরা জবিয়ান। আমরা অনেকই বলি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রতিবন্ধকতা যেমন... আবাসিক হল নেই, ছোট ক্যাম্পাস, ১১ একর জায়গায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থী, ক্যান্টিনের খাবারের মান ভালো না, ক্যান্টিনের সংখ্যা কম এত সব প্রতিবন্ধকতা থাকার সত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদেরকে জীবন যুদ্ধে ঠিকে থাকতে শিখিয়েছে, নিজের পায়ে দাড়াতে শিখিয়েছে। বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরনের নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করতে শিখিয়েছে। তাই আমি মাথা উচু করে বলব আমি গর্বিত একজন জবিয়ান। এগিয়ে যাক প্রাণের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বেঁচে থাকুক জগন্নাথের আকাশে ঝলঝল করতে থাকা অপার সম্ভাবনাময়ী প্রতিটা গর্বিত জবিয়ান। সাজ্জাদুল ইসলাম রিয়াদের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া। এসএইচ/

ঢাবির ‌‘ঘ’ ইউনিটের ফল বাতিল ও ভিসির পদত্যাগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষার ফল বাতিল এবং উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাক ও রেজিস্ট্রিযোগে শিক্ষা সচিব, বাংলাদেশ সচিবালয়ের সচিব ও ঢাবি উপাচার্যের প্রতি এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ফল বাতিলের দাবি করে আসছেন ঢাবির সাবেক অনেক শিক্ষার্থী। ঠিক এই সময়ে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলো। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়া ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। যে অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে ডিজিটাল জালিয়াতি হয়েছে। সমালোচনার মুখে পড়ে প্রথমে সোমবার এই পরীক্ষার ফল স্থগিত করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার ঠিকই ফল প্রকাশ করা হয়। এমনকি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় রেকর্ড নম্বর পেয়ে প্রথম হওয়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটে ফেল করেছিলেন। এই শিক্ষার্থীর নাম জিহাদ হাসান আকাশ। তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। এ নিয়ে শুরু হয় আরও সমালোচনা। প্রশ্নফাঁসের সন্দেহ আরও বাড়ে। এসএইচ/

ভর্তি বাতিলের দাবিতে অনশন: সংহতি জানাচ্ছে সবাই

  ভর্তি পরীক্ষা বাতিলসহ চারদফা দাবিতে অনশন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন। গত তিনদিন ধরে অব্যাহত এ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আখতার। এখনও পর্যন্ত দাবি মেনে নেওয়ার কোন আশ্বাস মেলেনি। ফলে অনশনে আখতারের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে যোগ দিয়েছে নিজ বিভাগর শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। অসুস্থদের দেখতে আজ সেখানে গিয়েছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর থেকে আখতার হোসেন চারটি দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে এ আমরণ অনশন শুরু করেন। দাবিগুলো হলো- ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল, পুনরায় পরীক্ষা নেয়া, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিগত বছরে যারা জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তাদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আইন বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী এ মানববন্ধনে অংশ নেন। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় অসুস্থ আখতারকে দেখতে আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল আসেন। আমরণ অনশনে থাকা আখতার শারীরিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গতরাত (বুধবার দিনগত রাত) থেকে তিনি কোনো কথা বলছেন না। বন্ধুরা তাকে সেলাইন দিয়ে রেখেছেন। এ সময় আসিফ নজরুর বলেন, প্রশ্নফাঁস হওয়ার প্রতিবাদে একটা ছেলে বসে আছে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কতটা অসংবেদনশীল হয়ে গেছি যে, তাকে দেখতে পর্যন্ত কেউ আসেনি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে? মানববন্ধনে অংশ নেয়া আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসাইন সিফাত বলেন, আমরা আমাদের বন্ধু আখতারের পাশে দাঁড়িয়েছি। তার চার দফা দাবির বাস্তবায়ন চাই। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান বলেন, এর আগে যারা জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তাদের সাথে আমরা ক্লাস করব না। ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল করা না হলে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারি। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপরই একই দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। আরকে//

পথশিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করলো জাবি ছাত্রলীগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ট পুত্র শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পথশিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও খাবার বিতরণ করেছে শাখা ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে এসব বিতরণ করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ জন পথ শিশুর মাঝে খাবার, খাতা, পেন্সিল, রাবার ইত্যাদি বিতরণ করা হয়।বিতরণকালে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতি একটি ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সময় বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা করা হয়। আমরা সেই ঘাতকদেরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, বর্তমান প্রজন্মের পক্ষ থেকে আজকের এই দিনে জাতির কাছে আমাদের একটাই জিজ্ঞাসা- শেখ রাসেলের কী দোষ ছিল যে ঘাতকদের নিমর্মতা থেকে শেখ রাসেলও রেহাই পায়নি? আজকের এইদিনে আমাদের দাবি- বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য যে ঘাতকরা আছে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে যেন বিচার কার্যকর করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এ এইচ মর্তুজা রিফাত, নাহিদ হোসেন, ইমরান হোসাইন, মাহবুবুর রহমান নীল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তারেক হাসান, মো. আরিফুল ইসলাম সহ শাখা ছাত্রলীগ নেতা আক্তারুজ্জামান সোহেল, তানজিলুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান শাওন, আহমেদ আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসএইচ/

চবির সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ক্যাম্পাসেই

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এই প্রথম সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও হাটহাজারী এবং নগরীর ১০টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতো। এবারই ১ম সব ইউনিটের পরীক্ষা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ডিজিটাল ল্যাব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এবারেই প্রথম আমরা এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে কেন্দ্র সংকুলানের জন্যে প্রয়োজনে স্পেশাল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমে যাবে বলে আসা করছি। যেহেতু এবার ভর্তি পরীক্ষা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে আর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি তাই এবার দুই শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান চবির ডেপুটি রেজিস্টার (একাডেমিক) এবং ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব এস এম আকবর হোসাইন। তিনি জানান, ২৭ অক্টোবর শনিবার ‘বি’ ইউনিটের মাধ্যমে শুরু হতে যাওয়া ভর্তি পরীক্ষায় ১ম শিফট সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ২০০০০১ থেকে ২১৫৮৯৫ পর্যন্ত এবং ২য় শিফট দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটে ২১৫৮৯৬ থেকে ২৩১৭৯০। ২৮ অক্টোবর রোববার ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষায় ১ম শিফট সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে ৫০০০০১ থেকে ৫২২২৮৪ পর্যন্ত এবং ২য় শিফট দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটে ৫২২২৮৫ থেকে ৫৪৪৫৬৮ পর্যন্ত। ২৯ অক্টোবর সোমবার ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় ১ম শিফট সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে ১০০০০১ থেকে ১২২২১৫ পর্যন্ত এবং ২য় শিফট দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটে ১২২২১৬ থেকে ১৪৪৪৩১ পর্যন্ত। ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে ১ শিফটে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও ৩১ অক্টোবর দুই উপ ইউনিট ‘ডি১’ ১০টায় এবং ‘বি১’ এর পরীক্ষা দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে ১শিফটে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই দুই কপি প্রিন্ট করা প্রবেশপত্র, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি এবং উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং  A লেভেলের স্টেটমেন্ট অব এন্ট্রি (বিদেশি ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে) এর মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে। আসন বিন্যাস ও ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  ওয়েবসাইটে (admission.cu.ac.bd) পাওয়া যাবে। একে//

জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের দীক্ষা ক্যাম্প ও তাঁবুবাস অনুষ্ঠিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) রোভার স্কাউট গ্রুপের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক তাঁবুবাস, দীক্ষা ক্যাম্প ও ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার আঞ্চলিক রোভার স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গাজীপুরে একশোজন সহচরকে তিন দিনব্যাপি ক্যাম্প শেষে দীক্ষা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জবি রোভার ইন কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হাসান কাওসারের সঞ্চালনায় জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকার এই দীক্ষা প্রদান করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পের তাঁবুবাস অনুষ্ঠিত হয়। জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকারের সভাপতিত্বে ও জবি রোভার ইন কাউন্সিলের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দারের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় কমিশনার মো. মোফাজ্জেল হোসেন। এসময় সাবেক শ্রেষ্ঠ রোভার মেট, শ্রেষ্ঠ সহচর ও জিনিয়াস সহচরকে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে জবি রোভার ইন কাউন্সিলের সদস্যরা নাচ, গান ও নাটক পরিবেশন করেন। এর আগে গত সোমবার ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। একে//  

‘গ’ ইউনিটে ফেল, ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ইউনিটভিত্তিক ফলে ব্যাপক তারতম্য দেখা গেছে। এক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য ছাত্র অন্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থানে পাশ করেছে। এমনকি ঘ ইউনিটে মেধাতালিয়ায় ১০০ ক্রমের মধ্যে থাকা ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণই হতে পারে নি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর)। এতে ২৬.২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।এর আগে ১২ অক্টোবর পরীক্ষার দিনই এই ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের মধ্যেই ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে মেধাতালিকায় থাকা কিছু শিক্ষার্থীর দুই ইউনিটের ফলাফলের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে। ঘ ইউনিটের পরীক্ষার ফল যাচাই করে দেখা গেছে এই ইউনিটে সর্বোচ্চ মেধাতালিকায় থাকা একাধিক ভর্তিচ্ছু তাদের নিজের ইউনিটের পরীক্ষায় পাসই করতে পারেননি। অথচ কয়েক দিনের ব্যবধানে আরেক ইউনিটের পরীক্ষায় রীতিমতো ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, অস্বাভাবিক কোনো কিছু পেলে ভাইবাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।যদি আমার কাছে মনে হয় তখন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিব। এখানে আমি কোনো ছাড় দেব না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ জালিয়াতি করে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।ভর্তি বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ঘ ইউনিটে মেধাতালিয়ায় ১০০ ক্রমের মধ্যে থাকা ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। জাহিদ হাসান আকাশ ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। গত ১২ অক্টোবর তিনি ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তির জন্য ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দেন। সেখানে ব্যবসায় শাখা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অথচ ব্যবসায় শিক্ষা শাখার এই শিক্ষার্থী বাণিজ্য অনুষদে ভর্তির জন্য দেওয়া গ ইউনিটের পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাবির গ ইউনিটের পরীক্ষায় তিনি বাংলায় পেয়েছিলেন ১০.৮ ইংরেজিতে পেয়েছিলেন ২.৪০। অথচ এই শিক্ষার্থী ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় বাংলায় ৩০ এর মধ্যে ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এর মধ্যে ২৭.৩০ পেয়েছেন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে আসা এই শিক্ষার্থী ঢাবির গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট ১২০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছিলেন ৩৪.৩২। অথচ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে তিনি ১১৪.৩০ পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকার বাণিজ্য শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০ বছরে ১২০ এর মধ্যে ১১৪.৩০ কেউ পায়নি। এছাড়া ঘ ইউনিটে বাণিজ্য শাখায় যিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন ১২০ এর মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯৮.৪০। মেধাক্রম প্রথম থেকে দ্বিতীয় এর ব্যবধান নজিরবিহীন। আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম বিন আলম ঢাবি ঘ ইউনিটে (বিজ্ঞান শাখায়) প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অথচ বিজ্ঞান শাখার এই শিক্ষার্থী তার নিজের অনুষদ ক ইউনিটের পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে ৪৩.৭৫ পেয়ে ফেল করেছিলেন। সেই তিনিই ঢাবি ঘ ইউনিটে সে ১২০ নম্বরের মধ্যে ১০৯.৫০ পেয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকার বিজ্ঞান শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। আরকে//

আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দ্বিতীয় মেধা তালিকা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) প্রফেশনাল ভর্তি কার্যক্রমে প্রথম মেধা তালিকায় ভর্তি শিক্ষার্থীদের বিষয় পরিবর্তন ও ২য় মেধা তালিকা আজ বুধবার প্রকাশ করা হবে। যে কোনো মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে বিকেল ৪টা থেকে (nu<space>athp<space>roll no.. লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে এবং রাত ৯টায় ওয়েবসাইট (www.nu.ac.bd/admissions) থেকে ফল জানা যাবে।দ্বিতীয় মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত ভর্তি কোনো শিক্ষার্থী পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (সম্মান) প্রফেশনাল ও স্নাতক (পাস) নিয়মিত/প্রাইভেট কোর্সে ভর্তি হয়ে থাকলে তাকে অবশ্যই ২২ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বাতিল করতে হবে। অন্যথায় দ্বৈত ভর্তি হলে তার উভয় ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। এসএ/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি