ঢাকা, ২০১৯-০৩-২৩ ২১:১৩:৫৮, শনিবার

সুবর্ণচরের ধর্ষক রুহুল আমিনের জামিন আদেশ প্রত্যাহার

সুবর্ণচরের ধর্ষক রুহুল আমিনের জামিন আদেশ প্রত্যাহার

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধু নিপীড়নের মামলার প্রধান আসামি রুহুল আমিনের জামিন আদেশ প্রত্যাহার করেছেন হাইকোর্ট। আজ শনিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে ১৮ মার্চ (সোমবার) রুহুল আমিনকে এক বছরের জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এদিন বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান রুহুল আমিন। গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা গ্রেফতার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিন জামিন পাওয়ায় হতবাক হয়েছিলেন নির্যাতনের শিকার পরিবার। সেদিন রুহুল আমিনকে যেন জামিন দেয়া না হয় সেজন্য আদালতের কাছে তারা অনুরোধ জানায়।   সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে আজ ধর্ষক রুহুল আমিনকে দেয়া জামিন আদেশ প্রত্যাহার করেছেন হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। চরজব্বর থানায় ওই নারীর স্বামীর করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা তার বসতঘরে ভাংচুর করে, ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তার স্ত্রীকে। ধর্ষণের শিকার ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসএ/  
পায়েল হত্যা মামলার তিন খুনীর জামিন বাতিল

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর পায়েল হত্যা মামলার তিন আসামি হানিফ পরিবহনের গাড়ি চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। আসামিরা ভুয়া জিম্মাদার দেখিয়ে আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। এ ঘটনা আদালতের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাহমিদা আফসানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কাছে আদেশের কপি প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী ২৭ মার্চ মামলার চার্জগঠনের জন্য পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেছে আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আবদুল হালিম এর আদালত এসব আদেশ দেন। এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল পিপি অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান বলেন, তিন আসামি ট্রাইব্যুনালে এসে ভুয়া জিম্মাদার দাখিল করে জামিন নেন। বিষয়টি বুধবার আদালতের নজরে আনা হলে ট্রাইব্যুনাল আদালতের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আসামিদের আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনজীবী সমিতির কাছে আদেশের কপি পাঠায় ট্রাইব্যুনাল। ভুয়া জিম্মাদার প্রসঙ্গে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান বলেন, আদালতের আদেশ পেলে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ আসামিরা হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় ২ জন ব্যক্তির জিম্মায় ২০ হাজার টাকা বন্ডে জামিননামা দাখিল করেন। আদালত তা গ্রহণ করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। দুই জিম্মাদারের মধ্যে ভোটার আইডি নম্বর ১৯৯১২৬৯৩৬২২০০০২৮৮ শিউলি বেগম। কিন্তু তার ভোটার আইডিতে দেখা গেছে একজন পুরুষের ছবি। এটি সন্দেহ হয় আদালতের। ট্রাইব্যুনাল এ ঘটনাকে আদালতের সঙ্গে  প্রতারণা করা হয়েছে মর্মে আদেশ দেন। আসামিদের সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামি চালক জামাল হোসেন, সুপারভাইজার মো. জনি ও হেলপার মো. ফয়সাল হোসেনের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা  জারি করেন। এ ঘটনায় আসামিদের আইনজীবী ফাহমিদা আফসানার বিরুদ্ধে এমন ঘটনায় কি ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ট্রাইব্যুনালকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে অনুরোধ করে আদালত।   উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাতে দুই বন্ধুর সঙ্গে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ এর শিক্ষার্থী মো. সাইদুর রহমান পায়েল। নিখোঁজের একদিন পর ২২ জুলাই মুন্সিগঞ্জ উপজেলার ভাটেরচর সেতুর নিচের খাল থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানা পুলিশ। এরপর হানিফ পরিবহনের ওই বাসের সুপারভাইজার জনিকে ঢাকার মতিঝিল এবং চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারী ফয়সাল হোসেনকে আরামবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গজারিয়া এলাকায় গাড়ি যানজটে পড়ায় প্রসাব করার কথা বলে বাস থেকে নেমেছিলেন পায়েল। বাস চলতে শুরু করলে সে দৌড়ে এসে ওঠার সময় দরজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে সংজ্ঞা হারায়। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বদলে তার মুখ থেতলে দিয়ে দায় এড়াতে ভাটেরচর সেতু থেকে নিচের খালে ফেলে বাস নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন আসামিরা। গজারিয়া থানার পুলিশ ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। প্রজ্ঞাপনটি ১৬ জানুয়ারি পায় পায়েলের পরিবার। চট্টগ্রামে বিচার শুরু হয় ১৩ মার্চ। কেআই/

‘তালিকাচ্যুতি নয় বরং কোম্পানিকে লাভজনক পর্যায়ে উন্নিত করা’

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দিলে বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে জেড (জাঙ্ক) ক্যাটাগরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে এজিএম না করলে বা নির্ধারিত সময়ে এজিএম করতে ব্যর্থ হলেও জেড ক্যাটাগরিতে নামানো হয়। বছরের পর বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর আইনেই আছে। এতে তালিকাচ্যুত নয় বরং টানা দুই বছর লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ কোম্পানিকে লাভজনক পর্যায়ে উন্নিত করতে নতুন ও পেশাদার নেতৃত্বের হাতে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বও ব্যর্থ হলে অন্য কোন কোম্পানির সঙ্গে একীভূত করার বা কোম্পানি অবসায়ন করে (বিক্রি) শেয়ার হোল্ডারদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ওই আইনে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর অধ্যাদেশ ১৯৬৯ সালের ধারা ২সিসি মতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। পরবর্তিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর ২০০২ সালের ১ আগস্ট জারীকৃত নোটিফিকেশনে (নং- এসইসি/ সিএমআরআরসিডি/ ২০০১-১৪/প্রশাসন/০৩/০৬) বলা হয়েছে যে, টানা দুই বছর লভ্যাংশে ব্যর্থ জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিকে ছয় মাসের মধ্যে পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে। নতুন পর্ষদে উদ্যোক্তা,প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনুপাতে পরিচালক নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা বা সাবেক পরিচালক বা কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তা বা ব্যবসায়িক স্বার্থ সংশ্নিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা তাদের আত্মীয়দের কেউ প্রাতিষ্ঠানিক বা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে পরিচালক হতে পারবেন না। এ ছাড়া কোম্পানির মালিকানায় উদ্যোক্তাদের অংশ ৫০ শতাংশের কম হলে তাদের বাইরে অন্য কাউকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। জারীকৃত নোটিফিকেশনে আরও বলা হয়েছে যে, গঠনের পর পুনর্গঠিত পর্ষদ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে কোম্পানির লোকসানের কারণ বের করে এবং এ ক্ষেত্রে দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে কোম্পানিকে লাভজনক করার জন্য পরিকল্পনা নেবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এ জন্য পর্ষদ পুনর্গঠনের সাত মাসের মধ্যে শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ সভা ডেকে তার অনুমোদন নিতে হবে। আইনের এ বিধানে আরও বলা হয়েছে যে, নতুন পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ মাসের মধ্যে কোম্পানির ব্যবসা ও মুনাফা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে ব্যর্থ হলে, পরের ছয় মাসের মধ্যে অন্য কোন লাভজনক কোম্পানির সঙ্গে একীভূত বা অবসায়ন করবে। ঊল্লেখিত কোম্পাণী যদি ব্যাংক হয় তাহলে ব্যাংক কোম্পাণী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৯ এর উপধারা (গ) এর বিধান মতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-কোম্পাণী সমূহের একত্রীকরনের  আদেশ প্রদান করা হবে এবং কোম্পাণীর ক্ষেত্রে, কোম্পাণী আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ২২৮ ও ২২৯ মতে, কোন কোম্পানি ব্যবসা ও মুনাফা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে ব্যর্থ হলে ওই কোম্পাণী অন্য কোন লাভজনক কোম্পাণীর সঙ্গে একীভূত হতে পারবে। অপরদিকে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৭৫ মতে, স্বেচ্ছা-অবসায়নের ক্ষেত্রে যদি কোন ব্যাংক-কোম্পানি উহার কোন দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে, বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের মাধ্যমে উক্ত কোম্পানির অবসায়নের জন্য আদেশ দিতে পারে এবং কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ২৪১, ২৪২ ও ২৪৫ মতে, যদি কোন কোম্পানি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমানিত হয় যে উহার ঋণ পরিশোধে অসমর্থ, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানিকে আদালত কর্তৃক অবলুপ্তি ঘটানোর জন্য আবেদন করা যাইতে পারে ৷ উল্লেখিত নির্দেশনাটি জারির সময় এবং পরে কোন কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিভুক্ত হলে সেগুলোর ক্ষেত্রেও এই নির্দেশনা কার্যকর হবে ।  ব্যারিস্টার এ.এম মাসুমআইনজীবি, সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ টিআর/

আবরারের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ‘জরুরি খরচ’ দেওয়ার নির্দেশ

রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাসচাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী সুপ্রভাত পরিবহন কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ লাখ টাকা খরচা হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার মৃত্যুর জন্য পাঁচ কোটি টাকা কেন ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আজ বুধবার একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।  স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক ও সেতু সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিআরটিএ, সুপ্রভাত পরিবহনসহ আট বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল। রুহুল কুদ্দুস কাজল পরে সাংবাদিকদের বলেন, ওই দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালককে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। টিআর/

জামিন পেলেন বাফুফের কিরণ

জামিন পেলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যনির্বাহী সদস্য ও নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেলেন তিনি। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। কিরণের আইনজীবী লিয়াকত হোসেন জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর আগে গত শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান জামিন নামঞ্জুর করে কিরণকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে দিন থেকে কারাগারেই ছিলেন তিনি। জামিন পাওয়ায় ও বিরুদ্ধে অন্য কোনও মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে আর কোনও বাধা রইল না। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৮ মার্চ বাফুফের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ ফুটবল সংগঠকদের নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেন কিরণ। পরে কিরণের এমন বক্তব্য বেসরকারি টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত হলে তার এ বক্তব্যে বাদীর ৫০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে মর্মে গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে একটি মানহানি মামলা করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স। একে//

সুপ্রিমকোর্টে ১৩ দিনের অবকাশ শুরু আজ

সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে অবকাশকালীন ছুটি শুরু হয়েছে আজ সোমবার থেকে, চলবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। আগামী ৩১ মার্চ থেকে যথারীতি শুরু হবে সর্বোচ্চ আদালতের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম। এ সময় নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য অবকাশকালীন বেঞ্চ রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্দেশে অবকাশে জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য চেম্বার কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগে বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আগামী ১৯ ও ২৫ মার্চ বেলা ১১টায় জরুরি বিষয় শুনবেন। আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আলম ভূঞা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি এ কথা জানানো হয়। যা সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকোর্টের ৪টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং তিনটি একক বেঞ্চে অবকাশে জরুরি মামলা সংক্রান্ত কার্যক্রম চলবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবকাশকালীন সময়ে বিচারপতি মো. রইস উদ্দিন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ১৮, ১৯, ২০, ২৪, ২৫ ও ২৭ মার্চ, বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ১৮, ১৯, ২০, ২৫, ২৭ ও ২৮ মার্চ এবং বিচারপতি সহিদুল করিমের একক বেঞ্চ ১৮, ১৯, ২০ ও ২৭ মার্চ ফৌজদারি মোশন, ফৌজদারি আপিল এবং ফৌজদারি জামিনের আবেদনপত্র শুনবেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ১৮, ১৯, ২০, ২৫ ও ২৭ মার্চ সব প্রকার রিট মোশন ও আবেদন শুনবেন। বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ২৪, ২৫, ২৭ ও ২৮ মার্চ এবং বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ১৮, ১৯, ২০, ২৭ ও ২৮ মার্চ, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে ১৮, ১৯, ২০, ২৭ ও ২৮ মার্চ দেওয়ানি রিভিশন, রুল ও আবেদনের শুনানি হবে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকাদর ও বিচারপতি কে, এম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ দুদক সংক্রান্ত, মানি লন্ডারিং আইন সংক্রান্ত ফৌজদারী ও রিট মোশনসহ সব প্রকার রিট বিষয়াদি ১৯, ২০, ২১, ২৪, ২৫ ও ২৭ মার্চ শুনবেন। সূত্র: বাসস একে//

আজ শুরু ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ

রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা আরও উন্নত করতে আজ রোববার থেকে আবারও শুরু হচ্ছে ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ। আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এর আগেও কয়েক দফায় সপ্তাহ, পক্ষ ও মাসব্যাপী ট্রাফিক শৃঙ্খলা কার্যক্রম চালিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ ও সচেতনতা মাস পালনের মাধ্যমে আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে ঢাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলার উন্নতি এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। এই উন্নতি অব্যাহত রাখতে প্রতি মাসে ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এই কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ সময়ে ঢাকা মহানগরীর জনসাধারণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলার উন্নতি করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৫-১৪ আগস্ট ট্রাফিক সপ্তাহ, ৫-৩০ সেপ্টেম্বর ট্রাফিক সচেতনতা মাস, ২৪-৩১ অক্টোবর ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ এবং চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ পালন করা হয়। এসব কার্যক্রমের সময় ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক গাইড বুক প্রকাশ, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা প্রদান, টার্মিনালে সভা-সমাবেশ, সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন, লিফলেট, পোস্টার বিতরণ, পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রাক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপারে উদ্বুদ্ধ করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এসএ/  

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে কারাগারে কিরণ

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে করা মামলায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৬ মার্চ) সিএমএম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অসত্য মন্তব্য এবং কটূক্তির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। তার বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের স্থায়ী সদস্য আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স। এদিকে মাহফুজা আক্তার কিরণের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাফুফে। কমিটির আহ্বায়ক বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী, আর দুই সদস্য বাফুফের সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ ও সংস্থাটির সদস্য আব্দুর রহিম। কিরণের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি বাফুফের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের মানহানির মামলায় মাহফুজা আক্তার কিরণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন আদালত। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সরাফুজ্জামান আনসারী বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে গ্রেফতারি পরোয়ানার এ আদেশ দেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ ফুটবল সংগঠকদের নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেন। তার ওই বক্তব্য বেসরকারি টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত-প্রচারিত হয়। এ ঘটনায় আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। আরকে//

বিদেশি মুদ্রা ভাঙাতে অভিনব জালিয়াতি

এবার বিদেশি মুদ্রা বাঙাতে অভিনব জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্রের হাতে কখনো ডলার, কখনো রিয়াল (সৌদি মুদ্রা)। টার্গেট ব্যক্তির কাছে গিয়ে না জানার ভান করে বলেন, এগুলো কোন দেশের টাকা? এরপর জানতে চান, কীভাবে বিদেশি মুদ্রাগুলো বাংলাদেশি টাকায় ভাঙানো যাবে। এভাবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এরপর কম টাকাতে হলেও বিদেশি মুদ্রাগুলো ভাঙাতে চান তারা। আর লাভের আশায় প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে কম দামে মুদ্রাগুলো কিনে নিজেই বোকা বনে যান ভুক্তভোগীরা। কারণ, বান্ডেলে দু-একটি ডলার/রিয়াল নোট মিললেও ভেতরে সবই থাকে কাগজ। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) রাতে রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই প্রতারক চক্রের ৭ সদস্যকে আটকের পর, এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১। আটককরা হলেন, আবু শেখ (৩৮), শাহিন মাতব্বর (৩৭), মহসিন মিয়া (৪৫), আবুল বাশার (৪০), কামরুল শেখ (৩৫), ইশারত মোল্লা (২৭) ও আব্দুর রহমান মোল্লা (৪০)। আটককালে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ রিয়েল, ৩ হাজার ৮২২ টাকা ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। চক্রটি বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করতো। প্রতারকদের সবাই পেশায় রং মিস্ত্রী। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, প্রতারক চক্রটি কখনো বাসায় ঢুকে বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করতো। কখনো আবার রাস্তায় দামি গাড়ির যাত্রীদেরও টার্গেট করতো। তারা রিয়েল দেখিয়ে কম মূল্যে বিক্রির কথা বলে প্রলোভন দেখাতো। ব্যক্তি রাজি হলেই, টাকার বিনিময়ে উপরে কয়েকটি রিয়েল নোট আর ভেতরে কাগজ দিয়ে বানানো বান্ডেল হস্তান্তর করে কেটে পড়তো। তিনি আরও বলেন, গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকারের যাত্রীরা এই চক্রের টার্গেট ছিল। তারা গাড়ির বাইরে থেকে রিয়েলের নোট দেখাতো এবং অনেক নোট আছে বলে জানাতো। এ সময় কম দামে কিনতে আগ্রহী সেজে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা দর কষাকষি করতে আসতো। তখন টার্গেটকৃত ব্যক্তি কেনার ফাঁদে পা দিলে, টাকার বিনিময়ে রিয়েল ভর্তি ব্যাগ দিয়ে পুলিশ দেখে ফেলবে বলে দ্রুত কেটে পড়তো তারা। কিছু বুঝে উঠার আগেই কাগজ বা কাপড় দিয়ে মোড়ানো ভুয়া বান্ডেলে প্রতারণার শিকার হতো টার্গেট ব্যক্তি। ইজতেমা ময়দান ও হজ্জ ক্যাম্পেও একই কৌশলে চক্রটি প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। সেখানে গ্রাম থেকে আসা লোকদের ফাঁদে ফেলে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। চক্রটি রিয়েল হস্তান্তরের জন্য বিভিন্ন শপিংমল কিংবা জনবহুল জায়গা ঠিক করতো, যেন টাকা নিয়ে দ্রুত কেটে পড়তে পারে। সারওয়ার বিন কাশেম আরও বলেন, আবু শেখ এই চক্রের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অভিনব পন্থায় প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। আরকে//

আটকে গেলেন সাবেক এমপি রানা

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় জামিন পেলেও দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত হলো সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান এ স্থগিতাদেশ দেন। এ সময় আদালতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। এর আগে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মাললায় হাইকোর্ট আওয়ামী লীগের সাবেক এ এমপিকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় আমানুর রহমান খান রানাকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে অন্য এক মামলায় জামিন স্থগিত হওয়ায় রানার কারামুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এর আগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে। ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরণ মিয়া হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা আমানুরের দিকনির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। আমানুর রহমান খান রানা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলারও আসামি। পরে ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর ২০১৮ সালের ১৮ মে আমানুর রহমান খান রানাকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠান আদালত। এরপর এ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন রানা। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৬ মার্চ রানাকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছিলেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি