ঢাকা, ২০১৯-০৫-২২ ৩:০০:১২, বুধবার

৩৩তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের ইফতার

৩৩তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের ইফতার

রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৩৩তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের(ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও ডিএমপি সদর দপ্তরের উপ-পুলিশ কমিশনার সুদীপ চক্রবর্তী প্রমুখ। ইফতারের আগে দেশ, জাতি ও পুলিশ সদস্যদের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয় ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাচের সভাপতি ও ডিএমপির মতিঝিল জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস বলেন, ৩৩তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচ একটি পরিবার। সুখে-দুঃখে আমরা একে অন্যের পাশে আছি। রাজশাহীর শারদাতে প্রশিক্ষণের পর এটা আমাদের প্রথম ইফতার, জ্যেষ্ঠ স্যারদের উপস্থিতি আমাদের অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।   এসএইচ/
বিএসটিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট হাইকোর্ট

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের (এনএফএসএল) পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় উল্টো প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিএসটিআইয়ের ভূমিকা। সংস্থাটির কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তষ প্রকাশ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক আদালত হাইকোর্ট। বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এম আর হাসানকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেছে, নিজেরা করেন না, আবার অন্যের পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আপনারা কেন এত দিনেও পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে পারলেন না, জানতে চান আদালত। পরে এনএফএসএল’র প্রধান শাহনীলা ফেরদৌসীর বক্তব্য শুনে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএসটিআই এর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিএসটিআইয়ের আইনজীবীকে বিচারক বলেন, “আপনারা কাজ করার দায়িত্ব নিয়েছেন কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন না। আপনাদের পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হচ্ছে না কেন? শুধু এসি রুমে বসে থাকবেন, তা হবে না। আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু আপনারা পারছেন না কেন?” বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে এদিন আদালতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। আর বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন সরকার এম আর হাসান (মামুন)। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায় না। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক পরে সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রধান অধ্যাপক শাহনীলা ফেরদৌসী এদিনে আদালতের তলবে হাজির হয়েছিলেন। তিনি তদের পরীক্ষার প্রতিবেদন হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করেছেন এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। “তাদের জরিপ ও পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএসটিআইয়ের ভূমিকা নিয়েই আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আদালত বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আগামী ২৩ জুনের মধ্যে সারাদেশ থেকে দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য ও পশুখাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে।” দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক ও সীসা মেশানো রয়েছে, গেল ১৫ মে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়ে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গো খাদ্য, দুধ, দই ও বাজারে থাকা প্যাকেটের পাস্তুরিত দুধ নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগার (এনএফএসএল) একটি জরিপ চালায়। ওই জরিপের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরুর দুধের ৯৬টি নমুনা সংগ্রহ করে এনএফএসএল। ঢাকাসহ তিন জেলার ছয়টি উপজেলাসহ ১৮টি স্থান থেকে দুধের পাশাপাশি অন্যান্য নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। গরুর দুধ ও গোখাদ্য সরাসরি খামার থেকে সংগ্রহ করা হয়। এনএফএসএল ঢাকা শহরের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকান ও আশপাশের উপজেলার দোকান থেকে দই সংগ্রহ করে। বিভিন্ন সুপার স্টোর থেকে সংগ্রহ করা হয় বাজারে প্রচলিত প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধ এবং আমদানি করা প্যাকেট দুধ। গোখাদ্যের ৩০টি নমুনা পরীক্ষা করে কীটনাশক (দুটি নমুনায়), ক্রোমিয়াম (১৬টি নমুনায়), টেট্রাসাইক্লিন (২২টি নমুনায়), এনরোফ্লোক্সাসিন (২৬টি নমুনায়), সিপ্রোসিন (৩০টি নমুনায়) এবং আফলাটক্সিন (চারটি নমুনায়) গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়ার কথা জানায় এনএফএসএল। গরুর দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯ শতাংশ দুধে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক, ১৩ শতাংশে টেট্রাসাইক্লিন, ১৫ শতাংশে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সীসা পাওয়া যায় ওই গবেষণায়। সেই সঙ্গে ৯৬ শতাংশ দুধে পাওয়া যায় বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। প্যাকেটের দুধের ৩১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি হারে টেট্রাসাইক্লিন পাওয়ার কথা জানায় এনএফএসএল। সেই সঙ্গে ৬৬ থেকে ৮০ শতাংশ দুধের নমুনায় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া পাওয়ার কথা বলা হয় প্রতিবেদনে। দইয়ের ৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে একটিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সীসা পাওয়ার কথা জানায় এনএফএসএল। ৫১ শতাংশ নমুনায় পাওয়া যায় বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। শাহনীলা ফেরদৌসী তাদের এই প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিএসটিআইয়ের আইনজীবী বলেন, এই প্রতিবেদন যে সত্য- তা প্রমাণ করার সুযোগ কোথায়। “তারা তো অন্য কোনো ল্যাবে যাচাই করেনি। তারা নমুনা সংগ্রহ করেছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার থেকে। কিন্তু পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও যশোরেই সবচেয়ে বেশি দুধ উৎপাদিত হয়। সেখান থেকে তারা কোনো নমুনা সংগহ না করে ঢালাওভাবে বলে দিল দুধে এইসব রয়েছে।” আদালত তখন বলে, অধ্যাপক শাহনীলা ফেরদৌসী অভিযুক্ত নন, তাকে আদালতে ডাকা হয়েছে সহযোগিতার জন্য। এনএফএল এর জরিপ ও পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএসটিআইএয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাব আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠিত। এ প্রতিষ্ঠান তার পদ্ধতিতে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্য ও পশুখাদ্য পরীক্ষা করেছে। এরপর আদালত শাহনীলা ফেরদৌসীর বক্তব্য শুনতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে তারা এই গবেষণা করে আসছেন। এসব গবেষণার ফলাফল ফুড অ্যা্ন্ড অ্যাগ্রিকালচার অরগানাইজেশান আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশ করে। “আমাদের ল্যাবের মান অনেক দেশের চেয়েই উন্নত। আমাদের পরীক্ষার ফলাফল ঠিক আছে কি না তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশ করা হয়। এই পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সেটা করা হয়েছে। “এখানে শুধুই তিনটি জেলা নয়, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্য রয়েছে। যেমন মিল্কভিটা, প্রাণ, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, স্বপ্ন অর্গানিক, আফতাব ডেইরি মিল্ক, ঈগলু ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের পণ্য সারাদেশেই পাওয়া যায়। সুতরাং বিএসটিআইয়ের দাবি যথাযথ নয়।”   আই// এসএইচ/  

বাজারের দুধে ৯৬ শতাংশ ক্ষতিকর উপাদান

বাজারের ৯৬টি দুধের নমুনার মধ্যে ৫ টিতে ৯৬ শতাংশ মাত্রার ক্ষতিকর উপাদান আর ৩৬ টিতে ২০ গ্রাম নেট পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছেন ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির শাহনীলা ফেরদৌসী। আদালতকে তিনি জানিয়েছেন, এসব দুধ প্রতিনিয়ত খেতে থাকলে কিডনী ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দেশের নাম করা দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যে ক্ষতিকর পরিমান গাঁ শিউরে ওঠার মতো বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির গবেষণার স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে সংস্থাটির প্রধান প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসী মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন। এ সংক্রান্ত গবেষনা প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন তিনি। আদালতকে শাহনীলা ফেরদৌসী বলেন, পরীক্ষার ফল সঠিক আছে কিনা, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশ করা হয়। ৯৬টি দুধের নমুনার মধ্যে ৫ টিতে ৯৬ মাত্রায় ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। আর ৩৬ টিতে ২০ গ্রাম নেট পাওয়া গেছে। তবে এসব দুধ প্রতিনিয়ত খেতে থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও আদালতকে জানান তিনি। পরে সারাদেশের বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য ও পশুর খাদ্যপণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা রয়েছে, তা নিরূপণসহ জরিপ করে একটি তালিকা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপ প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে পুনরায় নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এদিকে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ পানির চারটি স্তরসহ ৩৪টি পয়েন্টে রাজধানীর ওয়াসার পানি পরীক্ষা করে ২ জুলাই প্রতিবেদনে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানের মতামত শুনে এ আদেশ দেওয়া হয়। টিআর/

সবক্ষেত্রে মায়ের নাম সংযুক্তিতে হাইকোর্টের রুল

বাংলাদেশের সব নাগরিকের পরিচিতির ক্ষেত্রে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাবার নামের সঙ্গে মায়ের নাম সংযুক্ত থাকার নির্দেশনা থাকলেও জুডিশিয়ারিসহ অনেক ক্ষেত্রে মায়ের নাম কেন সংযুক্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ এবং বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ১৩ মে আইনজীবী জোবায়দা পারভীন বাদী হয়ে রিটটি দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুরাইয়া বেগম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি সামিরা তারান্নুম রাবেয়া ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সুচিরা হোসেন। পরে রিটকারী আইনজীবী বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২০০০ সালের ২৭ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এখন থেকে বাংলাদেশে সন্তানের পরিচিতি উল্লেখ করতে সব ক্ষেত্রে বাবার নামের পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মায়ের নাম উল্লেখ করতে হবে। তবে ওই প্রজ্ঞাপন এখনো যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি। সব ক্ষেত্রে মায়ের নাম ব্যবহার করা হয় না। তাই ওই প্রজ্ঞাপন যথাযথভাবে কার্যকর করার নির্দেশনা চেয়ে রিটটি দায়ের করি। রিটের শুনানি নিয়ে আদালত আজ এ রুল জারি করেন। আরকে//

বালিশকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। বিচারপতি তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর দ্বৈত বেঞ্চে আজ রিটের আংশিক শুনানি হয়েছে। কাল সোমবার শুনানি শেষে আদালত আদেশ দিতে পারেন বলে জানান রিটকারী। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরতদের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি প্রকল্পে আসবাবপত্রের দাম এবং তা ফ্ল্যাটে উঠানোর জন্য যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা অস্বাভাবিক। একটা বালিশের দাম ধরা হয়েছে ছয় হাজার টাকা। একটা পানি গরম করার কেটলি নিচ থেকে উপরে তোলার খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার টাকা। আমরা এখনই দুর্নীতির কথা বলছি না। এই অস্বাভাবিক দামের খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই বলছে, এইটা একদম ডাকাতির মতো হয়েছে। আমরা এগুলা বলছি না। যেহেতু গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধেই অভিযোগ, উনাদের তদন্ত কমিটি হলে হবে না। আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার কথা বলছি। কারণ এটি নাহলে এই সিস্টেমের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে বাংলাদেশের মানুষজন। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সরব এই আইনজীবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, এই রকম যা কিছু আছে সবগুলো তদন্ত হয়ে সারা দেশবাসীর সামনে আসা উচিত। তাহলে মানুষের আস্থা বাড়বে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পে কেনাকাটার নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর এ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন গ্রিনসিটি আবাসন পল্লীর দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য সেখানে ২০তলা ১১টি ও ১৬তলা আটটি ভবন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ২০তলা ভবনে ১১০টি ও ১৬তলা ভবনে ৮৬টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নয়টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। ২০তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা করে; ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। পাঁচ হাজার ৩১৩ টাকা দরে একেকটি ইলেকট্রিক কেটলি কেনার পর তা ভবনে ওঠানো হয়েছে দুই হাজার ৯৪৫ টাকা খরচ করে। একইভাবে প্রতিটি আয়রন কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে চার হাজার ১৫৪ টাকা, আর তা ভবনে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে দুই হাজার ৯৪৫ টাকা। এ ছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা। প্রতিটি চুলা কিনতে খরচ করেছে সাত হাজার ৭৪৭ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখিয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা। এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ধরনের স্থানীয় ঠিকাদারি বিল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে। আরকে//

ডিজিটাল আইনে কবি হেনরী গ্রেফতার

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে কবি হেনরী স্বপনকে। মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল নগরীর কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান। পুলিশ জানায়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে বরিশাল নগরের উদয়ন স্কুল সংলগ্ন ক্যাথলিক চার্চের ফাদার লরেন্স ল্যাকা ডালিয়ে গোমেজ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এদিকে হেনরী স্বপনের সহকর্মীরা জানান, সাদা পোশাকধারীরা হেনরী স্বপনকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়, যা সবার মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। হেনরী স্বপনকে গ্রেফতারের বিষয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুশীল সমাজ। বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ জানান, গ্রেফতারের আগে হেনরী স্বপনের বাসায় গিয়ে যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেটা ছিলো উদ্বেগের বিষয়। হেনরী স্বপনের বিরুদ্ধে মামলাটি পুরোপুরি হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক স্বপন খন্দকার। কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে কবি হেনরী স্বপনকে নানানভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিলো। সর্বশেষ শনিবার (১১ মে) মধ্যরাতে অজ্ঞাতনামারা তার বাসভবনে গিয়ে হুমকি দেয়। উল্লেখ্য, হেনরী স্বপন দীর্ঘদিন যাবৎ তার লেখনীর মাধ্যমে সমাজের নানান অসঙ্গতি, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন। ২০১৫ সালে বরিশালের মুক্তমনা ছয়জনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ছয়জনের পক্ষে হেনরী স্বপন বাদী হয়ে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। এমএস/ এসএইচ/

এ্যানির মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও লক্ষীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে দুদকের করা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা বাতিল প্রশ্নে করা রুল খারিজ করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে বিচারিক আদালতকে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।একইসঙ্গে মামলাটি চলতে আইনগত কোন বাধা নেই বলেও জানিয়েছেন আইনজীবীরা। রুল শুনানিতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। খুরশীদ আলম খান বলেন, “২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির আবেদনে হাই কোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি কেন মামলাটি বাতিল করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছিল। “সে রুলটিই আজ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে মামলাটি চলতে আইনগত আর কোনো বাধা থাকছে না।” ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এ্যানির সম্পদের বিষয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারি অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এরপর নয় মাসের মাথায় ৯ অক্টোবর সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় এ মামলা করেন কমিশনের উপপরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ। এ্যানির মোট এক কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়। এছাড়া দুদকে দাখিল করা সম্পদের হিসাব বিবরণীতে তিনি ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলেও অভিযোগ। ২০১৬ সালের ২৪ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এ মামলায় এ্যানির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।   টিআর/

রুহুল আমিন হাওলাদারকে দুদকে তলব

দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ২০ মে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে। আজ সকালে তাকে তলবি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য। জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল কমিশনে তার হাজির হওয়ার কথা থাকলে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট করেন। সেই রিটে হাইকোর্ট কমিশনের (দুদক) দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতা চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে। ফলে, বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) তাকে দুদকে হাজির হতে হয় না। ১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে আবার কমিশনে তলব করা হলো। দুদক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদের অভিযোগে জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারকে ২০ মে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। এর আগে গত ২৮ মার্চ রুহুল আমিনকে দুর্নীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য চিঠি পাঠান দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আহমদ। দুদকের ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, রুহুল আমিন হওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততা’ ও ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে তলবে হাজির হন নি তিনি। একইসঙ্গে ‘স্বাস্থ্যঝুঁকি’ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি দুদকে চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি কার্যক্রম হিসেবে কর্মী সংগ্রহ, প্রার্থী বাছাইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কাজে তাকে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। সংসদ অধিবেশনেও প্রতিদিন অংশ নিতে হচ্ছে। তাছাড়া হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে দুদকের চিঠির কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন জাতীয় পার্টির এ সাবেক মহাসচিব। আই//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি