ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:২৪:৪২

ক্যানসার আক্রান্ত পশু-পাখির মাংস চেনার ৩ উপায়

ক্যানসার আক্রান্ত পশু-পাখির মাংস চেনার ৩ উপায়

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রায় কখন, কী খাবার, কতটা নিয়ম মেনে খাওয়া উচিত তা সব সময় মেনে চলা সম্ভব হয় না। তার মধ্যে যোগ হয়েছে ভেজাল ভয়। খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ভেজালের উপস্থিতি প্রতি দিনই আমাদের মৃত্যুর দিকে কয়েক কদম এগিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে যদি নিজেরাই কিছু কিছু খাবার সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে কিনতে পারি, তাহলে এড়ানো যায় অনেক মারণরোগ। যেমন, মাংস কেনার সময় একটু সচেতন থাকলে বুঝে যাবেন, যে মাংস কিনছেন তা ক্যানসার আক্রান্ত পশু বা পাখির কি-না। ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনিতেই চার পাশের দূষণ ও নানা রাসায়নিকের প্রভাবে আজকাল ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। তার উপর প্রক্রিয়াজাত মাছ, মাংস থেকেও তা ছড়ায়। এখন কেনার সময় যদি অন্তত কিছু সচেতনতা অবলম্বন করা যায়, তা হলে অসুখ থেকে কিছুটা অন্তত দূরে থাকা যায়। কিন্তু কেনার সময় কী ধরনের সাবধানতা নিতে হবে জানেন? কিছু সহজ পদ্ধতিতেই দেখে নিতে পারেন কেনা মাংসে ক্যানসারের বীজ রয়েছে কি-না। ১. মাংস কেনার সময় প্রথমেই লক্ষ করুন তার রং কি-না। লালচে বা গোলাপি মাংস হলে ধরে নিতে হবে তা টাটকা। কিন্তু ধূসর মাংস মানেই তা বাসি। তাই এড়ান ধূসর মাংস। এবার এই লালচে বা গোলাপি মাংসের গায়ে হঠাৎ কোনও কোনও জায়গায় কিছুটা অংশ জুড়ে ধূসর বা ফ্যাকাশে রঙের কোনও দাগ আছে কি-না লক্ষ করুন। তেমন দাগ থাকলে আগে বাদ দিন সেই মাংস। সাধারণত, ক্যানসার আক্রান্ত পশুর মাংসে এই রকম দাগ দেখা যায়। ২. মাংস কেনার আগে ভালমতো উল্টেপাল্টে দেখুন। বাড়তি বা অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ডের অস্তিত্ব রয়েছে কি? তাহলে এই মাংসে ক্যানসার জাতীয় অসুখের বীজ থাকার সম্ভাবনা খুবই বেশি। এড়িয়ে চলুন সেটিও। ৩. মাংসের কোনও অংশে কালচে কোনও দাগ রয়েছে কি? টাটকা রঙের মাংসের গায়েও তেমনটা থাকলে সচেতন হোন। এ ছাড়া অন্যান্য অসুখ ঠেকাতে সব ধরনের মাংসই বাড়িতে এনে ধোওয়ার পর কিছু ক্ষণ গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে মাংস নরমও হবে, তা ছাড়া কোনও ছোটখাটো সংক্রমণ থাকলে তাকেও এড়ানো যাবে। কিন্তু ক্যানসারের মতো বড় অসুখ ঠেকাতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে কোনও লাভ নেই। সে ক্ষেত্রে মাংসটি বাতিল করাই একমাত্র উপায়। সূত্র: আনন্দবাজার একে//
গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল খেলে যে ক্ষতি হতে পারে

অনেকেই শরীরের তাপমাত্রা বাড়লেই বা একটু জ্বর জ্বর ভাব দেখলেই প্যারাসিটামল খেয়ে নেন। দৈহিক বা সোমাটিক ব্যথায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ-মাদক বেদনানাশক, বিশেষ করে প্যারাসিটামলই ব্যবহৃত হয়। মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেশির ব্যথা, দাঁতের ব্যথা, ঋতুকষ্ট ইত্যাদিতে প্যারাসিটামল খুবই কার্যকর। কিন্তু তাই বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। বিশেষ করে প্রেগন্যান্সি বা গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল খেলে তার থেকে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসর্ডার বা অটিস্টিক স্পেকট্রাম ডিসর্ডার- এর মতো মারাত্মক স্নায়ুরোগ দেখা দিতে পারে। সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সামান্য পরিমাণে প্যারাসিটামল বা এসিটামিনোফেন সেবনের ফলে ভ্রূণের স্নায়বিক গঠনতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে সদ্যজাত শিশুর শরীরে দেখা দিতে পারে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসর্ডার বা অটিস্টিক স্পেকট্রাম ডিসর্ডার-এর মতো মারাত্মক স্নায়ুরোগ। এই গবেষকদের মতে, প্রেগন্যান্সি বা গর্ভাবস্থায় জ্বর বা যন্ত্রনা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাওয়াই উচিত নয়। তাই গর্ভবতী নারী বা শিশুদের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছেন গবেষকরা। চিকিত্সকদের মতে, ২৪ ঘণ্টায় চার গ্রাম বা চার হাজার মিলিগ্রামের বেশি প্যারাসিটামল খাওয়া মোটেই উচিত নয়। কারণ তাতে কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। সূত্র: জিনিউজ একে//

পিছনের পকেটে মানিব্যাগ রাখলে মারাত্মক যে ক্ষতি হয়

দীর্ঘক্ষণ একটানা প্যান্টের পিছনের পকেটে মানিব্যাগ রাখেন অধিকাংশ পুরুষ। কোনও কোনও মেয়েও পশ্চিমী পোশাকের সঙ্গে ব্যাকপকেটে মানিব্যাগ রাখেন। প্রতিদিনের এমন ঘটনা আপাতভাবে শারীরিক কোনও কোনও ক্ষতি করে না। কিন্তু এই অভ্যাস আসলে কোন ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে জানলে আজ থেকেই সাবধান হবেন আপনিও! দিনের পর দিন এভাবে ব্যাগ রাখাকেই কোমরে ব্যথা, হাড়ের সমস্যা ও স্নায়ুরোগের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা। হাড় ও স্নায়ুর অসুখ নিয়ে দীর্ঘ দিন গবেষণা চালানো দেশ-বিদেশের নানা সংস্থাই এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব হেল্‌থ সায়েন্সের গবেষকরাও ছেলেদের নানা হাড়ের সমস্যা এবং পায়ে বা কোমরে বাতের বেদনার জন্য এই স্বভাবকেই অনেকাংশে দায়ী করছেন। প্যান্টের পিছনে একটি পকেট দেওয়া থাকে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ওই পকেটে মানিব্যাগ রাখতে হবে। আমরা আমাদের সুবিধার জন্য টাকা পয়সা রাখা ভারী ব্যাগ চালান করে দিই পকেটে। যারা অল্প টাকা পয়সা নিয়ে বেরোন, তাদেরও ব্যাঙ্কের কার্ড, খুচরা পয়সা, বাতিল কাগজে ভরে থাকে মানিব্যাগ। এবার পকেটে সেই ব্যাগ পুরেই আমরা বসে থাকি, হাঁটাচলা করি, ট্রেনে-বাসে চড়ি। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্যান্টের পিছনের পকেট যেখানে থাকে, ঠিক সেখানেই অবস্থান করে সায়াটিক স্নায়ু। এই দীর্ঘ সময় ওভাবে ব্যাগ রাখায় এবং ওই অবস্থায় চেপে বসে থাকার কারণে সায়াটিক স্নায়ু ও সংশ্লিষ্ট পেশীর উপর প্রবল চাপ পড়ে। ফিমার হাড়ের মাথাতেও চাপ পড়ে। এতেই কোমরে ব্যথা ও হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। আসলে দীর্ঘ সময় ধরে প্যান্টের পিছনের পকেটে ব্যাগ রেখে দেওয়ায় সায়াটিক নার্ভের নিচে থাকা তন্তুর উপরেও চাপ পড়ে। এতে কোমরে ব্যথা তো হয়ই, কারও কারও ক্ষেত্রে পা অবশ হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে হাড়ের ক্ষয়ও ঘটে। তাহলে উপায়? ১. পকেট টুকটাক জরুরি কাগজ বা কলম রাখার কাজে ব্যবহার করুন। মানিব্যাগ রাখুন কাঁধের ব্যাগে। ২. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। ৩. ইতিমধ্যেই এই ব্যথার শিকার হলে গরম সেঁক নিন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

এইচআইভি সম্পর্কে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা

বিশ্বব্যাপী এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন কোটি মানুষ মারা গেছে বলে জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে শুধু গত বছরই মারা গেছে দশ লাখ। বিশ্বব্যাপী আরও তিন কোটি সত্তর লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত রয়েছেন। আর প্রতি বছর নতুন করে আরও ১৮ লাখের মতো মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এটি বিশ্বের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বিষয়ক সংকটগুলোর একটি। ১৯৮০ সালে প্রথম এই ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করেছে বলে জানা যায়। সে সময় থেকে এটি নিয়ে বিচিত্র সব ধারণা তৈরি হতে থাকে যার অনেকগুলোই একেবারে ভ্রান্ত। আক্রান্তদের সঙ্গে সাধারণ মেলামেশা ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করতো যে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বা তার ত্বক ও মুখের লালা দ্বারা আপনিও আক্রান্ত হবেন। কিন্তু এটি কোনও ছোঁয়াচে রোগ নয়। একই বাতাসে নিশ্বাস নিলে, হাত মেলালে, জড়িয়ে ধরলে, চুমু খেলে, একই পাত্রে খাবার খেলে, পানি খেলে, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী ব্যবহার করলে, তার ব্যবহৃত টয়লেট ব্যবহার করলে আপনিও এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন না। এর নিরাময় সম্পর্কে প্রচলিত কিছু মিথ আফ্রিকার কিছু দেশ, ভারত ও থাইল্যান্ডে অনেকের বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে আক্রান্ত হওয়ার পর কুমারী মেয়ে বা যৌন সম্পর্কের কোনও অভিজ্ঞতা নেই এমন কারোর সঙ্গে যৌন মিলনে এই ভাইরাস দুর হয়ে যায়। কিন্তু এটি একেবারেই ভুল ধারণা। এতে বরং কুমারীরা আক্রান্ত হয়। এই অঞ্চলে এই বিশ্বাসের কারণে কুমারীদের ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ১৬শ শতকে ইউরোপে সিফিলিস ও গনোরিয়া আক্রান্ত হলে একই ধরনের বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। তবে সে ক্ষেত্রেও কুমারীদের সঙ্গে যৌন মিলন কার্যকর নয়। মশা দ্বারা কি এটি ছড়ায়? মশা একই ঘরে থাকা মানুষজনে কামড়াতে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ে যদি অন্য কামড়ায় তাহলেও এটি ছড়াতে পারে সেটি ভুল ধারণা। যৌন মিলনের পর গোসল করলে এইচআইভি ভাইরাস পরিষ্কার হয় এই ধারণাও একেবারেই ভুল। যদিও রক্তদ্বারা এই ভাইরাস ছড়ায় কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, মশা বা রক্ত খায় এমন কিট দ্বারা আপনি আক্রান্ত হবেন না। তার দুটি কারণ। একটি হল একজনের শরীর থেকে রক্ত খেয়ে সে সেই রক্ত দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তির শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার মতো করে রক্ত ঢুকিয়ে দেয় না। আর মশা বা অন্য কিটের শরীরে এই জীবাণু খুব সামান্য সময় বেঁচে থাকে। ওরাল সেক্সে কি এটি হতে পারে? আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ওরাল সেক্স অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এইচআইভি পজিটিভ নারী বা পুরুষের সঙ্গে ওরাল সেক্সের মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়া সম্ভব। কিন্তু এর হার খুব বিরল। কনডমেও রয়েছে ঝুঁকি কনডম ব্যবহার করলে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার কোনই সম্ভাবনা এমন ধারণাও ঠিক নয়। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলনের সময়ে কনডম ফুটো হয়ে গেলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন। তাই ইদানীং এর প্রতিরোধ বিষয়ক প্রচারণায় শুধু কনডম ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে তা নয়, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার ব্যাপারেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর আরেকটি কারণ হল আক্রান্ত প্রতি চারজন ব্যক্তির অন্তত একজন জানেন না যে তার এই শরীরে এটি রয়েছে। যাদের সংখ্যা এক কোটি। সে হয়ত নিজের অজান্তে অন্যকে আক্রান্ত করছে। কোনও লক্ষণ না থাকলে কি ঘটে? কোনও লক্ষণ দেখা না দিলে এইচআইভি আক্রান্ত নন এটিও ভুল ধারণা। এই জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও একজন ব্যক্তির শরীরে দীর্ঘ দিন কোনও রকমের লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে। এভাবে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি দশ থেকে পনেরো বছরও বেঁচে থাকতে পারেন। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর শুরুর কয়েকটি সপ্তাহের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাব দেখা দিতে পারে, হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীরে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। অন্যান্য লক্ষণগুলো দেখা দেবে যখন ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করাই এইচআইভির মুল বিপদ। প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকলে কাশি, ডাইরিয়া, লিম্ফ নোড বা চামড়ার নিচে ফুলে যাওয়া গোটার মতো দেখা দেবে, ওজন কমে যাবে। চিকিৎসার অভাবে আরও ভয়াবহ অসুখও হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে সামান্য অসুখেও মৃত্যুর সম্ভাবনা তৈরি হয় যদি তার চিকিৎসা না নেওয়া হয় কারণ শরীর তার স্বাভাবিক নিয়ে আর অসুখের সঙ্গে লড়াই করতে পারে না। এইচআইভিতে আক্রান্তরা অল্প বয়সে মারা যায় ইদানীং নানা ধরনের চিকিৎসার জন্য এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিও দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারছেন। জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা বলছে আক্রান্তদের মধ্যে ৪৭ শতাংশের ক্ষেত্রে এইচআইভি জীবাণুর মাত্রা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায়ও জীবাণুটি ধরা পরে না। তবে তারা যদি চিকিৎসায় অবহেলা করেন তবে এর মাত্রা আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। মায়েরা সব সময় শিশুদের আক্রান্ত করে না প্রচলিত ধারণা হচ্ছে আক্রান্ত নারী সন্তান জন্ম দিলে তার শিশুরও শরীরে এই জীবাণু চলে যাবে। কিন্তু সবসময় সেটি নাও হতে পারে। আক্রান্ত মায়ের শরীরের জীবাণুর মাত্রা যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে সন্তান জন্মদানের সময় সে শিশুকে আক্রান্ত নাও করতে পারে। যেভাবে আক্রান্ত হতে পারেন আক্রান্ত নারী বা পুরুষের সঙ্গে কনডম ব্যবহার না করে যৌন সম্পর্কে স্থাপন করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন। অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত নিলে, এ রকম কারও ব্যবহৃত একই সিরিঞ্জ শরীরে প্রবেশ করলেও আপনি এই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হবেন। এগুলোই সবচাইতে বড় কারণ। তবে ইদানীং রক্ত দেওয়ার আগে যেভাবে তা পরীক্ষা হয় তাতে রক্ত গ্রহণে এর সম্ভাবনা কমে আসছে। এর বাইরে অল্প কিছু বিরল কারণ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি একে//

চামচে করে খেলে মিলবে না এই ৪ উপকার

প্রতিদিনের বেশির ভাগ কাজেই পশ্চিমী দুনিয়ার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের স্বভাবকেই অনুসরণ করি অনেকে। এমনকি যে কোনও খাবার, এমনকি ভাত খাওয়ার সময় সাধারণত হাতের বদলে চামচ দিয়ে খাওয়াতেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন অনেকে। আপনিও কি তেমন দলেই পড়েন? তাহলে আপনার জন্য খুব একটা সুখবর দিচ্ছে না আমেরিকান হেলথ সায়েন্সের বিজ্ঞানীরা। চামচ বাদ দিয়ে হাতের পাঁচ আঙুলেই ভরসা রাখতে বলছেন গবেষকরা। তাদের মত অনুযায়ী, প্রতি দিন হাতে কর খাবার খাওয়ার বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর দিক আছে। চামচে করে খেলে এ সব উপকার মেলে না। ১. হাত দিয়ে খেলে খাওয়ার সময় একাধিক পেশীর সঞ্চালন হয়। চামচ দিয়ে খাওয়ার ক্ষেত্রে এই পেশী সঞ্চালন এতটা পরিমাণে হয় না। খাওয়ার সময় যত বেশি পেশী সঞ্চালন হবে, তত রক্ত সঞ্চালন বেশি হবে শরীরে, খাবার হজমেও সুবিধা হবে। ২. হাত দিয়ে খাওয়ার সময় আমাদের আঙুলের মাধ্যমেই মস্তিষ্কের বার্তা পাকস্থলীতে গিয়ে পৌঁছায়। ফলে বিপাক ক্রিয়া উন্নত মানের হয়। এমনকি জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, চামচ দিয়ে খেলে ধাতুর স্পর্শ পাওয়ায় স্বাদকোরকের পুরোটা কার্যকর হয় না। এ ছাড়া রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনও কম ক্ষরিত হয়। ৩. হাত দিয়ে খাবার খেলে খাবার ঠাণ্ডা না গরম বোঝা যায়। তাই খাওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা যায়। ৪. হাত দিয়ে খাওয়ার সময় হাতের ছোঁয়া জিভে লাগায় স্বাদকোরক বেশি উদ্দীপ্ত হয়। ফলে খাবার বেশি স্বাদু লাগে ও মানসিক তৃপ্তি ঘটে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

খাওয়ার পর এই ৫টি কাজ ভুলেও করবেন না

আধুনিক যুগে ডায়েট মেনে চলতে গিয়ে অনেকেই পাত থেকে খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে ফেলেন। তবুও পেট ভরার মতো খাবার আমরা প্রত্যেকেই খাই। কিন্তু খাওয়ার পর এমন কিছু কাজ আমরা করে থাকি যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এমনকি, দিনের পর দিন এমন অভ্যাস বজায় রাখলে তা কিন্তু বড় অসুখের দিকে ঠেলে দিতে পারে আমাদের। চিকিৎসকরা এমনটাই জানাচ্ছেন। আসলে আপনার এই স্বভাবগুলো শরীরের রক্ত সঞ্চালনের অস্বাভাবিকতা থেকে শুরু করে, হার্টের অসুস্থতা, মেদবাহুল্য ইত্যাদি নানা সমস্যা আপনার অজান্তেই ডেকে আনছে। সুতরাং আজ থেকেই সচেতন হোন। দেখে নিন মূলত কোন কোন স্বভাবে এখনই বদল আনা প্রয়োজন। ১. ভরা পেটে ফল খাওয়ার প্রবাদকে মনে রেখে ভরপেট খাওয়ার পরেই ফল খান? তাহলে আজই ত্যাগ করুন এই অভ্যাস। এমনিতেই ফল অ্যাসিডিক। ভরপেট খাওয়ার পরেই ফল খেলে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়। তাই খাওয়ার প্রায় এক-দু’ঘণ্টা পর ফল খেলে তবেই উপকার পাবেন। ২. খেয়ে উঠে গোসল করা অনেকেরই অভ্যাস। এতে শরীরের রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে পাকস্থলিতে রক্তের পরিমাণ বাড়ে। তাই খেয়ে উঠেই স্নান করলে হজমের সমস্যা হয়। শরীরের বিপাক হারকেও সমস্যায় ফেলে এই অভ্যাস। ৩. ভরা পেটেই শরীরচর্চা করার স্বভাব থাকলে সে অভ্যাস আজই পরিত্যাগ করুন। এতে উপকার তো হয়ই না, উল্টো শরীরকে কষ্ট দেওয়ার পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করে তা। ৪. খেয়ে উঠে ঘুমিয়ে পড়াও ভাল নয়। এতে মেদ জমার সম্ভাবনা বাড়ে। বরং খাওয়ার পর অল্প হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবারকে পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করাও হবে আবার তাকে হজমের উপযুক্ত করে তুলতে পারবেন। ৫. অনেককে দেখা যায় খাওয়ার পরেই ধূমপান শুরু করেন। এমনিতেই ধূমপান করা একেবারেই উচিত নয়। তার উপর অন্য সময় ধূমপান শরীরের যে পরিমাণ ক্ষতি করে, ভরপেট খাওয়ার পর ধূমপান করলে সে ক্ষতি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কারণ ওই সময় শরীরের বিপাকক্রিয়া শুরু হয়, তখনই তামাকের ধোঁয়া শরীরে গেলে তা আরও বেশি বিপজ্জনক। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

বাড়িতে বাহারি গাছ রাখার আগে এই প্রতিবেদনটি পড়ুন

অফিস, স্কুল এবং বাড়িতে হামেশাই বাহারি গাছ দেখতে পাই আমরা৷ কিন্তু বাড়িতে গাছ রাখার আগে অবশ্যই জেনে নিন, কোনটি আপনার শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর আর কোনটা নয়৷ ডাইফেনবেসিয়া নামে এই গাছটি অত্যন্ত ক্ষতিকর৷ সুন্দর এই গাছটি যে আসলে আমাদের ক্ষতি করতে সক্ষম তা আমরা কেউই জানি না। একজন অভিভাবকের দাবি, তার বাড়িতে এই গাছটি রাখা ছিল৷ ওই গাছটিতে একদিন তার শিশু হাত দেন৷ তিন বছর বয়সি শিশুকন্যা ওই গাছের পাতা খেয়ে নেয়৷ সঙ্গে সঙ্গে জিভ ফুলে যায়৷ এমনকি, মারা যায় ওই শিশুটি৷ সামান্য অসাবধানে তছনছ হয়ে যায় গোটা পরিবারটি৷ পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই তার দাবি, দেখতে সুন্দর হলেও এই বাহারি গাছটি বাড়িতে রাখা মোটেও উচিত নয়। হাত দেওয়া তো দূরস্ত, বাচ্চাদেরও এই গাছের কাছাকাছি যেতে দেওয়া অনুচিত৷ শুধু শিশুদের ক্ষেত্রেই নয়, বড়দেরও মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এই গাছটি৷ এই গাছটির পাতা মুখে দিলে এক মিনিটের মধ্যেই প্রাণহানি হতে পারে একটি শিশুর৷ প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যু হতে পারে ১৫ মিনিটের মধ্যেই। এমনকি এই গাছ হাত দিয়ে ধরলে এবং এই হাত চোখে গেলে অন্ধত্বের সম্ভাবনা থাকে। এই গাছ বাড়িতে রাখলেও, যাতে কেউ হাত না দিতে পারেন সেই বন্দোবস্ত করতে হবে৷ দুর্ঘটনা এড়াতে তাই আজই সাবধান হন৷ নইলে বিপদ অনিবার্য৷ সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন একে//

এই ৫ ফল ফ্রিজে রেখে খেলে বুঝবেন বিষ খাচ্ছেন

বেঁচে যাওয়া খাবার বা আগে থেকে কিনে সংরক্ষণ করে রাখার উদ্দেশ্যে শাক-সবজি বা ফল ফ্রিজে রাখাই আমাদের স্বভাব। কিন্তু জানেন কি, এমন কিছু ফল আমরা প্রায়ই খেয়ে থাকি, যা ফ্রিজে রেখে দিলে পুষ্টিগুণ তো মিলবেই না, উল্টো যে কোনও সময় বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে তা। ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটে জটিল শারীরিক সমস্যা এমনকি, মৃত্যু পর্যন্তও ঘটতে পারে।  কার্বাইড দিয়ে পাকানোই হোক বা গাছপাকা- দুই ক্ষেত্রেই কয়েকটা ফল ফ্রিজে রাখা ক্ষতিকারক। ঠাণ্ডার সংস্পর্শে এসে ফলে উপস্থিত রাসায়নিকগুলোর নানা বিক্রিয়া, ফলের কোষ গঠন, ও কোন অঞ্চলের ফল ইত্যাদি বিষয়ের জন্যই ফ্রিজ থেকে দূরে রাখা উচিত কিছু ফল। বরংপুষ্টিবিদদের মতে, এই সব ফল চালের ড্রামে রাখুন। চাইলে পরিষ্কার ঝুড়িতে বা নরম কাপড়ে মুড়ে শুকনো জায়গাতেও রাখতে পারেন। জানেন কী কী ফল ফ্রিজে রাখা বিপজ্জনক? দেখে নিন সে সব। লেবু যে কোনও লেবুতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। ফ্রিজের তাপমাত্রা অত্যন্ত কম থাকায় লেবুর অ্যাসিডিক গুণ নষ্ট হয়। ফ্রিজের কৃত্রিম ঠাণ্ডায় কমলালেবুর খোসা ও লেবুর শাঁস শুকিয়ে যায়। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় সেগুলো খারাপ হয়ে বিষাক্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই লেবু কখনও ফ্রিজে রাখবেন না। শশা খুব গরম আর খুব ঠাণ্ডা কোনওটাই শশার পক্ষে ভাল নয়। ফ্রিজে রাখলে শশা শুকিয়ে তো যায়ই, এর পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়। কম আলো ও কম ঠাণ্ডা এমন জায়গায় রাখুন শশা। ফ্রিজের নিচে যে ‌অতিরিক্ত তাক থাকে, সেখানেই রাখুন এই ফল। আপেল ফ্রিজে রাখলে আপেলের খোসা দ্রুত শুকায়। আপেলের মধ্যে উপস্থিত ট্রিটারপেনয়েড ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। কিন্তু ফ্রিজের তাপমাত্রায় নষ্ট হয় ও আপেলের কোষের পচন ধরায়। তাই তা খেলে বিষক্রিয়া ঘটতে পারে। কলা গরম তাপমাত্রায় ফল হওয়ায় গরমেই এটি ভাল থাকে। ফ্রিজে কলা রাখলে কলার কোষের গঠনও নষ্ট হয়ে তা বিষাক্ত হতে পারে। নাশপাতি ফ্রিজে রাখলে নাশপাতি নরম হয়ে যায়। পচন ধরেও তাড়াতাড়ি। পুষ্টিগুণ কমে যাওয়ার সঙ্গে এই ধরনের নাশপাতিতে বিষক্রিয়াও হতে পারে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

জেনে নিন অ্যাপেনডিসাইটিসের ৫ লক্ষণ

নানা শারীরিক জটিলতা থেকে পেটে ব্যথা কমবেশি অনেকেরই হয়। কিন্তু এই ধরনের পেটে ব্যথা বড় কোনও অসুখের ইঙ্গিত কি-না, সব সময় বোঝা যায় না। যেমন অ্যাপেনডিক্স। বৃহদন্ত্রের সঙ্গে লাগানো এই ছোট থলির আলাদা করে কোনও কাজ নেই। কিন্তু অ্যাপেডিক্সে সংক্রমণ হলে ঠিক সময় চিকিৎসা না করালে ও অস্ত্রোপচার না হলে প্রাণ সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা অ্যাপেনডিসাইটিস- সবক’টি পেটের সমস্যারই ব্যথার উৎপত্তিস্থল ও ধরন আলাদা। তবে চিকিৎসকরা তা জানলেও আমজনতা অনেক সময়ই তা বুঝতে পারেন না। ফলে সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় অনেক দেরি হয়ে যায়। অ্যাপেনডিক্সের ব্যথা বুঝতে না পেরে চিকিৎসা করাতে দেরি হওয়ায় আমাদের দেশে এখনও মৃত্যু হয় অনেকেরই জানেন কি, কী কী উপসর্গ দেখলেই বুঝবেন, পেটের এই ব্যথা অ্যাপেনডিক্সের? চিকিৎসকদের মতে এই সমস্যা হলে পেটে ব্যথা ছাড়াও বেশ কিছু উপসর্গ দেখা যায়। ব্যথার ধরনও অন্য রকম হয়। জানেন সে সব কেমন? ১. অ্যাপেনডিক্স কোনও কারণে সংক্রমণ হলে তলপেট ফুলে ওঠে, সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা হয় ও ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে। অ্যাপেনডিক্স তলপেটের ডান দিকে থাকে। তাই এই ব্যথা সাধারণত, নাভির কাছ থেকে শুরু হয়ে তলপেটের ডান দিকে ছড়াতে থাকে।​ ২. সংক্রমণ শুরুর দিকে অল্প ব্যথা থাকলেও সঙ্গে বমি হয়। সারাক্ষণই বমি ভাব থাকে। ৩. জিভে কোনও স্বাদই ভাল লাগে না, তাই খাদ্যে অরুচি দেখা দেয়। ৪. কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের শুরুতে ডায়ারিয়া দেখা যায়। আবার কারও ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে। ৫. তলপেটের ডান দিকে ব্যথার সঙ্গে ঘুসঘুসে জ্বর হওয়াও এই রোগের অন্যতম লক্ষণ। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

খাঁটি সোনা চেনার ৩ উপায়

সাজের আদলই বদলে যায় একটু সোনার ছোঁয়ায়। কিন্তু সবাই যে খুব ব্র্যান্ডেড দোকান থেকেই সোনা কিনেত পারেন এমন নয়। আবার নামী প্রতিষ্ঠান থেকে সোনা কিনলেও যে নকল সোনা হাতে আসবে না- এমনটাও জোর দিয়ে বলা যায় না। তাই সোনা কিনতে হলে সচেতন হন। এমনিতেও এই মূল্যবান ধাতুর প্রতি কম-বেশি অনেকেরই আকর্ষণ রয়েছে। কেবল বিয়েই নয়, বিভিন্ন উপলক্ষে মানুষ ক্রয় করে থাকে। তাই এই দ্রব্যটি কেনার আগে আপনাকে সচেতন হতে হবে। সোনা যাচাইয়ের অনেক রকম নিয়ম আছে। কিন্তু তার মধ্যেও সবচেয়ে সহজ কিছু ঘরোয়া উপায় জানা থাকলে সহজে ঠকে যাবেন না। এমনিতে আসল সোনা ২৪ ক্যারেট ওজনের, কিন্তু এতই নরম যে তা দিয়ে গয়না বানানো সম্ভব নয়। তাই সোনার সঙ্গে কিছুটা খাদ মেশালে তবেই তা থেকে গয়না বানানো যায়। গয়না প্রস্তুতির জন্য ২২ ক্যারেটের সোনা ব্যবহার করা হয়। যার মধ্যে সোনার পরিমাণ ৯১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সব ক্যারেটের হলমার্ক পৃথক। সোনার গয়নার ক্ষেত্রে, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের হলমার্ক ৯১৬।  হলমার্ক দেখে কিনলে ঠকার ভয় আর থাকে না। কিন্তু খরচ বাঁচাতে যারা হলমার্ক ছাড়া সোনা কেনেন, তাদের ক্ষেত্রে কী হবে? কম দামে সোনা কিনছেন বলেই কি ঠকে যেতে হবে না কি? কিছু উপায় জানা থাকলে কিন্তু কম খরচে সোনা কিনলেও দেখে নিতে পারেন তা আসল কি-না। ১. সাদা চিনেমাটির প্লেট নিন। সোনার গয়না তাতে ঘষলে কী রং দেখাচ্ছে? যদি হালকা সোনালি রং দেখায়, তাহলে নিশ্চিন্ত থাকুন, এ সোনা খাঁটি। যদি রং কালচে হয়, তাহলে তা নকল সোনা। ২. সোনার পদক পাওয়া খেলোয়াড়রা অনেক সময় সেই মেডেলে কামড় দেন। এটা বর্তমানে ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’ হয়ে উঠলেও এর আসল কারণ কিন্তু সোনার খাঁটিত্ব বিচার। কেনা সোনায় হালকা করে কামড় দিয়ে রাখুন অল্প কিছুক্ষণ। যদি সোনা আসল হয় তার উপর কামড়ের দাগ পড়বে। ৩. পাত্রে কিছুটা পানি নিয়ে কিনে আনা সোনা সেই পানিতে ফেলে দিন। যদি সোনা ভাসে, তবে জানবেন তা নকল। আসল সোনা সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যাবে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

জেনে নিন খাঁটি চুনি চেনার সহজ উপায়

অনেকে একে রত্নরাজ বলে থাকেন। চুনিকে সূর্যকান্তমণিও বলা হয়। সংস্কৃততে চুনিকে বলা হয় পদ্মরাগ, ফারসি ও আরবিতে এটিকে এয়াকুত বা ইয়াকুত বলা হয়। চুনি বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। প্রকৃষ্ঠ চুনির রং হয় টকটকে লাল। এ ছাড়া বাদামী লাল, কালচে লাল, কমলা ইত্যাদি, কালচে গোলাপি রঙের চুনিও পাওয়া যায়। খাঁটি চুনি কষ্ঠি পাথরে ঘষলেও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। খাঁটি চুনির উপর সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয় এবং প্রতিফলিত আলো তীব্রতর হয়ে শুকনো কাগজ বা ঘাসকে জ্বালিয়ে দিতে সক্ষম। এটি সূর্যের ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের নীল আলোকে শুষে নিয়ে তাকে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের লাল আলোতে রূপান্তরিত করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল এই রত্ন পাথরের ভিড়ে কী করে চিনবেন, কোনটা আসল আর কোনটা নকল? আসুন আজ জেনে নেওয়া যাক খাঁটি চুনি চেনার উপায়- ১) চুনি আসল হলে চোখের পাতায় রাখলে শীতলতা অনুভব করা যায়। ২) পদ্মের কুঁড়িতে রাখলে পদ্ম দ্রুত ফোটে। ৩) রুপোর পাত্রে রেখে সূর্যালোকে ধরলে পাত্রটি রক্তবর্ণ ধারণ করে। ৪) চুনি কাঁচা গরুর দুধে তিন চার ঘণ্টা রাখলে দুধের রং গোলাপি হয়ে যায়। চুনির প্রাপ্তিস্থান চুনা পাথরের ভেতরে জন্মায় বলে এর নাম চুনি। আফগানিস্তান, মায়ানমার, তাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কানাডা, নরওয়ে, সুইজারল্যাণ্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলে চুনি পাওয়া যায়। চুনির আয়ুর্বেদিক শোধন পদ্ধতি লেবুর রস মেশানো পানিতে ২৪ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখলেই চুনির শোধন সম্পূর্ণ হবে। সূত্র: জিনিউজ একে//

ভেজাল মধু চেনার সহজ ৮ উপায়!

মধু একটি উচ্চ ওষধিগুণ সম্পন্ন ভেষজ তরল। এতে রয়েছে একাধিক রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা। মধুর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু ও দারচিনির মিশ্রণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। পিত্ত থলির সংক্রমণ রোধ করতে, বাতের ব্যথায়, মুখের দুর্গন্ধ কাটাতে, এমনকি শরীরের বাড়তি ওজন কমাতেও মধু খুবই কার্যকরী উপাদান। প্রাচীনকাল থেকেই গ্রিস ও মিশরে ক্ষত সারানোর কাজে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মধু কখনও নষ্ট হয় না। প্রশ্ন হচ্ছে, কি করে জানবেন যে মধু আপনি খাচ্ছেন, সেটি খাঁটি কি-না? এখন বাজারে নানান রঙের মোড়কে মধু পাওয়া যায়। সুন্দরবনের খাঁটি মধুর নাম দিয়ে ভেজাল, রাসায়নিকযুক্ত উপাদান বিক্রি করাও এখন খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা। শুধু তাই নয়, অনেক নামী সংস্থার প্রক্রিয়াজাত মধুতেও মেলে ভেজাল। আসুন, জেনে নেওয়া যাক খাঁটি মধু চিনে নেওয়ার কয়েকটি সহজ উপায়। ১) মধুর স্বাদ হবে মিষ্টি, এতে কোনও ঝাঁঝালো ভাব থাকবে না। ২) মধুতে কখনও কটু গন্ধ থাকবে না। খাঁটি মধুর গন্ধ হবে মিষ্টি ও আকর্ষণীয়। ৩) এক টুকরা ব্লটিং পেপার নিন, তাতে কয়েক ফোঁটা মধু দিন। যদি কাগজ তা সম্পূর্ণ শুষে নেয়, বুঝবেন মধুটি খাঁটি নয়। ৪) শীতের দিনে বা ঠাণ্ডায় খাঁটি মধু দানা বেঁধে যায়। ৫) একটি মোমবাতি নিয়ে সেটির সলতেটি ভালভাবে মধুতে ডুবিয়ে নিন। এবার আগুন দিয়ে জ্বালাবার চেষ্টা করুন। যদি জ্বলে ওঠে, তাহলে বুঝবেন যে মধু খাঁটি। আর যদি না জ্বলে, বুঝবেন যে মধুতে পানি মেশানো আছে। ৬) বেশ কিছুদিন ঘরে রেখে দিলে মধুতে চিনি জমতেই পারে। বয়ামসহ মধু গরম পানিতে কিছুক্ষণ রেখে দেখুন। এই চিনি গলে মধু আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু নকল মধুর ক্ষেত্রে এটা হবে না। ৭) এক টুকরা সাদা কাপড়ে মধু মাখান। আধ ঘণ্টা রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি দাগ থেকে যায়, বুঝবেন মধুটি খাঁটি নয়। ৮) গ্লাসে বা বাটিতে খানিকটা পানি নিন। তার মধ্যে এক চামচ মধু দিন। যদি মধু পানির সঙ্গে সহজেই মিশে যায়, তাহলে বুঝবেন যে এটা অবশ্যই নকল। আসল মধুর ঘনত্ব পানির চাইতে অনেক বেশি। তাই তা সহজে মিশবে না। এমনকি নাড়া না দিলেও মধু পানিতে মিশবে না। সূত্র: জিনিউজ একে//

কানে পানি ঢুকে গেলে কী করবেন?

গোসলের সময় সতর্ক থাকলেও অনেক সময়েই শরীরে পানি ঢালার তোড়ে কানের ভিতর পানি ঢুকে যায়। অল্পস্বল্প পানি ঢুকলে অত অসুবিধা হয় না। কিন্তু অনেকটা পানি ঢুকে গেলে সারা দিন থাকে অস্বস্তি। বহু চেষ্টাতেও সেই পানি বের করা যায় না। কান বন্ধ হওয়া থেকে কানে যন্ত্রণা তো রয়েইছে, এমনকি পানির পরিমাণ বেশি হলে কান থেকে রক্ত বের হওয়া, পুঁজ ইত্যাদির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কানে পানি ঢুকলে খানিকটা চেষ্টা করে তা না বেরলে অনেকেই সেই শারীরিক অসুবিধা নিয়ে কাটিয়ে দেন দিনের পর দিন। শরীরের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় কান থেকে সেই পানি বেরিয়ে যাবে ধরে নিয়েই অপেক্ষা করেন। কম পানি ঢুকলে যাও বা এই অভ্যাস মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু পরিমাণে বেশি পানি ঢুকলে তার জন্য কোনও চিকিৎসা বা চেষ্টা না থাকলে বধিরতাও আসতে পারে কিন্তু! তবে সব সময় কি কিছু হলেই চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়? চিকিৎসকদের পরামর্শ, তেমন পরিস্থিতি এলে বা চিকিৎসকদের কাছে আসার আগে কিছুটা আরাম বোধের জন্য অবশ্য বাড়িতেই চেষ্টা করুন কানের পুরো পানি বের করে দিতে। কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব, জানেন? ১. কানে অল্প পানি ঢুকলে চুইংগাম চিবোন। দাঁত, মাড়ি ও কানের পাশের পেশীগুলোর ওঠাপড়ায় কানের পানি বেরিয়ে আসবে। ২. কানের পানি বের করার সবচেয়ে সহজ উপায় স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে তা বের করে ফেলা। পানি ঢুকলে একটা লম্বা শ্বাস নিন। এবার দু’আঙুলে নাকের ছিদ্র বন্ধ করে সেই অবস্থাতেই শ্বাস ত্যাগ করতে চেষ্টা করুন। এই পদ্ধতি বার কয়েক অবলম্বন করলেই কান থেকে পানি বেরিয়ে যাবে সহজে। ৩. বাড়িতেই চেষ্টা করুন আর এক নিরাপদ পদ্ধতি। যে কানে পানি ঢুকেছে সে দিকে মাথা কাত করুন। এবার সেই দিকের হাতের তালু পানি ঢোকা কানের উপরে রেখে জোরে চাপ দিন। চাপ দিয়ে সরিয়ে নিন হাত। এতে কিছুটা পানি বেরিয়ে আসবে। বার কয়েক এমন করতে করতেই কানের সিংহভাগ পানিই বেরিয়ে আসে। তবে এতেও সমাধান না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যান। কোনও রকম বাজারচলতি কানের ড্রপ এই অবস্থায় দেবেন না। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ ও ড্রপ ব্যবহার করুন। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি