ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:৫২:৪৪, বুধবার

আচমকা রক্তপাত হলে প্রথমেই যা করবেন

আচমকা রক্তপাত হলে প্রথমেই যা করবেন

রক্তপাত একটি অতি পরিচিত সমস্যা। বিশেষ করে যাদের বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে রয়েছে, তাদের তো নিত্যদিনের সমস্যা এটি। খেলতে গিয়ে লেগে কেটে যাওয়া বা অনেক সময় বেশ গভীর ক্ষত থেকে রক্তপাত হয়ে থাকে। রক্তপাত শরীরের যে কোনও অংশ থেকেই হতে পারে। অনেক সময় বাইরে যে রক্তপাত হয় তার সঙ্গে আভ্যন্তরীণ রক্তপাতও হয়ে থাকে। তাই আচমকা যদি কারও রক্তপাত হয় সে ক্ষেত্রে কী করবেন? প্রাথমিক চিকিত্সা পদ্ধতিই বা কী? কারও যদি হাত-পা-মাথা যে কোনও অংশ থেকে রক্ত বেরতে শুরু করে তবে তাকে দ্রুত চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে আভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ক্ষেত্রে আপনাকে অন্য কয়েকটি পদক্ষেপ করতে হবে। সাধারণ রক্তপাতের ক্ষেত্রে রোগীকে ভালোভাবে শুইয়ে দিন। পরিষ্কার তুলা নিয়ে কাটা জায়গায় উপরে ধীরে ধীরে প্রেস করুন। যতক্ষণ না রক্তের পরিমাণ কমছে, ততক্ষণ তুলা দিয়ে চেপে ধরে রাখতে হবে। যদি রক্তপাত না কমে তবে তুলার উপর আরও তুলা চাপুন। ভেজা তুলাগুলো সরিয়ে দেবেন না। রক্তপাত বন্ধ হলে জায়গাটি ভালো করে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক লাগান। ব্যান্ডেজ বাঁধুন, তবে খুব জোর দিয়ে বাঁধবেন না। আর আভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ক্ষেত্রে রোগীকে শুইয়ে দিন। পায়ের নিচে বালিশ দিন। কোনভাবেই রোগীকে নড়তে দেবেন না। কোনও কিছু খাওয়াতে যাবেন না। পানিও না। গরম পানির ব্যাগ বা বরফ দিতে পারেন যেখানে খুব বেশি ব্যথা হচ্ছে। দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। সূত্র: এই সময় একে//
রান্নায় এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে ক্যানসার

আজকাল বেশির ভাগ বাড়িতেই আগেভাগে রান্না করে রাখা হয়। এবং পরে তা গরম করে খাওয়া হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ, পরিবারের সবাই চোখ বুজে খান মাইক্রোওয়েভে গরম করা খাবার। রোজ বেড়ে চলা এই অভ্যেসের মধ্যেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন চিকিৎসকরা।‌ একবার রান্না করা খাওয়ার বারংবার মাইক্রোওয়েভে গরম করা কতটা স্বাস্থ্যকর? ‘জার্নাল অব এগ্রিকালচারকাল ফুড অ্যান্ড কেমিস্ট্রি’-র একটি প্রতিবেদনে একদল গবেষক নিজেদের পরীক্ষার বিস্তারিত প্রমাণ পেশ করে দেখিয়েছেন, মাইক্রোওয়েভে গরম করা খাবারে ভিটামিন বি১২ ক্রমে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এক এক বার খাবার গরম করলে খাবারের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভিটামিন বি১২ নষ্ট হয়। দুধ ও মাংস জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১২ থাকে। কাজেই এই ধরনের খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে খাবারের খাদ্যগুণ নষ্ট হয় ব্যাপকভাবে। আরও ভয়ের কথা শোনাচ্ছেন শহরের চিকিৎসক সায়ন্তন মিত্র। তার মতে, ‘মাইক্রোওয়েভিং-এর পরে খাবারে কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরি হয়। যেমন বেঞ্জিন, জাইলিন ইত্যাদি। এগুলো ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে ডেকে আনে। এমনকি, প্লাস্টিকের খাবারে খাবার গরম করলেও সেখান থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হয়। এগুলো সবই কার্সিনোজেনিক অর্থাৎ ক্যানসারের কারণ। কাজেই খাবার বারবার মাইক্রোওয়েভে গরম না করাই ভাল।’ প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদস্পন্দনের গতিরও তারতম্য ঘটে মাইক্রোওয়েভ থেকে নির্গত রেডিয়েশনের কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম, দুধ, মাংস, মাশরুম জাতীয় খাবার গরম করে খাওয়া সবচেয়ে ক্ষতিকর। কিন্তু জীবনে ব্যস্ততা তো থাকবেই। প্রতি বেলায় খাবার তৈরি করার কথা ভাবাও অসম্ভব। তাহলে কি ক্যনসারকেই জায়গা ছেড়ে দিতে হবে হাতঘড়ির সঙ্গে দৌঁড়ে হেরে গিয়ে? হাল না ছেড়ে, অভ্যাসে বরং সামান্য বদল আনার চেষ্টা করা যাক না! ১. প্রতিদিনের রান্না প্রতিদিন করুন। ২. খাবার ফ্রিজ থেকে বের করে তাড়াহুড়া করে মাইক্রোওয়েভে না দিয়ে স্বাভাবিক উষ্ণতায় নিয়ে আসুন। ৩. পানি গরম করার সময় গ্যস ওভেন ব্যবহার করুন। ৪. টোস্টার ওভেনটিকে কাজে লাগাতে পারেন। ৫. মাইক্রোওয়েভ প্রয়োজনীয় কিন্তু অপরিহার্য নয়, এই সত্য না বুঝলে বিপদ কিন্তু পিছু ছাড়বে না। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

গ্যাস সিলিন্ডার থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয় ৭

বিপদ কখনও বলে আসে না। তাই আগাম সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি! বাড়িকে সুরক্ষিত করার জন্য মজবুত দরজা-জানলা আর লোহার গ্রিল লাগানো ছাড়াও অনেক কিছু করার থাকে। চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি এড়াতে দরজায় শক্তপোক্ত তালা বা বাড়ির একাধিক জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কথাই ভাবেন অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু বিপদ বলতে কি শুধু চুরি-ডাকাতির ভয়? শর্ট সার্কিট থেকে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাই নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বা তারের লাইনগুলোর নিয়মিত দেখভাল করা বা প্রয়োজনে পরিবর্তন করা জরুরি! এ ছড়াও বাড়ি-ঘর সুরক্ষিত করতে আর একটা বিষয়ে আগাম সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর সেটা হল আমাদের রান্নাঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার। গ্যাস সিলিন্ডার থেকেও যে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, সে কথা আমরা প্রায় সবাই জানি। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটা জরুরি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে কোথাও ফাটা বা ছিদ্র আছে কি না বা গ্যাসের নব ঠিক মতো বন্ধ করা হয়েছে কি না ইত্যাদি। এবার জেনে নিন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ বা কোনও রকম দুর্ঘটনা এড়াতে কী কী করণীয়- ১. গ্যাস বন্ধ করে রান্নাঘর থেকে বেরনোর আগে অবশ্যই দেখে নিন গ্যাসের পাইপটি যেন কোনভাবেই গ্যাস ওভেনের গরম বার্নারের গায়ে লেগে না থাকে। ২. অনেকেই গ্যাস জ্বালানোর লাইটার বা দেশলাই ব্যবহারের পর সেটি সিলিন্ডারের উপরেই রেখে দেন। খেয়াল রাখবেন, সিলিন্ডার গরম হতে পারে এমন কোনও কাজ করবেন না। গ্যাস ওভেন, সিলিন্ডার বা গ্যাসের পাইপ কখনওই যেন খুব কাছাকাছি এসে না পড়ে! সব সময় এগুলোর মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। ৩. পাইপ পরিষ্কার রাখতে অনেকেই গ্যাসের পাইপের গায়ে কোনও কাপড় বা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়ে রাখেন। এমনটা কখনওই করবেন না। কারণ এ ক্ষেত্রে পাইপ থেকে গ্যাস লিক হলেও তা ধরা পড়বে না। ৪. একই পাইপ বছরের পর বছর ব্যবহার করবেন না। নিরাপত্তার খাতিরে প্রতি ২-৩ বছর পর পর গ্যাসের পাইপ বদলে ফেলুন। ৫. অনেকেই পাইপ পরিষ্কার করতে সাবান ব্যবহার করেন। এমনটা কখনওই করবেন না। কারণ এর ফলে মারাত্মক বিপদ ঘটে যেতে পারে। গ্যাসের পাইপ পরিষ্কার করার জন্য শুকনো কাপড় ব্যবহার করুন। পাইপটি খুব নোংরা হলে মোছার কাপড়টি হালকা করে জলে ভিজিয়ে নিন। সেই ভেজা কাপড় দিয়েই পরিষ্কার করুন গ্যাসের পাইপ। ৬. রান্নাঘর থেকে বেরনোর আগে সিলিন্ডারের মুখ সেফটি ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন। ৭. রান্নাঘরে ঢুকেই গ্যাসের গন্ধ পেলে তখনই বাইরে বেরিয়ে আসুন। ওই অবস্থায় কোনও সুইচ বোর্ড বা বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম চালু করবেন না। মনে রাখবেন, রান্নার গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারি। ফলে গ্যাস লিক করলেও তা মেঝের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করে। তাই প্রাথমিকভাবে কাপড়, তোয়ালে বা হাতপাখার সাহায্যে হাওয়া দিয়ে গ্যাস রান্নাঘরের বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝলে বা গ্যাসের গন্ধে সারা বাড়িময় ভরে যাচ্ছে বুঝলে দেরি না করে খবর দিন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার হেল্প লাইন নম্বরে। সূত্র: জি নিউজ একে//

মাল্টিটাস্কিং করলে যে ক্ষতি হয়

কোনও নির্দিষ্ট সময়ে মন দিয়ে একটা কাজ করা এখন প্রায় অলীক ব্যাপার৷ একটা শুরু করতে না করতে এসে যায় আর একটি, তার পর আর একটি, তার পর আবা...৷ মাল্টিটাস্কিং এখন সবার জীবনের অঙ্গ৷ সে ঘরে হোক, কি বাইরে৷ ঘরে-বাইরে হলে তো কথাই নেই, কীভাবে যে স্ট্রেস বাড়ে তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন৷ নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না৷ সময় থাকে না আরাম-বিরামেরও৷ কম বয়সে সে সব কোনও মতে সামলানো গেলেও বয়স বাড়লে কাজের মান খারাপ হওয়ার পাশাপাশি বিগড়াতে শুরু করে শরীর-মন৷ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ দিন ধরে মাল্টিটাস্কিং করে গেলে ব্রেনের কার্যকারিতা কমতে শুরু করে৷ কমে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা, আই কিউ৷ কেন এমন মোটামুটি একই দক্ষতা সম্পন্ন এক দল মাল্টিটাস্কার ঠাণ্ডা মাথায় একটা করে কাজ শেষ করেন- এমন এক দল মানুষকে নিয়ে স্টাডি করে গবেষকরা দেখলেন যে, যারা বহু দিন ধরে মাল্টিটাস্কিং করে চলেছেন, তাদের কিছু বুঝতে ও মনে রাখতে যত সময় লাগছে, অন্যদের তত লাগছে না৷ একসঙ্গে ২–৩টি কাজ করতে দিয়েও দেখা গেল সাধারণত যারা মাল্টিটাস্কিং করেন না, তারা অনেক দ্রুত ও অনেক ভালভাবে কাজগুলো করতে পারছেন৷ কারণ ব্রেনের ধর্ম হল, এক বারে একটা বিষয়ে ‘ফোকাস’ করা৷ দীর্ঘ দিন ধরে তাকে অবহেলা করে এক সঙ্গে একাধিক কাজ করে চললে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করা ও চিন্তাকে সাজানোর দক্ষতা কমে যায়৷ হাজারো তথ্যের ভিড় থেকে দরকারিগুলোকে ছেঁকে তুলে তাকে কাজে লাগানোর পদ্ধতি ধীর হয়৷ এক কাজ শেষ করে চটপট অন্য কাজে ঢুকে পড়তেও অসুবিধা হয় প্রায় সময়ই৷ বিপদ ঠেকাতে মাল্টিটাস্কিং পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না৷ কিন্তু তার দরুন যে যে বিপদ হয় তার প্রকোপ কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে৷ যেমন- * লো ক্যালোরির পুষ্টিকর খাবার খান৷ শরীর পুষ্টি পেলে পুষ্টি পাবে ব্রেনও৷ কাজের ধরন অনুযায়ী কী খাবেন, কতটা খাবেন, কী খাবেন না তা জেনে নিন ডায়াটিশিয়ানের কাছে৷ সাধারণত সেমি–তে উচ্চতা মেপে তা থেকে ১০০ বিয়োগ করলে পাওয়া যায় আদর্শ ওজন, অর্থাৎ ওজন যা হওয়া উচিত৷ তাকে ৩০০ দিয়ে গুণ করলে জানা যায় কত ক্যালোরি খাওয়া উচিত৷ এমন ব্যবস্থা করুন যাতে সেই ক্যালোরির সবটুকুই প্রায় পুষ্টিকর খাবার থেকে আসে৷ এর পাশাপাশি সারা দিনে আরও কয়েকটি বিশেষ খাবার খান৷ ব্রেনের ক্ষতির হার কমবে৷ যেমন– * ২–৩ কাপ দুধ-চিনি ছাড়া গ্রিন টি৷ * ২-৩ রকমের টাটকা ফল৷ একেক দিন একেক রকম৷ * দু’-চারটি করে অ্যালমন্ড, আখরোট, কিসমিস৷ * তৈলাক্ত মাছ, সপ্তাহে অন্তত দু’বার৷ * টাটকা শাকসবজি, বিন্স, স্যালাড৷ * এক-আধ গ্লাস রেড ওয়াইন, সপ্তাহে ৩–৪ বার৷ * এক টুকরো ডার্ক চকলেট৷ ৩৫–এর পর, বিশেষ করে মেয়েদের শরীরে কিছু ভিটামিন–মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা বাড়ে৷ খাবার খেয়ে তা পূরণ করা না গেলে চাপ পড়ে ব্রেনে৷ সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো সাপ্লিমেন্ট খেতে হতে পারে৷ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

শরীরে এসিড পড়লে কী করবেন?

এসিড লাগলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত কী করা উচিত, অনেকেই তা জানেন না। এসিড-ক্ষতে পানি লাগলে ক্ষতি হবে, এমন ভ্রান্ত ধারণাও আছে কোথাও কোথাও। অনেকে আবার পানি দিয়ে ক্ষতস্থান একটু ধুয়েই স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে লোশন এনে লাগান। কেউ কেউ তার উপরে চাদর জড়িয়ে দেন। এতে ফল হয় উল্টো। তাই এসিড হানার শিকার হলে বা অন্য কোনওভাবে গায়ে এসিড পড়লে কী করবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক। শরীরের যেখানে এসিড লাগবে, সেখানে অনবরত পানি দিয়ে যান। এসিড-আক্রান্তকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত ক্ষতস্থানে পানি ছাড়া যেন আর কিছুই দেওয়া না হয়। তাতে চিকিৎসকদের আক্রান্তকে চিকিৎসা করতে সুবিধা হবে। শুধু তা-ই নয়, এই পদ্ধতিতে ক্ষতও অনেকটা কমানো যায়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এসিডের ক্ষত নির্ভর করে এসিডটা কত জোরালো, তার উপরে। তবে শুরু থেকে পানি ঢেলে যেতে পারলে এসিড অনেকটাই ধুয়ে যায়। পানি ঢাললে এসিডের ক্ষত যে কমে, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তা জানিয়েছেন ভারতের এসিড-আক্রান্ত এক তরুণী। পূর্ব মেদিনীপুরের দাসপুরের বাসিন্দা ওই তরুণী ২০১৫ সালে এসিড-হানার শিকার হন। রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত অবস্থায় মুখ এবং শরীরে অন্যত্র এসিড পড়তেই জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বাড়ির পাশের পুকুরে ঝাঁপ মেরেছিল ওই তরুণী। অনেকক্ষণ পানিতে ডুবে থাকার পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। হাসপাতালের চিকিৎসক পরে ওই তরুণীকে জানিয়েছিলেন, পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ায় তার এসিড অনেকটাই ধুয়ে গিয়েছিল। তাতে পরবর্তী কালে তার চিকিৎসায় সুবিধা হয়। ওই তরুণী বলেন, ‘আমি জানতাম না যে, পানি ঢালতে হয়। আসলে যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে পুকুরে ঝাঁপ মেরেছিলাম। পরে হাসপাতালে জানতে পারি, কাজটা ভালই করেছিলাম।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

রান্না করতে গিয়ে ত্বক পুড়ে গেলে কী করবেন?

বাড়িতে মায়ের বা নিজের স্ত্রীর বা কারুর রান্না করতে গিয়ে যদি কোথাও পুড়ে যায়, তবে তাৎক্ষনিক আরামের জন্যে এবং চিকিৎসার জন্যে কি করবেন? হাতের কাছে থাকা জিনিস দিয়েই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। কারণ ঘরোয়া টোটকাই সব থেকে প্রথমে হাতের কাছে পাওয়া যায়। চিকিৎসকের মতে, প্রাথমিক সাবধানতায় যদি কিছু ভুল হয় তা পোড়া অংশকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন সে রকমই কিছু ঘরোয়া টোটকার সুলুক সন্ধান যা কাজে লাগতে পারে আপনারও। জায়গাটা প্রথমে ঠাণ্ডা করুন এবং পর্যবেক্ষণ করুন পোড়া অংশের পাশে বা উপরে কোনও জামাকাপড় থাকলে তা সাবধানতার সঙ্গে সরিয়ে ফেলুন। অহেতুক ঘষা যেন পোড়া অংশে না লাগে। এবার ঠাণ্ডা পানিতে ১৫-২০ মিনিট পর্যন্ত পোড়া জায়গায় লাগান বা অই পোড়া অংশ ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করা ভাল কিন্তু কোনভাবেই বরফ পোড়া জায়গায় লাগাবেন না। ঠাণ্ডা পানি লাগানোর ফলে আপনার পোড়া জায়গার ব্যথা কিছুটা হলেও কমবে। নতুন করে যেন আঘাত না লাগে আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় যাতে নোংরা না লাগে সে দিকে সতর্ক থাকুন। চেষ্টা করুন পোড়া জায়গা পরিস্কার করতে। ঢেকে রাখার জন্যে গজ কাপড়ের ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে অতিরিক্ত সাবধানতার জন্যে কোনও সুতির কাপড় ব্যান্ডেজের নিচে রাখতে পারেন। তুলা ব্যবহার না করাই ভাল কারন তুলার আঁশ ক্ষতস্থানে লেগে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। ঢেকে রাখার আর একটা কারণ হল ক্ষতস্থান উন্মুক্ত রাখলে সে ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ওষুধ হিসাবে কি কি ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী গাছের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। অল্প পরিমাণে এই গাছের জেল হাতে নিয়ে ক্ষতস্থানে লাগালে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায়। মধু আমাদের সবার বাড়িতেই কম বেশি থাকে। পোড়া জায়গার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যে এর থেকে ভাল ওষুধ হয় না বলে অনেকেই মনে করেন। মধু ক্ষতস্থানকে ইনফেকশনের হাত থেকেও বাঁচায়। আদার রসও পোড়া জায়গার আরাম পেতে অনেকটাই সাহায্য করে। অল্প ছেঁকা খেলে পুদিনা পাতার রস বা বাড়ির দাঁত মাজার পেস্ট অল্প লাগিয়ে দেখুন, আরাম পাবেন। তবে ভিনিগার কখনই ব্যবহার করবেন না। অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম বাড়িতে থাকলে ক্ষতস্থানে ব্যবহার করতে পারেন। ফোসকা পড়লে সাবধান পুড়ে গেলে ফোসকা পড়বে না এটা সাধারণত হয় না। কিন্তু একে সতর্ক হয়ে এর খেয়াল রাখা উচিত। অনেকেই মনে করেন ফোসকা ফাটিয়ে দিলে হয়তো ক্ষত তাড়াতাড়ি সারবে। কিন্তু বাস্তবে মোটেই তা হয় না। এতে আরও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন পোড়া জায়গা যত কম বা বেশিই হোক না কেন, প্রাথমিক সাবধানতা বা চিকিৎসার পরে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেটা ব্যান্ডেজ বাঁধাই হোক বা পরিস্কার করা, চেষ্টা করুন কাছাকাছি হসপিটাল বা ডাক্তারের কাছে যাওয়ার। কারণ প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাকি কি করা উচিত বা উচিত নয়, তা জানতে অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে যাওয়াই ভাল। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

কুকুর কামড়ালে করণীয় ৪

বিপদ কখনও বলে-কয়ে আসে না! যেমন, কুকুরে কামড়ানো। যারা কুকুর ভালবাসেন, তারাও কুকুর কামড়ানোর আতঙ্কে সতর্ক থাকেন। আবার এমন অনেকেই আছেন, যারা কুকুর কামড়ানোর ভয়েই প্রাণীটির থেকে শত হাত দূরে থাকেন। আসলে, কুকুরের কামড় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং মারাত্মক! তাছাড়া কুকুরের কামড় থেকে জলাতঙ্ক রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রেবিস নামের ভাইরাস থেকে এই জলাতঙ্ক রোগ হয়ে থাকে। জলাতঙ্ক একটি স্নায়ুর রোগ। রেবিস ভাইরাস কুকুরের লালা থেকে ক্ষতস্থানে লেগে সেখান থেকে শরীরে প্রবেশ করে। যদি সময় মতো চিকিত্সা করানো না যায়, তাহলে জলাতঙ্কের কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে! তবে কুকুর কামড়ানোর পর সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারলে জলাতঙ্ক বা তার কারণে মৃত্যুর আর তেমন কোনও ঝুঁকি থাকে না। আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক- ১) প্রথমেই ক্ষত স্থানটি চেপে ধরে কিছুক্ষণ রাখুন। এতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। ২) এর পর একটি পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে ক্ষত স্থানটি ভাল করে পরিষ্কার করুন। এ সময় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করতে পারেন। তবে ক্ষত স্থান পরিষ্কার করার সময় খুব বেশি ঘষাঘষি না করাই ভাল। ৩) ক্ষত স্থানটিতে অ্যান্টিবায়েটিক ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে তার পর একটি গজ দিয়ে ভাল করে বেঁধে ফেলুন। ক্ষত স্থান খোলা থাকলে জীবাণুর সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। ৪) প্রাথমিক চিকিৎসার পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রয়োজনে টিটেনাস ইনজেকশন দিতে হবে। কুকুর কামড়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ইনজেকশন দেওয়া উচিত। রাস্তার কুকুরের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পরবর্তী ওষুধ, ইনজেকশন বা প্রয়োজনীয় চিকিত্সা অবশ্যই করাতে হবে। সূত্র: জি নিউজ একে//

নাইট শিফটে নষ্ট হয় ডিএনএ’র গঠন: গবেষণা

এখন বেশির ভাগ অফিসেই ২৪ X ৭ ঘণ্টা কাজ চলে। সকাল থেকে বা বেলার দিক থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ তো স্বাভাবিক নিয়ম। তবে বর্তমানে ২৪ X ৭ ঘণ্টা কাজের চাপে মাসের পর মাস টানা রাত জেগে অফিসে কাজ করছেন বহু মানুষ। একটানা এইভাবে নাইট শিফটে কাজ করার চাপ নিতে পারেন না অনেকেই। বেশির ভাগ মানুষই অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর যারা এই নাইট শিফটের কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, বদলে যায় তাদের নাওয়া, খাওয়া, ঘুমের সময়। শুধু তাই নয়, বিগড়ে যেতে পারে আমাদের ডিএনএ-র গঠন, কমে যেতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও! সম্প্রতি ‘অ্যানাসথেসিয়া অ্যাকাডেমিক জার্নাল’ নামের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে একটানা এইভাবে নাইট শিফটে কাজ করার ফলে ডিএনএ-র গঠন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। নষ্ট হয়ে যেতে পারে ডি অক্সি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিডের গঠন। শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। কমে যায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। ফলে শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে নানা রোগ। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, একবার নষ্ট হয়ে যাওয়া ডিএনএ-র পুনর্গঠন সম্ভব নয়। তারা গবেষণা করে দেখেছেন, দিনের শিফটে যারা কাজ করেন তাদের তুলনায় যারা নাইট শিফটে কাজ করেন, তাদের ডিএনএ-র গঠন দ্রুত পরিবর্তিত হয়, নষ্ট হয়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মত, এর জন্য দায়ি অনিদ্রা বা অপর্যাপ্ত ঘুম। তাদের মতে, ঘন ঘন নাইট শিফটে কাজ শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর! তাই তাদের পরামর্শ, নাইট শিফটে কাজের বিষয়ে কিছুটা রাশ টানা উচিত বেসরকারি সংস্থাগুলোর। পরিবর্তন আনা উচিত নাইট শিফটে কাজের নিয়ম বা ধরনেও। সূত্র: জি নিউজ একে//

ফেসবুক আসক্তি আর মাদকাসক্তি একই ব্যাপার

ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করেন অনেকেই। এর ফলে অন্য কাজ করার সময় থাকে না বলে জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। যুক্তরাজ্যের হার্লি স্ট্রিট রিহ্যাব ক্লিনিকের একটি গবেষণায় বলা হয়, শিশুর হাতে স্মার্টফোন/ ট্যাব তুলে দেওয়া আর কোকেন বা মদের বোতল তুলে দেওয়া একই কথা। স্মার্টফোন আসক্তি মানুষের মস্তিষ্কের কর্মকাঠামোতে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্স বিভাগের পরিচালক ড. পিটার হোয়াইব্রোর মতে, স্মার্টফোন/ ট্যাব স্ক্রিন হলো ইলেক্ট্রনিক কোকেন। চীনা গবেষকরা একে বলছেন ডিজিটাল হেরোইন। আর পেন্টাগন ও ইউএস নেভির অ্যাডিকশন রিসার্চ বিভাগ ভিডিও গেম ও স্ক্রিন টেকনোলজিকে অভিহিত করেছে ডিজিটাল মাদক হিসেবে। অনলাইন গেমে আসক্ত ব্যক্তি বাস্তবতা ও কল্পনার মাঝে পার্থক্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। নটিংহ্যাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়। বলা হয়, ফেসবুক যে আসক্তি তা বোঝার জন্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আচরণের দিকে তাকানোই যথেষ্ট। জীবনের ব্যাপারে আগ্রহ না থাকা, জেদ, পলায়নী মনোবৃত্তি, মুড নির্ভরতা, গোপন প্রবণতা- ইত্যাদি যে সব বৈশিষ্ট্য একজন আসক্ত মানুষের থাকে, ফেসবুকের অতি ব্যবহারকারীদের মধ্যেও তা দেখা গেছে। এমনকি মাদকাসক্তির চিকিৎসা করানোর সময় রোগীদের মধ্যে যে সব উপসর্গ দেখা যায়, ফেসবুক বন্ধ করে দিলেও একই উপসর্গ দেখা গেছে। মাদক না পেলে একজন আসক্ত যেমন অস্থির হয়ে পড়ে, অশান্ত হয়ে ওঠে, ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারলেও তাদের মধ্যে এমনি অস্থিরতা, অশান্তি দেখা দেয়।

সোশাল মিডিয়া বাচ্চাদের ‘মানসিক সমস্যা তৈরি করছে’

শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কুফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু চিকিৎসক ও শিশুকল্যাণ বিশেষজ্ঞ। ব্রিটেনের একজন চিকিৎসক রঙ্গন চ্যাটার্জী বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানসিক সমস্যা এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের মধ্যে যে একটা সম্পর্ক আছে তার অনেক প্রমাণ তিনি পেয়েছেন। সম্প্রতি একদল মার্কিন শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের কাছে একটি চিঠি লেখেন। এতে তারা ‘মেসেঞ্জার কিডস’ নামে বাচ্চাদের মেসেজিং অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ১৩ বছরের কম বয়সীদের এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করাটা দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। তারা বলেন, তারা তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন যে সামাজিক মাধ্যমের কারণে কিশোরকিশোরীদের মানসিকতায় অস্বাভাবিক সব পরিবর্তন হচ্ছে, ১০ বছরের মেয়েও তার দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগছে। ২০১৭ সালে রয়াল সোসাইটি অব পাবলিক হেলথ একটি জরিপ চালায় ১১ থেকে ১৫ বছর বয়স্ক দেড় হাজার কিশোর-কিশোরীর ওপর। এতে দেখা যায় স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রাম তাদের মনে সবচেয়ে বেশি হীনম্মন্যতা এবং দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে। ১০ জনের মধ্যে ৭ জন বলেছে ইনস্টাগ্রামের কারণে তাদের নিজেদের দেহ নিয়ে মন খারাপ হয়েছে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সের তরুণতরুণীদের অর্ধেকই বলেছে ফেসবুকের কারণে তাদের মানসিক দুশ্চিন্তা ও অশান্তি বেড়ে গেছে। দু-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বলেছে, ফেসবুকের কারণে সাইবার বুলিয়িং বা অনলাইনে অপমান-হয়রানি করার প্রবণতা আরও গুরুতর আকার নিয়েছে। কানাডার এসোসিয়েশন অব মেন্টাল হেলথ দেখেছে যে, সাত থেকে ১২ তম গ্রেডের যে সব শিক্ষার্থী দিনে দু’ঘণ্টার বেশি সোশাল মিডিয়ায় কাটায়, তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, হতাশা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি! কানাডার কলেজিয়েট মেন্টাল হেলথ দেখেছে, কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি যে তিনটি সমস্যায় ভুগছে তা হলো উদ্বেগ, হতাশা আর উৎকণ্ঠা।

ভিডিও গেম আসক্তি মানসিক অসুখ

আধুনিক বিশ্বে উন্মাদনার অপর এক নাম ভিডিও গেমস। বহু বছর ধরে ভিডিও গেম হয়েছে আরও বেশি জনপ্রিয়, উপভোগ্য এবং চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু ভিডিও গেম বা কম্পিউটার গেমের নেশা যে একটি মানসিক রোগ- এটি এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারই স্বীকৃতি। তারা বলছে, এটা এমন এক ধরনের আচরণ যা জীবনের আর সব কিছুর আকর্ষণ থেকে একজনকে দূরে সরিয়ে দেয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব ডিজিজেস বা আইসিডি হলো এমন একটি গাইড যেখানে বিভিন্ন রোগের কোড, লক্ষণ এবং উপসর্গ সম্পর্কিত বিস্তারিত থাকে। চিকিৎসক এবং গবেষকরা এটির সঙ্গে মিলিয়ে রোগ নির্ণয়ের করার চেষ্টা করেন। গেমিং আসক্তিকে কখন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করা হবে, তার বিবরণ হিসেবে এ গাইডলাইনে বলা হয়েছে যে, ১২ মাস ধরে অস্বাভাবিক গেমিং আসক্তি বা আচরণ দেখা গেলে তা নির্ণয়ের পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে কারও ক্ষেত্রে যদি অস্বাভাবিক আচরণের মাত্রা অনেক বেশি হয়, তখন ১২ মাস নয়, তার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যে সব লক্ষণের কথা এতে উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে গেমিং নিয়ে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা (বিশেষ করে কত ঘন ঘন, কতটা তীব্র এবং কত দীর্ঘ সময় ধরে গেমিং করছে সে বিষয়ে), গেমিংকেই সবচেয়ে প্রাধান্য দেওয়া এবং নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও গেমিং অব্যাহত রাখা বা আরও বেশি গেমিং করা। অবশ্য এর আগেই পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে গেমিং আসক্তিকে প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশে তো ইতোমধ্যে এর চিকিৎসার জন্য প্রাইভেট এডিকশন ক্লিনিক পর্যন্ত রয়েছে! মার্কিন শিশু-কিশোরদের অটিজম, মনোযোগ হ্রাস, হতাশা ও তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে ভিডিও গেম আসক্তির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

সাবরিনা সুলতানার ক্যান্সার যুদ্ধের গল্প

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী প্রায় এক বছর আগে গলায় অসুবিধা বোধ করায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। প্রথমে তিনি একজন নামী চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তেমন একটা গুরুত্ব দেননি তার সমস্যাটি সমাধানে। চিকিৎসক বলেছিলেন, এটি আসলে কোন সমস্যাই নয়। এরই মধ্যে সময় কেটে গেল তিন মাস। অন্য আরেকটি শারীরিক সমস্যা নিয়ে তিনি যখন ভিন্ন এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তখন ওই চিকিৎসক তার ক্যান্সার হয়েছে বলে সন্দেহ করেন। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর এই চিকিৎসা হচ্ছে দেশের বাইরে। ক্যান্সার হলেই নিশ্চিত মৃত্যু এমন ধারণা এখনো অনেকের মাঝেই বদ্ধমূল। কিন্তু সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন, আশা করছেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কিছুদিনের মধ্যেই। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমন একটি পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, দেশটিতে চলতি বছর দেড় লাখের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। ক্যান্সার হওয়ার পর একজন আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তার পরিবারের উপর তা কতটা মানসিক চাপ তৈরি করে, সেটি হয়তো বলে বোঝানো খুব কঠিন। অনেকই হাল ছেড়ে দেন। আবার অনেকে লড়াই চালিয়ে যান - সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী সে রকমই একজন। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়ে প্রবল মনোবল নিয়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন এই শিক্ষক। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি বরং অন্যদেরকে সান্ত্বনা দিয়েছি। আমার মনোবলটা অটুট ছিল।’ সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘প্রথম বার্তাটি হচ্ছে, একেবারেই আতংকিত হওয়া যাবে না। আমরা প্রত্যেকে সবসময় নানা স্ট্রাগলের (সংগ্রাম) ভেতর দিয়ে যাই। সবকিছুর সাথে আমরা যেভাবে লড়াই করি, ক্যান্সারের সাথেও সেভাবে লড়াই করতে হবে।আমি বলবো যে দ্বিগুণ মনোবল নিয়ে লড়াই করতে হবে।’ চিকিৎসকরা বলছেন, সময় মতো ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করা গেলে নিরাময়ও সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যবস্থা যা আছে, তা একদিকে যেমন অপ্রতুল, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে অনেক ব্যয়বহুল। আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েও পড়ছেন। তবে কেবল ওষুধপত্র নয়, ক্যান্সার নিরাময়ে সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর মতো প্রবল ইচ্ছেশক্তি থাকাটাও দরকার বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। বাংলাদেশের একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ আহমেদ সাঈদ বলছেন, এক্ষেত্রে চিকিৎসা এবং ঔষধ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রোগীর মনোবল। ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে যারা বেঁচে আছেন, তাদের উদাহরণগুলো যদি অন্য ক্যান্সার রোগীদের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে তাঁরা অনুপ্রাণিত হবেন বলে মনে করেন চিকিৎসক আহমেদ সাঈদ। তিনি বলেন, ‘অনেক রোগী আছে যারা ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে ১৫-২০ বছর ভালো আছেন।’ চিকিৎসকরা বলছেন, সময় যেমন বদলেছে তেমনি ক্যান্সার চিকিৎসার নানা পদ্ধতিও আবিষ্কার হয়েছে। সুতরাং ক্যান্সার হলেই নিশ্চিত মৃত্যু - অনেক ক্ষেত্রেই এ ধারণা এখন আর আগের মতো নেই। তবে একই সাথে ক্যান্সার প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ জরুরী বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনাচরণে সচেতনতার মাধ্যমে বেশ কয়েক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

বাবা-মায়েদের মারাত্মক ৫টি ভুল

সন্তান বড় হয়ে কেমন মানুষ হবেন, তার একটা বড় দায় কিন্তু বর্তায় অভিভাবক এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর। সব অভিভাবকই চান যে তার সন্তান জীবনে সফল হোক বা তার জীবনে ভাল হোক, সেই মতোই সন্তানের বিষেয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তারা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই কিছু ভুল করে বসেন অভিভাবকেরা এবং তার ফলাফল খুব একটা ভাল হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক অভিভাবকদের এমন পাঁচটি ভুল- প্রথম ভুল বেশিরভাগ বাবা-মায়েদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হয় তারা সন্তানকে নিয়ে বড্ড বেশি ব্যতিব্যস্ত, নয়তো উদাসীন। এই দুটির কোনওটাই ভাল প্রভাব ফেলে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কড়া শাসন প্রয়োজন যেমন, আবার কখনও কখনও প্রশ্রয়ও দরকার। দ্বিতীয় ভুল সন্তানকে ভালভাবে না বোঝা। বেশিরভাগ অভিভাবক এই বিষয়টার উপর গুরুত্বই দেন না যে তার সন্তান একজন স্বতন্ত্র মানুষ। সে তার মতো হবে এবং হতে চাইবে। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, তার ভাললাগা এবং তার বুদ্ধিবৃত্তি কতটুকু সেটা বুঝতে হবে প্রথমে। এমনটা নয় যে কেউ বিদূষী বলে তার সন্তানকেও বিদ্বান হতেই হবে। তৃতীয় ভুল সন্তানের প্রতি উদ্বেগ তার সামনে প্রকাশ করলেই সন্তান সঠিক পথে চলবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং উদ্বেগটা মনের মধ্যে রেখে, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াটাই উচিত। বাবা-মার উদ্বেগ দেখে খুব হাতেগোনা সন্তান নিজে থেকে ঠিক পথে চলে। তাকে হাত ধরে ঠিক রাস্তায় নিয়ে আসতে হয়। চতুর্থ ভুল সন্তানের গায়ে কোনও লেবেল এঁটে দেওয়া হল সবচেয়ে খারাপ বিষয়। সে ‘স্মার্ট’ নাকি ‘ক্যাবলা’, ‘ভাল ছেলে’ না ‘বাজে মেয়ে’, কথায় কথায় এই বিচার করলে তার কুপ্রভাবই পড়ে সন্তানের উপর। এর সঙ্গেই চলে আসে তুলনামূলক আলোচনা। অমুকের চেয়ে ভাল বা তমুকের চেয়ে খারাপ। এই প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে অভিভাবকদের। পঞ্চম অভিভাবককে সব সময় ছেলেমেয়েদের ‘রোল মডেল’ হতে হয় না। যারা সেই চেষ্টা করেন, তারা সন্তানের চোখে তখন ছোট হয়ে যান যখন তাদের খামতিগুলো সন্তানের চোখের সামনে আসে। আর তখনই সন্তান তাদের অভিভাবকত্বকে অস্বীকার করতে শুরু করে দেয় মনে মনে। সূত্র: এবেলা একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি