ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৫০:০৮

বিয়ের সময় বর-কনেকে ৩টি কথা কখনোই বলবেন না

বিয়ের সময় বর-কনেকে ৩টি কথা কখনোই বলবেন না

নিজের বোনের বিয়ে হোক, পরিবারের কোনও আত্মীয়ের, নিজের ভাইয়ের বা আপনার কোনও বন্ধুর- বিয়ের এই দিনে এবং তার পরে কিছু কথা আছে যা কখনোই বর কনেকে বলার নয়। আপনি বিশ্বাস করতে পারেন যে ‘সততাই সেরা নীতি’। কিন্তু বিয়ের আগে বা বিয়ে চলাকালীন মনে যা আসছে সেটাই বলে দেওয়ার মধ্যে গর্ব করার কিছুই নেই। আপনার অতি সততা অন্যের উদ্বেগে কারণ হতে পারে। এই রকম অনুষ্ঠানে কোথায় কী বলা উচিৎ নয় তা নিয়ে সংযত থাকাই বাঞ্ছনীয়। তাই বিয়ের দিনে কনে বা বরকে নিম্নলিখিত কথাগুলো বলার থেকে বিরত থাকুন- তোমার পোশাকটা.....মানিয়েছে বিবাহিত দম্পতির সঙ্গে থেকে তাদের আনন্দ দেওয়াটা আপনার কাজ। তাদের পোশাক ‘ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ফিট করেছে’ বা ‘তোমার জন্য একদম পারফেক্ট’ এসব কিন্তু আসলে ভালো লাগানোর মতো কোনও তারিফ নয়। হতে পারে তাদের পোশাক আপনার পছন্দ হয়নি, বা আপনি নিজের জন্য ওই পোশাক কখনোই বাছবেন না। কিন্তু সামনে সেটিকে ভালো বলাটাই শোভনীয়। বিয়ের সময় বর হোক বা কনে, খুবই সংবেদনশীল হন। আপনি তাদের বিশেষ দিনে এমন কোনও কথা না বললেই ভালো। ইশশ..যদি এটা আমার বিয়ে হত ... হ্যাঁ, এটা আপনার বিয়ে নয়। আপনি অন্য মানুষের নিমন্ত্রণে তার বিবাহ অনুষ্ঠান উপস্থিত হয়েছেন। যদি আপনার বিয়ে হত তাহলে সেখানে কী কী করতেন সেই নিয়ে আলোচনা করার জায়গা এটা নয়। যদি তাদের বিয়ে নিয়ে কোনও কথা না বলার থাকে তো বলবেন না, সময়টাকে উপভোগ করুন। কত সামান্য বাজেটে সুন্দর বিয়ে... বলাবাহুল্য, বিয়ে মানেই গাদা টাকার খরচা। জীবন বিয়ের পর বন্ধ হয় না। মানুষের অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা তাকে ওই আয়ের মধ্যেই মেটাতে হয়। সুতরাং যারা অল্প খরচে এই বিশেষ দিনের পরিকল্পনা করেছেন হতে পারে তা আপনার প্রত্যাশা মতো হয়নি তা বলে এমন দিনে বাজেট নিয়ে মন্তব্য করবেন না। তারা কত খরচ করেছেন তা নিয়ে কথা না বলে ভালো রাখার চেষ্টা করুন দু’জনকে। আসুন, উৎসবে যোগ দিন, মজা করুন এবং নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান। সূত্র: এনডিটিভি একে//
‘পরিবেশ বিপর্যয় রোধের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি’

বিশিষ্ট পানি বিজ্ঞানী ড. আইনুন নিশাত বলেছেন, পরিবেশ বিপর্যয় রোধের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে দ্বীপগুলো মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। দেশের দক্ষিনাঞ্চলসহ বিস্তীর্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকা কসমোপলিটান রোটারি ক্লাবের অভিষেকে একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা গর্ভনর এএফএম আলমগীর, ডেপুটি গর্ভনর আবুল খায়ের চৌধুরী, রকিব সরদার, ক্লাব সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন পাটোয়ারি, সেক্রেটারি হোসনে আরা পলি, সাইফুর রহমান, মনিরুল আলম, মুসবাহ্ আলিম, সৈয়দ সাইফুল হক মিন্টু প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন- সাবেক গর্ভনর জালাল ইউ আহমেদ, সেলিম রেজা, শামসুল হুদা, ড. ইসতিয়াক জামান, এসএএম শওকত হোসেন, গর্ভনর নমিনি মো. রুবাইয়াত হোসেন, এম. এ আলী ভূইয়া প্রমুখ।উল্লেখ্য, কসমোপলিটান রোটারি আর্ত মানবতার সেবায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অনান্য খাতে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসএইচ/

ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার ৩ মারাত্মক ক্ষতি

গরমে ঘেমে গেলে ফ্রিজ খুলেই ঠাণ্ডা পানি বের করে ঢক ঢক করে খান? কিন্তু জানেন কি, এভাবে ঠাণ্ডা পানি খেলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে? আসুন এ বিষয়ে কিছু জরুরি তথ্য জেনে নেওয়া যাক- হজমের সমস্যা হতে পারে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খেলে তার প্রভাবে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, হজমের সময় যে সমস্ত পুষ্টিগুণ আমাদের দেহে মিশতে থাকে, তাও বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে হজমের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউটের পর ঠাণ্ডা পানি একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। কারণ ওয়ার্কআউটের পর দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময় ঠাণ্ডা পানি খেলে তা দেহের তাপমাত্রার সঙ্গে বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য রাখতে পারে না। ফলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ার্কআউটের পর যদি সামান্য উষ্ণ পানি খাওয়া যায়, তবে উপকার পেতে পারেন। সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে ঠাণ্ডা পানি খাওয়া একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এর ফলে শ্বাসনালীতে শ্লেষ্মার অতিরিক্ত আস্তরণ তৈরি হয় যা থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। হৃদগতি কমে যায় বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খেলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে দাঁতের ভেগাস নার্ভের উপর। এই ভেগাস স্নায়ু হল আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বেশি ঠাণ্ডা পানি খেলে ভেগাস স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। যার ফলে হৃদগতি অনেকটাই কমে যেতে পারে। সুতরাং, আজ থেকেই বদলে ফেলুন এভাবে ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার অভ্যাস। না হলে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা একে একে বাসা বাঁধতে পারে আপনার শরীরে। সূত্র: জিনিউজ একে//

পানি বিশুদ্ধ করার অভিনব পদ্ধতি

পানির অপর নাম শুধু জীবনই নয়, অনেক ক্ষেত্রে মরনও হয়। খাবার উপযুক্ত বিশুদ্ধ পানিকে জীবন বলা গেলেও ময়লা আবর্জনা আর জীবানুযুক্ত যুক্ত পানিকে জীবন না বলে মরনই বলতে হয়। আমাদের দেশের ন্যায় সারা বিশ্বেই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ একটি বড় সমস্যা। শিল্পোন্নত দেশ জার্মানিতেও পানিতে বিদ্যমান নানা ক্ষতিকর পদার্থ দূর করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। আর সেই ঝুঁকি এড়াতে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রক্রিয়ার খোঁজ করছেন। জার্মানির দক্ষিণেই ছোট্ট নদী বয়ে যাচ্ছে। শহরের পরিশোধন কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত পানি সেই নদীতে গিয়ে পড়ে। খালি চোখে দেখলে পানি পরিষ্কার মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে তা ঠিক নয়। পানিতে ওষুধের বর্জ্য পাওয়া গেছে। যেমন ব্যথার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন, রক্তচাপ কমানোর ওষুধ। রাজ্য পরিবেশ দপ্তরের পানি রসায়নবিদরা অবশ্য শুধু সে কারণেই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন না। পানি রসায়নবিদ ড. ভ্যার্নার রাইফেনহয়সার বলেন, গবেষণা অনুযায়ী সামান্য পরিমাণ ডাইক্লোফেনাকও পানির জীবজগতের ওপর প্রভাব ফেলে। যেমন, ট্রাউট মাছের ফুলকা ও কিডনিতে পরিবর্তন দেখা যায়। তাই এক পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় পরিবেশ বিজ্ঞানীদের একটি দল বাভেরিয়ার ভাইসেনবুর্গ শহরের পরিশোধনাগারে নর্দমার বর্জ্য পানি থেকে ওষুধের অবশিষ্ট অংশ ছেঁকে ফেলার চেষ্টা করছেন। পরিবেশ বিজ্ঞানী সাশা যোর্ডেল বলেন, মানুষ যে ওষুধ সেবন করে তা আমাদের শরীর সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করতে পারে না। মূত্রের মাধ্যমে তার একটি বড় অংশ বের হয়ে যায়। ডাইক্লোফেনাকের প্রায় ৭০ শতাংশই শরীর ত্যাগ করে। মলম ও জেল জাতীয় ওষুধের অবশিষ্ট অংশ স্নানের সময় শরীর থেকে বেরিয়ে বর্জ্য পানিতে মিশে যায়। ওষুধের অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করতে শোধনাগারে নিজস্ব এক চুল্লি তৈরি করা হয়েছে। তারপর বর্জ্য পানির ওপর ওজন গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। জীবাণু মেরে ফেলতে এই প্রক্রিয়া বেশ উপযুক্ত প্রমাণিত হয়েছে। ওষুধের অবশিষ্ট অংশ ভেঙে বিভক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ওজন নিক্ষেপের পর বর্জ্য পানীয়র নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল যাচাই করা হয়েছে। ওজন প্রক্রিয়ার অভাবে নমুনার রঙ লালচে কমলা হয়ে ওঠে। ওজন নিক্ষেপ করলে রঙয়ের কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে না।   ড. ভ্যার্নার রাইফেনহয়সার বলেন, হরমোন জতীয় ওষুধ বর্জ্য ওজন নিক্ষেপ করার পর পাওয়া যায়নি। কিন্তু ডাইক্লাফেনাকের ৯০ শতাংশ, কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ ধ্বংস হয়। অবশ্যই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। রক্তচাপ কমানোর ওষুধও এই প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি ধ্বংস হয় না। তা ছাড়া এর ফলে কিছু গোলমেলে পদার্থও সৃষ্টি হতে পারে। এর অর্থ, ওজোনেশন প্রক্রিয়া এই সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই বিশেষজ্ঞদের দল দুটি ফিল্টার প্রণালি পরীক্ষা করছেন। একটি প্রণালিতে বালু ও ব্যাকটেরিয়া দিয়ে পানি শোধন করা হয়। গবেষকরা তাই নতুন এক ধরনের গ্র্যানুলার অ্যাক্টিভেটেড কার্বন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রত্যাশা দেখাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে প্রকৃতিও সাহায্য করে। সাশা র্যোডেল বলেন, এই গ্র্যানুলার অ্যাক্টিভেটেড কার্বনের বিশেষত্ব হলো, বহু ব্যবহারের ফলে তার কার্যকারিতা শেষ হলে তার ওপর একটি জৈব স্তর সৃষ্টি হয়। তার মধ্যে অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোঅরগ্যানিজম অবশিষ্ট পদার্থ ভেঙে ফেলে। ফলে কার্বন নিজেই নিজেকে পরিশোধন করে। এর অর্থনৈতিক সুবিধা হলো, ফিল্টারের মধ্যেই অনেককাল ধরে কার্বন রেখে দেওয়া যায়। ফলে পরিশোধন প্রক্রিয়ার ব্যয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যায়। ২০১৭ সালে বিশ্বে প্রায় ৭৯ হাজার কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ কেনা হয়। যা এক দশক আগের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলার বেশি। পানি থেকে জীবাণু ও ওষুধের অবশিষ্ট পদার্থ দূর করার সুলভ প্রক্রিয়ার জন্য চাপ বাড়ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ, অ্যাক্টিভেটেড কার্বনের ওপর জৈব স্তর সৃষ্টি হতে প্রায় ১ বছর সময় লাগে। এই প্রক্রিয়া বড় আকারের প্ল্যান্টেও প্রয়োগ করা যায় কি না, তখনই সেটা বোঝা যাবে।

জেনে নিন মনের অসুখের দাওয়াইগুলো

দ্রুত বদলে যাচ্ছে আমাদের জীবনযাপন। কাজে-অকাজে নানা কারণে সবাই দৌড়াচ্ছি। আর এর ফলে বাড়ছে শরীর ও মনের চাপ। বিশেষ করে অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মানসিক ভারসাম্য নানাভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। কিন্তু জেনে রাখা ভালো, মনের অসুখ হলে লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসা করানো দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে বয়ঃসন্ধির কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মনের অসুখ বাড়ছে। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো ২০ শতাংশ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা যায়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ৫০ শতাংশের এবং ২৪ বছর বয়সে ৭৫ শতাংশের মনের অসুখ ধরা পড়ে। দেখা গেছে, সত্তর শতাংশ ক্ষেত্রে ছোটরা ১৮ বছরের মধ্যে কোনও না কোনও সময় মানসিক সমস্যার শিকার হয়। বড়রা তা বুঝতে না পেরে বকাবকি আর মারধর করলে সমস্যা বেড়ে গিয়ে আত্মহনন পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। বিভিন্ন মনের অসুখের মধ্যে আছে অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন, ইটিং ডিসর্ডার, পারসোনালিটি ডিসর্ডার, বাইপোলার ডিসর্ডার, স্ক্রিজোফেনিয়া ইত্যাদি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মনের অসুখের উপসর্গ হিসেবে চুপচাপ বসে থাকা, চিৎকার চেঁচামেচি, জিনিসপত্র ভাঙচুর, মারধর আত্মহত্যার কথা বলা ও চেষ্টা করা ইত্যাদি দেখা যায়। এ রকম হলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। মনের সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে ইন্টারনেট বাবা-মা দু‘জনেই ব্যস্ত, অন্যদিকে ছোট পরিবার বাড়িয়ে দিচ্ছে শিশুদের একাকিত্ব। তাই বাচ্চাদের সময় কাটে ইন্টারনেট দুনিয়ায়। বাচ্চা থেকে বড় সবার মনের অসুখের এটি এক অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে বাস্তবকে মেলাতে না পারায় সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এর থেকে বের করার দায়িত্ব অবশ্যই বাবা-মাসহ কাছের মানুষদের। একই সঙ্গে স্কুলেরও একটা দায়িত্ব আছে। তবে সবার আগে সচেতন হতে হবে বাড়ির মানুষদের। বাবা-মা নিজেরাই যদি ইন্টারনেটে আসক্ত হন, বাচ্চাকে সময় দেবেন কিভাবে! কাছের মানুষদের সঙ্গ না পেলে বাচ্চাদের সমস্যা হবেই। শিশু থেকে বয়স্ক সবারই মনের অসুখের পেছনে একাকীত্ব একটা বড় কারণ। আপনি আচরি ধর্ম ছোটদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ক্রমশ বাড়ছে। তাই প্রতি দিনই বাবা-মা-বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা, এমনকি সহপাঠীদের মেরে ফেলার মতো ঘটনাও ক্রমশ বাড়ছে। এর জন্য কিন্তু বড়দের ভুমিকা নেহাত কম নয়। বিশেষ করে ছোট থেকে বাবা-মাকে যেমন আচরণ করতে দেখে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের আচরণে তার ছাপ পড়ে। বেশির ভাগ মা তাদের বাচ্চাকে টিফিনের ভাগ দিতে বারণ করেন। অথচ বন্ধুদের সঙ্গে টিফিন ভাগ করে খাওয়ার মধ্যে অন্যের সঙ্গে মানিয়ে চলার সূত্রপাত। এমনকি, কোনও সহপাঠী যদি তার থেকে এক-দু‘নম্বর বেশি পায় তাই নিয়েও অনেক মা-বাবা তুলনা করে বাচ্চাটিকে হেয় করেন। এর থেকে বাচ্চাদের মনে হিংসার সৃষ্টি হয়। মনে রাখতে হবে ক্লাসে কিন্তু সবাই ফার্স্ট হয় না। আর পড়াশোনা নিয়ে অতিরিক্ত চাপ দিলে পড়ার প্রতি বাচ্চার অনীহা তৈরি হবে, এ কথাও বোঝা উচিত। বাচ্চাকে ভাল ব্যবহার শেখাতে হলে নিজেদেরও সবার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা দরকার। ছোটদের সামনে কখনও সহকর্মী বা বসের নিন্দা অথবা আত্মীয়দের নিন্দা ও সমালোচনা করবেন না। সব থেকে বড় কথা ছোটদের সব সময় একটা নিয়মের মধ্যে বড় করে তোলা উচিত। যা চাইবে তাই করতে দিলে মনের সমস্যা বাড়বে বই কমবে না। মানসিক সমস্যায় সহযোগিতা করুক কর্মপ্রতিষ্ঠানও মনের অসুখ নিয়ে আগের থেকে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। কিন্তু কাজের জায়গায় এই সাহায্য পাওয়া যায় না। আজকের যুগেও মানসিক সমস্যার কথা শুনলে চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়। বিশেষ করে করপোরেট সংস্থার অনেক কর্মীকে বলতে শুন, জ্বর হলে বা পা ভেঙে গেলে ছুটি নিতে পারি, কিন্তু কাউন্সেলিংয়ের জন্যে ছুটি পাওয়ার আবেদন বলাই যায় না। এই ধারণা বদলাতে না পারলে সমস্যা বাড়বে বই কমবে না। একই ভুমিকা নিতে হবে স্কুলগুলোকেও। বাচ্চাদের কোনও মনের সমস্যা হলে বকাবকি বা শাস্তি না দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। মন ভাল রাখার কিছু উপায় ১. মনের ভাব সব সময় প্রকাশ করা উচিত। কাছের মানুষদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিলে যেমন আনন্দ বহু গুণ বেড়ে যায়, তেমনই দুঃখ ভাগ করে নিলে দুঃখ অনেক কমে যায়। ২. কম ঘুম হলে মনের উপর চাপ বাড়ে, ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমনো উচিত। ৩. সঠিক ডায়েট মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। তাই সুষম খাবার খেতে হবে। ৪. মা, বাবা, ভাই, বোন আর ভাল বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে মন ভাল থাকবে। মোবাইলে চ্যাট না করে সামনাসামনি কথা বললে মনের অসুখ পালিয়ে যায়। ৫. সপ্তাহে এক দিন কিছুক্ষণ সময় ছুটি উপভোগ করা দরকার। ভাল লাগার জিনিস তা গান শোনাই হোক বা বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যাওয়া- যা ভাল লাগে তা-ই করতে হবে। ৬. নিয়মিত শরীরচর্চা করে ওজন ঠিক রাখা দরকার। ওজন বাড়লে ডিপ্রেশন বাড়ে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

পানি বিশুদ্ধ করার ৭ কার্যকরী উপায়

পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু সেটা যদি দুষিত হয় তবে পানিই হতে পারে নানা রোগের কারণ। ঢাকায় প্রতিদিন যে পরিমাণ পানির চাহিদা থাকে, তার প্রায় পুরোটাই সরবরাহ করে থাকে ওয়াসা। ভূগর্ভস্থ পানি বা নদী থেকে যে পানি আহরণ করা হয় সেটা দুই দফায় পরিশোধনের মাধ্যমে পুরোপুরি দুষণমুক্ত করা হয়। কিন্তু তারপরও ঢাকার বাড়িগুলোয় এই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা যায় না। তার কারণ যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে এই পানি মানুষের বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হয় সেখানে লিকেজ বা পুরানো পাইপের কারণে পানি দুষিত হয়ে পড়ে। এছাড়া বাড়ির ট্যাংকগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করাও পানি দুষিত হয়ে পড়ার আরেকটি কারণ। ঢাকাসহ সারাদেশের সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে সম্প্রতি এক জরিপ চালায় বিশ্বব্যাংক। তাদের প্রতিবেদন থেকে জানায় যায়, বাসাবাড়িতে যে পানি সরবরাহ হয় সেখানে এই ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ প্রায় ৮২ শতাংশ। তবে এই পানিকে চাইলে ৯টি উপায়ে শতভাগ বিশুদ্ধ করা সম্ভব। আসুন দেখে নেওয়া যাক পানি বিশুদ্ধ করার কার্যকরি ৭ উপায়- ১) ফুটিয়ে পানি বিশুদ্ধ করার সবচেয়ে পুরানো ও কার্যকর পদ্ধতির একটি হল সেটা ফুটিয়ে নেওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, পানি ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ৫ থেকে ২৫ মিনিট ধরে ফোটানো হলে এরমধ্যে থাকা জীবাণু, লার্ভাসহ সবই ধ্বংস হয়ে যায়। তারপর সেই পানি ঠাণ্ডা করে ছাকনি দিয়ে ছেকে পরিষ্কার পাত্রে ঢেকে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়াটার এইডের পলিসি ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ আল মুঈদ। পানি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পাত্রের পরিবর্তে কাচ অথবা স্টিলের পাত্র ব্যাবহার করার কথাও জানান তিনি। সেইসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন সেইসব পাত্র বা যে গ্লাসে পানি খাওয়া হচ্ছে সেটি যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে কিনা। মুইদ জানান সেদ্ধ করা পানি বেশিদিন রেখে দিলে তাতে আবারও জীবাণুর আক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এ কারণে তিনি ফোটানো পানি দুইদিনের বেশি না খাওয়ার পরামর্শ দেন। ২) ফিল্টার পানি ফোটানোর মাধ্যমেই ক্ষতিকর জীবাণু দূর করা সম্ভব হলেও পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত থাকতে ফিল্টারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করা যেতে পারে। তাছাড়া যাদের গ্যাসের সংকট রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ফিল্টারে পানি বিশুদ্ধ করাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। বাজারে বিভিন্ন ধরণের ফিল্টার পাওয়া যায়। যার মধ্যে অনেকগুলো জীবাণুর পাশাপাশি পানির দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর করতে সক্ষম। বাজারে মূলত দুই ধরণের ফিল্টার পাওয়া যায়। যার একটি সিরামিক ফিল্টার এবং দ্বিতীয়টি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত রিভার অসমোসিস ফিল্টার। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ সিরামিক ফিল্টার ব্যবহার করে থাকে। তবে আবদুল্লাহ আল মুঈদের মতে, এই ফিল্টার থেকে আপনি কতোটুকু বিশুদ্ধ পানি পাবেন সেটা নির্ভর করে ফিল্টারটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় কিনা, তার ওপরে। ৩) ক্লোরিন ট্যাবলেট বা ব্লিচিং পানির জীবাণু ধ্বংস করতে ক্লোরিন বহুল ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক। যদি পানি ফোটানো বা ফিল্টার করার ব্যবস্থা না থাকে তাহলে পানি বিশুদ্ধিকরণ ক্লোরিন ট্যাবলেট দিয়ে পানি পরিশোধন করা যেতে পারে। সাধারণত দুর্গম কোথাও ভ্রমণে গেলে অথবা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বা জরুরি কোন অবস্থায় ট্যাবলেটের মাধ্যমে পানি শোধন করা যেতে পারে। সাধারণত প্রতি তিন লিটার পানিতে একটি ট্যাবলেট বা ১০ লিটার পানিতে ব্লিচিং গুলিয়ে রেখে দিলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়। এভাবে পরিশোধিত পানিতে কিছুটা গন্ধ থাকলেও সেটা পরিষ্কার স্থানে খোলা রাখলে বা পরিচ্ছন্ন কোন কাঠি দিয়ে নাড়াচাড়া করলে গন্ধটি বাতাসে মিশে যায় বলে জানান আবদুল্লাহ আল মুঈদ। ৪) পটাশ বা ফিটকিরি এক কলসি পানিতে সামান্য পরিমাণ ফিটকিরি মিশিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা রেখে দিলে পানির ভেতরে থাকা ময়লাগুলো তলানিতে স্তর হয়ে জমে। এক্ষেত্রে পাত্রের উপর থেকে শোধিত পানি সংগ্রহ করে তলানির পানি ফেলে দিতে হবে। অথবা পানি ছেকে নিয়ে সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন মুঈদ। ৫) সৌর পদ্ধতি যেসব প্রত্যন্ত স্থানে পরিশোধিত পানির অন্য কোনও উপায় নেই সেখানে প্রাথমিক অবস্থায় সৌর পদ্ধতিতে পানি বিশুদ্ধ করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে দুষিত পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে কয়েকঘণ্টা তীব্র সূর্যের আলো ও তাপে রেখে দিতে হবে। এতে করে পানির সব ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। ৬) আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানি জীবাণু মুক্ত করার জন্য অতিবেগুনি বিকিরণ কার্যকরী একটা পদ্ধতি। এতে করে পানির সব ধরণের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়। বাজারের বেশ কয়েকটি আধুনিক ফিল্টারে এই আল্ট্রাভায়োলেট পিউরিফিকেশন প্রযুক্তি রয়েছে। তবে ঘোলা পানিতে বা রাসায়নিক-যুক্ত পানিতে এই পদ্ধতিটি খুব একটা কার্যকর নয়। তাছাড়া এই উপায়টি কিছুটা ব্যয়বহুলও। ৭) আয়োডিন এক লিটার পানিতে দুই শতাংশ আয়োডিনের দ্রবণ মিশিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখলেই পানি বিশুদ্ধ হয়ে যায়। তবে এই কাজটি শুধুমাত্র দক্ষ কারও মাধ্যমে করার পরামর্শ দিয়েছেন মুঈদ। কেননা পানি ও আয়োডিনের মাত্রা ঠিক না থাকলে সেই পানি শরীরের ক্ষতি করতে পারে। সূত্র: বিবিসি এমএইচ/

বিশ্বের উষ্ণতা কমানোর ৫ উপায়

বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘এখনই কিছু করুন নাহলে সংকটের ঝুঁকিতে থাকুন!’ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিবেদন অনুযায়ী তাপমাত্রায় বিপজ্জনক বৃদ্ধি এড়াতে বিশ্বকে ‘দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে’। জাতিসংঘের বৈশ্বিক উষ্ণতা বিষয়ক আন্ত: সরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের গ্রহটি ১২ বছরের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির চূড়ান্ত সীমা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। যেটা কি-না প্রাক-শিল্পযুগের মাত্রার থেকেও বেশি। এতে করে আবহাওয়া পরিস্থিতি অস্বাভাবিক রূপ নেবে বিশেষ করে চরম দুর্ভিক্ষ, দাবানল, বন্যা সেইসঙ্গে লাখ লাখ মানুষের খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। তাপমাত্রার এই সীমা অতিক্রম এড়াতে, বিশ্বের উচিত, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত, সুদূরপ্রসারী ও নজিরবিহীন পরিবর্তন আনা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আপনি কি ধরণের সাহায্য করতে পারেন? সত্যি অর্থে প্রত্যেকের একক প্রচেষ্টা বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বিষয়ক ওই প্রতিবেদনটির প্রধান সমন্বয়কারী লেখক অরোমার রেভির মতে, ‘সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানুষ অনেক কিছু করতে পারে’। ‘বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে বড় ধরণের পদক্ষেপ নিতে নাগরিক এবং ভোক্তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’ প্রতিদিনের জীবন থেকে এমন পাঁচটি ভূমিকার কথা তুলে ধরা হল, যেগুলো আপনি চাইলে আজ থেকেই পরিবর্তন করতে পারেন। ১. গণপরিবহন ব্যবহার করুন ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে হাঁটা, সাইক্লিং বা গণপরিবহনের ব্যবহার কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনার পাশাপাশি আপনাকে ফিট রাখতে সাহায্য করবে। আইপিসিসি এর উপ চেয়ারম্যান ড. ডেব্রা রবার্টস বলেছেন, ‘আমরা শহরে চলাচলের বিকল্প উপায় বেছে নিতে পারি। যদি গণপরিবহনে চলাচলের ক্ষেত্রে আমাদের প্রবেশাধিকার না থাকে। তবে নিশ্চিত করুন যে আপনি এমন রাজনীতিবিদদের নির্বাচন করছেন যারা গণপরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থাগুলো সরবরাহ করবে।’ এছাড়া দূরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বাহন ব্যবহার করুন বা ট্রেন যাত্রাকে বেছে নিন। এছাড়া ব্যবসায়ী সফর বাতিল করে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার করতে পারেন। ২. শক্তির অপচয় রোধ করুন ওয়াশিং মেশিনে যদি কাপড় ধুতেই হয় তাহলে সেটি শুকানোর কাজ মেশিনের টাম্বেল ড্রায়ারে না করে, বাইরের রোদে বা বাতাসের মধ্যে দড়িতে মেলে দিন। এতে কাপড় শুকানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এছাড়া বিদ্যুতের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানো এড়ানো যাবে। ঘরকে ঠাণ্ডা করতে এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার এর চাইতে বাড়িয়ে রাখুন। এবং ঘর গরম করতে হিটারের তাপমাত্রা কমিয়ে ব্যবহার করুন। পরের বার যখন আপনি কোনও বৈদ্যুতিক সামগ্রী কিনবেন, তখন এটি নেবেন যে যন্ত্রটি শক্তি সঞ্চয়ে দক্ষ কি-না। যন্ত্রের গায়ে শক্তি সঞ্চয়ের তারকা চিহ্নযুক্ত লেবেল, ইকো ফ্রেন্ডলি অর্থাৎ পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি অথবা ইনভার্টার যুক্ত আছে কি-না দেখে নিন। নিজের প্রয়োজনীয় কিছু কাজের জন্য আপনি পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করতে পারেন। যেমন: পানি গরম করতে সৌরশক্তিতে চালিতে সোলার ওয়াটার হিটার ব্যবহার করতে পারেন। শীতকালে বাড়ির স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ছাদে ঠাণ্ডা প্রতিরোধক স্তর স্থাপন করুন। গরমকালেও ছাদ ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা নিন। যেসব বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না সেগুলো আনপ্লাগ করে সুইচ বন্ধ করে রাখুন। এই বিষয়গুলোকে খুব ছোট পরিবর্তন মনে হলেও শক্তি সঞ্চয় করার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি অত্যন্ত কার্যকরী উপায়। ৩. মাংস খাওয়াকমিয়ে নিরামিষভোজী হয়ে যান মুরগির মাংস, ফল, শাকসবজি বা শস্যের উৎপাদনের চেয়ে লাল মাংসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন ঘটায়। প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে ১১৯টি দেশ কৃষিখাতে কার্বন নির্গমন কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল। তবে তারা কিভাবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে এ বিষয়ে কোনও নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। কিন্তু তারপরও আপনি চাইলে এই কার্বন নির্গমন কমাতে সাহায্য করতে পারেন। আর সেটা সম্ভব হবে যদি আপনি তিনটি বিষয় মেনে চলেন। # খাদ্যাভ্যাসে মাংসের পরিবর্তে সবজি এবং ফলের ওপর নির্ভরতা বাড়ান। যদি এটি খুব চ্যালেঞ্জিং মনে হয়, তাহলে সপ্তাহের অন্তত একদিন মাংস না খেয়ে কাটান। # দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া কমিয়েও আপনি পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন। কেননা এসব খাদ্যের উৎপাদন ও পরিবহণে প্রচুর পরিমাণে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন হয়। # আমদানি করা খাবারের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মৌসুমি খাদ্য বেছে নিন। এবং খাবারের অপচয় এড়িয়ে চলুন। ৪. প্রতিটি জিনিস পুনর্ব্যবহারের চেষ্টা করুন-এমনকি পানিও আমাদের বারবার পুনর্ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে বলা হয়। কিন্তু কোনও বস্তুকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করতে যে উপকরণ লাগে সেটার পরিবহন এবং প্রক্রিয়াকরণে প্রচুর পরিমাণে কার্বনের ব্যবহার হয়। তারপরও এটি নতুন পণ্য তৈরির চেয়ে কম শক্তি ব্যবহার করে। কিন্তু পণ্যগুলো পুনঃব্যবহারের ফলে আরও নানা ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেতে পারে। পানির ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। অরোমার রেভির মতে, ‘আমাদের পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের কাজে জড়িত থাকার চেষ্টা করতে হবে।’ ৫. অন্যদের এসব বিষয়ে জানান এবং শেখান জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সবদিকে ছড়িয়ে দিন এবং সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে শিক্ষিত করে তুলুন। একটি টেকসই কমিউনিটি জীবনযাত্রা প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করুন। একটি অংশীদার-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। যেন বিভিন্ন সম্পদ ভাগ করে ব্যবহার করা যায়। যেমন: ঘাস কাটার যন্ত্র বা বাগানের সরঞ্জামাদি। এতে একটি সবুজ জীবনযাত্রার মান অর্জন করা যাবে। অরোমার রেভি বলেছেন ‘এই সব পরিবর্তনগুলো যখন কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন অনুশীলন করবে, তখন তারা তাদের কল্যাণে প্রায় কোনও রকম প্রভাব ফেলা ছাড়াই টেকসই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।’ সূত্র: বিবিসি একে//

চোখে সাধারণ ৫ সমস্যা দেখলেই যান চিকিৎসকের কাছে

চোখ দিয়েই চারপাশের সৌন্দর্য পরখ করা যায়। এ চোখ নিয়ে কত রকমের বর্ণনা রয়েছে কবি-সাহিত্যিকদের লেখায়। বিভিন্ন শিল্পীর তুলিতে নানা রূপ পেয়েছে চোখ। আসলে চোখের গুরুত্ব মাপা কঠিন। আর সেই জন্যই চোখে সাধারণ পাঁচটি সমস্যা হলে আগেভাগেই সাবধান হোন। ১. চোখে ঝাপসা দেখা বা চোখের সামনে অন্ধকার দেখা ক্যানসার, টিউমার বা স্ট্রোকেরও ইঙ্গিত দেয়। ২. ‘ডাবল ভিশন’ বা দুটি করে সবকিছু দেখার সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মূলত চোখের ভিতরে পেশির সমস্যা হলে ‘ডাবল ভিশন’ হয়। এছাড়া স্নায়ু রোগেও এই সমস্যা দেখা যায়। এছাড়া স্ট্রোক বা ব্রেন টিউমার হলেও এই সমস্যা হয়। ৩. অনেক সময়ে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। চোখের সামনে আলো ফেললে কিছু দেখা যায় না, তেমন অনেকেরই সাধারণ আলোতেই হঠাৎ চোখ ধাঁধিয়ে যায়। ক্ষণিকের অস্বস্তি হলেও এই সমস্যাকে কেউ খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি এই সমস্যা দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিন। ৪. হঠাৎ হঠাৎ চোখ জ্বালা করা বা চোখ চুলকানোর সমস্যায় ভুগলেও এড়িয়ে যাবেন না। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে এই সমস্যা হয়ে থাকে। প্রায়ই এই সমস্যা হতে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান। ৫. হঠাৎ হঠাৎ চোখ যদি লাল হয়ে যায়, তা যথেষ্ট চিন্তার কারণ। কোনও ইনফেকশন হলেও চোখ লাল হয়ে যায়। এছাড়াও শরীরে অন্যান্য কয়েকটি রোগের উপসর্গ চোখ লাল হয়ে যাওয়া। সূত্র: এবেলা একে//

প্রসাধনী থেকে হতে পারে ক্যানসার!

প্রতিটি নারীই কম-বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করেন৷ তবে প্রসাধনীর কিছু রাসায়নিক উপাদান নারীর জন্য খুবই বিপজ্জনক হতে পারে৷ চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সব- নারীদের যৌন হরমোনকে প্রভাবিত করতে পারে বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ বা কেমিক্যালস এর প্রভাবে এমনটা হতে পারে৷ যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা এক সমীক্ষা থেকে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে৷ প্রস্রাবে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সি মোট ১৪৩ জন নারীর ৫০০ বারের প্রস্রাব নিয়ে করা হয় গবেষণাটি, যার মধ্যে ছিল আলট্রা ভয়োলেট ফিল্টার, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল প্রিজারভেটিভস, বিসফেনল এ, এবং ক্লোলোফেনলস৷ ইস্ট্রজেন হরমোন আলট্রা ভায়োলেট ফিল্টার এবং ফেনোলস, ফোলিক স্ট্রিমুলেশন হরমোন এবং লুইটিনিজিং হরমোনের মাত্রা কমায় ঠিকই, তবে প্যারাবেস হরমোন এবং ডিম্বাশয়ের উত্পাদিত প্রধান হরমোন ইস্ট্রজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়৷ স্তন ক্যানসার প্রসাধনীর কিছু কেমিক্যালস স্তন ক্যানসারের মতো এস্ট্রোজেন-নির্ভর রোগগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে বলে জানান গবেষকরা৷ সতর্কতা এমন পরিস্থিতিতে প্রসাধন সামগ্রীগুলোতে কী কী রাসায়নিক দ্রব্য বা উপাদান থাকে তা প্রসাধনী কেনা এবং ব্যবহারের আগে দেখে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন গবেষকরা ৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

খাঁটি পান্না চেনার সহজ উপায়

পান্না এমন একটি রত্ন, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে ধারণ করতে পারলে জাতক-জাতিকার ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আবার অলঙ্কার হিসেবেও যুগ যুগ ধরে এই রত্নের ব্যবহার হয়ে আসছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, যে সব জাতক-জাতিকার রাশিচক্রে বুধ খারাপ তাদের পান্না ধারণ করা উচিত। অবশ্যই বুধবার এই রত্ন শোধন করে ধারণ করতে হবে। তবে মাথায় রাখতে হবে, যে কোনও রত্নই তিন মাস পর থেকে ফল দেয়। উপরত্ন ফল দেয় ছয় মাস পরে। এবার জেনে নেওয়া যাক খাঁটি মুক্তো চেনার উপায়। পান্না চেনার সহজ উপায় পান্নাকে পানিতে ফেলে রাখলে সবুজ বর্ণের আলোর ছটা দেখতে পাওয়া যায়। সাদা কাপড়ের ওপর পান্না রেখে একটু উঁচুতে তুলে ধরলে সাদা কাপড় সবুজ আভা দেখা যায়। এই দুটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে পান্না খাঁটি কি-না তা সহজে বোঝা যায়। এছাড়াও আসল পান্না চেনার উপায় হল, যে সব পান্নার বর্ণ নিমপাতার মতো হয় ও তাতে হলুদ ঝলক দেখা যায়, সেই সব পান্না উত্কৃষ্ট। সব থেকে ভাল পান্না সবুজ বর্ণ, উজ্জ্বলতা পূর্ণ এবং হালকা আভা দেখা যায়। পান্নার আয়ুবের্দিক শোধনের পদ্ধতি রত্ন ধারণ করার আগে তা শোধন করে নেওয়া উচিত। শোধন করে না পড়লে তার কোনও কার্যকারিতা থাকে না। পান্না শোধন করা কোনও কঠিন কাজ নয়। কাঁচা দুধে চব্বিশ ঘণ্টা পান্নাকে ডুবিয়ে রাখতে হবে। এর পর বুধবার দিন সেই পাথর ধারণ করলেই ফল মিলবে। পান্নার প্রাপ্তিস্থান পান্না সাধারণত কলম্বিয়া আর ব্রাজিলে পাওয়া যায়। কলম্বিয়ার পান্না সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই এর দামও বেশি। এটি দেখতে হয় স্বচ্ছ সবুজ। তারপরে আসে ব্রাজিলীয় পান্না। এটি দেখতে কালচে বা ঘোলাটে সবুজ। সূত্র: জিনিউজ একে//

হ্যান্ড ওয়াশ বিপজ্জনক!

ইদানীং হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু হ্যান্ড ওয়াশ যদি সঠিক মানের না হয় তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হতে পারে। অনেকেই বাড়িতে বেসিনের পাশে রাখা লিকুইড হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহার করে নিশ্চিন্তে খাবারে হাত দেন। কিন্তু সঠিক মানের হ্যান্ড ওয়াশ কি-না সেটা আদৌ যাচাই করেন না। আর তাতেই হতে পারে বিপদ। এমন বিপদের সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ যে সব হ্যান্ড ওয়াশ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বলে বিক্রি করা হয় তাতে কী কী উপাদান রয়েছে তা দেখে তবেই ব্যবহার করা উচিত। এর মধ্যে দুটি উপাদন প্রায়ই ব্যবহার করা হয় যা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। ট্রাইক্লোসান ও ট্রাইক্লোকার্বন নামের দুই উপাদান থাকলে হাত ধুয়ে খেলেও হ্যান্ড ওয়াশের কারণে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এই দু’টি উপাদান ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারলেও শরীরের পক্ষে ভাল নয়। বিভিন্ন গবেষণা বলেছে এই রাসায়নিক শরীরে গেলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক আচরণ ও প্রজনন ক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ধরনের হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহারে ক্ষতির আরও ভয় রয়েছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক মেশানো হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহারের ফলে এমন জীবানু জন্ম নিতে পারে যারা কোনও ওষুধেই মরে না। ‘ড্রাগ রেজিসটেন্ট জার্ম’ স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত খারাপ। শুধু হ্যান্ড ওয়াশ নয় এই ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নাশক উপাদান সাবান, টুথপেস্ট, মাউথ ওয়াশ, ডিটারজেন্টেও থাকে। তবে কোনও ক্ষেত্রেই সাধারণভাবে জীবানুনাশকের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৩ শতাশের বেশি হলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনও (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন সময়ে এর অপকারিতা নিয়ে সতর্ক করেছে। আপনি যদি ডব্লিউএইচও-এর পরামর্শ মানেন তবে হাত যদি সত্যিই খুব ময়লা থাকে তবে খাবার খাওয়ার আগে সাবানে হাত ধোয়া উচিত। আর তার পরে জীবাণু মুক্ত হতে হলে অ্যালকোহল দিয়ে তৈরি প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। এগুলো জীবাণু মারে কিন্তু অন্য কোনও ক্ষতি করে না। সূত্র: এবেলা একে//

হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে করণীয়

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও অত্যন্ত জরুরি। একজন সুস্থ স্বাভাবিক পূর্ণ বয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক চাপের পরিমাপ হচ্ছে ১২০/৮০। এই পরিমাপটি বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়। রক্তচাপের পরিমাপ যদি ১২০/৮০ থেকে উপরে থাকে, তাহলে উচ্চ রক্তচাপ, আর যদি নিচে থাকে তাহলে নিম্ন রক্তচাপের সমস্যাকে নির্দেশ করে। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের মতো নিম্ন রক্তচাপও হৃদযন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে। রক্তচাপ কমে গেলে মস্তিষ্ক, কিডনি, হৃৎপিণ্ডে ঠিকভাবে রক্ত চলাচল করতে পারে না। ফলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, চোখে অন্ধকার দেখা, বমি বমি ভাব, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় চিকিৎসকের পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত সামাল দেওয়ার জন্য ঘরোয়া কী কী উপায় অবলম্ব করা উচিত, তা জেনে রাখা ভাল। আসুন জেনে নেওয়া যাক, হঠাৎ প্রেশার কমে গেলে কী করা উচিত- ১) প্রথমেই রোগীকে লবণ-চিনির পানি দিন। এক গ্লাস পানিতে ২-৩ চা চামচ চিনি ও এক চা চামচ লবণ মেশান। লবণের সোডিয়াম ও চিনির শর্করা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ডায়াবিটিসের রোগী হলে শুধু লবণ-পানি খান। ২) নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় রোগীর ঘাড়ে, কানের লতির দু’পাশে ও চোখে-মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিলে দ্রুত অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠবেন। ৩) ক্যাফিন আছে এমন পানীয় তাড়াতাড়ি রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। কফি প্রেশার বাড়াতে খুব কার্যকর। তাই নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় কড়া করে খফি খেতে পারলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। ৪) নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় যষ্টিমধু খুবই কার্যকর। যষ্টিমধু রক্তচাপের ভারসাম্যও বজায় রাখে। বাড়িতে যষ্টিমধু থাকলে এক কাপ জলে ১০০ গ্রামের মতো যষ্টিমধু মিশিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পানিটি খেতে দিন রোগীকে। উপকার পাবেন। ৫) শরীরে প্রোটিন কমলেও রক্তচাপের উপর তার প্রভাব পড়ে। দুধ ও ডিমে হাই প্রোটিন। তাই এমন হলে রোগীকে পথ্য হিসেবে দিন ডিমের কুসুম ও দুধ। সূত্র: জিনিউজ একে//

সিজার পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের আগে ও পরে করণীয়

প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিবর্তে বর্তমানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সিজারের সাহায্য নিতে দেখা যায়। কিন্তু সিজারের পর কী হয়, তার ব্যাপারে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। পাঠকদের জন্য সিজার পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের আগে ও পরে জরুরি কয়েকটি সতর্কতা সম্পর্কে সবিস্তারে জানাচ্ছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, গাইনোকলজিস্ট ড. সুতপা সেন। সিজার পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিলে চার দিনের মতো হাসপাতালে থাকতে হতে পারে (যদি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুস্থ-স্বাভাবিক থাকে)। অনেক মা-ই জানেন না যে সিজার করানোর পরেও যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত হয়। তবে এই রক্তপাতের পরিমাণ হবে সীমিত। খুব বেশি রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্গন্ধ এবং গাড় রঙের রক্ত নির্গত হচ্ছে কি-না, এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ এগুলো সংক্রমণের লক্ষণ। সিজার করানোর পরে আরেকটি সমস্যায় মেয়েদের ভুগতে দেখা যায় তা হল, পা ফুলে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে ঘুমানোর সময়ে বা শুয়ে থাকার সময়ে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা একটু উঁচু করে রাখতে হবে। তাহলে পা ফোলা কমে যাবে। সিজার করানোর পর অনেক মা-ই সন্তানকে স্তন্যপান করান না। সিজার করানোর পর তিন দিনের মধ্যে স্তন্যপান না করালেও এ সময়ে স্তনে ব্যাথা হতে পারে। সমস্যার সমাধানে তোয়ালে গরম করে সেঁক দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও শিশুকে স্তন্যপান না করালেও তা বের করে ফেলে দিতে হবে বা রেখে দিতে হবে। আরেকটি ব্যাপার যা অনেক মা-ই জানেন না, তা হল বুকের দুধ ফিডারে রেখে খাওয়ানো। মায়ের দুধ ফিডারে করে ফ্রিজে রেখে দিলে তা বাচ্চাকে দেওয়া যাবে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ঠাণ্ডা দুধ তো অবশ্যই বাচ্চাকে দেওয়া যাবে না। কিন্তু দুধের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তা শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। এ ছাড়াও সিজার করার পর আরও বেশ কিছু ব্যাপারে জেনে রাখা ভাল- ক্যাথেটার সিজার করানোর পর একটি ক্যাথেটার ব্যবহার করা হতে পারে তার শরীরে। এটা শুধু প্রথম দিনেই রাখা হয়। পরের দিন খুলে ফেলা হয়। সেলাইয়ের দাগ সেলাইয়ের দাগটা থেকে যায় অনেক বছর পর্যন্ত। তবে তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটাই হালকা হয়ে যায়, আগের মতো ফুলেও থাকে না। অস্ত্রোপচারের পর এই কাটা দাগ শুকোতে দিতে হবে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ। পুরো শুকিয়ে গেলে তার পরেই কেবল দাগ দূর করার জন্য তেল মালিশ বা দাগ দূর করার ক্রিম লাগানো যেতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর প্রস্রাবের সমস্যা অনেকেই সিজার করার পর প্রস্রাবের সময় ভয় পান। মনে রাখবেন, এ সময় প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিত্সকের পরামর্শ মতো, কিছু ওষুধ দেবেন যা সহজে প্রস্রাবে সাহায্য করবে। শরীরে কাঁপুনি অ্যানাসথেসিয়ার প্রভাব কেটে যাওয়ার সময়ে অনেকের শরীরে কাঁপুনি দেখা যায়। শরীরের নিম্নভাগে, বিশেষ করে পায়ে অসাড়তা অনুভব হতে পারে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই অনুভুতি কেটে যাওয়াটাই কথা। রক্তপাত প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম না দিলেও রক্তপাত হবেই। একে বলা হয় পোস্টপারটাম ব্লিডিং। এটা খুব বেশি হলে ছয় সপ্তাহের মতো স্থায়ী হতে পারে। ভারী কাজ নিষেধ সিজার করার পর প্রথম ২-৩ সপ্তাহ শিশুর চেয়ে ভারী কিছু। সিজারের পর অন্তত ৪-৬ সপ্তাহ ক্লান্তিকর সব রকম শরীরচর্চা বন্ধ রাখতে হবে। এই সময় বন্ধ রাখতে হবে শারীরিক (যৌন) সম্পর্কও। হাঁটাচলা সিজারের পর রক্ত জমাট বাঁধার ভয় থাকে। তাই সাবধানে হালকা হাঁটাচলার অভ্যাস করাটা ভাল। হাঁচি-কাশিতে ব্যাথা হতে পারে সিজারের পর হাঁচি-কাশি দিতে গেলে পেটে ব্যাথা লাগতে পারে। এ সময়ে পেটের ওপর বালিশ চেপে ধরে রাখলে ব্যাথা কম হবে। অনেকেই এ সময়ে বেল্ট পরে থাকেন। এই বেল্টও ব্যাথা কমাতে সহায়ক। প্রথম সপ্তাহে এই সমস্যা বেশি হবে। পরে কমে যাবে। সূত্র: জিনিউজ একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি