ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:২৫:০৯

খাঁটি মুক্তা চেনার সহজ উপায়

খাঁটি মুক্তা চেনার সহজ উপায়

মুক্তা এমন একটি রত্ন, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে ধারণ করতে পারলে যা জাতক-জাতিকার ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আবার অলঙ্কার হিসেবেও যুগ যুগ ধরে মুক্তার ব্যবহার হয়ে আসছে। ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলে মুক্তা পরলে বিশেষ উপকার মেলে। অশুভ চন্দ্রকে বশে এনে শুভর প্রভাব জোরদারে এটি বিশেষ কার্যকরী। দাম্পত্য অস্থিরতা, মানসিক অশান্তি, ক্ষয় রোগের উপশম, আর্থিক অসচ্ছলতা-ইত্যাদির জন্য মুক্তা পরলে উপকার পাওয়া যায়। সাধারণত কর্কট রাশির জাতক-জাতিকার জন্য এ পাথর বিশেষভাবে কার্যকর। তবে মাথায় রাখতে হবে, যে কোনও রত্নই তিন মাস পর থেকে ফল দেয়। উপরত্ন ফল দেয় ছয় মাস পরে। এবার জেনে নেওয়া যাক খাঁটি মুক্তা চেনার উপায়- খাঁটি মুক্তাকে কাঠের ওপর ফেললে ধাতব শব্দ হয়। আয়ুবের্দিক শোধনের জন্য মুক্তাকে জয়ন্তী পাতার রস মিশ্রিত পানিতে চব্বিশ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে। ঝিনুকের পেটে মুক্তা জন্মায়। তবে সব ঝিনুকে মুক্তা থাকে না। প্রাণীবিজ্ঞানীদের মতে, মাসেল্ শ্রেণির ঝিনুকের পেটে মুক্তা হয়। এর রাসায়নিক উপাদান হল কনকায়োলিন ক্যালসাইট এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট। খাওয়ার সময় ঝিনুক যখন খোলা ফাঁক করে, তখন যদি বালির কণা বা অন্য কোনও কঠিন পদার্থের চূর্ণ তার দেহের মধ্যে খোলার ফাঁক দিয়ে ঢুকে যায় এবং চেষ্টা সত্ত্বেও সেটি বেরিয়ে না যায়, তখন এই কণাটির জন্য ঝিনুকের দেহে প্রদাহ বা জ্বলনের সৃষ্টি হয়। তখন ঝিনুকের অঙ্গ থেকে সাদা ঘন আঠালো রস ক্ষরিত হয়ে বহিরাগত কণাটিকে বেষ্টন করে স্তরে স্তরে জমাট বাঁধতে থাকে। এই জমাটি বস্তুকেই মুক্তা বলে। পারস্য উপসাগরে ঝিনুক থেকে যে মুক্তা জন্মায় তাকে বসরাই মুক্তা বলে। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তা। এর দামও অনেক বেশি। মায়ানমারে ইরাবতী নদীতে ঝিনুক থেকে যে মুক্তা পাওয়া যায় তাকে বার্মিজ মুক্তা বলে। এটিরও বেশ দাম। তবে তা বসরাই মুক্তার চেয়ে সস্তা। এ ছাড়া চিন সাগর ও জাপানে মুক্তার চাষ হয়। এই চীনা ও জাপানি মুক্তার গুণ সামান্য। ফলে দামও অনেকটাই কম। চন্দ্রের প্রতিকারে শ্বেত মুক্তা খুবই কার্যকরী। সূত্র: জিনিউজ একে//
দাঁত ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম

দাঁতের যত্ন নেওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। কিন্তু অত্যন্ত বেশি যত্ন কোথাও দাঁতেরই ক্ষতি করছে না তো? কিংবা এমনও হতে পারে, যে উপায়ে যত্ন নিচ্ছেন, তার পদ্ধতি ঠিক হচ্ছে না। এমন হলে কিন্তু দাঁতের ক্ষতি অবধারিত। ছোটদেরও আমরা দাঁত মাজার কথা বলি, নানা রকম যত্নের উপায় শেখাই। কিন্তু ঠিক কী উপায়ে সেই যত্ন নেওয়া সম্ভব তা কি জানেন? দেখুন তো, পদ্ধতিগত এমন কোনও ভুল রোজ আপনারও হচ্ছে না তো? সময় বেশিক্ষণ ব্রাশ করলে ভালভাবে দাঁত পরিষ্কার হয়, এমনটাই ভাবেন কি? তা হলে সে ভাবনা ভুল। চিকিৎসকদের মতে, মিনিট দুয়েকের বেশি সময় ধরে এক টানা ব্রাশ করে যাওয়া দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। খেয়ে উঠেই ব্রাশ যাই খান, তা খাওয়ার পরেই যদি ব্রাশ করে থাকেন, তাহলে সে অভ্যাস আজই বদলান। দাঁতের সুরক্ষার কথা ভেবে খাওয়ার পরই দাঁত মাজলে তা অনেক সময় ক্ষতি করে। কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন সেটা আগে ভাবুন। ফল বা অম্লজাতীয় খাবার খাওয়ার পর দাঁত মাজলে দাঁতের ক্ষয় হয় দ্রুত। তাই এ সব খেয়ে খানিক অপেক্ষা করুন। বরং ভাল করে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট। ব্রাশ কোন ব্রাশ ব্যবহার করছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্ত ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করা দাঁতের জন্য খারাপ। ব্রাশ কেনার সময় নজর রাখুন ব্রাশের ধরন কেমন, খুব শক্ত বা খুব নরম কোনও ব্রাশই দাঁতের উপযোগী নয়। বরং দাঁতের এনামেলের জন্য উপকারী এমন ব্রাশ কিনুন। ব্র্যান্ডে না ভুলে কেনার আগে পরামর্শ নিন চিকিৎসকের। টুথপেস্ট এক একজনের দাঁত এক এক রকমের হয়। প্রত্যেকেরই দাঁতের ধরন আলাদা। দাঁতের রকমফের বুঝে টুথপেস্ট বাছুন। এ ক্ষেত্রেও বিজ্ঞাপনী চমক বা ব্র্যান্ডে না ভুলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্রাশের পদ্ধতি কতটা শক্তি ক্ষয় করে ব্রাশ করেন তার উপরও নির্ভর করে দাঁতের যত্ন। অনেকেরই ধারণা খুব জোরে ব্রাশ করলেই বোধ হয় দাঁত ভাল করে পরিষ্কার হয়। কিন্তু আদতে এর উল্টোটা ঘটে। দাঁতের এনামেলের খুব ক্ষতি হয় অত্যধিক চাপে। মাঝারি চাপে ব্রাশ করার অভ্যাস করলে দেখবেন, দাঁত ঝকঝকেও হবে সঙ্গে এনামেলেরও আর ক্ষতি হবে না। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

সন্তানের সঙ্গে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়ে করণীয় ৭

টাকা-পয়সার মতো বিষয় নিয়ে অনেক চলতি ধারণাই আমাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে, যা এই পরিবর্তিত জীবনযাত্রায় আর প্রাসঙ্গিক নয়। যেমন, অনেক অভিভাবকই ভাবেন, আর্থিক বিষয় থেকে সন্তানকে দূরে রাখা উচিত। কিন্তু আপনার এ অভ্যাস সন্তানের মধ্যে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনও ধারণাই তৈরি হতে দেয় না। এর সমাধান জানেন? ১. দৈনিক আয়-ব্যয়ের হিসাব তার কাছে মেলে ধরতে হবে এমনটা নয়। সে সব থেকে বরং দূরেই রাখুন তাকে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে টাকা-পয়সা সম্পর্কে একটা ধারণা দিন। দরকারে দোকান-বাজার করার সময় সঙ্গে রাখুন। কোথায় কেমন করে খরচ করতে হয় সে টুকু শিখুক ছোট থেকেই। ২. পিগি ব্যাঙ্ক আছে বাড়িতে? তাহলে তা সামলাতে দিন সন্তানকেই। ছোটবেলা থেকে ওর এই অভ্যাস সঞ্চয়মুখী করবে। টাকা-পয়সার গুরুত্বও বুঝবে। নিজের উপহার পাওয়া টাকা-পয়সা থেকেও জমাতে আগ্রহী হবে। ৩. সন্তানকে শুধু সঞ্চয়ই শেখাবেন? তা একদমই নয়। পারিবারিক কোনও আনন্দ-অনুষ্ঠান বা টুকটাক বিলাসিতার সময়ও সন্তানকে কাছ থেকে উপলব্ধি করতে দিন খরটচুকুও। দরকারে তার হাতে অল্পস্বল্প টাকা পয়সা দিন, তবে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রেখে। তাতে আয়ের সঙ্গে ব্যয় ও সঞ্চয় নিয়ে তার ধারণা আরও স্পষ্ট হবে। ৪. সন্তান একটু বড় হলে এটিএম কার্ড ব্যবহারের প্রাথমিক জ্ঞানটুকু দিয়ে রাখুন তাকে। যে কোনও পরিস্থিতিতে তাকেও কখনও সেই কার্ড ব্যবহার করতে হতে পারে। তাই পিন নম্বর তার গোপনীয়তা বজায় রাখার কারণ এ সব জানান তাকে। ৫. টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনও রকম অসৎ উপায় অবলম্বন যেমন নিজেও করবেন না, তেমন সন্তানের উপরও খেয়াল রাখুন, সেও যেন তা না করে। করলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। কথা বলুন। দরকারে মনোবিদের কাছে যান। কিন্তু তার আগে সততার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুন আপনিই, তাতে ও আপনাকে দেখে শিখতে পারবে। ৬. বাড়িতে হঠাৎ কোনও আর্থিক বিপর্যয় এলে তা অবশ্যই সন্তানের কাছেও খোলসা করুন। খুব হাহাকার নয়, বরং বলুন শান্ত হয়ে, বুঝিয়ে। যাতে পারিবারিক এই ঝড়গুলোয় জীবনযাত্রার পরিবর্তন কীভাবে আনতে হয় সে পাঠ সে ছোট থেকেই শেখে। ৭. সন্তানের চাহিদা মেটানো যদি সাধ্যাতীত হয়, তবে তা শিশুকে স্পষ্ট করে বলুন। কখনওই কপর্দকশূন্য হয়ে তার বায়না মেটাবেন না। ছোট থেকেই পরিবারের ক্ষমতা সম্পর্কিত এই জ্ঞান যদি তার থাকে, তাহলে আপনার ক্ষমতার সীমা বুঝতে তার অসুবিধা হবে না। নিজের শখ নিজে রোজগার করে মেটানোর আনন্দও টের পাবে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

গলায় কাঁটা বিঁধলে দ্রুত সরান ৪ উপায়ে

রোজের তাড়াহুড়ো বা অসাবধানতা থেকে কাঁটাযুক্ত যে কোনও মাছের কাঁটা বিঁধতে পারে গলায়। অনেকেই মাছের কাঁটা দূর করার সহজ উপায় হিসেবে এক দলা সাদা ভাতের মণ্ড খেয়ে থাকেন। নরম ছোট কাঁটা হলে এতে অনেক সময় নেমেও যায়। কিন্তু এ ছাড়াও বেশ কিছু ঘরোয়া উপায়ে দূর করা যায় মাছের কাঁটা। জানেন সে সব? চলুন জেনে নেওয়া যাক- ১. গলায় কাঁটা আটকালে হালকা গরম পানিতে একটু লেবু নিংড়ে সেই মিশ্রণ খান। লেবুর অ্যাসিডিক ক্ষমতা কাঁটাকে নরম করে দিতে সক্ষম। ফলে এই মিশ্রণ খেলে কাঁটা নরম হয়ে নামবে সহজে। ২. গলায় কাঁটা বিঁধলে দেরি না করে অল্প অলিভ অয়েল খেয়ে নিন। অলিভ অয়েল অন্য তেলের তুলনায় বেশি পিচ্ছিল। তাই গলা থেকে পিছলে নেমে যাবে কাঁটা। ৩. লবণও কাঁটা নরম করে। তবে শুধু লবণ না খেয়ে পানিতে মেশান লবণ। একটু গরম করে নিয়ে সেই পানি বেশ খানিকটা লবণ মিশিয়ে নিন। সেই লবণ-পানি খেলে সহজেই নেমে যাবে কাঁটা। ৪. পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিন ভিনিগার। ভিনিগার কাঁটাকে নরম করার ক্ষমতা রাখে। তাই এই মিশ্রণ খেলে কাঁটা সহজেই নেমে যায়।​ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া ৭ খাবার-কেলেঙ্কারি

অস্ট্রেলিয়ায় স্ট্রবেরির মধ্যে সুই পাওয়ার খবরে বাজার থেকে এই ফল প্রত্যাহার করা হয়েছে৷ তবে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়৷ সেপ্টেম্বর ২০১৮, অস্ট্রেলিয়ার স্ট্রবেরিতে সুই দেশজুড়ে স্ট্রবেরির মধ্যে কাপড় সেলাইয়ের সুই পাওয়া যাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এর তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার৷ দেশটির সাতটি প্রদেশের ছয়টিতেই স্ট্রবেরিতে এই সমস্যা ধরা পড়েছে৷ ভেতরে সুইওয়ালা স্ট্রবেরি খেয়ে অসুস্থ হওয়া অন্তত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ জানুয়ারি ২০১৮, জার্মান পাউরুটিতে পিন এ বছর শুধু অস্ট্রেলিয়ানদেরই খাবারে কামড় দেওয়ার আগে ভাবতে হয়নি৷ গত জানুয়ারিতে জার্মানির দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় ওফেনবুর্গ শহরের একটি গ্রোসারি স্টোরের খাবারের মধ্যে ধাতব পিন পাওয়া যায়৷ সে সময় টোস্ট ব্রেড ও সালামি স্ন্যাকসহ বেশ কয়েকটি বেকারি পণ্যে এই পিন ধরা পড়ে৷ ২০১৭, জার্মানিতে বিষাক্ত শিশু খাদ্য ও হুমকি গত সেপ্টেম্বরে জার্মানির ফ্রিডরিশহাফেনে শিশু খাদ্যের জারে ক্ষতিকর রাসায়নিক ইথিলিন গ্লাইকল ধরা পড়ার পর দেশজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ এই রাসায়নিক কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে, এমনকি এতে মৃত্যুও হতে পারে৷ সে সময় ৫৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি এক কোটি ইউরো দাবি করে তা না দিলে সুপারমার্কেটের অনেক খাদ্যপণ্যে বিষ মেশানোর হুমকি দেন৷ পরে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি দোষ স্বীকার করে নেন৷ ২০১৬, পাকিস্তানে প্রাণঘাতী মিষ্টি পাকিস্তানের পাঞ্জাবে বিষাক্ত লাড্ডু খেয়ে ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়৷ পরে মিষ্টির দোকানের মালিকের ভাই স্বীকার করেন, পরিবারে ঝগড়ার পর মিষ্টিতে কীটনাশক মিশিয়েছিলেন তিনি৷ বিষাক্ত ওই খাবারে ৭০ জনের বেশি মানুষ অসুস্থ হয়েছিলেন৷ ২০০৩, ইটালিতে ‘আকুয়াবোম্বারের’ ধাক্কা ইটালিতে দূষিত পানির বোতলের বিষয়ে সুপারমার্কেটগুলোকে বেশ কয়েক মাস ধরে খুব সতর্ক থাকতে হয়৷ সিরিঞ্জের মাধ্যমে বোতলের উপরের দিকে ব্লিচ ও অ্যাসিটোন ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর এই সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন দেখা দেয়৷ কট্টর পুঁজিবাদবিরোধী বা পরিবেশবাদী গ্রুপের সদস্যরা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে সে সময় সন্দেহ করেছিল পুলিশ৷ দূষিত ওই পানি পান করে ডজনের বেশি মানুষ অসুস্থ হয়েছিল৷ ১৯৮২, টাইলেনল হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে টাইলেনল ব্র্যান্ডের ব্যথানাশক পিল খেয়ে সাত জনের মৃত্যু হয়৷ ওই সব পিলে পটাশিয়াম সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়৷ তবে এই মৃত্যুর জন্য এখনও কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি এবং মামলাটিও অমীমাংসিত রয়ে গেছে৷ ওই ঘটনার পর ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো ওষুধের মোড়ক টেম্পার-রেজিট্যান্ট করে৷ ২০১০, চিংড়িতে ভেজাল বাংলাদেশের চিংড়িতে রাসায়নিক পদার্থ নাইট্রোফুরানের ক্ষতিকর মাত্রায় উপস্থিতি পাওয়ার পর তা নিয়ে অসন্তোষ জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ এক পর্যায়ে ২০১০ সালে ইইউতে তা পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়৷ ছয় মাস পর রফতানি ফের শুরু হলেও বিশেষ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তা করতে হতো, প্রতিটি চালানের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য সনদ দিতে হতো৷ পরে মানোন্নয়নের কারণে পাঁচ বছর পর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এই কড়াকড়ি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

সন্তানের ত্বকের যত্ন নিবেন যেভাবে

শৈশব থেকেই শিশুর ত্বকের যত্ন নিলে তা আজীবন সুস্থ ও সতেজ থাকে। তাই অভিভাবকরা যদি প্রথম থেকেই সন্তানের ত্বকের খেয়াল রাখেন, তাহলে চর্মরোগের ভয় যেমন দূর হয়, তেমনই নানা অসুখও প্রতিরোধ হবে। জানেন কি, কীভাবে সন্তানের ত্বকের যত্ন নিলে তার দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবে শিশু। দেখে নিন সে সব। শিশু মানেই নানা বেবি প্রোডাক্টের উপর নির্ভর করে থাকা। শিশুর শ্যাম্পু, সাবান, পাউডার, তেল ইত্যাদি কেনার আগে এর উপাদান পড়ুন মন দিয়ে। এতে কোনও টক্সিক পদার্থ থাকলে তা অবশ্যই এড়িয়ে চলুন। যে সব শিশু সেভাবে বেবি প্রোডাক্টের উপর নির্ভর করতে পারে না, তাদের জন্যও প্রসাধন বাছুন খুব সাবধানে। কেবল হাড়ের জোর নয়, শিশুর ত্বকের যত্নের অন্যতম উপায় তেল মালিশ করা। তার ত্বকের প্রতিটা রন্ধ্রে তেল পৌঁছনো খুব জরুরি। নামী সংস্থার তেল হোক বা সাধারণ পরিচর্যার কোনও তেল- চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা মাখান শিশুকে। এবং মাখানোর পদ্ধতিও এমন রাখুন য়াতে শরীরের সব অংশ সমান তেল পায়। একটা সময়ের পর থেকেই শিশুকে মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে কিছু ফলের রস খাওয়ানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এই অভ্যাস শুধু শিশুর রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং বেদানা, কালো জাম, কমলালেবু, গাজর ইত্যাদির রস তার ত্বকেরও যত্ন নেয়। শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নানা ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভর্তি বাদাম রাখুন সন্তানের খাদ্যতালিকায়। কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও সাধারণ বাদামে থাকা তেল ছোটদের চামড়ার জন্য উপকারী। কেমিক্যালমুক্ত নানা ঘরোয়া প্যাক লাগাতে পারেন শিশুর শরীরে। শিশুর ত্বকের ধরন বুঝুন আগে। তার পর মুলতানি মাটি, কলা, মধু, চন্দন, পাকা পেঁপে, দই ইত্যাদির মধ্যে কোনগুলো প্রয়োজন তা বুঝে তার জন্য প্যাক বানাতে পারেন। তবে অতিরিক্ত প্যাকে অনেক সময় সন্তানের ঠাণ্ডা লাগে। এই দিকে খেয়াল রাখবেন। সেলুন কিংবা পার্লারে শিশুর যে কোনও পরিচর্যার সময় নজর রাখুন ব্যবহৃত যন্ত্র ও উপাদানের উপর। যন্ত্রগুলো যেন পরিষ্কার ও জংবিহীন হয়। ত্বকে সংক্রমণ হয় এমন কোনও সুযোগ তৈরি হতেই দেবেন না। শিশুর চামড়া ও শরীরের পক্ষে ক্ষতি করবে এমন উপাদান থেকেও দূরে রাখুন তাকে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া ৬ রোগের উপসর্গ

ভ্যাপসা গরমে বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে ঘাম হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। কিন্তু যখন তখন বিনা পরিশ্রমে বা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঘাম হওয়াটা মোটেই স্বাভাবিক ব্যপার নয়। বরং, চিন্তার বিষয়। অনেকেই রাতে ঘুমানোর সময় প্রচুর ঘাম হওয়ার সমস্যায় ভোগেন। খুব বেশি গরম আর আদ্রতাযুক্ত আবহাওয়া বা ঘরের পরিবেশে খুব গুমোট ভাব না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া, বিশেষ করে রাতের বেলা ঘেমে যাওয়ার সমস্যা একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ রাতে ঘুমানোর সময় এই অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার সমস্যা মারাত্মক কিছু রোগের লক্ষণ হতে পারে। আসুন সে সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্য জেনে নেওয়া যাক। স্নায়বিক (নিউরোলজিক্যাল) সমস্যা অটোনোমিক ডাইরেফ্লেক্সিয়া, সাইরিনগোমাইলিয়া, অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি ইত্যাদি ধরণের স্নায়বিক (নিউরোলজিক্যাল) কিছু অস্বাভাবিকতার কারণে ঘাম বেড়ে যায়। যার ফলে রাতে ঘেমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে হতে পারে অনেককেই। হরমোন ডিজঅর্ডার যারা হরমোনের তারতম্যগত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের বেশির ভাগ সময়ে রাতে ঘেমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। রাতে ঘেমে যাওয়া কাসদিণোয়েড সিনড্রোম বা হাইপারথায়রয়েডিজম সমস্যার কারণেও হতে পারে। হাইপোগ্লিসেমিয়া নিম্ন রক্তচাপের ফলে অনেকের এই সমস্যা দেখা দেয়। যারা ডায়াবেটিসের কারণে ইনসুলিন বা এ জাতীয় অন্যান্য ওষুধপত্র খান, তাদের রাতে হাইপোগ্লিসেমিয়ায় ভুগতে দেখা যায়। যার ফলে অতিরিক্ত ঘাম হতে থাকে। ক্যান্সার কিছু ধরণের ক্যান্সারের কারণে রাতে ঘেমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, লিম্ফোমা। অবশ্য ক্যান্সার হলে অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বর এবং হঠাত করেই অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়ার সমস্যায়ও দেখা যায়। আইডোপ্যাথিক হাইপারহাইড্রোসিস এই সমস্যায় রাতে ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা শুরু হয়ে যায়। তবে এই সমস্যার মূল কোনও কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। মনোপজ (ঋুতস্রাব) রাতের বেলার অতিরিক্ত ঘাম এবং হঠাত করেই গরম লাগতে থাকার সমস্যা নারীদের মনোপজ (ঋুতস্রাব) শুরুর আগের দিনগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষণ। সূত্র: জিনিউজ একে//

ভূমিকম্প থেকে বাঁচতে মেনে চলুন ৭ নিয়ম

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প একটি আতঙ্কের নাম হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগর জীবনে ভূমিকম্প ভীত সত্যিই বেশি। কারণ ঢাকার বেশিরভাগ ভবনই ভূমিকম্প নিরোধক নয়। এমতাবস্থায় বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দুর্যোগ নেমে আসবে। এছাড়া বিজ্ঞানীরা বহু দিন ধরে বলে আসছে যে, বড় ধরনের ভুমিকম্পের ঝুঁকির মুখে আছে বাংলাদেশ। কবে সেই ভূমিকম্প আঘাত হানবে তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও সতর্কতার বিকল্প নেই। তাই ভূমিকম্পের সময় নিচের কৌশলগুলো মেনে চলতে পারেন- ১. যদি ভবনের ভেতরে থাকেন তবে হাঁটু ও হাতের উপর ভর দিয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়তে হবে। ২. ধ্বংসস্তুপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাথা ও গলা হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ৩. কম্পন না থামা পর্যন্ত যেকোনো শক্ত জিনিস ধরে রাখুন। ৪. যদি বিছানায় থাকেন সেখানেই শুয়ে থাকুন। মাথা ও গলা বালিশ দিয়ে ঢেকে রাখুন। ৫. যদি বাইরে থাকেন তবে ভবন, বিদ্যুতের খুঁটি ও তার এসব থেকে দূরে থাকুন। ৬. যদি গাড়িতে থাকেন যত দ্রুত সম্ভব থামুন এবং গাড়ীর ভেতরেই থাকুন। ৭. তিনটি জিনিস মনে রাখবেন। ঝুঁকে পড়া, ঢেকে রাখা ও ধরে রাখা। মনে রাখবেন, কোনো অবস্থায় মাথা গরম করা বা অস্থির হওয়া যাবেনা। সূত্র : বিবিসি। আ আ / এআর /

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে পরিবেশ বাঁচাবেন যেভাবে

শরীরের গঠন অনুপাতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে একজন মানুষের `ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট` সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে বলা হয় ওই গবেষণায়। ইতালি, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা করে হয়েছে। একদিনে একজন মানুষের মোট ব্যবহৃত পানি ও তার জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সবধরনের পণ্য ও সেবা উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয় তার যোগফলকে সাধারণত ওই ব্যক্তির `ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট` হিসেবে প্রকাশ করা হয়। শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। গবেষকরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ কমানোর পেছনেও ভূমিকা রাখে। ইউরোপিয়ান কমিশনের জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের গবেষক ডেভি ভ্যানহাম বলেন, মূল বার্তাটি হচ্ছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হলে আপনি সুস্থ থাকবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদনে গড়ে আগের চেয়ে কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় আপনার ওয়াটার ফুটপ্রিন্টও কমে যাবে। যুক্তরাজ্যে মানুষের খাদ্য গ্রহণের (দেশে উৎপাদিত ও রফতানিকৃত) বিপরীতে ওয়াটার ফুটপ্রিন্টের পরিমাণ জনপ্রতি দিনে ২ হাজার ৭৫৭ লিটার। জার্মানিতে যা ২ হাজার ৯২৯ লিটার ও ফ্রান্সে ৩ হাজার ৮৬১ লিটার। মাংস ও সব ধরণের খাদ্য উপাদানসহ নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফলে খাবার উৎপাদনে পানির ব্যবহার ১১-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। খাদ্য তালিকায় মাংস বাদ দিয়ে মাছ ও তেলবীজ জাতীয় খাদ্যকে প্রাধান্য দিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরি করলে পানি ব্যবহারের মাত্রা ৩৩-৩৫ শাতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর নিরামিষাশী আহারের ফলে পানি ব্যবহারের হার ৩৫-৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। পৃথিবীতে সুপেয় পানির উৎস দিনদিন কমে আসছে। আর দ্রুতবেগে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জীবনধারার পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই নানা ধরণের প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু খাদ্য উৎপাদনে কি পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয় সেবিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণ সচেতনতা তৈরি হয়নি মানুষের মধ্যে। পশুপালনে বিপুল পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয়। তেল, চিনি ও চর্বিজাতীয় খাবার উৎপাদনেও অনেক পানি প্রয়োজন হয়; কিন্তু ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদনে পানি ব্যবহৃত হয় অপেক্ষাকৃত কম। মানুষের বর্তমান খাদ্যাভ্যাস ও গবেষকদের সুপারিশকৃত খাদ্যাভ্যাসে সাপেক্ষে খাদ্য উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট পানি ব্যবহারের মাত্রার তারতম্য পর্যালোচনা করে তৈরি করা হয়েছে গবেষণাটি। তবে গবেষকরা স্বীকার করেন যে মানুষকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে অনুপ্রাণিত করা মোটেও সহজ কাজ নয়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্য অস্বাস্থ্যকর খাবারে উচ্চমাত্রায় শুল্ক আরোপসহ সবধরনের খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার মত নান পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করেন গবেষকরা। সূত্র: বিবিসি এমএইচ/একে/

প্রযুক্তির নামে তরুণদের বিপদগামী করছেন যারা!

আজকের দিনে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে প্রচারিত হচ্ছে কত রকম বিজ্ঞাপন। যেখানে বলা হচ্ছে, সারা রাত কথা বলো। যত রাত হবে, কলরেট তত কম। কিন্তু সারা রাত গল্প করলে একজন ছাত্র বা ছাত্রী পড়বে কখন? ঘুমাবে কখন? সে কি ঘুমাতে ঘুমাতে ক্লাসে যাবে? দেশে একজন সচেতন ব্যক্তিও কি নেই যিনি বলবেন, তরুণ সমাজের কল্যাণার্থে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। এসব বন্ধ করো। এক অর্থে বলা যায়, প্রযুক্তির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মস্তিস্ক ধ্বংশ করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে সবার মধ্যে। বিজ্ঞাপনে আরও বলে, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখো, তোমার ঔজ্জ্বল্য এত বাড়বে যে, সবাই তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবে। এটা পুরোপুরি অবৈজ্ঞানিক ও বর্ণবিদ্বেষী একটা কথা। শ্যামবর্ণ হলে যে তাকে সুন্দর লাগবে না, তা কে বলল? মনের সৌন্দর্যটাই আসল। ইসলামে কোনো বর্ণবিদ্বেষ নেই। নবীজী (স) বেলাল (রা)-এর সঙ্গে মানবিক ব্যবহার করে দেখিয়ে দিয়েছেন, একজন ক্রীতদাস হলেও তার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হবে। এ যুগের আরও ভয়াবহ জিনিস হচ্ছে মাদক ও পর্নোগ্রাফি। তরুণ সমাজকে এসবে আসক্ত করার জন্যে কৌশলে প্রচারণা চলছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা এরকম কাজ করেছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আমাদের বাচ্চারা হরদম ঘোরাফেরা করছে। অভিভাবকরা সময় থাকতে সাবধান হোন, খোঁজ রাখুন আপনার সন্তান কী কী ওয়েবসাইট ভিজিট করে। কৌশলে জানতে হবে তারা কোন ধরনের সাইট ব্যবহার করছেন। এ দিকে অভিভাবকের সচেতন হতে হবে। হুমকির মুখে তরুণ প্রজন্মের মস্তিষ্ক-১৯৮১ সালে কানাডার ক্যালগেরিতে একটা কনফারেন্সে গিয়েছি। ওখানে আমার এক ব্রিটিশ বন্ধুর সঙ্গে বসে গল্প করছি। এসময় ওখানে একটা ছেলে এলো। অধ্যাপক বন্ধু বলল, তোমাকে একটা মজা দেখাই। সে ওই ছেলেকে জিজ্ঞেস করল, এককে দুই দিয়ে ভাগ করলে কত হয়? ছেলেটি বলল, খুব সহজ। বলেই সে পকেট থেকে ক্যালকুলেটর বের করল। অর্থাৎ এককে দুই ভাগ করলে যে শূন্য দশমিক পাঁচ হয়, এটা ক্যালকুলেটর ছাড়া বলতে পারছে না! অনেকে বলেন মানুষের সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ মহাকাশে যাওয়া, কোটি কোটি মাইল দূরের নক্ষত্রে পৌঁছানো। আমি বলি, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানুষ নিজে। আল্লাহ মস্তিষ্কের মতো এত রহস্যময় ও সম্পদশালী আর কিছু তৈরি করেননি, যা আমরা নষ্ট করছি মাত্রাতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে। কারণ আমরা চিন্তা করছি না। মস্তিষ্ক ব্যবহার না করার ফলে কমে যাচ্ছে আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল ক্যাপাবিলিটি। সাধারণ যোগ-বিয়োগে এখন আমাদের যন্ত্রের সাহায্য লাগে। আজকে ফেসবুকের উদ্যোক্তারা আফসোস করছেন, আমরা শিশুদের মস্তিষ্কের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেছি। বিল গেটস সন্তানদের কম্পিউটারে আসক্ত হতে দেন নি। নিজের সন্তানকে না দিয়ে সারা পৃথিবীর ছেলেমেয়েদের আসক্ত হওয়ার জন্যে ছেড়ে দিয়েছেন। মায়েদের নিতে হবে চালিকাশক্তির ভূমিকা-নারীদের প্রচণ্ড একটা শক্তি রয়েছে, তা হলো মমতার শক্তি। তাই মায়েদের অনুরোধ করি, আপনারা এই শক্তিকে প্রয়োগ করুন, ব্যবহার করুন। স্মার্টফোন, ফেসবুক, ইউটিউব, ভিডিও গেম-কত নাম বলব! এসব ভার্চুয়াল ভাইরাস থেকে সন্তানদের বাঁচান। দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিন, ১৮ বছর বয়সের আগে সন্তানকে কোনোভাবেই স্মার্টফোন দেবেন না। তাদের মমতা দিয়ে বোঝান। একটা পরিবার হলো রাষ্ট্রের একক। এখানে মায়েদের আধুনিক চালিকাশক্তির ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রযুক্তি হোক স্রষ্টার মহিমা উপলব্ধির মাধ্যম-ছোটবেলায় মনে প্রশ্ন জাগত, সারা জীবনের আমলনামা কেয়ামতের দিন এক হাতে কীভাবে আসবে? এই যে এত জায়গায় ঘুরছি, এত কথা বলছি। এত তথ্য এক হাতে কীভাবে ধরবে? পৃথিবীতে মাইক্রোইলেকট্রনিকস বিপ্লবের পর এটা বোঝা গেল। সেটা কেমন? প্রথমে কম্পিউটার ছিল বিশাল হলরুম জুড়ে। এরপর ডেস্কটপ, ল্যাপটপ হয়ে কম্পিউটার এখন মানুষের হাতের তালুতে চলে এসেছে। এত ছোট! ধরা যাক, একজন মানুষ ৭০ বছর বাঁচল। প্রতিদিন ১০ হাজার করে সে যে আড়াই কোটি বাক্য বলেছে, এর চেয়েও কয়েকগুণ বেশি তথ্য একটা এক সেন্টিমিটার মাইক্রো প্রসেসরে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এটা থেকে বুঝলাম এক হাতে আমলনামা কীভাবে আল্লাহ দেবেন। অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে যে কোরআনের বাণীই প্রমাণ হলো এটা কেউ বলে না। রমজান হোক পরিবারে কোরআন চর্চার মাস-পরিবারে সবাই মিলেই ধর্মাচার অনুসরণ করা জরুরি। কোরআন পুরো সৃষ্টির জন্যে রহমতস্বরূপ ও সংবিধান। রমজানে সপরিবারে প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্যে হলেও কোরআনের চর্চা করুন। ছেলেমেয়েরা কোরআন থেকে জানবে যে, বাবা-মা বৃদ্ধ হলে তাদের সেবা করতে হবে, বিরক্ত হওয়া যাবে না, ‘উহ্’ শব্দটিও বলা যাবে না। তখন তারা উপলব্ধি করবে কত জিনিস খেয়াল রাখতে হবে।বাবা-মাও জানবেন নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে। সন্তান জন্মদানের পর দুই বছর বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের সঙ্গে সন্তানের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, এতে তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। এরকম শিশু ধ্বংসাত্মক হয় না। সব মানুষই শান্তি চায় কিন্তু শুধু নিজের জন্যে কাজ করলে শান্তি আসে না। অন্যের জন্যে কাজ করলেই তা পাওয়া যাবে। আর সময় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কেউ জানে না জমিনের ওপরে তার জন্যে সময় কতটুকু আছে। তাই কাজ করতে হবে একাগ্রচিত্তে। হৃদয় থাকবে স্রষ্টার দিকে ধাবিত। আর হাত থাকবে কাজের দিকে ধাবিত। এই রমজানে প্রযুক্তিকে শুধু প্রয়োজনে ব্যবহার করুন এবং অন্যদেরও এ সম্পর্কে সচেতন করুন। কোয়ান্টাম থেকে সংগৃহীত। এসএইচ/

শরীরের ৫টি অঙ্গ যা জানান দেয়

ঘুম থেকে উঠে দেখা গেল চোখ ফুলে গেছে কিংবা ঠোঁটে ফোস্কা পড়েছে৷ আবার অনেকের হাতের নথ ভাঙা শুরু হয়৷ কিংবা হঠাৎ করেই হাড়ে ব্যথা করে৷ এ সব কি  কোনও অসুখের পূর্ব লক্ষণ ? নাকি এমনিতেই সেরে যায় এ সব? চলুন জেনে নেওয়া যাক- হাতের নখ অনেক সময় অল্পতেই হাতের নখ ভাঙতে দেখা যায়৷ বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি হয়৷ তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ শরীরের মিনারেল বা ভিটামিনের অভাব৷ যারা ডায়েটিং করেন, তাদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি হয়ে থাকে৷ তবে বেশিদিন চলতে থাকলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। কারণ এর পেছনের কারণ হতে পারে থাইরয়েড বা ফুসফুসের কোনও অসুবিধা৷ ফোলা চোখের কারণ সারারাত জেগে পার্টি করলে বা ক্লান্ত থাকলে চোখ ফুলতেই পারে৷ তাছাড়া কোনও গাছের পাতা বা কোনও জন্তুর লোম কিংবা ছারপোকার কামড়েও চোখ ফুলতে পারে৷ এমনটা হলে বেশি করে পানি খাওয়া বা চোখে ঠাণ্ডা পানির ঝাঁপটা দিলে চোখের ফোলাভাব চলে যাওয়ার কথা৷ তা না হলে হতে পারে হৃদপিণ্ডের দূর্বলতা, ব্লাডপ্রেশার কিংবা কিডনির কোনও সমস্যা৷ সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷ শুষ্ক বা ফাটা ঠোঁট শরীরে আয়রন, জিঙ্ক বা ভিটামিন ‘বি’-এর অভাবে অনেক সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়৷ সে কারণেও ঠোঁট শুষ্ক হয় আর এর ফলে অল্পতেই ঠোঁট ফেটে যায়৷ এ রকম হলে ঠোঁটে মধু এবং অলিভঅয়েল লাগালে সেরে যাওয়ার কথা৷ তা না হলে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত৷ হাত-পায়ের জয়েন্টে ক্র্যাকিং হাত বা পা সোজা বা টানটান করলে অনেক সময় কেমন যেন শব্দ হয়৷ এমনটা হয় সাধারণত জয়েন্টে পানি জমা হলে৷ পিঠের এবং মেরুদণ্ডের কোনও অসুবিধার কারণে এমনটা হয়ে থাকে। কাজেই এমন হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত৷ রাতে পায়ের ব্যথা অনেকেরই রাতে বা দিনে পায়ের পেশিতে ব্যথা হয় কিংবা পা কামড়ায়৷ এবং এতে কিন্তু প্রচণ্ড কষ্ট হয়, যা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন৷ এর আসল কারণ খুঁজে পাওয়া সব সময় ডাক্তারদের জন্য সহজ নয়৷ তবে শরীরে মিনারেল, বিশেষ করে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব একটা কারণ হতে পারে৷ তাছাড়াও এ ক্ষেত্রে ব্লাডপ্রেশার বা ডায়েবেটিস পরীক্ষা করানোটা জরুরি৷ এই তথ্যগুলো দিয়েছেন জার্মানির দু’জন বিশেষজ্ঞ ডা. আখিম ভোক্ট এবং ডা.ক্রিষ্টিয়ান শ্নাইডার। সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

যে কারণে সমকামীদের ক্ষেত্রে এইডসের সম্ভাবনা দ্বিগুণ

যোনি সঙ্গমের তুলনায় পায়ুসঙ্গম অনেক বেশি ঝুঁকির। নিরাপদ নয় যোনি এবং লিঙ্গ-লেহনও। তাই যৌনরোগ মোকাবিলায় এবার সমকামীদেরও কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকরা। তাদের মত, ভাইরাস সমকামী-বিষমকামী বোঝে না। সমকামীদের ক্ষেত্রেও অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক ডেকে আনছে এইডসের মতো মারণ-ব্যাধি। ভারতের সুপ্রিমকোর্ট সমকামকে বৈধতা দিতে খুশি শহরের চিকিৎসকরা। চাইছেন, বিষমকামীদের মতো সমকামীরাও সমস্ত ছুঁৎমার্গ সরিয়ে যৌন অসুখ নিয়ে সচেতন হন। প্রশ্ন উঠছে, বিষমকামীদের তুলনায় সমকামীদের ক্ষেত্রে এইডসের সম্ভাবনা দ্বিগুণ কেন? বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ, একটি লিঙ্গ সহজেই রক্তপাত না ঘটিয়ে যোনিতে ঢুকে যায়। কিন্তু পায়ুসঙ্গমের সময় তা ঘটে না। সে সময় লিঙ্গ মলাশয়ে চাপ দিয়ে প্রবেশ করাতে হয়। সে ক্ষেত্রে রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ। পায়ুসঙ্গমে এইডসের জীবাণু এইচআইভি সহজেই রক্তে চলে আসে। তাছাড়া যৌন সঙ্গমের সময় যোনি বেশি পরিমাণে পিচ্ছিল পদার্থ নিঃসরণ করে। কিন্তু মলাশয়ে এমনটা হয় না। তাই যৌন সঙ্গমের সময় সহজেই মলাশয় জখম হয়। এইচআইভির সম্ভাবনা বাড়ে। সাধারণ যৌন সংসর্গে কনডম ব্যবহার করেন যুগলরা। কিন্তু সমকামীদের মধ্যে কনডম ব্যবহারের প্রবণতা নেই বললেই চলে। চিকিৎসকরা বলছেন,  কনডমের ব্যবহার এইডসের সংক্রমণ অনেকটাই আটকে দেয়। এমনটাই জানালেন এক চিকিৎসক ডা. প্রতিম রায়। তার মত, ‘পায়ুসঙ্গমে এডসের ঝুঁকি বরাবরই বেশি।’ আসলে এইডস ছড়ায় এইচআইভি ভাইরাস থেকে। সুরক্ষিত যৌনজীবন না থাকলে সমকামী বা বিষমকামী  যে কেউ এইডসে আক্রান্ত হতে পারে। আমেরিকায় সমকামীদের মধ্যে এইডস রোগের হার বেশি। তবে এটাও ঠিক, অনেক দেশে বিষমকামীদের মধ্যে এইডসের হার বেশি। তাই শীর্ষ আদালতের রায়কে ঢাল করে যদি অসুরক্ষিত পায়ুসঙ্গমের ইচ্ছে ডালপালা মেলতে থাকে তবে কিন্তু বিপদ আসন্ন। এ দিকে সমকামীদের ওরাল সেক্স নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই ভাবে চুমু খেলে বা যৌনাঙ্গ লেহনে এইডস হয়। এটা পুরোপুরি সত্যি নয়। স্বাভাবিক যৌনসঙ্গমের তুলনায় মুখমেহনে বা চুম্বনে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।     তবে অসুরক্ষিত ওরাল সেক্স থেকেই সিফিলিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া, জেনিটাল হারপিসের মতো মারাত্মক রোগ আসতে পারে। নারীর যোনিগাত্রে তিনটি লেয়ার বা স্তর রয়েছে। তাই এটি অনেক শক্ত এবং স্থিতিস্থাপক। ফলে যৌনসঙ্গমের সময় যোনি আহত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। উলটো দিকে কোনও স্তর না থাকায় রক্তজালিকা একেবারে মলাশয়ের গায়ে অবস্থান করে। তাছাড়া মলাশয়ের ছিদ্রের অভ্যন্তরে জায়গা অপ্রশস্ত। তাই পায়ুসঙ্গমের সময় মলাশয় গাত্রের সঙ্গে লিঙ্গের ঘর্ষণের মাত্রাও বেশি। ফলে মলাশয় গাত্র রক্তাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরিসংখ্যানও বেশ দুশ্চিন্তার। জানা গেছে,  ভারতে বিষমকামী যৌনকর্মীদের তিন শতাংশ এইডসে আক্রান্ত। অন্যদিকে, রূপান্তরকামীদের মধ্যে এইডসের প্রকোপ সাত থেকে ১১ শতাংশ। সমকামীদের মধ্যে চার থেকে সাত শতাংশ। অতএব আবেগের নৌকায় গা ভাসিয়ে পায়ুসঙ্গম না করারই পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন একে//

চিনে নিন মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণগুলো

একটি ভয়ানক মানসিক রোগের নাম সিজোফ্রেনিয়া। আসলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যাকে সাধারণত কেউ তেমন গুরুত্ব দিতে চান না। যে কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক রোগের চিকিৎসা শুরু হয় একেবারে শেষ মুহূর্তে। আর তখন পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে গোটা বিশ্বে শুধু সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটির বেশি, যার বেশিরভাগই মূলত অবহেলার শিকার। সাধারণ মানুষের গড় আয়ুর তুলনায় সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত রোগীর আয়ু প্রায় ১৫-২০ বছর কমে যায়। ২০-৪৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী, পুরুষ-নারী, যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই মনরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সামান্য অবহেলাও মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। তাই জেনে নিন সিজোফ্রেনিয়া রোগের প্রধান লক্ষণগুলো। আর শুরুতেই উপযুক্ত চিকিত্সার ব্যবস্থা নিন। সিজোফ্রেনিয়া রোগের প্রধান লক্ষণগুলো মূলত তিনিভাবে প্রকাশ পায়- চিন্তার মধ্যে অসংলগ্নতা ১) মনে অযথা সন্দেহ: কোনও কারণে সন্দেহ হতেই পারে। কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষকেও সন্দেহ করতে থাকেন। তারা ভাবতে থাকেন সবাই তাকে নিয়ে মজা করছে, সমালোচনা করছে কিংবা বিশেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। ২) ভুল জিনিসে দৃঢ় বিশ্বাস: সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি অহেতুক এবং অবাস্তব জিনিসকে সত্য ভাবতে থাকেন। যেমন, সবাই তার ক্ষতি করছে, খাবারে বিষ মেশানো রয়েছে, তিনি না বললেও কেউ তার মনের গোপন কথা জেনে যাচ্ছে ইত্যাদি। আচরনগত সমস্যা ১) হঠাত করেই জোরে হেঁসে ওঠা, আবার কোনও কারণ ছাড়াই কেঁদে ফেলা। ২) হঠাত করেই খুব বেশি রেগে যাওয়া বা উত্তেজিত হয়ে ওঠা। ৩) মানুষের সঙ্গ একেবারেই মিশতে না চাওয়া। ৪) কোনও কারণ ছাড়াই আত্মহত্যার চেষ্টা করা। ৫) কোনও কারণ ছাড়াই এক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকা। ৬) আগে একেবারেই যা করতেন না, সে ধরনের আচরণ করতে থাকা। ৭) জনসমোক্ষে গায়ের কাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা করা। অনুভূতি বিষয়ক সমস্যা ১) কেউ তার সঙ্গে কথা না বললেও, মনে হতে পারে কেউ যেন তার সঙ্গেই কথা-বার্তা বলছে। সিজফ্রেনিয়ার রোগীরা এভাবেই পশুপাখির ডাকও শুনতে পান। ২) গায়ে পোকামাকড়ের হাঁটার অনুভূতি হয়। ৩) বিশেষ কোনও কিছুর গন্ধ পেতে থাকা, যদিও সেই গন্ধ অন্যেরা কেউই পাচ্ছেন না। উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলো যদি কারও মধ্যে ৬ মাসের বেশি সময় দেখতে পাওয়া যায় তাহলে তিনি সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ এবং আপনজনের সান্নিধ্যে রোগী অনেক ক্ষেত্রেই সুস্থ হয়ে যান। সূত্র: জিনিউজ একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি