ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ৭:১৩:৩৫

যেভাবে আলোর মুখ দেখে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন

যেভাবে আলোর মুখ দেখে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন

সড়ক দুর্ঘটনা জাতীয় জীবনে বড় সমস্যা হলেও এদেশে বেসরকারিভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া একমাত্র সংগঠন `নিরাপদ সড়ক চাই`। এর প্রধান উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
‘ভোক্তাই শক্তি প্রাণের’

১৯৮১ সালে আমজাদ খান চৌধুরীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করে রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড। শুরুতে কৃষিজাত পণ্য নিয়ে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটিই এখন পরিচিত প্রাণ-আরএফএল নামে। প্রতিষ্ঠার ৫ বছর পর অর্থ্যাত ১৯৮৬ সাল থেকে খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৯২ সালে নরসিংদীর ঘোড়াশালে নিজেদের প্রথম ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করে প্রাণ। এর পরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। বিশ্বের প্রায় ১১০টি দেশে ১০টি ক্যাটাগরিতে ২০০টিরও বেশি পণ্য রফতানি করছে প্রাণ। এতদিনের যাত্রাপথে বিভিন্ন চড়াই উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও সবসময় গ্রাহকদেরকেই নিজেদের শক্তি মনে করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান প্রাণ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। সাক্ষাৎকার নেন সহ সম্পাদক শাওন সোলায়মান। ইটিভি অনলাইন: প্রাণ দেশ ও বিদেশের বাজারে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড। আমরা বিভিন্ন সময় খবরে দেখি যে, প্রাণ বা অন্যান্য ব্র্যান্ডের নামে নকল ও ভেজাল পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কি? ইলিয়াস মৃধা: প্রথমত বলি যে, এটা আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খুবই স্পর্শকাতর একটা বিষয়। বাংলাদেশে যে যে পণ্য বা ব্র্যান্ডগুলো সফল সেগুলোকেই কিছু সুবিধাবাদি মহল নকল করে অত্যন্ত নিম্নমানে বাজারজাত করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অন্যের সুনামকে কাজ লাগিয়ে নিম্নমানের পণ্য দিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করা। ইটিভি অনলাইন: এ ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রাণ এর পক্ষ থেকে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়? ইলিয়াস মৃধা: আমরা যা করি তা হলো আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মী এবং প্রশাসনকে সচেতন রাখি। তারা যদি এ ধরণের কিছু জানতে পারে তখন আমাদেরকে তথ্য দেয়। তখন সেটিকে আমরা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফুড সেফটিসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। এর পাশাপাশি আমরা অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য সংস্থা যেমন- র‍্যাব, ভ্রাম্যমাণ আদালত যেন বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করতে পারে তার জন্য তথ্য দিই। বিএসটিআই, ফুড সেফটি অথরিটি, ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টর, মিউনিসিপাল কর্পোরেশন বিভিন্ন সময় এ ধরণের নকল পণ্য কিন্তু জব্দ করেছে। তারপরেও মানুষ সবসময়ই একটু সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। ইটিভি অনলাইনঃ এ ধরণের অপরাধ বন্ধে আপনার পরামর্শ কী? ইলিয়াস মৃধাঃ দেখেন একটা মহল তো এই বিষয়কে কাজে লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করবে। আমরা যখন তথ্য পাই তখন যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। সেই অনুযায়ী অভিযানও হয়। কিন্তু এসব অভিযান করে এসব বন্ধ করা যাবে না। আমি মনে করি এর জন্য সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে। সরকার আন্তরিক, আরও আন্তরিক হতে হবে। আইনকে কঠোর করতে হবে। কিছুদিন আগে মাদক বিরোধী যেমন কঠোর অভিযান হলো তেমন কিছু একটা করতে হবে। এতে করে আমরা যেমন নকলবাজদের হাত থেকে মুক্ত হবো তেমনি করে ভোক্তারা যেকোনো পণ্য আস্থার সঙ্গে গ্রহণ করতে পারবে। ইটিভি অনলাইন: এতে তো ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি হচ্ছে... ইলিয়াস মৃধা: অবশ্যই। আমরা তো ক্ষতিগ্রস্থ হই। ব্যবসায়িক দিক থেকে বলেন আর ব্যবসার সুনামের দিক থেকে বলেন; আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। যুগপৎভাবে গ্রাহক ও ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি। একজন গ্রাহক একটি দোকান থেকে একটি পণ্য আমাদের পণ্য মনে করে কিনলেন। কিন্তু পণ্যটি আসলে নকল ও ভেজালযুক্ত। এখন সেই পণ্য ভোগ করে ভোক্তা প্রতারিত হলেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হলেন। আবার উনি হয়তো ভাবলেন আমাদের পণ্যেই সমস্যা। উনি হয়তো জানলেনও না যে, পণ্যটি নকল কিন্তু আমাদের ব্যাপারে তার একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলো। ইটিভি অনলাইন: প্রাণের কোনো পণ্য নকল কি-না তা গ্রাহকরা কিভাবে বুঝবেন? ইলিয়াস মৃধা: প্রথমত বলি যে, কোনো খাদ্যপণ্য যখন কোনো ভোক্তা কিনবেন তখন তিনি এটা আগে দেখবেন যে, পণ্যের মোড়ক সিলগালা অর্থ্যাৎ মোড়ক পুরোপুরি বন্ধ করা কি-না? মোড়কে কোনো লিকেজ বা ব্রোকেজ থাকলে সেটি গ্রাহকদের না খেতে বলি আমরা। এরকম বিষয়সহ কোনো পণ্য নিয়ে যদি কোনো গ্রাহকের সন্দেহ হয় তাহলে আমরা গ্রাহকদের বলি আমাদের সঙ্গে যেন যোগাযোগ করেন। আমাদের প্রতিটি পণ্যের মোড়কে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের একটি নম্বর দেওয়া থাকে। সেটিতে কল করে আমাদের কাছ থেকে পণ্যের বিষয়ে জানতে পারবেন গ্রাহকেরা। কোনো পণ্য নিয়ে যদি কোনো গ্রাহকের বিন্দুমাত্র সন্দেহ হয় তাহলে তারা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আমাদের টিম সেটি তদন্ত করতে ঝাপিয়ে পড়বে। এভাবে গ্রাহকেরা চাইলে পণ্যের বিষয়ে জানতে পারেন। ইটিভি অনলাইন: একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আপনার কাছে জানতে চাই। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণের বিভিন্ন পণ্যের বিপক্ষেই সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। গণমাধ্যমে আমরা এমন কিছু সংবাদ দেখছি। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কি? ইলিয়াস মৃধা: আমাদের ব্র্যান্ড নিয়ে বলব না, একটা বিশেষ মহল সেটার নামও আমি বলব না; তাদের সম্পর্কে মিডিয়া জগতের সবাই কম-বেশি জানে। তারা তাদের স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আমাদের বিপক্ষে কিছু প্রতিবেদন করেছে। এসব প্রতিবেদন নিতান্তই ফটোশপ করে করা, ভিডিও পাইরেসি এবং অন্যান্য বিভিন্ন মাধ্যমে এগুলা করা। মিডিয়া জগতের সবাই এগুলো বুঝে। আমি আপনাদের মাধ্যমে এটূকু শুধু বলব যে, আমাদের কোনো লাইসেন্স বাতিল হয় নাই। আমাদের রফতানি, উন্নতি সব কিছু ঠিক আছে। প্রাণ প্রোডাক্ট বাংলাদেশে জনপ্রিয়, ভারতেও জনপ্রিয়। আমাদের পণ্যের ওপর ভোক্তা ও গ্রাহকের আস্থা আছে। তারা সামনেও আস্থা রাখবে। আমরা আমাদের যত ভালো কাজ সেগুলো অব্যাহত রাখব। এতে করে ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ যদি কিছু করে তাদেরকে আমরা অনুরোধ করবো যে, এতে করে দেশের ক্ষতি হচ্ছে, কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। অতএব বাংলাদেশ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে। তাই দেশের ক্ষতি করবেন না, কৃষকের ক্ষতি করবেন না। একইসঙ্গে দেশের নেতিবাচক ব্র্যান্ডিং করবেন না। আমাদের এটিই আবেদন তাদের কাছে। একইসঙ্গে অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোর কাছে আমাদের অনুরোধ আপনারা ‘সঠিক সত্য’ তুলে ধরবেন। ইটিভি অনলাইন: আসল বা সঠিক সত্য কি তাহলে? ইলিয়াস মৃধা: আসল সত্য হচ্ছে, আমাদের কোন পণ্যে কোনো কিছুই হয়নি। বিশেষ মহল বিশেষ উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে। ইটিভি অনলাইন: তারপরেও এমন প্রতিবেদনে প্রাণ নিয়ে গ্রাহকেরা বেশ চিন্তিত। প্রাণের একটি বড় ‘লয়্যাল কনজিউমার’ শ্রেণী আছে। তাদের উদ্দেশ্যে আপনারা কি বার্তা দেবেন? ইলিয়াস মৃধা: তাদের উদ্দেশ্যে আমরা বলব যে, আপনারা আগে থেকে যেভাবে আমাদের ওপর আস্থা রেখে আসছেন এখনও সেভাবে আস্থা রাখুন। কোনো কিছুই হয়নি। আশা করি আকাশ থেকে মেঘ কেটে যাবে; কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা আমাদের ভালো কাজ অব্যাহত রাখব। ভোক্তাদের ওপরই আমাদের আস্থা। তারাই আমাদের সম্পদ, তারাই আমাদের শক্তি। কাজেই তাদের স্বার্থ রক্ষায় আমৃত্যু আমরা কাজ করে যাব।     / এআর /

দেশে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান আবু নোমান হাওলাদার

দেশের ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রি খাতের পরিচিত নাম বিবিএস ক্যাবলস। ২০০৯ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে স্বল্প সময়েই দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্যাবল উতপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদেরকে পরিচিত করতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটির। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নোমান হাওলাদার দেশের অর্থনীতিতে রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তারই স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘সিআইপি’ পদবীতে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না আবু নোমান হাওলাদার। বিবিএস ক্যাবলকে নিয়ে যেতে চান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে। সেই সাথে দেশে আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান তিনি। ইটিভি অনলাইনের সাথে বিশেষ এক সাক্ষাতকারে এসব কথা জানিয়েছেন সিআইপি আবু নোমান হাওলাদার। সাক্ষাতকার নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সহ সম্পাদক শাওন সোলায়মান

আমি চাই না আর কারো সন্তান এভাবে শেষ হয়ে যাক: জয়শ্রী জামান

জয়শ্রী জামান। পেশায় একজন সাংবাদিক। আত্মহত্যা প্রতিরোধে দীর্ঘ দিন থেকে নিরলসভাবে কাজ করছেন। যখনই শুনেন কেউ আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে সেখানেই তিনি ছুটে যান। চেষ্টা করেন তাদেরকে আত্মহননের এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে। জয়শ্রী জামানের বুকে পাথর সমান কষ্ট। সেই কষ্টকে ভালোবাসায় রুপ দিয়ে চেষ্টা করছেন মানুষের জীবন বাঁচাতে।         অভিমান, কষ্ট, আর মনোবেদনা থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন তার দুই কিশোর বয়সী সন্তান চিরশ্রী জামান (১৮) ও মোহাম্মদ বিন আলীম (১৫)। ২০১৪ সালে তারা উত্তরার বাসায় আত্মহত্যা করে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তান নিয়েই ছিল জয়শ্রী জামানের সুখের ঠিকানা। কিন্তু বুক ভরা অভিমান থেকে চিরবিদায় নেন তার আদরের দু’সন্তান। সন্তান হারিয়ে তিনি এখন আর কারো মায়ের বুক যেন খালি না হয় সে জন্য ২০১৫ সালে তৈরি করেছেন ‘ব্রাইটার টুমরো ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে যারা আত্মহত্যা করতে চায় তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।  একুশে টিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন জয়শ্রী জামান। আলাপচারিতায় তিনি জানান, আত্মহত্যা থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য তার প্রাণান্তকর চেষ্টার কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আউয়াল চৌধুরী।    ইটিভি অনলাইন: আপনার দু’সন্তান একসঙ্গে আত্মহত্যা করলো, কেন তারা এ পথ বেছে নিল? আপনি কী বুঝতে পারেননি ওরা এমন কাজ করতে পারে?     জয়শ্রী জামান: আমি মোটেই বুঝতে পারিনি তারা এমন কাজ করবে। আমি যেহেতু ভিকটিম আমি সব সময় চিন্তা করি কেন আমার সন্তানরা আত্মহত্যা করলো। কেন আমি ওদেরকে রক্ষা করতে পারলাম না। আমার ইচ্ছে ছিল যেভাবেই হোক ওদেরকে রক্ষা করবো। ওদের মনে স্ট্রেস ছিল, দুঃখ ছিল তা আমি দূর করতে পারি নাই। আমি একজন সচেতন মা হয়েও তাদেরকে ফেরাতে পারিনি। তবে ওরা আত্মহত্যা করতে পারে এটা আমার মাথাই আসেনি। অনেক কিছু মাথায় ছিল কিন্তু এ বিষয়টা একবারের জন্যও মাথায় আসেনি। ওরা যেহেতু আত্মহত্যা করেই ফেলেছে, আমি মনে করি, যে কোনো মানুষই এটা করতে পারে।   ইটিভি অনলাইন: আপনি এখন আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করছেন, কিভাবে কাজ করছেন? জয়শ্রী জামান: আমি বিভিন্নভাবে এখন আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করছি। বাংলাদেশে আত্মহত্যা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যে বিষয়গুলো দেখি; সেটা হলো প্রতি পদে পদে বাধা। আমরা আমাদের বাচ্চাদের যেভাবে শাসন করি, তাদের সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করা হয়, তাদের প্রতি শাসনের যে ভাষা তাতে মনে হয় আমি মরে যাই। দেখা যায়, অনেক বাবা সন্তানকে মারছেতো মারছেই। সামান্য অপরাধের জন্য মেরে একেবারে অস্থির করে ফেলছে। এগুলো কিন্তু সঠিক পদ্ধতি না। এর মাধ্যমে সন্তান আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে উঠতে পারে।  ইটিভি অনলাইন: কিভাবে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায় বলে মনে করেন?   জয়শ্রী জামান: আমি মনে করি, আমাদের পুরো সমাজ ব্যবস্থা মানুষকে বিষন্ন করে তুলছে। এটা নিয়ে কিন্তু কেউ কথা বলছে না। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, আমাদের ডমেস্টিক ভায়োলেন্স, নারী নির্যাতন, বেকারত্ব প্রতিটি বিষয় আত্মহত্যার জন্য একেকটি দায়ী। আর সবচেয়ে বড় দায়ী হচ্ছি আমরা নিজেরা। আমরা আমাদের নিজেদেরকে বদলাতে পারি না। আমাদের স্বভাব বদলাতে পারি না।   অনেকে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে হট লাইন চালুর কথা বলেন। আত্মহত্যা রোধ করার জন্য একটা হট লাইন চালু করলেই হলো না। হট লাইনের অপর পাশে যিনি কথা বলছেন তার ওই মেধা আছে কি না, সেটাও দেখতে হবে। দেখা যাবে হেল্প লাইনে আমি এমন কথা বলে ফেললাম যার একটু দেরিতে আত্মহত্যা করার কথা সে এবার আরও তাড়াতাড়ি আত্মহত্যা করে বসবে। এ বিষয়গুলো অনেক সেনসেটিভ। এখানে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রয়োজন রয়েছে। যে জন্য আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে আমি আর্টিস্ট, সাংবাদিক, শিক্ষকদের কাছে যাই। সবার সঙ্গে কথা বলছি। সবাইকে সচেতন করার জন্য চেষ্টা করছি।   ইটিভি অনলাইন: আত্মহত্যা থেকে ফেরানোর কার্যকর পদ্ধতি কী হতে পারে বলে মনে করেন?  জয়শ্রী জামান: আত্মহত্যা থেকে ফেরানোর জন্য সম্মিলিত চেষ্টা প্রয়োজন। তাই আমি সবার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলি। মিটিং করি, লেখা লেখি করছি। নিজে আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করছি। আমি একটা ম্যাগাজিন বের করছি। একটা ওয়েব সাইট করার চেষ্টা চলছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য যা দরকার করার চেষ্টা করছি। তাই আমি বলবো, সুইসাইড প্রিভেনশনের দুইটা মেথড রয়েছে-একটা হলো কাউন্সিলিং অন্যটি মেডিকেশন। এ দুই পদ্ধতিতে মানুষকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাদেরকে সঠিক চিকিৎসা দিতে হবে এবং কাউন্সেলিং করতে হবে। তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। ভালো আচরণ দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।  আরেকটা বিষয়ে আমি বলবো, জীবন অত্যান্ত মূল্যবান। এটা মানুষকে বুঝাতে হবে। মৃত্যু সামাধান না এই ম্যাসেজটা সামাজের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। আত্মহত্যা কোনো সমাধান দেয় না। আমার বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেল সে কারণে আমি আত্মহত্যা করে জীবনটা শেষ করে দেব। এভাবে জীবন শেষ করাটা সমাধান না। আমাকে ছেড়ে চলে গেছে; ওকে অসুবিধা নেই, আমি দাঁড়াতে পারবো। এই মানসিকতাটা মানুষের মধ্যে গ্রো করতে হবে। নিজের মধ্যে আত্ম শক্তি তৈরি করতে হবে।   ইটিভি অনলাইন: আপনি সংগঠন তৈরি করেছেন, সংগঠন থেকে কী ধরনের কাজ করছেন? জয়শ্রী জামান: ব্রাইটার টুমরো সব সময় উৎসাহমূলক কথা বলে থাকে। আমি মনে করি, মানুষকে ভালোবাসার বিকল্প কিছু হতে পারে না। এটা সুইসাইড প্রিভেনশনের এক নাম্বার শর্ত। যারা দুঃখ ভারাক্রান্ত থাকে, তারা তাদের কথাগুলো শেয়ার করবে কার কাছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মায়ের সঙ্গে শেয়ার করে। এক্ষেত্রে মা’ই যদি বেঁকে বসে তাহলে কী অবস্থা হবে। মা তার কথা শুনছেই না, গুরুত্বই দিলো না। আবার স্কুলে গিয়ে তাকে শুনতে হচেছ সে সবচেয়ে খারাপ। বাচ্চাদেরকে কোনো ধরনের নেগেটিভ কথা বলাই যাবে না। এ সমস্ত ম্যাসেজগুলো সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ‘ব্রাইটার টুমরো’ মানুষকে সচেতন করার এই কাজগুলো করছে।   এই সংগঠনের মাধ্যমে আমি এখন আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করছি, কারণ আমার বাচ্চাদের সমস্যাগুলো আমি বুঝিনি। তাই অন্য কেউ যেন আর আত্মহত্যা না করে সে জন্য সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছি। আমার জন্য এটা সহ্য করা অনেক কষ্টের। সারাদিন অফিস করে দিনশেষে আমি আবার সেই শুন্য বাসায় ফিরে যাচ্ছি। আমার জমাট বাঁধা দুঃখগুলো কেউ বুঝতে পারবে না, সেটা কেউ চিন্তাও করতে পারবে না। এটা বর্ণনা করার মতো না।    ইটিভি অনলাইন: কী কারণে বাচ্চারা আত্মহত্যা করতে পারে বলে মনে হয়? আপনার বাচ্চাদের সঙ্গে সর্বশেষ কী কথা হয়েছিল?  জয়শ্রী জামান: আমার বাচ্চাদের আত্মহত্যার কারণগুলো একটু অন্যরকম। ওদের বাবা আরেকটা বিয়ে করেছিল। তারা সেটা অনেকটা মানিয়ে নিয়েছিল। পরে তাদের একটি সন্তান হলো। ফেসবুকে তারা দেখলো বাবা তাকে নিয়ে আনন্দ করছে। তখন তারা আস্তে আস্তে আরও আপসেট হয়ে গেল। আমার মেয়ে আমাকে বলে, ‘তুমি আমাকে পৃথিবীতে আনছ এ জন্য তোমাকে আমি কখনো ক্ষমা করবো না’। আমার কী বলার আছে। তখন আমার কাছে মনে হয়েছে বড় কুৎসিত একটা পৃথিবীতে আমি ওদেরকে নিয়ে এসেছি। অভিমান করে ওরা চলে গেছে। আমি চাই না আর কেউ এভাবে চলে যাক। পৃথিবীটা অনেক সুন্দর। তাই আমাদের সবাইকে সবার পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করছে। এই আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানুষটির পাশে মমতা নিয়ে আমাদের দাঁড়াতে হবে। আমি চাই না আর একজন মানুষও সুন্দর এই পৃথিবীটা ছেড়ে চলে যাক।      এসি   

ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় ৫৬ নেতা হারিয়েছে দেশ: মাহফুজা খানম

অধ্যাপক মাহফুজা খানম। ১৯৬৬ সালে যিনি ছিলেন ডাকসুর ভিপি। বর্তমানে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য। বর্তমানে বিশ্ব শিক্ষক ফেডারেশনের দিত্বীয় মেয়াদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। এছাড়া খেলাঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক  ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপার্সনের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন অনলাইন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকারত্ম-কর্মসংস্থান, ছাত্রদের নীতি-নৈতিকতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনসহ নানাবিধ দিক নিয়ে বরেণ্য এ শিক্ষাবীদের মুখোমুখী হয় । তিন পর্বের বিশেষ এ সাক্ষাৎকারটির শেষ পর্ব আজ পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ডাকসু ভিপি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন আপনি। কেমন ছিল আপনাদের সময়ের ডাকসু কার্যক্রম? মাহফুজা খানম: ১৯৬৬-৬৭ সালে ডাকসুর ভিপি হই। ডাকসুর ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত একমাত্র নারী  ভিপি আমি। ডাকসুর জন্মলগ্ন থেকেই এটার দ্বিমুখী কাজ ছিল। একটি ছিল রাজনৈতিক। অন্যটি ছাত্র বা ছাত্রীদের সমস্যা নিয়ে একাডেমিক কাজ। আমাদের সময়ে ১৯৬৬ সালে ছয়দফা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই ছয়দফাকে কিন্তু ক্যারিআউট করেছি আমি। সেই টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত কত জনসভা করেছি। এমনকি পল্টনেও একুশে ফেব্রুয়ারি আমার সভাপতিত্বে আমরা জনসভা করেছি। সেটাতে আটক হয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া বেরিয়েছে। আমি, তোফায়েল, রাজ্জাক ভাই, রব ভাই, খালেদ মোহাম্মদ আলী, জামাল হায়দার এ রকম আটজনের বিরুদ্ধে আমাদের হুলিয়া বেরিয়েছিল। যাহোক সেটা অন্য কথা। ডাকসুর মূল কাজ হচ্ছে ছাত্রদের দাবি দাওয়া। কি কি বিষয়ে তারা সমস্যায় আছে সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা। এছাড়া তাদের এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিসগুলো চালিয়ে নেওয়া। সে সময়ে আমাদের প্রত্যেকটা হলে যে সংসদ ছিল তারা প্রতি সপ্তাহে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতো। সেখানে কবিতা আবৃতি, গান, নাটক ও স্মরণিকা বের হতো। নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সঙ্গীতসহ নানা ধরণের দেশত্ববোধক গান হতো। একটা হলের সঙ্গে আর একটা হলের মধ্যে প্রতিযোগিতারও আয়োজন করতো ডাকসু। এ সব আয়োজনের মধ্য দিয়ে একজন তরুণ ও তরুণী একাডেমিক লেখা-পড়ার পাশাপাশি বাহিরের জগৎ সম্পর্কে জানতে পারতো। মনোজগৎকে একটা আলোকিত জায়গায় নেওয়ার সযোগ পেত। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  ডাকসুর সেই কার্যক্রমে দেশ কতটুকু উপকৃত হয়েছে বলে আপনি মনে করেন? মাহফুজা  খানম:  ডাকসুর সেই অবদানের কারণেই আজকে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, রামেন্দ মজুমদার, ফেরদৌসি মজুমদার এ রকম অনেকেই তৈরি হয়েছেন। এছাড়া কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তারাও কিন্তু ডাকসুর তৈরি। তারা ডাকসু থেকে নেতৃত্ব শিখতে পেরেছে। যার কারণেই তো তারা আজ দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আজকে যে মেনন ভাই, তিনি আমার দুই বছর আগে ডাকসুর ভিপি ছিলেন। আর মতিয়া আপা জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। আর আমার আগে ডাকসুর ভিপি ছিলেন ফেরদৌস কোরেশি। এসবের মধ্য দিয়ে কিন্তু নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন বিরাট একটি অংশ বেরিয়ে এসেছে। সেখানে নেতৃত্বের অনুশীলনে ডাকসু বিরাট একটি ভূমিকা  রেখেছে। আজকে চিন্তা করতে পারি যে গত ২৮ বছরে দেশ ডাকসুর ৫৬ জন নেতাকে হারিয়েছে। অর্থাৎ গত ২৮ বছরে যদি নির্বাচন হতো, তবে প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি মিলে মোট ৫৬ জন যোগ্য নেতা দেশে তৈরি হওয়ার সুযোগ পেতো। সে হিসেবে আমরা ৫৬ জন নেতাকে হারিয়েছি। যেটা আমাদের জাতির জন্যে কখনও শুভ নয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে আপনার মতামত কি? মাহফুজা খানম:  এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত বার সিনেট সদস্য আমি। আমি প্রত্যেকটা সিনেট অধিবেশনে এই প্রস্তাবটি দেই যে, আপনারা ডাকসুর নির্বাচন করুন। কেন নির্বাচন হচ্ছে না সেটাও বলুন। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনার প্রস্তাবে কি ধরনের উত্তর পাওয়া গেছে? মাহফুজা খানম: নির্বাচন হতে হলে সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্চেলরের ও কিছু ভূমিকা রাখার ব্যাপার আছে। ভিসি যদি সরকারের আজ্ঞাবহ হয়, তবে তো নির্বাচন হবে না। সরকার যখন মনে করবে সেখানে নির্বাচন দিলে তার প্রার্থী আছে। সে জয়ী হয়ে আসবে। তখন দিবে। আর যদি না দেয় তো ভিসি তার জন্য নির্বাচন চেতে পারে। কিন্তু তিনি যদি আজ্ঞাবহ হন তবে তা কখনও হবে না। বিষয়টি হয়েছে এমন যে, আমি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে চালাবো। আমার যে প্রয়োজন আছে ডাকসুর। আমার যে প্রয়োজন আছে হল সংসদগুলোর। এ রকম  ভিসি নেই। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: তাহলে কি নির্বাচন কি আদেও হবে না? মাহফুজা খানম:  আজ ছাত্র সমাজ যে একটা সংঘাতময় অবস্থানে আছে। এ সংঘাতময় অবস্থা থেকে এ ইলেকশনগুলো করতে হলে সরকার ও প্রশাসনের একটা সহযোগিতা দরকার। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঘটতেই পারে। কারণ আমি মনে করি আজকে ২৮টি বছর ছাত্র সমাজের চরিত্র হরণ করা হয়েছে। কারণ আগে যারা ছিল ছাত্রদল তারা হলগুলোকে দখল করে রেখেছিল। আজ যে সরকার তাদের ছাত্র সংগঠন সেই হল দখল করে রেখেছে। সেখানে আর ছাত্রদল ঢুকতে পারছে না। তো এটাতো হতে পারে না। একটা ছাত্র তার আদর্শ কোথায় থাকবে। কিসে সে বিশ্বাস করবে। সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। সে ছাত্রদল করতে পারে। ছাত্রলীগ করতে পারে। আবার ছাত্র ইউনিয়নও করতে পারে। কিন্তু তাদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক চেটিয়াভাবে রাখা যাবে না। একটা বিষয়ে আমি ভীষণ কষ্ট পাই। যেটা আমি বিভিন্ন জায়গাতে বলি। সেটা হলো হলগুলোতে যে প্রভোস্ট আছে। তাদের কোন কর্তৃত্ব থাকে না। আমাদের সময় হল প্রভোস্ট কোন ছাত্র বা ছাত্রীর কি সমস্যা তা দেখতো। আজ সে সমস্যা দেখে ছাত্ররা। আর ছাত্র সংগঠনটি ছাত্র ওঠাতে গিয়ে টাকার লেনদেন করে। যা এখন অপেন সিক্রেট। আর এটা বছরের পর বছর চলছে। আমি সম্প্রতি জসিম উদ্দিন হলে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন প্রভোস্টকে জিজ্ঞাসা করলাম। তোমরা রিজাইন দাও না কেন? চাকরি ছাড়লে তোমরা কি না খেয়ে মরে যাবা? কারণ শিক্ষকরা হচ্ছে জাতির বিবেক। তারা যেখানে ছাত্র উঠানো দায়িত্ব পালন করবে। সেখানে তাদের দায়িত্ব পালন করছে ছাত্ররা। শুধু তাই না। ছত্ররা টেন্ডারবাজিও করছে। চাঁদা উঠাচ্ছে। টাকা নিয়ে হলে সিট দিচ্ছে। এখন আগামীতে যারা দেশের হাল ধরবে। তারা যদি এতোটা দুর্নীতিবাজ হয়। তবে দেশ চলবে কিভাবে। তবে হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা দিয়েছিল যে আমার ডাকসু নির্বাচন হতে হবে। সে ৬ মাস পেরিয়ে গেল নির্বাচন হল না। তারপর আবার নির্দেষনা দেওয়া হলো কয়েকটি সংগঠন সম্প্রতি মিটিং করলো। সেখানেও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এলো না। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এতো তাড়াতাড়ি ডাকসু নির্বাচন সম্ভব না। এটা করতে হলে একটা প্রকৃক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সে জন্য সময় লাগবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ডাকসুকে আগামীতে কোন জায়গায় দেখতে চান? মাহফুজা খানম: আমি যখন  ডাকসুর ভিপি ছিলাম। আমাদের টাকা পয়সার এমন লেনদেন ভাবনাই ছিল না। আমার মনে পড়ে আমাদের ইশতেহার ছাঁপা হয়েছিল।  ওটা আনতে পারছিলাম না। টাকা ছিল না। তাই নিজের হাতের ঘড়ি বন্ধক রেখেছিলাম। সেই বন্ধকের টাকা দিয়ে ইশতেহার এনেছিলাম। বাড়ি গেলে মা বলেছিল তোমার হাতে ঘড়ি কই? জানতে পেরে তিনি টাকা দিয়েছিলেন। পরেরদিন টাকা ফেরৎ দিয়ে সেই ঘড়ি ফিরিয়ে নিয়েছিলাম। আমরা যেখানে নিজেদের পয়সা খরচ করে ছাত্র সংগঠন করেছি। আজকে সেইখানে কি হচ্ছে? ঠিক তার উল্টা দৃশ্য। আজকে একটি পদ পেতে লাখ লাখ টাকা খরচ করছি। আবার পদে গিয়ে সেই টাকা উঠাতে গিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছি। এসব জায়গাগুলোতে আমার খুবই দুঃখবোধ আছে। আমি জানি না কেন সরকার এগুলো বন্ধ করে না। আমি বলবো এই সরকার অনেক কিছু করেছে। অনেক কিছু করবেন আরও আশা করি। আমাদের রাজনীতির একটা আদর্শ থাকতে হবে। যে আদর্শ আমাদের সময় ছিল।   এসএইচ/

‘কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করলে চাকরি সহজ হবে’

একাডেমিক শিক্ষার সর্বোচ্চ সনদ নিয়েও বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছে শিক্ষার্থী, চাকরি মিলছে না। স্নাতকোত্তর পাশের পর তিন থেকে চার বছর আবার চাকরির জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। করতে হচ্ছে কোচিংও। তাহলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গলদটা আসলে কোথায়? অন্যদিকে দেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের বা জনসংখ্যার বোনাস যুগ অতিবাহিত করছে। যেখানে দেশের বেশির ভাগ মানুষ কর্মক্ষম। কিন্তু কতটা কাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে সে কর্মক্ষমের সুযোগ? এসব প্রশ্নের সুলোক সন্ধানে একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আলী আহসানের। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষাটা অনেকটা পাঠ্যবই নির্ভর। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও যে একটা জগত আছে সেটা ছাত্রদের বোঝার সুযোগ রাখতে হবে। পৃথিবীর পরিবর্তীত চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্য বই তৈরি করতে হবে। পাঠ্য বইয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসব খাত বেশি গুরুত্ব পায় সেগুলো সন্নিবেশ  ঘটাতে হবে। একজন ছাত্র শিক্ষা জীবন শেষ করে চাকরিতে ঢুকলে যে অভিজ্ঞতা দরকার সেটা শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তার সঠিক নম্বর বা মূল্যায়ন থাকতে হবে। অর্থাৎ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার নানাদিক  ছাত্রদের পাঠ্য বইয়ের সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করলে চাকরি পাওয়া সহজ হবে। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারটির শেষ পর্ব আজ পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের দেশে কোচিংয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বাণিজ্যের বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?  আলী আহসান: পৃথিবীর সব দেশেই প্রাইভেট সেক্টরে শিক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমাদের দেশেও আছে। এটা দোষের না। তবে প্রাইভেট সেক্টরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ৫ কোটি টাকা ইমভেস্ট হচ্ছে তাই ইচ্ছামত লাভ করতে হবে এই সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। এখানে অনুমোদন দিতে হবে ডেলিগেটেড পার্সনকে। কিন্তু যাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হলো তিনি যদি মানবিক বা ডেলিগেটেড না হয়, তিনি তো শুধু লাভের বিষয়টি-ই দেখবে। এখানে ইউজিসি অনেকটা ঠুটো জগন্নাথ হিসেবে কাজ করে। কারণ তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। ইউজিসি’র চোখে খারাপ দেখলে তারা শুধু মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে পারে। এখন মন্ত্রণালয় যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধে কোন পদক্ষেপ না নেই, তবে ব্যবসা তো চলবেই। কারণ আমাদের দেশটা মুক্তবাজার অর্থনীতির। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: শিক্ষা ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে অনেকটাই সনদনির্ভর। দেশপ্রেম, নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রচুর ঘাটতি রয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। এগুলোর চর্চার অভাবে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের সম্পদ হওয়ার পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি? আলী আহসান: আমাদের যে শিক্ষানীতি হয়েছে- আমি যদি ভুল না বলে থাকি, কেন জানি ইচ্ছা করে শিক্ষাকে নষ্ট করা হচ্ছে। আমাদের কখনও সৃজনশীল, কখনও প্রশ্নব্যাংকের নামে শুধু অভিজ্ঞতাই নিয়ে যাচ্ছি। এখনও আমাদের সারা দেশের উন্নতির জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিতে যেতে পারিনি। আমরা বাহিরের দেশকেও অনুস্মরণ করছি না। আবার নিজস্বতাও রক্ষা করছি না। যদিও সৃজনশীল  আনলাম বাহির থেকে। তারপও সেটা  প্রকৃত সৃজনশীল হিসেবে কাজে লাগাতে পারলাম না। সৃজনশীলে দেখা যাচ্ছে বাহির থেকে একটা প্যারা দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন সেই পাঠ্য বইয়ের গধবাঁধা নিয়েমেই হচ্ছে। যেখানে শিক্ষকদেরও দেওয়া হয়নি পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: শিক্ষার এ পরিস্থিতি থেকে কিভাবে বের হয়ে আসা যায়? কিভাবে শিক্ষাকে কর্মমৃখী করা যায়? আলী আহসান: শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রাইমারি লেভেল থেকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমাদের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। নামের প্রশিক্ষণ দিলে হবে না। দিতে হবে কার্যকরি প্রশিক্ষণ। আমাদের শিক্ষাকে শুধু পাঠ্যবই মুখী রাখলে হবে না। এটাকে বহির্মুখী করতে হবে। অর্থাৎ খবরের কাগজ থেকেও ছাত্রদের প্রশ্ন আসতে হবে। অযাচিত প্যারাগ্রাফ দিয়েও তাদের প্রশ্ন করতে হবে। তবেই ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার পরিধি সংকীর্ণ থাকবে না। তারা ব্যাপকভাবে শিক্ষা নিতে পারবে। দেশ ও দেশের বাইরের পরিস্থিতি ও চাকরির বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী গড়ে উঠতে পারবে।   এসএইচ/    

কৃষিতে বিনিয়োগ-কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ব্যাপক: ইলিয়াস মৃধা

বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ। এটি কৃষিনির্ভর দেশ হিবেসেও বিশ্বখ্যাত। এদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ এবং শ্রমশক্তি ৬০ ভাগ কৃষি কাজে নিয়োজিত। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষি উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়ন করা দরকার। দেশে কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ভাবে বহুমুখী উদ্যোগ নিলে সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ-এমনটাই মনে করেন প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে  টিভি অনলাইন: কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে করনীয় কি? ইলিয়াস মৃধা: কৃষি খাতে উন্নতির জন্য আমাদের দু’টি দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এক অর্থকরী ফসল উৎপাদনের দিকে মন দিতে হবে। দুই বিজ্ঞানভিক্তিক কৃষিকে প্রাধান্য দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের শ্রমের মানসস্মত মুজরি নির্ধারণ করতে হবে। না হলে এ পেশায় আগামীতে লোক খোঁজে পাওয়া যাবে না। লোক সংকট নিয়ে কৃষি খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। আগের থেকে কিছুটা হলেও কৃষি খাত উন্নতি লাভ করছে। আগে আমার গরু দিয়ে জমি চাষ করতাম। এখন আমরা যন্ত্রের মাধ্যমে জমি চাষ করি। কৃষিকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারলে এবং উৎপাদিত ফসলকে যদি প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে পারি। তাহলে কৃষি খাতের প্রসারতা বাড়বে। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। তবে খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, মোট জাতীয় উৎপাদনে বিপুল অবদান এবং সর্বাধিকসংখ্যক কর্মসংস্থানের উৎস হওয়া সত্ত্বেও দেশের সার্বিক চাহিদা ও কৃষির বর্তমান উৎপাদনের মধ্যে এখনও বিপুল পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি দেশের প্রধান প্রধান আমদানি দ্রব্যের তালিকায় নজর দিলে বিষয়টি আরো সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। দেশের কৃষি খাতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কিছুটা প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারলে আমরা কৃষির প্রকৃত স্বাদ পেতে পারি। কৃষির সম্ভাবনা বলতে, মোট জাতীয় উৎপাদনে একক বৃহত্তম খাত হিসেবে কৃষিই সর্বাধিক অবদান রাখছে, শস্য উৎপাদন পদ্ধতি ব্যাপকভাবে শ্রমঘন এবং কৃষি খাতে বিদ্যমান উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তি, দক্ষ ও অদক্ষ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কৃষি খাতই বৃহত্তম উৎস, বছরব্যাপী বিদ্যমান অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, জৈব বৈচিত্র্যের ব্যাপক সমাহার, বিভিন্ন প্রজাতির শস্য এবং কৃষিজ উৎপন্ন হলো আমিষ, খনিজ ও ভিটামিনের প্রধান উৎস এবং সর্বোপরি কৃষিজাত উৎপন্নের ক্ষেত্রে অন্যান্য উৎপাদনের চেয়ে অধিকতর মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। আবার প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে, কৃষি ব্যবস্থা প্রকৃতির খেয়াল খুশির ওপর নির্ভরশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ, আবাদযোগ্য ভূমির লভ্যতা ক্রমাগতভাবে কমে যাচ্ছে, কৃষিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক দারিদ্র্য, কৃষি কাজের অন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব, কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত আধুনিক প্রযুক্তির স্বল্পতা, অনুন্নত ও দুর্বল বাজার ব্যবস্থার কারণে কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, কৃষিজ উৎপন্নসমূহ দ্রুত পচনশীল এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যধিক এবং ফল এবং শাক-সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিজ উৎপন্নের পুষ্টিমান সমন্ধে সাধারণ মানুষের সীমাবদ্ধ জ্ঞান। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কৃষিকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ের বা কৃষক পর্যায়ের খাত বললে একে, ভুল বলা হবে। কৃষির উন্নয়নে এখন প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ব্যবহার করা করতে হবে। বৈচিত্র্য আনতে হবে কৃষিতে। প্রযুক্তি প্রসারতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচির পরির্বতন আসছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই কৃষি প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। তাহলে আমরা সারা বছর মৌসুমী ফল খেতে পারবো। যেমন আমের মৌসুমে আম খেতে পারি। পরে আমের তৈরি আচার খেতে পারবো। সারা বছর আমের জুস খেতে পারবো। এমন অবস্থা সৃষ্টি করতে পারলে আমরা দুই দিন থেকে সুবিধা লাভ করতে পারবো। একদিকে সারাবছর  মৌসুমী ফলের স্বাদ নিতে পাচ্ছি। অন্যদিকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে পারবো। বৈদেশিক আয়ের অর্থ দিয়ে আমরা কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবো। একুশে টিভি অনলাইন : দুধে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে করণীয় কি? ইলিয়াস মৃধা: বাংলাদেশে দুধের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এখনও গুড়া দুধ প্রচুর পরিমাণে আমদানি করতে হচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে যে পরিমান দুধ প্রয়োজন সে পরিমাণ দুধ আমরা যোগান দিতে পারি না। বাধ্য হয়েই বিদেশ থেকে গুড়া দুই নিয়ে আসতে হয়। আমরা বিদেশ থেকে গাভী নিয়ে আসতে পারি বা আমাদের দেশে আবহাওয়ার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে এমন গাভী পালন করতে পারি। তাহলে একদিন দুধের  চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে আমরা দেশি গরু দিয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি আমরা যদি এমন পদক্ষেপ নিতে পারি বিদেশ থেকে আর দুধ আমদানি করতে হবে না। একুশে টিভি অনলাইন: কৃষি খাতে রফতানি বাড়াতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? ইলিয়াস মৃধা: কৃষি খাতে রফতানি বাড়তে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের সঙ্গে যে অশুল্ক বাজার রয়েছে সেটা যদি সমধান করা যায় তাহলে রফতানি আরও বাড়বে। এছাড়া জিরো ডিগ্রী শর্তে যেসব দেশগুলো রফতানি সুযোগ দিয়ে থাকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পোষাক শিল্পে জিএসপি দিচ্ছে না। তবে আমার যদি কৃষি পণ্যে জিএসপি সুবিধা নিতে পারি। কৃষিকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে পারবো। সরকার যে ১০০টিরও বেশি শিল্প অঞ্চল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।  এর সঙ্গে যদি কৃষিকে প্রধান্য দিয়ে শিল্প অঞ্চল তাহলে আরও বেশি উন্নতি ভালো করতে সক্ষম হবো। এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। ইলিয়াস মৃধা: একুশে পরিবারকেও ধন্যবাদ। টিআর / এআর          

বিশ্ববাজারে প্রাণের চাহিদা বাড়ছে (ভিডিও)

বৈচিত্র্যময় পণ্যসম্ভার নিয়ে দেশের বাজারে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে প্রাণ গ্রুপ। একই সঙ্গে তাদের দৃষ্টি ছিল আন্তর্জাতিক বাজারের দিকেও। বাংলাদেশি বহুজাতিক কোম্পানি হিসেবে প্রতিযোগিতামুখর বৈশ্বিক বাজারে ঠাঁই করে নেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু প্রাণ গ্রুপের। সেই লক্ষ্যে উদ্ভাবন ও মানোন্নয়নে মনোযোগী হয় তারা। ইতোমধ্যে তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে তাদের অবস্থা জানান দিতে চায়। অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায় গ্রুপটি। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে চায়। ১৯৯৬ সালে রফতানি কার্যক্রম শুরুর পর বর্তমানে ১৪১টি দেশে নিয়মিত রফতানি হচ্ছে প্রাণের পণ্য। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রাণ বিশ্বের সব দেশে পণ্যসামগ্রী পৌঁছাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রাণের ব্যবস্থাপনার পরিচালক এই আশা ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: প্রতি বছর কত তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে প্রাণ? ইলিয়াস মৃধা: বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএলের পণ্য দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। ফলে তরুণ চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে প্রাণ-আরএফএল গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় এক লক্ষ। প্রতি বছর এখানে অনেক লোক নিয়োগ পান। বছরে ১২ হাজার তরুণ প্রাণ কোম্পানিতে চাকরি নেন। আর এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংবাদপত্রে ও চাকরির বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। একুশে টিভি অনলাইন: নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে আপনার পরামর্শ কি? ইলিয়াস মৃধা: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি-বেসরকারিভাবে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করানো হয়। নতুন কোন শিল্প তৈরি করার ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা পড়তে হয়। কিভাবে টাকা যোগান দিবেন। কত পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে পাবেন। নিজে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। এ বিষয় নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। আমাদের দেশেও এমন করা যেতে পারে। নতুন উদ্যোক্তার যারা তৈরি হবে তাদেরকে যদি বিভিন্ন শিল্প-কারখান পরিদর্শন করার সুযোগ দেওয়া যায়। তাহলে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে বলে আমার মনে হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানিকভাবে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়। দেশের ব্যাংকগুলো থেকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার জন্য প্রতিষ্ঠানিক বাজারমুখী বা কর্মমূখী শিক্ষার প্রয়োজন আছে কি? ইলিয়াস মৃধা: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আগের থেকে অনেকটা উন্নতি লাভ করেছে। তবে আমার মনে হয় শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের বাস্তবমূখী শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের পাশাপাশি যারা শিল্প পরিচালনা করে তাদেকেও শিক্ষক হিসেবে রাখা যেতে পারে। তাহলে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমূখী শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। বর্তমানে যারা সিলেবাস তৈরি করছেন তারা শিল্পের বর্তমান অবস্থান জানেন না। তার যদি শিল্প-কারখানে পরিদর্শন করে। শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে যদি সিলেবাস তৈরি করেন। তাহলে মনে হয় অনেক ভালো হবে। এছাড়া শিল্প-কারখানা তৈরি করার জন্য কি কি দরকার তা যদি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা যায়। তাহলে সুবিধা লাভ করা যায়। আমরা যারা শিল্প-কারখান পরিচালনা করি তাদের জন্য সুবিধা হবে। বর্তমানে যে শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে বের হয়ে তিন থেকে চার বছর তাকে আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে হয়। যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এসব বিষয় পড়ালেখা করে আসতো তাহলে আবার নতুন করে পড়াশোনা করতে হতো না। একুশে টিভি অনলাইন: আমাদের দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেসব শিক্ষার্থীরা পাশ করে বের হয়ে চাকরির বাজারে আসছেন, তারা কেমন প্রভাব ফেলছে ? ইলিয়াস মৃধা: তার অনেক ভালো করছে। তার বিভিন্ন সময় আমাদের কারখানাগুলো পরিদর্শন করছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের সঙ্গে বসে তাদের সিলেবাস তৈরি করছে। তবে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃষিকে তেমনভাবে যুক্ত করা হয়নি। যে সব শিক্ষার্থীরা এম বিএ শেষ করে এসে তাদের যে ব্যাংক ও বিমা পড়ানো হচ্ছে। কিন্তু  কৃষির ওপর কেন হচ্ছে না আমার বুঝে আসে না। একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ইলিয়াস মৃধা: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ।     এসএইচ/

ইয়াবার চেয়েও ভয়ানক মাদক ‘খাত’: ডা. অরূপ রতন চৌধুরী

সর্বগ্রাসী মাদক শেষ করে ফেলছে এদেশের তরুণ প্রজন্মকে। স্কুল-কলেজ, শহর-নগর, গ্রাম-গঞ্জ, সর্বত্রই এখন মাদকের ছড়াছড়ি। এ অবস্থায় দেশকে মাদক মুক্ত করতে শুরু হয়েছিল মাদক বিরোধী অভিযান। এখনো দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে এ অভিযান। এর মাঝেই দেশে ‘খাত’ নামে নতুন এক মাদকের আবির্ভাব ঘটে। যা নিয়ে শঙ্কিত এদেশের মানুষ। এ বিষয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ডা. অরূপ রতন চৌধুরী। যিনি দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে ধুমপান ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, নিজের পেশার বাহিরে এসে সমাজকে বদলে দেওয়ার চিন্তায়, এ দেশের যুব সমাজকে রক্ষায় নিরলসভাবে এখনো কাজ করে যাচ্ছেন।    একুশে টিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপ-চারিতায় নতুন মাদক ‘খাত’এর ভয়াবহতা ও মাদক নির্মূলে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আউয়াল চৌধুরী। ইটিভি অনলাইন: দেশে মাদক বিরোধী অভিযান চলছে এর মাঝেই ‘খাত’ নামে নতুন একটি মাদকের নাম ওঠে এসেছে। এই মাদকটি সম্পর্কে জানতে চাই? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: বাংলাদেশে মাদকের যে সমস্যা তা ইতোমধ্যে সরকার নির্ধারণ করেছে। মাদক বিরোধী যেসব সংগঠন কাজ করে তারাও এই সমস্যা চিহ্নিত করেছে। ফলে সরকার এখন জিরো টলারেন্সে আছে এবং মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে যে নতুন মাদকটি ধরা পড়েছে যেটিকে আমরা `খাত` বলছি, সেটা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের মাদক। কয়েকদিন আগে যে চালানটি ধরা পড়ল তাতে আমরা জানতে পারলাম এমন একটি মাদক দেশে এসেছে। ইটিভি অনলাইন: এ মাদকের উৎপত্তি কোথায়? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: মাদকটি ইথিওপিয়া, সোমালিয়া এসব আফ্রিকান দেশে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ওই সব দেশের আশি-নব্বই ভাগ লোক মাদকটি সেবন করে থাকে। মাদকটি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে এসেছে এমনটি বললে ভুল হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক বছর যাবৎ মাদকটি এদেশে আসছে। আমাদের অনুসন্ধান টিম বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিন্তু এখনো পর্যন্ত এটা আবিষ্কার করতে পারেনি। মাত্র গত সপ্তাহে আবিষ্কার হল যে মাদকটি আসছে। ইটিভি অনলাইন: ‘খাত’ মাদকে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: নতুন এই মাদকটি দেখতে চায়ের মতো। এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘টি’ সেহেতু এটাকে মাদক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি। মাদক সাধারণত পাউডার জাতীয় হয়। ইয়াবা যে একটা ট্যাবলেট, সেটা চিহ্নিত করা গেছে। কিন্তু নতুন এই মাদকটি চিহ্নিত করা যায়নি। এটিকে ‘নিউ সাইকোট্রফিক সাবস্ট্যানসেস’, সংক্ষপে এনপিএস বলা হয়। মাদকাসক্তদের কাছে এর নাম হচ্ছে ‘খাত’ বা ‘খাট’।   মাদকটি কিন্তু ইয়াবার চেয়ে ভয়ংকর। বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা যায় ইয়াবার যেসব গুণাগুণ রয়েছে যেমন যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি, তিন চারদিন ঘুম না হওয়া, খিদে না লাগা বা শুকিয়ে যাওয়া- এসব উপসর্গ কিন্তু নতুন `খাত` মাদকটিতে রয়েছে। দেখা যাচ্ছে মাদকটি ইয়াবার সমসাময়িক। `খাত` মাদকটিও জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের যে চক্র, ড্রাগস ডিলার্স রয়েছে তারা কিন্তু বুঝতে পারছে বাংলাদেশ সরকারের মাদক নির্মূলের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যৌথ কমিটি হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ বৈঠক চলছে। এমন সিদ্ধান্ত হচ্ছে যেন দুই দেশে এমন মাদক আর না আসে। এটা বুঝতে পেরেই কিন্তু মাদক চক্র এখানে মাদক প্রবেশ করাচ্ছে।   ইটিভি অনলাইন: কিভাবে আমরা এই মাদক থেকে বের হয়ে আসতে পারি। ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: নতুন যে মাদকটি আসছে সেটি স্থল বা নৌ পথে আসছে না। এটি আসছে বিমান পথে। তাই এখনই যদি বিমান বন্দরগুলোতে অনুসন্ধানী তৎপরতা আরও জোরদার করা যায় তাহলে সহজে এই মাদকের ছোবল থেকে বের হয়ে আসা যাবে। এই মাদক চায়ের ব্যাগে, মাস্কের ভেতর, নানা ধরনের বাক্সে, যে কোনো ধরনের ঢাকনা দেওয়া বস্তুর মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব। এখন আমাদের এখানে কিছু গলদ রয়েছে যার ফলে এটা শনাক্ত করা খুব সমস্যা। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অর্থাৎ যারা মাদক নির্মূলে কাজ করছেন তাদের আরও বেশী সক্রিয় হতে হবে। তাদেরকে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে যাতে প্রাথমিক অবস্থায় মাদকটি বন্ধ করা যায়। অন্যথায় এটার ফলাফল ইয়াবার চেয়েও ভয়াবহ হবে। ইটিভি অনলাইন: সরকার মাদক বিরোধী অভিযান যেভাবে শুরু করেছিল এখন সেভাবে আর হচ্ছে না বা বন্ধ হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে মাদক নিয়ন্ত্রণ কিভাবে হবে বলে করেন? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: সরকার মাদক বিরোধী যে উদ্যোগটা নিয়েছিল সেটা কিন্তু এখনো বন্ধ হয়নি। ছোট খাট অভিযান কিন্তু চলছে। খবরের কাগজে নিয়মিত আসছে বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হচ্ছে, প্রত্যেক জেলায় মাদকের চোরাচালান আটক হচ্ছে। তবে এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় এখনো মাদক আসা বন্ধ হয়নি। মাদককারবারীদের আইনের আওতায় যেমন আনা হচ্ছে আবার অনেকে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হচ্ছে। সুতরাং মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধ হয়নি বা কমে যায়নি। যে খবরগুলো আমরা টপ নিউজ হিসেবে দেখতাম বা প্রচার হতো সেগুলো এখন আমরা দেখতে পাচ্ছিনা। ইটিভি অনলাইন: মাদক আসাতো বন্ধ হচ্ছে না। তাহলে আমাদের করণীয় কী? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: আমি মনে করি সরকার জিরো টলারেন্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক নির্মূলের যে নির্দেশ দিয়েছে তা যেন অব্যাহত রাখে। পাশাপাশি মিডিয়ারও উচিত এ ধরনের নিউজগুলোকে হাইলাইটসে নিয়ে আসা। এই যে নতুন মাদক `খাত` আসলো, এটা আমরা ছোট ছোট নিউজ হিসেবে দেখছি। এক্ষেত্রে আরও বেশি প্রচার দরকার। এটা কিন্তু ভয়ংকর একটা মাদক, যুব সমাজের জন্য হুমকী। এই বিষয়ে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। ইটিভি অনলাইন: তরুণ প্রজন্ম এই মাদক থেকে কিভাবে বের হয়ে আসতে পারে? ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: মাদক থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমাদেরকেই ভুমিকা রাখতে হবে। আমরা যদি আমাদের সন্তানদের ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সতর্ক করতে না পারি তাহলে তাদের বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দেশের বৃহৎ অংশ তরুণ। এই তরুণরাই কিন্তু মাদকাসক্ত হয়। তাদের এখন মাদকাসক্ত হওয়ার বয়স। এই সময় যদি তাদেরকে সতর্ক করা না যায় তাহলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলেও কোনো লাভ হবে না। আমাদের ঘর থেকেই সেই আন্দোলন শুরু করতে হবে। সুতরাং আমাদের সন্তানদের সতর্ক করতে হবে। নতুন মাদক সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে হবে। স্কুল, কলেজেসহ সব জায়গায় মাদক বিরোধী অভিযান যেন অব্যাহত থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে। সরকার যেমন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সতর্ক থাকে সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে। স্কুলের আশপাশের এলাকাগুলো এখন মাদকের আখড়া। শিক্ষকরা যেন ছাত্রছাত্রীদের দিকে খেয়াল রাখে সেই ব্যাপারে শিক্ষকদের সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষকে বেশী সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ-পাশে মাদক বিক্রীর দোকান, ঘাঁটি, দালাল- যারা আছে তাদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে। ইটিভি অনলাইন: আপনি দীর্ঘদিন থেকে ধূমপান ও মাদকবিরোধী আন্দোলন করছেন। পেশার বাহিরের এসব কাজে নিজেকে কতটুকু সফল মনে করছেন?      ডা. অরূপ রতন চৌধুরী: দেখুন আমি দীর্ঘ উনত্রিশ বছর ধরে এসব আন্দোলন সংগ্রামে জড়িত। আমি একজন দন্ত চিকিৎসক হলেও ১৯৮৯ সালে মাদক ও ধূমপানবিরোধী সংগঠন ‘মানস’ প্রতিষ্ঠা করি এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে দেশের যুব সম্প্রদায়কে ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রথমে আমার আন্দোলন শুরু হয়েছিল ধূমপান দিয়ে। আজকে দেখেন একটা সফলতা এসেছে। বাংলাদেশ সরকার তামাক নিয়ে আইন জারি করেছে। এখন পাবলিক প্লেসে কেউ ধূমপান করতে পারবে না। করলে তার জরিমানা হবে। পাবলিক প্লেস বলতে আমরা বুঝি স্কুল- কলেজ, বাজার, স্টেশন, লঞ্চ, ঘাট ইত্যাদি। সব জায়গায় এখন ধূমপান নিষিদ্ধ। এখন টেলিভিশনে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার হয় না। কোন ধরনের স্পন্সর হয়না সিগারেটের। এখন কোন বিলবোর্ডে সিগারেটের বিজ্ঞাপন দেখা যায়না। এটাই আমাদের আন্দোলনের স্বার্থকতা। একই ভাবে মাদকটাও সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে গেছে। এ নিয়েও আমরা কাজ করছি। দেশের অলি গলি, আনাচে কানাচে এখন ইয়াবা পাওয়া যায়। সুতরাং মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন করার সময় এসেছে। আমি নিজেও এখন মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সদস্য। একটা সংগঠনের সাথে কাজ করতে গেলে সরকারের সহায়তা লাগে। সরকারের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি আমরা মিডিয়াতে বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণ করে দিচ্ছি। সাম্প্রতিক কালে ‘স্বর্গ থেকে নরক’ নামে একটা পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। যেটা তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সব জেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে। সচেতন করাটাই আমাদের উদ্দেশ্য। তেমনি ভাবে প্রতি বছর বই মেলায় আমরা স্টল দিই। একমাস ব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার কাজ চালাই। তরুণদের সচেতন করার জন্য লিফলেট, পোষ্টার তাদের হাতে তুলে দিই। তাছাড়া আমরা প্রতিটি স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছেলেদের হাতে লিফলেট, পোষ্টার তুলে দিচ্ছি। সুতরাং নিজের পেশার পাশাপাশি সামাজিক কাজগুলো করে যাচ্ছি। এর মাঝে নিজের একটা তৃপ্তি রয়েছে। শ্রুতিলিখন: আলি আদনান    এসি     

‘গ্রাহককে ব্যাংকে না গিয়ে লেনদেনের সুবিধা দিতেই সিআরএম’

ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়া বা উত্তোলন করার ভোগান্তি দূর করতে দেশে চালু হয়েছিল অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ। যেখানে এতোদিন শুধু টাকা উত্তোলন করা যেত। কিন্তু জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি এবার জমা দেওয়ার ভোগান্তিও কমাতে গ্রাহকপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্যাশ রিসাইক্লার মেশিন (সিআরএম)। এরই মধ্যে দেশের তিনটি ব্যাংকে অর্ধশতাধিক সিআরএম মেশিন বসানো হয়েছে। যেখানে গ্রাহকরা লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি ছাড়াই নগদ টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন। জানা গেছে, এটিএম মেশিনের স্থলে সিআরএম ম্যাশিন প্রতিস্থাপন খুব দ্রুত দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই মেশিন নোট গুণতে পারবে, সেগুলো জ্বাল কি না, ছেড়া বা ফাটা কি না তাও যাচাই করতে পারবে। টাকাগুলো একই সময়েই হিসাবে জমা করতে পারবে। এতে করে ব্যাংক সেবায় কায়িক শ্রমের পরিমাণ কমে যাবে। দেশে এ পর্যন্ত তিনটি ব্যাংকে এ পদ্ধতির সিআরএম মেশিন বসানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো-সাউথইস্ট, সিটি এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। এ তিনটি ব্যাংক  এ পর্যন্ত ৫৬টি সিআরএম স্থাপন করেছে। আগামী এক বছরে আরো ১৬৬টি সিআরএম স্থাপনের ব্যবস্থা নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সাউথইস্ট ব্যাংক ঢাকা নগরীতে ১২টি সিআরএম স্থাপন করেছে। আগামী বছর মার্চের শেষ নাগাদ তারা আরো ৫০টি মেশিন স্থাপন করবে। সিআরএম ম্যাশিনের ব্যবহারসহ বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জানতে সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাইনুদ্দিন চৌধুরীর। তিনি বলেন, গ্রাহককে ব্যাংকে না গিয়েও ব্যাংকিং লেনদেনের সুযোগ দিতে আমরা সিআরএম ম্যাশিন চালু করেছি।গ্রাহকরা এখান থেকে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিতে পারবেন। যার জন্য গ্রাহককে কোনো অতিরিক্ত সেবামূল্য দিতে হবে না। আমরা আগামীতে এ সেবা দেশের সবচেয়ে বড় বড় বিপনি-বিতানে চালু করবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশের ব্যাংকিং লেনদেনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিল এটিএম বুথ। এখন বুথের স্থলে নতুন করে সিআরএম ম্যাশিন স্থলাবিষিক্ত হচ্ছে।দেশের তিনটি ব্যাংক এ ম্যাশিন স্থাপন করেছে। সাউথইস্ট সে ব্যাংকগুলোর একটি।কোন ধারণা থেকে আপনারা এ সিআরএম ম্যাশিন স্থাপনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন? এস এম মাইনুদ্দিন: আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আগামীতে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে যে পুরো লেনদেনটাই ক্যাশ ছাড়াই হচ্ছে।তবে সেই জায়গা যেতে আমাদের একটু সময় লাগবে।এরই মধ্যে ক্যাশলেস লেনদেন কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। যেমন বিকাশ ব্যাংক বিমুখ জনগণকে ক্যাশলেস লেনদেনে নিয়ে আসছে। তবে ক্যাশলেস লেনদেন শুরু হলেও আমাদের ক্যাশ নির্ভরতা কিন্তু রয়েই গেছে। তাই আমরা ভেবেছি যে ক্যাশ নির্ভরতা রেখেই লেনদেনে যতরকম আধুনিকতা করা যায়, আমরা তা করবো। আমরা  দেখেছি যে এটিএমের সঙ্গে আমরা যদি রিসাইকেলার যোগ করি, তবে মানুষ টাকা উত্তোলন এবং টাকা জমা দেওয়া দুটিই করতে পারবে। ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ৮০ শতাংশের কাজ হলো টাকা উঠানো ও জমা দেওয়া।এর বাইরে তারা বেশি কিছু করে না।লোন নেওয়া, লোন দেওয়া ও বিল পরিশোধ করার সংখ্যা কম।তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে ব্যাংক গ্রাহকদের এই বড় অংশের জন্য যদি আমরা সিআরএম ম্যাশিন বসাতে পারি, তবে ব্যাংককিং লেনদেনের ক্ষেত্রে যে জট লেগে যায় তা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য হলো-আমরা শুধু ক্যাশ উঠানোর পদ্ধতি রাখবো না, আমরা ক্যাশ উঠানো ও জমা উভয় পদ্ধতি এক সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাব।এ বছরই আমরা একটা সাইজেবল এমাউন্ট সিআরএম আমরা স্থাপন করবো। উন্নত বিশ্বে যারা ব্যাংকে এটিএম চালু করছে, তারা কিন্তু এটিএম ম্যাশিনে শুধু টাকা উত্তোলন নয়, উত্তোলনের সঙ্গে আরো অনেক কিছু যোগ করছে।ওইদিকেই আমারা যেতে চাই।কেননা উন্নত বিশ্বের প্রায় সব জায়গাতে এ সিআরএম ম্যাশিন আছে।আমরা বাংলাদেশীরা বেশির ভাগে ক্যাশে লেনদেন করতে পছন্দ করি।তাই আমাদের দেশে এটার প্রচলনের সম্ভাবনাও বেশি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাদের শুরুটা কিভাবে হলো? এস এম মাইনুদ্দিন: আমরা ২০১৬ সালে প্রথম ধারণা নেয় যে ব্যাংকে আমরা সিআরএম ব্যবহার করবো। আমরা প্রথমে মতিঝিল কর্পোরেট অফিসে এটা স্থাপন করি। পরে বিভিন্ন প্রকৃয়ার মাধ্যমে সর্বশেষ ২০১৭ তে আমরা এটা স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ধারণা পাওয়ার পরও  স্থাপনে এতো দেরি হওয়ার কারণটা আসলে কি?  এস এম মাইনুদ্দিন: ধারণাটা পেলেই সাথে সাথে এটা স্থাপন করা যায় না। কারণ এটার ব্যবহার উপযোগী করতে একটা দীর্ঘ প্রকৃয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যেমন আমাদের টাকা।টাকাটাকে ম্যাশিনের চেনার উপযোগী হতে হবে। সেজন্য টাকার সাইজ, টাকার শেফ, টাকার সিকিউরিটি ভ্যালুকে চিনাতে হবে।আমরা ১ হাজার টাকা এবং ৫০০ টাকা চেনাতে পেরেছি।এটার মধ্যে আবার ফেক নোট, সইল নোট আছে। সেগুলো ম্যাশিন কিভাবে চিনবে তাও নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া একুরেসিরও একটি বিষয় আছে।কারণ কেউ ৫০ টাকা দিয়ে বল্ল ১০০ টাকা দিয়েছি। তবে তো হলো না।টাকা যদি ম্যাশিন না চিনতে পারে তবে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।এরকম অনেক ছোট ছোট বিষয় ভেবেচিন্তে আমরা এটা চালু করেছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একটি সিআরএম ম্যাশিন স্থাপনে ব্যাংকের কত টাকা খরচ করতে হচ্ছে? এস এম মাইনুদ্দিন: দেখুন বাংলাদেশে প্রথম এটিএম ম্যাশিন নিয়ে আসে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক।ওরা যখন এক একটা ম্যাশিন নিয়ে আসে, তখন ম্যাশিনের দাম পড়তো ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। সেটা আজ থেকে ১৫-১৬ বছর আগে। কিন্তু এখন এটার দাম সহনীয় পর্যাযে আসছে।এখন শুধু ক্যাশ আউটের জন্য একটি এটিএম ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় পাওয়া যাবে। সিআরএম ম্যাশিনও তাই। এখন এটির দাম উচ্চ হারে আছে। এটাও এক সময় কমে আসবে। ব্যবহার বেশি হলে একসঙ্গে অনেকগুলো কিনলে দাম কমে আসবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একজন গ্রাহক কিভাবে সিআরএমের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা রাখবেন? এস এম মাইনুদ্দিন: একজন একাউন্ট হোল্ডারের একটি কার্ড থাকবে। সে কার্ডের নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড চেপে এটিএম বুথের মতোই এ সিআরএম বুথে প্রবেশ করবে। পরে নির্দিষ্ট একটি বাটন চাপলে দুটি অপশন আসবে। দুটি অপশনের একটিতে লেখা থাকবে আপনি কি টাকা উত্তোলন করতে চান? নাকি টাকা জমা দিতে চান? যদি কেউ উত্তোলন করতে চান তবে উত্তোলনের বাটনে চাপ দিবেন। আর যদি জমা দিতে চান তবে জমার বাটনে চাপ দিবেন। জমার বাটনে চাপ দিলে তার সামনে টাকা রাখার একটি জায়গা খুলে যাবে। সেখানে একদিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। নির্দিষ্ট ওই জায়গাতে টাকা জমা দেওয়ার পর সিআরএম ম্যাশিনে তা গণনা হবে। আবার টাকা ছেড়া-কাটা বা জ্বাল কিনা তাও যাচাই হবে মেশিনে। ‍মুহুর্তে এ কাজটি সম্পন্ন হবে এবং টাকা সঠিক থাকলে জমাকারি গ্রাহককে একটি কনফরমেশন রশিদ দেওয়া হবে। যেখানে জমা দেওয়া টাকার সিরিয়াল নম্বর, পরিমান, যে একাউন্টে জমা হচ্ছে তার নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য লেখা থাকবে।টাকা জমাকারি গ্রাহককে রশিদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার টাকা তার নিজের হিসেবেই জমা হয়ে যাবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আগামীতে এটিএম বুথ উঠিয়ে নিবেন কি না? এস এম মাইনুদ্দিন: আগামীতে গ্রাহকের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। তবে এ মুহুর্তে এটিএম উঠানোর কথা ভাবছি না। বরং এটিএমের পাশাপাশি সিআরএম স্থাপন করা হচ্ছে। গ্রহকের চাহিদা অনুযায়ী সিআরএম আরো বসানো হবে। খুব শিগগিরই আমরা আমাদের বড় ব্র্যাঞ্চগুলোতে এ ম্যাশিন সরবরাহ করবো। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী বড় বড় বিভাগগুলোতে এ ম্যাশিন সরবরাহ করা হবে।এছাড়া চাহিদা সম্পন্ন সুপার মার্কেটগুলোতেও আমরা এসব নিয়ে আসবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশে নতুন প্রচলিত এ ম্যাশিনগুলোর ব্যবহারে কোন প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যা দেখছেন কি না? এস এম মাইনুদ্দিন: যেকোন ম্যাশিনে কিছু না কিছু সমস্যা তো থাকেই। ম্যাশিনে টাকা আটকে যাবে। ম্যাশিনের রোলারগুলো কাজ করবে না। অন্যান্য ম্যাশিনগুলোর যেমন সমস্যা আছে এটাও তেমন আছে। তবে এটা ব্যবহার করতে আমরা প্রস্তুত। যত সমস্যাই থাক মেরামত করেই তা ব্যবহার করা হয়। ফলাফল: আমরা সিআরএম বসানোতে বেশ ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছি।গ্রাহকরা খুব সহজেই এটা গ্রহণ করেছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নতুন সিআরএম সম্পর্কে গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতে চান? এস এম মাইনুদ্দিন: আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-গ্রাহকরা একটা সময় এটা ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তাদেরকে আর টাকা জমা দিতে দৌড়া-দৌড়ি হুড়োহুড়ি করা লাগবে না।এটার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ব্যাংকিং আওয়ারে টাকা জমা দেওয়ার তাড়া থাকবে না। গ্রাহকরা যাতে ব্যাংকে না এসে ব্যাংকের কাজ করতে পারে, নিরাপদভাবে লেনদেন করতে পারে সে নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি। / এআর /  

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে আইসিটি খাত’

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলের কাতারে পর্যবেক্ষণের তালিকায় উঠেছে। গত কয়েক বছরে তথ্যপ্রযুক্তিসহ সার্বিক খাতে হয়েছে ব্যাপক উন্নয়ন। যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে ত্বরান্নিত করেছে। এমনটিই মনে করেন সামিটি কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও মো. আরিফ আল ইসলাম। একুশে টেলিভিশনের একুশে বিজনেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। একুশে টেলিভিশন: প্রথমে জানতে চাইবো দেশের তথ্য প্রযুক্তিখাতের অগ্রগতিটা কিভাবে মূল্যায়ন করছেন? আরিফ আল ইসলাম: টেলিকম খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে এটা আমরা সবাই জানি। আইএসপির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আইএসপি সেবাটাও সারা বাংলাদেশে অনেক বেশি সহজলভ্য হয়েছে। তিন বছর আগেও সিস্ক ব্রডব্যান্ড বাসায় বাসায় দিত। সেটা দুই-তিন শতাংশের কাছে ছিল। যেটা এখন ১০ শতাংশের কাছাকাছি। আশপাশের উন্নত দেশগুলোতেও দশের কাছাকাছি আছে। এছাড়া সফটওয়ার সেক্টরেও বেসিস ও অন্যান্ন প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমানে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন এটা নিয়ে কাজ করছে। হাইটেক পার্ক হচ্ছে। হার্ডওয়ার ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীন উৎপাদন পরিকল্পনা চলছে। আগে যেখানে চায়না থেকে বিশেষ ডিজাইনে বানিয়ে আনা হতো। এখন সেখানে দেশেই তা তৈরি হচ্ছে।দুই তিনটা প্লান্ট হয়েছে। আরো বেশি করার সম্ভাবনা আছে। সার্বিক বিবেচনায় আমরা এ খাতের প্রসারতায় উন্নয়নশীল দেশের কাছাকাছি চলে যাচ্ছি।আমাদের আইটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সূচকে আগের তুলনায় অনেক এগিয়েছি। আর দুই-তিন বছর পর আমরা একটা জাম্প দিতে পারবো। আমাদের ডিজিটালাইজড বাংলাদেশের একটি রিফলেকশন পাওয়া যাচ্ছে।ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে ত্বরান্নিত করছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। একুশে টেলিভিশন: সামিট কমিউনিকেশন্স এখন কোন কোন দিকে বেশি কাজ করছে? আরিফ আল ইসলাম: আমরা সারা বাংলাদেশে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক করছি।যেটার মাধ্যমে আইএসপি ও টেলিকম অপারেটররা ট্যান্সমিশন ব্যাকবোনের সুবিধা পাবে।সারা বাংলাদেশে আমাদের ৪০ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক আছে।এর মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার মোবাইল অপারেটর বেস কানেকশন অপারেট করছি।যেমন থ্রিজি ও ফোরজিতে যে পরিমান বেসস্টেশন ভলিয়ুম তৈরি হয়, সেটা ওয়ারলেসলি ক্যারি করা সম্ভব হয় না। একুশে টেলিভিশন: গ্রাহকদের মাঝে ইন্টারনেট সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কি করছেন? আরিফ আল ইসলাম: পাঁচ-ছয় বছরের আগের তুলনায় ইন্টারনেট কস্ট এখন অনেক কমেছে।এটার ভলিয়ুম যত বাড়বে কস্ট ততো কমবে। একুশে টেলিভিশন:  ইন্টারনেট সেবা নিয়ে আপনার মতামত কি? আরিফ আল ইসলাম: সেবার ক্ষেত্রে কয়েকটা পার্টি ইনভলপ।কিছু হ্যান্ড ওভার টেক ওভার ইস্যু আছে।বিশেষভাবে আমরা আইএসপি বা মোবাইল অপারেটরদেরকে যে সেবাটা দিচ্ছি সেটা হচ্ছে- আমরা ওনাদের ৯৯.৯৯৯ কনসিন্সটেন্টলি গত দুই বছর ধরে সরবরাহ করে যাচ্ছি। একুশে টেলিভিশন: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটালের ছোঁয়া লাগাতে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? আরিফ আল ইসলাম: ৮ বছর আগে আমাদের যখন লাইসেন্স দেয়, কথা ছিল ১০ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার। আমরা হয়তো আগামী ১ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ৯ বছরের মধ্যেই সব উপজেলা কাভার করে ফেলবো। ভিডিও দেখুন     

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি