ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০:৩১:১০

শেরপুরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদ (ভিডিও)

শেরপুরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদ (ভিডিও)

শেরপুরের সদর উপজেলার জঙ্গলদী গ্রামে কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হচ্ছে রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদ। সব্জি উৎপাদনে জৈব সার ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাড়ি বাড়ি তৈরী হচ্ছে কেঁচো কম্পোস্ট সার। ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসছে জঙ্গলদী।  বাড়িতে বাড়িতে চলছে কেঁচো চাষ, তৈরি হচ্ছে কম্পোস্ট সার। সবজি ক্ষেতে এই জৈব সার ব্যবহার করছেন কৃষকরা। কীটনাশকের বদলে সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার বেড়েছে। উৎপাদিত হচ্ছে রাসায়নিকমুক্ত লাউ, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, টমেট, লেবু, বেগুনসহ নানা সবজি। বাজারে এই অর্গানিক সবজির চাহিদাও বেশি।  স্থানীয় কৃষিবিভাগই জঙ্গলদীর এই নিরব বিপ্লবের অগ্রপথিক। প্রাথমিকভাবে ১৫টি কৃষক পরিবারকে কম্পোস্ট সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেয় তারা। তাদের সাফল্যে উৎসাহী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।   পরিবেশবান্ধব জনস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এমন চাষাবাদ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়–ক, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
‘ব্লাস্ট থেকে বাঁচতে অগ্রহায়ণের প্রথমার্ধে বপন করুন গমের বীজ’

বাংলাদেশে কৃষকদের কাছে অন্যতম চাষাবাদযোগ্য ফসল গম। যা আবহমান কাল ধরে তারা চাষ করে আসছেন। কিন্তু গত ২০১৬ সালে এ ফসলে আক্রমন করে ব্লাস্ট নামক ছত্রাকজনিত একটি রোগ। যা বছরে দেশের প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির গমকে নষ্ট করে দেয়। গবেষকরা তাই এ রোগ প্রতিরোধে আবিষ্কার করেছেন নতুন জাতের বারি গম ৩৩। রোগ থেকে রক্ষা পেতে এ গমের বীজ অগ্রহায়নের প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বপন করার জোর পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের(দিনাজপুর)মহাপরিচালক ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা বলেন, সামনে শীত আসছে। কৃষকদের এখনই গম চাষের প্রস্তুতি নিতে হবে।গমের ক্ষতিকর রোগ ‘ব্লাস্ট’ থেকে বাঁচতে কৃষকদের আগামী অগ্রহায়ন মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে বীজ বপন শেষ করতে হবে। তিনি বলেন, ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক নাম (ম্যাগনাপরথি অরাইজি পাইরিকুলারিয়া অরাইজি প্যাথোটাইপ ট্রিটিকাম)। গমের শীষ বের হওয়া থেকে ফুল ফোটার সময়ে তুলনামূলক উষ্ণ ও আর্দ্র  আবহাওয়া থাকলে এ রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। অর্থাৎ শীত ও গরমের তারতম্য বেশি হলে এ রোগ বেশি হয়। তিনি জানান, এ রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদেরকে ব্লাস্টমুক্ত গমের ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। অপেক্ষাকৃত কম সংবেদনশীল জাত বারি গম ২৮, বারি গম ৩০ এর  চাষ করতে হবে। বপনের আগে প্রতি কেজি বীজের সঙ্গে ৩ গ্রাম হারে প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি অথবা ৩ মিলি হারে ভিটাফ্লো ২০০ এফএফ ছত্রাকনাশক মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। বীজ শোধন করলে গমের অন্যান্য বীজবাহিত রোগও দমন হবে এবং ফলন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া প্রতিষেধক ব্যবস্থা হিসেবে শীষ বের হওয়ার সময় একবার এবং এর ১২ থেকে ১৫ দিন পর আরেকবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। প্রতি ৫ শতাংশ জমিতে ৬ গ্রাম নাটিভো ৭৫ ডব্লিউ জি-নভিটা ৭৫ ডব্লিউ জি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা আরো জানান, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধক জাত হিসেবে আমরা বারি গম ৩৩ উদ্বাবন করেছি। তবে আগামীতে রোগ প্রতিরোধে আরো শক্তিশালী নতুন গমের জাত উদ্ভাবনে আমাদের গবেষণা চলছে। এরই মধ্যে গবেষণার ৩ বছর পেরিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগে আমাদের বীজের নমুনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে আমরা কৃষকদের মাঝে আরো উন্নত জাতের গমের বীজ তুলে দিতে পারবো। বাংলাদেশ এগ্রিকালসার রিসার্স কাউন্সিলের ফসল বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ব্লাস্ট রোগটি ১৯৮৫ সালে সর্বপ্রথম ব্রাজিলে দেখা যায় এবং পরে ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা এসব দেশে এর বিস্তার হয়। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও ভোলা জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব  দেখা যায়, যা মোট গম আবাদি জমির প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমানে এ রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে আক্রান্ত এলাকাসহ এর আশপাশের এলাকাতেও কৃষকদের সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগটি অনেকটাই কমে এসেছে। আশা করছি আরো কমে আসবে। বাংলাদেশ এগ্রিকালসার রিসার্স কাউন্সিল সূত্র জানায়, গমের জাত ও বপনের সময়ভেদে রোগের মাত্রা এবং ফলনের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। এ রোগের কারণে আক্রান্ত  গমের ফলন শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কমে যায় এবং ক্ষেত্র বিশেষে কোনো কোনো ক্ষেতের ফসল প্রায় সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায়। একই প্রজাতির ছত্রাক হলেও গমের প্যাথোটাইপ ধানে এবং ধানের প্যাথোটাইপ গমে ব্লাস্ট রোগ সংঘটিত করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং যুক্তরাজ্যের সেইনসবারি ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ সিকোয়েনসিংয়ের মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত গমের ব্লাস্ট রোগের জীবাণু ধানের ব্লাস্টের জীবাণু থেকে আলাদা। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্লাস্ট আক্রান্ত গম ক্ষেতের কোনো কোনো স্থানে শীষ সাদা হয়ে যায় এবং অনুকূল আবহাওয়ায় তা অতি দ্রুত সারা ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। গমের কিছু শীষের উপরিভাগ শুকিয়ে সাদাটে বর্ণ ধারণ করে যা সহজেই নিম্নভাগের সবুজ ও সুস্থ অংশ থেকে আলাদা করা যায়; আবার কোনো কোনো শীষের প্রায় সম্পূর্ণ অংশই শুকিয়ে সাদাটে হয়ে যায়। এটি গমের ব্লাস্ট রোগের আদর্শ লক্ষণ। প্রধানত গমের শীষে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। শীষের আক্রান্ত স্থানে কালো দাগ পড়ে এবং আক্রান্ত স্থানের উপরের অংশ সাদা হয়ে যায়। তবে শীষের গোড়ায় আক্রমণ হলে পুরো শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। আক্রান্ত শীষের দানা অপুষ্ট হয় ও কুঁচকে যায় এবং দানা ধূসর বর্ণের হয়ে যায়। পাতায়ও ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে পাতায় চোখের মতো ধূসর বর্ণের ছোট ছোট নেক্রোটিক দাগ পড়ে। আক্রান্ত বীজ এবং বাতাসের মাধ্যমে গমের ব্লাস্ট রোগ ছড়ায়। বৃষ্টির কারণে গমের শীষ ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা ভেজা থাকলে এবং তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা এর  বেশি হলে এ রোগের সংক্রমণ হয় এবং রোগের জীবাণু দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ব্লাস্ট রোগের জীবাণু কিছু ঘাস জাতীয় বিকল্প পোষক আগাছার যেমন- চাপড়া, শ্যামা, আংগুলি ঘাসের মধ্যে বাস করতে পারে; তবে সেখানে রোগের স্পষ্ট লক্ষণ সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না। অনুকূল পরিবেশে বিকল্প পোষক আগাছায় ব্যাপকভাবে উৎপন্ন জীবাণু ব্লাস্ট রোগের মহামারী সৃষ্টি করতে পারে। / এআর /  

৮০ কোটি টাকার বীজ-সার পাচ্ছেন কৃষক

এগারোটি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এলক্ষ্য গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ৭৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকার বীজ-সার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। আজ রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এতথ্য জানান। কৃষিমন্ত্রী  বলেন, চলতি মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, চীনাবাদাম, ফেলন, খেসারি, বিটি বেগুন, বোরো, শীতকালীন মুগ এবং পরবর্তী খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ ও গ্রীষ্মকালীন তিল উৎপাদনের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতিটি কৃষক পরিবার সর্বোচ্চ এক বিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার পাবে। কৃষিমন্ত্রী জানান, ৬৫ হাজার ৭০০ জন কৃষক গম বীজ, দুই লাখ ২১ হাজার ৫০০ জন ভুট্টা বীজ, দুই লাখ ১০ হাজার ২০০ জন সরিষা, ১০ হাজার ১০০ জন চিনাবাদাম, ১৮ হাজার জন গ্রীষ্মকালীন তিল, ৪৮ হাজার ৪০০ জন গ্রীষ্মকালীন মুগ, ২৪ হাজার ৩০০ জন শীতকালীন মুগ, ১৩ হাজার ৬০০ জন খেসারী, পাঁচ হাজার ৪০০ জন ফেলন, দুই হাজার ৭০ জন বিটি বেগুন এবং ৭১ হাজার ৭০০ জন কৃষক বোরো বীজ পাবেন। এক বিঘা জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রত্যেক কৃষক ২০ কেজি গম, পাঁচ কেজি ধান, দুই কেজি ভুট্টা, এক কেজি সরিষা, ১০ কেজি চীনাবাদাম, এক কেজি গ্রীষ্মকালীন তিল, পাঁচ কেজি গ্রীষ্মকালীন মুগ, আট কেজি খেসারী, পাঁচ কেজি মাষকলাই, সাত কেজি ফেলন এবং ২০ গ্রাম বিটি বেগুনের বীজ পাবেন। ধান, গম, ভুট্টা, গ্রীষ্মকালীন তিল, সরিষা ও বিটি বেগুন চাষে প্রত্যেক কৃষক ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার পাবেন। আর চীনাবাদাম, গ্রীষ্মকালীন মুগ, শীতকালীন মুগ, খেসারী, মাষকলাই ও ফেলন চাষে প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি করে ডিএপি ও পাঁচ কেজি করে এমওপি সার দেবে সরকার। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষককের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে মতিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “প্রণোদনা বিতরণে অনিয়ম হলে তা আপনারা তা তুলে ধরবেন, আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। প্রণোদনার অর্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে; এজন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না বলে জানান মন্ত্রী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসিরুজ্জামান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। টিআর/

মাল্টা চাষে বদলে যাচ্ছে রংপুরের কৃষকদের জীবন (ভিডিও)

রংপুরে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হচ্ছে মাল্টার। গুনগত মান আর মিষ্টি এবং সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে।  মাল্টা চাষ লাভবান হওয়ায় উৎসাহিত হচ্ছেন অন্যরাও। পুরো বাগানজুড়ে মাল্টা। প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ৭০টির ফল। মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় মিঠাপুকুর, রানীপুকুর এলাকায় প্রথম মাল্টার আবাদ শুরু হয়। দু’বছর পর গাছে ফল ধরা শুরু করেছে। যার গুনগত মানও ভালো। কৃষকরা বলছেন, মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে ২ লাখ টাকারও বেশী মাল্টা বিক্রি হবে এবার। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় এখন মিঠাপুকুরের বিভিন্ন এলাকায় ৩৬টি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে। দিন দিন আবাদ বাড়ছে। মাল্টা চাষের সফলতা দেখে আশেপাশের কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে ব্যাপকভাবে মাল্টার আবাদ সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে এই ফলটির আমদানি নির্ভরতা কমবে বলেও জানান তারা।

পাখিদের হাত থেকে শস্য বাঁচাতে  লেজার প্রযুক্তি

শস্য উৎপাদন বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়েছে লেজার প্রযুক্তি। পাখিদের হাত থেকে শস্য বাঁচাতে এখন বিশ্বের ৬ হাজারেরও বেশি খামারে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষকরা জানান, এর মাধ্যমে ৭০ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত শস্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। শস্য ক্ষেত যেন পাখিদের স্বর্গরাজ্য। খাবারের সন্ধানে হাজার হাজার পাখি ভীড় করে শস্য ক্ষেতে। আর পাখিদের এই আনাগোনায় প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, কলাম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ টন শস্য উধাও হয়ে যায়। ক্ষতির মুখে পড়েন খামারীরা। ২০১২ সালের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালেফোর্নিয়া, ওয়াশিংটনসহ ৫টি শহরে কেবলমাত্র পাখিদের কারণে ১৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্লুবেরি, চেরি  শস্যের ক্ষতি হয়েছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এসব ক্ষেত থেকে পাখিদের তাড়ানো সহজ ছিলো না। তবে ডাচ বার্ড কন্ট্রোল গ্র“পের তৈরি এগ্রি-লেজার অটোমেটিক প্রযুক্তি কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শস্যক্ষেতে যেখানেই পাখিরা এসে জড়ো হয়, সবুজ আলো ছড়িয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয় পাখিদের। প্রয়োজনে ভীতিকর শব্দও তৈরি করতে পারে। দিনে প্রায় ৩শ’ মিটার ও রাতে ২ হাজার মিটার দূরত্বে কাজ করে এই লেজার। পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ আছে খামারীদের। বিশ্বের ৭৬টি দেশে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহারে বেড়েছে উৎপাদন। শুধু শস্যক্ষেতই নয় বিমান চলাচল, তেল-গ্যাস ও রিয়েল স্টেট সেক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে।  

জামালপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কলা চাষ

জামালপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কলা চাষ। ধানের চেয়ে বেশি লাভ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই কলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের। গত কয়েক বছর ধরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কলা চাষে বাম্পার ফলনে সন্তুষ্ট চাষীরা। জামালপুর জেলার ৭ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। শবরি, সাগর, চাম্পা, চিনি চাম্পা, আনাজি কলা ছাড়াও বিভিন্ন কলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী জামালপুরের মাটি। এখানে বাড়ির আঙ্গিনাসহ কৃষিক্ষেতে বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে কলা। প্রতি বিঘায় মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের কলা উৎপাদন করা যায় । বন্যায় ধান নষ্ট হলেও কলার ক্ষেত্রে সেই ঝু^কি নেই। তাই কলা চালে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের।   কৃষি বিভাগ বলছে, সুষম সার ব্যবহার করায় জেলায় কলার ফলন বেড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, কলা চাষে কৃষি বিভাগ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তারা আরো লাভবান হবেন।

সিকিম যেভাবে অর্গানিক রাজ্য হলো

২০১৬ সালে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমকে সম্পূর্ণ অর্গানিক স্টেট বা কেমিক্যাল ফ্রি রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে সবুজ বিপ্লবের যখন সূচনা হয়েছিল সেখানে একই সঙ্গে কীটনাশক বাদ দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। তাহলে সিকিমের অর্গানিক বিপ্লব কি পুরো ভারতের কৃষিকাজে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব? ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে সিকিমকেই রাসায়নিক মুক্ত বা অর্গানিক রাজ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল আরও দু বছর আগে, ২০১৬ সালে। যদিও যখন সিকিম সরকার প্রথম তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করে তখন বিষয়টি এতো সহজ ছিল না। ২০০৩ সালে প্রথম যখন কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয় তখন তার প্রতি সেখানকার কৃষকরাও খুব একটা আস্থাশীল ছিল না। কৃষকদের একজন কারমা ভুটিয়া যেমন বলছিলেন যে অনেকে কৃষক আসলে ভীত হয়ে পড়েছিল সরকারের উদ্যোগে। তিনি বলেন, ‘প্রথম দু তিন বছরে চাষবাসই নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছিল। এটা আমাদের ভেঙ্গে দিয়েছিল। আমরা তখন তরুণ কৃষক। আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম যে অর্গানিকের দিকে যাওয়া হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। সে সময়ই সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হল যে তারা আমাদের লোকসানের জন্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবে। এরপর আমরা চেষ্টা শুরু করলাম এবং দু তিন বছর পর বুঝলাম যে চাষাবাদ হচ্ছে আগের মতোই। এবং তাতে আমরা অভ্যস্ত হলাম’। এখন সিকিমে চাষবাসে কীটনাশকের ব্যবহার রীতিমত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কেউ জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করলে এক হাজার চারশো ডলার বা সমপরিমাণ পর্যন্ত অর্থ জরিমানা হতে পারে। এমনকি জেল হতে পারে প্রায় তিন মাসের জন্য। কিন্তু কেন সরকার রাসায়নিক মুক্ত চাষবাসে এতোটা আগ্রহী হল। রাজ্যের কৃষি সচিব খরলো ভুটিয়া বলছেন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জনস্বাস্থ্য। ‘মূলত মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং জনগণের কাছে মানসম্পন্ন খাবার পৌঁছে দেওয়া। এরপর মানুষের জন্য রাসায়নিক মুক্ত বাতাস ও পানি নিশ্চিত করা এবং এর সঙ্গে রাজ্যটির সমৃদ্ধ জৈববৈচিত্র রক্ষা করা’। বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির দিকে নজর পড়ে কমই। যদিও হিমালয় পর্বতমালার সৌন্দর্যে সিকিম হয়ে উঠেছে অসাধারণ। কিন্তু এখন সেই সৌন্দর্যের পাশাপাশি রাজ্যটির অর্গানিক ফিল্ডগুলোও মানুষকে টানছে। আর এর ফলে রাজ্যে বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যাও। কর্তৃপক্ষের হিসেবে পর্যটক বেড়েছে সত্তর ভাগের মতো। এখন ভারত সরকার চাইছেন দেশটির সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক সিকিম মডেল। কিন্তু এ জন্য আস্থায় নিতে হবে দেশটির লাখ লাখ কৃষককে, আবার কীটনাশক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোও এতে খুব একটা খুশী হবে না সেটিও নিশ্চিত করেই বলা যায়। তারপরেও এখন সবার দৃষ্টি সিকিমের দিকেই। কারণ এই অর্গানিক মিশন জাতিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য এনে দিতে পারে। সূত্র: বিবিসি একে//

মেহেরপুরে পাটের বাম্পার ফলন (ভিডিও)

মেহেরপুরে পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার লাভের আশা করছেন চাষীরা। তবে, তাদের ভয় সিন্ডিকেট নিয়ে। আর জুট মিলে পাট সরবরাহকারীরা বলছেন, মিলগুলোর চাহিদার উপর নির্ভর করে পাটের মূল্য। চলতি বছর মেহেরপুর জেলায় ২০ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা থেকে ৭৫ লাখ ৫৬ হাজার ১০৯ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। আর পাট বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায়।  তবে, বাজারে পাটের চাহিদা থাকায় ফড়িয়ারা কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচাপাট কিনছেন। তারা বলছেন, মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে পাটের দাম কমিয়ে দিলে চাষীদের পাশাপাশি ফড়িয়ারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। জুট মিলে পাট সরবরাহকারীরা জানালেন, গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাদামাটি দিয়ে পাটজাগ দেয়ায় এই অঞ্চলের ভাল দাম পায় না। পাটের ভাল দাম ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য রিবোন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। পাটের মান ভালো হলে, দামও বেশি পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে মাস্কমিলনের চাষ (ভিডিও)

ইউরোপের জনপ্রিয় ফল মাস্কমিলনের চাষ শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। এ’বছরের মধ্যে ঔষধিগুণ সম্পন্ন এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরুর আশা প্রকাশ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। টানা তিন বছর গবেষণা করে বাংলাদেশের মাটিতে এই ফল উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাহবুবুর রহমান। ফলটির নাম মাস্কমিলন। ইউরোপের এই জনপ্রিয় ফলটি রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। সুস্বাদু এই ফলটিতে একই সাথে এ বি এবং সি-- তিনটি ভিটামিন পাওয়া যায়। আশার কথা হচ্ছে, বাংলার মাটিতেই এখন থেকে চাষ হবে এই ঔষধি ফলটি। ইউরোপের মাস্কমিলন জাপান ঘুরে বাংলাদেশে এসেছে। তিন বছর আগে জাপান থেকে এই ফলের বীজ সংগ্রহ করে চাপাইনবাবগঞ্জের এ´িম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। আর এটা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন প্রভাষক মাহবুবুর রহমান।   মাস্কমিলন চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হবে বলে দাবি করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাংলার মাটিতে নতুন জাতের ইউরোপীয় ফলের এই সফল অভিযোজন নিয়ে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত।  

ফেনীতে ভাসমান বীজতলা তৈরিতে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

ফেনীতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান বীজতলা বসানো হয়েছে। জেলার ৬ উপজেলার খাল, বিল ও জলাশয়ে ৬টি স্থান নির্বাচন করে এ ভাসমান বীজতলা বসিয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। বীজতলাগুলোতে এখন চারা গজিয়েছে। এ সব বীজতলা বসানোরপদ্ধতি জানতে ও পরিদর্শন করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক কৃষকরা ছুটে আসছেন। মূলত বন্যা ও আপদকালীন সময়ে ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত চারাগুলো কৃষকদের বীজ সংকট মেটায় বলেই এ পদ্ধতিতে আগ্রহ বেশি কৃষকদের। সরেজমিনে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর কাশিমপুরে চর এলাকায় দেখা যায়, কৃষক নুর মিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে এবার প্রথম ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছেন। বীজতলা তৈরিপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথমে পানিতে কলা গাছ বেঁধে ভেলার মতো করে নিতে হবে। তারপর উপরে কচুরিপানা দিয়ে মাঝা মাঝি উচু নিচু স্থানগুলো পূর্ন করার পর মাটি সমান করে বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। ১৫ থেকে ২০ দিনে চারা পরিপূর্ণতা লাভ করবে। গত কয়েক বছর আগাম বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যা নেমে যাওয়ার পর হালি চারার ব্যাপক সংকটে পড়ে কৃষকরা। এ সময় ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত হালি চারাগুলো কৃষকদের চাহিদা মেটায়। এই ভাসমান হালি চারার দাম একটু বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা আপদকালীন সময়ে এ চারা তাদের জমিতে বপন করতে হাঁটেবাজারে খোঁজে ফিরেন। ফেনী সদর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আবুনঈম মো. সাইফুদ্দিন জানান, আমাদের দেশে দুটি পদ্ধতিতে ভাসমান বীজতলা তৈরি করাহয়ে থাকে। প্রথমত- বন্যাকবলিত এলাকায় যদি বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চারা তৈরির প্রয়োজনীয় সময় না থাকে তবে বন্যারপানি, নদীর পানি, বিলের পানি, পুকুরের পানি, ডোবা বা খালের পানির ওপর কলা গাছের ভেলায় হোগলার চাটাই দিয়ে সেখানে মাটির প্রলেপ কিংবা বাঁশ এবং বাঁশের চাটাইয়ের মাচা দিয়ে তৈরিকৃত বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার পরিমাণ পুকুরের তলার মাটির পাতলা কাদার প্রলেপ দিয়ে ভেজা বীজতলা তৈরি করা হয়। দ্বিতীয়ত- বিল ঝিল বা নিচু জায়গায় কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বীজতলা করা যায়। এ পদ্ধতিতে প্রথমে কচুরিপানাগুলো স্তুপ করে সুন্দরভাবে সাজিয়ে বেড আকৃতি করা হয়। বেডের চার পাশে জড়িয়ে থাকা বাড়তি কচুরিপানাগুলো দা দিয়ে কেটে সোজা করে নিতে হয়। অত:পর বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে সমান করে বীজতলা তৈরি করা যায়। বন্যার পানিতে যেন ভেসে না যায় সে জন্য ভাসমান বীজতলা বেডকে দড়ির সাহায্যে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখতে হবে। তাছাড়া হাঁসের আক্রমণ থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য জাল দ্বারা বেড়া দিয়ে দেওয়া উত্তম। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন জানান, ভাসমান পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারাগুলো বিপদকালীন সময়ে কৃষকদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার করে। ফেনীতে ভাসমান বীজতলা এবার প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে তৈরী করাহয়েছে। এটি তৈরিতে অতিরিক্ত খরচ তেমন না থাকায় আগামীতে এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি আরও বৃদ্ধি পাবে। ফেনীতে এ পদ্ধতিতে বীজতলা বসাতে কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ভাসমান বীজতলাপরিদর্শন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খামারবাড়ী ঢাকার ক্রপ উইং ও মনিটরিংকর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সহকারী কৃষিসম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল কালাম মজুমদার, উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা প্রনব চন্দ্র মজুমদার, জসিম উদ্দিন, মামুনুর রহমান ভূঁইঞা। একে//

রাসায়নিক এড়িয়ে অরগ্যানিক চাষই লাভজনক

খেতে আগাছা ও কীটপতঙ্গের মোকাবিলায় প্রায়ই নানা রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হয়৷ তাতে দীর্ঘমেয়াদী নানা রকম সমস্যা দেখা যায়৷ কিন্তু অরগ্যানিক পদ্ধতিতে চাষের ক্ষেত্রে যান্ত্রিক সমাধানসূত্র সাহায্য করছে৷ রাসায়নিক পদার্থের কল্যাণে সাধারণ চাষিরা এমন সব ফসল ফলাতে পারতেন, যাতে সবচেয়ে বেশি আয় হয়৷ কিন্তু এখন তারা অরগ্যানিক চাষিদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করতে শুরু করেছেন৷ অথচ এককালে তারাই হাসির পাত্র ছিলেন৷ অরগ্যানিক চাষের খেতেও আগাছা জন্মায় বটে, কিন্তু বিষ প্রয়োগ করে তা দূর করা হয় না৷ রাইনার বোনহর্স্ট তাদেরই একজন৷ তিনি প্রাচীনকাল ধরে চলে আসা কৌশল প্রয়োগ করেন৷ রাইনার বলেন, ‘এটা হলো ‘হেয়ারি ভেচ`, যা খেতে ভরে গেলে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়৷ কিন্তু আমরা সেগুলো ছেঁটে ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি৷ এখন ফসল বেশ ভালো বলে আমার মনে হচ্ছে৷ এখানে যান্ত্রিক উপায়ে আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে৷’ অরগ্যানিক চাষের ক্ষেত্রেও বেশ কিছুকাল ধরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে৷ ক্যামেরা, জিপিএস ও লেন ডিপার্চার ওয়ার্নিং সিস্টেম কাজে লাগিয়ে যন্ত্রই খেতের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আগাছা তুলে দিচ্ছে৷ অবশ্যই কোনও বিষাক্ত পদার্থ স্প্রে করতে হচ্ছে না৷ অথচ সাধারণ চাষিরা অরগ্যানিক চাষিদের অবজ্ঞা করে এতকাল সেই পথে যেতে চাননি৷ তাদেরই একজন মার্কুস ম্যুকে৷ তিনি বলেন, ‘কাজটা খুবই সহজ ছিল৷ ট্যাংক ভর্তি করে স্প্রে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেই হলো৷ দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যায়৷ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে আগাছা কাটার কৌশলকে বার বার অত্যন্ত ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ ফলে দাবি করা হয়েছে, অর্থনৈতিক কারণে এমন যন্ত্র ব্যবহার অর্থহীন৷’ তবে শুধু আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করলেই তাকে অরগ্যানিক চাষ বলা চলে না৷ রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়াই আগাছা ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাইনার বোনহর্স্ট-কে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলতে হয়৷ বাজারের নিয়ম মানলে চলে না৷ সেই খেতের আলুর চাহিদা উৎপাদনের তুলনায় অনেক বেশি হলেও চার বছর পর পর খেতে সেই আলু গজায়৷ ফ্রাংক স্টুট নামের একজন বলেন, ‘ফসলের সব ধরনের সুরক্ষার জন্য শুধু ব্যবহার করবো- এমন ধারণা থেকে আমাদের বিদায় নিতে হবে৷ বরং আগের মতো ফসল পরিবর্তন করতে হবে এবং আরেও অনেক পরিশ্রম করে মাটির আরেও যত্ন নিতে হবে৷ আমাদের পূর্বপুরুষরা এমনটাই করতেন৷’ এমন উপলব্ধি সত্ত্বেও বিষাক্ত স্প্রে রাতারাতি খেত থেকে বিদায় নেবে বলে মনে হয় না৷ তবে ফ্রাংক স্টুট নতুন ফসল চাষ করতে চান৷ হয়তো গমের বদলে মটরশুঁটি৷ আয় কম হলেও সেই উদ্ভিদ অনেক বেশি সহনশীল৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে চিনা বাদামের বাম্পার ফলন (ভিডিও)

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে এ বছর চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে চরাঞ্চলের কিছু জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতির শংকায় বাদাম সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক। ন্যায্য দাম পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন তারা। ফরিদপুরে পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের প্রধান ফসল চিনা বাদাম। এবছর ডিক্রিরচর, নর্থ চ্যানেল, পাঙ্গাসের চরে চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। শেষ সময়ে বাদাম তুলতে ব্যাস্ত কৃষক। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন চিনা বাদাম চাষে ঝুকছেন তারা। এবছর বাদাম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৪শ ৫০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার বাদামের উৎপাদন হবে ১০হাজার ৪শ’ ১২ মেট্রিকটন। তবে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে কৃষক। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলছেন, চিনা বাদমের উৎপাদন বাড়াতে এবার ৬শ জন কৃষককে প্রনদনা হিসাবে ১০ কেজি বাদামের বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। আগামীতে চিনা বাদামের আবাদ বাড়াতে বীজ ও কৃষি ঋণসহ সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন জেলার বাদাম চাষীরা।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি