ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:২৭:৫২

তুরস্ক নামিয়ে ফেললো ওজিলের জার্মান ছবি   

তুরস্ক নামিয়ে ফেললো ওজিলের জার্মান ছবি   

হঠাৎ করেই অবসরের ঘোষণা দিলেন ওজিল। জাতীয় দলের হয়ে তিনি আর খেলবেন না। বর্ণবাদ ও অসম্মানের অভিযোগ এনে সোমবার হঠাৎ করে এমন ঘোষণা দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দেন ৫ বারের জার্মান বর্ষসেরা ফুটবলার ও তুর্কি বংশোদ্ভূত মেসুত ওজিল। তার এমন ঘটনায় শুরু হয় তীব্র আলোচনা। কেউ কেউ তার সমালোচনা করেছেন আবারও কেউ কেউ তার প্রতি সহনুভূতি জানিয়েছেন। তবে তুরস্ক তার এই পদত্যাগকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সেই সাথে তার নামে নামকরণকৃত একটি রাস্তায় জার্মান জার্সি পরা ওজিলের ছবি নামিয়ে সেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথে ওজিলের একটি ছবি স্থাপন করা হয়েছে।   তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমের দেভরেক শহরের প্রধান সড়কটি ওজিলের নামে নামকরণ করে দেশটির সরকার। সেখানে জার্মান জার্সি গায়ে ওজিলের একটি ছবি দিয়ে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু জার্মান দল থেকে ওজিলের সরে দাঁড়ানোর পরপরই সেই ছবি সরিয়ে এরদোয়াগানের সঙ্গে তোলা বিতর্কিত ছবিটি টানানো হয়েছে। বাবা-মায়ের জন্ম তুরস্কে হলেও ওজিলের জন্ম জার্মানিতে। তবে, শিকড় ভোলার পাত্র নন ওজিল। আবার জন্মভূমিকে পাশ কাটিয়ে অন্য কিছু করারও তার চিন্তাও করেননি কোনো দিন। তাই তো ২০০৬ সালে তুরস্কের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পরও জন্মভূমি ছেড়ে যাননি। খেলেছেন জার্মান জাতীয় দলের হয়ে। ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে বড় অবদানও ছিল তার। অথচ রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইপ এরদোয়ানের আমন্ত্রণে তার সাথে দেখা করেন। এবং সেখানে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তোলেন। এ কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ওজিলকে। যার কারণে শেষ পর্যন্ত জার্মান জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিলেন। এসি    
ব্যালন ডি’অরে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন এমবাপে  

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন। এই সম্মানজনক অ্যাওয়ার্ডের দাবিদার হিসেবে তিনি আরও যাদের মনে করেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, রাফায়েল ভারান ও লুকা মদরিচকে। তবে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসিকে এই তালিকায় রাখেননি এমবাপে। কে হতে পারে ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য বিজয়ী, এমন প্রশ্নে ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ফ্রান্স ফুটবলকে বলেছেন, ‘ফেভারিট হিসেবে আমি বলবো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, লুকা মদরিচ, রাফায়েল ভারান ও আমার নাম।’   ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিততে পারে এই বিশ্বাস বেশ আগে থেকেই মনের মধ্যে ছিল এমবাপের। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যে জিততে পারি সেটা আমার মনে হয়েছিল। শুরু থেকে আমার বিশ্বাস ছিল শেষ পর্যন্ত আমরা যেতে পারবো। টুর্নামেন্টের আগে আমি এমন কথা বলায় আমাকে উদ্ধত বলা হচ্ছিল, কিন্তু আমি শুধু আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কাপের জন্য এসেছিলাম আমি এবং সেটা পেয়ে গেছি। জয়ের জন্য আমি নিজেকে তৈরি করেছিলাম।’ গোল ডটকম এসি      

বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিলাম, লাথি খেতে নয়: নেইমার

ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের স্বপ্ন ছিল এবার। মাঠের পারফরম্যান্সে অনেক তারকার চেয়ে এগিয়েও ছিলেন নেইমার।কিন্তু টুর্নামেন্টে তার খেলা নিয়ে যতটা না কথা হলো, তার চেয়ে বেশি হয়েছে মাঠে তার গড়াগড়ি নিয়ে। একটু ছুঁলেই পড়ে যাচ্ছেন নেইমার, করছেন অভিনয়,এমন হাজারও অভিযোগ ছিল ব্রাজিলের এই সুপারস্টারের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে যে কত ট্রল হয়েছে তার কোন হিসেব নেই।বিষয়গুলো যে নেইমারের নজরে আসেনি তা কিন্তু নয়।পিএসজির এই ফরোয়ার্ড এসব সমালোচনা আর ব্যঙ্গ করাতে কষ্টও পেয়েছেন। রাশিয়া বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ছিল ব্রাজিল।কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে বেলজিয়ামের কাছে অপ্রত্যাশিত একহারে তাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।নেইমার পারেননি দলকে ট্রফি এনে দিতে। সেই কষ্ট তো আছেই, এর মধ্যে টুর্নামেন্টে বারবার ফাউল হওয়া নিয়ে হয়েছে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ।এই জন্য ব্রাজিল ফরোয়ার্ডের মন খারাপ হওয়া খুব স্বাভাবিক। আর তাই মনের দুঃখটা গোপন করেনি নেইমার।বারবার ফাউল হয়েছেন তিনি।এরই মধ্যে সমালোচনায় কতটা কষ্ট পেয়েছেন, তা জানিয়ে নেইমার বলেন, ‘আমার ছেলে আছে, আছে পরিবার-বন্ধুবান্ধব।তারা কেউ আমাকে এমন অবস্থায় দেখতে চায়নি।যে ফাউল হয় তাকে নিয়ে মানুষজন ব্যঙ্গ করবে, কিন্তু যে ফাউল করে তাকে নিয়ে নয় কেন?আমি বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিলাম, গিয়েছিলাম প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলতে, লাথি খেতে নয়।আমাকে নিয়ে যে পরিমান সমালোচনা হয়েছে, সেটা অতিরঞ্জিত। তবে আমি এমন একটা ছেলে, যে কিনা এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে অভ্যস্ত।’ রাশিয়া  বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হয়েছেন নেইমার। মাঝে মধ্যে নাকি এমনও মনে হয়েছে, কেন যে তিনি রেফারি হলেন না! পিএসজির এই তারকা  আরও বলেন,‘আমি তো একইসঙ্গে রেফারি আর খেলোয়াড়ের ভূমিকা পালন করতে পারি না। তবে মাঝে-মধ্যে এমন মনে হয়,যদি সেটা হতে পারতাম!’ কেআই/ এআর  

তিতের ওপরই থাকছে সিবিএফ’র আস্থা

  ধারণা করা হচ্ছিল কোচ তিতেকে বিদায় দিবে ব্রাজিল। না, শেষ পর্যন্ত এই কোচের ওপরই আস্থা রাখছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়লেও তিতের অধীনে টানা ১৬ ম্যাচে অপরাজিত ছিল ব্রাজিল। তাই সিবিএফ চাইছে কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিল দলের কোচের দায়িত্বে থাকবেন তিনি। ২০১৬ সালের জুনে ব্রাজিল দলের কোচের দায়িত্ব পান তিতে। তাঁর অধীনে ব্রাজিল বাছাই পর্বে দারুণ সাফল্য পায়, একেবারে অনায়াসে মূলপর্বে ওঠে দল। রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠে যায় দল। কিন্তু শেষ আটে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। তবে তিতের অধীনে দলের পারফরম্যান্সে খুব‌ই খুশি সিবিএফ। খুব শিগগিরই ঘোষণা আসছে, তাকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এর আগে ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর বরখাস্ত হয়েছিলেন কোচ আলবার্তো পেরেইরা। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও শেষ আট থেকে বিদায় নেয় তারা। সেবার নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ হারের পর দুঙ্গা চাকরি হারান। আর ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দেশের মাটিতে জার্মানির বিরুদ্ধে ২-১ গোলে হারের পর লুই ফিলিপ স্কোলারিও সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এবার তিতেকে সে পথে হাঁটতে হচ্ছে না, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকছেন তিনি। আরকে//  

পিএসজি ছাড়ছেন না নেইমার

এমবাপ্পেকে দলে রাখার জন্য নেইমারকে নাকি রিয়ালের কাছে বিক্রি করতে আপত্তি নেই পিএসজির! এমন অবস্থায় পিএসজির প্রতি নতুন করে আনুগত্য শোনা যাচ্ছে নেইমারের। ফক্স স্পোর্টসকে নেইমার বলেছেন, আমি থাকছি। পিএসজির সঙ্গে আমার চুক্তি আছে এবং আমি এ ক্লাব বেছে নিয়েছি চ্যালেঞ্জের জন্য, নতুন কিছু করার জন্য এবং বাড়তি কিছু পাওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে আমার ধারণা পাল্টাব না। আশা করি আমরা সফল এক মৌসুম কাটাব, নতুন কিছু শিরোপাও পাব। মাঝে পিএসজি ছাড়তে চাওয়ার সব গুঞ্জনকে মিথ্যা বলছেন নেইমার, সংবাদমাধ্যম গুজন সৃষ্টি করে মজা পায় কিন্তু সবাই জানে আমি পিএসজির জন্য কতটা ভাবি। ক্লাব সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়েছেন নেইমার। ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হতে পারবেন বলে মনে করেন নেইমার, সে অবিশ্বাস্য, অসাধারণ এক খেলোয়াড়। আমরা অনেক আগ থেকেই এটা জানি। ওর সঙ্গে আমি প্রতিদিন খেলি এবং জানি ও কত প্রতিভাবান। সে বিশ্বকাপ জেতায় আমি ওর জন্য খুবই আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি আগামী কয়েক বছরে সে শীর্ষস্থানের (বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়) জন্য লড়বে। ওর সঙ্গে শিগগিরই দেখা হবে ভেবে ভালো লাগছে। আমরা প্রতিদিনই কথা বলি, এমনকি বিশ্বকাপের সময়ও বলেছি। আরকে//  

ইতিহাস গড়া আইসল্যান্ড কোচের পদত্যাগ   

স্বল্প জনসংখ্যার একটি দেশ আইসল্যান্ড। এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে এসেই ইতিহাস গড়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো ম্যাচ তারা জিততে পারেনি। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দলটিকে। কিন্তু তবুও স্বল্প জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এসেই ইতিহাস গড়ে তারা। দেশটিকে এমন দারুণ মর্যাদা পাইয়ে দেওয়া দেশটির জাতীয় দলের কোচ হেইমির হালগ্রিমসন নিজের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ালেন। বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের তেমন সফলতা না থাকলেও দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা দুর্দান্ত খেলেছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই ১-১ গোলে ড্র করতে সমর্থ হয় তারা।   বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের খেলার স্বপ্ন পূরণের মূল কারিগর দেশটির কোচ পদত্যাগ করছেন, বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে স্বয়ং আইসল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক টুইট বার্তায় ফুটবল ফেডারেশনটি জানায়, ‘আইসল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করছে যে, হেইমির হালগ্রিমসন দেশটির পুরুষ ফুটবল দলের কোচ হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আর অব্যাহত রাখবেন না। সাত বছর ধরে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করার পর হালগ্রিমসনের অনুরোধেই তাঁকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’ পেশায় ডেন্টিস্ট এই কোচ আইসল্যান্ডের জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর চিকিৎসাসেবা চালিয়ে গেছেন। সাত বছর দলটির দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন এই ৫১ বছর বয়সী কোচ। ২০১৪ সালেও দেশটির বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা জেগেছিল। এই কোচের অধীনে ২০১৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল দলটি। ফ্রান্সের কাছে হেরে ইউরো থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। সর্বশেষ, বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়েছে দেশটি। এসি    

যে কারণে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে রাশিয়া বিশ্বকাপ

রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা ছিল আগে থেকেই৷ কিন্তু সব ছাপিয়ে ঘটন-অঘটন-অতিঘটনের এক বিশ্বকাপ উপহার দিলো দুই মহাদেশে ছড়িয়ে থাকা দেশটি৷ এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে কত আলোচনা! আয়োজনের ভার কেন দেয়া হলো রাশিয়াকে? সেখানে রাজনৈতিক চাপ ছিল কতটা৷ কতটা হলো টেবিলের তলের হিসেব৷ কিংবা সোচি অলিম্পিকের কথা মনে করিয়ে দিতে ভুলেননি কেউ৷ স্বাগতিক অ্যাথলেটদের ডোপিং কেলেঙ্কারিও মনে পড়েছে অনেকের৷ এর বাইরেও ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েন৷ বিশেষ করে ইংল্যান্ডের সঙ্গে তো সম্পর্ক যায় যায় অবস্থা৷ যোগ দেয় ইউরোপের অন্য অনেক দেশও৷ কিন্তু সবকিছুর পরও শুরু হলো বিশ্বকাপ৷ যতই দিন গড়াতে লাগলো, সবার মুখে শুধু রাশিয়ানদের প্রতি মুগ্ধতা৷ আতিথেয়তার প্রশংসা৷ অনেকের ধারণা তো ১৮০ ডিগ্রিই পাল্টে গেল৷ তবে সবচেয়ে কঠিন হয়ে রইলো ভাষার প্রতিবন্ধকতা৷ ইংরেজি বলতে না পারা রাশিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগটা ঠিকভাবে হচ্ছিলো না৷ অবশ্য এই বিষয়টিই দর্শনার্থীরা যুগ যুগ ধরে মনে রাখবেন৷ তাই এই বিশ্বকাপকে মনে রাখার এটি একটি কারণ বলা যেতে পারে। কিন্তু সংস্কৃতির আদান প্রদানের চেয়ে খেলাটাই মুখ্য এমন আসরে৷ সেদিক থেকেও হতাশ তো করেইনি, বরং রীতিমতো একের পর এক চমক নিয়ে এসেছে৷ দু-একটা ম্যাচ হবার পর থেকেই বোঝা যেতে লাগলো যে দূরত্ব কমে এসেছে ‘বড়` দলগুলোর সঙ্গে ‘ছোট` দলগুলোর৷ যেমন, লুকাকু-ফেলাইনিরা খেললেও বেলজিয়ামের কথা কেউ ভাবেনি যে দলটি এতদূর যাবে, এবং দাপট দেখিয়ে খেলবে৷ ক্রোয়েশিয়াকে এমন রূপে দেখা যাবে, কে ভেবেছিল? ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স ও ২০১০ সালে স্পেন প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিল এবং ট্রফিও জিতেছে৷ ২০১৮-তে ক্রোয়েশিয়াও ফাইনাল খেললো প্রথমবার৷ যদিও জিততে পারেনি৷ কিংবা স্বয়ং পুতিনও হয়তো ভাবেননি যে, তাঁর রাশিয়া শেষ চারের টিকেট প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলবে৷ তাই এই চমকগুলো বহুদিন মনে থাকবে সবার৷ এবার আসুন, তারকাদের প্রসঙ্গে৷ ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো, মেসি আর নেইমার – এই তিন মায়েস্ত্রোর দিকে চোখ ছিল সবার৷ কিন্তু দু-একটা ম্যাচের পরই সবার মনে হয়েছে, না, চোখ অন্যদিকে ঘোরাতে হবে! রোনাল্ডোর শুরুটা স্বপ্নময় ছিল, স্পেনের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক দিয়ে৷ কিন্তু এরপর থেকেই ম্রিয়মান হতে থাকেন তিনি৷ যদিও একা কতটা টানবেন দলকে, সে প্রশ্নও আছে৷ তবে প্রথম ম্যাচের মতো তাঁকে পরের ম্যাচগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ এদিকে, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বড় আশা ছিল যে, ৩২ বছরের খরা এবার কাটবে৷ কাটাবেন তাঁদের ভরসা মেসি৷ কোচেরও ভরসা ছিলেন মেসি৷ কিন্তু মেসিকে যেন তাঁর ছায়াই মনে হচ্ছিল৷ যদিও ফ্রান্সের বিপক্ষে আশা জাগানিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি৷ কিন্তু এমবাপ্পের গাঢ় নীলের আলোকছটায় তাঁর আকাশি রং আরো ফিকে হয়ে যায়৷ রোববার রাতে ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে ফ্রান্স৷ ম্যাচের আগে দুই দলের সফলতা কামনা করে একে অপরকে অভিবাদন জানাচ্ছেন ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ আর কোলিন্ডা গ্রাবার-কিটারোভিচ৷ নেইমারও হতাশ করেছেন ব্রাজিল সমর্থকদের৷ যদিও কখনো কখনো তিনি অপার্থিবও হয়ে উঠছিলেন তাঁর নৈপুণ্য আর কৌশলে৷ কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই কিছুদিন আগের পিএসজি`র নেইমারকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না৷ বরং আরো বিতর্কিত হলেন তাঁর অভিনয়ের কারণে৷ কিন্তু এই বিশ্বকাপ চিনিয়েছে এমবাপ্পেকে৷ বলের পেছনে এই টিনএজ দৌঁড়ান বোল্টের চেয়েও জোরে৷ স্কিলও আছে৷ আছে বিগ ম্যাচ টেম্পারামেন্ট৷ যেমন, তিনি জ্বলে উঠেছিলেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে৷ গোল করেছেন ফাইনালে৷ বুঝিয়েছেন যে তিনি ফ্লুক নন৷ লম্বা রেসের ঘোড়া৷ একইভাবে, লুকা মদ্রিচের বুকে জ্বলজ্বলে আরেকটি তারকা জুড়ে দিল এই বিশ্বকাপ৷ ক্রোয়েশিয়া দলে তিনি ছিলেন খেলনার চাবি৷ তিনি ঘুরলেই ক্রোয়েশিয়া এগোতো সামনের দিকে৷ সেন্ট্রাল মিডফিল্ড থেকে যেভাবে গোল করিযেছেন কিংবা নিজে করেছেন, তা এক কথায় অতিমানবীয়৷ শুধু দলকে সেরা মুকুটটা পরাতে পারলে হয়তো সব কষ্ট ভুলে যেতেন৷ তারপরও ফিফা যোগ্য সম্মান তাঁকে দিয়েছে৷ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল উঠেছে তাঁর হাতে৷ তবে গোল্ডেন বুট যাঁর ঘরে গিয়েছে, তিনি তাঁর বিষয়ে প্রশ্ন করছেন তাঁর দেশের লোকেরাই৷ বলছি, হ্যারি কেনের কথা৷ পানামা বা টিউনিশিয়ার জন্য তিনি ‘ভয়ঙ্কর` হয়ে উঠলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তাঁকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি৷ বরং ‘ওয়ার্ল্ডকাপ কামিং হোম` বলে বলে যাঁরা গলা ফাটিয়েছেন, তাঁদের কাছে শূন্য হাতে ফিরেছেন তিনি৷ ভুল বললাম, গোল্ডেন বুট ঘরে নিয়ে গেছেন তিনি৷ অবশ্য গোলরক্ষকদেরও মনে রাখবে এবারের বিশ্বকাপ৷ পেনাল্টি শুটআউটে স্পেনকে বিদায়ের দিন রাশিয়ার গোলরক্ষক আকিনফ্যিফের পড়ে গিয়েও পা দিয়ে লাথি মেরে বল আটকে দেয়ার মুহূর্তটুকু কে ভুলতে পারবে? কিংবা ওচোয়া, কোর্তোয়া, শ্মাইকেল, সুবাসিচ, কাওয়াশিমা, জমারদের দুর্দান্ত সব সেভগুলো কি মনে দাগ কেটে থাকবে না? আরেকটি কারণে এবারের বিশ্বকাপ মন থেকে মুছতে পারবেন না কেউই৷ তা হলো, অতিরিক্ত সময়ের গোল৷ গ্রুপ পর্বেই তো অতিরিক্ত সময়ে গোল হলো ১৯টি৷ এতেই বোঝা যায়, খেলার মোড় যে পরতে পরতে ঘুরেছে, তা ভোলার নয়৷ এছাড়া যুক্ত হয়েছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তি৷ এ প্রযুক্তি অনেকাংশেই খেলার স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে৷ অনেক খেলার ফলাফলই বদলে গেছে এই প্রযুক্তির কারণে৷ এমনকি ফাইনালেও দেখুন, পেরিসিচের হ্যান্ডবলটি না হলে খেলার চূড়ান্ত ফলাফল অন্যকিছুও হতে পারতো৷ সব মিলিয়ে এক স্বপ্নের বিশ্বকাপ৷ ফ্রান্স হেসেছে শেষ হাসি৷ ক্রোয়েশিয়াও হেসেছে মন খারাপের হাসি৷ কিন্তু আরো হেসেছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী৷ হৃদয়ও ভেঙেছে তাঁদের অনেকের৷ সে যা-ই হোক, ফুটবল তো আর শুধু খেলা নয়৷ ফুটবল একটা জীবনপদ্ধতি৷ ফুটবল একটা অনুভূতি৷ সেই অনুভূতির চুড়ান্ত রূপ বিশ্বকাপ৷ তার প্রকাশ তো এমনই হবে৷তবে কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, শেষ হাসি ফ্রান্সের নয়, এই হাসির প্রাপ্য ব্যক্তি হলে পুতিন। এমজে/

রাশিয়া বিশ্বকাপের যত রেকর্ড

পর্দা নেমেছে রাশিয়া বিশ্বকাপের। এখন চলছে বিশ্বকাপ নিয়ে চুলছেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে রেকর্ড বইয়ে ক্রমাগত ঘটছে পরিবর্তন। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরের কিছু পরিসংখ্যান নিয়েই আজকের আয়োজন। সবচেয়ে বেশি গোল করা দল: বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অধিকার করা দলটি অন্যের জালে মোট ১৬ বার বল পাঠিয়েছে। অর্থা প্রতিপক্ষকে ১৬ গোল দিয়েছে দলটি। সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল: বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আক্রমণে ব্রাজিলই ছিল এগিয়ে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ৫ ম্যাচ খেলে সব মিলিয়ে ২৯২টি আক্রমণ শানিয়েছে তারা। তবে পরে ক্রোয়েশিয়া পেছনে ফেলে তাদের। ব্রাজিলের চেয়ে ২ ম্যাচ বেশি খেলায় ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণ সংখ্যায় দাঁড়ায় ৩২২টি৷ সবচেয়ে বেশি পাস: সবচেয়ে বেশি পাস দেয় ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা। সাত ম্যাচে তাদের পাসের সংখ্যা মোট ৩৩৩৬টি। সবচেয়ে বেশি গোল বাঁচানো গোলরক্ষক: সেরা গোলরক্ষকের মানদণ্ড যদি হয়, সবচেয়ে বেশি গোল বাঁচানো তাহলে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন মেক্সিকোর গুইলেরমো ওচোয়া। দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত চার ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৫টি গোল বাঁচিয়েছিলেন তিনি। তবে পরে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কোর্তোয়া তাঁকেও ছাড়িয়ে যান। ৭ ম্যাচে তিনি বাঁচিয়েছেন ২৭টি গোল। সবচেয়ে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়: মাঠে গড়াগড়ির জন্য সমালোচিত হলেও রাশিয়া বিশ্বকাপের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ফরোয়ার্ড নেইমার। মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নিয়েছেন মোট ২৭টি। এত শট আর কোনো ফরোয়ার্ড নিতে পারেননি। সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচ: ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ৪-৩, বেলজিয়াম-তিউনিসিয়া (৫-২) ও ইংল্যান্ড-পানামা (৬-১) ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭টি করে গোল দেখা গেছে। এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি কার্ড: বেলজিয়াম বনাম পানামা ম্যাচটিতে মোট ৮টি কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি কার্ড দেখানো হয়েছে সেই ম্যাচেই। সবচেয়ে বেশি গোল: একম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তারা প্রত্যেকেই তিনটি করে গোল করেছেন। তবে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন হ্যারি কেইন। তিনি ৬টি গোল করেছেন। এমজে/

সেরা দল সব সময় বড় সাফল্য পায় না: লুকা মাদ্রিচ

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ৪-২ গোলে হেরে শিরোপার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয় ক্রোয়েশিয়া। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেও শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ রয়েছে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয় করা ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মাদ্রিচের। তিনি বলেন, ‘এটি সত্যিই হতাশার। শিরোপার এত কাছে এসে তা জিততে না পারাটা সত্যিই দুঃখজনক। আসলে সেরা দল সব সময়ে বড় সাফল্য পায় না।’ প্রথম বারের মত ফাইনালে উঠেও ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শিরোপা বঞ্চিত হয়েছে ক্রোয়েশিয়া। তবে পারফরমেন্স দিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বের হৃদয় জয় করেছে ক্রোয়েশিয়া। বাহ্বা কুড়িয়ে ফুটবলপ্রেমীদের। তথাপি বিশ্বকাপের সবচেয়ে সেরা সাফল্য অর্জন করতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। এতে হতাশায় পড়েছেন শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর ক্রোয়েশিয়া দলের অধিনায়ক মড্রিচ। তিনি বলেন, ‘আমরা শিরোপা জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবতে পারিনি। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে শিরোপা জিততে চেয়েছিলাম। আমাদের স্বপ্ন পূরণ হলো না। আসলে ফাইনাল হারের স্মৃতি কোনভাবেই ভুলতে পারছি না।’ গোল্ডেন বল জিতলেও ফাইনাল ম্যাচের হার কষ্ট দিচ্ছে মড্রিচকে। তারপরও গোল্ডেন বল জিতে গর্বিত তিনি, গোল্ডেন বল জিতে আমি সত্যিই গর্বিত। বিশ্বকাপ শুরুর আগে গোল্ডেন বল নিয়ে চিন্তাও করিনি। এমনকি শিরোপা নিয়েও ভাবিনি। তবে দলের খেলোয়াড়রা যেভাবে খেলেছে, তাতে শিরোপার অন্যতম দাবীদার ছিলাম আমরাই। কিন্তু ভাগ্য আমাদের পক্ষে কথা বলেনি।’ কোচ ডেলিচের মত রেফারির সমালোচনা করেছেন মড্রিচও। তিনি বলেন,  টিভি রিপ্লে দেখে, যেভাবে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সবাই অবাক হয়েছি। ওই পেনাল্টিটি না দিলেও হতো। আসলে ওই পেনাল্টিই ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দিয়েছে।’ তারপরও পুরো আসরে দল যেভাবে খেলেছে তাতে গর্বিত মড্রিচ, এমনটা জানাতে ভুলে যাননি ক্রোয়েশিয়ার দলপতি, ‘আমরা ভালো খেলেছি। সেরা পারফরমেন্স করে ফাইনাল খেলেছি। তবে ফাইনালে ভাগ্য আমাদের সঙ্গে ছিল না। কারণ আমরা দু’টি গোল উপহার দিয়েছি ফ্রান্সকে। এতেই বোঝা যায় ভাগ্য আমাদের সঙ্গে ছিল না। তারপরও আমরা যা করেছি, যেভাবে খেলেছি তাতে আমাদের গর্ব করা উচিৎ।’ সূত্র: বিবিসি। কেআই/ এসএইচ/

বিশ্বকাপ থেকে আয়ের সব অর্থ দান করছেন এমবাপ্পে

এবারের বিশ্বকাপে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী ফ্রান্সের তরুণ তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে। খেলার নৈপূণ্যতায় সবাইকে মুগ্ধ করলেও অন্য একটি বিষয়েও পুরো বিশ্বকে সে মহানুভবতায় মুগ্ধ করেছে। সেটি হলো রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আয়ের পুরোটাই একটি চ্যারিটিতে দান করতে চলেছেন পিএসজি তারকা।   ডেইলি সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চলতি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় সোয়া চার কোটি টাকা পেয়েছেন এমবাপে। পারিশ্রমিক বাবদ পাওয়া এই অর্থের পুরোটাই তিনি চ্যারটিতে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপ আসরে সেরা উদীয়মান ফুটবলারের তকমা পেয়েছেন এমবাপে। সাত ম্যাচে চারটি গোল করে নজর কেড়েছেন ফুটবল বিশ্বের। ছুঁয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড। ১৯৫৮ সালের পর প্রথম টিনএজার ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছেন এমবাপ্পে। তারা খেলা দেখে অনেক ফুটবলবোদ্ধাই বলছেন, সাফল্যে মাথা না ঘুরে গেলে, লিওনেল মেসি, সিআর-৭দের যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে উঠবেন এমবাপে। এসি     

বিশ্বকাপ উপলক্ষে কমেছে অপরাধ প্রবণতা

ফুটবল জ্বরে গোটা বিশ্বের সঙ্গে ভাসছিল বাংলাদেশও। বিশেষ করে তরুণরা ফুটবলে মজে থাকাতে সারামাসজুড়ে দেশে অপরাধ প্রবণতাও কম লক্ষ্য করা গেছে। কিছু দুঃখজনক ঘটনা বাদ দিলে বাংলাদেশে অপরাধ প্রবণতা কম থাকার পেছনে বিশ্লেষকরা ফুটবলকে কৃতীত্ব দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, তরুণদের খেলার মতো নির্মল বিনোদনের সুযোগ দেওয়া গেলে তাদের মাঝে বিপথগামী হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। গত ১৪ জুলাই, অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের একদিন আগে বাংলাদেশে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায়৷ কক্সবাজারের চকরিয়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের একটি প্রীতি ম্যাচের পর পাঁচ জন কিশোর নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে মারা যায়৷ শনিবার বিকেলে চকরিয়া গ্রামার বিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষার্থী একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে৷  ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার সমর্থক দলে ভাগ হয়ে মাঠে নামে দু্ইদল। বিকেলে খেলা শেষে ৪টার দিকে ছয় কিশোর ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার ঘামে ভেজা জার্সি পরেই মাতামুহুরী নদীতে সাঁতার কাটতে যায়৷ নদীর পানি গভীর হওয়ায় এবং স্রোত প্রবল হওয়ায় তারা সবাই পানিতে ডুবে যায়৷ তাদের মধ্যে পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করা হয় রোববার। এর বাইরে বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ এছাড়া প্রিয় দলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছেন৷ তবে এমন অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে কিন্তু বিশ্বকাপ চলার সময় অপরাধ প্রবণতা কম ছিল৷ রাশিয়ায় বিশ্বকাপের আসর শুরু হয় ১৫ জুন আর শেষ হয় ১৫ জুলাই৷ গত ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই– এই একমাসের হিসাব আলাদাভাবে না পাওয়া গেলেও সাধারণ মাসের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে অপরাধ কমার বিষয়টি স্পষ্ট হয়৷ বাংলাদেশ পুলিশের তরফ থেকেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে মে মাসে সারাদেশে বিভিন্ন অপরাধে মামলা হয়েছে ২৩,৪১৬টি৷ আর জুন মাসে মামলা হয়েছে ১৯,৮১৭টি৷ এর মধ্যেই১৫ জুন থেকে শুরু হয় বিশ্বকাপ৷ মে মাসে হত্যাকাণ্ডেরর ঘটনা ঘটেছে ৩৭৯টি৷ জুন মাসে হত্যাকাণ্ড হয়েছে ৩৩৯টি৷ মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৩৬৭টি৷ তবে জুন মাসে তা বেড়ে হয়েছে ১৩৯১টি৷ দস্যুতা, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা কমেছে৷ জুলাই মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান দেয়া গেলে বিষয়টি হয়ত আরো স্পষ্ট হতো৷ পুলিশ সদর দপ্তর জুলাই মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান মাস শেষে চূড়ান্ত করবে৷ তবে সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত যে তথ্য আছে, তাতে জুলাই মাসেও অপরাধ প্রবণতা কম৷ ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার( মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো বিশ্বকাপ চলাকালে রাজধানীতে হত্যা, ছিনতাই, দস্যুতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ কম হয়েছে৷ প্রচলিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের একটি বড় অংশ হলো তরুণ৷ আর প্রধানত তরুণরাই বিশ্বকাপে মেতে ছিল৷ তাই হয়তো অপরাধও কম হয়েছে৷ তবে ফুটবলের এই মহা আয়োজনে আমাদের দেশে সমর্থকদের মধ্যে যাতে কোনো উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি না হয়, যা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে, সেদিকে আমাদের নজর ছিল৷ আমরা এ কারণে টহল বাড়ানোসহ আরো কিছু বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছি৷`` ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে, রাশিয়ায়ও বিশ্বকাপ চলাকালে অপরাধ প্রবণতা কমেছে৷ আর বিশেষ করে তরুণরা অপরাধ থেকে দূরে থেকেছে৷ আমাদের দেশেও পরিসংখ্যান তাই বলছে৷ আর এতে প্রমাণিত হয় কিশোর, তরুণদের আমরা যদি খেলাধুলার মতো সুস্থ বিনোদন দিতে পারি, তাহলে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কমবে৷ বিশেষ করে আমাদের এখানে তরুণদের একাংশের জঙ্গিবাদে জড়ানোর যে প্রবণতা, তা কমবে বলে আমার মনে হয়৷`` এমজে/

বিশ্বজয়ের পদক মাকে পরিয়ে দিলেন পগবা

রাশিয়া বিশ্বকাপের সঙ্গে পগবা নামটি জড়িয়ে থাকবে বহুদিন। এ পর‌্যন্ত ফাইনালে যাদের গোল করার সৌভাগ্য হয়েছে পগবা তাদের মধ্যে অন্যতম।   ১৯৯৮ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার ইমানুয়েল পেতাঁ বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেছিলেন। এত দিন পরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন পগবা। গতকাল তিনি কাপ হাতে নিয়ে মজা করে বলেন, ‘ইংল্যান্ডে না, এটা আমি আমার নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছি।’ তাঁর এ হেন মন্তব্যের নানা রকম মানেও করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে তিনি জোসে মোরিনহোর কোচিংয়ে আর খেলতে চান না বলেই এমন কথা বলেছেন। ক্লাবে কোচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়। ইংল্যান্ডের কাগজগুলিতে লেখা হয়েছে, মোরিনহোর উচিত দেশঁকে দেখে শেখা যে, কী ভাবে পোগবাকে ব্যবহার করতে হয়। এক সময় রয় কিনের মতো প্রাক্তন তারকা পগবার নানা সময়ে নানা ধরনের চুলের ছাঁট নিয়ে বিদ্রুপ করতেন। রোববার সেই একই মানুষের প্রতিক্রিয়া, ‘আগে যা যা বলেছি সে সবের জন্যই আমি দুঃখিত। ফাইনালে যা খেলল ছেলেটা, তাতে এখন ও যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। পগবা কিন্তু বিশ্বকাপ জেতার দিন এই ধরনের বিতর্কিত প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন। গলায় বিশ্বজয়ীর পদক ঝুলিয়ে তাঁর মনে পড়েছে মায়ের কথা। পগবার মা-র নাম ইয়ো মরিবা। খুব ছোটবেলায় অনেক কষ্ট করে তাঁদের তিন ভাইকে মানুষ করেন বিবাহবিচ্ছিন্না এই নারী। রোববার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে তিনিও ছিলেন। ফাইনালের পরে মাঠেও এসেছিলেন। যাতে অনেকেরই মনে পড়ে পগবার সেই প্রতিক্রিয়া! মাতৃদিবসে নিজের টুইটারে তিনি লিখেছিলেন, আমি ভাগ্যবান যে তোমার ছেলে হতে পেরেছি। এই মুহূর্তে বিশ্বফুটবলের বর্ণময় এক চরিত্র পল পগবা যে তাঁর পদকটা নিজের মায়ের গলায় পরিয়ে দেবেন, তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে। দিয়েছেনও। সূত্র: আনন্দবাজার। / এআর

গোল্ডেন বল বড়জোর সান্ত্বনা পুরস্কার : মাদ্রিচ

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে এমবাপে, পগবা আর গ্রিজমানরা যখন স্বপ্নপূরণের আনন্দে লুজনিকির একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় স্বপ্ন ভাঙার যন্ত্রণা নিয়ে একা দাঁড়িয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার প্রাণভোমরা লুকা মাদ্রিচ৷ তার স্বপ্ন ছিল যে, ক্রোয়েশিয়ার ঘরে বিশ্বকাপ পৌছে দেওয়া। সেটি আর হলো না। তবে রাশিয়া মহারণের সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্যায় থেকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত সব কটি ম্যাচ জিতে লুজনিকির বিশ্বকাপ ফাইনালে পা রেখেছিল ক্রোয়েশিয়া৷ বিশ্বকাপের প্রতিটা ম্যাচেই প্রশংসিত হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক মাদ্রিচের খেলা৷ দলনায়কের উপর আস্থা রেখেই প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্রোটরা৷ খুব কাছে এসেও বিশ্বকাপ স্পর্শ করতে পারলেন না ক্রোট অধিনায়ক৷ বিশ্বকাপ না জিতলেও গোল্ডেন বল জেতেন মাদ্রিচ৷ তবে বিশ্বকাপের ট্রফির সামনে এই পুরস্কারকে সান্ত্বনা পুরস্কার বলেই মনে হয়েছে তাঁর৷ ক্রোয়েশিয়ার ১০ নম্বর জার্সিধারি টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন৷ ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে এই খেতাব জিতেছিলেন এলএম টেন৷ আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড মেসি তথা এলএম টেন৷ এবার জিতলেন ক্রোয়েশিয়ান লুকা মাদ্রিচ, নাম-পদবির আদ্যাক্ষর ও জার্সি নম্বর মিলিয়ে যাঁকেও এলএম টেন বলে অখ্যা দেওয়া যায়৷ গোল্ডেন বল জেতার পর ক্রোট অধিনায়ক বলেন, এই পুরস্কার অবশ্যই গর্বের৷ তবে এটা বিশ্বকাপ নয়৷ আমরা বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম৷ পুরো টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলেছি৷ কিন্তু কখনও কখনও ভালো খেলা দলও ট্রফি জেতে না৷ এরপর বিশ্বকাপ না পাওয়ার আক্ষেপ থেকে মাদ্রিচ যোগ করেন, আমি ক্রোয়েশিয়ার জন্য বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম৷ সেটা হয়নি, এটাই সত্যি৷ গোলেন্ড বল আমাদের জন্য নিতান্ত সান্ত্বনা পুরস্কার৷ মাদ্রিচের আগেও বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলার বিশ্বকাপ হাতছাড়া করে গোল্ডেন বলেই ‘সান্ত্বনা’ পেয়েছেন৷ তালিকায় অবশ্যই থাকবেন অলিভার কান, জিনেদিন জিদান, দিয়েগো ফোরলান এবং লিও মেসি৷ সূত্র : জিনিউজ। / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি