ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:২৯:২৫

২০ লাখ টাকার ‘তুফান’ দেখতে কমলাপুরে ভিড়

২০ লাখ টাকার ‘তুফান’ দেখতে কমলাপুরে ভিড়

ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি। রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে তাই শেষ সময়ের বেঁচা-কেনা চলছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছে এসব কোরবানিযোগ্য গরু।অন্যান্য হাটের মতো রাজধানীর কমলাপুর হাটেও উঠেছে বিপুল সংখ্যক গরু।তবে এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা ও উৎসুক জনতার নজর কেড়েছে সবচেয়ে দামি গরু ‘তুফান’। যার দাম হাঁকা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। গরুর মালিক দিনাজপুরের ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান। ‘তুফান’ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই দুই বছর আগে বাছুর কিনে নিয়েছিলাম। এখন কমলাপুর বাজারের সবচেয়ে বড় গরু এটি। গরুর ব্যবসার পাশাপাশি আমি ম্যানেজমেন্টে পড়াশুনা করছি। আমার ইচ্ছে দেশে মাংসের চাহিদা মেটানো। ভবিষ্যতে আরো বড় আকারে খামার করার চিন্তা রয়েছে। কমলাপুর গরু হাট ঘুরে দেখা যায়, অনেক বড় বড় গরু উঠেছে। এর মধ্যে ‘টাইগার’, ‘কালু’ অন্যতম।টাইগারের দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। কালুর দাম ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের অনেক গরু আছে। যেগুলোর দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। আরকে//
দুই মণ খাসির দাম ১ লাখ ২০ হাজার

ছাগলের দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কী অবাক হচ্ছেন? ঘটনা কিন্তু সত্যি। দুই মণ ওজনের খাসিটির দাম হাকছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। রাজধানীর কমলাপুর পশুর হাটে দেখা গেছে এমন দুটি বড় ছাগল। চকচকে সাদা-কালো রঙের বিশাল আকৃতির ছাগল দুটি একনজর দেখতে হাটে ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকে মোবাইলে স্থিরচিত্র কেউ ভিডিও করে নিচ্ছেন। বগুড়ার কৃষক মামুন ছাগল দুটির মালিক। তিনি বলেন, নিজের সন্তানের মতো ছাগল দুটি লালনপালন করেছি। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ’ টাকার চাল ভুসি খাইয়েছি। ছাগল দুটি ফ্যানের বাতাস ছাড়া ঘুমায় না। প্রতিটি ছাগলের ওজন দুই মণ। হাটে আনার আগে বাড়িতে অনেকে কেনার জন্য যোগাযোগ করছে। দামে বনেনি তাই দেইনি। বাড়তি লাভের আশায় বগুড়া থেকে ঢাকায় এনেছি। অনেকে দাম জিজ্ঞাসা করেছে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কেউ বলেনি। আজকে দুপুরে হাটে এনেছি, আশা করছি, কালকের মধ্যে বিক্রি করতে পারবো।   রাজধানীর বিভিন্ন অস্থায়ী হাট ঘুরে দেখা গেছে, সব হাটেই গরুর পাশাপাশি আলাদা জায়গায় ছাগল ও ভেড়া  তোলা হয়েছে। যাদের বাজেট কম তারা কোরবানির জন্য ছাগল কিনছেন। আবার অনেকে গরুর পাশাপাশি কোরবানির জন্য ছাগলও কিনছেন। তাই কোরবানির ঈদে গরু-মহিষের সঙ্গে ছাগলেরও বেশ চাহিদা রয়েছে। / এআর /

অভিশপ্ত মমি...

১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর। অস্ট্রিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ওটজাল পর্বতমালায় খুঁজে পাওয়া গেল প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বছরের পুরনো এক প্রাকৃতিক মমি। জায়গার নাম অনুযায়ী মমিটির নাম রাখা হল ওটজি। সন্ধান পাওয়ার বছরখানেক পর থেকেই ওটজিকে ঘিরে এমন সব ঘটতে ঘটতে থাকল, লোকে মমিটিকে অভিশপ্ত ভাবতে শুরু করল। এর যুক্তিও আছে। কারণ মমিটিকে নিয়ে যারাই কাজ করতে গেলেন, তাদের কারো মৃত্যু হয়, কেউ পড়তেন মহাবিপাকে। ওটজিকে প্রথম দেখতে পান জার্মানির পর্যটক হেলমুট সাইমন। ২০০৪ সালে হাইকিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে মারা যান তিনি। যে জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি প্রথম ওটজিকে দেখেছিলেন, এর কাছাকাছি জায়গাতেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃতদেহ খুঁজতে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছিল। এর প্রধান ছিলেন ডিয়েটার ওয়ারনেক। মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার পর আয়োজন করা হয় শেষকৃত্যানুষ্ঠানের। এর এক ঘণ্টার মাথায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান ওয়ারনেক। প্রত্নতত্ত্ববিদ কনরাড স্পিন্ডলার প্রথম ওটজির দেহটি পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি মাল্টিপল সেক্লরোসিসে মারা যান। ওটজিকে নিয়ে পরীক্ষা করা ফরেনসিক টিমের প্রধান রেইনার হেন এক লেকচার দিতে যাওয়ার সময় মারা যান সড়ক দুর্ঘটনায়। কার্ট ফ্রিৎজ নামের যে পর্বতারোহী হেনকে ওটজির কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনিও তুষারধসে মারা যান। আবার ওটজিকে বরফের নিচ থেকে তুলে আনার দৃশ্য ধারণ করা অস্ট্রিয়ার সাংবাদিক রেইনার হোয়েলজল মারা যান ব্রেন টিউমারে। সূত্র : হুরিয়াত ডেইলি। / এআর /

আফতাব নগরের আকর্ষণ ২০ মনের দেশী ‘কালা মানিক’

রাজধানীর রামপুরা আবতাব নগর কোরবানির পশুর হাটের আকর্ষণ ‘কালা মানিক’। ২০ মন ওজনের এ ষাড় গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা । এখন পর্যন্ত এর দাম উঠেছে ৭ লাখ টাকা।বিক্রেতার দাবি এটি-ই হাটের সবচেযে বড় গরু। যা দেখতে ভিড় করছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। আজ রোববার দুপুরে আবতাব নগর হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, হাতিরঝিল সংলগ্ন প্রধান গেট থেকে একটু সামনে গেলেই পিচঢালা রোডের দুপাশ ঘিরে সারিবদ্ধভাবে বিক্রির জন্য বেঁধে রাখা হয়েছে কোরবানিযোগ্য সব গরু। সড়কের এক পাশ দিয়ে গরু ভর্তি ট্রাক ঢুকছে। অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। রোডের পাশ দিযে ছোট খোলা জায়গাতেও বেঁধে রাখা হয়েছে গরু। মেরাদিয়া হাট সংলগ্ন বাঁশের সাকো দিয়েও অনেক ক্রেতা- বিক্রেতা হাটে প্রবেশ করছেন। সাকোর পাশ দিয়ে আবার ইঞ্জিন চালিত বোটে করে অনেকে গরু আনা-নেওয়া করছে। সাকো ও হাতিরঝিল সংলগ্ন প্রধান গেট থেকে আসা রোডের মিলিত স্থানেই রাখা হয়েছে হাটের সবচেয়ে বড় গরু ‘কালা মানিক’।পলিথিনের ছাউনির ভেতরে মাথা উচিয়ে কালো মানিক দাঁড়িযে আছে। তবে প্রচন্ড গরমে মানিককে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। ক্লান্তি দূর করতে মালিক আবার দিচ্ছে পাখার বাতাস। অন্যজন আবার গায়ে পানির ছিটা দিচ্ছে। ভিজা গামছা দিয়ে গা মুছে দিচ্ছে। কথা হয় কালা মানিকের লালনপালনকারী ঈদ্রিসের সঙ্গে। তিনি বলেন, রাজশাহীর পুটিয়া থেকে আজ সকালে গরুটি নিয়ে এনেছি। দেশী জাতের এ গরুটি গত দশ বছর ধরে পালছি। গরুটির ওজন হবে ২০ মন। দাম চেয়েছি ১০ লাখ টাকা। দাম উটেছে ৭ লাখ টাকা। রাজশাহী থেকে আফতাব নগর হাটে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীতে আরও অনেক হাট আছে। কিন্তু সুদূর রাজশাহী থেকে এই হাটে গরু নিয়ে এসেছি যাতে তাড়াতাড়ি গরুটি বিক্রি করতে পারি। কারণ শুনেছি এই হাটে অনেক শিল্পপতিরা গরু কিনতে আসেন। হাটে অপেক্ষাকৃত দেশি জাতের ছোট আকারের গরু বেশি। তবে বড় ও মাঝারি আকারের গরুও আছে। ছোট গরু ৪০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি ও বড় আকারের গরুর দাম ৬০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।হাটে ছাগলও উঠানো হয়েছে। রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব গরু ও ছাগল নিয়ে আসা হয়েছে। / এআর /

৩০ মন রাজা’র দাম ১৬ লাখ

রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদিয়া পশুর হাটে এবার উঠেছে ১৬ লাখ টাকার ‘রাজা’। মেহেরপুরের হিজলি এলাকা থেকে আনা এ ষাড় গুরুটিকে হাটের সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি করা হচ্ছে। ৩০ মন ওজনের এ ষাড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। যা দেখতে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ উৎসুক জনতার ভিড় সারাক্ষণ লেগেই আছে। আজ রোববার বেলা ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেরাদিয়া হাটের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে দক্ষীণমুখী রোডের শেষ সীমানায় দশতলা বিল্ডিং খ্যাত স্থানে গরুটি বেঁধে রাখা হয়েছে। উপরে টিনের ছাউনি দিয়ে গরুটির জন্য বিশেষ ছাঁয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ছাউনির নিচে গরুর মালিকের আরো ১৩টি গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। কিন্তু গরু মালিকের যত্নের সবটুকু পাচ্ছে ‘রাজা’ একাই। রাজাকে একজন বাতাস করছে। অন্যজন বড় পাত্র থেকে মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। হাটের সেরা এ গরুটিকে দেখতে কৌতুহলী অনেকেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। গরুর মালিক আব্দুর রশিদ বলেন, স্কেলে উঠিয়ে গরুটির ওজন হয়েছে ৩০ মন বা ১২০০ কেজি। এটি ফিজিয়ান জাতের গরু। দাম চেয়েছি ১৬ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত দাম উঠেছে ৮ লাখ টাকা। তিনি বলেন, আমার খামারে মোট ৩২টি গরু ছিল। আমি হাটে ১৪টি গরু নিয়ে এসেছি। যার মধ্যে দুটি ফিজিয়ান। বাকিগুলো দেশী জাতের। ফিজিয়ান অন্য গরুটির দাম চেয়েছি ৫ লাখ টাকা। আব্দুর রশিদ আরও বলেন, গরুটি উঠাতে চেয়েছিলাম আবতাব নগর হাটে।ওই হাটটি এবার বসা না বসার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। পরে মেরাদিয়া হাটে নিয়ে এসেছি। এখন দেখছি আবতাব নগর হাটও বসেছে। মেরাদিয়া হাটে এতো বড় গরু কেনার মতো ক্রেতা কম আছে বলে মনে হচ্ছে। গত দু’দিনে মাত্র  ২ জন ব্যক্তি দরদাম করেছে। মেরাদিয়া হাটে অপেক্ষাকৃত ছোট ও দেশী জাতের গরু বেশি উঠেছে। রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেডেরপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরুগুলো আনা হয়েছে। গরুগুলোর দাম সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা হাঁকা হচ্ছে। / এআর /

হাটের আকর্ষণ ২০ মনের উট

ঈদুল আজহা উপলক্ষে জমতে শুরু করেছে রাজধানী গাবতলীর পশুর হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই  আসছে গরু, ছাগল  আর মহিষ। দেশীয় এ পশুগুলোর পাশাপাশি এবার হাটে উঠেছে পাকিস্তানের একটি উট। যা হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা ও উৎসুক জনতা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। শনিবার সরেজমিন গাবতলীর হাট পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, হাটের মূলগেট দিয়ে ঢুকেই পশ্চিম পাশে সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে গরু ও ছাগল। একটু সামনে যেতেই চোখে পড়ে বিরাট আকৃতির মরুর এক প্রাণী।  যেখানে জটলা পাকিয়ে চতুর্দিক দিয়ে জনতা উঠটি দেখছেন। উটের চারপাশে বাঁশের বেড়া থাকায় কেউ তার কাছে ঘেঁষতে পারছে না। বেড়ার ভিতরে বসে আছে উটের মালিক ও রাখাল। বেড়ার ভেতরে উটটি শুয়ে আছে। কথা হয় মালিক আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, উটটির ওজন ২০ মন। দাম আমরা চেয়েছি ২২ লাখ টাকা। দাম উঠেছে ১০ লাখ টাকা। ১ বছর আগে পাকিস্তান থেকে উটটি আনা হয়েছে। আর এটি পালন করা হয়েছে  এ গাবতলীতেই। এদিকে হাটে উটটি কিনতে দরদাম করছিলেন রাজধানীর বারিধারা থেকে আসা কেসমত খন্দকার ও তার দুই ভাই হাসমত খন্দকার ও কেরামত খন্দকার। তারা দাম শুনে উট ক্রয়ে অনাগ্রহ  প্রকাশ করছিলেন। জানতে চাইলে কেসমত খন্দকার বলেন, ভাবছিলাম তিন ভাই মিলে এবার উট কিনবো। কিন্তু উটের  আকাশ ছোঁয়া দাম চাওয়া হচ্ছে। দাম কমানো হলে চিন্তা করে দেখতাম। / এআর /

সবার নজর ৪২ মন ওজনের ‘রাজা’য়

রাজধানীর বৃহৎ গরুর হাট গাবতলীতে সাড়া ফেলেছে ৪২ মন ওজনের ‘বাজারের রাজা’। হাটে ক্রেতাসহ উৎসুক জনতা ভিড় করছেন ষাড় গরুটি দেখতে। বিক্রেতা বাজারের এ রাজার দাম হাঁকছে ২৮ লাখ  টাকা। ক্রেতাদের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ১৮ লাখ টাকা। আজ শনিবার সকালে গাবতলীর হাটে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বৃহৎ এ হাটে গরু ছাগল, মহিষ ও উট আনা হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে। যেখানে সবচেয়ে বেশি গরু আনা হয়েছে কুষ্টিয়া থেকে। হাটে সবচেয়ে বেশি অস্ট্রেলিয়ান গরু দেখা গেছে। হাটের প্রধান গেট দিয়ে ঢুকেই সারিবদ্ধ গরু চোখে পড়ে। তবে আজ পর্যন্ত হাটের সবচেয়ে বড় গরুটি রাখা হয়েছে প্রধান গেট বরাবর সারির শেষ সীমানায়। যেখানে দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল জনতার জটলা। সবাই উৎসুক হয়ে গরুটি দেখছে। মালিক আনোয়ার হোসেন মন্ডল ষাড়টির নাম দিয়েছেন ‘বাজারের রাজা’। তার দাবি এ ষাড়টি-ই  বাজারের সবচেয়ে বড় ষাড়। তাই তিনি নাম দিয়েছেন ‘বাজারের রাজা’। ষাড়টির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আনিসুর রহমান বলেন, স্কেলে উঠিয়ে গরুটি মাপ দেওয়া হয়েছে। ওজন পাওয়া গেছে ১৬৭৫ কেজি। যা প্রায় ৪২ মনের কাছাকাছি। ষাড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ২৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ১৮ লাখ টাকা দাম উঠেছে। তিনি জানান, ফরিদপুরের সিএনবি এলাকায় ২০১২ সাল থেকে খামারে গুরুটি পালা হচ্ছিল। এর আগে গরুটির দাম উঠেছিল ২২ লাখ টাকা। তখন বিক্রি করা হয়নি। এবার কাঙ্খিত দাম পেলে বিক্রি করা হবে। আরকে// এআর          

মানিব্যাগ

কাল বুধবারের এই ঘটনা। অনেকদিন মনে রাখার মতো। ভালোলাগারও। আয়ারল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক বেড়াতে আসা এক দম্পতির সঙ্গে।  বিকেল সাড়ে ছ’টা। স্টোরে কাজ করছিলাম আমরা তিনজন — ভারতের ইন্দুমতি, শ্রীলংকার উপালি আর আমি। উপালি ৬.৩২ মিনিটে একটু বাইরে যায়। এক কাস্টমারকে এটেন্ড করে আমি কেবল একটু ঘুরেছি, নজরে পড়লো উপালি’র কাউন্টারে একটা কালো মানিব্যাগ পড়ে আছে। কি করতে হবে জানা ছিলো। মানিব্যাগ ছোঁয়া যাবে না। টেলিফোন নিয়ে কল করলাম পোর্ট অথরিটি পুলিশের লস্ট এন্ড ফাউন্ড ডিপার্টমেন্টে। দুই মিনিটের মধ্যে NYPD’র দুই পুলিশ এসে হাজির। তারা মানিব্যাগ খুলে টাকা-পয়সা কি আছে গুনলেন এবং আবার রেখে দিলেন। প্রায় ৮শ’ মার্কিন ডলার এবং ৫৫ ইউরো! সাক্ষী হিসেবে আমার নাম টুকে নিলেন এবং বললেন যদি মানিব্যাগের মালিক আসেন তাহলে যেন তাদের অফিসে পাঠিয়ে দিই। দশ মিনিট পর মানিব্যাগের মালিক আইরিশ দম্পতি এসে হাজির। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের দপ্তরে পৌঁছে দিয়ে আমি কাজে চলে এলাম। আমাকে ধন্যবাদ জানাতে জানাতে তারা রীতিমত মুখে ফেনা তুলে ফেললেন। আমি ফের কাজে ডুবে গেলাম। অবাক কান্ড! ওই দম্পতি আবার এলেন আমার কাছে, হাতে বেশ কিছু ডলার, আমাকে গিফট করতে চান! সঙ্গে বারবার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন। আমি সবিনয়ে টাকা নিতে অপারগতা জানিয়ে বললাম, “লেট্ স টেইক অ্যা সেলফি, দ্যাট উইল বি মাই প্রাইজ!” আইরিশ দম্পতি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। দু’জন কিচুক্ষণ আমাকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরে রাখলেন — কেমন যেন এক অনির্বচনীয়, মিষ্টি ঊষ্ণতা অনুভব করলাম। রাতে বাসায় ফিরে হঠাৎ এই লাইনটা মনে ধরলো — “All human beings are born equal.” (লেখক: মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। দেশে থাকতে তিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন দৈনিক সংবাদ, ভোরের কাগজ ও ডেইলি স্টারে। এই তুখোর সাংবাদিক বর্তমানে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করছেন। তার ফেসবুক থেকে এই লেখাটি সংগৃহীত।) এসএইচ/

পৃথিবীর আলোচিত তিন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড

পৃথিবীর বহুল আলোচিত রাজনীতিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ আবার জাতির জনকও ছিলেন। কেউ ছিলেন স্ট্যাটসম্যান। আবার কারো পরিচিতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বব্যাপী। তাঁদের বাঁচতে দেওয়া হয়নি। বিশ্বের আলোচিত এমন তিন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে আজকের ফিচার। * বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড বাঙালির ইতিহাসে এক নির্মম ট্র্যাজেডি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরের সূর্য আলো ছড়িয়ে পড়ার আগে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্য। পৃথিবীতে বহু নেতা রাজনৈতিক হত্যাকণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে বিরল। কারণ সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রাণ দিতে হয়েছিল কোলের শিশু রাসেল, অন্ত:স্বত্ত্বা নারীকেও। সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চাভিলাষী সদস্য বর্বর এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়। যদিও তার কয়েকজন খুনি এখনও ধরা পড়েনি। শেখ মুজিব ছিলেন সাধারণ মানুষের হৃদয়ের সম্রাট। অবিসংবাদিত এ নেতা বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত-নির্যাতিত জনতার মুক্তির ইতিহাসে কিংবদন্তি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এক ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এ ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। * আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নৃশংস যে হত্যাকাণ্ড ঘটে তার শিকার হন দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। তিনি সেদিন ওয়াশিংটনের ফোর্ডস থিয়েটারে ‘আওয়ার আমেরিকান কাজিন’ নাটকের অভিনয় দেখছিলেন। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে নাট্যাভিনেতা জন উইলকেস বোথ প্রেসিডেন্ট বক্সে ঢুকে পিস্তল দিয়ে লিংকনের মাথার পেছনে গুলি করেন। প্রেসিডেন্টকে বাঁচাতে সেনা কর্মকর্তা রাথবন এগিয়ে এলে তাকেও বোথ ছুরিকাঘাত করে লাফ দিয়ে মঞ্চে উঠে যান এবং পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তার সঙ্গে আরও তিন আততায়ী ছিল। এর মধ্যে লিউইস পাওয়াল ও ডেভিড হেরোল্ডের দায়িত্ব ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিউয়ার্ডকে হত্যা করা। জর্জ এডজার্ডের দায়িত্ব ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনকে হত্যা করার। তবে তাদের হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কনফেডারেট রাষ্ট্র তৎকালীন অস্বীকৃত উত্তর আমেরিকার সমর্থকদের ভূমিকা ছিল। * মার্টিন লুথার কিং বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক ছিলেন মার্টিন লুথার কিং। তার ভাষণ ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ আজও মানুষের কন্ঠে ভাসে। লুথার কিং যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৫০ মধ্যবর্তী সময় থেকে আমৃত্যু তিনি ছিলেন আমেরিকান সিভিল রাইট মুভমেন্টের নেতা। সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ নোবেলজয়ী হিসেবে ইতিহাসে তার নাম সবার আগে। ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল। মেমফিসে অবস্থিত লরাইন মোটেলে অবস্থান করছিলেন মার্টিন। মোটেলের ৩০৬ নম্বর কামরার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় জেমস আর্ল রে নামের শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদী যুবকের গুলিতে নিহত হন তিনি। বুলেটটি তার ডান গাল ভেদ করে স্পাইনাল কর্ড হয়ে ঘাড়ের শিরা ছিঁড়ে ফেলে। রাত ৭টা ৫ মিনিটে সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে তিনি মারা যান। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর লন্ডন হিথরো এয়ারপোর্টে জেমস ধরা পড়ে। হত্যার দায়ে তার ৯৯ বছরের কারাদণ্ড হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় ১৯৯৮ সালে। সূত্র : উইকিপিডিয়া। / এআর /

স্মৃতি বহন করে বাহাদুর শাহ পার্ক

পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত বাহাদুর শাহ পার্কটি সিপাহী বিপ্লবের স্মৃতিচিহ্ন ধারণ করে আছে। ইংরেজ শাসন-শোষণের ইতিহাস ও বর্বরতা এবং স্বাধীনচেতা সেনাদের আত্মত্যাগের সাক্ষী এ বাহাদুর শাহ পার্ক। পার্কটি ঢাকার সদরঘাট এলাকার প্রবেশমুখে লক্ষ্মীবাজারের মাথায় অবস্থিত। পার্কটিকে ঘিরে ৭টি রাস্তা একত্রিত হয়েছে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে ইংরেজরা। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইংরেজদের শোসন নিপিড়ণ বন্ধের প্রশ্নে অসংখ্যবার বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতাকামি বাংলার জনগণ। তেমনি একটি বিদ্রোহ হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব। ১৮৫৭ সালে সম্রাট বাহাদুর শাহকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে ঢাকায় সিপাহী বিদ্রোহ হয়। ইংরেজ মেরিন সেনারা বাংলার সেনাদের নিরস্ত্র করার জন্য ১৮৫৭ সালের ২২ নভেম্বরে ঢাকার লালবাগ কেল্লায় আক্রমণ চালায়। স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সৈন্যরা তাতে বাধা দিলে যুদ্ধ বেধে যায়। আহত ও পলাতক সেনাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ সামরিক আদালতে ১১ বিপ্লবীকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। প্রকাশ্যে বাহাদুর শাহ পার্কে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। পরে জনগণকে বিদ্রোহ না করার জন্য ভীতি প্রদর্শন করাতে লাশগুলো গাছে টাঙ্গিয়ে প্রদর্শন করা হয়। ইংরেজদের এই নিষ্ঠুর কার্যকলাপ ও সেনাদের আত্মত্যাগের সাক্ষ্য বয়ে নিয়ে চলেছে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক। আঠার শতকের শেষের দিকে পুরান ঢাকায় আর্মেনীয়রা বিলিয়ার্ড ক্লাব তৈরি করে। যেটি স্থানীয়দের কাছে আন্টাঘর নামে পরিচিত ছিল। ক্লাব ঘরের সঙ্গেই ছিল একটি মাঠ যেটিকে বলা হতো আন্টাঘর ময়দান। ১৮৫৮ সালে রানী ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের শাসনভার নেওয়ার পর মাঠ সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করার মাধ্যমে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’। পরবর্তীতে এ স্থানের নাম ভিক্টেরিয়া পার্ক পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক। ঊনিশ শতকে এ পার্কের উন্নয়নে নওয়াব আব্দুল গণির ব্যক্তিগত অবদান ছিল অনেক। তার নাতি খাজা হাফিজুাল্লহর মৃত্যুর পর তার ইংরেজ বন্ধুরা হাফিজুল্লাহর স্মৃতি রক্ষার্থে চাঁদা তুলে ১৮৮৪ সালে এখানে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করে। শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিরক্ষার্থে উত্তর দিকে একটি সুউচ্চ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। উঁচু বেদির ওপর নির্মিত চার স্তম্ভের গোলাকার আচ্ছাদনে ঘেরা সৌধটি। পার্কটি ডিম্বাকৃতির এবং লোহার রেলিং দিয়ে ঘেরা। পূর্ব এবং পশ্চিম পাশে দুটো প্রধান গেট রয়েছে। পার্কটির ভেতরে রেলিংয়ের পাশ দিয়ে পাকা রাস্তা আছে। পার্কটি ঢাকার অন্যতম প্রধান নৌবন্দর সদরঘাট এলাকায় ঢুকতেই লক্ষ্মীবাজারের ঠিক মাথায় অবস্থিত। পার্কটিকে ঘিরে চারপাশে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বেশ কিছু স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থাকার কারণে এটি পুরান ঢাকার একটি অন্যতম  এলাকা হিসেবে পরিচিত। পার্কের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরপাশে রয়েছে সেন্ট থমাস চার্চ, একই পাশেই অবস্থিত ঢাকার প্রথম পানি সরবরাহ করার জন্য তৈরি পানির ট্যাংক। উত্তর-পূর্ব কোণে আছে ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং ইসলামিয়া হাইস্কুল, পূর্ব পাশে রয়েছে ঢাকার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যালয় সরকারি মুসলিম হাইস্কুল। ঠিক উত্তর-পশ্চিম পাশেই রয়েছে ঢাকার জজকোর্ট। এছাড়া, বাংলা বাজার, ইসলামপুর, শাঁখারী বাজার থেকে বর্তমান ঢাকার নতুন এলাকায় আসতে এ পার্ক এলাকার রাস্তাটি প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৬১ অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মহাপরিকল্পনাভুক্ত স্থাপনা হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্বের বিবেচনায় বাহাদুর শাহ পার্ককে সংরক্ষণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। কিন্তু পার্কের উত্তরের রাস্তায় ডাস্টবিন, ময়লার ছড়াছড়ি। উত্তর-দক্ষিণের ফুটপাতে দোকান এবং রিকশার জট। নষ্ট হচ্ছে পার্কের সৌন্দর্য। পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বার বন্ধ রাখা হয়। পূর্ব দিকেরটা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। এখানে স্থানীয়ভাবে প্রাতঃভ্রমণকারী সংঘ গড়ে তোলা হয়েছে। এ সংঘের সদস্যরা সকাল, বিকেল এবং সন্ধ্যায় শারীরিক ব্যায়াম করেন। এছাড়া, নানা পেশা ও চাকরিজীবী, পথচারী, ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণের নিত্যপদচারণা রয়েছে কালের সাক্ষী এ পার্কে। পার্কে প্রবেশের জন্য কোন টিকিট কাটতে হয় না। এখনে সব জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারে। ঢাকার যে কোন স্থান হতে সদরঘাটগামী বাস, সিএনজি, মোটরবাইক ও রিকশাযোগে আসা যায়।   এসএইচ/

জ্বীর্ণ দশায় শত বছরের পুরোনো কাঠের মসজিদ    

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নিভৃত পল্লীর উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামে দেশের একমাত্র কাঠের তৈরি ঐতিহ্যবাহী মমিন জামে-মসজিদটি এখন জ্বীর্ণদশা। মসজিদটি বাংলাদেশের একমাত্র কাঠের মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত। তবে মসজিদটি যথাযথ সুরক্ষা ও সংস্কারের অভাবে এটি এখন জ্বীর্ণদশা।   সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি শত বছরের পুরানো এই মসজিদটি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ব বিভাগ সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলেও মসজিদটির জন্য কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফরায়জী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মঠবাড়িয়ার প্রয়াত মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯১৩ সালে মঠবাড়িয়ার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের আকনবাড়ির সামনে মসজিদটি নির্মিত হয়। তৎকালীন দিল্লীর ২২ জন কাঠ মিস্ত্রি মিলে কোন লোহার পেরেক ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি নির্মাণের উদ্যেক্তা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের নামের সাথে মিল রেখে পরে মমিন মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির জন্য উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের মূল সড়কটিও মমিন মসজিদ সড়ক নামে নামকরণ করা হয়েছে। কাঠের মসজিদটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম মসজিদের ২৩ তম স্থান দখল করে আছে। ইউনিসেফ প্রকাশিত বিশ্বের অন্যতম মসজিদ নিয়ে প্রকাশিত ৪০০ পৃষ্ঠার একটি বইয়ে কাঠের এই মসজিদটির সচিত্র বর্ণনা স্থান পেয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের তৈরি শিল্পসমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্যকলার একটি নিদর্শন। সম্পূর্ণ কাঠের নির্মিত কারুকার্য ও ক্যালিগ্রাফি খচিত এই মসজিদটিতে কোনো ধরনের লোহা বা তারকাঁটা ব্যবহার করা হয়নি। বাংলাদেশের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত মসজিদের মধ্যে যেগুলো বেশি গুরুত্ববহন করে সেসব মসজিদের ছবি জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদের কয়েকটি আলোকচিত্র (বর্ণনাসহ) জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিদের সূত্রে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টি হলেই মসজিদটির মেঝেতে পানি পড়ে। ফলে মেঝেতে লবনাক্ততা দেখা দিয়াছে। এ কারনে ফ্লোরম্যাট, কার্পেট, পাটি ও জায় নামাজ বিছানো যাচ্ছে না। মসজিদের টিনের ছাউনিতে মরিচা ধরে নাজুক অবস্থা। টিনের কার্নিশ ছোট, যে কারনে মসজিদের মূলভবনে রোদ বৃষ্টিতে সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশগত কারণে ফ্লোরের উচ্চতা কমে গেছে। বর্তমানে মাটি থেকে মসজিদের ভিত্তি মাত্র দেড় ফুট উঁচু। মুসল্লীরা আরও জানান, মসজিদটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। তারপরেও এলাকাবাসির সহযোগিতায় মসজিদের বারান্দা বাড়ানো হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন দুই পর্বে এলাকার শিশুদের কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়। দুই পর্বে  শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিতভাবে কুরআন শিক্ষাগ্রহণ করে। তবে সম্প্রসারিত বারান্দা দেওয়ার কারণে মসজিদের নান্দনিক শোভা নষ্ট হয়ে গেছে। উদয়তারা বুড়িরচরের সম্ভ্রান্ত আকন বংশের উত্তারাধিকার সূত্রে মসজিদটি নির্মাণের উদ্যেক্তা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের নাতি আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে মসজিদটি দেখভাল করে আসছেন। তিনি জানান, সিডর পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদটি ৭ জন কাঠমিস্ত্রী সংস্কার করেন। এ সময় মসজিদে নিন্মমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। যা পুরাতন মসজিদের কারুকার্যের সাথে কোন মিল নেই। সংস্কারের কাঠ ঘুণে ধরেছে। মসজিদটি সম্পূর্ণ কাঠের তৈরী সেখানে সংস্কারের নামে লোহার পেরেক ব্যবহার করা হয়েছে।এমনকি চালার টিনের ওপর খোদাই করা ‘আল্লাহু’ লেখা কাঠের ফলকটিও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হারুণ তালুকদার  ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মমিন মসজিদটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি সুরক্ষার জন্য সরকারের জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেই সাথে এটি সুরক্ষায় দায়িত্বশীল লোকের প্রয়োজন।   কেআই/এসি    

বারবার রক্তাক্ত হয়েছে যে গীর্জা

এবারের বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশেই তৈরি করা হয়েছে ফিফা ফ্যানজোন। সেন্ট পিটার্সবার্গের অন্যতম বড় ট্যুরিস্ট স্পট `চার্চ অন দা স্যাভিওর অফ স্পিল্ড ব্লাড`। আর এর পাশে ফিফা ফ্যান জোন। আর এই গির্জা ঘুরতে এসে এক ব্রাজিলীয় দর্শনার্থীর মন্তব্য হলো `ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শোক, এখানে তিন ধরণের অনুভব হচ্ছে`। কারণ এই গীর্জা বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের ফিফা ফ্যান জোনের ঠিক সামনেই দেখা যায় সুরম্য এই গীর্জা। লম্বা লাইন ধরে ঢুকছেন বিভিন্ন দেশ থেকে আগত দর্শনার্থীরা। জনপ্রতি ২৫০ রুবলের প্রবেশমূল্য এই গীর্জায়। যে অর্থের বড় অংশ এর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়ে আসছে। মূলত গীর্জা হলেও, এটি এখন ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে ঠায় দাঁড়িয়ে। রাশিয়ান সম্রাট দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৫৫ সালে ক্ষমতা পান। তার ঠিক ২৬ বছর পর তাকে মেরে ফেলা হয়। এই সম্রাটের সমাধিস্থলই এখানকার মূল। মৃতদেহ যেখানে সমাহিত সেখানে পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া। এই পাথর কোলিভান গ্রাইন্ডিং ফ্যাক্টরি ও একাটেরিনবার্গ ও পেটারহফ ল্যাপিডারিতে তৈরি। ইউরাল, আল্টাইরোডোনাইট, জ্যাসপার ও সেরপেন্টাইব পাথর থেকে নেয়া হয়েছে এগুলো। এই সমাধিসৌধ তার স্মরণে তৈরি করেছেন উত্তরাধিকারী তৃতীয় আলেকজান্ডার। ১৮১৮ সালে মস্কোর ক্রেমলিনে জন্ম নেয়া দ্বিতীয় আলেকজান্ডার, ১৮৮১ সালে মারা যান আততায়ীর হাতে, সেন্ট পিটার্সবার্গের উইন্টার প্যালেসে। দ্বিতীয় আলেকজান্ডার পোল্যান্ডেরও রাজা ছিলেন। রাশিয়ার সম্রাট দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের সমাধিস্থলের দুটি ভাগ, গীর্জার মূল প্রান্ত আলাদা হয়েছে ইতালিয়ান মার্বেল পাথরে, যা ইতালির জেনোয়া থেকে তৈরি হয়ে এসেছে। দেয়ালজুড়ে জিশু ও মেরীর চিত্র, যা মোজাইকে তৈরি। সূত্র-বিবিসি আরকে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি