ঢাকা, রবিবার   ১১ এপ্রিল ২০২১, || চৈত্র ২৮ ১৪২৭

বেগমগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ, দুই মাস নিখোঁজ 

নোয়াখালী প্রতিনিধি 

প্রকাশিত : ১৩:০১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আলাইয়ারপুরে হীরাপুর গ্রামে অস্ত্রের মুখে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের পর ভাইরালের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার গণধর্ষণ এবং অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকে ওই ছাত্রী দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। 

সবশেষ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ওই তরুণীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আজও ফিরে আসেনি- এমনটাই অভিযোগ করেছেন তরুণীর মা। 

এ ঘটনায় নোয়াখালী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে একই এলাকার রাসেল (২৫), জোবায়ের (২৪), সাইফুল ইসলাম ইমন (২২) ও ফয়সাল নামে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর মা।  পরে একই দিন রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাইফুল ইসলাম ইমন ও ফয়সালকে গ্রেফতার করে। 

নিখোঁজ তরুণীর মা সাংবাদিকদের জানান, ‘২০১৮ সাল থেকে একই এলাকার ইমন ও রাসেল আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে। এ বিষয়ে তাদের ডেকে এনে নিষেধ করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ‘তাদের কথায় রাজি না হলে তোর মাকে মেরে ফেলবো বলে হুমকি দেয়।’ এরপর একদিন রাসেল ও ইমন আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে কৌশলে কোমলপানীয়র সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে আমাকে অচেতন করে অস্ত্রের মুখে মেয়েকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরে এক দোকানিকে ডেকে এনে জোর করে তার মেয়ের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে উভয়কে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে তারা। পরে ওই ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে টাকা, স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় এবং একাধিকবার আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে।’

তিনি জানান, ‘বাধ্য হয়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়েও রেহাই পাইনি। বিয়ের পরে মেয়ে বেড়াতে আসলে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা ঘর থেকে ৫০ হাজার টাকা, ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে যায়। এরপর থেকেই ভিডিও ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা নিতে থাকে। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খোলেননি তারা। এবার থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাইনি। বর্তমানে তারা অসহায় হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাহায্যে পুনরায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।’ 

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘তুলে নেয়ার ৩ মাস পরে রাসেলকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মিরপুরের একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে আনি। এ ঘটনার ১৫ দিন পর রাসেল পুনরায় মেয়েকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়, ১০ দিন পর আবারও ১০ হাজার টাকা দিয়ে মেয়ে নিয়ে আসি। এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর রাসেল আবার আমার মেয়েকে নিয়ে যায়, এখনো সে কোথায় আছে, কিভাবে আছে জানিনা। গত সপ্তাহে রাসেল প্রস্তাব দিয়েছে এবার ১ লাখ টাকা দিতে। টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।’

তিনি জানান, ‘মেয়ের সন্ধান চাইলে ইমন আমাকে তার সাথে এক রাত কাটানোর প্রস্তাব দেয়। সে বলে ‘তার সাথে রাত কাটালে আমাকে মেয়ের সন্ধান দেবে।’

এ বিষয়গুলো এতদিন পুলিশকে জানানো হয়েছে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই নারী বলেন, ‘আমি বেগমগঞ্জ থানার সুজন চাকমার কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। উনি আমার এলাকায় গিয়ে তদন্তও করেছিলেন। আমি যদি সুজন চাকমাকে কিছু বলি তিনি আবার আসামিদের সব বলে দেন। পরে তারা এসে হুমকি ধমকি দেয়। যে কারণে আমি নিরব ছিলাম। আমার কাছে দুদিন এসেছে জিডি উঠিয়ে নিতে। না তুললে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখনো টাকা পয়সা চাচ্ছে। না দিলে মেয়েকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এমনকি লাশও দেখাবে না বলে হুমকি দেয়। তারা এ পর্যন্ত ৪টি বাসা পাল্টিয়েছে। আমি দেখেছি আমার মেয়েকে ট্যাবলেট খাইয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত করে, দেহ ব্যবসা করে। এ কাজে ঢাকার জান্নাত নামে এক মেয়েও জড়িত। আমি আমার মেয়েকে চাই এবং জড়িতদের উপযুক্ত বিচার চাই।’

এ বিষয়ে ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। গত বছরের অক্টোবর মাসে মেয়ের মা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। সবশেষ গত ২ মাস ধরে মেয়েটি নিখোঁজ রয়েছে বলে শুনেছি।’

আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জানান, ‘এরা সবাই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে ওই মেয়ের বিষয়ে আমি কিছুই শুনিনি তবে পূর্বের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতাম।’ 

বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার জানান, ‘রাতেই ইমন ও ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের পাশাপাশি ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এআই/ এসএ/
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি