ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:০৮:৩৭

রংপুর বিভাগে এরশাদ জিতলেও হারলেন ফখরুল

রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে বেসরকারি ফলে ২৪টি আসনে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি ৭টি ও বিএনপি জিতেছে মাত্র একটি আসনে। এ বিভাগের গাইবান্ধা-৪ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত আছে। রংপুর থেকে হেভিওয়েট প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী বড় জয় পেলেও ঠাকুরগাঁও থেকে হেরে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হেরে গেছেন বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে। রংপুর বিভাগের একটিমাত্র আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। জিতেছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাহেদুর রহমান। রংপুর-৩ আসনে জিতেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেই মুহাম্মদ এরশাদ। এছাড়া রংপুর-১ এ জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর-৪ এ আওয়ামী লীগের টিপু মনুশী, রংপুর-৫ এ আওয়ামী লীগ নেতা এ এইচ এন আশিকুর রহমান এবং রংপুর-৬ এ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। দিনাজপুরের ৬টি আসনেই জিতেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। বেসরকারি ফলে জয়ী হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। নীলফামারী থেকে জিতেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। লালমনিরহাট থেকে জয় পেয়েছেন জাতীয় পার্টির কো- চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। কুড়িগ্রামের তিনটি আসনই গেছে মহাজোটের দখলে। গাইবান্ধার একটিতে জাতীয় পার্টি ও একটিতে জিতেছে আওয়ামী লীগ। আর পঞ্চগড়ের দুটি আসনই পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

পঞ্চগড়-২ আসনে আ’লীগ প্রার্থীর স্ত্রীর মৃত্যু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের একদিন আগে মারা গেলেন পঞ্চগড়-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী নিলুফার ইসলাম (৫৮)।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)।গত ২৩ ডিসেম্বর তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে প্রথমে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে ছিলেন তিনি। এরপর গত শুক্রবার তাকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি। ভোটের পর দিন সোমবার বাদ জোহর বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের মহাজনপাড়া এলাকায় পারিবারিক গোরস্তানে তার দাফন সম্পন্ন হবে।তার মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও পঞ্চগড়-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সাবেক জনপ্রেক্ষিত কর্মকর্তা নাইমুজ্জামান মুক্তা শোক প্রকাশ করেছেন। এসএ/  

ভোট দেবেন না এরশাদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তবে অসুস্থতার কারণে প্রচারণায় যেতে পারেননি তিনি। এছাড়া এরশাদ ভোট দিতেও যেতে পারছেন না। তার এপিএস মনজুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এপিএস মনজুরুল ইসলাম বলেন, রংপুরে খুব শীত পড়ছে। আর ডাক্তার এ সময় স্যারকে পূর্ণ রেস্টে থাকতে বলেছেন। তাই মনে হয় তিনি ভোট দিতে রংপুরে যাচ্ছেন না। তবে ঢাকা থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি ভোট দেবেন। জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের পৈত্রিক বাড়ি রংপুর নগরীর নিউ সেনপাড়ায়। সেখানকার শিশুমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এরশাদের ভোট দেওয়ার কথা ছিল। সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর সদর ৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করতেও রংপুরে যাননি এরশাদ। তার পক্ষে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন জাপার মহাসচিব মশিয়ার রহমান রাঙ্গাসহ সিটি মেয়র মোস্তফাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এরপর তিনি অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় সিএমএইচে ভর্তি থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে লম্বা সময় অবস্থান শেষে ২৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন। অনেকে ভেবেছিলেন শেষ মুহূর্তে একদিনের জন্য হলেও প্রচারণায় যাবেন এরশাদ। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। এখন ভোট দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বাতিল করা হয়েছে। এদিকে, এরশাদ রংপুরে না গেলেও তার পক্ষে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিশাল শো ডাউন করেছে মহানগর জাতীয় পার্টি। সিটি মেয়র মোস্তফার নেতৃত্বে ১০ হাজারেরও বেশি নেতা কর্মী এতে অংশ নেন। একে//

নীলফামারীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ী এলাকায় বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী ও স্ত্রী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার নীলফামারী-ডোমার সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিনুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- জেলার ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আইনুল ইসলাম (৫৫) ও তার স্ত্রী মজিদা বেগম (৪৫)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে পলাশবাড়ী ডায়াবেটিস হাসপাতালে এসে চিকিৎসা শেষে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন আইনুল। পথিমধ্যে জেলা সদরের ডোমার সড়কে পলাশবাড়ী কলেজের সামনে পৌঁছালে মেহেদী পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই স্বামীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মজিদা। ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। একে//

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. ফজলে রাব্বী মারা গেছেন

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ি-সাদুল্যাপুর) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতের ছোট ভাই বাদশা চৌধুরী জানান, ড. ফজলে রাব্বী চৌধুরীর দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে সংক্রমণ ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। পারিবারিক জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তানের জনক।রাব্বী চৌধুরী ১৯৩৪ সালে ১ অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।জাতীয় পার্টি থেকে গাইবান্ধা-৩ আসনে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।এর আগে ১৯৮৪ সালে ফজলে রাব্বী চৌধুরী জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তী সময় ভূমি মন্ত্রী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ও সংস্থাপন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।এসএ/  

নবাবগঞ্জে কৃষি ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে বায়োচারবিষয়ক মতবিনিময়

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে কৃষি ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে বায়োচারবিষয়ক মতবিনিমিয় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায়  দাউদপুর সিসিডিবি ও নিউটেশন কো অর্ডিনেটর পার্থ প্রতিম সেন এর সভাপতিত্বে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।   এতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান। বায়োচার প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষ্ণ কুমার সিংহ, মিডিয়া কর্মী এম রুহুল আমিন প্রধান, হাফিজুর রহমান মিলন, মাহবুবুর রহমান,  মার্কেটিং ফেসিলেটর মনজুরুল ইসলাম, সিনিয়র কিচেন কাউন্সিলর শেফালি মার্ডি, স্টিফানে হেমরম, কৃষক জাহিদুল ইসলাম, এডওয়ার্ড সরেন আবদুর রহিম মিয়া প্রমুখ। বায়োচার প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষ্ণ কুমার সিংহ বলেন, কৃষি ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে বায়োচার জমিতে প্রয়োগ লাভজনক। প্রতি শতকে ৬ কেজি বায়োচার প্রয়োগ করলে স্থায়ীভাবে জমির চাহিদা মিটবে। পরিবেশবান্ধব আখা চুলায় কাঠ, বনজ খড়ি জালানি হিসেবে রান্না করতে নারীরা যেমন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে ধুয়া থাকবে না মোট কথা পরিবেশবান্ধব চুলায় রান্নার ফলে সাশ্রয় হবে জালানি। এখান থেকেই পাওয়া যাবে বায়োচার। পরবর্তীতে গৃহিণীদের কাছ থেকে ক্রয় করে নেওয়া হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, বায়েচার ব্যবহার ও কৃষি ফসল উৎপাদনে ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে এর গুনাগুণ ও সফলতা তুলে ধরা হবে। কেআই/ এসএইচ/

সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে হাসি দেখতে চায় বেটার ট্যুমরো

ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও প্রতিযোগিতার যুগে মানুষ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যস্ত নগরের মানুষেরা কেউ যেন কারও নয়, কেউ কাউকে চেনে না। সবাই নিজের ভাবনায় ব্যস্ত। সমাজের অবহেলিত নিপীড়িত সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে ভাববার যেন ফুসরত হয়ে ওঠে না। তবে পৃথিবীতে সেই মানুষগুলোই সবচেয়ে সুখের কাছাকাছি যেতে পেরেছে, যারা নিজেদেরকে আর্তমানবতার সেবায় বিলিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। নিজের জন্য নয় সমাজ ও মানুষের সেবা করার মাঝেই সবচেয়ে বড় আনন্দ পেয়েছে। যারা উপলব্ধি করতে পেরেছে ভোগের মাঝে সুখ নেই ত্যাগের মধ্যেই সব সুখ। তারাই সত্যিকারের আনন্দ খুঁজে পেয়েছে পৃথীবীতে। আর সে আনন্দ আর সুখ আহরণ করতে পৃথীবিতে গড়ে ওঠেছে নানা ধরণের সামাজিক সেবামূলক সংগঠন। ভালো কোনও কাজ করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন উদ্যোগের। সময় নেই, টাকা নেই, মন ভালো নেই, এমন যতই অজুহাত থাকুক না কেন ইচ্ছাশক্তি থাকলে ভালো কিছু করা অবশ্যই সম্ভব। এই ইচ্ছ‍াশক্তিটি যদি কয়েকজন তরুণ-তরুণীর মাঝে একযোগে জেগে উঠে তাহলে তো কথাই নেই। একঝাঁক তরুণ-তরুণীর ইচ্ছ‍াশক্তির কাছে সব অসম্ভবই সম্ভব। তেমনি সুইডেনে অবস্থানরত বাংলাদেশি কিছু তরুণদের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন হলো বেটার ট্যুমরো সুইডেন। ২০১০ সালে গোলাম কিবরিয়া (প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি) তানভীর তৌহিদ (বর্তমান সভাপতি), তাওহিদুল আলম (বর্তমান সাধারণ সম্পাদক), তৌহিদুল ইসলাম (সদস্য), তুহিন সরকার (সদস্য), শাহনেওয়াজ ইসলাম (সদস্য) ও তানবীর আলম (সদস্য) নামের ৭ তরুণের হাত ধরে এর কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১২ সালে এটি সুইডেনের রাজধানী স্টোকহোম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এবং অলাভজনক সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুইডিশ ট্যাক্স কর্তৃক নিবন্ধিত হয়।   এর পূর্ব থেকেই সংগঠনটি সমাজের অবহেলিত, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে এগিয়ে নিতে কাজ করে শুরু করেছিল। শিক্ষা সহায়তা, আর্থিক সহায়তা, জরুরী সেবা এবং সবার জন্য হাসি এই চার মূলনীতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তরুণদের এই সামাজিক সেবামূলক সংগঠনটি। বেটার ট্যুমরো মনে করে টেকসই উন্নয়নের জন্য সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়কে এগিয়ে আনতে হবে। পৃথীবিতে হাজারেরও বেশি পরিবার আছে যারা প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন জীবনের জন্য খাদ্যের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। এমন কিছু সম্প্রদায় আছে, যারা লেখা-পড়া করতে স্কুলে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না। অনেক পরিবার এমনও আছে যাদের চিকিৎসা করার মতো সামর্থ্য নেই। অনেক সময় হঠাৎ করে কোনও দুর্ঘটনা কিংবা প্রাকৃতিক দূর্যোগে অনেক ভাল পরিবারও বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পতিত হয়। তাদের আশা-ভরসার সারথী হয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটানোর লক্ষ্যে আমাদের এই উদ্যোগ, যাতে করে তারা সমাজে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। শিক্ষা সহায়তা শিক্ষা হলো একটি রাস্তা যেটি মানুষকে তার জীবনে কি প্রয়োজন তা বুঝাতে শেখায়। এ কারণে আমরা সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাড়াতে আগ্রহী। যাতে সে শিক্ষা এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে। আমাদের এই অল্প সময়ে আমরা ইতোমধ্যে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে সাহায্য করতে পেরেছি। যারা আজ নিজের পায়ে দাড়াতে সক্ষম হয়েছে।  আর্থিক সহায়তা বেটার ট্যুমরো মনে করে অল্প করে অনেক মানুষকে সহায়তা করার চেয়ে একজন মানুষকে ভালো পরিমাণ কিছু অর্থ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করে থাকি। যাতে করে সে ছোট খাট ব্যবসা শুরু করতে পারে। হতে পারে সেটা মুদি দোকান, কিংবা কোন ফার্ম (হাস-মুরগী,গরু,সবজি ফার্ম) ইত্যাদিও হতে পারে। আমরা এ রকম কিছু মানুষকে সহায়তা করেছি যারা আত্মনির্ভর হয়ে ওঠেছে। এছাড়া আমরা কিছু মানুষকে গাড়ি, ভ্যান, অটো কিনে দিয়েছি। জরুরি সেবা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটানায় যারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তাদের জরুরি সেবা প্রদানের জন্য আমরা কাজ করে থাকি। মানসিক সস্থি দানের পাশাপাশি আমরা তাদের জন্য আবাসন সুবিধা প্রদানের জন্য চেষ্টা করে থাকি। শুধু দুর্যোগকালীন সাময়িক সহযোগিতা দানে সীমাবদ্ধ থাকি না। সবার জন্য হাসি বেটার ট্যুমরো মনে করে ধনী –গরীব সবারই জীবনকে উপভোগ করার অধিকার আছে। ধনীরা হয়তো উৎসবের দিনগুলোতে উত্তম পোশাক, উত্তম খাবারে নিজেকে সজ্জিত করে। সেখানে সুবিধাবঞ্চিত অনেক মানুষ আছে যারা পড়নের কাপড় কিংবা একমুঠো খাবার জোগাতে অনেক বেগ পেতে হয়। আমরা সেই অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা যাতে তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে নতুন পোশাক, খাবার এর আনন্দ আস্বাদন করতে সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সংগঠনের গত বছরের ছোট একটি পরিসংখ্যান- ক্যারিয়ার সেমিনার আমরা অভিবাসী সুইডিশদের নিয়ে ক্যারিয়ার সেমিনার করেছি। সেখানে পেশাগত অভিজ্ঞতা আমরা আলোচনা করেছি। যেটা নতুন এই কমিউনিটিতে আসছে তাদের সামনের চলার পাথেয় হিসাবে কাজ করবে। নতুন পরিবেশে অনেকে অনেক বিষয় বুঝে উঠতে পারে না। শুরুতে এমন গাইড লাইন পেলে তাদের পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রোহিঙ্গা প্রকল্প যারা মায়ানমার থেকে নির্বাসিত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। আমরা তাদের সহায়তার জন্য এগিয়ে গিয়েছি আমাদের এই ক্ষুদ্র সংগঠন থেকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা জেনেছি বাংলাদেশে ৭ লাখের বেশি মায়ানমার অভিবাসী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা শুনেছি তাদের করুণ নির্বাসিত হওয়ার কাহিনী। হঠাৎ করে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের যেমন থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয় দরকার ঠিক তেমনি তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, টয়লেট, বাথরুমেরও প্রয়োজন। এ সব ব্যবস্থা না করা হলে দূষিত হতে পারে পরিবেশ। বাড়তে পারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও মৃত্যুহার। এ সব বিষয়ে আমরা ক্ষুদ্র পরিসরে আমাদের এই সংগঠন থেকে কাজ করেছি। আমরা তাদের স্বাস্থ্য সচেতন করার পাশাপাশি ১৪টি টয়লেট এবং বাথরুম করে দিয়েছি। যেখানে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। যাদের কথা না বললেই নয় তারা হলেন, আব্দুল মান্নান, নাহিদ হাসান, হাবীব, রাসেল রাজু। এছাড়াও ছিল আমাদের সংগঠনের একজন কর্মী নাজমুল হুদা লালন। বন্যাকালীন ত্রাণ বিতরণ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ অঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেই অন্তিম মুহূর্তগুলোতে বাড়ি বাড়ি খাবার, ওষধ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সেবা প্রকল্প আমরা ২০১৭ তেই সুবিধাবঞ্চিত ১০০ টি বেশি পরিবারের মাঝে হাসের বাচ্চা বিতরণ করেছি। এবং তাদের লালন পালনের জন্য ওয়ার্কশপ করেছি। সেগুলো এখন ডিম দিচ্ছে। আমরা মনে করি দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের জন্য সুবিধাবঞ্চিতদের এগিয়ে আনতে হবে। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে উন্নত হবে দেশ ও জাতি। দক্ষতা বৃদ্ধি প্রকল্প আমরা বাংলাদেশের ৩ টি জায়গায় ৪৫ জনকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এবং তাদের মাঝে সেলাই মেশিনও প্রদান করেছি। তারা প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর অনেকে এখন দর্জি হিসাবে কাজ করেছে সাবলম্বী হয়ে উঠছে। গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি গ্রামীণ নারীদের দক্ষ এবং সামাজিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উদ্বুদ্ধ করেছি। তাদের একটি সমবায়ের মধ্যে নিয়ে এসে গরু –ছাগল, হাস-মুরগি পালনের জন্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছি। উপরের এ সব কথা বলছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ৬ষ্ঠ ব্যাচের ছাত্র গোলাম কিবরিয়া। তিনি এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং ২০১৬ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সংগঠনের বোর্ড মেম্বার ও প্রকল্প সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কুড়িগ্রাম-৪ : ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়ন বাতিল

কুড়িগ্রাম-৪ আসন (রাজিবপুর,রৌমারী ও চিলমারী উপজেলা) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের অংশ নিতে ইচ্ছুক গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন তার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করেন।সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনে প্রার্থী হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি আসনের মোট ভোটারের ন্যূনতম ১% ভোটারের সমর্থন থাকতে হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী ইমরান এইচ সরকারের এ সম্পর্কিত তথ্যে ঘাটতি রয়েছে। তাই জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন।এ বিষয়ে ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘এটা একটা অমূলক অজুহাত। আসলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করতেই আমিসহ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তালিকায় দেওয়া আমাদের সমর্থক ভোটারদের সংখ্যায় কোনও ঘাটতি নেই। হয়তো ক্রমিক সংখ্যায় ভুল থাকতে পারে যা সংশোধনযোগ্য।’এসএ/

নবাবগঞ্জে বনবিভাগের ৪৫০টি আকাশমনি চারা কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে উপজেলার চরকাইরেঞ্জের সামাজিক বন বিভাগের সৃজিত উটলট বাগানের ৪৫০টি আকাশমনি চারা গাছ কর্তন করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার চরকাই রেঞ্জের অধীন হরিপুর বিটের বামন গড় মৌজায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে হরিপুর বিট অফিস সুত্রে জানা গেছে। চরকাই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার জানান, ঐ বনভুমি থেকে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে আকাশমনির চারাগাছ রোপন করা হয়েছিল। গাছগুলি কর্তন করায় প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। এব্যাপারে হরিপুর বিট কর্মকর্তা মোঃ শাসমুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আরকে//

নবাবগঞ্জে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক অবহিতকরন সভা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও পল্লী শ্রী কাঠামোগত দায়িদ্র দূরীকরণের প্রান্তিক পরিবার সমূহের ক্ষমতায়ন (আমাদের) প্রকল্প তথ্য অধিকার আইনে ২০০৯ অবহিতকরণ এবং আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের উপর গবেষণালব্দ ফলাফল নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অবহিতকরণ সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মশিউর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,মৎস্য অফিসার শামীম আহমদ, নির্বাচন অফিসার মো. আতাউল হক, পল্লী শ্রী আমাদের প্রকল্পের আমবাড়ী প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. তৌহিদুল হক, ইউনিট ম্যানেজার শামছুল হক, মো. মোস্তফা, মো. খাইরুল ইসলাম, ওসি তদন্ত মো. শামছুল আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার রেফাউল আজম, খাদ্য কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তোফাজ্জল হোসেন,কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মল্লিকা সেহনবীশ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সেলিনা আকতার, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম রুহুল আমিন প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পার্বতীপুরে ট্রেনে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে ট্রেনে কাটা পড়ে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- মোকছেদুল ইসলাম (৩৭) ও তার স্ত্রী তহুরা বেগম (৩২)। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পার্বতীপুর-সৈয়দপুর রেলপথের রামপুর জোড়তাল রেলগেটে এ ঘটনা ঘটে। মোকছেদুল ইসলামের বাড়ি পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের বাঘাচড়া গ্রামে। তিনি ঠাকুরগাঁও চিনিকলের আনসার সদস্য ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী রামপুর গ্রামের আ. রহিম জানান, পার্বতীপুর থেকে তিতুমীর ট্রেনটি সৈয়দপুর যাচ্ছিল। এ সময় মোকছেদুল মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইনের ওপর উঠে পড়েন। ট্রেনের ধাক্কায় মুহূর্তে তিনি ও তার স্ত্রী কয়েক গজ দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। সম্ভবত তার মোটরসাইকেলটি রেললাইনে উঠে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নিহত তহুরার মামা জানান, মোকছেদুল সকাল ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়ি কৈপুলকী চাকরান পাড়ায় বেড়াতে আসেন। এসেই স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাজার করতে যান। বাজার থেকে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের মিথিলা ও মরিয়ম নামের দুই মেয়ে রয়েছে। তিতুমীর ট্রেনের ড্রাইভার মিজানুর রহমান জানান, তিনি হর্ন বাজিয়ে রেলগেট অতিক্রম করছিলেন। হঠাৎ করেই মোটরসাইকেলটি রেললাইনে উঠে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে রেলের কন্ট্রোলরুমে জানানো হয়। সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার এসআই মোস্তফা কামাল বলেন, রেলগেটটি উন্মুক্ত থাকায় সেখানে কোনো গেটম্যান নেই। অসাবধানতাবশত এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় ইউডি মামলা হবে। আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি