ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

অবৈধ অভিবাসন বন্ধে প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ বিক্রি

প্রকাশিত : ০৯:১৫ ১৩ জুন ২০১৯ | আপডেট: ০৯:৩৮ ১৩ জুন ২০১৯

অবৈধ অভিবাসন বন্ধে এবার প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত উড়োজাহাজ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অসংখ্য মানুষ অবৈধপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছেন। অভিবাসন নীতিও এখানে কোন কাজে আসছে না। ফলে, দেশটির প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ অভিবাসন। 

যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন সময়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেও তেমন কোন ফল আসছে না।

প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলেন, প্রয়োজনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে এবং সাধারণ হত দরিদ্র মানুষের জন্য প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত জেট বিমানটি বিক্রি করা হবে।

প্রয়োজনে তিনি বাণিজ্যিক বিমানে চড়বেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন। তাইতো নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে কেনা বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটির আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে বিমানটি কেনা হয়েছিল।

প্রেসিডেন্টের জেটটি এখন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ওয়্যারহাউজে রয়েছে। তবে মেক্সিকো এই একটি বিমানই বিক্রি করছে না। সরকারি মালিকানাধীন ৬০টি বিমান এবং ৭০টি হেলিকপ্টার বিক্রি করছে দেশটির সরকার।

এমন সময় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, যখন মাত্র কয়েকদিন আগেই অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নতুন চুক্তিতে মিলিত হয়েছে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

ঐ চুক্তির মাধ্যমে মেক্সিকো অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে, আর বিনিময়ে মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রে যেসব পণ্য রপ্তানি করবে, তার ওপর উচ্চ শুল্ক হার বসাবে না ট্রাম্প প্রশাসন।

উল্লেখ্য, মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

চুক্তির একটি ধারা অনুযায়ী মেক্সিকো দেশটির দক্ষিনে গুয়াতেমালা সীমান্তে ন্যাশনাল গার্ড বসাবে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লোপেজ চুক্তির বিষয়ে বলেন, চুক্তি মানতে যে বিপুল খরচ হবে, তা যোগান দিতে এ অর্থ প্রয়োজন হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা ছিল মেক্সিকোর পণ্য আমদানির ওপর পাঁচ শতাংশ হারে শুল্ক বসাবেন তিনি।

কিন্তু গত সপ্তাহে স্বাক্ষর হওয়া ঐ চুক্তির মাধ্যমে মেক্সিকো সেই শুল্ক এড়িয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী মেক্সিকো ৬০০০ ন্যাশনাল গার্ড পাঠাচ্ছে সীমান্তে।

এছাড়া চুক্তির আরেকটি শর্ত হচ্ছে, মেক্সিকো থেকে যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে, তাদের মেক্সিকোয় ফিরিয়ে আনতে হবে।

এদিকে প্রেসিডেন্টের প্লেন বিক্রি নিয়ে দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কেউবা নিন্দা করছেন।  

অনেকের দাবি, দেশটির করদাতাদের পয়সায় কেনা বিমান বিক্রি করে এখন অ-মেক্সিকান লোক ঠেকানোর কাজে ব্যবহার করা হবে এ অর্থ।

আবার কেউ কেউ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তির মেয়াদ ৪৫দিন মাত্র, সে সময়ের মধ্যে এই বিমান বিক্রি সম্ভব হবে না। কারণ গত ছয় মাসেও এজন্য কোন বিক্রেতা পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিন থেকে চলা অভিবাসন সমস্যায় হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির অসংখ্য মানুষের জীবন। ফলে, দ্রুত এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছা জরুরি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র : বিবিসি

আই//

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি