ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪,   আষাঢ় ৩ ১৪৩১

কর্মমুখী স্মার্ট নগরী গড়তে লিটনের ৯৯ দফা ঘোষণা

রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৪:৪১ পিএম, ৩ জুন ২০২৩ শনিবার | আপডেট: ০৪:৪৩ পিএম, ৩ জুন ২০২৩ শনিবার

কর্মমুখী স্মার্ট নগরী গড়ে তুলতে ছয়টি ক্যাটাগরিতে ৯৯ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। 

এসময়ে ২০১৮ সালে সিটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছরে তার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন খায়রুজ্জামান লিটন। 

আগামীতে নির্বাচিত হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং বেকারত্ব হ্রাস ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি, অর্থনৈতিক, সামাজিক, মানবিক, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ মহানগরী গড়ে তোলা, মহানগরীকে বরেন্দ্র অঞ্চলভিত্তিক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ মহানগরীর বিশেষত্ব অর্জন, মহানগরীর ভৌগোলিক আয়তন ৯৬ বর্গকিলোমিটার থেকে ৩৫০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা এবং রাজশাহী শহরের পাশে জেগে উঠা পদ্মার চরে রিভারসিটি নির্মাণে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ইশতেহারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লিটন বলেন, ক্রমবর্ধমান এই শহরের নাগরিক সুবিধা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আমার লক্ষ্য ও অঙ্গীকার। আমার জন্মশহরে কাজের আগ্রহ ও আনন্দ পাই তারুণ্যের প্রাণস্পন্দন দেখে। এই শহরে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মমুখী অনেক কারিগরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে; যেখান থেকে তরুণ-তরুণীরা শিক্ষাগ্রহণ করে কর্মসংস্থানের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আমি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন ও আন্তরিক। পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুশাসনসমৃদ্ধ একটি মহানগর গড়ে তোলা আমার স্বপ্ন।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও সুসমৃদ্ধ নগর গড়তে সিটি কর্পোরেশনকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সুসমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হয়। এমনকি সাধারণভাবে যে সমস্ত কাজ মেয়রের দায়িত্বে ন্যস্ত নয় সেই সমস্ত কাজ এবং উদ্যোগ এই নগরীর সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে আমি গ্রহণ করেছি। রাজনৈতিক অভিভাবকত্বের অবস্থান থেকে আমি সমন্বয়ক এবং উৎসাহদাতা হিসেবে এগিয়ে এসেছি। সেজন্য নগরপ্রধানের ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব গুণ ও দক্ষতা প্রয়োজন। আমার কর্ম উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে গিয়ে আমি নগরপ্রধান হিসেবে নিজেকে একজন সেবক মনে করি।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বাংলাদেশ সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সামিল হয়ে রাজশাহী মহানগরীকে যোগ্য অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমার নির্বাচনী ইশতেহারে উন্নয়ন প্রকল্পের রূপরেখার প্রতি আপনাদের সমর্থন ও অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করি।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি রাজশাহীবাসী উন্নয়নের পক্ষে। তাই আসুন, আমরা মতভেদ ভুলে নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই। আগামী ২১ জুন ২০২৩ অনুষ্ঠিতব্য সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে পুনঃনির্বাচিত করে আপনিও হয়ে উঠুন মেগাসিটি বিনির্মাণ অভিযাত্রার গর্বিত অংশীদার। 

ইশতেহার ঘোষণার সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য প্রফেসর আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বিএমডিএর চেয়ারম্যান আক্তার জাহান, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতৃত্ববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ