ঢাকা, ২০১৯-০৫-২২ ৩:৪৫:০৬, বুধবার

ভিপির অগোচরে ডাকসুর নামে প্রশাসনে চিঠি

ভিপির অগোচরে ডাকসুর নামে প্রশাসনে চিঠি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের জুনিয়র সব কোর্সে আবেদন ফি কমানোর দাবিতে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের অগোচরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বরাবর আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, বুধবার দেওয়া ওই চিঠিতে ডাকসু’র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের স্বাক্ষর রয়েছে। এবিষয় জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, এ ধরণের কোন চিঠির কথা আমি জানি না। ডাকসুর নামে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। যেকোনো বিষয়ে ভিপির কনসার্ন বা সম্মতিতে জিএস একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা চিঠি দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই এ চিঠি আমার কাছে ডাকসুর মনে হয়নি। এটা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে হতে পারে। তিনি বলেন, এ দাবিতে আমারও সমর্থন রয়েছে। এ বিষয়ে ডাকসুর প্রতিনিধিদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। তবে সেটা নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করা যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক বরাবর লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ইনস্টিটিউটের জুনিয়র কোর্সের আবেদন ফি ৭০০ টাকা বহন করা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পক্ষে কষ্টসাধ্য। বহিরাগতদের জন্যও একই ফি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আলাদা কোন সুবিধা পাচ্ছে না।’ এজন্য ডাকসুর সদস্য মো. তানভীর হাসান সৈকতের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে ফি ৭০০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা নির্ধারণ করার আগ পর্যন্ত জুনিয়র কোর্সের আবেদন ফরম বিক্রি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে চিঠিতে। তানভীর হাসান সৈকত বলেন, এরকম বিষয়ে ভিপির স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। জিএস চাইলে এ বিষয়ে চিঠি দিতে পারে। এ বিষয়ে ভিপি অবগত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ছাত্রদের বিষয়। আর দ্রুত এ কাজ করার প্রয়োজনীয়তা ছিলো। আর মিটিং ডেকে সবাইকে জানাতে গেলে অনেক সময়ের ব্যাপার। ভিসি স্যারের অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। আমরা চেয়েছিলাম বিষয়টির দ্রুত সমাধান হোক। আর এ বিষয়ে ভিপিও একমত পোষণ করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। এদিকে ডাকসুর পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে ভিপি নুরুল হক নুরের নাম ও স্বাক্ষর না থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে এজিএস সাদ্দাম হোসাইন বলেন, এ ধরণের চিঠিতে ভিপির নাম থাকে না। জিএস ও এজিএসের স্বাক্ষরেই যেতে পারে। সেজন্যই দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে তার অবগত থাকার কথা। টিআর/
নুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কি না জানা যাবে আজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন নুরুল হক নুর। আজ শুক্রবার (২২ মার্চ) বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের সিদ্ধান্ত জানানোর কথা তার। এদিকে ডাকসুতে নিজের কক্ষ সংস্কার করে দিতে কোষাধ্যক্ষকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। এর আগে গত ১৯ মার্চ ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নিবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোভাব বুঝতে অসুস্থ থাকা স্বত্ত্বেও আমি ক্যাম্পাসে এসেছি। তারা যদি আমাকে দায়িত্ব নিতে বলে, তাহলে আমি দায়িত্ব নেবো। যদি দায়িত্ব নিয়ে থাকি তাহলে আমরা বলেছি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির বিনিময়ে হলে সিট দেওয়ার অপসংস্কৃতির রাজনীতি বন্ধ করবো। হলগুলোতে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ করবো। ক্যান্টিনে ফাও খাওয়া বন্ধ করে খাবারের মান ‍উন্নত করা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ হলে যে রিডিংরুমের সমস্যা রয়েছে তা সমাধানে কাজ করবো। এসব সমস্যার কথা আমাদের ইশতেহারেও উল্লেখ ছিল।’ ডাকসুর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথম কার্যকরি সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন সিনেট ভবনে কেন্দ্রীয় সংসদ এবং হলগুলোতে হল সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। গত (১৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত প্রভোস্ট কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টিআর/

ডাকসুতে মেয়েদের সংখ্যা কম কেন?

দীর্ঘ ২৮ বছর পর যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন হল তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নারীদেরও সামনের কাতারে দেখা যাবে। সামনের কাতারে তাদের ঠিক‌ই দেখা গিয়েছিল কিন্তু বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সময়। তবে ডাকসুর নির্বাচনে নেতৃস্থানীয় পদে তাদের দেখা যায় নি। ডাকসু নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির ঘটনার অভিযোগ এসেছে, সেখানে মেয়েদের তীব্র প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এছাড়াও গত বছরের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও মেয়েদের অংশ গ্রহণ ছিল সামনের সারিতে। কিন্তু ডাকসু আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থাকলেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসুতে মেয়েদের সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা। রোকেয়া হলে ভিপি পদে স্বতন্ত্র জোট থেকে দাঁড়িয়েছিলেন মৌসুমী। তিনি বলছিলেন কেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি প্রার্থী হননি?কোন ব্যানারের আন্ডারে করতে চাই নি। ছাত্রজীবনে রোকেয়া হলে আমার যে পরিমাণ অর্জন, আমার কোন ছাত্র সংগঠনের সাথে সেই অর্জনটা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো বৈধ আন্দোলনে আমার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। যতগুলো প্যানেল হয়েছে আপনারা দেখেছেন যে, এর মধ্যে থাকতে হলে কোন না কোন দলীয় সংগঠনের আন্ডারে যেতে হবে। আমাকে নিশ্চয় ছাত্রলীগ একটা পদ দেবে না। কেন্দ্রীয় কমিটিতে হাতে গোনা যে কয়জন ছাত্রী প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন প্রার্থী শ্রবনা শফিক দীপ্তি। স্বতন্ত্র জোট থেকে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে নানা ধরণের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে বলে তিনি বলছিলেন। আমি যেহেতু কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না আমি কোন ফান্ড পাইনি। আমার টিউশনির টাকা দিয়ে লিফলেটিং করেছি। আবার আমার নামে ভুয়া লিফলেট গিয়েছে। আমি ছেলেদের হলে পৌঁছাতে পারিনি। আমাকে শুধু নারী ভোটারদের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। তিনি আরো বলছিলেন, আমার যে প্রতিদ্বন্দ্বী (ছাত্রলীগ) ছিল সে সবকটা ছেলেদের হলে গিয়েছে। প্রতিদিন ৪০ হাজার লিফলেট ছাপিয়েছে। আমি তো ছেলেদের হলে যেতে পারিনি। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যেসব আন্দোলন হয়েছে সেখানে মেয়েরা তীব্রভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।মিছিলে, মিটিংএ, অবস্থান ধর্মঘট, অনশন এসব কর্মসূচিতে তারা অংশ নিয়েছে, যার নজির দেখা গিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ডাকসু নির্বাচন পরবর্তীতে যে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল ঘণ্টায় ঘণ্টায় সেসব সময়গুলোতেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে -জানার চেষ্টা করেছিলাম মেয়েরা কি নেতৃত্বের জায়গা আসতে পারছে না, নাকি চাচ্ছে না? একজন বলছিলেন, যেহেতু ২৮ বছর পর (নির্বাচন) হচ্ছে, মেয়েদের অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই সবাই হয়ত কেন্দ্রীয়ভাবে যাওয়ার চেয়ে হলে থাকাটা বেটার মনে করেছে। পরবর্তীতে আবার যখন নির্বাচন হবে, তখন আমি মনে করি আরো বেশি মেয়ে সেন্ট্রালে যাবে। আসলে এরা মুখে মুখে খুব প্রগতিশীলতার কথা বলে, বলছিলেন আরেক শিক্ষার্থী, কিন্তু মনে মনে সেই সনাতনী হীনমন্যতাটাই জেগে উঠে। সেখান থেকে তারা বের হতে পারেনি, সেই পুরুষতান্ত্রিকটা থেকে। যার ফলে মেয়েদের যোগ্যতা থাকার পরেও তারা ঐখানে স্থান করে নিতে পারছে না বা (তাদের স্থান করে নিতে) দিচ্ছে না। এবারের ডাকসু নির্বাচনে যতগুলো প্যানেল অংশ নিয়েছে সেখানে ভিপি পদে মাত্র একজন মেয়ে অংশ নেন। অরণি সেমন্তি খান নামে এই প্রার্থী স্বতন্ত্র ভাবে দাঁড়ান এবং ভোট পান ২৬৭৬টি। আর যিনি ভিপি হয়েছেন সেই নুরুল হক পেয়েছেন ১১০৬২ ভোট। অন্য কোন প্যানেল থেকে ভিপি, জিএস বা এরপরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে সেসব পদে কোন প্রার্থী দেয়া হয় নি। তার অর্থ কি মেয়েদের যোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সমাজবিজ্ঞানী তৌহিদুল হক বলছিলেন, মেয়েদের যোগ্যতার ঘাটতি নেই, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা সবচেয়ে বেশি দরকার। আজকে আমরা সাধারণ পদ বা সদস্য পদে মেয়েদের দেখছি। কিন্তু আমরা প্রত্যাশা রাখতে চাই, আশা রাখতে চাই যে ভবিষ্যতে ডাকসু নির্বাচনের কেন্দ্রীয় পদগুলোতে আমরা নারী নেতৃত্বের উপস্থিতি দেখবো। ডাকসুর নব নির্বাচিত কমিটির ২৫টি পদের মধ্যে মাত্র ৭টি পদে মেয়েরা নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক, অন্যজন কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়ার সম্পাদক । আরকে//

প্রধানমন্ত্রীকে কদমবুসি করে দোয়া নিলেন নুর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কদমবুসি করে দোয়া নিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (১৬ মার্চ) গণভবনে ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতাদের ডেকে পাঠান। ডাকসুর সকল নির্বাচিত নেতাই (ছাত্র ইউনিয়নের একজন বাদে) সেখানে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বাগত জানান। এ সময় নব নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কদমবুসি করে দোয়া চান। প্রধানমন্ত্রী তার মাথায়-কাঁধে হাত রেখে দোয়া করেন। এ সময় ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস গোলাম বাব্বানী ও পরাজিত ভিপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে হাস্যজ্জ্বল মুখে প্রধানমন্ত্রীর দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর আগে শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান ঢাকা ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রী ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নববির্চাচিত নেতারা। নুরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র্যভাবে নির্বাচিত ডাকসু নেতাদের নিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে দুটি গাড়ি পাঠানো হয়। ওই গাড়িতে স্বতন্ত্র নেতারা গণভবন গেলেও রাইড শেয়ারিং সেবার মাধ্যমে উবারে ডেকে গণভবনে যান ভিপি নুর। এ ব্যাপারে নুরের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উবারে নুরের ভাড়া পড়ে ২১০ টাকা। এছাড়া একই প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আক্তার হোসেনও ওই গাড়িতে নুরের সঙ্গে ছিলেন। আরকে//

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আজ গণভবনে যাচ্ছেন ডাকসুতে বিজয়ীরা

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ডাকসু নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হকসহ ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ গণভবনে যাচ্ছেন আজ শনিবার।বিকাল ৪টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গণভবনে ডাকসুর অন্য নির্বাচিতদের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও ভিপি নুরুল হক নুরের যাওয়া নিয়ে গতকাল রাত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল। প্রথমে এ বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও গতকাল ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে এসে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়েও ওনার দায়িত্ব রয়েছে। আমি যাওয়ার পক্ষে পজিটিভ, প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমরা সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারব। তবে আমি একা বললে তো হবে না, অনেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্যানেলগুলো রয়েছে। কাজেই তাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। সম্মতি দিলে যাব। বিশেষ করে আমি আন্দোলনকারী ভাইবোনদের সঙ্গে কথা বলে এবং যারা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে ফাইনাল ডিসিশন নেব।পরে রাতে কোটা আন্দোলনকারীসহ অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের ভিত্তিতে নুরুল হক নুরের গণভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গতকাল দুপুরে অন্যদের সম্মতির ভিত্তিতে গণভবনে যাওয়ার কথা জানালেও এর আগে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হল ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে তাদের প্যানেল থেকে যারা যারা নির্বাচিত ও প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত পেয়েছেন, তাদের সবাই যাবেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নতুন করে কোনো দাবি উত্থাপন করা হবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে নুর বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। এখন সেখানে আমরা দাবিদাওয়া তুলব কিনা, সেটা তো বলা যাচ্ছে না। এখানে অন্য বিষয়ে আলোচনার সুযোগ আছে কিনা, তা আমরা জানি না। সুযোগ পেলে ৩১ মার্চের মধ্যে ডাকসুতে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি তোলা হবে কিনা জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমি ওখানে এভাবে কথা বলতে চাই না। কারণ তিনি আমাদের তো বলেননি, তোমাদের আলোচনার জন্য ডাকছি। তিনি আমাদের চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। নুর বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছেন, সেটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলতে আমাদের যাওয়া উচিত। সেখানে আমরা যাব। টিআর/  

উপ-উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বাতিল দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান অনশন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদের আশ্বাসে অনশন ভেঙেছেন। শুক্রবার (১৫ মার্চ) সাড়ে ১১টার পর পানি ও লাচ্ছি পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানো হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, প্রক্টর গোলাম রব্বানী, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক, জিএস গোলাম রাব্বানী, এজিএস সাদ্দাম হোসেন অনশন ভাঙাতে আসেন। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। ভিপি নুরুল হক বলেন, আমি জানি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কারচুপি করার ফলে মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করা হয়েছে। রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করার ব্যাপারে একমত। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, আপনাদের সঙ্গে থাকবো। আজ আকাশের অবস্থা ভালো না। আপনারা অনশন ভাঙুন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, তোমাদের দাবিগুলো আমরা শুনবো। স্বচ্ছতার কোনো শেষ নেই। পরবর্তীতে আমরা আরো গুরুত্ব দেবো। পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সামাদ ১৮ মার্চ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস ও অভিযোগগুলো নিয়ে প্রধান রিটার্নিং অফিসারে সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, তোমাদের সব অভিযোগ আমরা শুনবো। আমরা চাই আগামীতে আরো সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে। তবে আমি আবারো বলছি এবার যা ঘটেছে তার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। আমি চাই তোমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করতে। আমি তোমাদের অনশন ভাঙাতে জোর করবো না। তবে আমি চাইবো তোমরা আমার কথা শুনবে এবং আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করবো। ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন।  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি