ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯ ৪:১২:২৫

২৩ মার্চ ডাকসুর প্রথম কার্যকরী পরিষদ সভা

২৩ মার্চ ডাকসুর প্রথম কার্যকরী পরিষদ সভা

আগামী ২৩ মার্চ (শনিবার) ডাকসুর প্রথম কার্যকরী পরিষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রভোস্ট কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। ভিসির বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডাকসুতে মেয়েদের সংখ্যা কম কেন?

দীর্ঘ ২৮ বছর পর যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন হল তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নারীদেরও সামনের কাতারে দেখা যাবে। সামনের কাতারে তাদের ঠিক‌ই দেখা গিয়েছিল কিন্তু বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সময়। তবে ডাকসুর নির্বাচনে নেতৃস্থানীয় পদে তাদের দেখা যায় নি। ডাকসু নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির ঘটনার অভিযোগ এসেছে, সেখানে মেয়েদের তীব্র প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এছাড়াও গত বছরের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও মেয়েদের অংশ গ্রহণ ছিল সামনের সারিতে। কিন্তু ডাকসু আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থাকলেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসুতে মেয়েদের সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা। রোকেয়া হলে ভিপি পদে স্বতন্ত্র জোট থেকে দাঁড়িয়েছিলেন মৌসুমী। তিনি বলছিলেন কেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি প্রার্থী হননি?কোন ব্যানারের আন্ডারে করতে চাই নি। ছাত্রজীবনে রোকেয়া হলে আমার যে পরিমাণ অর্জন, আমার কোন ছাত্র সংগঠনের সাথে সেই অর্জনটা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো বৈধ আন্দোলনে আমার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। যতগুলো প্যানেল হয়েছে আপনারা দেখেছেন যে, এর মধ্যে থাকতে হলে কোন না কোন দলীয় সংগঠনের আন্ডারে যেতে হবে। আমাকে নিশ্চয় ছাত্রলীগ একটা পদ দেবে না। কেন্দ্রীয় কমিটিতে হাতে গোনা যে কয়জন ছাত্রী প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন প্রার্থী শ্রবনা শফিক দীপ্তি। স্বতন্ত্র জোট থেকে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে নানা ধরণের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে বলে তিনি বলছিলেন। আমি যেহেতু কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না আমি কোন ফান্ড পাইনি। আমার টিউশনির টাকা দিয়ে লিফলেটিং করেছি। আবার আমার নামে ভুয়া লিফলেট গিয়েছে। আমি ছেলেদের হলে পৌঁছাতে পারিনি। আমাকে শুধু নারী ভোটারদের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। তিনি আরো বলছিলেন, আমার যে প্রতিদ্বন্দ্বী (ছাত্রলীগ) ছিল সে সবকটা ছেলেদের হলে গিয়েছে। প্রতিদিন ৪০ হাজার লিফলেট ছাপিয়েছে। আমি তো ছেলেদের হলে যেতে পারিনি। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যেসব আন্দোলন হয়েছে সেখানে মেয়েরা তীব্রভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।মিছিলে, মিটিংএ, অবস্থান ধর্মঘট, অনশন এসব কর্মসূচিতে তারা অংশ নিয়েছে, যার নজির দেখা গিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ডাকসু নির্বাচন পরবর্তীতে যে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল ঘণ্টায় ঘণ্টায় সেসব সময়গুলোতেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে -জানার চেষ্টা করেছিলাম মেয়েরা কি নেতৃত্বের জায়গা আসতে পারছে না, নাকি চাচ্ছে না? একজন বলছিলেন, যেহেতু ২৮ বছর পর (নির্বাচন) হচ্ছে, মেয়েদের অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই সবাই হয়ত কেন্দ্রীয়ভাবে যাওয়ার চেয়ে হলে থাকাটা বেটার মনে করেছে। পরবর্তীতে আবার যখন নির্বাচন হবে, তখন আমি মনে করি আরো বেশি মেয়ে সেন্ট্রালে যাবে। আসলে এরা মুখে মুখে খুব প্রগতিশীলতার কথা বলে, বলছিলেন আরেক শিক্ষার্থী, কিন্তু মনে মনে সেই সনাতনী হীনমন্যতাটাই জেগে উঠে। সেখান থেকে তারা বের হতে পারেনি, সেই পুরুষতান্ত্রিকটা থেকে। যার ফলে মেয়েদের যোগ্যতা থাকার পরেও তারা ঐখানে স্থান করে নিতে পারছে না বা (তাদের স্থান করে নিতে) দিচ্ছে না। এবারের ডাকসু নির্বাচনে যতগুলো প্যানেল অংশ নিয়েছে সেখানে ভিপি পদে মাত্র একজন মেয়ে অংশ নেন। অরণি সেমন্তি খান নামে এই প্রার্থী স্বতন্ত্র ভাবে দাঁড়ান এবং ভোট পান ২৬৭৬টি। আর যিনি ভিপি হয়েছেন সেই নুরুল হক পেয়েছেন ১১০৬২ ভোট। অন্য কোন প্যানেল থেকে ভিপি, জিএস বা এরপরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে সেসব পদে কোন প্রার্থী দেয়া হয় নি। তার অর্থ কি মেয়েদের যোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সমাজবিজ্ঞানী তৌহিদুল হক বলছিলেন, মেয়েদের যোগ্যতার ঘাটতি নেই, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা সবচেয়ে বেশি দরকার। আজকে আমরা সাধারণ পদ বা সদস্য পদে মেয়েদের দেখছি। কিন্তু আমরা প্রত্যাশা রাখতে চাই, আশা রাখতে চাই যে ভবিষ্যতে ডাকসু নির্বাচনের কেন্দ্রীয় পদগুলোতে আমরা নারী নেতৃত্বের উপস্থিতি দেখবো। ডাকসুর নব নির্বাচিত কমিটির ২৫টি পদের মধ্যে মাত্র ৭টি পদে মেয়েরা নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক, অন্যজন কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়ার সম্পাদক । আরকে//

প্রধানমন্ত্রীকে কদমবুসি করে দোয়া নিলেন নুর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কদমবুসি করে দোয়া নিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (১৬ মার্চ) গণভবনে ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতাদের ডেকে পাঠান। ডাকসুর সকল নির্বাচিত নেতাই (ছাত্র ইউনিয়নের একজন বাদে) সেখানে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বাগত জানান। এ সময় নব নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কদমবুসি করে দোয়া চান। প্রধানমন্ত্রী তার মাথায়-কাঁধে হাত রেখে দোয়া করেন। এ সময় ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস গোলাম বাব্বানী ও পরাজিত ভিপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে হাস্যজ্জ্বল মুখে প্রধানমন্ত্রীর দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর আগে শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান ঢাকা ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রী ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নববির্চাচিত নেতারা। নুরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র্যভাবে নির্বাচিত ডাকসু নেতাদের নিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে দুটি গাড়ি পাঠানো হয়। ওই গাড়িতে স্বতন্ত্র নেতারা গণভবন গেলেও রাইড শেয়ারিং সেবার মাধ্যমে উবারে ডেকে গণভবনে যান ভিপি নুর। এ ব্যাপারে নুরের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উবারে নুরের ভাড়া পড়ে ২১০ টাকা। এছাড়া একই প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আক্তার হোসেনও ওই গাড়িতে নুরের সঙ্গে ছিলেন। আরকে//

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আজ গণভবনে যাচ্ছেন ডাকসুতে বিজয়ীরা

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ডাকসু নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হকসহ ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ গণভবনে যাচ্ছেন আজ শনিবার।বিকাল ৪টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গণভবনে ডাকসুর অন্য নির্বাচিতদের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও ভিপি নুরুল হক নুরের যাওয়া নিয়ে গতকাল রাত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল। প্রথমে এ বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও গতকাল ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে এসে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়েও ওনার দায়িত্ব রয়েছে। আমি যাওয়ার পক্ষে পজিটিভ, প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমরা সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারব। তবে আমি একা বললে তো হবে না, অনেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্যানেলগুলো রয়েছে। কাজেই তাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। সম্মতি দিলে যাব। বিশেষ করে আমি আন্দোলনকারী ভাইবোনদের সঙ্গে কথা বলে এবং যারা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে ফাইনাল ডিসিশন নেব।পরে রাতে কোটা আন্দোলনকারীসহ অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের ভিত্তিতে নুরুল হক নুরের গণভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গতকাল দুপুরে অন্যদের সম্মতির ভিত্তিতে গণভবনে যাওয়ার কথা জানালেও এর আগে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হল ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে তাদের প্যানেল থেকে যারা যারা নির্বাচিত ও প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত পেয়েছেন, তাদের সবাই যাবেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নতুন করে কোনো দাবি উত্থাপন করা হবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে নুর বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। এখন সেখানে আমরা দাবিদাওয়া তুলব কিনা, সেটা তো বলা যাচ্ছে না। এখানে অন্য বিষয়ে আলোচনার সুযোগ আছে কিনা, তা আমরা জানি না। সুযোগ পেলে ৩১ মার্চের মধ্যে ডাকসুতে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি তোলা হবে কিনা জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমি ওখানে এভাবে কথা বলতে চাই না। কারণ তিনি আমাদের তো বলেননি, তোমাদের আলোচনার জন্য ডাকছি। তিনি আমাদের চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। নুর বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছেন, সেটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলতে আমাদের যাওয়া উচিত। সেখানে আমরা যাব। টিআর/  

উপ-উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বাতিল দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান অনশন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদের আশ্বাসে অনশন ভেঙেছেন। শুক্রবার (১৫ মার্চ) সাড়ে ১১টার পর পানি ও লাচ্ছি পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানো হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, প্রক্টর গোলাম রব্বানী, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক, জিএস গোলাম রাব্বানী, এজিএস সাদ্দাম হোসেন অনশন ভাঙাতে আসেন। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। ভিপি নুরুল হক বলেন, আমি জানি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কারচুপি করার ফলে মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করা হয়েছে। রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করার ব্যাপারে একমত। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, আপনাদের সঙ্গে থাকবো। আজ আকাশের অবস্থা ভালো না। আপনারা অনশন ভাঙুন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, তোমাদের দাবিগুলো আমরা শুনবো। স্বচ্ছতার কোনো শেষ নেই। পরবর্তীতে আমরা আরো গুরুত্ব দেবো। পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সামাদ ১৮ মার্চ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস ও অভিযোগগুলো নিয়ে প্রধান রিটার্নিং অফিসারে সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, তোমাদের সব অভিযোগ আমরা শুনবো। আমরা চাই আগামীতে আরো সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে। তবে আমি আবারো বলছি এবার যা ঘটেছে তার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। আমি চাই তোমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করতে। আমি তোমাদের অনশন ভাঙাতে জোর করবো না। তবে আমি চাইবো তোমরা আমার কথা শুনবে এবং আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করবো। ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন।  

ডাকসু নির্বাচন বাতিল দাবিতে অনশন চলছে, আরো একজন অসুস্থ

ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বাতিল চেয়ে অনশন অব্যাহত রয়েছে। আজ শুক্রবার চতুর্থ দিনের মতো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সাত প্রার্থী ও শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন। এদিকে অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরো এক শিক্ষার্থী, তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হবে জানা গেছে। গতকালও এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয় তাকে ঢাকা মেডিকেল ভর্তি রয়েছে। অনশনকারী সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন হল সংসদে নির্বাচন করেছেন। তাদের মূল দাবি ১১ মার্চের নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হোক। পাশাপাশি ওই নির্বাচনে দায়িত্বরতদের পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শোয়েব মাহমুদ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মীম আরাফাত মানব, একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের তাওহীদ তানজীম, পপুলেশন সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের মো. মাঈনউদ্দিন, দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের অনিন্দ্য মণ্ডল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাফিয়া তামান্না এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আল মাহমুদ তাহা। এর মধ্যে মীম আরাফাত মানব ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য সমর্থিত প্যানেলে আন্তর্জাতিক সম্পাদক, তাওহীদ তানজীম স্বতন্ত্রভাবে ডাকসুতে ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, শোয়েব মাহমুদ শহীদুল্লাহ হল সংসদে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য মনোনীত সাহিত্য সম্পাদক, অনিন্দ্য মণ্ডল জগন্নাথ হলে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য সমর্থিত সদস্য এবং মো. মাঈনউদ্দিন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য ও স্বতন্ত্র জোট সমর্থিত সংস্কৃতি সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন।   টিআর/

পুনঃনির্বাচনের এখতিয়ার আমার নেই: অধ্যাপক ড. জিনাত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেছেন, হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দেওয়ার এখনিয়ার তার নেই। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার এখতিয়ার হল প্রাধ্যক্ষের নেই। এই সিদ্ধান্ত তাই আমি নিতে পারি না। প্রাধ্যক্ষ বলেন, ডাকসু নির্বাচন তিনি কোনো মামলা করেননি। শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারে কোনো সহযোগিতা করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রীদের আমার কাছে তো আসতে হবে। অনশনরত ছাত্রীদের সঙ্গে কেন দেখা করেননি— জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ বলেন, আমি ওদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। ওদের কথা বলার জন্য ডেকেছিও। কিন্তু ওরা কথা বলতে আসেনি। প্রাধ্যক্ষ নিজে কেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে যাননি— জানতে চাইলে অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেন, ওদের এসে আমার সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমি তো হলের বাইরে যেতে পারি না। ওরা তো হলের বাইরে আছে। অনশনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রক্টরিয়াল টিম রয়েছে। আমি নিজেও আবাসিক শিক্ষকদের পাঠিয়েছি, যেন ওদের নিরাপত্তায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। আমি নিজেই তো তিন রাত ঘুমাতে পারিনি ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে। তার পদত্যাগের দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা প্রসঙ্গটি এড়িয়ে বলেন, তাদের সঙ্গে কালকেও আমি ফোনে কথা বলেছি। তাদের আমি বলেছি, তোমাদের হয়তো কিছু ভুল তথ্য (মিস ইনফরমেশন) দেওয়া হয়েছে। আমাদের হাউজ টিউটররা কাল সারাদিনই প্রায় হলের ছাত্রীদের কাছে বলেছে, যদি তোমাদের কাছে কোনো গুজব ছড়ানো হয় বা কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয় যে মেয়েদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়েছে বা কাউকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেটি ভুল। রাতেও আমি সেটি বলেছি উল্লেখ্য, বুধবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ঢাবি রোকেয়া হলের পাঁচ শিক্ষার্থী চার দফা দাবিতে হলের গেটে অনশন শুরু করেন। তাদের দাবিগুলো হলো— রোকেয়া হল সংসদের পুনঃনির্বাচন দেওয়া, হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। টিআর/  

ডাকসু পুনঃনির্বাচনের দাবিতে রাজু-রোকেয়ায় অনশন চলছেই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এসে নতুন নির্বাচনের দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করছেন বিভিন্ন হলের চার ছাত্র। আর রোকেয়া হলের গেটে অনশন করছেন ওই হলের পাঁচ ছাত্রী। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সকালে রোকেয়া হলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, হলের পাঁচ ছাত্রী বসে আছেন হল গেটে। বুধবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টায় অনশন শুরু করেন তারা। অন্যদিকে, রাজু ভাস্কর্যে অনশনরতরা বসেছেন মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রাতে। সোমবার (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই শিক্ষার্থীরা অনশনে বসেছেন। এরই মধ্যে অন্য শিক্ষার্থীরাও এসে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন অনশনরতদের সঙ্গে। অনশনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ. তারা দীর্ঘ সময় ধরে অনশন করে গেলেও এখন পর্যন্ত হল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ তাদের সঙ্গে দেখা করেননি। যদিও রোকেয় হলের প্রভোস্ট বলছেন, শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা মানেনি। রোকেয়া হলের গেটে অনশনরত পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন— রাফিয়া সুলতানা, শ্রবণা শফিক দিপ্তী, শেখ সায়িদা আফরিন শাফি, প্রমী খিসা ও জয়নী রয়না। হল গেটের সামনে কাঁথা-চাদর বিছিয়ে গেটে হেলান দিয়ে তারা বসে আছেন। হলের গেটে এবং তাদের আশপাশে পোস্টার ও প্ল্যাকার্ডে লিখে রেখেছেন তাদের চার দফা দাবি। যে চারটি দাবিতে তারা অনশন করছেন সেগুলো হলো— রোকেয়া হল সংসদের পুনঃনির্বাচন, হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অনশনরত সায়িদা আফরিন বলেন,‘আমরা রোকেয়া হলের পুনঃনির্বাচন, হল প্রভোস্টের পদত্যাগসহ চার দাবিতে অনশন করছি। আমরা হল প্রধ্যক্ষের সঙ্গে দেখাও করতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, ‘কাল সারাটা দিন অপেক্ষা করেছি। তাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে আমার সঙ্গে বসতে। তারা রাত ১-২টার দিকে আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে ফোনে ১ ঘণ্টা কথাও বলেছি। আমি দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করে সব বলব। এদিকে, রাজু ভাস্কর্যের অনশনরতরা বলছেন, রোকেয়া হলের ছাত্রীরা কেবল তাদের হলের পুনঃনির্বাচন দাবি করলেও এই ছাত্ররা অনশন করছেন ডাকসুসহ সব হল সংসদের পুনঃনির্বাচনের দাবিতে। মঙ্গলবার রাত থেকে অনশনে বসা এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন এরই মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে অনেক শিক্ষার্থীই এসে তাদের সমর্থন জানাচ্ছেন, একাত্মতা জানিয়ে বসে পড়ছেন তাদের পাশে। জানতে চাইলে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী রোকেয়া হলের অনশনরত ছাত্রীদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রতিনিয়ত তাদের সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছে। তারা হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গেট বন্ধ করতে দিচ্ছে না। আন্দোলনের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই, কিন্তু হলের আবাসিকতা ও নিয়ম-কানুনকে মেনে তারা আন্দোলন করবে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে যারা বাধা দিচ্ছে, তাদের আমরা বিরত থাকতে বলব। টিআর/

ভিসির কার্যালয়ে ৫ প্যানেলের অবস্থান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বর্জন করে পুনরায় নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণার দাবিতে উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি প্যানেল। প্যানেলগুলো হলো- কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের জোট, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট সমর্থিত, ছাত্র ফেডারেশন সমর্থিত প্যানেল। এর আগে বুধবার ক্যম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে প্যানেলগুলোর নেতাদের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করে। এরপর ঢাবি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। পরে নুর, লিটন নন্দী, উম্মে হাবিবা বেনজির, অরণী সেমন্তী খান, ফারুক খানসহ বিভিন্ন প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রায় ১১ জন উপাচার্য কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা উপাচার্যের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেবেন। এমএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি