ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৩৮:১০

আইসিসিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইইউ

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা

আইসিসিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইইউ

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একইসঙ্গে মিয়ানমার সেনাদের নৃশংসতার দায়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনার জন্য আইসিসির কাছে দাবি জানিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
রোহিঙ্গাদের আন্দোলন প্রত্যাহার

বিভিন্ন তথ্যসংবলিত স্মার্ট পরিচয়পত্র প্রণয়নকে কেন্দ্র করে দুই দিন ধরে টেকনাফের হোয়াইক্যং চাকমারকুল ক্যাম্পে চলা প্রতীকী আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে রোহিঙ্গারা। তারা জাতিসংঘ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর কর্তৃক প্রণীত স্মার্টকার্ড নিতে আপত্তি জানিয়ে কার্ডে জাতীয়তার পরিচিতিতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি যুক্ত করার দাবি করে। একই সঙ্গে আরো চার দফা দাবিতে চাকমারকুল ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা গত সোমবার থেকে প্রতীকী আন্দোলন শুরু করে। এ সময় তারা ক্যাম্পের দোকানপাট বন্ধ রেখে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান নেয়। টেকনাফ চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রোহিঙ্গারা স্মার্ট পরিচয়পত্রে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি না থাকায় আপত্তি তুলেছিল। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। দুই দিন ধরে চলা রোহিঙ্গাদের প্রতীকী আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ক্যাম্পের সিআইসি মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া। এ সময় রোহিঙ্গারা তার কাছে ইউএনএইচসিআর কর্তৃক নতুন করে প্রস্তুত করা স্মার্ট পরিচিতিপত্রে জাতীয়তায় রোহিঙ্গা উল্লেখ না করার বিষয়টি তুলে ধরেন। ক্যাম্প সিআইসি রোহিঙ্গাদের দাবির বিষয়ে শিগগিরই সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে রোহিঙ্গারা আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এর আগে রোহিঙ্গারা আজ বুধবার পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। আরকে//

মিয়ানমারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তীব্র প্রতিবাদ

রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। রাখাইন প্রদেশের সিটুই শহরে শত শত বৌদ্ধ ভিক্ষু সেদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে আসতে দেয়া না হয়।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফিরে আসার মধ্যে মিয়ানমারের কোনো স্বার্থ নেই। মিয়ানমারের উগ্র এই বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে সেদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করে না।এদিকে গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা সমাবেশ করে বলেছে তারা নাগরিকত্ব না পেলে মিয়ানমারে ফিরে যাবে না।বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের চুক্তি অনুযায়ী নভেম্বরের শেষ নাগাদ কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া ২ হাজার ২শ ৬০ জন রোহিঙ্গা মুসলমানের ফিরে যাবার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার দিন দশেক আগেই ওই পরিকল্পনা স্থগিত করেছে।২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সেদেশের উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর পাশবিক হামলা চালায়। তাদের ওই হামলায় অন্তত ৬ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয় এবং আহত হয় ৮ হাজারেরও বেশি। দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান বাস্তুভিটা হারিয়ে শরণার্থীতে পরিণত হয়।সূত্র : পার্সটুডেএসএ/  

রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যু তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল

রোহিঙ্গা নিধন ও নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল। সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। জড়িতদের বিচারে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে যুক্ত করার পরামর্শ দেয় সদস্য দেশগুলো। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে তৃতীয় কমিটির বৈঠকে আবারও উঠে আসে রোহিঙ্গা সংকট। রাখাইনে হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানায় সদস্য দেশগুলো। এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় না আনায়, ক্ষোভ জানায় যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্কসহ কয়েকটি রাষ্ট্র। বৈঠকে মানবাধিকার লংঘনের দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পূর্ণ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। এ ব্যাপারে মানবাধিকার কাউন্সিলকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে যুক্ত করার ওপর জোর দেয় সদস্য দেশগুলো। ভোটাভুটিতে ১৪২টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে, ১০টি বিপক্ষে, আর ২৬টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। প্রস্তাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার পক্ষে নয় জাতিসংঘ। এমএইচ/

সু চিকে মাহাথিরের ভর্ৎসনা

মলায়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পাশবিকতার প্রশ্ন তুলে দেশটির নেত্রী অং সান সু চিকে ভর্ৎসনা করেছেন।সিঙ্গাপুরে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিয়ানমার সরকার এবং অং সান সু চি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় কতটা সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছে সে প্রশ্নে কথা বলেন মাহাথির।তিনি বলেন, মনে হচ্ছে যেন- যেটা অসমর্থনযোগ্য সে ব্যাপারটিকেই সমর্থন দিয়েছেন সু চি। রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা এবং গণহত্যার ব্যাপারে তারা নিপীড়কের ভূমিকা পালন করেছে।উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে চেকপোস্টে হামলার ঘটনায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ওই অভিযান শুরুর পর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয় তারা।জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে দাবি করলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে আসছে। অং সান সুচিও তাদের সেনাবাহিনীর সমর্থন দিয়ে আসছে।অবশ্য এবারই প্রথম নয়; রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এর আগে নানা সময় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে মিয়ানমারের নেত্রীকে। এসএ/

‘স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে চাইলে প্রত্যাবাসন হবে’

রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে চাইলে তাদের মিয়ানমারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার মো. আবুল কালাম। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সরকারকে জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ওই রোহিঙ্গাদের কেউ বর্তমান পরিস্থিতিতে রাখাইনে ফিরে যেতে রাজি নয়। ফলে সব প্রস্তুতি নেওয়ার পরও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়টি অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে গেল। কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, এখনই ঠিক বলা যাচ্ছে না কতজন ফেরত যাবে। আমি এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছি। সেখানে তাদের সঙ্গে কথা হবে। কোনও রোহিঙ্গা আগ্রহী হলে তাদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাঠানো হবে। এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর গত মঙ্গলবার ও বুধবার ৫০টি রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নেতিবাচক মোনোভাবের কারণে গোটা প্রক্রিয়াটিই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত ৩০ অক্টোবর মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে মনোভাব জানতে ৪৮৫টি রোহিঙ্গা পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জনের একটি তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএচসিআর-কে দেওয়া হয়। এর দুসপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করে সংস্থাটি। আজও ইউএনএইচসিআর কয়েকটি পরিবারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে তাদের মতামত জানতে চাইবে। ইতোমধ্যে ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া বিষয়ে একটি চিঠি আবুল কালামকে দিয়েছে, যা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফের একাধিক শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। তারও আগে একই কারণে আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। সব মিলে বর্তমানে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গার বসবাস উখিয়া-টেকনাফে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও নানাভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। একে//

আজ মিয়ানমার যাচ্ছেন ১৫০ রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে। তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ প্রথম দিন দুপুরে ৩০টি পরিবারের ১৫০ জন রোহিঙ্গার যাওয়ার কথা৷ এরই মধ্যে প্রত্যাবাসনে অন্তর্ভুক্ত ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গার তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে আবুল কালাম জানান, সব প্রস্তুতি শেষ। বৃহস্পতিবারই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ঘুমধুমের ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন। আর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে। গত ৩০ অক্টোবর জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিহ্নিত করা ৪৮৫টি পরিবারের মোট ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার ফেরত নিতে রাজি হয়েছে৷ তবে দেশটি প্রতিদিন মাত্র ১৫০ জন করে ফেরত নেবে৷ এ জন্য টেকনাফের কেরানতলীতে একটি ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় আরেকটি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে৷ আজ বৃহস্পতিবার প্রথমে তাদের সেখানে নিয়ে রাখা হবে৷ তারপর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে৷ দু’ দেশের প্রতিনিধিরাই তখন সেখানে থাকবেন৷ প্রতিদিন ১৫০ জন করে ১৫ দিন এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফের একাধিক শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। তারও আগে একই কারণে আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। সব মিলে বর্তমানে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গার বসবাস উখিয়া-টেকনাফে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও নানাভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। একে//

এবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালেরও খেতাব হারালেন সু চি

মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’কে দেওয়া তাদের সর্বোচ্চ সম্মাননা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সংস্থাটি গতকাল সোমবার এক ঘোষণায় জানিয়েছে, সু চি তার এক সময়কার নৈতিক অবস্থান থেকে ‘লজ্জাজনকভাবে’ সরে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর সেখান থেকে নতুন করে আরও সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ঘটনায় এর আগেও আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা মিস সু চি’কে দেওয়া তাদের খেতাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে সু চি’র বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে রয়েছে, কানাডার পার্লামেন্টের দেওয়া সম্মানসূচক নাগরিকত্ব, ব্রিটেনের অক্সফোর্ড শহরের দেওয়া সম্মাননা, গ্লাসগো নগর কাউন্সিলের দেওয়া ফ্রিডম অফ সিটি খেতাবসহ আরও অনেক সম্মাননা। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো লন্ডন-ভিত্তিক এই সংস্থা- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এর আগে জাতিসংঘও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বর্মী সেনাবাহিনীর অভিযানকে মানবতা-বিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছে এবং এই অপরাধের দায়ে দেশটির শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়েছে। ২০০৯ সালে অং সান সু চি’কে ‘অ্যাম্বাসাডর অফ কনশেন্স’ বা ‘বিবেকের দূত’ খেতাব দিয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গৃহবন্দী থাকার সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অং সান সু চি’র শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল। সেই সম্মাননাই এখন প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো। সংস্থাটির মহাসচিব কুমি নাইডু এক চিঠির মাধ্যমে অং সান সু চি’কে এই খবরটি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আট বছর আগে গৃহবন্দী থাকা নেত্রী ক্ষমতা গ্রহণের পর তার রাজনৈতিক নীতি-আদর্শ, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার কথা ভুলে সামরিক বাহিনীর চালানো জাতিগত নিধনযজ্ঞ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে ছিলেন উদাসীন।’ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ‘সংস্থার একজন দূত হিসেবে সু চি’র কাছে প্রত্যাশা ছিল, শুধু মিয়ানমারের ভেতরে নয়, পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তের অবিচারের বিরুদ্ধে আপনি আপনার নৈতিক কর্তৃত্ব ও ভূমিকা রাখবেন।’ ‘কিন্তু আমরা গভীর দুঃখ ভারাক্রান্ত। কারণ আপনি আর আশা, সাহস এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেন না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আপনাকে দেওয়া ‘অ্যাম্বাসেডর অফ কনসায়েন্স’ সম্মাননা অব্যাহত রাখার কোনও যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না,’ লিখেছেন সংস্থাটির মহাসচিব কুমি নাইডু। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, অং সান সু চি’র নেতৃত্বে বেসামরিক সরকার মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসার পর তার প্রশাসন একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযানের কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, ‘গত বছর নিধনযজ্ঞ চলার সময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছে হাজারো মানুষ। ধর্ষিত হয়েছে অগণিত নারী ও শিশু, আটক ও নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পায়নি বৃদ্ধ, শিশু এবং কিশোরও। শতাধিক গ্রাম আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় অস্বীকার করে অং সান সু চি ও তার দফতর তাদেরকে রক্ষা করেছেন। সংস্থাটি বলছে, রোহিঙ্গাদের পক্ষে অং সান সু চির দাঁড়ানোর ব্যর্থতাই এর মূল কারণ। ‘ভয়ঙ্কর নিপীড়ন এবং নির্যাতনের এইসব ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে কিংবা রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত লাখো রোহিঙ্গার জীবনমান উন্নয়নের বা পরিবর্তনের আশা ক্ষীণ। নৃশংসতা থামাতে ভবিষ্যতে সরকারের উদ্যোগ কেমন হতে পারে তা সহজেই বোঝা যায় যখন একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের কথা অস্বীকার করে রাষ্ট্রযন্ত্র।’ সংস্থাটি বলছে, সামরিক বাহিনীর বিস্তর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আইন তৈরি ও সংশোধনের বেশ কিছু ক্ষমতা ছিল বেসামরিক সরকারের হাতে। কিন্তু অং সান সু চি’র সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দু’বছরের মাথায় মানবাধিকার কর্মী, শান্তিকর্মী ও সাংবাদিকদের হুমকি, ভয়, হয়রানি এমনকি কারাবরণও করতে হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, অং সান সু চি সাহায্য করুণ আর নাই করুন, মিয়ানমারে বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে তারা তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে। সূত্র: বিবিসি একে//

পাঁউরুটির গন্ধে ইতিহাসের ছোঁয়া

বিশ্বায়নের যুগে বেশ কিছু নামী-দামি বিদেশি পাঁউরুটি এখনও ভারতের কলকাতায় দেখা মেলে ঠিকই, কিন্তু পাঁউরুটি এমন একটি বস্তু যা নিজেরা তৈরি না করলে টাটকা স্বাদটি অধরা থাকবেই। সেই খামতি দূর করতে এ বার খাঁটি ‘রোমান ব্রেড’ তৈরিতে শামিল হচ্ছে শহরের একটি নামী পাঁউরুটি নির্মাতা সংস্থা। ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত ছোবলে পুড়ে খাক ইতালির পম্পেই শহরের সঙ্গে নাকি জড়িয়ে আছে কলকাতার এই নতুন পাঁউরুটি-নিরীক্ষা। পোশাকি নাম ‘পম্পেই ব্রেড’ বা ‘পানিস কোয়াদ্রাতাস’। ৭৯ খ্রিস্টাব্দের পম্পেইয়ে সেই পাঁউরুটির ফসিল উদ্ধার হয়েছে। গোটা বিশ্বের পাঁউরুটি-প্রেমিকদের মধ্যে বহুল চর্চিত, পম্পেই রুটির চেহারা-চরিত্র নিয়ে গবেষণা। ওই সংস্থার দাবি, সেই পম্পেই পাঁউরুটির আদলটিকে তারা রপ্ত করে ফেলেছে। তাদের বিপণিতে ৪০০ গ্রামের আধারে মিলবে এই নয়া পাঁউরুটি। আটা, ময়দা, গমের ভুসির সঙ্গে হজমের জন্য সহায়ক ফাইবারের মিশেলে তৈরি পাঁউরুটি যথেষ্ট ‘স্বাস্থ্যকর’ বলেও দাবি নির্মাতাদের।    সাহিত্যিক শঙ্করের অভিজ্ঞতা, সেই ১৯৬০-এর দশকেও ফারপোর পাঁউরুটির টানে লম্বা লাইন ধর্মতলা চত্বরে উপচে পড়ত। বৌবাজারের অ্যাংলো ইন্ডিয়ান পাড়ায় জনে জনে মনপসন্দ পাঁউরুটির সন্ধানে প্রকাণ্ড আভেনের বন্দোবস্ত আছে। তবে ইউরোপের আদলে ছোট-ছোট কিন্তু উঁচু জাতের বেকারি এখনও খুব বেশি চালু হয়নি কলকাতায়। পম্পেইয়ের রুটি নিয়ে নিরীক্ষা কলকাতার পাঁউরুটি-আবেগ উস্কে দেবে বলেই আশা শঙ্করের। বেকারি-কনফেকশনারি বিশেষজ্ঞ শেফ শন কেনওয়ার্দি অবশ্য মনে করেন, এখনও শুধু কলকাতা নয়, গোটা ভারতেই বিশ্বমানের পাঁউরুটি কিছুটা অধরা। তার কথায়, ‘পাঁউরুটির বৈচিত্র ও গুণমান— দু’দিকেই খানিক কমতি কলকাতা। বাইরেটা মুচমুচে ভিতরটা নরম, এমন সেরা পাঁউরুটি বলতে এখনও ফ্রান্স, পর্তুগালের কথা মনে পড়ে।’ সে দিক দিয়ে পাঁউরুটি নিয়ে নতুন নতুন নিরীক্ষা কলকাতার রসিকজনের জন্য সুখবর বলেই আশায় বিশেষজ্ঞেরা। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

যে কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন সবসময় মিয়ানমারের পক্ষে

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে গত বছরের আগস্ট মাসে সেনাবাহিনীর অভিযান ও নির্যাতনের মুখে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়টিতে সবসময়ই জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের বিরোধী চীন, এবং সর্বদাই তারা মিয়ানমারের পক্ষে। এটার কৌশলগত কারণটা আসলে কী? কী তার স্বার্থ? জাতিসংঘের বিশেষ তথ্য অনুসন্ধানী কমিটির প্রধান মারযুকি দারুসমান গত বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক রিপোর্টে বলছেন, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে এখনও গণহত্যা চলছে। এখনও যে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা রাখাইনে রয়ে গেছেন; তারা নানা ধরনের অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ নিয়ে যে পদক্ষেপই নিতে চেষ্টা করুক না কেন, তাতে বাধ সাধে স্থায়ী সদস্য চীন, তার সঙ্গে রাশিয়াও। রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন কেন জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে? কী তার স্বার্থ? মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়না স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলীকে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলছেন- চীনের প্রধান স্বার্থ দুটি। বিবিসির মাসুদ হাসান খানকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ড. আলি বলেন, এর একটি হলো অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার পক্ষে তাদের চিরাচরিত পররাষ্ট্রনীতি, যার পাশাপাশি চীন চায় যে তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারেও অন্য কোনও দেশ হস্তক্ষেপ না করুক। ‘আর অপরটি হচ্ছে, তাদের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ, যার মূল কথা- তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল-গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য মালাক্কা প্রণালী ছাড়াও মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে আরেকটি স্থলপথকে অক্ষুণ্ণ রাখা।’ চীনের এই নীতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে ড. আলি বলেন, রোহিঙ্গা প্রশ্নে তারা ২০১৭ সাল থেকেই বলে আসছে যে চীন ও বাংলাদেশের সরকারকেই আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধান করতে হবে, বাইরের কোনও শক্তির হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। কারণ তাতে সমস্যার সমাধান হবে না। ড. আলি বলেন, চীনের নিজস্ব সমস্যা রয়েছে। তিব্বত বা শিনজিয়াং- এই দুই প্রদেশের অন্য জাতিগোষ্ঠীর লোক বাস করে এবং তাদের সঙ্গে বহু দশক ধরে চীনের সংখ্যাগরিষ্ঠ হান সম্প্রদায়ের সংঘাত চলছে। চীন সরকার এই অঞ্চলগুলোকে শান্ত করার জন্য বেশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এ নীতি দেখিয়েই তারা চাইছে, অন্য দেশগুলো চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করুক। ‘এটা হচ্ছে একটি দিক। অন্য আরেকটি বিষয় ভুললে চলবে না যে বহু দশক ধরে মিয়ানমার চীনের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। এর অনেক কারণ- তবে একটির কথা আমি বলতে চাই।’ সৈয়দ মাহমুদ আলির কথায়, ‘গত দু দশক ধরে চীনের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে হচ্ছে। সেই বাণিজ্য মালাক্কা প্রণালী দিয়ে হয় এবং চীন জানে যে তার সঙ্গে শত্রুভাবাপন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক মিত্ররা চাইলেই চীনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে। এটাকেই বলে চীনের মালাক্কা সংকট।’ ‘এখন বাণিজ্য পথ খোলা রাখার জন্য চীন যদি সেখানে নৌবাহিনী পাঠায়, তাহলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে, যাকে বলে চীনের মালাক্কা ডাইলেমা।’ ‘সেই মালাক্কা সংকটের কথা মাথায় রেখেই চীন স্থলপথে বিভিন্ন পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এবং গ্যাস যাতে চীনে পৌছাতে পারে, তার ব্যবস্থা করেছে। এরকম দুটি পাইপলাইন আরাকান অর্থাৎ মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে এসে পৌঁছেছে। ভারতেরও এ ধরণের বিনিয়োগ রয়েছে কালাদান এবং সিটওয়ে বন্দরে। কিন্তু চীনের অর্থনীতির জন্য এ দুটি পাইপলাইন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সে জন্যই চীন চাইছে না যে মিয়ানমার সরকার যেন আরাকানের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ হারায়, বা আরাকানকে কেন্দ্র করে চীন-মিয়ানমার সম্পর্ক খারাপ হোক। অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার চীনের যে নীতি, তার সূচনা কিভাবে হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করে ড. আলি বলেন, তিব্বতে ১৯৫৪ সালে যখন গৃহযুদ্ধ চলছিল। যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত তখন তিব্বতী যোদ্ধাদের সমর্থন দিচ্ছিল। সেই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্য নিয়ে চীন এবং ভারত সরকার ১৯৫৪ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পাঁচটি আদর্শের কথা বলা হয়েছিল। তার প্রথমটি ছিল, কোনও দেশই অন্য কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না। জাতিসংঘের সনদেও এমনটা লেখা আছে। ‘১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং-এ আফ্রিকান এবং এশিয়ান দেশগুলোর এক সম্মেলনে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের সূচনা হয়। সেখানেও বলা হয়েছিল, এই আদর্শগুলোকে অনুসরণ করেই জোটনিরপেক্ষ দেশগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। চীন আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাঁচটি নীতিমালা এখনও বজায় রেখেছে, সে কারণেই তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে অন্তত আনুষ্ঠানিকভাবে চাইছে না। মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও তাই প্রযোজ্য।’ তাহলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে আসল চাবিকাঠি কার হাতে? জবাবে সৈয়দ মাহমুদ আলি বলেন, লক্ষ্য করার বিষয় যে অন্য ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও রোহিঙ্গা বা মিয়ানমার বিষয়ে তাদের নীতি মোটামুটি একই রকম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে এ সংকটের সমাধানে আগ্রহী হয়, তাহলে আমার মনে হয় বাংলাদেশের দুটি বন্ধু রাষ্ট্র ভারত ও চীন- এই দুই রাষ্ট্রের সহযোগিতার মাধ্যমেই মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব। কিন্তু ভারত এবং চীনকে বাদ দিয়ে এ সংকটের সমাধান সম্ভব বলে আমার মনে হয় না।’ সূত্র: বিবিসি একে//

মিয়ানমারের ৫ জেনারেলের ওপর অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা আরোপ  

মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালিয়েছে। এমন অভিযোগ উঠেছে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। আর এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পাঁচ জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া।       আর এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পদক্ষেপ অনুসরণ করল দেশটি। মঙ্গলবার এক ঘোষণায় অস্ট্রেলিয়া জানায়, নৃশংসতা পরিচালনায় একটি বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দেয়া একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেলসহ এসব সেনা কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারেইস পেইন বলেন, অং কেইউ জো, মোং মোং সোয়ে, অং অং, থান ও এবং কিং মোং সোয়ে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী। তাদের নেতৃত্বে একটি সেনা ইউনিট রোহিঙ্গা নিপীড়ন চালিয়েছে। তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নি পোস্ট এসি   

রোহিঙ্গা ইস্যুতে টোকিওতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সু চি

জাপানের টোকিওতে ব্যাপক রোহিঙ্গা বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা। আরাকান যুব ইউনিয়ন আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন জাপানে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা। এসময় মিয়ানমারের দূতাবাস ঘেরাও করেন তারা। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি রাখাইন নেতা আই মাংসহ সব নেতাকর্মীর মুক্তির দাবি জানান বক্তারা। মেকং-জাপান সামিটে যোগ দিতে অং সান সু চি টোকিওতে অবস্থান করছেন। সামিটের সাইড লাইন বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে তার। এর আগে সূ চি মন্তব্য করেন, খুব দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আশা করা ঠিকে হবে না। তার আগে তিনি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকিয়ে রাখছে বলে হাস্যকর মন্তব্য করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবরই সু চির ভূমিকা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন না বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করে। একে//

রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে ইইউ

মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনায় বিষয়টি বিবেচনা করছে তারা। আর এটা হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বাজার থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে হতে পারে মিয়ানমারকে। এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে দেশটির লাভজনক পোশাকশিল্পে ধস নামবে, মিয়ানমারের বহু পোশাককর্মী তাঁদের চাকরি হারাবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনে গত মাসে মিয়ানমারের বাণিজ্য সুবিধাগুলো পর্যালোচনা করতে বলা হয়। আর পর্যালোচনা শেষে নিষেধাজ্ঞা আরোপ পর্যন্ত ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে। এর মধ্যে মিয়ানমার যদি মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশানুরূপ কিছু করে দেখাতে পারে, তবে ইইউর এ সব ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তনও আসতে পারে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক নীতিনির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউরোপীয় কমিশনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাওয়া বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয়টিও তারা দেখছেন। অবশ্য ইউরোপীয় কমিশনের অভ্যন্তরে এ ধরনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরস্পরের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কারণ এ সব নিষেধাজ্ঞায় সাধারণ নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে বলে মনে করছেন দ্বিমত পোষণকারীরা। তবে কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ ক্লদ জাঙ্কার এখনও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেননি। প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় কোম্পানি এর আগেই নিজ উদ্যোগে মিয়ানমার থেকে পোশাক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় ‘বিদ্রোহীদের’ হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। এ ঘটনায় দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, গুমসহ আরও বেশকিছু অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল। গত এক বছরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও কয়েক দশকের অনুপ্রবেশে এই মুহূর্তে এখানে রয়েছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। সূত্র: রয়টার্স একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি