ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১:৩৪:১৪

রোহিঙ্গা ইস্যুতে টোকিওতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সু চি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে টোকিওতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সু চি

জাপানের টোকিওতে ব্যাপক রোহিঙ্গা বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা। আরাকান যুব ইউনিয়ন আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন জাপানে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা। এসময় মিয়ানমারের দূতাবাস ঘেরাও করেন তারা। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি রাখাইন নেতা আই মাংসহ সব নেতাকর্মীর মুক্তির দাবি জানান বক্তারা। মেকং-জাপান সামিটে যোগ দিতে অং সান সু চি টোকিওতে অবস্থান করছেন। সামিটের সাইড লাইন বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে তার। এর আগে সূ চি মন্তব্য করেন, খুব দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আশা করা ঠিকে হবে না। তার আগে তিনি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকিয়ে রাখছে বলে হাস্যকর মন্তব্য করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবরই সু চির ভূমিকা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন না বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করে। একে//
রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে ইইউ

মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনায় বিষয়টি বিবেচনা করছে তারা। আর এটা হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বাজার থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে হতে পারে মিয়ানমারকে। এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে দেশটির লাভজনক পোশাকশিল্পে ধস নামবে, মিয়ানমারের বহু পোশাককর্মী তাঁদের চাকরি হারাবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনে গত মাসে মিয়ানমারের বাণিজ্য সুবিধাগুলো পর্যালোচনা করতে বলা হয়। আর পর্যালোচনা শেষে নিষেধাজ্ঞা আরোপ পর্যন্ত ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে। এর মধ্যে মিয়ানমার যদি মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশানুরূপ কিছু করে দেখাতে পারে, তবে ইইউর এ সব ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তনও আসতে পারে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক নীতিনির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউরোপীয় কমিশনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাওয়া বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয়টিও তারা দেখছেন। অবশ্য ইউরোপীয় কমিশনের অভ্যন্তরে এ ধরনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরস্পরের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কারণ এ সব নিষেধাজ্ঞায় সাধারণ নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে বলে মনে করছেন দ্বিমত পোষণকারীরা। তবে কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ ক্লদ জাঙ্কার এখনও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেননি। প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় কোম্পানি এর আগেই নিজ উদ্যোগে মিয়ানমার থেকে পোশাক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় ‘বিদ্রোহীদের’ হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। এ ঘটনায় দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, গুমসহ আরও বেশকিছু অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল। গত এক বছরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও কয়েক দশকের অনুপ্রবেশে এই মুহূর্তে এখানে রয়েছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। সূত্র: রয়টার্স একে//

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির ভূমিকা দুঃখজনক : নোবেল প্রধান

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে সে দেশের নারী নেত্রী অং সান সু চির ভূমিকা কিছু ক্ষেত্রে ‘দুঃখজনক’ হলেও তার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান লারস হেইকেনস্টেন। সম্প্রতি স্টকহোমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান তিনি। নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান বলেন, এক পুরস্কার প্রদান করা হলে অন্য কোন ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তা কেড়ে নেওয়ার যায় না।সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমারে গণতন্ত্রের দাবিতে অহিংস আন্দোলনের জন্য ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান সু চি। মিয়ানমার বেসামরিক সরকার ব্যবস্থায় ফিরলে ২০১৫ সালে নির্বাচনে জিতে সু চি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর হন। মিয়ানমারের বেসামরিক প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন সু চিরই হাতে। তবে সাংবিধানিকভাবে সেনাবাহিনী এখনও বিপুল ক্ষমতাধর। গত বছর অগাস্টে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর তা ঠেকানোর কোনো চেষ্টা না করে উল্টো সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গাওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার মুখে পড়েন মিয়ানমারের ‘ডি ফ্যাক্টো’ নেত্রী। রাখাইনে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে গত এক বছরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নাফ নদীর দুই তীরে সৃষ্টি হয়েছে এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কট। ২০১২ সালে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সু চি তার নোবেল বক্তৃতা দেন ২০১২ সালে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সু চি তার নোবেল বক্তৃতা দেন গত মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটিয়েছে।আইন প্রয়োগের নামে ভয়ঙ্কর ওই অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান এবং জ্যেষ্ঠ পাঁচ জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করারও সুপারিশ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। সেখানে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির বেসামরিক সরকার ‘বিদ্বেষমূলক প্রচারকে উসকে’ দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ‘আলামত ধ্বংস’ করেছে এবং সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’। আর এর মধ্যে দিয়ে মিয়ানমার সরকারও নৃশংসতায় ‘ভূমিকা’ রেখেছে। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন মনে করে, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া সু চি বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় তার ‘নৈতিক কর্তৃত্ব’ ব্যবহারে ব্যর্থ হয়েছেন। এ বিষয়ে নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান হেইকেনস্টেন বলেন, “মিয়ানমারে সু চি যা করছেন তা যে বেশ প্রশ্নবিদ্ধ, তা আমরা দেখছি। আমরা মানবাধিকারের পক্ষে, এটা আমাদের অন্যতম প্রধান মূল্যবোধ। অবশ্যই বিস্তৃত অর্থে তিনি এর (রাখাইনে দমনপীড়ন) জন্য দায়ী, যা খুবই দুঃখজনক।” মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের ওই তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘একপেশে’ আখ্যায়িত করে আসছে। তাদের দাবি, রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার কারণে আইন মেনেই ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বড় ধরনের কোনো অপরাধের কথা স্বীকার না করলেও সু চি গত মাসে এক অনুষ্ঠানে বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি হয়ত আরও ভালোভাবে সামলানো যেত। টিআর/

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরুর আহ্বান মিয়ানমারের মানবাধিকার কমিশনের

মিয়ানমার ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারম্যান ইউ উইনরা বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে রাখাইনের মুসলিমদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা উচিত। গত বছর আগস্ট মাসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস নির্যাতন চালালে কমপক্ষে ৭ লাখ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানরা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও প্রত্যাবর্তন শুরু হয়নি। ইউ উইন রা বলেন, পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে প্রত্যাবর্তন শুরু করা যায়। এ ক্ষেত্রে কোন দেশ ওই চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না বা কোন দেশ বিলম্ব করছে এ সব নিয়ে কথা বলার চেয়ে সমঝোতা স্বারক কার্যকরভাবে, দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা উচিত উভয় পক্ষের। সূত্র: মিয়ানমার টাইমস একে//

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক প্যানেল তৈরি

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথ তৈরির প্রক্রিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে মিয়ানমারে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে ভোটাভুটির মাধ্যমে এই প্যানেল তৈরির প্রস্তাব পাস হয়। ৪৭ সদস্যের এই কমিশনে প্রস্তাবের পক্ষে ৩৫ এবং বিপক্ষে তিন ভোট পড়ে। সাত সদস্য দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। আন্তর্জাতিক এই প্যানেল রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি করতে মামলার নথি তৈরির কাজও এই প্যানেল এগিয়ে নেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির আনা ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভোট দেয় কেবল  চীন, ফিলিপাইন ও বুরুন্ডি।   সূত্র: পার্সটুডে। এমএইচ/ এসএইচ/

কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন সু চি

কানাডার পার্লামেন্টে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চির সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছে। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার প্রতিক্রিয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নিল কানাডার পার্লামেন্ট। মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সু চির ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছিলেন। গত মাসে প্রকাশিত এক জাতিসংঘ প্রতিবেদনে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির শীর্ষ ছয়জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিচার হওয়া দরকার। নির্যাতনের শিকার হয়ে গত এক বছরে দেশ ছেড়ে অন্তত সাত লাখ মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সুচিকে কানাডাতে যে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটি বাতিলে পার্লামেন্ট প্রস্তাব ওঠার আগের দিন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানান, সু চিকে নাগরিকত্বের সম্মান জানানোর প্রয়োজন আর আছে কি-না, তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ কি হবে সে নিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। যদিও, এ পদক্ষেপের কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মানুষের দুর্দশা লাঘব হবে না বলে ট্রুডো উল্লেখ করেছেন। কানাডাতে এ পর্যন্ত মাত্র ছয়জন মানুষকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি অত্যন্ত বিরল এক সম্মান ছিল সু চির জন্য। প্রসঙ্গত, এর আগে অক্সফোর্ডসহ ব্রিটেনের কয়েকটি শহর তাকে দেওয়া সম্মান প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সূত্র: বিবিসি একে//

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ৫৫ শতাংশই শিশু

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রায় ৫৫ শতাংশই শিশু বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় সোমবার ইনভেস্টমেন্ট ফর এডুকেশন অব উইমেন অ্যান্ড গার্ল শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এই আহবান জানান। তিনি জানান, রোহিঙ্গা শিশুদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ১১ হাজার শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে এক লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে মানসিক-সামাজিক সহায়তা এবং মৌলিক জীবনভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নতুন শিক্ষা কেন্দ্র খোলা এবং শিশুদের খেলনা বিতরণের কাজ অব্যাহত রেখেছি। আমাদের মনে রাখতে হবে সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা শিশুরা ভয়ানক অবস্থায় রয়েছে। তাদের বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন। রোহিঙ্গারা কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে বৈষম্যমূলক নীতির শিকার হয়ে আসছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চলাচলের স্বাধীনতা থেকে তারা বঞ্চিত। এমনকি তাদের নাগরিকত্বও কেড়ে নেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এই উদ্বাস্তু এবং বলপূর্বক বিতাড়িত মানুষের বিষয়টি সংবেদনশীল এবং স্পর্শকাতর। তারা হতাশ, নিপীড়িত। সহিংসতা ও অত্যাচারের ভয়ানক অভিজ্ঞতা তারা বহন করছে। এদের মধ্যে অনেকেই নিজের দেশে কয়েক দশক ধরে অত্যাচার ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, সেজন্য ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। বিশ্বজুড়ে চলমান সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার কারণে অনেকেই নিজের দেশ থেকে উৎখাত হচ্ছে। সাড়ে ছয় কোটির বেশি মানুষ নিজের ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছে এবং প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে। এদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। / এআর /

রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করল কানাডা

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে ঘোষণা করতে সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছেন কানাডার আইনপ্রণেতারা। আর এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তথ্য-উপাত্তে অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির হাউস অব কমনস সদস্যরা। জাতিসংঘের গবেষকরা জানাচ্ছেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সেই অপরাধকে সমর্থন করেছেন। এ দিকে, কানাডার আইনপ্রণেতারা বলছেন যে তারা দেখতে পেয়েছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা গণহত্যা। তাই এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তারা। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ন্যায়বিচার পান আর অপরাধীরা যাতে জবাবদিহিতার আওতায় আসে, সে জন্য একটি আন্তর্জাতিক চেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছি আমরা। আর এই সর্বসম্মত ভোট সেই চেষ্টারই একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় ‘বিদ্রোহীদের’ হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। এ ঘটনায় দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, গুমসহ আরও বেশকিছু অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল। গত এক বছরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। একে//

সু চি’র জগন্য আচরণে হতাশ আনোয়ার ইব্রাহিম  

মালয়েশিয়ার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র আচরণে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। হংকং-এ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি সু চি’র আচরণে তিনি মর্মাহত। এ ধরনের আচরণকে `জঘন্য` আখ্যা দিয়েছেন আনোয়ার।    মিয়ানমার সেনাবাহিনী গত বছরের আগস্টে রাখাইনে পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা শুরু করে রোহিঙ্গাদের ওপর। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। একে গণহত্যার শামিল বলেছে জাতিসংঘ। মিয়ানমারে সেনা অভিযানের বিষয়ে নীরব থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে পড়েন দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। ওই নীরবতার অভিযোগে এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন তাকে দেওয়া সম্মাননা বাতিল করেছে। ভাগাভাগি করে প্রধানমন্ত্রিত্ব করাজনিত সমঝোতার অংশ হিসেবে এক দুই বছরের মধ্যেই আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) হংকংয়ে ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন আনোয়ার। সেসময় রোহিঙ্গা প্রশ্নে সু চি’র নীরব ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। আনোয়ার বলেন, ‘এসব দিনগুলোতে সু চি’র আচরণে আমি মর্মাহত হয়েছি। বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান নির্বিশেষে সবাই তাকে সমর্থন দিয়েছে। তাহলে কেন তিনি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে দেখেও না দেখার ভান করছেন?’ রোহিঙ্গা প্রশ্নে সু চি’র আচরণকে ‘জঘন্য`’ আখ্যা দেওয়াটাকে সবচেয়ে যথার্থ বলে মনে করেন আনোয়ার। ‘হত্যা বন্ধ কর’ এতোটুকু বলার জন্যও সু চি প্রস্তুত ছিলেন না উল্লেখ করে আক্ষেপ জানান মালয়েশিয়ার এ হবু প্রধানমন্ত্রী। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চিকে এভাবে আক্রমণ করে কথা বলাটা তার প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের ব্যক্তিগত অভিমানেরই বহিঃপ্রকাশ। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে তাদের দুজনের মিল ছিল। এশিয়ার খ্যাতনামা রাজবন্দিদের মধ্যে তারা দুইজনও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বার বারই তারা দেশের সরকার পক্ষের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। এ বছর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন আনোয়ার। নাজিব রাজাকের দল বারিসান ন্যাশনালের ছয় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে আনোয়ার ও মাহাথিরের জোট ক্ষমতায় আসার পর গত মে মাসে মুক্তি পান তিনি। ২০১২ সালে একটি নির্বাচনে জয় পাওয়ার জন্য সু চিকে অভিবাদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন আনোয়ারের স্ত্রী ও মালয়েশিয়ার বর্তমান উপ প্রধানমন্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কাজ করার জন্য সু চি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। ব্লুমবার্গ জানায়, সু চি সম্পর্কে আনোয়ার ইব্রাহিমের মন্তব্য নিয়ে তার মুখপাত্র জ হটে’র সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। এসি    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি