ঢাকা, ২০১৯-০৪-১৯ ১২:৪১:৪৪, শুক্রবার

ভারতের নির্বাচন: হোয়াটসঅ্যাপে ফেক নিউজের ঝড়

ভারতের নির্বাচন: হোয়াটসঅ্যাপে ফেক নিউজের ঝড়

হোয়াটসঅ্যাপ ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের প্রবল সমালোচনা হচ্ছে কারণ ভারতের সাধারণ নির্বাচনের আগে এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে নানা ধরনের মিথ্যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
আরও ৯২০ মিলিয়ন ডলার তহবিল চাইল জাতিসংঘ

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নয় লাখের অধিক রোহিঙ্গা এবং ৩ লাখ ৩০ হাজারের অধিক স্থানীয় বাংলাদেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা এ সমস্ত লোকজনের চাহিদা পূরণে জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা ও এনজিও অংশীদারগুলো ৯২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহের আবেদন জানিয়েছে। শুক্রবার জাতিসংঘ সংস্থা ও সহযোগী এনজিওগুলো যৌথভাবে তৃতীয়বারের মতো রোহিঙ্গাদের জন্য যৌথ সহায়তা পরিকল্পনা ২০১৯ ঘোষণা করেছে। নতুন পরিকল্পনায় জাতিসংঘ সংস্থাগুলোসহ মোট ১৩২টি সংস্থা কাজ করবে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) শুক্রবার জেনেভা থেকে এ বিষয়ে একটি যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, এ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের অর্ধেকের বেশি দরকার হবে খাদ্য, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও আশ্রয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য ও সেবায়। তহবিল আবেদনে আরও রয়েছে- স্বাস্থ্য, এলাকা ব্যবস্থাপনা, শিশুসহ অন্যদের রক্ষা, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধ, শিক্ষা ও পুষ্টি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক অ্যান্তোনিও ভিটোরিনো বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের একাত্মতা ও মানবিক সাহায্যকারীদের অঙ্গীকার ২০১৮ সালে প্রথম জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব করেছে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে আমরা এসব জনগোষ্ঠীর ভীষণ প্রয়োজনগুলো পূরণে আমাদের প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি করছি এবং এ প্রচেষ্টায় সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।’ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিও এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থাসহ মোট ১৩২ অংশীদারকে সাথে নিয়ে এ যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। যার লক্ষ্য হলো উদ্বাস্তু নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা দেয়া এবং সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধি করা। ২০১৮ সালের জেআরপি তহবিলে চাহিদা ছিল ৯৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিপরীতে পাওয়া যায় ৬৯ শতাংশ বা ৬৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এছাড়া আগে থেকে দুই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এখন কক্সবাজারে

মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি বেসরকারি বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এরপর সরাসরি কক্সবাজারের ইনানীতে অবস্থানরত একটি তারকামানের হোটেলে অবস্থান করছেন। পরে দুপুর ২টার দিকে টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। সেখানে নির্যাতিত ও ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলবে এবং ভয়াবহ নির্যাতনের কাহিনী শুনবেন। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত হিসেবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসেছেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা শুনে ঢাকায় আসার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এ হলিউড অভিনেত্রী। সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, জোলি যৌন নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা নারীদের দেখতে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করছেন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে প্রাণ ভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার শিবিরগুলোতে এখন দিন কাটছে তাদের। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন কারণে এর আগে অন্তত চারবার অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বাংলাদেশ সফর বাতিল করা হয়। গত বছরের ২১ মে জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন বলিউড অভিনেত্রী, সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনি টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর মনখালী ব্রিজের পাশে অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরের শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং এক্সেটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। সেখানে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি ‘ইউএনসিআর’ ব্রাক, রিলিফ ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা করার কথা রয়েছে। এছাড়াও ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও এনজিও পরিচালিত স্বাস্থ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। একে//

‘রোহিঙ্গারা শিগগিরই ফিরবে না’

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা শিগগিরই ফিরবে না বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত (স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার) ইয়াংহি লি। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা উপস্থিতির প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। এক সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশে এসে ইয়াংহি লি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার কোনও উদ্যোগই নেয়নি। বরং সহিংসতাকে উসকে দিয়েছে। রাখাইন রাজ্যে অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতেও মিয়ানমার নীরবে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়াংহি লি বলেন, নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই সংঘাত-সহিংসতা বাড়ছে। অনেক স্থানে নতুন করে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। মিয়ানমারকে কোনোভাবেই এখন আর গণতান্ত্রিক দেশ বলা যায় না। বেসামরিক সরকার সেখানে সামরিক সরকারের নীতিই সুসংহত করছে। জাতিসংঘ, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছেন ইয়াংহি লি। বলেন, গণহত্যার মতো অপরাধ ‘আর কখনো না’- এ কথা অনেকবার বলা হলেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও তাগিদ দেন তিনি। এ ছাড়া, রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন না করতেও তিনি পরামর্শ দেন।

একতরফাভাবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নয়: উ.কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরমাণু হুমকি দূর না হলে পিয়ংইয়ং কখনো একতরফাভাবে নিজের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বাতিল করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে উ.কোরিয়া। দু দেশের মধ্যে যখন পরমাণু আলোচনা এবং উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে তখন পিয়ংইয়ং একথা বলল। উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের অর্থ হচ্ছে পিয়ংইয়ংসহ প্রতিবেশী সব দেশের জন্য আমেরিকার পরমাণু হুমকি সম্পূর্ণভাবে দূর হতে হবে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘যখন আমরা কোরীয় উপদ্বীপ বলি তখন গণপ্রজাতন্ত্রী উত্তর কোরিয়াসহ দক্ষিণ কোরিয়াকে বুঝিয়ে থাকি যেখানে মার্কিন পরমাণু অস্ত্র এবং নানা আকারে আগ্রাসী সেনা মোতায়েন রয়েছে।’ কেসিএনএ প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যখন আমরা কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কথা বলি তখন যথাযথভাবে বুঝতে হবে যে, শুধু উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নয় বরং আশপাশের সব এলাকা থেকে সে হুমকি দূর করার কথা বলি।’ তথ্যসূত্র:পার্সটুডে এমএইচ/

পাঁচ শতাধিক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল ফেসবুক

রোহিঙ্গাবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানো এবং বার্মিজ সেনাবাহিনীর গোপন যোগজাসশ থাকার দায়ে ফেসবুক মিয়ানমারের শতাধিক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। বুধবার ফেইসবুক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মোট ৪২৫ টি পেজ, ১৭ টি গ্রুপ, ১৩৫টি অ্যাকাউন্ট এবং ১৫টি ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে করে দেওয়া হয়েছে। এই পেইজগুলো সাধারণত খবর, বিনোদন, রূপচর্চা ও লাইফস্টাইলভিত্তিক ছিল। কিন্তু এগুলোর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো এবং দেশটির সেনাবাহিনীর সাথে গোপন যোগসাজশ রাখার অভিযোগ রয়েছে।   এর আগে গত আগস্ট ও অক্টোবরেও রোহিঙ্গাবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে অনেক অ্যাকাউন্ট ও পেজ ডিলিট করে দেওয়া হয়। তথ্যসূত্র: রয়টার্স এমএইচ/

সু চির আরও এক পুরস্কার প্রত্যাহার

একের পর এক আন্তর্জাতিক পুরস্কার হারাচ্ছেন মিয়ানামারের নেত্রী অং সান ‍সুচি। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার মানবাধিকার সংগঠন গাওয়াংঝু হিউম্যান রাইটস-এর পুরস্কার হরালেন তিনি। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ পুরস্কার প্রত্যাহার করা হয়েছে।  সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতনের ব্যাপারে তার উদাসীনতার কারণে এটি তুলে নিচ্ছে গাওয়াংঝু হিউম্যান রাইটস। ২০০৪ সালে সু চিকে এ পুরস্কার দিয়েছিল সংস্থাটি। সামরিক জান্তার হাতে গৃহবন্দি থাকায় সু চিকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র চো জিন-তায়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার ব্যাপারে তার উদাসীনতা এ পুরস্কারের মূল্যবোধ পরিপন্থী। তাই আমরা এই পুরস্কার প্রত্যাহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এলি উইজেল অ্যাওয়ার্ড, যুক্তরাজ্যের ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড, ফ্রিডম অব গ্লাসগো অ্যাওয়ার্ড, ইউনিসন অ্যাওয়ার্ড, এডিনবার্গ অ্যাওয়ার্ডসহ আরো বেশ কয়েকটি পুরস্কার হারিয়েছেন সু চি। তথ্যসূত্র: এএফপি এমএইচ/

রোহিঙ্গাদের আন্দোলন প্রত্যাহার

বিভিন্ন তথ্যসংবলিত স্মার্ট পরিচয়পত্র প্রণয়নকে কেন্দ্র করে দুই দিন ধরে টেকনাফের হোয়াইক্যং চাকমারকুল ক্যাম্পে চলা প্রতীকী আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে রোহিঙ্গারা। তারা জাতিসংঘ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর কর্তৃক প্রণীত স্মার্টকার্ড নিতে আপত্তি জানিয়ে কার্ডে জাতীয়তার পরিচিতিতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি যুক্ত করার দাবি করে। একই সঙ্গে আরো চার দফা দাবিতে চাকমারকুল ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা গত সোমবার থেকে প্রতীকী আন্দোলন শুরু করে। এ সময় তারা ক্যাম্পের দোকানপাট বন্ধ রেখে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান নেয়। টেকনাফ চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রোহিঙ্গারা স্মার্ট পরিচয়পত্রে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি না থাকায় আপত্তি তুলেছিল। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। দুই দিন ধরে চলা রোহিঙ্গাদের প্রতীকী আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ক্যাম্পের সিআইসি মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া। এ সময় রোহিঙ্গারা তার কাছে ইউএনএইচসিআর কর্তৃক নতুন করে প্রস্তুত করা স্মার্ট পরিচিতিপত্রে জাতীয়তায় রোহিঙ্গা উল্লেখ না করার বিষয়টি তুলে ধরেন। ক্যাম্প সিআইসি রোহিঙ্গাদের দাবির বিষয়ে শিগগিরই সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে রোহিঙ্গারা আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এর আগে রোহিঙ্গারা আজ বুধবার পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। আরকে//

মিয়ানমারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তীব্র প্রতিবাদ

রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। রাখাইন প্রদেশের সিটুই শহরে শত শত বৌদ্ধ ভিক্ষু সেদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে আসতে দেয়া না হয়।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফিরে আসার মধ্যে মিয়ানমারের কোনো স্বার্থ নেই। মিয়ানমারের উগ্র এই বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে সেদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করে না।এদিকে গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা সমাবেশ করে বলেছে তারা নাগরিকত্ব না পেলে মিয়ানমারে ফিরে যাবে না।বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের চুক্তি অনুযায়ী নভেম্বরের শেষ নাগাদ কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া ২ হাজার ২শ ৬০ জন রোহিঙ্গা মুসলমানের ফিরে যাবার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার দিন দশেক আগেই ওই পরিকল্পনা স্থগিত করেছে।২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সেদেশের উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর পাশবিক হামলা চালায়। তাদের ওই হামলায় অন্তত ৬ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয় এবং আহত হয় ৮ হাজারেরও বেশি। দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান বাস্তুভিটা হারিয়ে শরণার্থীতে পরিণত হয়।সূত্র : পার্সটুডেএসএ/  

রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যু তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল

রোহিঙ্গা নিধন ও নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল। সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। জড়িতদের বিচারে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে যুক্ত করার পরামর্শ দেয় সদস্য দেশগুলো। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে তৃতীয় কমিটির বৈঠকে আবারও উঠে আসে রোহিঙ্গা সংকট। রাখাইনে হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানায় সদস্য দেশগুলো। এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় না আনায়, ক্ষোভ জানায় যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্কসহ কয়েকটি রাষ্ট্র। বৈঠকে মানবাধিকার লংঘনের দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পূর্ণ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। এ ব্যাপারে মানবাধিকার কাউন্সিলকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে যুক্ত করার ওপর জোর দেয় সদস্য দেশগুলো। ভোটাভুটিতে ১৪২টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে, ১০টি বিপক্ষে, আর ২৬টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। প্রস্তাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার পক্ষে নয় জাতিসংঘ। এমএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি