ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭

বৈরুতে ব্যাপক সংঘর্ষে আহত কয়েকশ, নির্বাচনের ডাক

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:২৭ এএম, ৯ আগস্ট ২০২০ রবিবার

বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকেই উত্তাল লেবাননের রাজপথ। স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিক্ষোভকারীরা। যেখানে অন্তত ৭২৮ জন আহত হয়েছেন। 

কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজ জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাস বিস্ফোরণে হতাহতের জন্য সরকারকে দায়ী করে আসছে দেশটির জনসাধারণের একটি অংশ। তারা সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়ে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বৈরুতের রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নেমে পড়েন। 

এতে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ছুড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরাদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

এমন পরিস্থিতিতে লেবানের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়া শিগগিরই নির্বাচনের আহ্বান করবেন জানিয়ে বলেন, ‘দেশের চলমান সংকটাবস্থা থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো এই নির্বাচন।’ 

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এক সামরিক প্রসিকিউটর জানায়, এই দুর্ঘটনার জরুরি তদন্তের স্বার্থে বৈরুত বন্দরের ১৯ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। 

এর আগে সামরিক প্রসিকিউটর ফাদি আকিকি এক বিবৃতিতে জানান, বৈরুত বন্দরের ১৮ জন স্টাফকে তদন্তের কাজে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে আনা হয়। এদের মধ্যে ১৬ জন এখনও নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। তদন্তের কাজেই তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আকিকি আরও বলেন, আটক হওয়াদের মধ্যে বন্দর ও কাস্টমসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মী এবং ব্যবস্থাপক রয়েছেন। এর আগে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ী সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গৃহবন্দী করার নির্দেশ দেয় দেশটির সরকার।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী দিয়াব বলেছিলেন, ‘বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের মাশুল গুণতে হবে। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যারা মানুষকে হত্যা করেছে এবং কয়েক হাজার মানুষকে আহত করেছে তাদের সবার বিচার করা হবে।’

গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকায় ছয় বছর ধরে একটি ওয়্যারহাউজে সংরক্ষিত ২ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ১৫৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়েছে ৬ সহস্রাধিক। আতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। ফলে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।  

এআই/এমবি