ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৬ ১৪২৭

করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:৪৯ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার | আপডেট: ১১:৩২ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার

গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালের চেয়ে আজ ২২ জন কম মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৩ জন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৮২৩ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গতকালও মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ হাজার ৩৬০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৬১৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ১০৯ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১৪ হাজার ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৭২৪ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার দশমিক ১৮ শতাংশ কম।

দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ১০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ১৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৩৭৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৯ জন।

আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৭২ দশমিক ০১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ২৫৮ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৪৮ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ৩৯০টি নমুনা কম সংগ্রহ হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৯৪টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬০ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ৫০ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৬৯০টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত শনাক্ত ২০১২ দশমিক ০৮ জন। সুস্থ হয়েছেন প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত ১৪৫৬ দশমিক ০২ জন এবং প্রতি ১০ লাখে মারা গেছেন এ পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৩২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘন্টায মৃত্যুবরণকারী ২১ জনের মধ্যে পুরুষ ১৬ জন, আর নারী ৫ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ হাজার ৭৬০ জন, আর নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৬৩ জন; শতকরা হিসেবে পুরুষ ৭৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ, আর নারী ২২ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২৪ ঘন্টায় ২০ জন হাসপাতালে ও ১ জন বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন এবং ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ১০ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২১ জন; যা দশমিক ৪৪ শতংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪১ জন; যা দশমিক ৮৫ শতাংশ। ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১১০ জন; যা ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২৮৬ জন; যা ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৬২৫ জন; যা ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন; যা ২৭ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের রয়েছেন ২ হাজার ৪২৭ জন; যা ৫০ দশমিক ৩২ শতাংশ।

মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘন্টায় ঢাকা বিভাগে ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে ১ জন করে এবং খুলনা বিভাগে ৪ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ২ হাজার ৩৪৯ জন; যা ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১৩ জন; যা ২১ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ৩২৪ জন; যা ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। খুলনা বিভাগে ৪১০ জন; যা ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ১৮০ জন; যা ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ২১৭ জন; যা ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। রংপুর বিভাগে ২২৮ জন; যা ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০২ জন; যা ২ দশমিক ১১ শতাংশ।

ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ১০৭টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৯৪ জন ও শয্যা খালি আছে ৪ হাজার ২১৩টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩০৭টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি রোগী আছে ১৯৫ জন ও শয্যা খালি আছে ১১২টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭৮২টি, ভর্তিকৃত রোগী ১৭০ জন ও শয্যা খালি আছে ৬১২টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৮ জন ও শয্যা খালি আছে ২১টি। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭ হাজার ৩৮৬টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগী ১ হাজার ৪৬ জন ও শয্যা খালি আছে ৬ হাজার ৩৪০টি এবং আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২০১টি ও আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৮৮ জন ও শয্যা খালি আছে ১১৩টি । সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ২৭৫টি, রোগী ভর্তি আছে ৩ হাজার ১১০ জন এবং শয্যা খালি আছে ১১ হাজার ১৬৫টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫৪৭টি, রোগী ভর্তি আছে ৩০১ জন এবং খালি আছে ২৪৬টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১৩ হাজার ১টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ৫২৫টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৩৪১টি।

০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে। এছাড়া www.dghs.gov.bd এর CORONA কর্ণারে ‘করোনা বিষয়ক অভিযোগ প্রেরণ’ লিঙ্ক অথবা http:/app.dghs.gov.bd/covid19-complain লিঙ্ক ব্যবহার করে করোনা বিষয়ক যেকোন অভিযোগ পাঠানো যাবে।

গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হওয়া ২ হাজার ৩৭৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ৯৩৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৭১ জন, রংপুর বিভাগে ১৪৮ জন, খুলনা বিভাগে ২৭৯ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৯৫ জন, সিলেট বিভাগে ১৬৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৩১২ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৫৯৬ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৮০৯ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৬০ হাজার ৪৮৯ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৭ হাজার ৩২০ জন।

গত ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭০ জন, আর কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ২৫৪ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ১৯ হাজার ২০৭ জন, আর এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৪ লাখ ৭০ হাজার ৯৬১ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৮ হাজার ২৪৬ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৭ হাজার ১৩৩টি, ৩৩৩ এই নম্বরে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৫০টি এবং আইইডিসিআর’র হটলাইন ১০৬৫৫, এই নম্বরে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ২৫৯টি। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৫১ হাজার ৪৪২টি। এ পর্যন্ত হটলাইনে ফোনকল এসেছে ২ কোটি ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৫টি।

করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৯৮ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় কোভিড বিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ১২৩ জন। এ পর্যন্ত শুধু কোভিড বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৪ জন। প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্য তথ্যকর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৪ হাজার ৬৪৮ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৮ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৯৪ হাজার ৮৭১ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৮১ জন এবং ৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

এমবি/এনএস/