চালক সংকটে হাওরের নৌ-এ্যাম্বুলেন্স (ভিডিও)
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:১১ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ রবিবার
নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার নৌ-অ্যাম্বুলেন্স কোনো কাজে আসছে না। চালক না থাকায় দুই বছরে একজন রোগীও পরিবহন করা হয়নি জলযানটি দিয়ে। ফলে এটি অযত্ন, অবহেলায় অচল পড়ে আছে নৌঘাটে। এজন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দুষছেন হাওরাঞ্চলের মানুষ।
বিচ্ছিন্ন হাওর দ্বীপ খালিয়াজুরী। এক লাখের বেশি জনবসতি অধ্যুষিত এই উপজেলা বছরের ছয় মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এই সময়টাতে জেলা সদরের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ থাকে বিচ্ছিন্ন।
২০১৭ সালে আগাম বন্যায় বছরের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর হাওরাঞ্চলের খালিয়াজুরী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাওরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে পরের বছর একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু চালকের অভাবে দু’বছরে একজন রোগীও বহন করতে পারেনি অ্যাম্বুলেন্সটি।
এলাকাবাসী জানান, প্রসূতি মায়ের চিকিৎসার্থে মূলত অ্যাম্বুলেন্সটি দেওয়া হয়েছিল। ২০ থেকে ২৫ জন গর্ভবতী মহিলা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে। হতদরিদ্র যারা আছে তারা যাতে বিনাখরচায় সরকারি সাহায্যে রোগী নিয়ে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
অচল পড়ে থাকায় বিকল হওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সটি। অথচ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় খালিয়াজুরীর বেশিরভাগ রোগীকে জেলা সদর বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়।
ভুক্তভোগী মানুষরা জানান, হাসপাতালে বড় জোড় একজন ডাক্তার থাকে, গেলে ওষুধ পাওয়া যায় না, ডাক্তারও পাওয়া যায় না। একটি এক্স-রে মেশিন আছে এটি জন্ম থেকেই তালাবদ্ধ এবং একটি অপারেশন থিয়েটার আছে, এটি কোনদিন খুলে দেখা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি বার বার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক সভায় উত্থাপন করা হয়েছে।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি যে দ্রুত সময়ের মধ্যে যে কোন একজন ড্রাইভার এখানে নিয়োগ দেওয়া হবে।
দুর্গম হাওরের স্বাস্থ্যসেবা বিবেচনায় নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগের দাবি খালিয়াজুরীবাসীর।
এএইচ/এসএ/
