আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:০৮ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ রবিবার
কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নওগাঁ’র প্রধান দু’টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মান্দা উপজেলায় কসব ইউনিয়নে বনপুরা নামকস্থানে আত্রাই নদীর ডানতীরের বেড়িবাঁধ রোববার সকালে নতন করে ভেঙ্গে গেছে। এতে মান্দা উপজেলার কসব, নুরুল্যাবাদ ও বিষ্ণপুর ইউনিয়নসহ আত্রাই উপজেলা এবং পাশের রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া প্রথম দফায় বন্যায় আত্রাই নদীর ৫টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে মান্দা ও আত্রাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। ভাঙ্গা বাঁধ মেরামতের আগেই তৃতীয় দফায় বন্যায় বাধেঁর ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে মান্দা ও আত্রাই উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার রোপা আমনের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ উজ্জামান খান জানিয়েছেন আত্রাই নদীর পানি ৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর ধামইরহাটে শিমুলতলী পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার, মান্দার জোতবাজার পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলষ্টেশন পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে নওগাঁ ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদসীম্রা ২৪ সিন্টমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে ৪৯ মিলিমিটার।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম জানিয়েছেন পূর্বের ৩টি স্থানে যে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড সেগুলোর মেরামতের কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু মাটির অভাবে মেরামত কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে আবারও সেসব স্থান দিয়ে পানি জনপদে ঢুকতে শুরু করেছে। এর উপর নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এখনও কেউ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়গ্রহণ করেননি।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সানাউল ইসলাম জানিয়েছেন, বিগত বন্যায় এই উপজেলায় আত্রাই নদীর মোট ৪টি পয়েন্টে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছিল। এর মধ্যে শিকারপুর, ভাঙ্গাজাঙ্গাল ও মালিপুকুর এই ৩টি স্থানে মেরামত করা হলেও আহসানগঞ্জ-এর নিকটে জাত আমরুল নামক স্থানের বড় ভাঙ্গনটি মেরামত কাজ চলছিল। কিন্তু মেরামত কাজ শেষ না হতেই পুনরায় টানা ভারী বর্ষণ এং উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে পুনরায় ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে নদীর পানি জনপদে প্রবেশ করেছে। এর ফলে আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ, পাঁচুপুর এবং নাটোর জেলার খাজুরা এবং নলডাঙ্গা’র বিশাল এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ফসল এবং বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কেআই//
