ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ১৮ ১৪৩২

স্থাপনায় স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম (ভিডিও)

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:২০ পিএম, ৩ ডিসেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

এখনো দেশের অনেক স্থাপনায় স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম রয়ে গেছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে ফেলতে হাইকোর্টের আদেশ আট বছরেও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলছেন রিটকারী অধ্যাপক মুনতাসির মামুন। এ অবস্থায় এ ধরনের ঐতিহাসিক আদেশ বাস্তবায়নে মনিটরিং কমিটি করার তাগিদ দেন তিনি।

ঝিনাইদহের কোর্টচাঁদপুর উপজেলায় রাজাকার মুনছুর আলীর নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও  বিদ্যালয়টি থেকে মুছেনি এই স্বাধীনতাবিরোধীর নাম। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রাজাকার এনাম ইউসুফের নামেও রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একইরকমভাবে সারাদেশে ২৩টি স্থাপনার নাম স্বাধীনতাবিরোধীদের নামানুসারে।

স্থাপনা, সড়ক, অবকাঠামো থেকে রাজাকার, আল-বদরদের নাম মুছে ফেলতে ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন ও সাংবাদিক, লেখক শাহরিয়ার কবীর।

আবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে খুলনার খানএ সবুর রোড এবং কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান মিলনায়তনের কথা উল্লেখ করা হয়। ২০১৫ সালে অবশ্য এ দুটি নাম পরিবর্তন করা হয়। 

রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১৬ সালে ২০ জন স্বাধীনতাবিরোধীর নাম সম্বলিত একটি তালিকা যুক্ত করে সম্পূরক এক আবেদন করা হলে হাইকোর্ট ৬০ দিনের মধ্যে রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

রিটকারীর আইনজীবী একে রাশিদুল হক বলেন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ বলেছে যে ২৩টি স্থাপনায় স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম রয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে এখন পর্যন্ত কোর্টে দাখিল করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

নির্দেশ দেওয়ার ৬০ দিন পেরুলেও ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিবাদীরা হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদন দেখে হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সবশেষে ৯০ দিনের সময়সীমা বেধে দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি রায়।

ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত বলেন, এই নির্দেশনাটা এসেছিল জানুয়ারি মাসের দিকে এবং তারপরই যেহেতু করোনা শুরু হয়ে গিয়েছিল যে কারণে এটি শুনানীতে পরবর্তীতে আসেনি।

রিটকারীর আইনজীবী আরও বলেন, যেহেতু সরকার এখন পর্যন্ত আমাদেরকে কোন অভিযোগের কপি দেয়নি, সে কারণে আমরা এখন পর্যন্ত বুঝতে পারছি না যে কতগুলো পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে এবং কতগুলো করতে পারেনি।

এ ধরনের রায় বাস্তবায়নের মনিটরিংয়ের কথা বললেন এই ইতিহাসবিদ।

রিটকারী ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, আমরা রিট করি, আদেশ হয় কিন্তু কার্যকর হয় কিনা সে সম্পর্কে হাইকোর্টের কোন মনিটরিং বিভাগ নেই, আমরাও পারি নাই।

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, কোর্টের মনিটরিংয়ের কোন সুযোগ নেই, বাদীপক্ষকেই এই দায়িত্বটা নিতে হয় সব সময়। ওনারা কোর্টে দরখাস্ত করতে পারেন অথবা ওনারা সরকারকে বলতে পারেন।

দ্রুত হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান তিনি।

এএইচ/এসএ/