ঢাকা, সোমবার   ১৯ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৫ ১৪২৮

রুনুর সাহসিকতায় দেশবাসীর আস্থা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:২১ এএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১১:২৪ এএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার

রুনু ভেরোনিকা কস্তা। রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স। দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম টিকা নিয়ে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হলেন তিনি। 

বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরই ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নেন রুনু ভেরোনিকা কোস্তা। টিকা নেওয়ার এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি নার্স রুনুকে সাহস ও উৎসাহ জোগান।

টিকা নেওয়ার আগ মুহূর্তে রুনুকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভয় পাচ্ছ না তো!’

জবাবে রুনু বলেন, ‘না।’

টিকা নেওয়ার পরপরই নার্স রুনু বলে ওঠেন, ‘জয় বাংলা’।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমি প্রথম টিকা নিয়ে অনেক আনন্দ অনুভব করছি। এর মাধ্যমে একটি ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি।’

রুনু বলেন, ‘আমি সুস্থ আছি। দেশবাসীকে করোনার টিকা নিতে অনুরোধ জানাচ্ছি। এই টিকা নেয়ার মধ্য দিয়ে দেশ করোনামুক্ত হবে।’

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এ সেবিকা বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমার একটাই অনুরোধ, আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি যেমন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছি, দেশের জনগণও যাতে আস্থা পায়; আস্থা পেয়েই ভ্যাকসিন গ্রহণ করে। সবাই যাতে এই ভ্যাকসিন নেয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়, এটাই আমার চাওয়া।’

রুনু ভেরোনিকা কস্তা বলেন, ‘দেশে যখন করোনাভাইরাস আসে, তখনই মনে হয়েছে, এটা একটা যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এতদিন ধরে অনেকটা জয়ী হয়ে আসতে পেরেছি। এখন আমরা আরেকটি আশা দেখতে পেলাম, সেটা হলো ভ্যাকসিন।’ 

কে এই রুনু ভেরোনিকা কস্তা :
গাজীপুরের মেয়ে রুনু ভেরোনিকা কস্তা টাঙ্গাইলের কুমুদিনী নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে ২০০২ সালে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসাবে কাজ করার পর ২০১৩ সালে যোগ দেন ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে।

স্বামী ও দু’টি সন্তান নিয়ে তার পরিবার।

উল্লেখ্য, এদিকে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও টিকাদানের সার্বিক অভিজ্ঞতা যাচাই করতে রাজধানীর পাঁচ হাসপাতালে আজ শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগ। 

জানা গেছে, ভ্যাক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সার্বিক অভিজ্ঞতা যাচাই করতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক টিকাদান কর্মসূচি। রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ আরো চারটি হাসপাতালে চলবে এই কার্যক্রম। এসব হাসপাতালের ৪০০ থেকে ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে এক যোগে দেয়া হবে টিকা। এসব পর্যবেক্ষণ করে এক সপ্তাহ পর আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী টিকা প্রয়োগ শুরু করবে সরকার। 

এরই মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হয়। 

এর আগে গতকাল নানা শ্রেণি-পেশার ২৬ জনের দেহে সফলতার সাথে প্রয়োগ করা হয়েছে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের তৈরি টিকা। এখন পর্যন্ত তাদের শরীরে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
এসএ/