লকডাউনের খবরে হিলিতে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৯:২২ পিএম, ৪ এপ্রিল ২০২১ রবিবার
সোমবার থেকে সারাদেশে লকডাউনের খবরে দিনাজপুরের হিলি বাজারে বিভিন্ন পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের হিড়িক পড়েছে। বাজারে বিভিন্ন দোকানে মানুষজনের উপচে পরা ভিড়, মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। বাড়তি চাহিদার কারণে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা করে। একইভাবে অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েছে। এদিকে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিন্ম আয়ের মানুষজন।
রোববার সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বিভিন্ন দোকানে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দোকানগুলোতে মানুষের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৯ থেকে ২০ টাকা বিক্রি হলেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আজ তা বেড়ে ২৪/২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য পণ্যের দাম ও বেড়েছে।
হিলি বাজারে পণ্য কিনতে আসা গৃহবধূ নাজমা বেগম বলেন, গতবছর লকডাউনের কারণে যে অবস্থা দাঁড়িয়েছিল আবার সেই লকডাউন দিলো তাতে গরীব মানুষরা কি করে খাবে। পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, চালসহ অন্যান্যসব জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে এতে কি করে খাবে গরীব মানুষ। কালকেই ছিল ২০ টাকা কেজি আজকেই ২৫ টাকা কেজি আগামীকাল যে বাড়বে না তার কোন হিসেব আছে। এতো যে দাম বেশি নিচ্ছে সরকার কিছু করছে না এটি তো উচিৎ হচ্ছে না। যারা বড়লোক তারা বড়লোক হচ্ছে আর গরীবরা গরীবই থাকছে, গরীবের কষ্ট হচ্ছে।
পণ্য কিনতে আসা শরিফুল ইসলাম ও সিদ্দিক হোসেন বলেন, দাম যদি এভাবে বাড়ে তাহলে আমাদের মতো গরীব মানুষজনের কেনাকাটা করা বেশ অসুবিধা। গতকালকে যে পিয়াজ কিনলাম ২০ টাকা একদিনেই তা বেড়ে ২৫/২৬ টাকা হয়ে গেলো। লকডাউন না আসতেই যদি জিনিসপত্রের দাম এভাবে বেশি হয় তাহলে আমরা চলবো কিভাবে। এর উপর সামনে রমজান যার কারণে কিনতে আসে বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা সাদ্দাম হোসেন ও আব্বাস আলী বলেন, বন্দর দিয়ে যেখানে প্রতিদিন ২০/২৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয় সেখানে গতকাল বন্দর দিয়ে মাত্র ১ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর উপর সোমবার থেকে সাতদিনের লকডাউনের ঘোষণার কারণে মানুষজন বেশি বেশি করে পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য কেনায় বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে যার কারণে সরবরাহ কম থাকায় পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা বাড়ছে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, গত ২৯ মার্চ ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দোলযাত্রা বা হোলির কারণে ভারতের বিভিন্ন পেঁয়াজের মোকামগুলোতে পেঁয়াজের লোডিং বন্ধ ছিল। যার কারণে ভারতের অভ্যন্তরে কোন পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক না থাকায় গতকাল বন্দর দিয়ে মাত্র ১ ট্রাক পেঁয়াজ ভারত থেকে দেশে আমদানি হয়েছে। এতে করে সরবরাহ কমায় বন্দরে পেঁয়াজের বাজার আগের দিনের চেয়ে একটু বেড়েছে। আগের দিন ১৯/২০ টাকা বিক্রি হলেও তা বেড়ে ২২ টাকা বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে মোকামগুলোতে পেঁয়াজ লোডিং শুরু হয়েছে তাতে করে আজ থেকে পেঁয়াজের আমদানি কিছুটা বাড়বে এতে দাম কমে আসবে বলেও জানান তিনি।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, লকডাউনের খবরে কেউ যেন পণ্যের দাম বৃদ্ধি করতে না পারেন সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দকে বিক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ের চালান ও কি দামে বিক্রয় করছে সেটি দেখার নির্দেশনা দিয়েছি। এরপরেও বিকেলে বাজার মনিটরিং করতে যাবো কেউ যদি অস্বাভাবিক মূল্য নেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেআই//
