ঢাকা, শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৪ ১৪৩২

হুমকির মুখে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার পাদুকা শিল্প (ভিডিও)

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০২:২২ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২১ সোমবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাদুকা শিল্প এখন হুমকীর মুখে। করোনার প্রভাব ও প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় এখন টিকে থাকতেই  হিমশিম খাচ্ছে এর সাথে জড়িতরা। কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, করোনার প্রভাবে গত বছর তাদের ব্যবসা ভাল যায়নি। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুন করে প্রস্তুতি নিলেও আবারও লকডাউনের কারণে এ শিল্পের সাথে জড়িতরা এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।

১৯৬৩ সাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাদুকা শিল্পের সূচনা। প্রতিবছর রোজার শুরু থেকে কোরবানীর ঈদ পর্যন্ত সময়টায় জেলার পাদুকা কারখানাগুলো হয়ে উঠে কর্মচঞ্চল। সংশ্লিষ্টরা জানান, গেল বছরও করোনার প্রভাবে ব্যবসা ভাল যায়নি। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠার অগেই আবারও নতুন করে লকডাউন দেয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে তারা।

বর্তমানে কারখানা চালু থাকলেও লকডাউনের জন্য বন্ধ রয়েছে দোকান ও শোরুমগুলো। জুতা তৈরির সোল, ফোম, আঠাসহ সব ধরনের উপকরণের দামও বেড়েছে। এ ছাড়া পাইকার আসতে না পারায় উৎপাদিত জুতা অবিক্রিত রয়ে যাচ্ছে। 

মাত্র কয়েক বছর আগেও জেলায় ৫ শতাধিক পাদুকা কারখানা থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০টিতে। এসব কারখানার মধ্যে ১৬টি অটোমেটিক মেশিন এবং বাকিগুলোতে হাতেই তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভাবছিলাম এবছর ব্যবসা করে গতবছরের অভাব কিছুটা কাটাবো। কিন্তু এবছরও একই অবস্থা। প্রোডাকশন হচ্ছে না, লকডাউনের কারণে মালের দাম বেড়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে পার্টি আসতে পারছে না। এখন থেকে ব্যবসার সময়, ঠিকমতো কাজ করতে না পারলে পরিবার নিয়ে কেমনে চলবো। না খেয়েই মরতে হবে।

এক সময় প্রতিদিন ৫-৭ কোটি টাকার ব্যবসা হলেও প্রতিনিয়তই তা কমছে বললেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাদুকা শিল্প সমিতির সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সিজন আসলে অন্যান্য সময়ে প্রতিদিন ৫-৭ কোটি টাকা আমদানি হতো। এই মুহূর্তে লকডাউনের কারণে আমরা বেশি পিছনে পড়ে যাচ্ছি। যদি সরকার আমাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখে আশা করি, এই শিল্পটা আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টরা তৎপর হবেন এমনটা প্রত্যাশা।
দেখুন ভিডিও :

এএইচ/এসএ/