হিলিতে বাড়ি বাড়ি ইফতার পৌঁছে দিচ্ছে ‘তারুণ্য শক্তি’
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:১২ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২১ শনিবার
মহামারী করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ রোধে দেশে তৃতীয় দফার লকডাউন চলছে। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া গরীব অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইফতার পৌঁছে দিচ্ছেন ‘তারুণ্য শক্তি’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পাশাপাশি সংক্রামণ রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, মসজিদগুলোতে সাবান বিতরণ, বিনামুল্যে মাস্ক বিতরণ, জীবানুনাশক স্প্রে করা, অনলাইনে অর্ডার নিয়ে পণ্য হোম ডেলিভারী করছেন সংগঠনটি।
সংক্রমণ রোধে প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সাতদিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এরপর তা বৃদ্ধি করে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করে সরকার। লকডাউনের কারণে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েন নিন্ম আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন। তাদের পাশে দাঁড়াতে রমজানের প্রথম দিন থেকেই গরীব অসহায় দুস্থ্য রোজাদার ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইফতারি দিয়ে আসছে সংগঠনটির সদস্যরা।
রমজানের প্রথম দিন সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৫০ জনকে ইফতার বিতরণ করা হলেও ধীরে ধীরে সেটি বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রমগুলো নিয়মিতভাবে করে যাচ্ছেন সংগঠনের সদস্যরা। করোনাভাইরাসের প্রথম ধাপের সময়ও একই ধরনের কাজ করেছে সংগঠনটি।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যায়নরত ১০৭ জন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে গড়ে উঠে ‘তারুণ্য শক্তি’ নামে এই সংগঠনটি।
তারুণ্য শক্তির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি হিলিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে, মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে প্রথমধাপে যেভাবে কাজ করে এসেছি ঠিক এবারেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সেভাবেই কাজ শুরু করেছি। এই মহামারির শেষ পর্যন্ত করে যাবো।
সভাপতি তানভীর রেজা বলেন, লকডাউনের কারণে গরীব অসহায় দুস্থ্য মানুষ অনেকে কাজ হারিয়েছেন। এসব মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইফতার পৌঁছে দিয়ে আসছি। পুরো রমজান মাসে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো। এর পাশাপাশি আমরা দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ রোধে মানুষজনকে সচেতনতার পাশাপাশি বিনামুল্যে মাস্ক বিতরণ ও মসজিদগুলোতে বিতরণ এবং বাজারের ভিড় কমাতে অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসছি। এছাড়াও হাটবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থানসমূহে জীবানুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে, যা অব্যাহত থাকবে।
তারুণ্য শক্তির উপদেষ্টা আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যের দেয়া অর্থ দ্বারা আমাদের সাধ্যমত এসব কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যেহেতু স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন তাই সমাজসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। সংক্রমণ রোধে আমরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরকারকেও সহযোগিতা করছি।
হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, গতবছরে ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ ও ‘নো মাস্ক নো সেল’ কর্মসূচি চালুর কারণে হিলিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেক কম ছিল। সে সময় সারাদেশের মধ্যে হিলি একটি রোলমডেল হয়ে ছিল। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পাশাপাশি সে সময় ‘তারুণ্য শক্তি’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি সর্বাত্মক কাজ করে গেছে। সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় তাহলে এবারেও হিলিতে শনাক্তের হার অনেক কম থাকবে বলেও জানান তিনি।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম জানান, করোনার শুরু থেকেই তারা মানুষকে সচেতন করতে মাইকিংসহ অন্যান্য কার্যক্রম করে যাচ্ছে। তাদের এসব কাজকে আমরা অবশ্যই পজিটিভ হিসেবে দেখি। করোনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, সেক্ষেত্রে তাদের এই ধরনের কার্যক্রম ভালো ভূমিকা রাখবে।
এএইচ/এসএ/
