ঢাকা, শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৪ ১৪৩২

রৌমারীতে কাজে আসছে না রাবার ড্যাম

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০১:৪১ পিএম, ১ মে ২০২১ শনিবার

দীর্ঘ ১২ বছরও আলোর মুখ দেখেনি রৌমারী উপজেলার জিঞ্জিরাম নদীতে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খওয়ারচর রাবার ড্যাম প্রকল্পটি। অনেকটা অবহেলা, অযত্ন ও বাঁধ নির্মাণের অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের এ প্রকল্পটি। দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে থাকায় ও দেখভালের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে ৮৫ মিটার  দৈর্ঘ্য রাবার ড্যামটি।

স্থানীয় ও কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উপজলার যাদুরচর ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা খওয়ারচর এলাকায় জিঞ্জিরাম নদীত ২০১০ সালে রাবার ড্যাম প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। দু’দফায় এ প্রকল্পে সরকারের মোট ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়। প্রথম দফায় ১২ কোটি ও দ্বিতীয় দফায় অতিরিক্ত আরও ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয় হলেও সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে এলাকার কৃষকরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজলার লালকুড়া খেয়াঘাট হতে খওয়ারচর রাবার ড্যাম এলাকায় তিন কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। কাঁচা এ সড়কটির বেশিরভাগ এলাকা চলাচলের অযোগ্য হয় পড়েছে। প্রকল্পের সুরক্ষা ও নদী শাসনের জন্য ২ কিলোমিটার সিসি ব্লক ও রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৮৫ মিটার সেতু। সেতুর দু’পাশের সিসি ব্লক নদীত ধসে গেছে। সেতুর নিচের নদীতে ফুলানার অভাবে রাবার ড্যামের ব্যাগটি নষ্ট হতে বসেছে। প্রকল্পটি দেখভালের জন্য কাউক পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান, লুৎফর রহমান, আনিছুর রহমান, নুরুল ইসলামসহ অনেকে অভিযাগ করে বলেন, প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় বেশি দামে তেল কিনে কৃষকদের ইরির (বোরো) আবাদ করতে হয়েছে। এতে লাভবান হচ্ছে ঠিকাদার আর একটি স্বার্থান্বেষি মহল। তাই সরেজমিন তদন্ত করে অতি দ্রুত রাবার ড্যামটি চালুর দাবি স্থানীয় মানুষের।

খওয়ারচর রাবার ড্যামের পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, এই রাবার ড্যাম প্রকল্পের আওতায় চারশ’ কৃষক সদস্য রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগেও প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় এলাকার প্রায় ১২শ’ কৃষক ডিজেল চালিত অগভীর নলকূপ বসিয়ে চাষাবাদ করছেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। তিনি আরও জানান, সমিতির সদস্যরা প্রকল্পটির কোন সুবিধা না পাওয়ায় রাবার ড্যাম এলাকার সমিতিটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণসহ রাবার ড্যাম প্রকল্পটি চালুর দাবি জানান তিনি।

রৌমারী উপজলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাহাদৎ হাসান বলেন, রাবার ড্যাম প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেচ  সুবিধার আওতায় আসবে ওই এলাকার আড়াই হাজার কৃষক পরিবারের ২ হাজার হেক্টর আবাদি জমি। নদীতে মাছ চাষে লাভবান হবেন অনেক কৃষক। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি চালু হলে এলাকায় অগভীর নলকূপের সংখ্যা কমে যাবে। এতে ভূমিকম্পের ঝুঁকিও অনেকটা কমে আসবে।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেজবাহ আলম বলেন, রাবার এলাকার নদীর দু’পাশে যে পরিমাণ বাঁধ নির্মাণ করা দরকার, তা না করায় প্রকল্পটি চালু করা যাচ্ছে না। বাঁধ নির্মাণ না হলে রাবার ফুলিয়ে সেচ সুবিধা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কমপক্ষে ৭ কিলামিটার পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ করলে এ প্রকল্পের সুফল পাবে কৃষকরা। 

সেতুর দু’পাশের সিসি ব্লক ধসে যাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বন্যার সময় সিসি ব্লকের ক্ষতি হয়েছে। নতুন বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
এএইচ/এসএ/