পুটখালী সীমান্তের ত্রাস কাদেরসহ ৬ সহযোগী গ্রেফতার
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:৩১ পিএম, ১০ জুলাই ২০২১ শনিবার
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী সীমান্তের চোরচালানী ঘাট নিয়ন্ত্রণকারী ও এলাকার ত্রাস আব্দুল কাদের (৫৫) ও তার ৬ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছেন বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।
শনিবার ১০ জুলাই সকালে আটককৃতদের মারামারির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আব্দুল কাদের পুটখালী গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত সহযোগীরা হলো একই গ্রামের খয়বার আলীর ছেলে জুলফিকার আলী (৪২), ইশারত মোড়লের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৫৪), তবি মোড়লের ছেলে ওলিয়ার রহমান (৪০), মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে নুর হোসেন (৪২), মহিব উদ্দিনের ছেলে জাকির হোসেন (৪২) ও মৃত সামসুর রহমানের ছেলে তবিবর রহমান (৫২)।
বেনাপোল পোর্টথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বেনাপোল পোর্ট থানার ৯ জুলাই দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং-৯) গ্রেফতারকৃতদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে পুটখালী এলাকার বিটখাটাল (গরুর খাটাল) জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রন করে আসছে। জিরো থেকে হিরো হওয়া কাদের আগে বেনাপোলের একটি সিএন্ডএফ এজেন্সীর কর্মচারী ছিলো। নানা অনিয়মে চাকুরিচুত্য হলে সে এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে নিজেই সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে। বিভিন্ন সময়ে গ্রামের লোকজনদের বেধড়ক মারধর করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রাখে। যাতে তার ভয়ে কেউ মুখ খোলাসহ প্রশাসনের দারস্থ হতে না পারে। গত ১ জুলাই তার নেতৃত্বে পুটখালী গ্রামের ইসমাইল বিশ্বাসের ৩ ছেলে শাহআলম বিশ্বাস (৪৮), ওলিয়ার বিশ্বাস (৫২) ও শাহাজান বিশ্বাস (৪৫) এবং একি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে আজমির বিশ্বাস (২৫) এর উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মারাত্মক আহত করে।
ওই হামলায় আরও ৯ জন গুরুতর আহতসহ তাদের ঘরবাড়িতে ভাংচুর করে তান্ডব চালায়। যশোর সদর হাসাপাতালে চিকিৎসা নিয়ে শাহআলম বেনাপোল পোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ও একই সাথে বিচারের দাবিতে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ ঘটনার খবর স্থানীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হলে পুলিশ প্রশাসন সরব হন। পুটখালি সীমান্তের ত্রাস কাদের প্রশাসনিক নজর এড়াতে যশোরে অবস্থান করেই তার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সীমান্ত এলাকায় নানা অপকর্ম করেন বলে জানা যায়। কাদের ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের খবরে ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন।
কেআই//
