ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

সরকারি বই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৩:৩৫ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২১ মঙ্গলবার

বরগুনার বেতাগীতে সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগে উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি করায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে জেলা প্রশাসন।

সম্প্রতি সকলের অগোচরে অফিস সহকারির সহায়তায় শিক্ষাবোর্ডের পুরাতন বই বিক্রি করেছন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে এবং স্কুলের অন্যান্য সহকারি শিক্ষকদের অবহিত না করে বই বিক্রি করায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের নিকট সরকারি বই বিক্রির ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, ‘স্কুল পরিচালনা করি আমি। বই বিক্রি করব কি করব না এটা একান্তই আমার নিজস্ব ব্যাপার। এব্যাপারে আমি কাউকে কৈফিয়ত দিতে রাজি নই।’ 

সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি জলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক স্যারের নির্দেশেই সরকারি বই বিক্রি করা হয়েছে। যদিও আমি বই বিক্রি না করার জন্য স্যারকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু স্যার আমার কথা রাখেননি।’

কত কেজি সরকারি বই বিক্রি করা হয়েছে জানতে চাইলে অফিস সহকারি জানান, ‘যতটুকু জানি আড়াইশ’ কেজি বই বিশ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারি শিক্ষক বলেন, ‘স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত তো দূরের কথা, সরকারি বই বিক্রি বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আমাদেরকেও জানাননি।’

ওই সহকারি শিক্ষক আরও জানান, ‘সরকারি পাঠ্যপুস্তক বেচাকেনা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়াভাবে তার দায়িত্ব পালন করছেন। তার এহেন স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে স্কুলটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।’

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শুভ্রা দাস বলেন, ‘সরকারি পাঠ্যপুস্তক বিক্রি করার সুযোগ নেই। যদি সরকারি পাঠ্যপুস্তক কেউ বিক্রি করে থাকেন তবে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এএইচ/