ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২,   ভাদ্র ২ ১৪২৯

শ্রমিকদের পেশাগত জীবন আজো অনিরাপদ

সাদিয়া তানজিলা

প্রকাশিত : ০৮:২৮ পিএম, ১ মে ২০২২ রবিবার | আপডেট: ০৮:২৯ পিএম, ১ মে ২০২২ রবিবার

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আজ পহেলা মে। ১৮৮৬ থেকে ২০২২, এ যেন শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো কষ্টের নায্য মূল্য, মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের ১৩৬ বছরের ইতিহাস। নিজেদের শ্রমের নায্য মূল্য, মর্যাদা, মজুরী ও অধিকার আদায়ের প্রতিবাদী এক গর্জনের বিনিময় হিসেবেই আজকের এই মহান মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।

শ্রমহীন কর্ম ব্যতীত জীবনে কখনোই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশ্বের যা কিছুর উন্নয়ন ঘটছে তাতে মিশে আছে শ্রমিকের ঘাম, এ সত্য অস্বীকার করার সাধ্য নেই।

কিন্তু বিশ্ব সভ্যতার উন্নয়ন ঘটলেও শ্রমিকদের উন্নয়ন কতটা ঘটছে, সে বিষয়ে এক বিরাট প্রশ্ন থেকেই ১৮৮৬ সালে আওয়াজ ওঠে, আসে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্ম দিবসের দাবি। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকার নিহতদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয় এ দিনটি। প্রতি বছর ১ মে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয় দিবসটি। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদযাপন দিবস। 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো রাজপথে সংগঠিতভাবে
মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে ১ মে জাতীয় ছুটির দিন। আরও অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়।

১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। তাদের এ দাবি কার্যকর করার জন্য তারা সময় বেঁধে দেন ওই বছরের পহেলা মে পর্যন্ত। বারবার মালিকপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় শ্রমিকদের প্রতিবাদ চরমে ওঠে। 

৪ মে, ১৮৮৬ সাল। শিকাগোর হে মার্কেট স্কয়ার নামের এক বাণিজ্যিক এলাকায় শ্রমিকরা মিছিল করতে করতে জড়ো হন। অগাস্ট স্পিজ নামে এক নেতা জড়ো হওয়া শ্রমিকদের উদ্দেশে কিছু কথা বলছিলেন। হঠাৎ দূরে দাঁড়ানো পুলিশ দলের কাছেই এক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে, এতে মেথিয়াস জে. ডিগান নামের একজন পুলিশ সদস্য তৎক্ষণাৎ এবং আরও ছয়জন পরবর্তী সময়ে নিহত হন। পুলিশ বাহিনী শ্রমিকদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। যা পরে দাঙ্গায় রূপ নেয়। এই দাঙ্গায় ১১ জন শ্রমিক মারা যান।

পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে পরবর্তী বছর থেকে ১ মে বিশ্বব্যাপী পালন হয়ে আসছে মে দিবস বা 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস'।

বর্তমানে শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কর্ম দিবসের দাবি এবং কর্ম পরিবেশ কিছুটা উন্নত হলেও আজো শ্রমিকদের পেশাগত জীবনে নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকারগুলো অর্জিত হয়নি। গত দুই বছরের করোনা মহামারি তাদের জীবনকে যেন আরো বেশি স্থবির করে দিয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বেতনের দাবিতে সমবেত হচ্ছেন, বিক্ষোভ করছেন। তাদের অবস্থা এখনো শোচনীয়। 

২০২২ সালে এসেও তাদের নায্য আদায়ে ভিড় জমাতে হয় বিভিন্ন মিছিল সমাবেশে। এখনও তাদের জীবন অনিশ্চয়তার দ্বারপ্রান্তে। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছরে শ্রমিকদের উন্নয়ন যে একেবারেই ঘটেনি, তা বলা চলে না।

বর্তমান সরকার শ্রমিক বান্ধব সরকার। সরকার শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার ফলে শ্রমিকরা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক ভালো আছেন।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকেই মে দিবস সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিনটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়ে থাকেন। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন দিনটি পালন করতে শোভাযাত্রা, শ্রমিক সমাবেশ, আলোচনা সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে থাকে। 

মে দিবসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করে। প্রতি বছর এই দিনটিতে শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

লেখক- শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)।

এনএস//