ঢাকা, শনিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৯

মদিনায় আন্দোলন: দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে ১৭শ’ বাংলাদেশী শ্রমিককে

সৌদি আরব প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২:৩১ পিএম, ১৬ জুন ২০২২ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:০১ পিএম, ১৬ জুন ২০২২ বৃহস্পতিবার

সৌদি আরবের মদিনাস্থ দোবাই ভিত্তিক মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানী বিইয়াতে কর্মরত ১৭শ’ বাংলাদেশী শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার খবরটি নিশ্চিত করেছেন জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কাউন্সিলর কাজী ইমদাদুল হক। ওই কোম্পানিতে ২ হাজার ২২৫ জন বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করেন বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, গত তিন বছর আগে দাল্লা কোম্পানিতে কাজ না থাকায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক বিইয়া ও মাজাল্লা কোম্পানিতে কাপালা বা ট্রান্সফার হয়। তার মধ্যে বিইয়া কোম্পানিতে ২ হাজার ২২৫ জন বাংলাদেশী শ্রমিক কাপালা হয়ে কাজ শুরু করেন। কিছু সমস্যা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। কোম্পানির লোকজন বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দেয় এবং এক জায়গায় আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। যেটা সৌদি আরবের আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

কাউন্সিলর কাজী ইমদাদুল হক আরও জানান, গত ১৪ জুন মঙ্গলবার সকালে আমরা যখন ঘটনা জানতে পারি তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ওই কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করি এবং একাধিকবার কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমি ও প্রথম সচিব আরিফ এবং আমার টিম ওই কোম্পানিতে ‍যাই এবং কোম্পানির ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলি।

আরিফ সাহেব শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন তাদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া কথা। পরে আমরা কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ করি, তখন তারা জানান কোম্পানির স্বার্থে শ্রমিকদের রাখা সম্ভব নয়. এটা দুবাই হেড অফিসের সিদ্ধান্ত।

ঘটনাটি তাৎক্ষণিক আমাদের কনসাল জেনারেল, রাষ্ট্রদূত মহোদয় ও মন্ত্রী মহোদয়তে অবগত করি। রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের নির্দেশে আমরা মদিনা সফর করি।

তিনি জানান, বুধবার সকালে মদিনায় শ্রম ডিজি ড. সালেহ রাব্বি আল সোহাইমী এবং মানব সম্পদ ডিজি ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ইঞ্জি. আবদুল্লাহ গাজী আলসায়েদীর সঙ্গে আমরা সাক্ষাৎ করে শ্রমিকদের এক্সিট না দিতে অনুরোধ করি। তারা আমাদের জানান যে  ‘কোম্পানি যদি চায় তারা শ্রমিক রাখবে না তাদের সেই অধিকার আছে, আমাদের কাজ হলো শ্রমিকদের সাথে কোন অন্যায় হচ্ছে কিনা, শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করছে কিনা এটা দেখা। এই কোম্পানি আমাদের সম্পূর্ণ বিষয়ে অবগত করেছে এবং তারা শ্রমিকদের সাথে কোন অন্যায় করছে না।’

কাজী ইমদাদুল হক জানান, কোম্পানির কাছে আমরা অনুরোধ করেছি যেন মামলা না দেওয়া হয় এবং শ্রমিকদের দেশে না পাঠায়। এই অনুরোধে যারা আন্দোলন সংগ্রামের সাথে যুক্ত ছিল না তাদের মধ্য থেকে ৫০০ জনকে রাখার কথা জানান কোম্পানীর কর্মকর্তারা। বাকি শ্রমিকদের তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে এক্সিট দেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের দেশে পাঠানোর কথা জানান।

এদিকে বিইয়া কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের সুপারভাইজার আকরাম বলেন, তিন বছর আগে দাল্লা কোম্পানি থেকে যারা বিইয়া কোম্পানিতে কপালা বা ট্রান্সফার হয় সেই সময় কোম্পানির লোকজন তিন মাস গড়িমসি করে শ্রমিকদের সাথে খারাপ আচরণ করে। আকামা ও বেতন নিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা এটাকে আন্দোলন বলে চালিয়ে দেয়।

কোম্পানির ভেতরে মারামারি ও কর্মবিরতির কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, এক সাথে থাকতে গেলে টুকটাক ঝগড়াঝাটি হয়। পরে আমরা মিলেমিশে কাজ করি। কিন্তু যখন কোম্পানির লোকজন খারাপ ব্যবহার করে, কাজ না দিয়ে বেতন না দিয়ে কথায় কথায় দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এই নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করি। 

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী আন্দোলন সংগ্রাম নিষেধ, তারপর কেন তারা আন্দোলন করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন্দোলন করিনি অধিকার আদায়ের কথা বলেছি, তারা এটাকে আন্দোলন বলে। 

কতজন শ্রমিক দেশে পাঠান হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১৭ শত শ্রমিকের ফাইনাল এক্সিট দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে এবং কিছু লোকদের রেখে দিচ্ছে কোম্পানি।

বুধবার লাইনে দাঁড় করিয়ে শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করে সাথে সাথে ফাইনাল এক্সিট দিচ্ছে বলেও জানান সুপারভাইজার আকরাম।

তিনি জানান, গত তিন মাস ধরে প্রায় মানুষের আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, ইন্ডিয়ান শ্রমিকদের কাজ দিচ্ছে, বাংলাদেশী শ্রমিকদের বসিয়ে রাখা হচ্ছে। কিছু বলতে গেলে কথায় কথায় ফাইনাল এক্সিটের হুমকি দিচ্ছে যার দরুন আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি কিন্তু কোন আন্দোলন করিনি।

সৌদি আরবের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কর্মরত শ্রমিকদের কাজ করার এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনসুলেটকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা।

এএইচ