ঢাকা, রবিবার   ১৯ মে ২০২৪,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪৩১

বিপন্ন ভাষার জাগরণ ঘটলেই স্বার্থক হবে একুশের রক্তদান (ভিডিও)

আদিত্য মামুন, একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:৩৬ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:৩৭ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ মঙ্গলবার

বাঙালির জাতিসত্ত্বার বিকাশ আর রাষ্ট্রভাষার পত্তনই শুধু করেনি একুশে ফেব্রুয়ারি। বিশ্বব্যাপী বৈচিত্র্যময় ভাষা রক্ষার সূতিকাগারে পরিণত হয়েছে দিনটি। জাতিসংঘের ঘোষণায় অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠীর। বাংলার পাশাপাশি বিপন্নপ্রায় ভাষার জাগরণ ঘটানোই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য। 

১৯৪০ সালের দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়ে গেলে টুকরো হয়ে যায় বাংলা, বিভাজন দেখা দেয় বাঙলার ভাষা-সংস্কৃতিতে। এতে শেষ পেরেক ঠোকেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। 

প্রতিবাদে উত্তাল বাংলার সোঁদা মাটি ভেজে রক্তে।  

ধর্মের দোহাই দিয়ে বাঙালিকে দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও শোষণের ফলে প্রথমে স্বায়ত্বশাসন পরে ভাষা-সংস্কৃতির ঐকান্তিক টানে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ রক্তস্নাত শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি দেয়। 

৪০ কোটি মানুষের মুখের ভাষা বাংলা। সাহিত্য, লোকায়ত চরিত্র ও সংস্কৃতির উৎকর্ষে বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম ভাষার খেতাব রয়েছে বাংলার। 

একুশের চেতনা, ভাষাশহীদদের ত্যাগ ও সাতন্ত্র্য সত্ত্বার উন্মেষে বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলায় রূপ পেয়েছে বাংলা একাডেমির আয়োজন। রয়েছে সর্বত্র বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি।

লেখক-গবেষক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, “যারা বাংলাভাষার পক্ষে কথা বলছেন তারা তো কখনও ইংরেজির বিরুদ্ধে কথা বলেননা। সবাই বাংলা শিখবে, বাংলা পড়বে। আর যারা নানাদিক দিয়ে তারা ইংরেজি পড়বে।”

বাংলার বদৌলতে পৃথিবীব্যাপী ক্ষয়িষ্ণু ভাষাগুলোর সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে থাকা আরও ৪০টি মাতৃভাষা টিকিয়ে রাখার দাবিও এখন উচ্চকিত।

অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, “বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। ওই সময় থেকেই আদিবাসীদের ভাষার কথা জোড়েসোরে বলা উচিত ছিল। ক্ষুদ্রগোষ্ঠী যারা তাদের সংখ্যা কম এবং তাদের ভাষা অত্যন্ত কম বিকশিত। এখন আর বিকাশ করছেনা। তারা যাতে মানবজাতির মূলধারায় আসে এবং তাদের ভাষায় তারা যাতে কাজ করতে পারে সেই সুযোগ রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার সুযোগও তাদেরকে দিতে হবে।”

বর্ণমালা, ব্যাকরণগত সংকট দূরীকরণের মাধ্যমে বিপন্নপ্রায় ভাষাসমূহকে পুন:জীবিত করা হলে তবেই স্বার্থক হবে একুশের রক্তদান- অভিমত ভাষাপ্রেমীদের।

এএইচ