ঢাকা, সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪,   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

লক্ষ্মীপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৩:৩৩ পিএম, ৬ জুলাই ২০২৩ বৃহস্পতিবার

লক্ষ্মীপুরে সিটি হসপিটাল নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলায় মো. আবু ছায়েদ (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে শহরের রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের ওই হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।  এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন নিহতের স্বজনরা। তবে ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছেন ওই হসপিটালের পরিচালক ডাক্তার রাকিবুল আহছান।

স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের ৬ ঘন্টাপর রোগীর যন্ত্রণা বেড়ে গেলে বার বার ডাকার পরও নার্স কিংবা কর্তব্যরত চিকিৎসক কেউই খবর নিতে আসেননি। এতে দুই বার বোমি হওয়ার পর মারা যান রোগী।

নিহত আবু ছায়েদ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন ব্যাংক বুথের সিকিউরিটি গার্ড।

স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডান পায়ে অপারেশনের জন্য আবু ছায়েদকে গত ২ জুলাই শহরের সিটি হসপিটালে ভর্তি করেন তার পরিবার। সব কিছু ঠিকঠাক থাকায় বুধবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই হাসপাতালের ডাঃ রাকিবুল আহছান রোগীর পায়ে অপারেশন করেন। অপারেশনের ৬ ঘন্টা পর ভোররাতে হঠাৎ আবু ছয়েদের যন্ত্রণা বেড়ে যায়,  এর কিছুক্ষণের মধ্যে বমি করতে থাকেন তিনি। 

এসময় হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বা নার্সদের ডেকেও কাছে পাননি পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে হাসপাতালের বেডে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর চিকিৎসক এসে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

এদিকে অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সিটি হসপিটালে নতুন নয়, অব্যবস্থাবনা, পুরোন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে প্রসূতিসহ ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

নিহতের ছেলে দেলোয়ার অভিযোগ করে বলেন, অপারেশনের পর তারা পায়ের ব্যাথা বাড়বে বা কমবে বলে জানান হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কিন্তু মৃত্যুর ঝুঁকির কথা বলেননি। সঠিক সময়ে চিকিৎসক বা নার্স এসে চিকিৎসা দিলে হয়তো বাবার মৃত্যু হতো না। চিকিৎসকদের অবহেলার বিচার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে সিটি হসপিটালে গিয়ে ডাঃ রাকিবুল আহছানকে পাওয়া যায়নি। ঘটনারপর থেকে তিনি লাপাত্তা বলে জানা যায়।

তবে ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইলিয়াস মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চিকিৎসাজনিত কোন ক্রটি বা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়নি। রোগীকে সঠিকভাবে অপারেশন এবং চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আহম্মদ কবীর বলেন, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এএইচ