ঢাকা, রবিবার   ৩০ নভেম্বর ২০২৫,   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪৩২

শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরে ৫ কিলোমিটার জুড়ে বিশাল শাপলা বন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৮:১২ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রবিবার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের বিশাল এলাকাজুড়ে ফুটেছে লাল শাপলা। আর তা দেখতে প্রতিদিনই ভীড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। যা শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পে এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

একই সাথে এটি রুপ নিয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ শাপলা বনে। তবে হাওরে প্রবেশের রাস্তা ভালো না থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পর্যটকদের পোহাতে হয় কিছুটা ভুগান্তি। 

শাপলা বনের অবস্থান শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর লামাপাড়া, যাত্রাপাশা, শহশ্রী ও যতরপুর গ্রামের হাইল হাওর অংশে গোপলা নদীর পাড় ঘেষে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর লামাপাড়া অংশে হাওরে গিয়ে দেখা যায়, সাদা আকাশের নিচে রং এর খেলা। হাওর জুড়ে লালাভ আভা। যা এক নজর দেখলে যে কারো মনে এনে দিবে একরাশ প্রশান্তি। এমন প্রশান্তিময় জায়গা দেখতে কার না মন চাইবে। পর্যটকদের অনেকেই নৌকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছেন শাপলার রাজ্যে।

তবে এই সোন্দর্য্য উপভোগের স্থায়ীত্ব খুবই কম। যা দেখতে হলে আগামী এক মাসের মধ্যেই সেখানে যেতে হবে বলে জানান স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

শ্রীমঙ্গল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য মো: আয়মন আলী বলেন, প্রতিবছর এমন শাপলা ফুটলেও এ বছর এর পরিমান অনেক বেশি। হাওরের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফুটেছে এই লাল শাপলা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিদিন সেখানে ভীড় হচ্ছে শত শত দর্শনার্থীর।

দর্শনার্থীদের জন্য লামাপাড়ার নিচে মাঝিসহ ২০/২৫টি নৌকা রাখা হয়েছে যাতে তারা অল্প ভাড়ায়  শাপলা বন ঘুরে দেখতে পারে বলে জানান এই ইউপি সদস্য। 

এদিকে দর্শনার্থীদের ঘুরে দেখাতে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে অর্ধশতাধিক মাঝির। নৌকার মাঝি লতিফ মিয়া জানান, এটি অস্থায়ী হলেও আমরা বেশ আনন্দের সহিত দর্শনার্থীদের নিয়ে ঘুড়াচ্ছি। তিনি বলেন, পানি কমে গেলে হয়তো আমরা আর মেহমান পাবো না। কিন্তু মেহমানদের নিয়ে আমরা যখন ঘুরি এবং তাদের মনে আনন্দের ছাপ দেখতে পাই এটা খুবই ভালো লাগে। মানুষের জীবনে তো বিষাদের শেষ নেই এখানে এসে কিছু সময়ের জন্য তো আনন্দ পাচ্ছেন। 

অপর মাঝি খানব মিয়া বলেন, সময় ভেদে আমরা এক নৌকা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় নিয়ে দেখাই। অনেক ক্ষেত্রে আমরা টাকা বলিনা। যে যা দেয় তাই নেই। 

সরেজমিন দেখা যায়, এই হাওরে শুধু শাপলার পাশাপাশি রয়েছে নানান জাতের জলজ উদ্ভিদ ও দেশীয় মাছ। মৎস্য জীবিরা এখানে সারা রাত তারা মাছ  শিকার করেন। ভোরে এসে কিনে নেওয়া যায় হাওরের মাছ। এই মুহুর্তে প্রতিদিনিই পানি কমছে। উপরের ক্ষেতে শাপলা গাছ তুলে ধানী জমি তৈরী করছেন অনেক কৃষক। 

মির্জাপুর পরিষদের চেয়ারম্যান মিছলু আহমদ চৌধুরী বলেন, এই রাস্তাটি খুবই খারাপ ছিল। স্থানীয় জনগণকে নিয়ে কিছু অংশ কাজ করা হয়েছে। তবে পর্যটক, কৃষক ও মৎসজীবিদের জন্য রাস্তাটি মেরামত করা প্রয়োজন।

তিনি  আরও বলেন, হাওরে অনেক গুলো বিল শুকিয়ে গেছে। হাওরের জীববৈচিত্র রক্ষায় বিল ও গোপলা নদী খনন করা জরুরী। তিনি বলেন, হাইল হাওরের ওই অংশে রাস্তা মেরামত করে গোপলা নদীর উপর একটি ব্রীজ স্থাপন করলে পর্যটকদের যেমন যোগাযোগ সহজ হবে, তেমনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন জনপদ যতরপুরে যাতায়াতেরও একটি সু ব্যবস্থা হবে।

এমআর//