ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ১৮ ১৪৩২

বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:০১ পিএম, ১ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা রঙিন মলাটের বই বুকে জড়িয়ে ধরেছে, কেউ কেউ খুশিতে উল্টে দেখছে পাতা। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। তবে এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনও জাঁকজমকপূর্ণ ‘বই উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়নি। 

সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্কুলে ভিড় জমাতে শুরু করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা হাতে তুলে দিচ্ছেন নতুন পাঠ্যবই। 

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে।

নতুন বই পেয়ে শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছ ব্যাপক উচ্ছ্বাস। তবে প্রাথমিকের এই আনন্দের চিত্রটি সব জায়গায় এক নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চাহিদামতো বই না আসায় শিক্ষার্থীরা বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। কোথাও একজন শিক্ষার্থী পেয়েছে দুটি বই, কেউ পেয়েছে তিনটি, আবার কেউ এখনো একটিও পায়নি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই ছাপা, বাঁধাই ও কাটিং শেষে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তকের মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম এখনো চলমান। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছেছে।

এবারের বই বিতরণে নেই কোনো উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে বই বিতরণকালে সব ধরনের উৎসব ও অনুষ্ঠান পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, রাজধানীর বাইরে সারাদেশে বই বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিনেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে নতুন বই সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা। বছরের শুরুতেই নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তারা।

বরিশালের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই। জানা গেছে, বরিশাল জেলায় ১ হাজার ৭২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২০৮টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ নতুন বই পৌঁছেছে। ‎বিভাগে মাধ্যমিক স্তরে ৬৯ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ৫০৩টি। এছাড়া কারিগরি ট্রেড, দাখিল, ভোকেশনালসহ অন্যান্য স্তরের মোট চাহিদা ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ৬৪৬টি আর প্রাপ্তি ১ কোটি ১৮ হাজার ৪৭৭টি। যার ৭৩ দশমিক ২৩ ভাগ নতুন বই পৌঁছেছে।

এএইচ