ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ১৮ ১৪৩২

দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয়: রাজনাথ সিং

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:৩০ পিএম, ১ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:০০ পিএম, ১ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে এই মহীয়সী নেত্রীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান সবসময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে তিনি বেগম জিয়ার স্মৃতির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

এ সময় রাজনাথ সিং সেখানে রক্ষিত শোক বইতে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে একটি বার্তা লেখেন। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া কেবল একজন প্রভাবশালী নেত্রীই ছিলেন না, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দিল্লির বাংলাদেশ মিশনে পৌঁছালে রাজনাথ সিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এটি ছিল ভারতের কোনো প্রভাবশালী মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরাসরি হাইকমিশনে গিয়ে শোক প্রকাশের একটি ব্যতিক্রমী ও সম্মানজনক পদক্ষেপ। 

এ নিয়ে দুবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে গেলেন । এর আগে তিনি ২০২১ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিল্লির মিশনে গিয়েছিলেন। সেই বছর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের (২১ নভেম্বর) পরদিন অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। ২০২১ সালে রাজনাথ সিংয়ের বাংলাদেশ মিশনে যাওয়াটা প্রচলিত প্রটোকলের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ব্যতিক্রমী একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের উচ্চপর্যায়ের এই শোক প্রকাশ দুই দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে জিয়া উদ্যানে স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। 

জানাজায় দলমত-নির্বিশেষে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অসামান্য জনপ্রিয়তারই প্রমাণ দেয়। তার এই মহাপ্রয়াণে কেবল ভারত নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করেছেন এবং অনেকে সশরীরে জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন।

ভারতের পক্ষ থেকে এই শোক জ্ঞাপন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা সফর করেন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা তার কাছে হস্তান্তর করেন। 

এস জয়শঙ্কর ও রাজনাথ সিংয়ের এই পদক্ষেপগুলো নির্দেশ করে যে, ভারত সরকার বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের এই কূটনৈতিক শিষ্টাচার দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পথে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এএইচ