ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ১৮ ১৪৩২

গেল অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশের নিট মুনাফা ৭৮৫ কোটি টাকা

ইমন চৌধুরী, একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:৪২ পিএম, ১ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৮৫.২১ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি। 

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মুনাফা ঘোষণা করা হয়।

সভায় বিগত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ ও শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রেকর্ড আয় করেছে ১১,৫৫৯ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৯.৪৬ শতাংশ বেশি। এ সময়ে বিমান ১৬০২ কোটি টাকা অপারেশনাল মুনাফা অর্জন করেছে এবং নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৮৫.২১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি। 

এ নিয়ে টানা পঞ্চম বারের মতো লাভের ধারা বজায় রয়েছে এবং সর্বশেষ ১০ অর্থবছরে ৯ বারই বিমান নিট মুনাফা অর্জন করেছে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিমান ২১টি উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৩০টি গন্তব্যে মোট ৩৩.৮৩ লক্ষ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। এছাড়াও ৪৩,৯১৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করে ৯২৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫.২১ শতাংশ বৃদ্ধি। বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১,১১২টি ফ্লাইটে ৬,১০৩,১৪৭ জন যাত্রীকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করেছে।

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। বিগত ৫৪ বছরে বিমান সরকার থেকে কোনো প্রকার ভর্তুকি গ্রহণ করেনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড হয়েছে, যা যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান আস্থা ও জনপ্রিয়তার প্রতিফলন।

দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা ও বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে। বিমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করে ধারাবাহিকভাবে প্রশংসনীয় সেফটি রেকর্ড বজায় রেখেছে।

বিমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা ও পরিচালনায় ডিজিটাল রূপান্তর, এবং কার্গো সেবা শক্তিশালীকরণ। বিমান জাতীয় গৌরব ধরে রেখে বিশ্বমানের সেবা, নির্ভরযোগ্যতা ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্সে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

এএইচ