২০২৫ সালে ৯১৪টি রাজনৈতিক সহিংসতা, নিহত ১৩৩
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৪:৪৫ পিএম, ১ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
২০২৫ সালে দেশে নানাবিধ সহিংসতার দিক বিবেচনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। বিশেষকে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতন এবং শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং নিজেদের তথ্যানুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে সারাদেশে রাজনৈতিক ও দলীয় আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ পরায়ণতা, সমাবেশ কেন্দ্রিক সহিংসতা, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখল কেন্দ্রিক ৯১৪টি সহিংসতায় ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বিএনপির ৯৩ জন, আওয়ামী লীগের ২৩ জন, জামায়াতের ৩ জন, ইনকিলাব মঞ্চের ১ জন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ১ জন, ইউপিডিএফের ৬ জন এবং চরমপন্থী দলের ১ জন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭৫১১ জন।
এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতার ৫৪টি ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৪৯৪ জন আহত হয়েছেন।
২০২৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের নামে কমপক্ষে ২৪৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১১৯৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে ৪২৫২৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন মামলায় ও যৌথবাহিনীর অভিযানে ৫০ হাজারের অধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
পুলিশ গত এক বছরে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের অন্তত ৪৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মব সহিংসতা ও গণপিটুনীর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে সারাদেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৯২টি ঘটনায় মব সহিংসতা ও গনপিটুনীতে ১৬৮ জন নিহত ও ২৪৮ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে সারাদেশে ৩১৮টি হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ৫৩৯ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জনকে হত্যা, ২৭৩ জনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও আহত, ৫৭ জন লাঞ্ছিত, ৮৩ জনকে হুমকি এবং ১৭ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও ৩৪ টি মামলায় ১০৭ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর অধীনে ২৭ টি মামলায় ২৪ জনকে গ্রেফতার এবং ৫৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা সারাদেশে ৪৭ টি সভা-সমাবেশ আয়োজনে বাধা প্রদান, ১৪৪ ধারা জারি, সংঘর্ষ, সভাসমাবেশ থেকে আটকসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫১২ জন আহত এবং ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিচার বহির্ভূত হত্যা, থানা ও কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশি হেফাজত, নির্যাতন, গুলি, বন্দুকযুদ্ধ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংষর্ষ ইত্যাদি ৪০ জন নিহত হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জন সংঘর্ষে বা কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে, ১২ জন নির্যাতনে, ১২ জন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের ভয়ে পালাতে গিয়ে ও অসুস্থ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কারাগারে বা কারা হেফাজতে কমপক্ষে অসুস্থ, আত্মহত্যা ও নির্যাতনে ৯২ জন আসামী (৩০ জন কয়েদী ও ৬২ জন হাজতি) মারা গেছেন।
এএইচ
