ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ১৮ ১৪৩২

সমাপ্ত বছরে ধর্ষণের শিকার ৮২৮ জন, এদের মধ্যে শিশু ৪৭৪

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:০০ পিএম, ১ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে কমপক্ষে ২০৪৭ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি। সংগঠনটি জানায়, ৮২৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, এর মধ্যে ৪৭৪ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী/শিশু। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং নিজেদের তথ্যানুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে এইচআরএসএস। 

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৭৯ জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষণের শিকার এবং ধর্ষণের পর ২৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া এসব ঘটনায় আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন নারী। 

৪১৪ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন, তন্মধ্যে শিশু ২৩৬ জন। এছাড়া যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ৩৫ জন (আত্মহত্যা ৪) ও আহত ৩২ জন। 

তাছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ৩৮৩ জন (আত্মহত্যা ১৯৪ জন) নিহত ও আহত ১৩৩ জন। এসিড সহিংসতায় শিকার হয়ে নিহত ২ জন এবং আহত ২ জন। 

অন্যদিকে, শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩৭১ জন, যাদের মধ্যে ২৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০৮৩ জন শিশু বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। 

ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মাজারে হামলার ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর কমপক্ষে ২৮টি হামলার ঘটনায় ১ জন নিহত, ১৬ জন আহত, ৬টি মন্দির, ৩৭টি প্রতিমা ও ৩৮টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং ৫টি জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সারাদেশে ৫৬টিরও বেশি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাজারে ও বাউল অনুসারীদের মধ্যে ১ জন নিহতসহ অর্ধ-শতাধিক আহত হয়েছে। 

শ্রমিক নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৩৫৯টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় শ্রমিক অসন্তোষ, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, হামলাসহ নানা কারণে ৯৬ জন নিহত ও ১০২১ জন আহত হয়েছে। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৬৮ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া  ৪ জন গৃহকর্মী মালিকের নির্যাতনে নিহত এবং ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস)  নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। 

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মব সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্বাচনী সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিষয় সমাধান না করা হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। 

এসময় সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সকল নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে অধিক সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।

এএইচ