ঢাকা, শুক্রবার   ০২ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ১৯ ১৪৩২

বিটিআরসি ভবনে হামলা: গ্রেপ্তার ৪৫ আসামি কারাগারে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৪০ পিএম, ২ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ভবনে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার ৪৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পুলিশ আসামিদের আদালতে হাজির করলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকার আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আদালতে পেশ করা ওই আবেদনে বলা হয়, আসামিদেরকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ক্ষতিসাধন করার কথা স্বীকার করেন। তাদের সঠিক নাম, ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদদাতাদের তথ্য সংগ্রহ চলমান আছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তীতে আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হবে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের কারাগারে পাঠানো একান্ত প্রয়োজন।

শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা ইতিপূর্বে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। বিটিআরসির চেয়ারম্যান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেন। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে গত ১ জানুয়ারি এনইআইআর সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, এনইআইআর সিস্টেম চালু হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ৪৫ জনসহ পলাতক আরও ৯ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জন আন্দোলনকারী গত ১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন আগারগাঁও এলাকায় বিটিআরসি ভবনের সামনে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বিটিআরসি ভবনের দেওয়ালসহ ভবনের ভেতরে ভাঙচুর চালিয়ে আনুমানিক ২ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেন। 

এই ঘটনায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এমআর//