চট্টগ্রামে আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:২১ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর মিল না থাকায় চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জাতীয় পার্টির একাংশের সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এই আসনে আরো তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম-৭ আসনে তিনজন ও চট্টগ্রাম- ১২ আসনে চার জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের সময় এ সিদ্ধান্ত দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনে দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক সহ কোষাধ্যক্ষ এসএম ফজলুল হক, সাবেক হুইপ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা এবং মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের মনোনয়নও বাতিল করা হয়। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
যদিও তাদের আপিলের সুযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্যাহ জানিয়েছেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নের যে চিঠি জমা দিয়েছেন, তার স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো দলীয়ভাবে পাঠানো মনোনয়নের তালিকায় স্বাক্ষরের গরমিল পাওয়া গেছে। আর ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের যে সই জমা দিয়েছেন, ভোটারের তালিকা থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে দশজনের তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের সই-স্বাক্ষরের সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় বাতিল হয় তাদের মনোনয়নপত্র।
হাটহাজারী আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মতিউল্লাহ নুরী এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মোখতার আহমেদ।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে- এবি পার্টির মো. আবদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয় সমর্থনকারীর সাক্ষর নাই, আয়কর সংক্রান্ত তথ্য নাই, ফরম ২০ ও ২১ নাই এবং ব্যক্তিগত অঙ্গীকার নামা নাই। দলের মনোনয়ন সঠিক নয় এবং অঙ্গীকারনামা দাখিল না করায় গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। দলীয় মনোনয়ন সঠিক না থাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী প্রমোদ বরণ বড়ুয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি’র হুমাম কাদের চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম রেজাউল করিম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল্লাহ আল হারুন, খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম ও জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঋণ খেলাপীর অভিযোগে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রার্থী এম. এয়াকুব আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। দলীয় মনোনয়ন সঠিক না থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় যাচাইকৃত ভোটারের এক শতাংশ ভোটারের সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সাদাত আহমেদ ও মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি’র মোহাম্মদ এনামুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম বেলাল নূর, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান।
এএইচ
