ঢাকা, শনিবার   ১০ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ২৬ ১৪৩২

পাকিস্তানে ইসলাম গ্রহণের পর বিয়ে করে থেকে যাওয়া ভারতীয় নারী আটক

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:২৭ এএম, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

সরবজিৎ কউর নামে যে ভারতীয় নারী পর্যটক ভিসায় পাকিস্তানে গিয়ে সেদেশের এক নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন, তাকে এবং তার স্বামী– দুজনকেই আটক করেছে পাকিস্তানের পুলিশ।

সরবজিৎ কউর নামের ওই ভারতীয় নারীকে আজ বৃহস্পতিবার ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠাতে পারে পাকিস্তান। এ খবর বিবিসির।

তবে তার পাকিস্তানি স্বামীকে হেফাজতে রেখেই তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী সরদার রমেশ সিং আরোরা।

সরবজিৎ কউর গত বছরের চৌঠা নভেম্বর একদল শিখ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন এবং তার ভিসার মেয়াদ ছিল ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু তিনি ভারতে ফিরে যাননি। কউর এরপরে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে শেখুপুরার বাসিন্দা নাসির হুসেনকে বিয়ে করেন। সেই থেকে তিনি পাকিস্তানেই বসবাস করছেন।

পাকিস্তানের নানকানা সাহিব শিখ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অতি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। ভারতীয় শিখদের ওই তীর্থক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য পাকিস্তান বিশেষ ধর্মীয় ভিসা দিয়ে থাকে।

রমেশ সিং আরোরা বলেছেন, চৌঠা জানুয়ারি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা খবর পান যে নানকানা সাহিবের কাছে একটি গ্রামে সরবজিৎ কউর এবং নাসির হুসেন রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।

তিনি বলেন, ওই অভিযানে সরবজিৎ কউর ও তার পাকিস্তানি স্বামীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এখন তাকে নানকানা সাহিব পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দুজনই বর্তমানে নানকানা সাহিব পুলিশ সদর দফতরে রয়েছেন।

পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কর্মকর্তারা যৌথভাবে বিষয়টির তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে ২০১৬ সালে টিকটকের মাধ্যমে সরবজিৎ কউর এবং নাসির হুসেনের পরিচয় হয়। বেশ কয়েকবার তারা ভিসার জন্য আবেদনও করেছিলেন। তবে আইনগত বাধার কারণে তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি।

মন্ত্রী আরোরা জানিয়েছেন, সরবজিৎ কউরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে মেয়াদের পরেও দেশে থেকে যাওয়ার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি ধর্মীয় ভিসায় এসেছিলেন এবং ভিসার শর্ত মেনেই দেশে থাকার কথা ছিল তার। প্রথম থেকেই এ ব্যাপারে আমার অবস্থান স্পষ্ট ছিল, বলেন আরোরা।

তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কেউ দেশে থেকে গেলে তাদের প্রত্যর্পন করা হয়। এই ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই করা হচ্ছে। প্রত্যর্পনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সরবজিৎ কউরকে ইভ্যাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ডের (ইটিপিবি) হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই সংস্থাটি ধর্মীয় তীর্থস্থান ও তীর্থযাত্রীদের বিষয়গুলো সমন্বয় করে থাকে।

সরকার ইতোমধ্যেই পাকিস্তান শিখ গুরদোয়ারা প্রবন্ধক কমিটির (পিএসজিপিসি) কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এই মুহূর্তে নাসির হোসেন সম্পর্কে সীমিত তথ্যই সরকারের কাছে আছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আরোরা। তবে হুসেনকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত কোন পথে এগোয়, সেটা দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা জানার জন্য হুসেনের মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এখন তাদের সম্পূর্ণ দৃষ্টি সরবজিৎ কউরকে প্রত্যর্পণ করার দিকে।

সরবজিৎ কউর ও নাসির হুসেনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ৯ বছর আগে পরিচয় এবং ছয় মাস আগে দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নাসির হুসেন একজন জমিদার, তিনি বিবাহিত। অন্যদিকে সরবজিৎ কউরের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং তার আগের বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে দুটি ছেলে রয়েছে। 

এএইচ