ভারতের আগ্রাসী ভূমিকা থেকে এই সরকার দেশকে মুক্ত করেছে: আসিফ নজরুল
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৪:০৬ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
এই সরকার ভারতের আগ্রাসী ভূমিকা থেকে দেশকে মুক্ত করেছে উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, আগে ভারতের আধিপত্যের কারণে দেশের স্বাধীন কণ্ঠ অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত ছিল, এখন আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কিছু সমালোচনা যৌক্তিক হলেও অনেক সময় তা অত্যন্ত কঠোর পর্যায়ে চলে যায়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “১০টি কাজের মধ্যে যদি সরকার ৪টি করে, সেই ৪টি কার্যকর কাজকে খুঁজে বের করার বদলে বাকি ৬টির জন্য শুধুই সমালোচনা করা হয়।”
বিচার বিভাগের সংস্কারের কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, এখন বিচার বিভাগে পদ সৃষ্টি, বদলি, পদোন্নতি, বাজেট অ্যালোকেশনসহ সবকিছু উচ্চ আদালতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি সংস্কার না? রাষ্ট্রের এত বড় একটা অঙ্গের বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটা কোনো সংস্কার না? এটা কি আপনাদের মনে হয় না বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় একসময় ভূমিকা রাখবে? সংস্কার ম্যাজিক লাইট না যে সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, সরকার একটি গুম কমিশন গঠন করেছে, যা কার্যকরভাবে কাজ করেছে। এই অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি হয়েছে হিউম্যান রাইটস কমিশন আইন। ড. আসিফ নজরুল বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো মানবাধিকার আইনের তুলনায় আমাদের আইনটি উন্নত। অচিরেই এই কমিশনে নিয়োগ দেয়া হবে। এটা কি কোনো সংস্কার নয়?” তিনি যোগ করেন, বিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ম্যানেজমেন্ট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু সরকারের উদ্যোগ তা মোকাবেলায় এগিয়ে আসছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কিছু কাজের বিবরণ দিয়ে শ্রোতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন উত্থাপন করে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের যে রিজার্ভ বেড়েছে, আমাদের যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আছে, আমাদের যে ব্যাংকিং খাতে ভগ্নপ্রায়, বিধ্বস্ত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং আস্থা ফিরে এসেছে এগুলি কোনো সাফল্য না? আমাদের যে ২০ হাজারেরও বেশি হয়রানিমূলক মামলা, যেখানে প্রায় ৫ লাখ আসামি ছিল বিরোধীদলের, ভিন্নমতের। সেই মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এগুলো কি কোনো সাফল্য না?
এমআর//
