‘ইব্রাহিম নবীর চেয়েও জামায়াত নেতার কোরবানি বড়’ বলে মন্তব্য করা সেই আমির ক্ষমা চাইলেন
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৯:০৯ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০৯:৪১ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
‘ইব্রাহিম নবীর চেয়েও জামায়াত নেতার কোরবানি বড়’—এমন বক্তব্য দিয়ে বিতর্কে জড়ানো রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান পরে ক্ষমা চেয়েছেন।
গত ৮ জানুয়ারি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় স্থানীয় এক মতবিনিময় সভায় জামায়াতের এই নেতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানি ইস্যুতে কেন্দ্রীয় নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তব্য দেন। এতে তিনি ইব্রাহিম (আ.)-এর চেয়ে নিজের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে বড় কোরবানি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ওই সভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ভাইরাল হওয়া সেই বক্তব্য প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা এটিএম আজম খান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, সম্প্রতি পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদানকালে আমার একটি উক্তি নিয়ে অনেকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। উক্ত সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আমি দলের এক ঊর্ধ্বতন নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করার সময় একটি অনভিপ্রেত ও অসতর্ক শব্দচয়ন ব্যবহার করেছি, যেখানে কোরবানি সম্পর্কিত একটি তুলনা উপস্থাপিত হয়। বিষয়টি আমার ‘স্লিপ অব টাং’ থেকে হয়েছে, যা কোনোভাবেই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।
তিনি আরও বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির ঘটনা ইসলামের এক অতুলনীয় আদর্শ ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত। এর সঙ্গে তুলনামূলক কোনো বক্তব্য দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয় এবং তা আমার বিশ্বাস ও আকিদার পরিপন্থি। উক্ত বক্তব্যের কারণে আমি সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং যদি কোনো ভাই-বোন বা শুভানুধ্যায়ী কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তাদের সবার কাছেও আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
উল্লেখ্য, এটিএম আজম খান রংপুর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোটগত কারণে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে এটিএম আজম খান মনোনয়ন জমা দেননি। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়েছেন।
এমআর//
