স্কুলছাত্রী হত্যা: চাঞ্চল্যকর তথ্য গ্রেপ্তার মিলনের
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১২:২০ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ১২:৩১ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে ফাতেমা আক্তার লিলি নামে এক স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মো. মিলন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমঘটিত বিরোধের কথা উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয় মো. মিলন মল্লিককে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবের কাছে হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন মিলন।
র্যাব-৩ জানায়, গ্রেপ্তার মিলন মল্লিকের সঙ্গে নিহত স্কুলছাত্রী লিলির সু-সম্পর্ক ছিল। তবে এই সম্পর্কের সুবাদে সে বিভিন্ন সময় আকার-ইঙ্গিতে লিলির কাছে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ করত এবং লিলির পরিবার বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলে মিলন লিলিকে নিয়ে পালিয়ে যাবে বলে তাকে জানায়। সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে লিলিকে হত্যা করে সে।
গ্রেপ্তার মিলনের দাবি, ভুক্তভোগী তাকে বিভিন্ন সময় আকার ইঙ্গিতে প্রেমের সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ করতেন এবং তার পরিবার বাসা থেকে গ্রামে গেলে সে তার সঙ্গে পালিয়ে যাবে বলে জানান। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে ২টা ২৫ মিনিটে তিনি ভুক্তভোগীকে নিয়ে পালিয়ে যেতে প্রস্তাব দেন। কিন্তু ভুক্তভোগী জানান, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে রেস্তোরাঁর কর্মচারীর সঙ্গে সে যাবে না। সে আরও বলে, বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও। তখন এ প্রস্তাবে সহযোগিতা না করার জন্য সে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
তবে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তর তদন্তে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
এর আগে গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই বাসায় তাদের রেস্তোরাঁর কর্মী মিলনকে ঢুকতে দেখা গেছে। সেই সন্দেহে তাকে খুঁজতে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে র্যাব সদর দপ্তর থেকে এক ক্ষুদেবার্তায় মিলনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায় র্যাব।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ফাতেমা আক্তার বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকত সে। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন। সেই রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন মিলন।
ঘটনার দিন মিলন দুপুরের খাবার খেতে বাসায় ঢুকেছিল। প্রাথমিকভাবে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকেই সন্দেহ করা হয়।
এএইচ
