ফরিদপুরে ডাকাতির দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:২৭ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
ফরিদপুরে সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গভীর রাতে বসতবাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।
একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ভাটি কানাইপুর গ্রামে এক খাবার হোটেল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল আলী বেপারীর বসতঘরের বারান্দার গ্রিল কেটে চার সদস্যের একটি ডাকাতদল ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় আব্দুল আলী বেপারীর মুখে চেতনানাশক স্প্রে করা হয়। পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা ও সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
ডাকাতির পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আব্দুল আলী বেপারীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
এর আগেও জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলায় একই ধরনের ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গত ৯ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক নারী সদস্য (সংরক্ষিত আসন) বিউটি বেগমের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের বেজিডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত ওই বাড়িতে সাত-আট সদস্যের একটি ডাকাতদল দরজা ভেঙে ঢুকে পরিবারের সব সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
ভুক্তভোগী বিউটি বেগম জানান, ওই রাতে তার ছেলে, পুত্রবধূ, ছোট মেয়ে (র্যাব-২–এ কর্মরত এক সেনা সদস্যের স্ত্রী), নাতি ও বড় বোন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। ডাকাতরা তার ও মেয়ের গলায় রামদা ঠেকিয়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, চারটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জানিয়ে বিউটি বেগম বলেন,“সেই রাতের পর থেকে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছি না।”
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. আবুল হাসানাত খান বলেন, ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান শুক্রবার বিকেলে জানান, এখনো কোনো আসামি বা আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব শিগগিরই ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের দাবি, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। একই ধরনের কায়দায় গভীর রাতে বসতবাড়িতে ঢুকে জিম্মি করে লুটপাটের একাধিক ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
এমআর//
