উত্তরায় আগুনে নিহত স্বামী-স্ত্রী-সন্তানকে কুমিল্লায় দাফন
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:০২ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের ৩ জনকে কুমিল্লায় দাফন করা হয়েছে।
শনিবার সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়ী প্রাঙ্গনে নামাজে জানাযা শেষে তাদেরকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার রাতে কুমিল্লা নগরীর দারোগা বাড়ী মাজার প্রাঙ্গনে জানাযা শেষে নগরীর নানুয়াদিঘীর বাসভবনে মরদেহগুলো রাখা হয়।
এদিন সকালে তিনটি মরদেহ গ্রামে নিয়ে আসা হলে এলাকায় শোকের মাতম সৃষ্টি হয় । আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসী নিহতদের এক নজর দেখার জন্য কাজী বাড়িতে ছুটে আসেন।
জানাজার নামাজে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কাজী ফজলে রাব্বী (৩৭), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম সুবর্ণা (৩০) এবং তাদের সন্তান কাজী ফায়াজ রিশান (৩) রাজধানীর উত্তরা অগ্নিকান্ডে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।
কাজী খোরশেদল আলম ও ফেরদৌস আরা বেগমের একমাত্র ছেলে রাব্বী, পুত্রবধূ ও আদরের নাতীকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। রাব্বীর মা কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন।
এর আগে ঢাকায় জানাজা শেষে মরদেহ রাতেই কুমিল্লায় নানুয়ার দিঘীরপাড়ের বাসায় আনা হয়। এরপর পার্শ্ববর্তী দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কাজী ফজলে রাব্বীর প্রথম স্ত্রী তিথী প্রায় দুই বছর আগে আকস্মিক অসুস্থতায় মারা যান। দীর্ঘদিনের শোক কাটিয়ে পরিবার ও আত্মীয়দের অনুরোধে তিনি পুনরায় বিবাহ করেন তিথীর বান্ধবী আফরোজা বেগম সুবর্ণার সঙ্গে। তাদের সংসারে জন্মগ্রহণ করে একমাত্র ছেলে কাজী ফায়াজ রিশান। প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ছেলে রিশানকে উত্তরার নানুর বাসায় দিয়ে যেতেন এবং ফিরে নিয়ে আসতেন।
তবে শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় তারা স্ব-পরিবারে বাসায় ছিলেন, তখনই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা কাউকেই বাঁচাতে পারেননি।
এএইচ
